‘সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়তে সরকার বেশ কিছু উদ্যোগ গ্রহণ করেছে’
একটি উন্নত, সমৃদ্ধ ও মর্যাদাশীল বাংলাদেশ গড়ে তুলতে বর্তমান সরকার ইতোমধ্যে বেশ কিছু উল্লেখযোগ্য উদ্যোগ গ্রহণ করেছে বলে জানিয়েছেন বিএনপির চেয়ারম্যান ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান৷আজ বুধবার (২২ এপ্রিল) জাতীয় সংসদের অধিবেশনে প্রশ্ন উত্তর পর্বে সংসদ সদস্য মো. আবুল কালামের এক প্রশ্নের লিখিত জবাবে প্রধানমন্ত্রী এ কথা জানান। এ সময় অধিবেশনে স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ বীর বিক্রম সভাপতিত্ব করেন।প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেন, উন্নত, সমৃদ্ধ ও মর্যাদাশীল বাংলাদেশ গঠনের লক্ষ্যে বিএনপির নির্বাচনী ইশতেহারে গণতন্ত্র, সুশাসন, অর্থনৈতিক উন্নয়ন ও মানবিক মূল্যবোধের সমন্বিত বাস্তবায়নের ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়েছে। এতে অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচন, প্রশাসনিক স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করার পাশাপাশি আইনের শাসন, মানবাধিকার ও মতপ্রকাশের স্বাধীনতা প্রতিষ্ঠার কথা বলা হয়েছে।দুর্নীতি দমন, বিনিয়োগ ও শিল্পায়ন বৃদ্ধি, কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং মানবসম্পদ উন্নয়নের মাধ্যমে অর্থনৈতিক সমৃদ্ধি অর্জনের লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। একইসঙ্গে শিক্ষা, স্বাস্থ্য, কৃষি ও সামাজিক সুরক্ষা খাতে উন্নয়ন জোরদার করে অন্তর্ভুক্তিমূলক ও বৈষম্যহীন সমাজ গঠনের ওপর বিশেষ গুরুত্বারোপ করা হয়েছে।তিনি বলেন, ‘সবার আগে বাংলাদেশ’ পররাষ্ট্রনীতির এই মূল দর্শনকে বিবেচনায় নিয়ে প্রতিটি ক্ষেত্রে বাংলাদেশের স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্ব, জাতীয় স্বার্থ, জাতীয় নিরাপত্তা এবং জনগণের কল্যাণ সর্বাগ্রে প্রাধান্য দেওয়ার লক্ষ্যে কার্যক্রম শুরু হয়েছে। সমতা, ন্যায্যতা ও পারস্পরিক সম্মানের ভিত্তিতে বাংলাদেশকে একটি আত্মমর্যাদাশীল রাষ্ট্র হিসেবে প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে সরকার কাজ করছে।সরকারের নির্বাচনী ইশতেহারে ঘোষিত কার্যক্রমসমূহ বাস্তবায়নে সকল মন্ত্রণালয়/বিভাগ আগামী ১৮০ দিন, আগামী ২০২৬-২৭ অর্থবছর এবং আগামী ৫ বছরের কর্মপরিকল্পনা প্রণয়ন করেছে এবং তা বাস্তবায়নে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ গ্রহণ করছে। প্রধানমন্ত্রী বলেন, একটি উন্নত, সমৃদ্ধ ও মর্যাদাশীল বাংলাদেশ গড়ে তুলতে বর্তমান সরকার ইতোমধ্যে বেশ কিছু উল্লেখযোগ্য উদ্যোগ গ্রহণ করেছে। এর মধ্যে অন্যতম হল ৫ বছরে ২০ হাজার কিলোমিটার খাল ও নদী খনন এবং পুন:খননের কার্যক্রম, প্রান্তিক ও নিম্ন আয়ের পরিবারের জন্য ‘ফ্যামিলি কার্ড’ প্রদান, কৃষির উন্নয়নে কৃষকদের জন্য ‘কৃষক কার্ড', মসজিদ, মন্দির, বৌদ্ধ বিহার/প্যাগোডা ও গির্জা/চার্চে কর্মরত ব্যক্তিবর্গের জন্য সম্মানী ও উৎসব ভাতা, ক্রীড়াবিদদের জন্য ক্রীড়া কার্ড ও ভাতা প্রদান, ৫ বছরে ২৫ কোটি বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি, ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত কৃষি ঋণ সুদসহ মওকুফ ইত্যাদি। এছাড়া, সারাদেশে শহর ও গ্রাম অঞ্চলে খেলার মাঠ নির্ধারণ ও অবকাঠামো উন্নয়ন, ‘ই-হেলথ কার্ড’ এর মাধ্যমে চিকিৎসা সেবা প্রদান, পাঁচ লক্ষ সরকারি কর্মচারী নিয়োগ এবং এ অর্থবছরে প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ২ লক্ষ শিশুদের মাঝে বিনামূল্যে স্কুল ড্রেস বিতরণসহ অন্যান্য উদ্যোগ বাস্তবায়নের কার্যক্রম চলমান রয়েছে।