
খাবার খাওয়ার পরও দুর্বল লাগছে? হতে পারে যে কারণ
খাবার খাওয়ার কিছুক্ষণ পরই আবার ক্ষুধা লাগা, বারবার মিষ্টি খেতে ইচ্ছা করা, অস্বাভাবিক ক্লান্তি কিংবা মাথা ঝিমঝিম করার মতো সমস্যাকে অনেকেই সাধারণ বিষয় হিসেবে এড়িয়ে যান। তবে এসব উপসর্গ কখনো কখনো গ্লুকোজ ইনটলারেন্সের ইঙ্গিত হতে পারে। বিশেষজ্ঞদের মতে, এটি এমন একটি অবস্থা, যখন শরীর স্বাভাবিকভাবে রক্তে গ্লুকোজ বা শর্করার মাত্রা নিয়ন্ত্রণ করতে পারে না। গ্লুকোজ ইনটলারেন্স নিজে ডায়াবেটিস নয়, তবে সময়মতো নিয়ন্ত্রণ না করলে ভবিষ্যতে টাইপ-২ ডায়াবেটিসের ঝুঁকি বাড়তে পারে।গ্লুকোজ ইনটলারেন্স হলে খাবার থেকে তৈরি গ্লুকোজ শরীরের কোষে পৌঁছে শক্তি হিসেবে ব্যবহারের স্বাভাবিক প্রক্রিয়ায় সমস্যা দেখা দেয়। সাধারণত ইনসুলিন হরমোন রক্তের গ্লুকোজকে কোষে প্রবেশ করতে সহায়তা করে। কিন্তু ইনসুলিনের কার্যকারিতা কমে গেলে রক্তে শর্করার মাত্রা স্বাভাবিকের তুলনায় বেড়ে যেতে পারে, বিশেষ করে খাবার খাওয়ার পর। এ অবস্থাকে অনেক সময় প্রিডায়াবেটিসের একটি পর্যায় হিসেবেও বিবেচনা করা হয়। এর লক্ষণ হিসেবে খাবারের পর আবার ক্ষুধা লাগা, মিষ্টি খাওয়ার প্রবল ইচ্ছা, হঠাৎ দুর্বল বা ক্লান্ত লাগা, মাথা ঝিমঝিম করা, মনোযোগে সমস্যা, মেজাজের পরিবর্তন এবং খাবারের পর অতিরিক্ত ঘুম ঘুম ভাব দেখা দিতে পারে।বিশেষজ্ঞদের মতে, শরীরে ইনসুলিনের কার্যকারিতা কমে যাওয়া, অতিরিক্ত ওজন বা স্থূলতা, শারীরিক পরিশ্রমের অভাব, অস্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাস, পরিবারের ডায়াবেটিসের ইতিহাস এবং বয়স বাড়ার মতো বিভিন্ন কারণে গ্লুকোজ ইনটলারেন্সের ঝুঁকি বাড়তে পারে। যাদের ওজন বেশি, পরিবারে ডায়াবেটিসের ইতিহাস রয়েছে, উচ্চ রক্তচাপ বা কোলেস্টেরল আছে, নিয়মিত শরীরচর্চা করেন না কিংবা আগে গর্ভকালীন ডায়াবেটিস হয়েছিল—তাদের ক্ষেত্রে ঝুঁকি তুলনামূলক বেশি। তবে এসব উপসর্গ অন্য অনেক কারণেও হতে পারে, তাই শুধু লক্ষণ দেখে গ্লুকোজ ইনটলারেন্স নিশ্চিত করা যায় না।গ্লুকোজ ইনটলারেন্স শনাক্ত করতে চিকিৎসকের পরামর্শে খালি পেটে রক্তে শর্করা পরীক্ষা, ওরাল গ্লুকোজ টলারেন্স টেস্ট (ওজিটিটি) এবং এইচবিএ১সি পরীক্ষার মতো পরীক্ষা করা হতে পারে। পরীক্ষার ফলাফল দেখে চিকিৎসক প্রয়োজনীয় পরামর্শ দেন। এ অবস্থায় জীবনযাপনে পরিবর্তন আনা গুরুত্বপূর্ণ। পরিমিত ও সুষম খাবার গ্রহণ, অতিরিক্ত চিনি ও প্রক্রিয়াজাত খাবার কমানো, নিয়মিত হাঁটা বা ব্যায়াম, ওজন নিয়ন্ত্রণ এবং পর্যাপ্ত ঘুম রক্তে শর্করা নিয়ন্ত্রণে রাখতে সহায়তা করতে পারে।বারবার দুর্বল লাগা, অস্বাভাবিক ক্ষুধা বা তৃষ্ণা, ঘন ঘন প্রস্রাব কিংবা অকারণে ওজন কমে যাওয়ার মতো লক্ষণ দেখা দিলে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া জরুরি। সময়মতো প্রয়োজনীয় পরীক্ষা করা গেলে রক্তে শর্করার অস্বাভাবিকতা প্রাথমিক পর্যায়েই শনাক্ত করা সম্ভব। বিশেষজ্ঞদের মতে, গ্লুকোজ ইনটলারেন্সকে অবহেলা না করে স্বাস্থ্যকর জীবনযাপন শুরু করলে অনেক ক্ষেত্রেই ভবিষ্যতে ডায়াবেটিসের ঝুঁকি কমানো সম্ভব।সূত্র: গাল্ফ নিউজ