logo
youtube logotwitter logofacebook logo
/লাইফস্টাইল
টানা ৩০ দিন ডাবের পানি খেলে শরীরে যা ঘটবে - image

টানা ৩০ দিন ডাবের পানি খেলে শরীরে যা ঘটবে

30 মে 2026, বিকাল 3:46

গরমে শরীর ঠান্ডা রাখতে এবং তৃষ্ণা মেটাতে ডাবের পানি অনেকেরই পছন্দের পানীয়। তবে এটি শুধু তাৎক্ষণিক স্বস্তিই দেয় না, নিয়মিত ও পরিমিত পরিমাণে পান করলে শরীরের ভেতরে বিভিন্ন ইতিবাচক পরিবর্তনও দেখা যেতে পারে। বিশেষজ্ঞদের মতে, ডাবের পানিতে থাকা প্রাকৃতিক খনিজ ও ইলেকট্রোলাইট শরীরকে সুস্থ রাখতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।ডাবের পানিতে পটাশিয়াম, সোডিয়াম ও ম্যাগনেসিয়ামের মতো প্রয়োজনীয় খনিজ উপাদান রয়েছে, যা শরীরের পানির ভারসাম্য বজায় রাখতে সহায়তা করে। ফলে দীর্ঘ সময় শরীর হাইড্রেটেড থাকে এবং গরমে ক্লান্তি বা অবসাদ কিছুটা কম অনুভূত হতে পারে। পাশাপাশি নিয়মিত ডাবের পানি পান করলে হৃদযন্ত্র, স্নায়ু ও পেশির স্বাভাবিক কার্যক্রম বজায় রাখতেও সহায়তা মেলে।হজমের ক্ষেত্রেও ডাবের পানির উপকারিতা রয়েছে। এটি সহজে হজম হয় এবং খাবারের পর পেটের ভারী ভাব বা অস্বস্তি কমাতে সাহায্য করতে পারে। এছাড়া এতে থাকা প্রাকৃতিক চিনি শরীরে ধীরে ধীরে শক্তি সরবরাহ করে, ফলে হঠাৎ শক্তির ওঠানামা না হয়ে দীর্ঘ সময় সতেজতা বজায় রাখতে সহায়তা করে।শরীরে পর্যাপ্ত পানি থাকলে তার ইতিবাচক প্রভাব ত্বকেও দেখা যায়। নিয়মিত ডাবের পানি পান করলে ত্বক কিছুটা বেশি আর্দ্র ও সতেজ দেখাতে পারে। একই সঙ্গে এতে চিনির পরিমাণ তুলনামূলক কম থাকায় পরিমিত মাত্রায় পান করলে সুস্থ ব্যক্তিদের রক্তে শর্করার মাত্রায় সাধারণত বড় ধরনের নেতিবাচক প্রভাব পড়ে না।তবে বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করে বলছেন, অতিরিক্ত ডাবের পানি পান করা উচিত নয়। বিশেষ করে কিডনি রোগ বা ডায়াবেটিসে আক্রান্ত ব্যক্তিদের ক্ষেত্রে এর পরিমাণ নিয়ন্ত্রণে রাখা জরুরি। সব মিলিয়ে, পরিমিত পরিমাণে টানা ৩০ দিন ডাবের পানি পান করলে শরীরকে ভেতর থেকে আর্দ্র, হালকা ও সতেজ রাখতে সহায়তা করতে পারে।/টিএ

মে ৩০, ২০২৬

কোরবানির মাংস খেতে গিয়ে গলায় হাড় আটকে গেলে করণীয়

কোরবানির মৌসুমে খাবার খাওয়ার সময় অসাবধানতার কারণে বাড়ছে দুর্ঘটনার ঝুঁকি। সম্প্রতি গলায় মাংসের হাড় আটকে গুরুতর অসুস্থ হয়ে আঁখি নামের ১১ বছর বয়সী এক কিশোরীর মৃত্যুর ঘটনায় উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। চিকিৎসকদের মতে, এ ধরনের দুর্ঘটনা যেকোনো বয়সে ঘটতে পারে, তবে শিশু ও বয়োজ্যেষ্ঠরা সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিতে থাকে। তাই খাওয়ার সময় সতর্ক থাকা এবং জরুরি পরিস্থিতিতে কী করতে হবে, সে বিষয়ে সবার সচেতন হওয়া প্রয়োজন।বিশেষজ্ঞরা বলছেন, খাওয়ার সময় গল্প করা বা মুখে খাবার নিয়ে কথা বলা বিপজ্জনক হতে পারে। এতে খাবারের ছোট অংশ বা হাড় গলায় আটকে যাওয়ার আশঙ্কা থাকে। কখনো কখনো খাবার শ্বাসনালিতে ঢুকে শ্বাসকষ্টসহ প্রাণঘাতী পরিস্থিতির সৃষ্টি করতে পারে। তাই ধীরে-সুস্থে ও মনোযোগ দিয়ে খাবার খাওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন চিকিৎসকরা। তাড়াহুড়া করে বড় বড় লোকমা খাওয়া থেকেও বিরত থাকতে বলা হয়েছে।শিশু ও বয়োজ্যেষ্ঠদের খাবার পরিবেশনের আগে বিশেষ সতর্কতা নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা। মাংস, তেহারি বা হাড়যুক্ত খাবার ভালোভাবে পরীক্ষা করে ছোট হাড় বা কাঁটা সরিয়ে দেওয়ার পর খেতে দেওয়া নিরাপদ বলে জানিয়েছেন তারা। কারণ শিশুদের গলার নালি তুলনামূলক সরু হওয়ায় ছোট হাড়ও বড় বিপদের কারণ হতে পারে।গলায় হাড় আটকে গেলে প্রথমে হালকা কাশি দেওয়ার চেষ্টা করতে বলা হয়েছে। অনেক সময় এতে ছোট হাড় সরে যায়। অল্প অল্প করে পানি পান করা বা নরম খাবার যেমন কলা, ভেজানো রুটি কিংবা নরম ভাত খেলে হাড় নিচে নেমে যেতে পারে। তবে গিলতে অতিরিক্ত কষ্ট হলে জোর করে কিছু খাওয়া বা পান করা উচিত নয়। একই সঙ্গে গলার ভেতর আঙুল ঢুকিয়ে হাড় বের করার চেষ্টা না করার পরামর্শ দিয়েছেন চিকিৎসকরা, কারণ এতে গলায় ক্ষত তৈরি হতে পারে এবং হাড় আরও গভীরে আটকে যেতে পারে।চিকিৎসকদের মতে, শ্বাস নিতে কষ্ট হওয়া, কথা বলতে না পারা, অতিরিক্ত কাশি, বুকে ব্যথা, লালা গিলতে সমস্যা বা মুখ নীলচে হয়ে যাওয়ার মতো উপসর্গ দেখা দিলে দ্রুত হাসপাতালে নিতে হবে। প্রয়োজন হলে এন্ডোস্কোপির মাধ্যমে আটকে থাকা হাড় বের করা হয়। সময়মতো চিকিৎসা না নিলে খাদ্যনালিতে সংক্রমণ বা গুরুতর জটিলতা তৈরি হতে পারে বলেও সতর্ক করেছেন বিশেষজ্ঞরা।/টিএ

মে ২৯, ২০২৬

গরুর মাংস কতদিন ফ্রিজে রাখা নিরাপদ?

কোরবানির ঈদ এলেই ঘরে ঘরে মাংস সংরক্ষণের ব্যস্ততা বেড়ে যায়। অনেকেই দীর্ঘদিনের জন্য ফ্রিজে গরু বা খাসির মাংস রেখে দেন, কিন্তু কতদিন পর্যন্ত তা নিরাপদভাবে খাওয়া যায়—এ বিষয়টি অনেকেরই অজানা। সঠিক সময়সীমা ও সংরক্ষণ পদ্ধতি না জানলে মাংসের স্বাদ ও পুষ্টিগুণ যেমন নষ্ট হয়, তেমনি স্বাস্থ্যঝুঁকিও তৈরি হতে পারে।স্বাস্থ্যবিষয়ক ওয়েবসাইট হেলথলাইনের তথ্য অনুযায়ী, ফ্রিজে মাংস কতদিন ভালো থাকবে তা মূলত নির্ভর করে তাপমাত্রার ওপর। ডিপ ফ্রিজার এবং নরমাল ফ্রিজের তাপমাত্রা ভিন্ন হওয়ায়, এ দুই ক্ষেত্রে মাংস সংরক্ষণের সময়কালও এক নয়।ইউএসডিএ-এর নির্দেশনা অনুযায়ী, ০ ডিগ্রি ফারেনহাইট বা -১৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রায় মাংস হিমায়িত করলে ব্যাকটেরিয়া, ইস্ট ও ছত্রাকের কার্যক্রম নিষ্ক্রিয় হয়ে যায়। ফলে এ তাপমাত্রার ডিপ ফ্রিজে কাঁচা গরু বা খাসির মাংস ৪ থেকে ১২ মাস পর্যন্ত নিরাপদ থাকে। তবে কিমা এবং রান্না করা মাংসের ক্ষেত্রে এই সময়সীমা ২ থেকে ৩ মাসের মধ্যে সীমাবদ্ধ।অন্যদিকে, ফ্রিজের নরমাল চেম্বারে সাধারণত ৪ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রা থাকে। এ অবস্থায় কাঁচা মাংস সর্বোচ্চ ৩ থেকে ৫ দিন এবং কিমা বা রান্না করা মাংস ৩ থেকে ৪ দিনের মধ্যে ব্যবহার করা নিরাপদ বলে বিশেষজ্ঞরা জানান। এর বেশি সময় রাখলে মাংসে জীবাণু বৃদ্ধির ঝুঁকি বেড়ে যায়।মাংস দীর্ঘদিন নিরাপদ রাখতে কিছু নিয়ম মেনে চলা জরুরি। সংরক্ষণের আগে মাংস ভালো করে ধুয়ে পানি ঝরিয়ে নিতে হবে এবং ছোট ছোট ভাগে এয়ারটাইট পাত্রে রাখতে হবে। ফ্রিজ থেকে বের করে গলানো মাংস পুনরায় জমিয়ে রাখা ঠিক নয়। বিদ্যুৎ চলে গেলে বা বরফ গলে গেলে দ্রুত রান্না করে খাওয়া উচিত। এছাড়া, ডিপ ফ্রিজে রাখা মাংস ৬ মাসের মধ্যে খেলে স্বাদ ভালো থাকে এবং কিমা মাংস ২ দিনের মধ্যে রান্না করাই উত্তম।/টিএ

মে ২৮, ২০২৬

যেভাবে সহজে রান্না করবেন হাতে মাখা গরুর মাংসের ঝাল

ঈদে অনেকেই এবার ঘরে নিজ হাতে বিশেষ রান্না করার পরিকল্পনা করছেন। বিশেষ করে নতুন রাঁধুনিদের জন্য সহজ কিন্তু সুস্বাদু কোনো রেসিপি হতে পারে ঈদের আনন্দকে আরও বাড়িয়ে তোলার অন্যতম উপায়। তাঁদের জন্যই জনপ্রিয় ও মুখরোচক হাতে মাখা গরুর মাংসের ঝালের রেসিপি নিয়ে এ আয়োজন।এই রেসিপি তৈরিতে প্রয়োজন হবে ২ কেজি গরুর মাংস, ৪টি আলু, ১ কাপ পেঁয়াজকুচি, ৪ টেবিল চামচ আদা ও রসুনবাটা। এছাড়া হলুদ, মরিচ ও ধনেগুঁড়া ১ টেবিল চামচ করে, জিরাগুঁড়া ১ চা-চামচ, স্বাদমতো লবণ, ২ থেকে ৩টি এলাচি ও দারুচিনি, ১ চা-চামচ গরম মসলার গুঁড়া, আধা কাপ সয়াবিন তেল, ১ কাপ পেঁয়াজ বেরেস্তা এবং ৭ থেকে ৮টি কাঁচা মরিচের ফালি লাগবে।রান্নার শুরুতে গরুর মাংস ভালোভাবে ধুয়ে প্রায় ২০ মিনিট পানিতে ভিজিয়ে রাখতে হবে। এরপর একটি হাঁড়িতে আলু ও পেঁয়াজ বেরেস্তা ছাড়া বাকি সব উপকরণ একসঙ্গে নিয়ে হাতে ভালোভাবে মাখিয়ে নিতে হবে। অল্প পানি দিয়ে ঢাকনা লাগিয়ে কম আঁচে রান্না করতে হবে যাতে মাংস ধীরে ধীরে সেদ্ধ হয়ে মসলার স্বাদ ভালোভাবে মিশে যায়।মাংস সেদ্ধ হয়ে এলে টুকরো করা আলু যোগ করে আরও কিছুক্ষণ রান্না করতে হবে। পরে প্রয়োজনমতো ঝোলের পানি দিয়ে মিশ্রণটি ঘন হওয়া পর্যন্ত জ্বাল দিতে হবে। এতে মাংসের স্বাদ আরও গাঢ় ও মজাদার হয়ে উঠবে।সবশেষে পেঁয়াজ বেরেস্তা, কাঁচা মরিচের ফালি ও সামান্য জিরাগুঁড়া ছড়িয়ে নেড়ে নামিয়ে নিলেই তৈরি হয়ে যাবে সুস্বাদু হাতে মাখানো গরুর মাংসের ঝাল। ঈদের দিন গরম ভাত, পোলাও কিংবা রুটির সঙ্গে পরিবেশন করলে এই পদটি সহজেই সবার মন জয় করবে।/টিএ

মে ২৮, ২০২৬

ঋণ থাকলে কি কোরবানি দেওয়া যাবে? যা বলছে ইসলাম

পবিত্র ঈদুল আজহা ঘনিয়ে আসার সাথে সাথেই ধর্মপ্রাণ মুসলমানদের মনে একটি প্রশ্ন সাধারণভাবেই উঁকি দেয়—ঋণ থাকা অবস্থায় কোরবানি দেওয়া যাবে কি না, নাকি আগে ঋণ শোধ করতে হবে? ইসলামী শরিয়তের আলোকে এ বিষয়ে রয়েছে সুস্পষ্ট ও সুনির্দিষ্ট দিকনির্দেশনা। ফিকাহ শাস্ত্রের নির্ভরযোগ্য কিতাবসমূহের উদ্ধৃতি দিয়ে দেশের শীর্ষস্থানীয় আলেমরা জানিয়েছেন, ঋণ থাকা এবং কোরবানি হওয়া বা না হওয়া মূলত ব্যক্তির আর্থিক অবস্থা ও নিসাব পরিমাণের ওপর নির্ভর করে।ইসলামী বিধান অনুযায়ী, ১০ জিলহজ ফজর থেকে ১২ জিলহজ সূর্যাস্ত পর্যন্ত সময়ের মধ্যে কোনো প্রাপ্তবয়স্ক ও সুস্থ মস্তিষ্কসম্পন্ন ব্যক্তি যদি নিসাব পরিমাণ সম্পদের মালিক হন, তবে তার ওপর কোরবানি করা ওয়াজিব। তবে কারও ওপর যদি এমন কোনো ঋণ থাকে, যা পরিশোধ করার পর তার কাছে প্রয়োজনের অতিরিক্ত নিসাব পরিমাণ সম্পদ অবশিষ্ট না থাকে, তাহলে তার ওপর কোরবানি ওয়াজিব হবে না। এই পরিস্থিতিতে কোরবানি দেওয়ার চেয়ে পাওনাদারের ঋণ পরিশোধ করাই ইসলামের দৃষ্টিতে উত্তম ও জরুরি।তবে ঋণ থাকা সত্ত্বেও যদি কোনো ব্যক্তির কাছে ঋণ পরিশোধের পর নিসাব পরিমাণ সম্পদ উদ্বৃত্ত থাকে, তাহলে তার ওপর কোরবানি করা ওয়াজিব এবং তখন কোরবানি না করলে তা গুনাহের কাজ হিসেবে বিবেচিত হবে। আলেমরা স্পষ্ট করেছেন যে, ঋণগ্রস্ত অবস্থায় কেউ কোরবানি করলে তার কোরবানি আদায় হয়ে যাবে; কারণ ঋণ পরিশোধ ও কোরবানি দুটি ভিন্ন বিধান এবং একটির জন্য অন্যটি বাতিল হয় না। তবে সামর্থ্য না থাকা সত্ত্বেও শুধুমাত্র নফল কোরবানির উদ্দেশ্যে নতুন করে ঋণ করাকে ইসলামে নিরুৎসাহিত করা হয়েছে।অন্যদিকে, কোনো ব্যক্তির ওপর কোরবানি ওয়াজিব হওয়ার পর যদি তাৎক্ষণিকভাবে হাতে পর্যাপ্ত নগদ অর্থ না থাকে, তবে তিনি প্রয়োজনে ঋণ করে হলেও কোরবানি আদায় করতে পারবেন এবং পরবর্তীতে সেই ঋণ পরিশোধ করে দেবেন। যদি কোনো কারণে কোরবানির নির্ধারিত সময় পার হয়ে যায় এবং ওয়াজিব কোরবানি আদায় করা সম্ভব না হয়, তবে এর কাজা হিসেবে একটি মাঝারি মানের ছাগলের সমপরিমাণ অর্থ সদকা করার বিধান রয়েছে। উল্লেখ্য, সাড়ে সাত ভরি স্বর্ণ অথবা সাড়ে বায়ান্ন ভরি রুপা কিংবা এর সমমূল্যের নগদ অর্থ, ব্যবসার পণ্য ও প্রয়োজনের অতিরিক্ত জমি বা আসবাবপত্র থাকলে তাকে নিসাব পরিমাণ সম্পদ ধরা হয়।সামর্থ্য থাকা সত্ত্বেও ওয়াজিব কোরবানি না করাকে অত্যন্ত কঠিন গুনাহের কাজ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। হাদিস শরিফে রাসুলুল্লাহ (সা.) এর কঠোর বাণী রয়েছে—"সামর্থ্য থাকা সত্ত্বেও যে কোরবানি করে না, সে যেন অবশ্যই আমাদের ঈদগাহের নিকটবর্তী না হয়।" তাই আলেমদের পরামর্শ, কোরবানি যেহেতু শুধু পশু জবাই নয়, বরং ত্যাগ ও আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জনের এক মহান ইবাদত, সেহেতু কোরবানি আদায়ের আগে প্রত্যেকেরই নিজের আর্থিক সক্ষমতা, ঋণের প্রকৃত অবস্থা এবং পারিবারিক প্রয়োজন সঠিকভাবে বিবেচনা করে সিদ্ধান্ত নেওয়া উচিত।/টিএ

মে ২৬, ২০২৬

হার্ট সুস্থ রাখতে বদলাতে হবে যেসব অভ্যাস

বিশ্বজুড়ে আশঙ্কাজনকভাবে বাড়ছে হার্ট অ্যাটাক ও হৃদরোগের ঝুঁকি। উদ্বেগের বিষয় হলো, শুধু বয়স্ক নয়, নতুন প্রজন্মের মধ্যেও বাড়ছে হৃদরোগে আক্রান্ত হওয়ার প্রবণতা। চিকিৎসকদের মতে, অনিয়ন্ত্রিত জীবনযাপন, মানসিক চাপ, অস্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাস ও প্রযুক্তিনির্ভর দৈনন্দিন অভ্যাস এ পরিস্থিতির জন্য অনেকাংশে দায়ী। তবে সময়মতো সচেতন হলে এবং জীবনধারায় কিছু ইতিবাচক পরিবর্তন আনলে এই ঝুঁকি অনেকটাই কমানো সম্ভব।বিশেষজ্ঞরা বলছেন, হৃদযন্ত্র সুস্থ রাখতে দৈনন্দিন জীবনের কিছু অভ্যাস পরিবর্তন করা জরুরি। বিশেষ করে প্লাস্টিকের ব্যবহার কমানোর ওপর গুরুত্ব দিচ্ছেন তারা। কারণ বাতাস, পানি ও খাবারের মাধ্যমে ক্ষুদ্র প্লাস্টিক কণা শরীরে প্রবেশ করে প্রদাহ সৃষ্টি করতে পারে, যা দীর্ঘমেয়াদে হৃদরোগের ঝুঁকি বাড়ায়। পাশাপাশি খাদ্যতালিকায় সামুদ্রিক মাছসহ ওমেগা-৩ ফ্যাটি অ্যাসিডসমৃদ্ধ খাবার রাখার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে, যা হৃদযন্ত্রকে সুস্থ রাখতে কার্যকর ভূমিকা রাখে।চিকিৎসকদের মতে, নিয়মিত সূর্যের আলোতে থাকা শরীরের জন্য উপকারী। বর্তমানে অনেকেই দিনের বেশিরভাগ সময় ঘরের ভেতর বা শীতাতপনিয়ন্ত্রিত পরিবেশে কাটান। অথচ সূর্যালোক শরীরের বিভিন্ন জৈবিক কার্যক্রম সক্রিয় করে এবং ধমনিতে প্ল্যাক জমা কমাতে সাহায্য করে। একই সঙ্গে পর্যাপ্ত ও মানসম্মত ঘুম নিশ্চিত করাও অত্যন্ত জরুরি। কারণ ঘুমের সময় শরীর নিজেকে পুনর্গঠন করে এবং বিপাকক্রিয়া সচল রাখে। ঘুমের ঘাটতি দীর্ঘমেয়াদে হৃদরোগের ঝুঁকি বাড়াতে পারে।বিশেষজ্ঞরা আরও জানান, দীর্ঘসময় বসে থাকার অভ্যাস হৃদযন্ত্রের জন্য ক্ষতিকর। তাই নিয়মিত হাঁটা, সাইকেল চালানো কিংবা হালকা ব্যায়ামের মাধ্যমে শরীরকে সক্রিয় রাখা প্রয়োজন। পাশাপাশি দীর্ঘমেয়াদি মানসিক চাপও হৃদযন্ত্রের ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলে। তাই মানসিক চাপ কমাতে পরিবারকে সময় দেওয়া, পর্যাপ্ত বিশ্রাম নেওয়া ও স্বাস্থ্যকর বিনোদনের অভ্যাস গড়ে তোলার পরামর্শ দিয়েছেন তারা। এছাড়া ঘরের আর্দ্রতা, ছত্রাক ও জীবাণুমুক্ত পরিচ্ছন্ন পরিবেশ বজায় রাখাও গুরুত্বপূর্ণ বলে মত দিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা।চিকিৎসকদের পরামর্শ অনুযায়ী, নিয়মিত স্বাস্থ্য পরীক্ষা করালে শরীরের ভেতরের নানা ঝুঁকি আগেই শনাক্ত করা সম্ভব। প্রদাহ, পুষ্টির ঘাটতি বা অন্যান্য জটিলতা দ্রুত ধরা পড়লে চিকিৎসাও সহজ হয়। একই সঙ্গে অতিরিক্ত ইলেকট্রনিক যন্ত্র ব্যবহারে ঘুমের ব্যাঘাতসহ নানা সমস্যা তৈরি হতে পারে বলে সতর্ক করেছেন বিশেষজ্ঞরা। বিশেষ করে ঘুমানোর সময় মোবাইল ফোন দূরে রাখার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। তাদের মতে, সচেতনতা ও ছোট ছোট ইতিবাচক পরিবর্তনের মাধ্যমেই হার্ট অ্যাটাকের ঝুঁকি অনেকাংশে কমিয়ে সুস্থ জীবনযাপন সম্ভব।/টিএ

মে ২৫, ২০২৬

ভালো লিচু চিনবেন যেভাবে

গরমের মৌসুম এলেই বাজারে দেখা মেলে লাল টুকটুকে থোকা থোকা লিচুর। রসালো ও মিষ্টি এই ফলটি ছোট-বড় সবার কাছেই প্রিয়। তবে শুধু বাহ্যিক সৌন্দর্য দেখে লিচু কিনতে গেলে বিপদেও পড়তে পারেন ক্রেতারা। কারণ বাজারে অনেক সময় কাঁচা বা অপরিপক্ব লিচুকে আকর্ষণীয় দেখাতে কৃত্রিম রং ব্যবহার করা হয়, এমনকি রাসায়নিক দিয়েও দ্রুত পাকানো হয়। বাইরে থেকে এসব বোঝা কঠিন হলেও কিছু সহজ উপায় জানলে ভালো ও নিরাপদ লিচু বেছে নেওয়া সম্ভব।বিশেষজ্ঞদের মতে, ভালো লিচু চেনার প্রথম ধাপ হলো এর রং পর্যবেক্ষণ করা। স্বাভাবিকভাবে পাকা লিচুর রং উজ্জ্বল হলেও তা কখনো অতিরিক্ত চকচকে হয় না। বিভিন্ন জাতের লিচুতে গাঢ় লাল, কমলা কিংবা হালকা বাদামি আভা থাকতে পারে, যা স্বাভাবিক বৈশিষ্ট্য। তবে সব লিচু যদি একদম একই রঙের ও অস্বাভাবিক উজ্জ্বল দেখায়, তাহলে সতর্ক হওয়া উচিত। কারণ এটি কৃত্রিম রং ব্যবহারের ইঙ্গিত হতে পারে।শুধু চোখে নয়, হাতে নিয়েও লিচুর মান যাচাই করা যায়। ভালো পাকা লিচু হবে টানটান ও সতেজ। অতিরিক্ত নরম লিচু ভেতর থেকে পচে যাওয়ার লক্ষণ হতে পারে, আবার খুব শক্ত হলে বোঝা যায় সেটি এখনও কাঁচা। একই সঙ্গে লিচুর গন্ধও গুরুত্বপূর্ণ। পাকা লিচুতে স্বাভাবিক মিষ্টি সুগন্ধ থাকে। কিন্তু রাসায়নিক ব্যবহার করা লিচুতে সেই গন্ধ অনুপস্থিত থাকতে পারে, এমনকি কড়া বা অস্বাভাবিক গন্ধও পাওয়া যেতে পারে। তাই কেনার সময় লিচু নাকের কাছে নিয়ে গন্ধ পরীক্ষা করার পরামর্শ দিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা।লিচুর খোসা ও ডাঁটির দিকেও খেয়াল রাখতে হবে। ভালো লিচুর খোসা থাকে পরিষ্কার ও দাগমুক্ত। খোসায় ফাটল, বাদামি দাগ বা পচা অংশ থাকলে সেই লিচু না কেনাই ভালো। বিশেষ করে ডাঁটির অংশ পচা থাকলে ভেতরেও নষ্ট হওয়ার সম্ভাবনা বেশি থাকে। বাসায় এনে লিচু কিছুক্ষণ পানিতে ভিজিয়ে রাখলে কৃত্রিম রং ব্যবহারের বিষয়টি বোঝা যেতে পারে। পানির রং লালচে হয়ে গেলে বা হাতে রং লাগলে সেই লিচু খাওয়া থেকে বিরত থাকার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।এছাড়া লিচু কেনার পর সরাসরি না খেয়ে ভালোভাবে ধুয়ে নেওয়ার ওপর জোর দিয়েছেন স্বাস্থ্যসচেতনরা। চাইলে কিছু সময় পরিষ্কার পানিতে ভিজিয়েও রাখা যেতে পারে। এতে ময়লা ও রঙের কিছু অংশ দূর হয়। বিশেষজ্ঞদের মতে, একটু সচেতন থাকলেই নিরাপদ ও সুস্বাদু লিচু বেছে নেওয়া কঠিন নয়। লিচু কেনার আনন্দ যেন অসুস্থতার কারণ না হয়, সে জন্য ক্রেতাদের আরও সতর্ক হওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে।/টিএ

মে ২৩, ২০২৬

রাতে ভালো ঘুমের সহজ উপায়

তীব্র গরমে রাতভর এপাশ-ওপাশ করেও অনেকের চোখে ঘুম আসে না। গরমে ঘেমে শরীর অস্বস্তিকর হয়ে ওঠা এবং মধ্যরাতে বারবার ঘুম ভেঙে যাওয়ার সমস্যায় ভুগছেন অনেকেই। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই অনিদ্রার পেছনে একটি বড় কারণ হতে পারে শরীরের তাপমাত্রা অতিরিক্ত বেড়ে যাওয়া। এই সমস্যার সহজ সমাধান হিসেবে হালকা পোশাক পরা বা একেবারে কাপড়ের অনুপস্থিতিতে ঘুমানোর পরামর্শ দিচ্ছেন চিকিৎসা বিজ্ঞানীরা, যা শরীরকে আরাম দেওয়ার পাশাপাশি নিশ্চিত করতে পারে গভীর ঘুম।তাপমাত্রা ও ভালো ঘুমের সম্পর্কচিকিৎসা বিজ্ঞানীদের মতে, ঘুমানোর সময় মানবদেহের ভেতরের তাপমাত্রা স্বাভাবিকভাবেই কিছুটা কমে যায়, যা শরীরকে গভীর ঘুমে প্রবেশ করতে সাহায্য করে। তবে মোটা কাপড়ের পোশাক, ভারী চাদর বা ঘরের গুমোট পরিবেশের কারণে যদি শরীরের ভেতরের তাপ বাইরে বের হতে না পারে, তবেই ঘুমের ব্যাঘাত ঘটে। শরীর, বিছানা ও পোশাকের মাঝে অতিরিক্ত গরম আটকে গেলে ঘুম হালকা হয়ে যায় এবং রাতে বারবার ঘুম ভেঙে যাওয়ার প্রবণতা তৈরি হয়।পোশাক ছাড়া বা হালকা কাপড়ে ঘুমানোর সুফলবিশেষজ্ঞদের মতে, রাতে খুব হালকা পোশাকে বা কাপড় ছাড়া ঘুমালে শরীর সহজে ও দ্রুত ঠান্ডা হওয়ার সুযোগ পায়। এর ফলে ঘুম অত্যন্ত গভীর হয়, যা সকালে ঘুম থেকে ওঠার পর শরীরের ক্লান্তি দূর করে এবং শরীরকে সতেজ ও প্রাণবন্ত রাখতে সাহায্য করে। অনেক গবেষক মনে করেন, পর্যাপ্ত ও গভীর ঘুমের কারণে পরদিন শরীরে দ্বিগুণ শক্তি পাওয়া যায় এবং সারাদিন মনও ফুরফুরে থাকে।পুরুষদের প্রজনন স্বাস্থ্য ও দাম্পত্যে ইতিবাচক প্রভাবরাতে ঢিলেঢালা বা পোশাক ছাড়া ঘুমানোর বিষয়টি পুরুষদের প্রজনন স্বাস্থ্যের জন্যও অত্যন্ত উপকারী বলে জানিয়েছেন চিকিৎসকরা। অতিরিক্ত আঁটসাঁট পোশাক শরীরের তাপমাত্রা বাড়িয়ে দেয়, যা পুরুষদের প্রজনন ক্ষমতায় নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে। অন্যদিকে, বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বিবাহিত দম্পতিরা রাতে হালকা পোশাকে বা কাপড়ের ব্যবহার ছাড়া ঘুমালে তাদের মধ্যকার মানসিক দূরত্ব কমে। পরস্পরের ত্বকের স্পর্শে শরীরে এক ধরনের মানসিক স্বস্তি ও হরমোনের নিঃসরণ ঘটে, যা দাম্পত্য সম্পর্ককে আরও ঘনিষ্ঠ করতে সাহায্য করে। তবে বিষয়টি সম্পূর্ণ ব্যক্তিগত পছন্দের ওপর নির্ভরশীল।আরামদায়ক ঘুমের জন্য করণীয় ও সতর্কতাএকটি স্বাস্থ্যকর ও আরামদায়ক ঘুমের জন্য ঘরের তাপমাত্রা সহনীয় রাখা, ঘরে বাতাস চলাচলের ব্যবস্থা করা এবং সুতির হালকা বিছানার চাদর ব্যবহার করা জরুরি। যারা একদম পোশাক ছাড়া ঘুমাতে স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করেন না, তারা চাইলে অত্যন্ত হালকা ও ঢিলেঢালা সুতি পোশাক বেছে নিতে পারেন। তবে বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করে দিয়ে বলেছেন, কেউ যদি কাপড় ছাড়া ঘুমানোর অভ্যাস করেন, তবে ত্বকের সুরক্ষায় অবশ্যই বিছানার চাদর ও বালিশের কভার নিয়মিত ধুয়ে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখতে হবে।সূত্র: সিএনএন/টিএ

মে ২১, ২০২৬

যেভাবে বছরজুড়ে টাটকা থাকবে আমের আচার

আমের আচার খেতে ভালোবাসেন না, এমন মানুষ খুঁজে পাওয়া মুশকিল। একটুখানি আচার পুরো খাবারের স্বাদকেই বদলে দেয়। আগেকার দিনে দাদি-নানিদের হাতের তৈরি সুস্বাদু আচারের স্বাদ এখনো অনেকের স্মৃতিতে অমলিন। আপনিও যদি সেই ঐতিহ্যবাহী স্বাদ পেতে বাড়িতে আমের আচার বানাতে চান, তবে শুধু বানালেই হবে না; তা যেন বছরজুড়ে ভালো থাকে, সেই উপায়ও জানতে হবে। আচার দীর্ঘ দিন ভালো রাখতে হলে কিছু সাধারণ কিন্তু মারাত্মক ভুল অবশ্যই এড়িয়ে চলতে হবে।আচারের সবচেয়ে বড় শত্রু হলো পানি বা আর্দ্রতা। তাই আম কাটার পর খুব ভালো করে ধুয়ে একদম শুকিয়ে নিতে হবে যাতে বিন্দুমাত্র পানি না থাকে। প্রয়োজনে কড়া রোদে শুকিয়ে তবেই আচার বানানোর প্রক্রিয়া শুরু করা উচিত। একই সাথে, আচার ভালো রাখার অন্যতম প্রধান চাবিকাঠি হলো তেল। আচার বানানোর সময় তেলে একদম কার্পণ্য করা চলবে না। বয়ামে আচার রাখার পর তার ওপর যেন সব সময় তেলের একটি আস্তরণ থাকে, যা আচারে বাতাস ও অক্সিজেন ঢুকতে বাধা দেয় এবং ছত্রাক বা ফাঙ্গাস পড়া রোধ করে।আচার সংরক্ষণের জন্য পাত্রের নির্বাচন এবং তা রাখার স্থানটিও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। আচার ভুলেও কখনো প্লাস্টিকের পাত্রে রাখা যাবে না, কারণ এতে বিশেষ করে বর্ষাকালে আচার দ্রুত নষ্ট হয়ে যায়। এর বদলে কাচের বয়াম ভালো করে ধুয়ে কড়া রোদে শুকিয়ে তাতে আচার রাখতে হবে। এছাড়া আচারের শিশিটি বাড়ির কোনো ভিজে বা স্যাঁতসেঁতে জায়গায় না রেখে, যেখানে পর্যাপ্ত রোদ পড়ে এবং আবহাওয়া শুকনো থাকে—এমন স্থানে সংরক্ষণ করতে হবে।সর্বশেষ সতর্কবার্তাটি হলো আচার ব্যবহারের নিয়ম নিয়ে। আচার দীর্ঘ দিন ভালো রাখতে তা ফ্রিজে রাখা যেতে পারে, তবে ফ্রিজ থেকে বের করার পর বেশি সময় বাইরে ফেলে রাখা যাবে না। সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, আচার পাত্র থেকে বের করার সময় ব্যবহৃত চামচটি যেন সম্পূর্ণ শুকনো হয়। সামান্য ভিজে চামচের ছোঁয়া লাগলেও পুরো বয়ামের আচার দ্রুত নষ্ট হয়ে যেতে পারে। তাই একটু সচেতন হলেই ঘরে তৈরি আচার উপভোগ করা যাবে বছরজুড়ে।/টিএ

মে ২০, ২০২৬

নীরব ব্যাধি ঘাড় ব্যথা থেকে মুক্তির উপায়

বর্তমান যুগে ঘাড় ব্যথা অনেকেরই একটি নিত্যনৈমিত্তিক ও অস্বস্তিকর সমস্যা হয়ে দাঁড়িয়েছে। দীর্ঘ সময় কম্পিউটারে কাজ করা, স্মার্টফোন ব্যবহারের আধিক্য এবং ভুল ভঙ্গিতে ঘুমানোর কারণে এই সমস্যাটি এখন ঘরে ঘরে দেখা যাচ্ছে। সাধারণ মনে হলেও এই ব্যথা কখনো কখনো গুরুতর স্বাস্থ্যঝুঁকির কারণ হতে পারে। চিকিৎসকদের মতে, এক সপ্তাহের বেশি সময় ধরে ঘাড়ে ব্যথা থাকলে অবহেলা না করে দ্রুত বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া জরুরি, অন্যথায় তা স্বাভাবিক জীবনযাত্রায় ব্যাপক ব্যাঘাত ঘটাতে পারে।ঘাড় ব্যথার মূল কারণসমূহচিকিৎসকদের মতে, ঘাড় ব্যথার প্রধান কারণগুলোর মধ্যে রয়েছে দীর্ঘক্ষণ একই ভঙ্গিতে বসে থাকা বা মাথা নিচু করে কাজ করা, যা ঘাড়ের পেশিতে অতিরিক্ত চাপ সৃষ্টি করে। এ ছাড়া দুর্ঘটনাজনিত আঘাত, খেলাধুলার সময় চোট বা মেরুদণ্ডের জটিল সমস্যা যেমন স্পন্ডাইলোসিস এই ব্যথার জন্য দায়ী হতে পারে। ঘাড়ের পেশিতে অতিরিক্ত টানের ফলে সৃষ্ট 'মাসল স্প্যাজম' যেমন তীব্র কষ্টদায়ক হতে পারে, তেমনি সংক্রমণ, টিউমার বা আর্থ্রাইটিসের মতো জটিল রোগও এই ব্যথার উৎস হতে পারে।লক্ষণ ও উপসর্গঘাড় ব্যথার লক্ষণ ও তীব্রতা ব্যক্তিভেদে ভিন্ন হতে পারে। এর সাধারণ লক্ষণগুলোর মধ্যে রয়েছে— ঘাড়ে তীব্র বা হালকা ব্যথা হওয়া, ঘাড় নাড়াতে কষ্ট হওয়া এবং আক্রান্ত স্থানে জ্বালাপোড়া অনুভব করা। অনেক সময় এই ব্যথা শুধু ঘাড়ে সীমাবদ্ধ না থেকে হাত বা বাহুতে ছড়িয়ে পড়তে পারে। এর পাশাপাশি আক্রান্ত ব্যক্তির ঘনঘন মাথাব্যথা দেখা দেওয়ার মতো উপসর্গও প্রকাশ পায়।আধুনিক চিকিৎসা পদ্ধতিঘাড় ব্যথার চিকিৎসা মূলত এর কারণ ও তীব্রতার ওপর নির্ভর করে। চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী ব্যথানাশক বা পেশি শিথিলকারী ওষুধ সেবনের পাশাপাশি ফিজিওথেরাপি ব্যায়াম ঘাড়ের পেশি শক্তিশালী করতে অত্যন্ত কার্যকর। এ ছাড়া সাময়িক ব্যথা কমাতে হিট বা আইস থেরাপির পাশাপাশি মেরুদণ্ডের চাপ কমাতে 'ট্রাকশন' পদ্ধতি ব্যবহার করা হয়। তবে রোগ গুরুতর রূপ নিলে বিশেষ ক্ষেত্রে স্টেরয়েড ইনজেকশন বা সবশেষে সার্জারির প্রয়োজন হতে পারে।প্রতিরোধ ও দৈনন্দিন অভ্যাস পরিবর্তনদৈনন্দিন জীবনে কিছু স্বাস্থ্যকর অভ্যাস গড়ে তুললে এই সমস্যা থেকে দূরে থাকা সম্ভব। দীর্ঘ সময় একভাবে বসে না থেকে মাঝে মাঝে বিরতি নেওয়া, কাজের টেবিল–চেয়ার ও কম্পিউটার এমনভাবে সামঞ্জস্য করা যাতে মনিটর চোখের স্তরের সমান থাকে এবং নিয়মিত ঘাড়ের ব্যায়াম করা জরুরি। বসে থাকার সময় মেরুদণ্ড সরলরেখায় রাখা, শরীরের ওজন নিয়ন্ত্রণে রাখা এবং ভারী বস্তু তোলার সময় সতর্কতা অবলম্বন করলে মেরুদণ্ড ও ঘাড়ের ওপর বাড়তি চাপ এড়ানো যায়। সর্বোপরি, জীবনযাত্রায় সামান্য সচেতনতাই পারে এই কষ্টদায়ক সমস্যা থেকে মুক্তি দিতে।/টিএ

মে ১৬, ২০২৬

প্রতিদিন কতটুকু পানি পান করা প্রয়োজন

সারাদিন বারবার পানি পান করাকে অনেকেই সুস্বাস্থ্যের চাবিকাঠি মনে করেন। কিন্তু 'বেশি পানি মানেই বেশি সুস্থতা'—এই ধারণা সবসময় সঠিক নয়। প্রকৃতপক্ষে, শরীরের প্রয়োজন না বুঝে অতিরিক্ত পানি পান করা উপকারের চেয়ে ক্ষতিই বেশি করতে পারে। বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, প্রতিদিন আট গ্লাস পানি পান করার যে প্রচলিত নিয়ম আমরা জানি, তার পেছনে খুব একটা জোরালো বৈজ্ঞানিক ভিত্তি নেই।পানির চাহিদা ব্যক্তিভেদে ভিন্ন হওয়াটাই স্বাভাবিক। আপনার বয়স, শারীরিক গঠন, কাজের ধরন এবং আপনি কোন ধরনের আবহাওয়ায় থাকছেন, তার ওপর নির্ভর করে শরীরে পানির প্রয়োজনীয়তা। একজন অ্যাথলেট বা কঠোর পরিশ্রমী মানুষের শরীরে যে পরিমাণ পানির প্রয়োজন, একজন শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত ঘরে বসে কাজ করা মানুষের চাহিদা তার চেয়ে অনেক কম হবে। তাই নির্দিষ্ট কোনো সংখ্যা দিয়ে সবার পানির চাহিদাকে মাপা অসম্ভব।সাধারণভাবে একজন সুস্থ মানুষের জন্য দিনে গড়ে ১.৫ লিটার থেকে ১.৮ লিটার বা ৬ থেকে ৭ গ্লাস পানিই যথেষ্ট। তবে গর্ভবতী নারী, দুগ্ধদানকারী মা কিংবা যারা রোদে বা গরমে কঠোর পরিশ্রম করেন, তাদের ক্ষেত্রে এই পরিমাণ বাড়তে পারে। শরীর মূলত নিজেই তৃষ্ণার মাধ্যমে সংকেত দেয় যে কখন তার পানি প্রয়োজন। প্রাকৃতিক এই সংকেত উপেক্ষা করে জোরপূর্বক অতিরিক্ত পানি পান করলে রক্তে সোডিয়ামের ভারসাম্য নষ্ট হতে পারে, যা থেকে মাথা ঘোরা বা বমির মতো সমস্যা দেখা দেয়।পানির অভাব বা পানিশূন্যতা বোঝার কিছু সহজ উপায় রয়েছে। যদি প্রস্রাবের রঙ গাঢ় হলুদ হয়, মুখ শুকিয়ে আসে, ক্লান্তি বা বারবার মাথা ঘোরার মতো উপসর্গ দেখা দেয়, তবে বুঝতে হবে আপনার শরীর আরও পানি চাইছে। এসব লক্ষণ দেখা দিলে দ্রুত পানি পান করা জরুরি। তবে মনে রাখা প্রয়োজন, শরীর কেবল সরাসরি পানি থেকেই আর্দ্রতা পায় না; প্রতিদিনের খাবার তালিকায় থাকা ফলমূল, শাকসবজি, ডাবের পানি বা দুধ থেকেও শরীর প্রয়োজনীয় পানির বড় একটা অংশ সংগ্রহ করে।পরিশেষে, সুস্থ থাকার জন্য শরীরের চাহিদাকে গুরুত্ব দেওয়া সবচেয়ে বুদ্ধিমানের কাজ। অন্ধভাবে নিয়ম মেনে না চলে নিজের শরীর কী বলছে তা বোঝার চেষ্টা করুন। তৃষ্ণা পেলে পানি পান করুন এবং শরীর আর্দ্র রাখতে সুষম খাবার গ্রহণ করুন। মনে রাখবেন, পরিমিতি বোধই সুস্থ জীবনের মূলমন্ত্র, তা সেটি পানি পানের ক্ষেত্রেই হোক না কেন।/টিএ

মে ১৪, ২০২৬

অফিসে প্রেমের সম্পর্কে জড়াচ্ছেন ৬০ শতাংশেরও বেশি মানুষ

শহুরে ব্যস্ততায় এখন দিনের বড় একটা অংশ কাটে চার দেয়ালের অফিসে। সকালের ডেডলাইন সামলানো থেকে শুরু করে বিকেলের কফি বিরতি—এই দীর্ঘ সময় একসঙ্গে কাটাতে গিয়ে সহকর্মীদের মধ্যে তৈরি হচ্ছে এক অদৃশ্য সেতুবন্ধন। পেশাদার আলাপ ছাপিয়ে কখন যে একে অপরের প্রতি যত্ন বা ভালো লাগা তৈরি হয়, তা অনেকেই শুরুতে টের পান না। এভাবেই বর্তমান সময়ে কর্মক্ষেত্র হয়ে উঠছে সম্পর্কের নতুন ঠিকানা।সাম্প্রতিক এক আন্তর্জাতিক সমীক্ষায় উঠে এসেছে চমকপ্রদ তথ্য। ফোর্বস ম্যাগাজিনের প্রতিবেদন অনুযায়ী, প্রায় ৬০ শতাংশেরও বেশি কর্মজীবী মানুষ জীবনের কোনো না কোনো সময়ে সহকর্মীর প্রেমে পড়েছেন। এর মধ্যে আশাব্যঞ্জক বিষয় হলো, এই সম্পর্কগুলোর প্রায় ৪৩ শতাংশই শেষ পর্যন্ত বিয়ে বা স্থায়ী পরিণয়ে গড়িয়েছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, বাইরে সামাজিক যোগাযোগের সুযোগ কমে যাওয়ায় মানুষ এখন কর্মস্থলেই মানসিক নিরাপত্তা ও নির্ভরতা খুঁজে নিচ্ছে।তবে অফিসের এই রোমান্স সবসময় সহজ হয় না। সমীক্ষায় দেখা গেছে, প্রায় ৫৭ শতাংশ কর্মী মনে করেন অফিসের সম্পর্কের প্রভাব সরাসরি কাজের পারফরম্যান্সে পড়ে। কারো জন্য এটি অনুপ্রেরণা হলেও অনেকের ক্ষেত্রে ব্যক্তিগত টানাপোড়েন কর্মপরিবেশকে অস্বস্তিকর করে তোলে। এছাড়া সহকর্মীদের কানাঘুষা, ঈর্ষা বা পক্ষপাতিত্বের অভিযোগের ভয়ে প্রায় ৩৫ শতাংশ মানুষ তাদের সম্পর্কের বিষয়টি কর্তৃপক্ষের কাছে গোপন রাখতে পছন্দ করেন।পেশাদারিত্বের এই চড়াই-উতরাইয়ের মাঝেও সফল গল্পের অভাব নেই। যেমন শাহরিয়ার নীরব, যিনি তার সহকর্মীকে বিয়ে করে সুখে সংসার করছেন। তার মতে, অফিসের কাজের চাপের মাঝেও প্রিয় মানুষের সান্নিধ্য ক্লান্তি দূর করে দেয়। অন্যদিকে সাদমিনার মতো অনেকেই আছেন যারা এখনো অব্যক্ত ভালো লাগা নিয়ে প্রতিদিন অফিসে যান, যাদের কাছে দুপুরের লাঞ্চ বা চায়ের আড্ডাই হয়ে ওঠে দিন শেষের পরম প্রাপ্তি।বিশেষজ্ঞরা বলছেন, কর্মক্ষেত্রে সম্পর্ক হওয়াটা মানবিক ও স্বাভাবিক বিষয়। তবে এর সঙ্গে জড়িয়ে থাকে পেশাদারিত্ব এবং ব্যক্তিগত সীমারেখার ভারসাম্য। একটি সুন্দর সম্পর্কের কারণে যেন অফিসের সুস্থ পরিবেশ বা অন্য সহকর্মীদের কাজের ব্যাঘাত না ঘটে, সেদিকে খেয়াল রাখা জরুরি। দিনশেষে অফিসের প্রেম শুধু দুজন মানুষের গল্প নয়, এটি একটি পুরো কর্মপরিবেশের ভারসাম্যের ওপরও প্রভাব ফেলে।/টিএ

মে ১৩, ২০২৬
footer small logo

যোগাযোগ :

এটিএন বাংলা, ওয়াসা ভবন, ২য় তলা, ৯৮ কাজী নজরুল ইসলাম এভিনিউ, কাওরান বাজার, ঢাকা-১২১৫, বাংলাদেশ

ফোনঃ +88-02-55011931

সোশ্যাল মিডিয়া

youtube logotwitter logofacebook logo

Design & Developed by:

developed-company-logo