logo
youtube logotwitter logofacebook logo
/লাইফস্টাইল
হাম থেকে শিশুদের বাঁচাতে যেসব জানা জরুরি - image

হাম থেকে শিশুদের বাঁচাতে যেসব জানা জরুরি

15 এপ্রিল 2026, বিকাল 9:50

দেশের বিভিন্ন জেলায় শিশুদের মধ্যে সম্প্রতি হামের সংক্রমণ আশঙ্কাজনকভাবে বাড়তে শুরু করেছে। স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা বলছেন, হাম একটি অত্যন্ত সংক্রামক বায়ুবাহিত রোগ যা আক্রান্ত ব্যক্তির হাঁচি-কাশির মাধ্যমে দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে। ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের শিশু বিভাগের সাবেক বিভাগীয় প্রধান ডা. লুৎফুন্নেসা সতর্ক করে জানিয়েছেন, হামের সংক্রমণ ক্ষমতা এমনকি কোভিড-১৯-এর চেয়েও বেশি; একজন আক্রান্ত শিশু সহজেই ১২ থেকে ১৮ জন সুস্থ শিশুকে সংক্রমিত করতে পারে।হামের প্রাথমিক লক্ষণের মধ্যে রয়েছে তীব্র জ্বর, সর্দি, কাশি এবং চোখ লাল হওয়া। সংক্রমণের কিছুদিন পর কপাল থেকে শুরু করে সারা শরীরে লালচে দানা বা র‍্যাশ দেখা দেয়। তবে ভয়ের বিষয় হলো, হামের নির্দিষ্ট কোনো ওষুধ নেই। চিকিৎসকরা মূলত রোগের ফলে সৃষ্ট নিউমোনিয়া, এনসেফালাইটিস (মস্তিষ্কের সংক্রমণ) বা চোখের কর্নিয়ার আলসারের মতো জটিলতাগুলোর চিকিৎসা দিয়ে থাকেন। এসব জটিলতা প্রতিরোধে আক্রান্ত শিশুদের উচ্চমাত্রার ভিটামিন ‘এ’ ক্যাপসুল খাওয়ানো জরুরি।বাংলাদেশে হাম প্রতিরোধের জন্য ৯ মাস বয়সে প্রথম ডোজ এবং ১৫ মাস বয়সে দ্বিতীয় ডোজ টিকা দেওয়ার নিয়ম রয়েছে। পরিসংখ্যানে দেখা গেছে, প্রথম ডোজের হার ৯০ শতাংশের বেশি হলেও দ্বিতীয় ডোজের ক্ষেত্রে অনেক অভিভাবকই অবহেলা করেন। বিশেষ করে পরিবারের বড় সন্তানের টিকার বিষয়টি অনেক সময় গুরুত্ব হারায়। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, দ্বিতীয় ডোজ সম্পন্ন না করলে শিশুর শরীরে দীর্ঘমেয়াদী সুরক্ষা তৈরি হয় না, যা ভবিষ্যতে সংক্রমণের ঝুঁকি বাড়িয়ে দেয়।ডা. লুৎফুন্নেসা আরও জানান, নবজাতক শিশুরা মায়ের শরীর থেকে প্রাপ্ত অ্যান্টিবডির মাধ্যমে ৯ মাস পর্যন্ত সুরক্ষিত থাকে, যার ফলে এর আগে টিকা দেওয়ার প্রয়োজন হয় না। তবে দেশের কিছু কিছু এলাকায় কুসংস্কারের কারণে এখনো টিকা নেওয়ার হার কম। এই ছোট ছোট জনপদ বা 'পকেট কমিউনিটি'গুলো সংক্রমণের বড় উৎস হয়ে দাঁড়াচ্ছে, যা ভবিষ্যতে বড় ধরনের মহামারি সৃষ্টির আশঙ্কা তৈরি করছে।হামের টিকা সম্পূর্ণ নিরাপদ এবং এর কোনো গুরুতর পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া নেই। সামান্য জ্বর বা টিকা দেওয়ার স্থানে ব্যথার মতো সাধারণ উপসর্গ দেখা দিলেও তা কয়েক দিনেই সেরে যায়। তাই শিশুদের সুরক্ষায় সময়মতো এমএমআর টিকা নিশ্চিত করার আহ্বান জানিয়েছেন চিকিৎসকরা। যদি কোনো কারণে টিকা দিতে দেরি হয়ে থাকে, তবে কালক্ষেপণ না করে দ্রুত নিকটস্থ স্বাস্থ্যকেন্দ্রে যোগাযোগ করে শিশুকে সুরক্ষিত করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

এপ্রিল ১৫, ২০২৬

শিশু খেতে না চাইলে কী করবেন?

শিশু খাবার খেতে না চাইলে বেশিরভাগ অভিভাবকই দুশ্চিন্তায় পড়ে যান। তবে বিশেষজ্ঞদের মতে, শিশুর অরুচি অনেক সময়ই সাময়িক এবং এটি সবসময় রোগের লক্ষণ নয়। তাই আতঙ্কিত না হয়ে প্রথমেই অরুচির কারণ খুঁজে বের করা জরুরি। সঠিক কারণ বুঝে ধীরে ধীরে অভ্যাসে পরিবর্তন আনলেই বেশিরভাগ ক্ষেত্রে সমাধান সম্ভব।শিশুর খাবারে অরুচির পেছনে বেশ কিছু সাধারণ কারণ রয়েছে। অনিয়মিত খাবারের সময়সূচি, অতিরিক্ত নাস্তা, চিপস-চকলেট বা কোমল পানীয়ের প্রতি আসক্তি এবং খাবারের সময় মোবাইল বা টিভি দেখার অভ্যাস এর মধ্যে অন্যতম। এছাড়া জোর করে খাওয়ানোর অভিজ্ঞতা শিশুর মনে খাবারের প্রতি নেতিবাচক ধারণা তৈরি করে। অন্যদিকে দাঁত ওঠা, সর্দি-কাশি, জ্বরের পরবর্তী দুর্বলতা, কৃমি সংক্রমণ, কোষ্ঠকাঠিন্য বা ঘুমের সমস্যাও অরুচির কারণ হতে পারে।বিশেষজ্ঞরা বলছেন, শিশুর খাবারের জন্য নির্দিষ্ট সময় নির্ধারণ করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। দিনে তিন বেলা প্রধান খাবার এবং দুই বেলা হালকা নাস্তার সময় ঠিক করে দিতে হবে। এই সময়ের বাইরে খাবার বা জুস দিলে শিশুর স্বাভাবিক ক্ষুধা নষ্ট হয়ে যায়। পাশাপাশি প্রধান খাবারের আগে টিফিন বা বিস্কুট দেওয়া থেকেও বিরত থাকতে হবে, কারণ এতে শিশু মূল খাবার খেতে চায় না।খাবারের সময় পরিবেশও একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। খাওয়ার সময় টিভি, মোবাইল বা কার্টুন বন্ধ রাখা উচিত, যাতে শিশু মনোযোগ দিয়ে খেতে পারে। পরিবারের সবাই একসঙ্গে বসে খেলে শিশুর মধ্যে ইতিবাচক অভ্যাস তৈরি হয় এবং খাবারের প্রতি আগ্রহ বাড়ে। সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো—শিশুকে কখনোই জোর করে খাওয়ানো উচিত নয়। এতে খাবার শিশুর কাছে শাস্তির মতো মনে হয়। বরং অল্প পরিমাণে খাবার দিন, না খেলে কিছু সময় পরে আবার চেষ্টা করুন।এছাড়া শিশুর নাস্তা ও মূল খাবারে বৈচিত্র্য আনা প্রয়োজন। প্রতিদিন একই ধরনের খাবার দিলে শিশু বিরক্ত হয়ে পড়ে। ফল, দই, সেদ্ধ ডিম বা ঘরে তৈরি পুষ্টিকর নাস্তা দেওয়া ভালো অভ্যাস গড়ে তোলে। একই উপাদান ভিন্নভাবে রান্না করে পরিবেশন করলে শিশুর আগ্রহ বাড়ে। পাশাপাশি নিয়মিত খেলাধুলা ও শারীরিক সক্রিয়তা শিশুর ক্ষুধা বাড়াতে সহায়ক। তবে অরুচির সঙ্গে যদি ওজন না বাড়া, দুর্বলতা বা দীর্ঘস্থায়ী অসুস্থতা দেখা দেয়, তাহলে অবশ্যই চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া জরুরি।/টিএ

এপ্রিল ১৩, ২০২৬

বাড়ছে গরম, যেসব সাবধানতা জরুরি

দেশজুড়ে তাপদাহে জনজীবন বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে। অতিরিক্ত গরমে শরীর থেকে প্রচুর ঘাম ঝরে যাওয়ায় শরীরের তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণে থাকলেও আর্দ্রতা ও পরিবেশগত কারণে দেখা দিচ্ছে নানা জটিলতা। বিশেষ করে শিশু ও বৃদ্ধরা এই তীব্র গরমে সবচেয়ে বেশি স্বাস্থ্যঝুঁকিতে রয়েছেন। সাধারণত ঘামাচি ও ত্বকের সমস্যার পাশাপাশি লিভার ইনফেকশন, ডায়রিয়া, টাইফয়েড ও হেপাটাইটিসের মতো পানিবাহিত রোগের প্রকোপ এই সময়ে আশঙ্কাজনকভাবে বেড়ে যায়।চিকিৎসকদের মতে, রাস্তার পাশের অস্বাস্থ্যকর খাবার ও অপরিষ্কার পানি পানই এসব রোগের প্রধান কারণ। শরীর সুস্থ রাখতে দিনে কয়েকবার গোসল করা এবং প্রচুর পরিমাণে পানি পান করার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে। পানিশূন্যতা রোধে ডাবের পানি, ফলের রস, ওরস্যালাইন বা ঘরে তৈরি লবণ-চিনির শরবত বেশ কার্যকর। তবে প্যাকেটজাত জুস এড়িয়ে সবসময় তাজা ফলের রস খাওয়ার ওপর গুরুত্ব দিতে হবে।রোদে বের হওয়ার ক্ষেত্রে বিশেষ সতর্কতা অবলম্বনের পরামর্শ দিচ্ছেন বিশেষজ্ঞরা। বাইরে বের হলে ছাতা ব্যবহার করা, সানস্ক্রিন মাখা এবং হালকা রঙের ঢিলেঢালা সুতির পোশাক পরা জরুরি। অতিরিক্ত গরমে হিটস্ট্রোকের ঝুঁকি থাকে; এমন পরিস্থিতিতে আক্রান্ত ব্যক্তিকে দ্রুত ছায়াযুক্ত স্থানে নিয়ে শরীর ঠান্ডা পানি দিয়ে মোছাতে হবে। তবে মনে রাখতে হবে, হিটস্ট্রোকের প্রাথমিক পর্যায়ে আক্রান্ত ব্যক্তিকে মুখে কিছু খাওয়ানো যাবে না।শিশুদের ক্ষেত্রে গরমকাল আরও বেশি বিপজ্জনক হয়ে উঠতে পারে। শিশুর অতিরিক্ত ঘাম হওয়া, পাতলা পায়খানা, প্রস্রাব কমে যাওয়া বা চোখ বসে যাওয়ার মতো লক্ষণ দেখা দিলে দেরি না করে চিকিৎসকের শরণাপন্ন হতে হবে। বিশেষ করে যেসব শিশু মায়ের দুধ পান করে, তাদের ঘন ঘন বুকের দুধ খাওয়ানোই এই সময়ে সবচেয়ে কার্যকর প্রতিকার। পাশাপাশি গরমকালে ম্যালেরিয়া ও ডেঙ্গুর প্রকোপ বাড়তে থাকায় বাড়ির চারপাশ পরিষ্কার রাখা ও মশারি ব্যবহার করা আবশ্যক।গরমকালীন স্বাস্থ্যঝুঁকি থেকে বাঁচতে ব্যক্তিগত সচেতনতা ও পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতাই এখন প্রধান অস্ত্র। পানীয় জল ও খাবারের ক্ষেত্রে বিশেষ সতর্ক থাকতে হবে। নিরাপদ থাকার জন্য প্রয়োজনে ভালো মানের বোতলজাত পানি পান এবং বাইরের খোলা খাবার বর্জন করে বাড়িতে তৈরি খাবার খাওয়ার অভ্যাস গড়ে তোলার জন্য জনসাধারণের প্রতি আহ্বান জানানো হয়েছে।/টিএ

এপ্রিল ০৯, ২০২৬

ঘরে বসেই ওজন কমানোর সেরা উপায়

রোজার মাস এবং ঈদের লম্বা ছুটিতে আমাদের খাদ্যাভ্যাস ও ঘুমের রুটিনে বড় ধরনের পরিবর্তন আসে। অতিরিক্ত তেল-চর্বিযুক্ত খাবার, গভীর রাত পর্যন্ত জেগে থাকা এবং অনিয়মিত খাবারের কারণে অনেকেরই অজান্তে ওজন বেড়ে যায়। তবে দুশ্চিন্তার কোনো কারণ নেই; সঠিক পরিকল্পনা এবং সামান্য কিছু অভ্যাস পরিবর্তনের মাধ্যমেই আপনি দ্রুত আপনার আগের ফিটনেস ফিরে পেতে পারেন।ওজন কমানোর যাত্রায় শুরুতেই পানির গুরুত্ব অপরিসীম। প্রতিদিন প্রতিটি প্রধান খাবারের অন্তত ৩০ মিনিট আগে পর্যাপ্ত পানি পান করার অভ্যাস গড়ে তুলুন, যা আপনার অতিরিক্ত খাবার গ্রহণের প্রবণতা কমিয়ে দেবে। পাশাপাশি হজমের সমস্যা বা পেট ফাঁপা দূর করতে আদা চা, পুদিনা পাতা বা গ্রিন-টি অত্যন্ত কার্যকরী, কারণ সুস্থ বিপাক প্রক্রিয়া দ্রুত ওজন কমাতে সাহায্য করে।পর্যাপ্ত এবং গভীর ঘুম ওজন কমানোর অন্যতম প্রধান শর্ত। প্রতিদিন অন্তত ৬ থেকে ৮ ঘণ্টা নিয়মিত ঘুমালে শরীরের হরমোন ভারসাম্য ঠিক থাকে, যা অতিরিক্ত ক্ষুধা নিয়ন্ত্রণ করে। বিশেষ করে রাতের খাবার ঘুমানোর অন্তত ২-৩ ঘণ্টা আগে শেষ করার অভ্যাস করুন; এতে শরীর খাবার হজম করার পর্যাপ্ত সময় পায় এবং চর্বি জমার সুযোগ কমে যায়।আপনার দৈনন্দিন খাদ্যতালিকায় বড় পরিবর্তন আনতে হবে প্রক্রিয়াজাত এবং অতিরিক্ত চিনিযুক্ত খাবার বর্জনের মাধ্যমে। এর পরিবর্তে প্রোটিন ও ফাইবারসমৃদ্ধ খাবার যেমন—মাছ, ডিম, ডাল, তাজা শাকসবজি ও ফলমূল বেশি করে গ্রহণ করুন। এই খাবারগুলো দীর্ঘক্ষণ আপনার পেট ভরা রাখবে, ফলে বারবার অস্বাস্থ্যকর খাবার খাওয়ার ইচ্ছা জাগবে না।দ্রুত ফলাফল পেতে শরীরচর্চার ক্ষেত্রে আপনি ‘৪০-২০’ নিয়ম অনুসরণ করতে পারেন, যেখানে ৪০ সেকেন্ড দ্রুত ব্যায়াম এবং ২০ সেকেন্ড বিশ্রাম নিতে হয়। এছাড়া ইন্টারমিটেন্ট ফাস্টিং বা নির্দিষ্ট সময় পর পর খাওয়ার পদ্ধতিটি চর্বি পোড়াতে চমৎকার কাজ করে। নিয়মিত এই ছোট ছোট পদক্ষেপগুলো গ্রহণ করলে ঈদের বাড়তি ওজন ঝরিয়ে আপনি আবারও হয়ে উঠবেন সতেজ ও প্রাণবন্ত।/টিএ

এপ্রিল ০৫, ২০২৬

অল্প বয়সে বিয়ে করার যত উপকারিতা

বিয়ের সঠিক বয়স কোনটি তা নিয়ে সমাজে নানা মতবিরোধ থাকলেও, জীবন এবং সম্পর্কের গভীরতা বোঝার পাশাপাশি অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা বিয়ের সিদ্ধান্তের মূল ভিত্তি হিসেবে কাজ করে। অনেকেই মনে করেন স্বাবলম্বী না হওয়া পর্যন্ত বিয়ের কথা ভাবা উচিত নয়, তবে বিশেষজ্ঞদের মতে, সঠিক সময়ে বিয়ে করা জীবনের ভারসাম্য বজায় রাখার ক্ষেত্রে অনেক বেশি কার্যকরী ভূমিকা রাখতে পারে। আজকের এই প্রতিবেদনে আমরা জেনে নেব কম বয়সে বিয়ের কিছু গুরুত্বপূর্ণ উপকারিতা।অল্প বয়সে বিয়ের অন্যতম বড় সুবিধা হলো দ্রুত সন্তান নেওয়ার মানসিক চাপ থেকে মুক্তি পাওয়া। বিয়ের শুরুর দিকে দম্পতিরা সন্তান লালন-পালনের বাড়তি চিন্তামুক্ত হয়ে অনেকটা সময় নিজেদের মতো কাটাতে পারেন। একে অপরের সঙ্গী হিসেবে জীবন উপভোগ করার এবং নিজেদের মধ্যে বোঝাপড়া তৈরির জন্য এই সময়টুকু অত্যন্ত মূল্যবান।বেশি বয়সে বিয়ের ক্ষেত্রে অনেক সময় বয়সের গাম্ভীর্য সম্পর্কের স্বতঃস্ফূর্ততায় বাধা হয়ে দাঁড়ায়। বয়স বাড়ার সাথে সাথে মানুষের মধ্যে যে জড়তা বা দায়সারা মনোভাব তৈরি হতে পারে, তা দাম্পত্য জীবনে একঘেয়েমি নিয়ে আসে। তুলনায় কম বয়সে বিয়ে করলে সম্পর্কের উষ্ণতা এবং একে অপরের প্রতি মানসিক টান দীর্ঘস্থায়ী হওয়ার সম্ভাবনা থাকে।শারীরিক ও জীবনযাত্রার দিক থেকেও কম বয়সে বিয়ের গুরুত্ব অপরিসীম। বেশি বয়সে বিয়ের ফলে সন্তান জন্মদানে বিভিন্ন শারীরিক জটিলতা দেখা দিতে পারে। এছাড়া সন্তান জন্ম নিলেও তাদের বড় করে তোলার মতো পর্যাপ্ত শারীরিক শক্তি বা দীর্ঘমেয়াদী সময় পাওয়া কঠিন হয়ে পড়ে। অল্প বয়সে বিয়ে করলে সন্তান লালন-পালন ও পরবর্তী দায়িত্বগুলো অনেক বেশি সহজ ও সাবলীল হয়।বর্তমান সময়ে ডিভোর্সের হার বৃদ্ধির অন্যতম কারণ হলো অপরিকল্পিত বা পরিস্থিতির চাপে হুট করে বিয়ের সিদ্ধান্ত নেওয়া। অল্প বয়সে বিয়ের ক্ষেত্রে দম্পতিরা একে অপরকে বোঝার ও মানিয়ে নেওয়ার জন্য অনেক বেশি সময় পান, যা ডিভোর্সের সম্ভাবনা অনেকাংশে কমিয়ে দেয়। এছাড়া কোনো কারণে সম্পর্কে বিচ্ছেদ ঘটলেও, অল্প বয়সে নতুন করে জীবন সাজানোর অঢেল সুযোগ থাকে।সামাজিক দৃষ্টিকোণ থেকেও অল্প বয়সে বিয়ের ইতিবাচক দিক রয়েছে। অনেক সময় অভিভাবকরা মনে করেন, সন্তানদের নির্দিষ্ট বয়সে বিয়ে দিলে তারা ভুল পথে বা সমাজ বহির্ভূত সম্পর্কে জড়িয়ে পড়ার হাত থেকে রক্ষা পায়। অল্প বয়সে বিয়ের ফলে সন্তানরা দায়িত্বশীল হয়ে ওঠে এবং একটি শৃঙ্খল জীবনযাপনের মাধ্যমে সামাজিকভাবেও সম্মানজনক অবস্থানে থাকতে পারে।তাই আগেভাগে বিয়ে করার আরেকটি বড় সুবিধা হলো অপ্রাসঙ্গিক ও বিরক্তিকর প্রশ্ন থেকে মুক্তি। বিয়ের বয়স পার হওয়ার পর আত্মীয়-স্বজন বা প্রতিবেশীদের কাছ থেকে ‘কবে বিয়ে করবে’ বা ‘কেন করছ না’—এমন হাজারো বিরক্তিকর প্রশ্নের সম্মুখীন হতে হয়। সঠিক সময়ে বিয়ে করে ফেললে এসব সামাজিক চাপ থেকে নিজেকে মুক্ত রেখে জীবনের নতুন অধ্যায় শান্তিতে শুরু করা সম্ভব।তবে অতি উৎসাহী না হয়ে দেশের আইনের প্রতি শ্রদ্ধা করা জরুরী। দেশে বাল্যবিবাহের শাস্তি হিসেবে বলা আছে প্রাপ্ত বয়স্ক কোনো নারী বা পুরুষ বাল্যবিবাহ করিলে উহা হইবে একটি অপরাধ এবং তজ্জন্য তিনি অনধিক ২ (দুই) বৎসর কারাদণ্ড বা অনধিক ১ (এক) লক্ষ টাকা অর্থদণ্ড বা উভয় দণ্ডে দণ্ডনীয় হইবেন এবং অর্থদণ্ড অনাদায়ে অনধিক ৩ (তিন) মাস কারাদণ্ডে দণ্ডনীয় হইবেন।  স্বামী প্রাপ্ত বয়স্ক হলে তার দুই বছরের জেল ও ১ লাখ টাকা জরিমানা হতে পারে। জরিমানা না দিতে পারলে আরও তিন মাস বেশি কারাবাস হবে।অপ্রাপ্ত বয়স্ক কোনো নারী বা পুরুষ বাল্যবিবাহ করিলে তিনি অনধিক ১ (এক) মাসের আটকাদেশ বা অনধিক ৫০,০০০ (পঞ্চাশ) হাজার টাকা জরিমানা বা উভয় ধরনের শাস্তিযোগ্য হইবেন। /টিএ

এপ্রিল ০১, ২০২৬

তরমুজ খাওয়ার সঠিক নিয়ম জানেন কি? গরমে সুস্থ থাকতে যা জরুরি!

তীব্র গরমে স্বস্তির খোঁজে আমাদের প্রথম পছন্দ থাকে রসালো ও তৃষ্ণানিবারক ফল তরমুজ। ভিটামিন ও খনিজে ভরপুর এই ফলটি শরীর সতেজ রাখতে অতুলনীয়। তবে আমাদের অনেকেরই অজান্তে করা কিছু ছোট ছোট ভুলের কারণে এই উপকারী ফলটিই শরীরের জন্য ক্ষতির কারণ হয়ে দাঁড়াতে পারে। তাই তরমুজ খাওয়ার ক্ষেত্রে সঠিক নিয়ম জানা ও স্বাস্থ্য সচেতন হওয়া অত্যন্ত জরুরি।খাওয়ার সময় ও খালি পেটে সতর্কতাঅনেকেই সকালে খালি পেটে তরমুজ খাওয়াকে উপকারী মনে করেন, যা আসলে সবার জন্য সঠিক নয়। বিশেষ করে যাদের হজমশক্তি কিছুটা দুর্বল, খালি পেটে তরমুজ খেলে তাদের পেটে গ্যাস বা অস্বস্তি হতে পারে। এছাড়া ভারী খাবার খাওয়ার ঠিক পরপরই তরমুজ খেলে হজম প্রক্রিয়ায় বিঘ্ন ঘটে। তাই বিশেষজ্ঞমতে, যেকোনো ভারী খাবারের অন্তত ৩০ থেকে ৪৫ মিনিট পর তরমুজ খাওয়া সবচেয়ে নিরাপদ।অতিরিক্ত ও ফ্রিজের ঠান্ডা তরমুজফ্রিজ থেকে বের করা হাড়কাঁপানো ঠান্ডা তরমুজ সাময়িক তৃপ্তি দিলেও তা গলাব্যথা বা ঠান্ডাজনিত সমস্যার ঝুঁকি বাড়ায়। ফ্রিজ থেকে বের করার পর কিছুক্ষণ সাধারণ তাপমাত্রায় রেখে তারপর তরমুজ খাওয়া উচিত। পাশাপাশি, ফল বলে এটি অতিরিক্ত পরিমাণে খাওয়াও ঠিক নয়। তরমুজে থাকা প্রাকৃতিক চিনি রক্তে শর্করার মাত্রা বাড়িয়ে দিতে পারে, তাই একবারে মাঝারি পরিমাণে খাওয়ার অভ্যাস করা প্রয়োজন।সংরক্ষণ ও রাস্তার ধারের কাটা ফলকাটা তরমুজ দীর্ঘক্ষণ বাইরে বা ফ্রিজে খোলা অবস্থায় রাখলে দ্রুত ব্যাকটেরিয়া সংক্রমণ হতে পারে, যা পেটের পীড়ার অন্যতম কারণ। এছাড়া রাস্তার পাশে অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে কেটে রাখা তরমুজ জীবাণুমুক্ত থাকে না। সুস্থ থাকতে সবসময় তাজা ও পরিষ্কারভাবে কাটা তরমুজ খাওয়ার পরামর্শ দেন বিশেষজ্ঞরা। বিশেষ করে ডায়াবেটিস রোগীদের ক্ষেত্রে চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী এর পরিমাণ নির্ধারণ করা উচিত।পরিশেষে, তরমুজ নিঃসন্দেহে গ্রীষ্মের একটি আদর্শ ফল, যদি তা নিয়ম মেনে গ্রহণ করা হয়। পরিমিত বোধ এবং সঠিক সময়ে খাওয়ার অভ্যাসই পারে এই ফলের পূর্ণ পুষ্টিগুণ নিশ্চিত করতে। সামান্য সচেতনতা অবলম্বন করলে আমরা যেমন তরমুজের আসল স্বাদ ও উপকার পাব, তেমনি গরমের ক্লান্তি কাটিয়ে শরীরকেও রাখতে পারব রোগমুক্ত ও প্রাণবন্ত।/টিএ 

মার্চ ৩০, ২০২৬

স্ট্রেস কমিয়ে হরমোন ঠিক রাখার কার্যকর পদ্ধতি

বর্তমান সময়ের ব্যস্ত জীবনে দীর্ঘ কর্মঘণ্টা, অনিয়মিত জীবনযাপন এবং ক্রমাগত মানসিক চাপ অনেকের জীবনকে প্রভাবিত করছে। এর ফলে অনেকেই স্ট্রেস, মেজাজের ওঠানামা, ঘুমের সমস্যা এবং হরমোনের ভারসাম্যহীনতার মতো নানা সমস্যায় ভুগছেন। বিশেষ করে নারীদের মধ্যে এই সমস্যাগুলো তুলনামূলকভাবে বেশি দেখা যায়, যা দৈনন্দিন জীবন ও স্বাস্থ্যের উপর বড় প্রভাব ফেলতে পারে।তবে সুখবর হলো—প্রতিদিনের কিছু সহজ ও সচেতন অভ্যাস এই সমস্যাগুলো অনেকটাই কমাতে সাহায্য করতে পারে। সঠিক জীবনধারা ও ছোট ছোট পরিবর্তনের মাধ্যমে শরীরের হরমোনের ভারসাম্য বজায় রাখা সম্ভব। আসুন জেনে নেওয়া যাক এমন কিছু কার্যকর অভ্যাস সম্পর্কে।প্রথমত, নিয়মিত ঘুমের অভ্যাস গড়ে তোলা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। আমাদের শরীরের হরমোন মূলত সার্কাডিয়ান রিদম অনুযায়ী কাজ করে। কিন্তু গভীর রাত পর্যন্ত জেগে থাকা, অনিয়মিত ঘুম এবং অতিরিক্ত স্ক্রিন ব্যবহারের কারণে এই স্বাভাবিক ছন্দ বিঘ্নিত হয়। তাই প্রতিদিন একই সময়ে ঘুমানো ও জাগার চেষ্টা করা এবং অন্তত ৭–৮ ঘণ্টা ঘুম নিশ্চিত করা শরীরের হরমোন স্বাভাবিক রাখতে সাহায্য করে।দ্বিতীয়ত, মানসিক চাপ নিয়ন্ত্রণে রাখা প্রয়োজন। দীর্ঘদিন অতিরিক্ত চাপের মধ্যে থাকলে শরীরে কর্টিসল হরমোনের মাত্রা বেড়ে যায়, যা অন্যান্য হরমোনের ভারসাম্যকেও প্রভাবিত করতে পারে। তাই প্রতিদিন কিছু সময় নিজের জন্য রাখা, যেমন—যোগব্যায়াম, ধ্যান, ডায়েরি লেখা বা নিয়মিত হাঁটার মতো অভ্যাস মানসিক প্রশান্তি এনে দেয়।সবশেষে, সুষম খাদ্য গ্রহণ ও শরীরকে সক্রিয় রাখা খুবই জরুরি। অতিরিক্ত প্রক্রিয়াজাত খাবার ও চিনি শরীরে প্রদাহ বাড়াতে পারে। তাই খাদ্যতালিকায় গোটাশস্য, মৌসুমি ফল, শাকসবজি, বাদাম ও বীজজাতীয় খাবার রাখা ভালো। পাশাপাশি নিয়মিত হাঁটা, হালকা স্ট্রেচিং বা যোগব্যায়ামের মতো মাঝারি ধরনের ব্যায়াম শরীরের রক্তসঞ্চালন ও বিপাকক্রিয়া উন্নত করে এবং হরমোনের ভারসাম্য বজায় রাখতে সহায়তা করে।/টিএ

মার্চ ১২, ২০২৬

রমজানে সুস্থ থাকতে স্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাস

এসেছে পবিত্র রমজান মাস। এই মাসে রোজা রাখার পাশাপাশি শরীর সুস্থ রাখা অত্যন্ত জরুরি। দীর্ঘ সময় না খেয়ে থাকার কারণে খাদ্যাভ্যাসে সচেতনতা না থাকলে দুর্বলতা, পানিশূন্যতা বা হজমের সমস্যা দেখা দিতে পারে। তাই নিয়ম মেনে স্বাস্থ্যকর ও সুষম খাবার গ্রহণ করলে খুব সহজেই সুস্থ থাকা সম্ভব। ভিটামিন, মিনারেলস ও অ্যান্টিঅক্সিডেন্টসমৃদ্ধ খাবার রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়াতে সাহায্য করে এবং শরীরকে রাখে কর্মক্ষম ও সতেজ।ইফতার শুরু করা উচিত এক গ্লাস পানি ও ৩–৪টি খেজুর দিয়ে (ডায়াবেটিক রোগীদের জন্য মাঝারি আকারের ২টি যথেষ্ট)। খেজুর তাৎক্ষণিক শক্তি জোগায় এবং এতে থাকা ফাইবার কোষ্ঠকাঠিন্য দূর করতে সাহায্য করে। এছাড়া এতে ক্যালসিয়াম, ফসফরাস, ক্যারোটিনয়েড, ভিটামিন বি১ ও বি২ রয়েছে। ইফতারের শরবত হিসেবে ডাবের পানি, লাচ্ছি, লেবুর শরবত, তোকমা দানা, ইসবগুলের শরবত, স্মুদি বা চিনি ছাড়া ফলের জুস রাখা যেতে পারে। চিনির পরিবর্তে মধু বা গুড় ব্যবহার করা ভালো। এসব পানীয় শরীরকে দ্রুত হাইড্রেট করে এবং সারাদিনের ইলেকট্রোলাইটের ভারসাম্য বজায় রাখতে সাহায্য করে।ইফতারে ছোলা একটি চমৎকার পুষ্টিকর খাবার। এর ফাইবার কোষ্ঠকাঠিন্য দূর করে এবং কম গ্লাইসেমিক ইনডেক্স থাকার কারণে রক্তে গ্লুকোজ ধীরে বাড়ায়, ফলে ডায়াবেটিক রোগীরাও পরিমিত পরিমাণে খেতে পারেন। ছোলায় প্রোটিন, পটাসিয়াম, সোডিয়াম, ফলিক এসিড ও জিংক রয়েছে, যা রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ায়। দই-চিড়া আরেকটি পুষ্টিকর খাবার; চিড়ায় কার্বোহাইড্রেট, প্রোটিন ও আয়রন থাকে এবং দই প্রোবায়োটিক হওয়ায় হজমে সাহায্য করে। সেদ্ধ ডিম, সবজি বা চিকেন স্যুপ, ভাত-মাছ-সবজি কিংবা সবজি ও ডিম দিয়ে নুডুলসও রাখা যেতে পারে। পাশাপাশি তরমুজ, কলা, বাঙ্গি, পেঁপে, আনারস, পেয়ারা, মালটা ও আপেলের মতো অ্যান্টিঅক্সিডেন্টসমৃদ্ধ ফল ইফতারে উপকারী। তবে অতিরিক্ত মসলাদার বা ভারী খাবার যেমন হালিম পরিমিত খাওয়াই ভালো।ইফতারে বেশি খাওয়া হলে রাতের খাবার তুলনামূলক হালকা হওয়া উচিত। ইফতারের প্রায় তিন ঘণ্টা পর রাতের খাবার খাওয়া ভালো। রুটি ও সবজি, চিকেন বা ভেজিটেবল স্যুপ, দুধ-ভাত, দুধ-রুটি, দুধ-মুড়ি, সাগু বা ওটস খাওয়া যেতে পারে। অনেকেই ইফতারের পর রাতের খাবার বাদ দেন, যা স্বাস্থ্যকর নয়। শরীরের প্রয়োজন অনুযায়ী পরিমিত ও হালকা খাবার গ্রহণ করলে হজম ভালো থাকে এবং ঘুমও স্বস্তিদায়ক হয়।সেহেরি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ, কারণ সেহেরির পর দীর্ঘ সময় না খেয়ে থাকতে হয়। তাই এমন খাবার বেছে নিতে হবে যা ধীরে হজম হয় এবং দীর্ঘসময় শক্তি জোগায়। লাল চালের ভাত, লাল আটার রুটি, ওটস বা লাল চিড়া ভালো বিকল্প। ফাইবারসমৃদ্ধ খাবার ক্ষুধা কমায় ও রক্তে গ্লুকোজের মাত্রা নিয়ন্ত্রণে রাখে। সবুজ ও রঙিন শাকসবজি, মটরশুঁটি, টমেটো, গাজর, লাউ, পটল, ঝিঙে ইত্যাদি রাখা উচিত। প্রোটিনের জন্য অল্প চর্বিযুক্ত মাছ, মাংস বা লো-ফ্যাট দুধ খাওয়া যেতে পারে। কেউ ভাত বা রুটি খেতে না চাইলে দই, লাল চিড়া, কলা, খেজুর ও বাদাম মিলিয়ে পুষ্টিকর খাবার তৈরি করা যায়।রমজানে সুস্থ থাকতে কিছু নির্দেশনা মেনে চলা জরুরি। ইফতারে অতিরিক্ত ভাজাপোড়া এড়িয়ে চলতে হবে, কারণ এতে অ্যাসিডিটি ও বদহজমের সমস্যা হতে পারে। ডায়াবেটিক রোগীরা অবশ্যই চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী ওষুধ বা ইনসুলিনের মাত্রা ঠিক করবেন। খাবার ধীরে ধীরে ভালোভাবে চিবিয়ে খেতে হবে এবং ইফতার থেকে সেহেরি পর্যন্ত অন্তত ৮–১০ গ্লাস পানি পান নিশ্চিত করতে হবে। পর্যাপ্ত ঘুম ও বিশ্রাম নিতে হবে। ওজন নিয়ন্ত্রণে রাখতে পরিমিত খাবার গ্রহণ এবং ইফতারের দুই ঘণ্টা পর হালকা হাঁটা বা ব্যায়াম উপকারী। পাশাপাশি কোমল পানীয়, অতিরিক্ত চা-কফি, তামাক, ধূমপান, টিনজাত ও প্রসেসড খাবার, অতিরিক্ত লবণ ও চিনি পরিহার করাই হবে স্বাস্থ্যসম্মত রমজানের চাবিকাঠি।/টিএ

ফেব্রুয়ারি ২৪, ২০২৬

রমজান আসছে: আপনি কতটা প্রস্তুত?

রহমত, মাগফিরাত ও নাজাতের সওগাত নিয়ে আবারও আমাদের দ্বারে কড়া নাড়ছে পবিত্র মাহে রমজান। আত্মশুদ্ধি এবং আল্লাহর নৈকট্য লাভের এই শ্রেষ্ঠ মাসে আমরা অনেকেই শারীরিক ও মানসিকভাবে প্রস্তুতি নিতে শুরু করেছি। তবে রমজানের প্রকৃত সুফল পেতে কেবল উপবাস নয়, প্রয়োজন সুপরিকল্পিত প্রস্তুতি।আপনার রমজানকে আরও ফলপ্রসূ করতে প্রস্তুতির কিছু গুরুত্বপূর্ণ দিক নিচে তুলে ধরা হলো:১. মানসিক ও আধ্যাত্মিক প্রস্তুতিরমজান শুধু খাদ্যাভ্যাস পরিবর্তন নয়, বরং চরিত্র সংশোধনের মাস।নিয়ত শুদ্ধ করা: কেবল লোকদেখানো নয়, বরং স্রষ্টার সন্তুষ্টির জন্য রোজা রাখার মানসিকতা তৈরি করা।কুরআন তিলাওয়াত: দীর্ঘদিনের অনভ্যাস কাটাতে এখন থেকেই অল্প অল্প করে কুরআন পড়ার চর্চা শুরু করা।তওবা ও ইস্তিগফার: বিগত দিনের ভুলত্রুটির জন্য ক্ষমা চেয়ে সুন্দর আগামীর সংকল্প করা।২. শারীরিক ও স্বাস্থ্যগত প্রস্তুতিহঠাৎ করে সারাদিন না খেয়ে থাকা শরীরের জন্য কঠিন হতে পারে। তাই প্রয়োজন আগাম সতর্কতা:খাদ্যাভ্যাসে পরিবর্তন: অতিরিক্ত তৈলাক্ত ও মশলাযুক্ত খাবার পরিহার করে পুষ্টিকর খাবারের অভ্যাস করা।পর্যাপ্ত পানি পান: শরীরকে আর্দ্র রাখতে ইফতার থেকে সেহরি পর্যন্ত প্রচুর পানি পানের মানসিক প্রস্তুতি রাখা।চিকিৎসকের পরামর্শ: যাদের দীর্ঘমেয়াদী রোগ (যেমন: ডায়াবেটিস বা উচ্চ রক্তচাপ) আছে, তারা রোজা রাখার আগে অবশ্যই চিকিৎসকের সাথে কথা বলে ওষুধের সময়সূচী ঠিক করে নিন।৩. পারিবারিক ও অর্থনৈতিক পরিকল্পনারমজানের বাজার নিয়ে শেষ মুহূর্তের হুড়োহুড়ি এড়াতে এবং সংযম বজায় রাখতে কিছু পদক্ষেপ নেওয়া জরুরি:বাজেট প্রণয়ন: অহেতুক অপচয় রোধে মাসের শুরুতেই একটি বাজেট তৈরি করুন।বাজার সদ্ব্যবহার: প্রয়োজনীয় পণ্যগুলো আগেভাগেই সংগ্রহ করে রাখা, যাতে ইবাদতের সময় বাজারে বেশি সময় নষ্ট না হয়।দানের প্রস্তুতি: যাকাত ও ফিতরা প্রদানের জন্য উপযুক্ত ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠান আগে থেকেই নির্বাচন করে রাখা।৪. সময়ের ব্যবস্থাপনারমজানে কর্মব্যস্ততা ও ইবাদতের মধ্যে ভারসাম্য রাখা চ্যালেঞ্জিং হতে পারে।একটি রুটিন তৈরি করুন যেখানে কাজ, বিশ্রাম, তিলাওয়াত এবং তারাবির নামাজের নির্দিষ্ট সময় থাকবে।সোশ্যাল মিডিয়া বা অপ্রয়োজনীয় বিনোদনে সময় কম ব্যয় করার পরিকল্পনা করুন।শেষ কথা: রমজান আসে আমাদের ত্যাগের শিক্ষা দিতে, ভোগের নয়। এই এক মাস যদি আমরা নিয়ম এবং নিষ্ঠার সাথে অতিবাহিত করতে পারি, তবে তার ইতিবাচক প্রভাব থাকবে সারা বছর।/টিএ

ফেব্রুয়ারি ১৫, ২০২৬

আজ রোজ ডে: প্রিয় মানুষটিকে কোন রঙের গোলাপ দেবেন?

ভালোবাসার আবেশে ভরে উঠেছে চারপাশ—শুরু হয়ে গেছে ভালোবাসার বিশেষ সপ্তাহ। আজ শনিবার, ৭ ফেব্রুয়ারি, রোজ ডে দিয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে যাত্রা শুরু হলো ভ্যালেন্টাইন ডে বা বিশ্ব ভালোবাসা দিবসের। প্রতি বছর এই দিনটিতে প্রিয় মানুষের হাতে একটি গোলাপ তুলে দেওয়ার মধ্য দিয়েই ভালোবাসার সপ্তাহের সূচনা হয়। রঙিন গোলাপ আর নীরব অনুভূতির আদান–প্রদানে দিনটি হয়ে ওঠে আরও অর্থবহ।প্রেম ও ভালোবাসা প্রকাশে ফুলের ভূমিকা চিরকালই অনন্য। আর ফুলের রাজা হিসেবে পরিচিত গোলাপ ভালোবাসা দিবস ঘিরে সবচেয়ে বেশি ব্যবহৃত হয়। তবে সব গোলাপ যে একই অনুভূতির কথা বলে, তা নয়। গোলাপের রঙ বদলালে বদলে যায় তার ভাষা, অর্থ ও বার্তা। তাই মনের কথা ঠিকভাবে পৌঁছে দিতে গোলাপের রঙ বেছে নেওয়াটাও গুরুত্বপূর্ণ।কথিত আছে, একটি গোলাপ মানুষের হৃদয়ের গভীরতম অনুভূতিকে প্রকাশ করতে পারে। ভালোবাসা, আবেগ, কৃতজ্ঞতা কিংবা মুগ্ধতা—সব কিছুরই নিজস্ব রঙ আছে। যেমন, লাল গোলাপ চিরন্তন প্রেম ও গভীর আবেগের প্রতীক। প্রিয় মানুষটির প্রতি নিঃশর্ত ভালোবাসা জানাতে চাইলে লাল গোলাপই সবচেয়ে শক্তিশালী বার্তা বহন করে। আর গোলাপি গোলাপ প্রকাশ করে প্রশংসা, সৌজন্য ও আন্তরিক কৃতজ্ঞতা।কিছু গোলাপ আবার অনুভূতির সূক্ষ্ম দিকগুলো তুলে ধরে। ল্যাভেন্ডার গোলাপ মানেই প্রথম দেখাতেই প্রেমে পড়া—এক মুহূর্তেই হৃদয় চুরি হয়ে যাওয়ার গল্প। কমলা গোলাপ প্রকাশ করে তীব্র আকর্ষণ, আগ্রহ ও দমিয়ে রাখা আবেগ; মনের কথা মুখে বলতে না পারলে এই গোলাপই হয়ে ওঠে নীরব দূত। পিচ রঙের গোলাপ লাজুক ভালোবাসার প্রতীক—ভালোবাসা আছে, কিন্তু স্বীকার করার সাহস এখনো জোগাড় হয়নি।সবশেষে আসে সম্পর্কের অন্য রঙগুলো। হলুদ গোলাপ বন্ধুত্বের প্রতীক—প্রিয় বন্ধুর সঙ্গে আনন্দ, উষ্ণতা আর হাসির মুহূর্ত ভাগ করে নেওয়ার সুন্দর প্রকাশ। আর সাদা গোলাপ বোঝায় পবিত্রতা, সরলতা ও নিষ্কলুষ মন। রোজ ডে-তে এটি খুব প্রচলিত না হলেও, কারও নির্মল অনুভূতির প্রতি সম্মান জানাতে সাদা গোলাপ হতে পারে এক অনন্য উপহার। /টিএ

ফেব্রুয়ারি ০৭, ২০২৬

প্রতিদিন সকালে ডিম খাওয়ার ৭টি উপকারিতা

সুস্থ জীবনযাপনের জন্য সকালের নাশতা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। পুষ্টিবিদদের মতে, দিনের প্রথম খাবার যদি পুষ্টিকর হয়, তবে সারাদিন শরীর ও মন দুটোই থাকে চাঙা। এই দিক থেকে ডিম একটি সহজলভ্য, সাশ্রয়ী ও পুষ্টিসমৃদ্ধ খাবার। প্রতিদিন সকালের নাশতায় ডিম রাখলে যে উপকারগুলো পাওয়া যায়, তা নিচে তুলে ধরা হলো—১. উচ্চমানের প্রোটিনের চমৎকার উৎসডিমে রয়েছে সম্পূর্ণ প্রোটিন, যা শরীরের পেশি গঠন ও ক্ষয় পূরণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। সকালের নাশতায় ডিম খেলে দীর্ঘ সময় পেট ভরা থাকে এবং শরীর পায় প্রয়োজনীয় শক্তি।২. ওজন নিয়ন্ত্রণে সহায়কডিমে থাকা প্রোটিন হজম হতে সময় নেয়, ফলে ক্ষুধা কম লাগে। এর ফলে অপ্রয়োজনীয় খাবার খাওয়ার প্রবণতা কমে এবং ওজন নিয়ন্ত্রণে রাখা সহজ হয়।৩. মস্তিষ্কের কার্যকারিতা বাড়ায়ডিমে থাকা কোলিন স্মৃতিশক্তি ও মনোযোগ বাড়াতে সহায়তা করে। শিক্ষার্থী ও কর্মজীবীদের জন্য এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ পুষ্টি উপাদান, যা মানসিক কর্মক্ষমতা উন্নত করে।৪. চোখের স্বাস্থ্যে উপকারীডিমে থাকা লুটেইন ও জিয়াজ্যানথিন নামের অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট চোখের স্বাস্থ্য ভালো রাখতে সাহায্য করে। এগুলো বয়সজনিত দৃষ্টিশক্তি দুর্বলতার ঝুঁকি কমাতে কার্যকর।৫. শক্তি ও কর্মক্ষমতা বৃদ্ধি করেডিমে থাকা ভিটামিন বি–১২ ও রিবোফ্লাভিন শরীরে শক্তি উৎপাদনে সহায়তা করে। সকালের নাশতায় ডিম খেলে সারাদিন কাজ করার জন্য শরীর থাকে সতেজ ও কর্মক্ষম।৬. হাড় ও পেশি মজবুত করেডিমে রয়েছে ভিটামিন ডি ও ক্যালসিয়াম, যা হাড়কে শক্তিশালী করে। পাশাপাশি প্রোটিন পেশি গঠনে সহায়তা করে, ফলে শরীর থাকে সবল।৭. ত্বক ও চুলের যত্নে কার্যকরডিমে থাকা বায়োটিন ও প্রোটিন ত্বক উজ্জ্বল রাখতে এবং চুলের স্বাস্থ্য ভালো রাখতে সাহায্য করে। নিয়মিত ডিম খেলে ত্বক ও চুলের সৌন্দর্য বজায় থাকে।সতর্কতাতবে যাদের কোলেস্টেরলজনিত সমস্যা বা বিশেষ কোনো শারীরিক জটিলতা রয়েছে, তাদের নিয়মিত ডিম খাওয়ার আগে অবশ্যই চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত।/টিএ 

ফেব্রুয়ারি ০১, ২০২৬

সকালে হালকা গরম পানি কেন জরুরি

পুষ্টিবিদদের মতে, প্রতিদিনের ছোট একটি অভ্যাসই শরীর ও ত্বকে বড় পরিবর্তন আনতে পারে—আর সেটি হলো হালকা গরম পানি পান। সকালে ঘুম থেকে উঠে খালি পেটে বা দিনের যেকোনো সময় খাবারের আগে বা পরে ঈষদুষ্ণ পানি পান করলে শরীরের ভেতর থেকে জমে থাকা বর্জ্য পরিষ্কার হয়। ফলে পেট থাকে হালকা, ত্বক হয় উজ্জ্বল ও প্রাণবন্ত, আর ধীরে ধীরে কমতে শুরু করে অতিরিক্ত চর্বি।বিশেষজ্ঞরা জানান, নিয়মিত হালকা গরম পানি পান করলে বদহজম, কোষ্ঠকাঠিন্যসহ নানা পেটের সমস্যা সহজেই নিয়ন্ত্রণে আসে। শরীর দ্রুত ডিটক্স হয় এবং হজম শক্তি বৃদ্ধি পায়। হজম প্রক্রিয়া ঠিক থাকলে শরীরে বাড়তি মেদ জমার সুযোগও থাকে না। তাই যারা ওজন কমাতে চান, তারা প্রতিদিন সকালে এক গ্লাস হালকা গরম পানিতে লেবুর রস ও সামান্য মধু মিশিয়ে পান করতে পারেন—মাত্র এক সপ্তাহেই পরিবর্তন চোখে পড়বে।গরম পানি শুধু ওজন কমাতেই নয়, বিভিন্ন শারীরিক সমস্যায়ও কার্যকর। মাইগ্রেন, উচ্চ বা নিম্ন রক্তচাপ, জয়েন্টের ব্যথা, হাঁটু ও গোড়ালির ব্যথা, হঠাৎ হৃদস্পন্দন বেড়ে যাওয়া বা কমে যাওয়া, কাশি, কোলেস্টেরল নিয়ন্ত্রণ—এমনকি পিরিয়ডের সময় হওয়া তীব্র ক্র্যাম্প কমাতেও গরম পানির ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ। এই সময় গরম পানি পান করলে অ্যাবডোমিনাল মাসলের কার্যক্ষমতা বাড়ে এবং ব্যথা দ্রুত উপশম হয়।ত্বক ও চুলের যত্নেও হালকা গরম পানির জুড়ি নেই। যারা ব্রণের সমস্যায় ভুগছেন, তারা সকালে খালি পেটে গরম পানি পান করলে ধীরে ধীরে ব্রণ কমতে পারে। এটি স্কিন সেলের ক্ষত সারাতে সাহায্য করে, ত্বক টানটান রাখে এবং বলিরেখা হ্রাস করে। একইভাবে, চুল পড়া, অকালপক্বতা ও খুশকি কমাতে গরম পানি স্কাল্পের হারিয়ে যাওয়া আর্দ্রতা ফিরিয়ে আনে, ফলে চুল হয় মজবুত ও চকচকে।এছাড়াও মানসিক অবসাদ দূর করতে হালকা গরম পানিতে এক চামচ মধু মিশিয়ে পান করলে মন ভালো হয়। শরীর ব্যথা করলে গরম পানিতে লবণ মিশিয়ে গোসল উপকারী। ত্বকের সমস্যায় গরম পানিতে নিমপাতা ভিজিয়ে সেই পানি দিয়ে গোসল করা যেতে পারে। এমনকি দাঁতের ব্যথা কমাতে দিনে কয়েকবার হালকা গরম পানি দিয়ে কুলি করলেও সুফল পাওয়া যায়। ছোট এই অভ্যাসই হতে পারে সুস্থ ও সুন্দর জীবনের চাবিকাঠি।/টিএ

জানুয়ারি ৩১, ২০২৬
footer small logo

যোগাযোগ :

এটিএন বাংলা, ওয়াসা ভবন, ২য় তলা, ৯৮ কাজী নজরুল ইসলাম এভিনিউ, কাওরান বাজার, ঢাকা-১২১৫, বাংলাদেশ

ফোনঃ +88-02-55011931

সোশ্যাল মিডিয়া

youtube logotwitter logofacebook logo

Design & Developed by:

developed-company-logo