logo
youtube logotwitter logofacebook logo
/জাতীয়
কপ-১৭ সম্মেলনের সাইডলাইনে পরিবেশমন্ত্রীর চারটি গুরুত্বপূর্ণ দ্বিপাক্ষিক বৈঠক - image

কপ-১৭ সম্মেলনের সাইডলাইনে পরিবেশমন্ত্রীর চারটি গুরুত্বপূর্ণ দ্বিপাক্ষিক বৈঠক

29 আগস্ট 2026, বিকাল 1:33

মঙ্গোলিয়ার রাজধানী উলানবাটরে অনুষ্ঠিত জাতিসংঘের মরুকরণ মোকাবিলা কনভেনশনের ১৭তম কনফারেন্স অব দ্য পার্টিজ (UNCCD COP17)-এর সাইডলাইনে বাংলাদেশের পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রী আবদুল আউয়াল মিন্টু, এমপি চারটি গুরুত্বপূর্ণ দ্বিপাক্ষিক বৈঠক করেন।কপ-১৭ সম্মেলন চলাকালীন সাইডলাইনে অনুষ্ঠিত বৈঠকগুলোতে ভূমি অবক্ষয় ও খরা মোকাবিলা, জলবায়ু সহনশীলতা, বাস্তুতন্ত্র পুনরুদ্ধার, জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণ, নবায়নযোগ্য জ্বালানি, বাণিজ্য, শ্রম অভিবাসন এবং প্রাতিষ্ঠানিক সহযোগিতা জোরদারের বিষয়ে আলোচনা হয়।পরিবেশমন্ত্রী আবদুল আউয়াল মিন্টু বলেন, জলবায়ু পরিবর্তন ও ভূমি অবক্ষয়ের মতো আন্তঃসীমান্ত চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক অংশীদারত্ব জোরদার করা জরুরি। বাংলাদেশের অভিজ্ঞতা ও সক্ষমতা অংশীদার দেশগুলোর সঙ্গে ভাগ করে নেওয়ার পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট দেশগুলোর সফল উদ্যোগ থেকেও বাংলাদেশ শিখতে আগ্রহী।ভারতের পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তনমন্ত্রী H.E. Mr. Bhupender Yadav এর সঙ্গে ২৪ আগস্ট অনুষ্ঠিত বৈঠকে দুই দেশের দীর্ঘদিনের পরিবেশ ও জলবায়ু সহযোগিতা আরও সম্প্রসারণের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়। জলবায়ু-সহনশীল কৃষি, পানি সম্পদের দক্ষ ব্যবহার, খরা ঝুঁকি ব্যবস্থাপনা এবং বন ও জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণে যৌথ উদ্যোগ নিয়ে আলোচনা হয়। সুন্দরবন ও বঙ্গোপসাগরীয় অঞ্চলের উপকূলীয় বাস্তুতন্ত্র রক্ষা, রিমোট সেন্সিং ও জিআইএস প্রযুক্তির ব্যবহার এবং কারিগরি সক্ষমতা বৃদ্ধিও আলোচনায় স্থান পায়।বৈঠকে নবায়নযোগ্য ও পরিচ্ছন্ন জ্বালানি খাতে সহযোগিতার সম্ভাবনাও গুরুত্ব পায়। সৌরবিদ্যুৎ, ব্যাটারি এনার্জি স্টোরেজ, ভূমি-সাশ্রয়ী নবায়নযোগ্য জ্বালানি প্রযুক্তি এবং পরিবেশসম্মত জ্বালানি ব্যবস্থাপনায় অভিজ্ঞতা ও প্রযুক্তি বিনিময়ের বিষয় আলোচনা হয়।মঙ্গোলিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রী H.E Battsetseg Batmunkh এর সঙ্গে অনুষ্ঠিত গত মঙ্গলবারের বৈঠকে দুই দেশের বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক আরও গভীর করা, উভয় দেশে দূতাবাস খোলার মাধ্যমে কূটনৈতিক প্রতিনিধিত্ব শক্তিশালী করার বিষয়ে মতবিনিময় হয়। পরিবেশ ও জলবায়ু সহযোগিতার পাশাপাশি দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য বাড়ানো, বিশেষ করে বাংলাদেশ থেকে কৃষিপণ্য, প্রক্রিয়াজাত খাদ্য, ওষুধ ও তৈরি পোশাক রপ্তানির সুযোগ সম্প্রসারণের বিষয় আলোচিত হয়।মঙ্গোলিয়ার শ্রমবাজারের চাহিদা বিবেচনায় নির্মাণ, সেবা ও কৃষিসহ বিভিন্ন খাতে বাংলাদেশের দক্ষ ও আধা-দক্ষ কর্মীদের নিরাপদ ও নিয়মিত কর্মসংস্থানের সম্ভাবনা নিয়েও আলোচনা হয়। এ ক্ষেত্রে সরকার-টু-সরকার ব্যবস্থা, দক্ষতার স্বীকৃতি এবং অভিবাসী কর্মীদের সুরক্ষা নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়।আন্তর্জাতিক অভিবাসন সংস্থার (IOM) এর উপ-মহাপরিচালক (অপারেশনস) Ugochi Daniels এর সঙ্গে বৈঠকে (২৬ আগস্ট) জলবায়ু পরিবর্তন ও অভিবাসনের আন্তঃসম্পর্ক, জলবায়ু ঝুঁকিতে থাকা জনগোষ্ঠীর সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং নিরাপদ, সুশৃঙ্খল ও নিয়মিত অভিবাসন নিশ্চিত করার বিষয়ে মতবিনিময় হয়। জলবায়ুজনিত মানব চলাচলের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় আন্তর্জাতিক সহযোগিতা আরও কার্যকর করার প্রয়োজনীয়তার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়।মঙ্গোলিয়ার পরিবেশ ও জলবায়ু পরিবর্তনমন্ত্রী H.E. Mr. Sandag-Ochir Tsend এর সঙ্গে গতকাল অনুষ্ঠিত বৈঠকে দুই দেশের পরিবেশ ও জলবায়ু সহযোগিতাকে আরও প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দেওয়ার বিষয়ে আলোচনা হয়। এ লক্ষ্যে পরিবেশ ও জলবায়ু সহযোগিতা বিষয়ে একটি সমঝোতা স্মারক প্রণয়নের বিষয়ে আলোচনা হয়। ভূমি পুনরুদ্ধার, জীববৈচিত্র্য, জলবায়ু অভিযোজন, টেকসই প্রাকৃতিক সম্পদ ব্যবস্থাপনা এবং সক্ষমতা উন্নয়নকে সম্ভাব্য সহযোগিতার ক্ষেত্র হিসেবে চিহ্নিত করা হয়।বাংলাদেশ মঙ্গোলিয়ার চারণভূমি ব্যবস্থাপনা, মরুকরণ নিয়ন্ত্রণ ও খরা সহনশীলতার অভিজ্ঞতা থেকে শেখার আগ্রহ প্রকাশ করে। পাশাপাশি জলাভূমি, উপকূলীয় অঞ্চল ও কমিউনিটিভিত্তিক বাস্তুতন্ত্র পুনরুদ্ধারে বাংলাদেশের অভিজ্ঞতা ভাগ করে নেওয়ার আগ্রহ জানানো হয়। জিআইএস, রিমোট সেন্সিং, খরা পূর্বসতর্কীকরণ, বিশেষজ্ঞ বিনিময়, প্রশিক্ষণ, যৌথ গবেষণা ও পাইলট প্রকল্পের মাধ্যমে সহযোগিতা এগিয়ে নেওয়ার বিষয়েও আলোচনা হয়।পরিবেশমন্ত্রী আশা প্রকাশ করেন, কপ-১৭-এর সাইডলাইনে অনুষ্ঠিত এসব বৈঠকের ধারাবাহিকতায় সংশ্লিষ্ট দেশ ও সংস্থার সঙ্গে বাস্তবভিত্তিক সহযোগিতা আরও জোরদার হবে এবং পরিবেশ, জলবায়ু সহনশীলতা ও টেকসই উন্নয়নে বাংলাদেশের আন্তর্জাতিক অংশীদারত্ব নতুন মাত্রা পাবে।/টি

আগস্ট ২৯, ২০২৬

দিল্লিকে ৪ শর্ত দেওয়ার চিন্তা করছে ঢাকা

দিল্লিকে ৪ শর্ত দেওয়ার চিন্তা করছে ঢাকাভারতের বিদ্যুৎ সঞ্চালনের ‘করিডর’ হতে গিয়ে নিজেদের স্বার্থ বিসর্জন দিতে চায় না বাংলাদেশ। আসামের বরনগর থেকে বিহারের কাটিহার পর্যন্ত ৭৬৫ কেভি হাইভোল্টেজ লাইন বাংলাদেশের ওপর দিয়ে নিতে ভারতের নতুন তাগাদার পর চার শর্ত সামনে আনছে ঢাকা। ব্রহ্মপুত্রে বাঁধ দিয়ে উৎপাদিত বিদ্যুৎ এ লাইনে যাবে কিনা, নেপাল-ভুটান থেকে সস্তা জলবিদ্যুৎ আনার সুযোগ মিলবে কিনা এবং বাংলাদেশের প্রকৃত লাভ কত— এসবের উত্তর না মিললে করিডর দেওয়ার সিদ্ধান্তে যেতে চাইছে না সরকার।ভারত সরকারের তাগাদার পরিপ্রেক্ষিতে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ও বিদ্যুৎ বিভাগ এ ব্যাপারে বেশকিছু কাগজপত্র তৈরি করেছে।সরকারি সূত্রগুলো বলছে, প্রাথমিকভাবে বাংলাদেশ ভারতকে চারটি শর্ত দেওয়ার চিন্তা করছে। এগুলো পালন করলে ওই হাইভোল্টেজ সঞ্চালন লাইন নির্মাণে ইতিবাচক সিদ্ধান্ত নিতে পারে বাংলাদেশ। এর মধ্যে প্রধান শর্ত হলো— ভারতকে জানাতে হবে ব্রহ্মপুত্র নদে বাঁধ দিয়ে উৎপাদিত বিদ্যুৎ ওই হাইভোল্টেজ লাইন দিয়ে প্রবাহিত করা হবে কিনা। কারণ, এতে শুষ্ক মৌসুমে বাংলাদেশের উত্তরবঙ্গে ব্যাপক নেতিবাচক প্রভাব পড়বে।দ্বিতীয় শর্ত হলো- নেপাল ও ভুটান থেকে সস্তায় জলবিদ্যুৎ আমদানির জন্য আলাদা গ্রিড লাইন তৈরির সুযোগ বাংলাদেশকে দিতে হবে। তৃতীয়টি হলো— ওই লাইন দিয়ে বাংলাদেশ কী পরিমাণ বিদ্যুৎ আমদানি করতে পারবে, তা স্পষ্ট করতে হবে। চতুর্থ শর্ত হলো— বাংলাদেশের ওপর দিয়ে লাইন টানার আগে অর্থনৈতিক লাভ-ক্ষতি হিসাব করতে হবে।ঢাকায় নিযুক্ত ভারতের হাইকমিশনার দীনেশ ত্রিবেদী ৬ আগস্ট বিদ্যুৎ ও জ্বালানিমন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন। ওই সময় তিনি ৭৬৫ কেভি গ্রিড লাইন নির্মাণের বিষয়টি উত্থাপন করেন। সাক্ষাৎ শেষে ইকবাল হাসান মাহমুদ বলেন, ‘ভারত যেভাবে বাংলাদেশের ওপর দিয়ে গ্রিড লাইন নিয়ে যেতে চাচ্ছে, সেভাবে আমরা চিন্তা করছি না। নেপাল, ভারত, ভুটান ও বাংলাদেশ-এই চার দেশ মিলে যৌথ গ্রিড লাইনের কথা ভাবছে ঢাকা। আর এটি নিয়েই আলোচনা করতে চাচ্ছি আমরা।’ জানা যায়, এর আগে জুলাইয়ের শেষে বিদ্যুৎ সচিব মিরানা মাহরুখ দিল্লি সফর করে বিদ্যুৎ ইস্যু নিয়ে কথা বলেছেন সে দেশের শীর্ষ কর্মকর্তার সঙ্গে। সেখানেও বিষয়টি নিয়ে আলাপ-আলোচনা হয়েছে বলে বিভিন্ন সূত্র নিশ্চিত করেছে।বাংলাদেশ ইনডিপেনডেন্ট ইউনিভার্সিটির উপাচার্য এবং জ্বালানি বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক এম তামিম সম্প্রতি বলেন, ‘বাংলাদেশের জ্বালানি নিরাপত্তা বিশেষ করে বিদ্যুতের চাহিদা মেটাতে ভারত-নেপাল-ভুটানের সঙ্গে একটি গ্রিড লাইন নির্মাণ জরুরি। এর মধ্যে বাংলাদেশ যার কাছ থেকে সস্তায় বিদ্যুৎ পাবে, তার থেকে আমদানি করতে পারে।’

আগস্ট ২৮, ২০২৬

নেপালে ভয়াবহ বন্যায় প্রাণহানিতে প্রধানমন্ত্রীর শোক

নেপালে সম্প্রতি আঘাত হানা ভয়াবহ বন্যায় ব্যাপক প্রাণহানির ঘটনায় গভীরভাবে শোক ও দুঃখ প্রকাশ করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।বুধবার  (২৬ আগস্ট)  এক শোক বার্তায় তিনি নেপালের প্রধানমন্ত্রী বালেন্দ্র শাহ এবং নেপালের জনগণের প্রতি বাংলাদেশের সরকার ও জনগণের পক্ষ থেকে আন্তরিক সমবেদনা জানান।শোক বার্তায় প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘নেপালে ভয়াবহ বন্যায় বিপুলসংখ্যক মানুষের প্রাণহানির মর্মান্তিক ঘটনায় আমি গভীরভাবে শোকাহত ও ব্যথিত। আমাদের চিন্তা ও প্রার্থনা প্রিয়জন হারানো সেসব পরিবার ও মানুষের সাথে রয়েছে, যাঁদের এই অপূরণীয় ক্ষতি বহন করতে হচ্ছে।’তিনি আরও বলেন, প্রকৃতির এই কঠিন বিপর্যয়ে নেপালের পাশে রয়েছে বাংলাদেশ। দুর্যোগের এই সংকটময় মুহূর্তে নেপালকে যেকোনো প্রয়োজনীয় সহায়তা দিতে বাংলাদেশ সরকার প্রস্তুত রয়েছে।প্রধানমন্ত্রী বন্যায় নিহতদের আত্মার শান্তি কামনা করেন এবং শোকসন্তপ্ত পরিবারগুলোর প্রতি গভীর সহমর্মিতা প্রকাশ করেন।/টি

আগস্ট ২৭, ২০২৬

জাতীয় কবির ৫০তম মৃত্যুবার্ষিকী আজ

বিদ্রোহের আগুন, প্রেমের আবেগ আর সাম্যের স্বপ্ন—সবকিছুকে নিজের সৃষ্টিতে ধারণ করা জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামকে হারানোর ৫০ বছর পূর্ণ হলো আজ। ১৯৭৬ সালের ২৭ আগস্ট ঢাকায় শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন বাংলা সাহিত্যের এই কালজয়ী স্রষ্টা। মৃত্যুর অর্ধশতাব্দী পেরিয়েও তাঁর কবিতা-গান অন্যায়ের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ, মানবমুক্তি ও জাগরণের শক্তি হয়ে মানুষের হৃদয়ে অনুরণিত হচ্ছে।কাজী নজরুল ইসলাম ‘বিদ্রোহী কবি’ হিসেবে পরিচিত হলেও তিনি ছিলেন বহুমাত্রিক প্রতিভার অধিকারী। কবিতা, গান, উপন্যাস, গল্প, নাটক, প্রবন্ধ ও সাংবাদিকতার পাশাপাশি সংগীতের বিভিন্ন ধারায়ও তাঁর ছিল অসামান্য অবদান। হামদ, নাত, গজল ও শ্যামাসংগীতসহ বাংলা সংগীতকে বৈচিত্র্যময় রাগ-রাগিণী ও বিপুলসংখ্যক সৃষ্টিতে সমৃদ্ধ করেছেন তিনি।১৮৯৯ সালের ২৪ মে পশ্চিমবঙ্গের বর্ধমান জেলার চুরুলিয়া গ্রামে জন্ম নেন নজরুল। দারিদ্র্য ও নানা প্রতিকূলতার মধ্য দিয়ে তাঁর শৈশব ও কৈশোর কাটে। জীবনের এসব সংগ্রামী অভিজ্ঞতা পরবর্তী সময়ে তাঁর সাহিত্য ও সংগীতসৃষ্টিতে গভীর প্রভাব ফেলে। মাত্র প্রায় ২৩ বছরের সৃষ্টিশীল জীবনে প্রেম ও সৌন্দর্যের পাশাপাশি শোষিত মানুষের অধিকার এবং সামাজিক বৈষম্যের বিরুদ্ধে প্রতিবাদের শক্তিশালী ভাষা তৈরি করেন তিনি।ব্রিটিশবিরোধী আন্দোলনেও সক্রিয় ছিলেন নজরুল। পরাধীনতার বিরুদ্ধে তাঁর লেখনী ছিল অত্যন্ত সোচ্চার। স্বাধীন বাংলাদেশের সঙ্গেও তাঁর সম্পর্ক গভীর। ১৯৭২ সালের ২৪ মে তাঁকে সপরিবারে বাংলাদেশে নিয়ে আসা হয়। পরে বাংলাদেশ সরকার তাঁকে জাতীয় কবির মর্যাদা দেয়। ১৯৭৪ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় তাঁকে সম্মানসূচক ডি-লিট ডিগ্রি এবং ১৯৭৬ সালে বাংলাদেশের নাগরিকত্ব ও একুশে পদক দেওয়া হয়।জাতীয় কবির ৫০তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে বিভিন্ন কর্মসূচি নেওয়া হয়েছে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় মসজিদসংলগ্ন কবির সমাধি প্রাঙ্গণে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হবে। পাশাপাশি নজরুল ইনস্টিটিউটে ‘মৃত্যুঞ্জয়ী নজরুল’ শীর্ষক আলোচনা সভা, দোয়া মাহফিল ও হামদ-নাত এবং বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমিতে দিনব্যাপী আলোচনা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছে। সাম্য, মানবতা, অসাম্প্রদায়িকতা ও অন্যায়ের বিরুদ্ধে নজরুলের যে বার্তা, অর্ধশতাব্দী পরও তা বাঙালির জাতীয় ও সাংস্কৃতিক জীবনে সমানভাবে প্রাসঙ্গিক।/টি

আগস্ট ২৭, ২০২৬

লাখো মানুষের অংশগ্রহণে চট্টগ্রামে ৫৫তম জশনে জুলুস

হামদ, নাত, তাকবির, দরুদ শরিফ ও জিকিরে মুখর হয়ে ওঠে চট্টগ্রাম নগরী। পবিত্র ঈদে মিলাদুন্নবী (সা.) উপলক্ষে লাখো মানুষের অংশগ্রহণে বুধবার অনুষ্ঠিত হয়েছে ঐতিহ্যবাহী ৫৫তম জশনে জুলুস। গত বছরের মর্মান্তিক পদদলিত হওয়ার ঘটনার পর এবার কঠোর নিরাপত্তা ও শৃঙ্খলা ব্যবস্থার মধ্যে শান্তিপূর্ণভাবে শেষ হয়েছে আয়োজনটি।বুধবার (২৬ আগস্ট) সকাল সাড়ে ৯টার দিকে নগরের ষোলশহর জামেয়া আহমদিয়া সুন্নিয়া কামিল মাদ্রাসা-সংলগ্ন আলমগীর খানকা-এ-কাদেরিয়া সৈয়্যদিয়া থেকে জুলুসের কার্যক্রম শুরু হয়। নগর ও জেলার বিভিন্ন এলাকা থেকে আসা বিভিন্ন বয়সী লাখো মানুষ এতে অংশ নেন।১৯৭৪ সাল থেকে প্রতি বছর ১২ রবিউল আউয়াল আনজুমান-এ-রহমানিয়া আহমদিয়া সুন্নিয়া ট্রাস্টের ব্যবস্থাপনায় চট্টগ্রামে এ জশনে জুলুস অনুষ্ঠিত হয়ে আসছে। আয়োজকদের তথ্য অনুযায়ী, ১৯৭৪ সালে আল্লামা সৈয়্যদ মুহাম্মদ তৈয়্যব শাহ (রহ.) এই জুলুসের প্রবর্তন করেন।এবারের জশনে জুলুসে নেতৃত্ব দেন সৈয়দ মুহাম্মদ সাবের শাহ। অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সাহেবজাদা সৈয়দ মুহাম্মদ কাসেম শাহ ও শাহজাদা সৈয়্যদ মুহাম্মদ আকিব আহমেদ শাহ। ভোর থেকেই নগর ও জেলার বিভিন্ন স্থান থেকে মানুষ ষোলশহর এলাকায় জড়ো হতে থাকেন। কেউ হেঁটে, আবার কেউ ট্রাক ও পিকআপে করে জুলুসে অংশ নিতে আসেন। জুলুসের পুরো এলাকায় কোরআন তিলাওয়াত, হামদ, নাত ও দরুদ শরিফের সুরে ধর্মীয় আবহ তৈরি হয়।জুলুস উপলক্ষে মুরাদপুর থেকে জামেয়া আহমদিয়া সুন্নিয়া কামিল মাদ্রাসা পর্যন্ত বসে ভাসমান মেলা। বিভিন্ন সংগঠনের উদ্যোগে সড়কের বিভিন্ন স্থানে পানি, শরবত ও খাবার বিতরণ করা হয়। নগরের গুরুত্বপূর্ণ মোড় ও সড়ক বিভাজক সাজানো হয় তোরণ, পতাকা, ফেস্টুন ও ব্যানারে।শৃঙ্খলা ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর পাশাপাশি আনজুমান ট্রাস্টের প্রায় ১০ হাজার স্বেচ্ছাসেবক দায়িত্ব পালন করেন। মুসল্লিদের সুবিধার্থে মাদ্রাসা ও আশপাশের এলাকায় স্থাপন করা হয় অস্থায়ী শৌচাগার। নির্ধারিত রুট অনুযায়ী, ষোলশহর থেকে জুলুসটি বিবিরহাট, মুরাদপুর, ২ নম্বর গেট, জিইসি মোড়, ওয়াসা, দামপাড়া, লালখান বাজার ও টাইগারপাস হয়ে পুনরায় নির্ধারিত পথে ফিরে জুলুস ময়দানে গিয়ে শেষ হয়।জশনে জুলুসকে কেন্দ্র করে চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশ নিরাপত্তাব্যবস্থা জোরদার করে। গুরুত্বপূর্ণ এলাকা ও জুলুসের পথে গোয়েন্দা পুলিশসহ আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্য মোতায়েন করা হয়। যান চলাচল নিয়ন্ত্রণেও নগরের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সড়কে নেওয়া হয় বিশেষ ব্যবস্থা।উল্লেখ্য, গত বছরের জশনে জুলুস চলাকালে পদদলিত হয়ে দুজনের মৃত্যু এবং অন্তত ছয়জন আহত হওয়ার ঘটনায় এবার শুরু থেকেই জনসমাগম ও নিরাপত্তা ব্যবস্থাপনায় বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়। এবার অবশ্য বিপুলসংখ্যক মানুষের অংশগ্রহণের মধ্যেও কোনো দুর্ঘটনার খবর পাওয়া যায়নি।চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশের কমিশনার হাসান মো. শওকত আলী বলেন, লাখো মানুষের উপস্থিতিতে জশনে জুলুস সফলভাবে সম্পন্ন হয়েছে। সম্ভাব্য দুর্ঘটনা এড়াতে পুলিশের পক্ষ থেকে প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি ও নিরাপত্তাব্যবস্থা নেওয়া হয়েছিল।এমআর//

আগস্ট ২৬, ২০২৬

চারণভূমি সুরক্ষা ও টেকসই ব্যবস্থাপনায় স্থানীয় জনগোষ্ঠীকে সম্পৃক্ত করার আহ্বান পরিবেশমন্ত্রীর

চারণভূমি সুরক্ষা ও টেকসই ভূমি ব্যবস্থাপনায় স্থানীয় জনগোষ্ঠীর সক্রিয় অংশগ্রহণ নিশ্চিত করার আহ্বান জানিয়েছেন পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রী আবদুল আউয়াল মিন্টু, এমপি। বুধবার মঙ্গোলিয়ার উলানবাটরে জাতিসংঘ মরুকরণ প্রতিরোধ কনভেনশনের (UNCCD) ১৭তম কনফারেন্স অব দ্য পার্টিজ (COP17)-এর “Restoration of Rangelands and the Well-being of Pastoralist Communities” শীর্ষক মন্ত্রী পর্যায়ের সংলাপে তিনি এ আহ্বান জানান।মন্ত্রী বলেন, খাস ও কমিউনিটি জমির সুরক্ষা নিশ্চিত করার পাশাপাশি গ্রামীণ জনগোষ্ঠীর অর্থনৈতিক সক্ষমতা বাড়ানো জরুরি। টেকসই ভূমি ব্যবস্থাপনায় স্থানীয় মানুষকে সম্পৃক্ত করতে না পারলে দীর্ঘমেয়াদে কোনো উদ্যোগই কার্যকর ও টেকসই হবে না।তিনি বলেন, বাংলাদেশ প্রচলিত অর্থে বিস্তীর্ণ চারণভূমির দেশ না হলেও দেশের গ্রামীণ অর্থনীতি ও জীবিকায় প্রাণিসম্পদ খাত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে। ফসল কাটার পর কৃষিজমি, পতিত জমি, চরাঞ্চল, জলাভূমি এবং সড়কের পাশের বিভিন্ন এলাকা পশুচারণে ব্যবহৃত হয়। প্রাণিসম্পদ খাত দেশের মোট দেশজ উৎপাদনে প্রায় ২ শতাংশ অবদান রাখার পাশাপাশি লাখো মানুষের জীবিকার সঙ্গে যুক্ত।আবদুল আউয়াল মিন্টু বলেন, জনসংখ্যার চাপ এবং বিভিন্ন ধরনের ভূমি ব্যবহারের কারণে দেশে পশুচারণের জায়গা ক্রমেই কমে যাচ্ছে। বিশেষ করে উপকূলীয় অঞ্চলে চারণভূমির পরিমাণ উল্লেখযোগ্যভাবে হ্রাস পেয়েছে।এ পরিস্থিতিতে কমিউনিটি ও খাস চারণভূমি চিহ্নিত করে মানচিত্রভুক্ত করা, স্থানীয় প্রশাসন ও জনগোষ্ঠীর মধ্যে সমন্বয় বাড়ানো এবং ভূমি ব্যবহারসংক্রান্ত বিরোধ নিষ্পত্তিতে সহজ ও কার্যকর ব্যবস্থা গড়ে তোলার ওপর গুরুত্বারোপ করেন তিনি।বাংলাদেশের জলাভূমি ও বন্যা-বিধৌত অঞ্চলের পরিবেশগত গুরুত্ব তুলে ধরে মন্ত্রী বলেন, এসব এলাকা মাটির উর্বরতা রক্ষা, পানি নিয়ন্ত্রণ, জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণ এবং কার্বন ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। তাই প্রাণিসম্পদ উৎপাদন ও পরিবেশ সংরক্ষণকে পরস্পরবিরোধী হিসেবে না দেখে জাতীয় ভূমি ব্যবস্থাপনা পরিকল্পনায় সমন্বিতভাবে বিবেচনা করা প্রয়োজন।টাঙ্গুয়ার হাওরের উদাহরণ তুলে ধরে তিনি বলেন, কমিউনিটিভিত্তিক ব্যবস্থাপনা জীববৈচিত্র্য ও প্রাকৃতিক সম্পদ সংরক্ষণে ইতিবাচক ফল দিয়েছে। তবে এ ধরনের উদ্যোগকে দীর্ঘমেয়াদে সফল করতে ধারাবাহিক অর্থায়ন ও স্থায়ী অঙ্গীকার প্রয়োজন।মন্ত্রী জানান, ভবিষ্যতে টেকসই চারণভূমি ও কমন ল্যান্ড ব্যবস্থাপনাকে জাতীয় জীববৈচিত্র্য কৌশল ও কর্মপরিকল্পনা, জাতীয় অভিযোজন পরিকল্পনা এবং ভূমি অবক্ষয়, খরা ও মরুকরণ মোকাবিলার জাতীয় রোডম্যাপের সঙ্গে আরও নিবিড়ভাবে সমন্বয় করা হবে।চারণভূমি পুনরুদ্ধার ও টেকসই ভূমি ব্যবস্থাপনায় পর্যাপ্ত অর্থায়ন, জবাবদিহি এবং বাস্তবভিত্তিক পদক্ষেপ নিশ্চিত করার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, এ ক্ষেত্রে বাংলাদেশ নিজের অভিজ্ঞতা অন্যান্য দেশের সঙ্গে ভাগ করে নিতে এবং বিশ্বের কার্যকর উদ্যোগগুলো থেকে শিক্ষা নিতে প্রস্তুত। মন্ত্রী পর্যায়ের এ সংলাপে বিভিন্ন দেশের মন্ত্রী, উপমন্ত্রী ও প্রতিনিধি দলের প্রধানরা অংশ নেন।এমআর//

আগস্ট ২৬, ২০২৬

ঈদ-ই-মিলাদুন্নবী উপলক্ষে সারাদেশে র‍্যাবের নিরাপত্তা জোরদার

পবিত্র ঈদ-ই-মিলাদুন্নবী (সা.) উপলক্ষে সারাদেশে নিরাপত্তা জোরদার করেছে র‍্যাব ফোর্সেস। ধর্মীয় এ উৎসবকে কেন্দ্র করে যেকোনো অপ্রীতিকর পরিস্থিতি, নাশকতা ও গুজব মোকাবিলায় নিয়মিত টহলের পাশাপাশি গোয়েন্দা নজরদারি ও সাইবার পেট্রোলিং বাড়ানো হয়েছে। মঙ্গলবার (২৫ আগস্ট) র‍্যাব সদর দপ্তর থেকে পাঠানো এক বিজ্ঞপ্তিতে এসব তথ্য জানানো হয়।র‍্যাব জানিয়েছে, দেশের বিভিন্ন স্থানে নিয়মিত টহল জোরদারের পাশাপাশি সাদা পোশাকে পর্যাপ্তসংখ্যক সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে। প্রতিটি ব্যাটালিয়ন নিজ নিজ এলাকার সম্ভাব্য নিরাপত্তা ঝুঁকি পর্যালোচনা করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিয়েছে। বিভিন্ন অনুষ্ঠানস্থলে পর্যাপ্ত র‍্যাব সদস্য মোতায়েনের পাশাপাশি ঝুঁকির মাত্রা বিবেচনায় আগাম ‘স্কেলিটন ফোর্স’ প্রস্তুত রাখা হয়েছে।নিরাপত্তা কার্যক্রমে স্থানীয় পর্যায়ের বিভিন্ন পক্ষকেও সম্পৃক্ত করা হয়েছে। মসজিদের ইমাম, সামাজিক ও নাগরিক নিরাপত্তা কমিটির নেতৃবৃন্দ এবং স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিদের সঙ্গে সমন্বয় করে নিরাপত্তা নিশ্চিতের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। কোনো স্বার্থান্বেষী বা সন্দেহভাজন গোষ্ঠী যাতে হামলা বা নাশকতামূলক কর্মকাণ্ড ঘটাতে না পারে, সে জন্য গোয়েন্দা তৎপরতা বাড়ানোর পাশাপাশি বিতর্কিত ও উসকানিমূলক কর্মকাণ্ডের ওপর নজরদারি রাখা হচ্ছে।জরুরি পরিস্থিতি মোকাবিলায় র‍্যাবের বোম্ব ডিসপোজাল ইউনিট ও ডগ স্কোয়াডকে সার্বক্ষণিক প্রস্তুত রাখা হয়েছে। একই সঙ্গে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ধর্মীয় ও সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বিনষ্ট করতে পারে—এমন গুজব, অপপ্রচার, বিভ্রান্তিকর তথ্য ও উসকানিমূলক পোস্ট শনাক্তে সাইবার পেট্রোলিং জোরদার করা হয়েছে। শান্তিপূর্ণ ও নিরাপদ পরিবেশে ঈদ-ই-মিলাদুন্নবী উদযাপনের আহ্বান জানিয়ে সন্দেহজনক ব্যক্তি, বস্তু বা কর্মকাণ্ড চোখে পড়লে দ্রুত আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে জানানোর অনুরোধ করেছে র‍্যাব।/টি

আগস্ট ২৫, ২০২৬

সেপ্টেম্বরে যুক্তরাষ্ট্রে যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী

মালয়েশিয়া ও চীন সফরের পর জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনে যোগ দিতে যুক্তরাষ্ট্র সফরে যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।  সবকিছু ঠিক থাকলে আগামী ২১ সেপ্টেম্বর তিনি নিউইয়র্কের উদ্দেশে ঢাকা ছাড়তে পারেন। পরে তার সানফ্রান্সিসকো যাওয়ারও কথা রয়েছে।পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, প্রধানমন্ত্রীর সম্ভাব্য নয় দিনের যুক্তরাষ্ট্র সফরকে সামনে রেখে প্রস্তুতি চলছে। সফরসঙ্গীদের যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা সংগ্রহের কাজও এগিয়ে চলছে।পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে ঢাকায় যুক্তরাষ্ট্রের দূতাবাসে পাঠানো একটি নোট ভার্বালের মাধ্যমে প্রধানমন্ত্রীর সফরের বিষয়টি আনুষ্ঠানিকভাবে জানানো হয়েছে বলে কর্মকর্তারা জানিয়েছেন। কর্মকর্তারা জানান, সরকারপ্রধান হিসেবে এবারই প্রথম জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে বক্তব্য দেবেন তারেক রহমান। অধিবেশনের মূল পর্বে বক্তব্য দেওয়ার পাশাপাশি সাইডলাইনে বিভিন্ন অনুষ্ঠান ও আয়োজনে অংশ নেওয়ার কথা রয়েছে তার।/টি

আগস্ট ২৪, ২০২৬

নুসরাত হত্যা মামলায় হাইকোর্টের রায় ঘোষণা

ফেনীর বহুল আলোচিত মাদ্রাসাছাত্রী নুসরাত জাহান রাফি হত্যা মামলায় ১৬ আসামির মৃত্যুদণ্ডের রায়ের বিরুদ্ধে ডেথ রেফারেন্স, আপিল ও জেল আপিলের রায় ঘোষণা করেছেন হাইকোর্ট। রায়ে দুই আসামির মৃত্যুদণ্ড বহাল রাখা হয়েছে। এছাড়া চারজনের সাজা কমিয়ে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড এবং ১০ আসামিকে খালাস দেওয়া হয়েছে।সোমবার (২৪ আগস্ট) বিচারপতি ভীষ্মদেব চক্রবর্তী ও বিচারপতি কে এম রাশেদুজ্জামান রাজার হাইকোর্ট বেঞ্চ এ রায় ঘোষণা করেন। সকাল ১০টা ৪০ মিনিট থেকে আদালত রায় পড়া শুরু করেন। মৃত্যুদণ্ড বহাল থাকা দুই আসামি হলেন সোনাগাজী ইসলামিয়া সিনিয়র ফাজিল মাদরাসার সাবেক অধ্যক্ষ এস এম সিরাজ-উদ-দৌলা ও শাহাদাত হোসেন শামীম। যাবজ্জীবন পাওয়া চারজন হলেন সাইফুর রহমান জুবায়ের, উম্মে সুলতানা পপি, নুর উদ্দীন ও সাখাওয়াত হোসেন জাবেদ।খালাস পাওয়া ১০ আসামি হলেন মাকসুদ আলম ওরফে মোকসুদ কাউন্সিলর, হাফেজ আব্দুল কাদের, আবছার উদ্দিন, কামরুন নাহার মনি, আব্দুর রহিম শরীফ, ইফতেখার উদ্দিন রানা, ইমরান হোসেন ওরফে মামুন, রুহুল আমিন, মহিউদ্দিন শাকিল ও মোহাম্মদ শামীম। এর আগে ২০১৯ সালের ২৪ অক্টোবর ফেনীর নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল ১৬ আসামির প্রত্যেককে মৃত্যুদণ্ড ও এক লাখ টাকা করে অর্থদণ্ড দেন। পরে সাজা অনুমোদনের জন্য মামলার নথি হাইকোর্টে পাঠানো হয় এবং দণ্ডপ্রাপ্ত আসামিরা আপিল ও জেল আপিল করেন।২০১৯ সালের ৬ এপ্রিল আলিম পরীক্ষা দিতে সোনাগাজী ইসলামিয়া ফাজিল মাদরাসায় গেলে নুসরাতকে সাইক্লোন শেল্টারের ছাদে নিয়ে তার গায়ে আগুন ধরিয়ে দেওয়া হয়। গুরুতর দগ্ধ অবস্থায় প্রথমে ফেনী ও পরে ঢাকায় চিকিৎসাধীন থাকা নুসরাত ১০ এপ্রিল মারা যান। এ ঘটনায় তার ভাই মাহমুদুল হাসান নোমান মামলা করেন। দ্রুত বিচারপ্রক্রিয়া শেষে ৮৭ জনের সাক্ষ্যগ্রহণ ও যুক্তিতর্কের পর ওই বছরের অক্টোবরে ১৬ আসামিকে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়েছিল।/টি

আগস্ট ২৪, ২০২৬

জাতীয় স্মৃতিসৌধে নতুন রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুলের শ্রদ্ধা

নতুন রাষ্ট্রপতি হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণের পর জাতীয় স্মৃতিসৌধে পুষ্পস্তবক অর্পণ করে মহান মুক্তিযুদ্ধের বীর শহীদদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জানিয়েছেন মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। শনিবার (২২ আগস্ট) সকাল ১০টা ২৭ মিনিটে তিনি সাভারের জাতীয় স্মৃতিসৌধের বেদিতে পুষ্পস্তবক অর্পণ করেন। পরে কিছু সময় নীরবে দাঁড়িয়ে শহীদদের স্মরণ করেন তিনি।পুষ্পস্তবক অর্পণের পর তিন বাহিনীর পক্ষ থেকে নতুন রাষ্ট্রপতিকে গার্ড অব অনার দেওয়া হয়। এরপর তিনি জাতীয় স্মৃতিসৌধের পরিদর্শন-বইয়ে স্বাক্ষর করেন। সেখানে তিনি মুক্তিযুদ্ধে জীবন উৎসর্গকারী বীর শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে তাঁদের সর্বোচ্চ আত্মত্যাগ, সাহস ও দেশপ্রেমের বিনিময়ে অর্জিত স্বাধীন ও সার্বভৌম বাংলাদেশের কথা তুলে ধরেন।পরিদর্শন-বইয়ে রাষ্ট্রপতি জাতীয় স্মৃতিসৌধকে দেশের জাতীয় গৌরব, আত্মত্যাগ, ঐক্য ও দেশপ্রেমের চিরন্তন স্মারক হিসেবে উল্লেখ করেন। একই সঙ্গে মহান মুক্তিযুদ্ধের বীর, স্বাধীনতার ঘোষক শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান বীর উত্তম এবং দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়াকে স্মরণ করেন তিনি। তাঁদের দেশপ্রেম, নেতৃত্ব ও গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার সংগ্রাম জাতীয় ইতিহাসে চিরভাস্বর হয়ে থাকবে বলেও মন্তব্য করেন।মির্জা ফখরুল আরও অঙ্গীকার করেন, মহান মুক্তিযুদ্ধের চেতনা, সংবিধানের আদর্শ ও বীর শহীদদের আত্মত্যাগের মর্যাদা সমুন্নত রেখে একটি শান্তিপূর্ণ, ন্যায়ভিত্তিক, গণতান্ত্রিক, কল্যাণমুখী ও সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়তে সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করতে হবে। তিনি বীর শহীদদের রুহের মাগফিরাত কামনা এবং বাংলাদেশের শান্তি, সমৃদ্ধি ও কল্যাণের জন্য দোয়া করেন।শ্রদ্ধা নিবেদন শেষে রাষ্ট্রপতি জাতীয় স্মৃতিসৌধ প্রাঙ্গণে একটি উদয় পদ্ম বৃক্ষের চারা রোপণ করে স্থান ত্যাগ করেন। এ সময় রাষ্ট্রপতি কার্যালয়ের সামরিক সচিব জেনারেল এ এস এম বাহাউদ্দিন, প্রেস সেক্রেটারি মো. সরওয়ার আলম, মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী ইশরাক হোসেন, সেনাবাহিনী প্রধান জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামানসহ তিন বাহিনীর প্রধান ও সাভার ক্যান্টনমেন্টের জিওসি উপস্থিত ছিলেন। এর আগে ২০ আগস্ট সংসদ সদস্যদের ভোটে রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হন বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল। পরদিন ২১ আগস্ট বঙ্গভবনে আনুষ্ঠানিকভাবে রাষ্ট্রপতি হিসেবে শপথ নেন তিনি।/টি

আগস্ট ২২, ২০২৬

দেশের ২৩তম রাষ্ট্রপতি হিসেবে শপথ নিলেন মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর

বাংলাদেশের ২৩তম রাষ্ট্রপতি হিসেবে আনুষ্ঠানিকভাবে শপথ গ্রহণ করেছেন বিএনপির সাবেক মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। শুক্রবার (২১ আগস্ট) বঙ্গভবনের ঐতিহাসিক দরবার হলে সন্ধ্যা ৭টা ৩৭ মিনিটে তাকে শপথবাক্য পাঠ করানো হয়।মন্ত্রিপরিষদ সচিব নাসিমুল গনির পরিচালনায় আয়োজিত এ অনুষ্ঠানে নির্ধারিত প্রক্রিয়া শেষে শপথ বইতে স্বাক্ষর করেন নবনিযুক্ত রাষ্ট্রপতি। পরে ভারপ্রাপ্ত স্পিকার তা সত্যায়িত করেন।অনুষ্ঠানে মন্ত্রী হিসেবে শপথ নিতে বঙ্গভবনের দরবার হলে উপস্থিত ছিলেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. আব্দুল মঈন খান, আন্দালিব রহমান পার্থ, বান্দরবানের সংসদ সদস্য সাচিং প্রু জেরী, গাইবান্ধা-৪ আসনের সংসদ সদস্য মোহাম্মদ শামীম কায়সার লিংকন এবং প্রধানমন্ত্রীর পররাষ্ট্রবিষয়ক উপদেষ্টা হুমায়ুন কবির।

আগস্ট ২১, ২০২৬
footer small logo

যোগাযোগ :

এটিএন বাংলা, ওয়াসা ভবন, ২য় তলা, ৯৮ কাজী নজরুল ইসলাম এভিনিউ, কাওরান বাজার, ঢাকা-১২১৫, বাংলাদেশ

ফোনঃ +88-02-55011931

সোশ্যাল মিডিয়া

youtube logotwitter logofacebook logo

Design & Developed by:

developed-company-logo