logo
youtube logotwitter logofacebook logo
/লাইফস্টাইল
প্রতিদিন কলা খেলে শরীরে যে ৫ উপকার হয় - image

প্রতিদিন কলা খেলে শরীরে যে ৫ উপকার হয়

27 আগস্ট 2026, বিকাল 2:38

সারাবছর সহজলভ্য ও জনপ্রিয় ফলগুলোর মধ্যে কলা অন্যতম। যাত্রাপথে, স্কুলের লাঞ্চ কিংবা অফিসে হালকা নাস্তা হিসেবে অনেকেই নিয়মিত কলা খান। পুষ্টিগুণের কারণে প্রতিদিনের খাদ্যতালিকায় কলা রাখা শরীরের জন্য বিভিন্নভাবে উপকারী হতে পারে।ব্যায়ামের আগে দ্রুত শক্তির উৎস হিসেবেও কলা বেশ কার্যকর। পাকা কলায় থাকা প্রাকৃতিক শর্করা দ্রুত শরীরে ব্যবহারযোগ্য শক্তিতে রূপান্তরিত হয়। একটি গবেষণায় দেখা গেছে, দীর্ঘ সময়ের সাইক্লিংয়ের আগে কলা খাওয়া ব্যক্তিদের কর্মক্ষমতা কার্বোহাইড্রেটযুক্ত স্পোর্টস ড্রিংক গ্রহণকারীদের তুলনায় উল্লেখযোগ্যভাবে আলাদা ছিল না। ফলে ব্যায়ামের আগে সহজলভ্য প্রাকৃতিক জ্বালানি হিসেবে কলা বেছে নেওয়া যেতে পারে।কলা পেশীর স্বাভাবিক কার্যকারিতা বজায় রাখতেও সহায়ক। এতে থাকা পটাশিয়াম পেশী সংকোচন ও স্নায়ুর স্বাভাবিক কার্যক্রমে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। ব্যায়ামের সময় ঘামের মাধ্যমে শরীর থেকে তরল ও ইলেক্ট্রোলাইট বেরিয়ে যায়। তাই খাবারের মাধ্যমে পর্যাপ্ত পটাশিয়াম গ্রহণ শরীরের প্রয়োজন মেটাতে সহায়তা করতে পারে।কলা কতটা পাকা, তার ওপরও এর কার্বোহাইড্রেটের ধরন নির্ভর করে। পাকা কলার তুলনায় কাঁচা বা কম পাকা কলায় বেশি রেজিস্ট্যান্ট স্টার্চ থাকে, যা তুলনামূলক ধীরে হজম হয়। ফলে এটি দীর্ঘ সময় পেট ভরা রাখতে এবং অপেক্ষাকৃত স্থিতিশীলভাবে শক্তি জোগাতে সহায়তা করতে পারে। অন্যদিকে পাকা কলার সহজে হজমযোগ্য শর্করা দ্রুত শক্তি দিতে পারে।পাকার মাত্রাভেদে কলা শরীরে দুই ধরনের শক্তি সরবরাহ করতে পারে—দ্রুত হজমযোগ্য শর্করা এবং ধীরে হজম হওয়া স্টার্চ ও ফাইবার। এ কারণে ব্যায়ামের আগে ও পরে কলা একটি সুবিধাজনক খাবার হতে পারে। পাশাপাশি কলায় থাকা পটাশিয়াম শরীরের ইলেক্ট্রোলাইট ভারসাম্য বজায় রাখতে ভূমিকা রাখে। তবে শরীরকে পর্যাপ্ত আর্দ্র রাখতে শুধু কলার ওপর নির্ভর না করে প্রয়োজন অনুযায়ী পানি ও অন্যান্য তরল গ্রহণ করাও জরুরি।টি/

আগস্ট ২৭, ২০২৬

অ্যালার্ম ছাড়াই সময়মতো ঘুম থেকে ওঠার উপায়

সকালে নির্দিষ্ট সময়ে ঘুম থেকে উঠতে অ্যালার্মের ওপর নির্ভর করেন অনেকেই। বিশেষ করে কর্মজীবীদের জন্য সময়মতো ঘুম থেকে ওঠা জরুরি, কারণ অফিসের প্রস্তুতি, নাশতা ও যাতায়াত—সবকিছুর সঙ্গে দিনের শুরুটা জড়িয়ে থাকে। তবে নিয়মিত কিছু অভ্যাস গড়ে তুললে ফোন বা ঘড়ির অ্যালার্ম ছাড়াও নির্দিষ্ট সময়ে ঘুম থেকে ওঠা সম্ভব বলে জানিয়েছেন ঘুম বিশেষজ্ঞরা।বিশেষজ্ঞদের মতে, শরীরের নিজস্ব সার্কাডিয়ান ছন্দ বা জৈবঘড়ি ঘুম ও জেগে ওঠার সময় নিয়ন্ত্রণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। প্রাপ্তবয়স্কদের সাধারণত প্রতি রাতে সাত থেকে নয় ঘণ্টা ঘুমের লক্ষ্য রাখা উচিত। তবে সবার ঘুমের প্রয়োজন এক নয়। কারও সাত ঘণ্টা ঘুমেই সতেজ লাগতে পারে, আবার কারও প্রয়োজন হতে পারে নয় ঘণ্টা। তাই নিজের শরীরের উপযোগী ঘুমের সময় খুঁজে নেওয়াই গুরুত্বপূর্ণ। ছুটির দিনে অ্যালার্ম ছাড়া কখন ঘুম ভাঙে, তা লক্ষ্য করেও নিজের স্বাভাবিক ঘুমের ছন্দ সম্পর্কে ধারণা পাওয়া যেতে পারে।ঘুমের সময় ঠিক রাখতে আলোও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। সকালে ঘুম থেকে উঠে জানালার পর্দা সরিয়ে প্রাকৃতিক আলো গ্রহণ করলে শরীর জেগে ওঠার সংকেত পায় এবং সতেজ হতে সহায়তা করে। অন্যদিকে রাতে ঘুমানোর অন্তত দুই ঘণ্টা আগে থেকে শান্ত হওয়ার রুটিন তৈরি করা উপকারী। ত্বকের যত্ন নেওয়া, দাঁত ব্রাশ করা, আরামদায়ক পোশাক পরা এবং ঘরের আলো কমিয়ে আনার মতো অভ্যাস শরীরকে ঘুমের জন্য প্রস্তুত করতে পারে। অতিরিক্ত গরমও ঘুমে ব্যাঘাত ঘটাতে পারে, তাই প্রয়োজন অনুযায়ী ফ্যান বা এসি ব্যবহার এবং হালকা পোশাক পরা যেতে পারে।তবে ঘুমের সময়সূচি একদিনে পরিবর্তন করা সম্ভব নয়। ঘুম বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ হলো, কাঙ্ক্ষিত সময়ের সঙ্গে সামঞ্জস্য করতে ধীরে ধীরে ঘুমানো ও জেগে ওঠার সময় এগিয়ে বা পিছিয়ে নেওয়া। প্রয়োজনে প্রতিদিন প্রায় আধা ঘণ্টা করে সময় পরিবর্তন করা যেতে পারে। নিয়মিত একই সময়ে ঘুমাতে যাওয়া এবং ঘুম থেকে ওঠার অভ্যাস তৈরি হলে শরীর ধীরে ধীরে সেই সময়সূচির সঙ্গে মানিয়ে নেয় এবং অ্যালার্মের প্রয়োজন কমতে পারে।ঘুমের রুটিন ঠিক করার ক্ষেত্রে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো ধৈর্য। কর্মজীবন, ব্যক্তিগত দায়িত্ব বা পরিবর্তিত সময়সূচির কারণে অনেকের ঘুমের অভ্যাস এলোমেলো হয়ে যেতে পারে। তাই নিজের প্রতি কঠোর না হয়ে শরীরের স্বাভাবিক ছন্দ বুঝে ধীরে ধীরে পরিবর্তন আনা উচিত। পর্যাপ্ত ও নিয়মিত ঘুম নিশ্চিত করা গেলে সকালে ঝিমুনি কমার পাশাপাশি মেজাজ ও কর্মক্ষমতাও ভালো হতে পারে। অ্যালার্ম ছাড়াই সময়মতো ওঠার অভ্যাস তাই শুধু সময় বাঁচানোর কৌশল নয়, বরং স্বাস্থ্যকর ঘুমের রুটিন তৈরিরও একটি অংশ।/টি

আগস্ট ২৫, ২০২৬

ব্যায়াম ছাড়াই ওজন কমাতে সহায়ক যেসব অভ্যাস

ঘণ্টার পর ঘণ্টা জিমে গিয়ে ঘাম ঝরালেই কেবল ওজন কমানো সম্ভব—এমন ধারণা অনেকেরই। তবে বিশেষজ্ঞদের মতে, নিয়মিত ব্যায়ামের পাশাপাশি দৈনন্দিন জীবনের কিছু অভ্যাস পরিবর্তন করেও ওজন নিয়ন্ত্রণে রাখা সম্ভব। পর্যাপ্ত ঘুম, স্বাস্থ্যকর খাবার ও সঠিক পানীয় বেছে নেওয়া এক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।ওজন নিয়ন্ত্রণে রাখতে পর্যাপ্ত ও ভালো ঘুমের বিকল্প নেই। ঘুমের ঘাটতি হলে ক্ষুধা ও খাবারের প্রতি আকাঙ্ক্ষা বেড়ে যেতে পারে, বিশেষ করে উচ্চ ক্যালোরিযুক্ত ও জাঙ্ক ফুড খাওয়ার প্রবণতা বাড়ে। তাই প্রতিদিন পর্যাপ্ত ঘুম নিশ্চিত করা ওজন নিয়ন্ত্রণের জন্য গুরুত্বপূর্ণ।চিনি ছাড়া ব্ল্যাক কফি পান করাও অনেকের জন্য উপকারী হতে পারে। তবে কফিতে অতিরিক্ত চিনি বা মিষ্টি উপাদান যোগ করলে ক্যালোরির পরিমাণ বেড়ে যায়। পাশাপাশি খাবারের আগে এক গ্লাস পানি পান করলে পেট কিছুটা ভরা থাকে এবং অতিরিক্ত খাবার খাওয়ার প্রবণতা কমতে পারে। পর্যাপ্ত পানি পান শরীরের স্বাভাবিক কার্যক্রমের জন্যও জরুরি।ওজন কমাতে চাইলে কোল্ড ড্রিংক ও অতিরিক্ত চিনিযুক্ত প্যাকেটজাত জুস এড়িয়ে চলা ভালো। এসব পানীয়তে বাড়তি ক্যালোরি থাকে, যা ওজন বাড়াতে ভূমিকা রাখতে পারে। এর পরিবর্তে তাজা ফল খাওয়ার অভ্যাস করা যেতে পারে। একইভাবে অতিরিক্ত তেল, লবণ ও ক্যালোরিযুক্ত জাঙ্ক ফুড যতটা সম্ভব এড়িয়ে চলা উচিত।সন্ধ্যার নাশতায় ভাজাভুজি ও অতিরিক্ত তেলযুক্ত খাবারের পরিবর্তে গ্রিন টি বা মৌসুমি ফল বেছে নেওয়া যেতে পারে। তবে শুধু একটি অভ্যাস পরিবর্তন করলেই দ্রুত ওজন কমে যাবে—এমন নিশ্চয়তা নেই। স্বাস্থ্যকর খাবার, পর্যাপ্ত ঘুম, পর্যাপ্ত পানি পান এবং নিয়মিত শারীরিক সক্রিয়তা মিলিয়েই দীর্ঘমেয়াদে স্বাস্থ্যকর ওজন ধরে রাখা সম্ভব।/টি

আগস্ট ২৪, ২০২৬

টানা এক মাস টক দই খেলে শরীরে যা ঘটে!

গরম ভাতের সঙ্গে এক বাটি টক দই কিংবা দুপুরের খাবারের পর কয়েক চামচ দই—বাঙালির খাবারে টক দই বেশ পরিচিত। স্বাদে টক হলেও প্রোটিন, ক্যালসিয়াম ও জীবন্ত ব্যাকটেরিয়ার মতো পুষ্টি উপাদান থাকায় এটি স্বাস্থ্যকর খাবারের অংশ হতে পারে। তবে টানা এক মাস প্রতিদিন টক দই খেলে সবার শরীরে একই ধরনের প্রভাব পড়বে না।নিয়মিত পরিমিত টক দই খেলে হজমের স্বাস্থ্যে উপকার মিলতে পারে। দই তৈরির সময় দুধের ল্যাকটোজের একটি অংশ ব্যাকটেরিয়ার মাধ্যমে ভেঙে যায় এবং এতে কিছু জীবন্ত ব্যাকটেরিয়া থাকে, যা অন্ত্রের জীবাণুসমষ্টির ভারসাম্য বজায় রাখতে ভূমিকা রাখতে পারে। তবে দই খেলেই গ্যাস, অম্বল বা কোষ্ঠকাঠিন্য দূর হবে—এমন নিশ্চয়তা নেই।টক দই শরীরে ক্যালসিয়াম ও প্রোটিনেরও ভালো উৎস হতে পারে। ক্যালসিয়াম হাড় ও দাঁতের জন্য গুরুত্বপূর্ণ, আর প্রোটিন প্রয়োজন পেশি ও বিভিন্ন টিস্যুর জন্য। পাশাপাশি দইয়ের প্রোটিন কিছুটা সময় পেট ভরা রাখতে পারে, ফলে অপ্রয়োজনীয় নাশতা কমাতে সহায়তা করতে পারে। তবে ওজন নিয়ন্ত্রণের জন্য চিনি ছাড়া সাধারণ টক দই বেছে নেওয়া জরুরি।নিয়মিত দই খাওয়ার সঙ্গে টাইপ-২ ডায়াবেটিসের ঝুঁকি কম থাকার সম্পর্ক কিছু গবেষণায় দেখা গেছে। তবে এর কারণ পুরোপুরি নিশ্চিত নয় এবং দইকে কোনোভাবেই ডায়াবেটিস প্রতিরোধের ওষুধ হিসেবে দেখা যাবে না। একইভাবে, দইয়ের জীবন্ত ব্যাকটেরিয়া অন্ত্রের স্বাস্থ্যে ভূমিকা রাখতে পারে, কিন্তু এক মাস দই খেলেই রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়ে যাবে—এমন প্রমাণও নেই।রাতে টক দই খাওয়া নিয়েও রয়েছে নানা মত। আয়ুর্বেদে রাতে দই খাওয়ার বিষয়ে সতর্ক করা হলেও আধুনিক চিকিৎসাবিজ্ঞানে সুস্থ মানুষের জন্য রাতে পরিমিত টক দই খাওয়াকে ক্ষতিকর প্রমাণ করার মতো শক্ত তথ্য নেই। তবে যাদের দই খেলে গ্যাস, পেট ফাঁপা, অস্বস্তি বা অ্যাসিডিটি বাড়ে, তাদের সতর্ক থাকা উচিত। বিশেষ করে অ্যাসিড রিফ্লাক্সের সমস্যা থাকলে নিজের শরীরের প্রতিক্রিয়া দেখে দই খাওয়ার সময় নির্ধারণ করা ভালো।তাই সুস্থ একজন মানুষ চাইলে প্রতিদিন পরিমিত পরিমাণে চিনি ছাড়া সাধারণ টক দই খাদ্যতালিকায় রাখতে পারেন। এক বাটি দইয়ের সঙ্গে ফল, বাদাম বা বীজ যোগ করলে খাবারের পুষ্টিমানও বাড়তে পারে। তবে বাজারের সব দই এক নয়—কেনার সময় চিনি ও অন্যান্য উপাদানের পরিমাণ দেখে নেওয়া উচিত। দই খাওয়ার পর নিয়মিত পেটের সমস্যা, অ্যালার্জির লক্ষণ বা অ্যাসিডিটি বাড়লে চিকিৎসক বা পুষ্টিবিদের পরামর্শ নেওয়াই ভালো।সূত্র: টাইমস অব ইন্ডিয়াটি/

আগস্ট ২৩, ২০২৬

চুল পড়া বাড়িয়ে দিতে পারে যেসব সাধারণ ভুল

চিরুনি হাতে নিলেই একগুচ্ছ চুল উঠে আসা, বালিশ বা গোসলের সময় বেশি চুল পড়ে থাকা—এমন ঘটনায় অনেকেই দুশ্চিন্তায় পড়ে যান। চুল পড়া বন্ধ করতে তখন কেউ তেল, কেউ শ্যাম্পু আবার কেউ চুল গজানোর ওষুধের সন্ধান করেন। তবে সব সময় বড় কোনো রোগ বা বংশগত কারণেই চুল পড়ে না। দৈনন্দিন চুলের যত্নে কিছু সাধারণ ভুলও চুল দুর্বল ও ভঙ্গুর করে দিতে পারে।বিশেষজ্ঞদের মতে, খুব শক্ত করে চুল বাঁধা, অতিরিক্ত তাপ ব্যবহার, ভেজা চুলে জোরে আঁচড়ানো এবং তোয়ালে দিয়ে ঘষে চুল শুকানোর অভ্যাস চুলের ক্ষতি করতে পারে। নিয়মিত টান পড়লে চুলের গোড়া দুর্বল হয়ে সামনের অংশ পাতলা হতে পারে। একইভাবে হেয়ার ড্রায়ার, স্ট্রেইটনার বা কার্লিং আয়রনের অতিরিক্ত তাপ চুলের গঠন নষ্ট করে ভেঙে যাওয়ার ঝুঁকি বাড়ায়। তাই চুল শুকানো ও আঁচড়ানোর ক্ষেত্রে কোমল আচরণ করা জরুরি।বারবার চুলে রং করা, সোজা বা কোঁকড়া করার মতো রাসায়নিক প্রক্রিয়াও চুলের জন্য ক্ষতিকর হতে পারে। অতিরিক্ত চিরুনি ব্যবহার কিংবা শক্তভাবে চুল ধরে রাখে এমন প্রসাধনী ব্যবহারের কারণেও চুল ভেঙে যেতে পারে। বিশেষ করে ভেজা চুল তুলনামূলক দুর্বল থাকায় এ সময় জোরে আঁচড়ানো এড়িয়ে চলা উচিত। প্রয়োজনে চওড়া দাঁতের চিরুনি দিয়ে ধীরে ধীরে জট ছাড়ানোর পরামর্শ দেওয়া হয়।চুলের স্বাস্থ্যের সঙ্গে খাবারেরও সরাসরি সম্পর্ক রয়েছে। খাদ্যতালিকায় লৌহ, প্রোটিন, দস্তা ও অন্যান্য প্রয়োজনীয় পুষ্টির ঘাটতি হলে চুল পড়া বাড়তে পারে। আবার খুব কম ক্যালরি গ্রহণ বা দ্রুত ওজন কমানোর চেষ্টাতেও চুল পড়তে দেখা যায়। দীর্ঘদিনের মানসিক চাপ, কিছু অসুস্থতা, হরমোনের পরিবর্তন ও ধূমপানও চুল পড়ার সঙ্গে সম্পর্কিত হতে পারে। তাই মাছ, ডিম, ডাল, দুধ ও দুধজাত খাবার, শাকসবজি, ফল, বাদাম ও বীজসহ বৈচিত্র্যময় পুষ্টিকর খাবার খাওয়া জরুরি।তবে প্রতিদিন ৫০ থেকে ১০০টি চুল পড়া সাধারণত স্বাভাবিক বলে বিবেচিত হয়। সমস্যা দেখা দিতে পারে যখন হঠাৎ চুল পড়ার পরিমাণ বেড়ে যায়, মাথার কোনো অংশ পাতলা বা ফাঁকা হয়ে যায় কিংবা চুল পড়া কয়েক সপ্তাহ ধরে বাড়তে থাকে। মাথার ত্বকে চুলকানি, লালচে ভাব, ব্যথা বা ক্ষতের সঙ্গে চুল পড়লে কিংবা গোলাকার ফাঁকা জায়গা তৈরি হলে চর্মরোগ বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নেওয়া উচিত। চুল পড়া কমাতে তাই শুধু দামি প্রসাধনীর ওপর নির্ভর না করে দৈনন্দিন অভ্যাস, পুষ্টিকর খাবার এবং প্রয়োজন হলে চিকিৎসকের পরামর্শের দিকে গুরুত্ব দেওয়া দরকার।সূত্র: সামা নিউজ/টি

আগস্ট ২২, ২০২৬

গরম খাবার কি সরাসরি ফ্রিজে রাখা যাবে?

রান্না শেষ হওয়ার পর খাবার গরম থাকতেই ফ্রিজে রাখা নিয়ে অনেকের মধ্যেই দ্বিধা রয়েছে। কেউ মনে করেন, এতে ফ্রিজ নষ্ট হতে পারে, আবার কেউ খাবার নষ্ট হওয়ার আশঙ্কায় দীর্ঘ সময় বাইরে রেখে দেন। তবে খাদ্য নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞদের মতে, গরম খাবার ফ্রিজে রাখা একেবারে নিষিদ্ধ নয়; বরং রান্না করা খাবার দীর্ঘ সময় ঘরের তাপমাত্রায় রেখে দেওয়াই বেশি ঝুঁকিপূর্ণ।গরম খাবারের বড় পাত্র সরাসরি ফ্রিজে রাখলে ভেতরের তাপমাত্রা সাময়িকভাবে বেড়ে যেতে পারে। এতে ফ্রিজকে খাবার ঠান্ডা করতে বেশি কাজ করতে হয় এবং আশপাশের অন্যান্য খাবারের তাপমাত্রাও কিছুটা বাড়তে পারে। তবে এক-দুবার গরম খাবার রাখলেই ফ্রিজের কম্প্রেসর নষ্ট হয়ে যাবে—এমন ধারণার ভিত্তি নেই। বড় পরিমাণ খাবার একসঙ্গে না রেখে ছোট ও অগভীর পাত্রে ভাগ করে রাখাই নিরাপদ পদ্ধতি।খাবার দীর্ঘ সময় বাইরে রাখার বিষয়টি আরও গুরুত্বপূর্ণ। ইউএসডিএর তথ্য অনুযায়ী, প্রায় ৪.৪ থেকে ৬০ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রার মধ্যে ব্যাকটেরিয়া দ্রুত বৃদ্ধি পেতে পারে, যাকে ‘ফুড ডেঞ্জার জোন’ বলা হয়। সাধারণ ঘরের তাপমাত্রায় রান্না করা বা পচনশীল খাবার দুই ঘণ্টার বেশি রাখা উচিত নয়। তাপমাত্রা ৩২ ডিগ্রি সেলসিয়াসের বেশি হলে এক ঘণ্টার মধ্যেই খাবার ফ্রিজে রাখার পরামর্শ দেওয়া হয়।তাই বড় হাঁড়ি ভর্তি ডাল, তরকারি, খিচুড়ি বা স্যুপ পুরোপুরি ঠান্ডা হওয়ার অপেক্ষায় বাইরে রেখে দেওয়া ঠিক নয়। রান্না শেষ হলে খাবার কয়েকটি ছোট, অগভীর পাত্রে ভাগ করে অতিরিক্ত বাষ্প বের হতে দিয়ে দ্রুত ফ্রিজে রাখা ভালো। এতে খাবার দ্রুত নিরাপদ তাপমাত্রায় পৌঁছায় এবং ব্যাকটেরিয়া বৃদ্ধির ঝুঁকি কমে। ফ্রিজের তাপমাত্রা ৪ ডিগ্রি সেলসিয়াস বা তার নিচে রাখাও গুরুত্বপূর্ণ।সাধারণভাবে রান্না করা অবশিষ্ট খাবার ফ্রিজে ৩ থেকে ৪ দিন রাখা যায়। এর বেশি সময় সংরক্ষণ করতে চাইলে ফ্রিজারে রাখা ভালো। খাবারের গন্ধ, রং বা স্বাভাবিক বৈশিষ্ট্যে পরিবর্তন দেখা দিলে তা না খাওয়াই নিরাপদ। সবশেষে বলা যায়, গরম খাবার ফ্রিজে রাখা যাবে না—এই ধারণা পুরোপুরি সঠিক নয়। তবে ফুটন্ত খাবারের বিশাল পাত্র সরাসরি ফ্রিজে না রেখে ছোট পাত্রে ভাগ করে দ্রুত সংরক্ষণ করাই সবচেয়ে নিরাপদ পদ্ধতি।সূত্র: টিভি ৯টি/

আগস্ট ২০, ২০২৬

ইলিশ পাতুরি বানানোর সহজ রেসিপি

সর্ষের ঝাঁঝ, কাঁচা মরিচের সুবাস আর কলাপাতার মায়াবী ঘ্রাণ—ইলিশ পাতুরি যেন বাঙালির বর্ষার দুপুরের এক টুকরো মধুর স্মৃতি। ইলিশের সঙ্গে বাঙালির সম্পর্ক শুধু স্বাদের নয়, গভীর আবেগেরও। নদী থেকে উঠে আসা রূপালি ইলিশ যখন সর্ষের মসলায় মেখে কলাপাতার ভেতর রান্না হয়, তখন তা হয়ে ওঠে বাঙালির অন্যতম প্রিয় রসনাবিলাস।ধোঁয়া ওঠা গরম ভাতের সঙ্গে কলাপাতায় মোড়ানো ইলিশ পাতুরি—বর্ষার দুপুরে এমন আয়োজন সত্যিই লোভনীয়। ঐতিহ্য, ঘ্রাণ ও স্বাদের অনন্য মেলবন্ধনের কারণে বাঙালির খাবারের টেবিলে দীর্ঘদিন ধরেই জনপ্রিয় এই পদ। ঝামেলাহীন ও কম উপকরণে ঘরেই তৈরি করা যায় সুস্বাদু ইলিশ পাতুরি।প্রয়োজনীয় উপকরণইলিশ মাছ: ৪ থেকে ৫ টুকরাকালো বা সাদা সর্ষে বাটা: ৩ টেবিল চামচনারকেল বাটা: ২ টেবিল চামচকাঁচা মরিচ বাটা: ৩ থেকে ৪টিহলুদ গুঁড়া: আধা চা চামচসরিষার তেল: ৩ থেকে ৪ টেবিল চামচআস্ত কাঁচা মরিচ: কয়েকটিলবণ: স্বাদমতোচিনি: সামান্যকলাপাতা বা লাউপাতা: প্রয়োজনমতোসুতা: পাতুরি বাঁধার জন্যযেভাবে তৈরি করবেনমাছ ও মসলা প্রস্তুত: প্রথমে ইলিশের টুকরাগুলো ভালোভাবে ধুয়ে পানি ঝরিয়ে নিন। এরপর সর্ষে বাটা, নারকেল বাটা, কাঁচা মরিচ বাটা, হলুদ, সরিষার তেল, লবণ ও সামান্য চিনি একসঙ্গে মিশিয়ে ঘন মসলার মিশ্রণ তৈরি করুন।মাছে মসলা মাখানো: মসলার মিশ্রণটি ইলিশের প্রতিটি টুকরায় ভালোভাবে মেখে ১০ থেকে ১৫ মিনিট রেখে দিন। এতে মসলার স্বাদ মাছের সঙ্গে ভালোভাবে মিশে যাবে।পাতা প্রস্তুত: কলাপাতা বা লাউপাতা ধুয়ে পরিষ্কার করে নিন। এরপর হালকা আঁচে কয়েক সেকেন্ড সেঁকে নরম করে নিন। এতে পাতায় মাছ মোড়ানোর সময় তা ছিঁড়ে যাওয়ার আশঙ্কা কমে।পাতুরি মোড়ানো: প্রতিটি পাতার ওপর একটি করে মসলা মাখানো ইলিশের টুকরা রাখুন। ওপর থেকে সামান্য মসলা, একটি আস্ত কাঁচা মরিচ ও একটু সরিষার তেল দিন। এরপর পাতা চারপাশ থেকে মুড়ে সুতা দিয়ে ভালোভাবে বেঁধে নিন।ভাপে রান্না: একটি তাওয়া বা ফ্রাইপ্যানে সামান্য তেল ব্রাশ করে পাতায় মোড়ানো পাতুরিগুলো রাখুন। ঢাকনা দিয়ে মাঝারি থেকে কম আঁচে ১০ থেকে ১৫ মিনিট রান্না করুন। এরপর পাতুরিগুলো উল্টে দিয়ে আরও প্রায় ১০ থেকে ১৫ মিনিট রান্না করুন। পাতার বাইরের অংশ হালকা পোড়া পোড়া হলে নামিয়ে নিন।নিখুঁত ইলিশ পাতুরির ৫ কৌশলসর্ষের ঝাঁঝ নিয়ন্ত্রণ: সর্ষে বাটার সময় সামান্য লবণ ও একটি কাঁচা মরিচ একসঙ্গে বাটলে সর্ষের তেতোভাব কিছুটা কমে।সর্ষের মিশ্রণ ঘন রাখুন: সর্ষে বাটা যেন অতিরিক্ত পাতলা বা পানিযুক্ত না হয়। ঘন মসলা পাতুরির স্বাদ ও গঠন ভালো রাখে।খাঁটি সরিষার তেল ব্যবহার করুন: ইলিশ পাতুরির স্বাদ ও ঘ্রাণের অন্যতম প্রধান উপাদান সরিষার তেল। পরিমাণমতো কাঁচা সরিষার তেল ব্যবহার করলে পাওয়া যায় কাঙ্ক্ষিত ঝাঁঝালো সুবাস।অতিরিক্ত রান্না নয়: ইলিশ দ্রুত সেদ্ধ হয়। তাই বেশি সময় আঁচে রাখলে মাছের নরমভাব ও স্বাদ নষ্ট হতে পারে।কলাপাতার ঘ্রাণ ধরে রাখুন: কলাপাতায় মোড়ানো অবস্থায় রান্না করলে মাছের রস ও মসলার সুবাস ভেতরে আটকে থাকে। এতে পাতুরির স্বাদ ও ঘ্রাণ হয় আরও আকর্ষণীয়।বর্ষার দুপুরে গরম ভাতের সঙ্গে সর্ষের ঝাঁঝে ভরা ইলিশ পাতুরি হতে পারে পরিবারের জন্য দারুণ এক আয়োজন। সহজ এই রেসিপি অনুসরণ করে ঘরেই তৈরি করে নিতে পারেন বাঙালির চিরন্তন প্রিয় এই পদ।/টি

আগস্ট ১৯, ২০২৬

ভাত খাওয়ার সঠিক সময় কখন?

বাঙালির প্রতিদিনের খাবারে ভাতের উপস্থিতি প্রায় অবিচ্ছেদ্য। তাই ওজন কমানো কিংবা রক্তে শর্করা নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করলে ভাত পুরোপুরি বাদ দিতে হবে কি না, তা নিয়ে অনেকেরই প্রশ্ন থাকে। বিশেষজ্ঞদের মতে, শুধু ভাত খাওয়াই ওজন বৃদ্ধি বা রক্তে শর্করা বাড়ার একমাত্র কারণ নয়। বরং ভাতের পরিমাণ, সঙ্গে থাকা খাবার, মোট ক্যালোরি গ্রহণ এবং দিনের কোন সময়ে খাওয়া হচ্ছে—সবকিছুর ওপর বিষয়টি নির্ভর করে।সাম্প্রতিক গবেষণায় দেখা গেছে, দিনের বিভিন্ন সময়ে শরীর খাবার ও গ্লুকোজ একইভাবে প্রক্রিয়া করে না। দিনের শুরু থেকে দুপুরের দিকে সাধারণত ইনসুলিন সংবেদনশীলতা তুলনামূলক ভালো থাকে। ফলে ভাতের মতো কার্বোহাইড্রেটসমৃদ্ধ খাবার দিনের বেলায়, বিশেষ করে দুপুরে, পরিমিত পরিমাণে খেলে রক্তে শর্করা নিয়ন্ত্রণে কিছুটা সুবিধা হতে পারে। তবে শুধু দুপুরে ভাত খেলেই ওজন কমবে—এমন নিশ্চয়তা নেই; সারাদিনের মোট ক্যালোরি ও শারীরিক কর্মকাণ্ডও গুরুত্বপূর্ণ।রাতে ভাত খাওয়াকে সরাসরি ক্ষতিকর বলা যায় না। ওজন বাড়া বা কমার ক্ষেত্রে মোট ক্যালোরি গ্রহণ, খাবারের পরিমাণ এবং খাদ্যতালিকার ভারসাম্য সাধারণত বেশি গুরুত্বপূর্ণ। তবে রাতে খুব দেরিতে বা ঘুমানোর ঠিক আগে বেশি পরিমাণে ভাত খাওয়ার অভ্যাস এড়িয়ে চলা ভালো। বিশেষ করে ডায়াবেটিস বা ইনসুলিন প্রতিরোধের সমস্যা থাকলে খাবারের সময় ও পরিমাণ সম্পর্কে বাড়তি সতর্কতা প্রয়োজন।ভাত খেলে রক্তে শর্করা দ্রুত বাড়তে পারে, কারণ সাদা ভাতে সহজে হজমযোগ্য কার্বোহাইড্রেট থাকে। তবে এই প্রভাব ভাতের ধরন, পরিমাণ এবং সঙ্গে খাওয়া অন্যান্য খাবারের ওপরও নির্ভর করে। ভাতের সঙ্গে মাছ, ডিম বা মুরগির মতো প্রোটিন, পর্যাপ্ত শাকসবজি ও ডাল রাখলে খাবারটি আরও সুষম হয়। পাশাপাশি সাদা চালের বদলে লাল বা বাদামি চালের মতো কম প্রক্রিয়াজাত শস্য বেছে নেওয়া যেতে পারে, কারণ এতে সাধারণত বেশি খাদ্যআঁশ থাকে। তবে চালের ধরন পরিবর্তনের পাশাপাশি পরিমাণ নিয়ন্ত্রণও জরুরি।সবশেষে, ওজন কমানো বা রক্তে শর্করা নিয়ন্ত্রণের জন্য ভাত একেবারে বাদ দেওয়ার প্রয়োজন নেই। দিনের তুলনামূলক আগের সময়ে পরিমিত ভাত খাওয়া, সঙ্গে পর্যাপ্ত সবজি ও প্রোটিন রাখা এবং নিয়মিত শারীরিক কর্মকাণ্ড চালিয়ে যাওয়া বেশি গুরুত্বপূর্ণ। রাতে ভাত খেলে পরিমাণ কম রাখা ও ঘুমানোর ঠিক আগে না খাওয়াই ভালো। ডায়াবেটিস থাকলে নিজের শারীরিক অবস্থা, ওষুধ ও রক্তে শর্করার মাত্রা অনুযায়ী খাদ্যতালিকা চিকিৎসক বা পুষ্টিবিদের পরামর্শে নির্ধারণ করা নিরাপদ।সূত্র: টাইমস অব ইন্ডিয়া/টি

আগস্ট ১৮, ২০২৬

লাল-হলুদ ক্যাপসিকাম রাখুন খাবারের তালিকায়

লাল ও হলুদ ক্যাপসিকাম খাবারের স্বাদ ও রং বাড়ানোর পাশাপাশি শরীরের জন্যও উপকারী হতে পারে। এতে থাকা অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট ও বিভিন্ন উদ্ভিজ্জ উপাদান শরীরের কোষকে অক্সিডেটিভ ক্ষতির প্রভাব থেকে সুরক্ষায় ভূমিকা রাখতে পারে। নিয়মিত খাদ্যতালিকায় এসব রঙিন সবজি রাখা স্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাসের অংশ হতে পারে।ক্যাপসিকাম সবুজ থেকে হলুদ ও লাল হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে এতে থাকা কিছু উপকারী উদ্ভিজ্জ উপাদানের পরিমাণও বাড়ে। লাল ক্যাপসিকামে ক্যাপসানথিন, ক্যাপসোরুবিন ও লাইকোপেনের মতো অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট রয়েছে। অন্যদিকে হলুদ ক্যাপসিকামে লুটেইন ও ভায়োলাক্সান্থিনের মতো উপাদান পাওয়া যায়, যা শরীরের জন্য উপকারী হিসেবে বিবেচিত।এসব অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট শরীরে অক্সিডেটিভ চাপ কমাতে এবং কোষ সুরক্ষায় ভূমিকা রাখতে পারে। লাল ক্যাপসিকামের বিভিন্ন ক্যারোটিনয়েড যেমন কোষকে অক্সিডেটিভ ক্ষতি থেকে রক্ষায় সহায়তা করতে পারে, তেমনি হলুদ ক্যাপসিকামের লুটেইন ও ভায়োলাক্সান্থিনও অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট হিসেবে কাজ করে। তবে শুধু ক্যাপসিকাম খেয়ে ক্যান্সার প্রতিরোধ বা চিকিৎসা করা সম্ভব নয়; এটি বৈচিত্র্যময় ও স্বাস্থ্যকর খাদ্যতালিকার অংশ হিসেবে দেখা উচিত।ক্যাপসিকামের পুষ্টিগুণ ধরে রাখতে রান্নার পদ্ধতির দিকেও নজর দেওয়া প্রয়োজন। দীর্ঘ সময় বা অতিরিক্ত তাপে রান্না করলে বিশেষ করে ভিটামিন সি-এর পরিমাণ কমে যেতে পারে। তাই কাঁচা সালাদ, হালকা ভাপে রান্না কিংবা অল্প তেলে দ্রুত স্টার-ফ্রাই করে খাওয়া যেতে পারে। ক্যারোটিনয়েড শরীরে শোষণে স্বাস্থ্যকর চর্বি সহায়ক হওয়ায় অল্প পরিমাণ অলিভ অয়েল বা সরিষার তেলের সঙ্গে ক্যাপসিকাম খাওয়াও উপকারী হতে পারে।ক্যাপসিকাম কাটার সময় ভেতরের সাদা অংশ পুরোপুরি ফেলে দেওয়ার প্রয়োজন নেই; শক্ত বীজ ও কোর বাদ দিয়ে বাকি অংশ ব্যবহার করা যায়। পাশাপাশি ডাল, ছোলা বা পালং শাকের মতো খাবারের সঙ্গে লাল ও হলুদ ক্যাপসিকাম খেলে এতে থাকা ভিটামিন সি উদ্ভিজ্জ উৎসের আয়রন শোষণে সহায়তা করতে পারে। তবে ক্যান্সার প্রতিরোধে কোনো একটি খাবারের ওপর নির্ভর না করে নিয়মিত শাকসবজি, ফল, পূর্ণ শস্যসহ পুষ্টিকর খাবার খাওয়ার পাশাপাশি স্বাস্থ্যকর জীবনযাপন করা জরুরি।/টি

আগস্ট ১৭, ২০২৬

জ্বর হলে কেন কমে যায় ক্ষুধা? জানুন কারণ ও করণীয়

জ্বর হলে ক্ষুধা কমে যাওয়া নিয়ে অনেকের মধ্যেই উদ্বেগ দেখা দেয়। তবে বিশেষজ্ঞদের মতে, অসুস্থ অবস্থায় খাবারের প্রতি আগ্রহ কমে যাওয়া শরীরের স্বাভাবিক প্রতিক্রিয়া। সংক্রমণের বিরুদ্ধে রোগ প্রতিরোধব্যবস্থা সক্রিয় হওয়ার সময় শরীরে বিভিন্ন পরিবর্তন ঘটে, যার প্রভাব মস্তিষ্কের ক্ষুধা নিয়ন্ত্রণকারী অংশেও পড়ে। ফলে জ্বরের সঙ্গে ক্লান্তি ও ক্ষুধামন্দা দেখা দিতে পারে।শরীরে ভাইরাস, ব্যাকটেরিয়া বা অন্য কোনো জীবাণুর সংক্রমণ হলে রোগ প্রতিরোধব্যবস্থা সাইটোকাইনের মতো রাসায়নিক বার্তাবাহক নিঃসরণ করে। এসব উপাদান সংক্রমণের বিরুদ্ধে লড়াই করার পাশাপাশি শরীরের তাপমাত্রা, ক্ষুধা ও শক্তি নিয়ন্ত্রণেও প্রভাব ফেলে। অনেক গবেষকের মতে, এই সময়ে ক্ষুধা কমে যাওয়া শরীরের একটি অভিযোজনমূলক প্রতিক্রিয়া। তবে এর অর্থ এই নয় যে জ্বর হলে একেবারেই না খেয়ে থাকতে হবে।জ্বরের সময় ভারী খাবার খেতে ইচ্ছা না করলে জোর করে বেশি খাওয়ার প্রয়োজন নেই। তবে দীর্ঘ সময় না খেয়ে থাকাও ঠিক নয়। অল্প অল্প করে সহজপাচ্য খাবার খাওয়া যেতে পারে। পাতলা খিচুড়ি, স্যুপ, ভাত-ডাল, দই, কলা, নরম ফল, টোস্ট বা বিস্কুটের মতো খাবার কয়েকবারে অল্প পরিমাণে খাওয়া অনেকের জন্য সহজ হতে পারে। এতে শরীর প্রয়োজনীয় কিছু পুষ্টি ও শক্তি পায়।জ্বরের সময় খাবারের পাশাপাশি পর্যাপ্ত তরল গ্রহণও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। শরীরের তাপমাত্রা বেড়ে যাওয়া ও অতিরিক্ত ঘামের কারণে পানিশূন্যতা দেখা দিতে পারে। তাই পানি, ওরাল স্যালাইন, ডাবের পানি, স্যুপসহ বিভিন্ন তরল গ্রহণ করা প্রয়োজন। বিশেষ করে শিশু ও বয়স্কদের ক্ষেত্রে পানিশূন্যতার ঝুঁকি বেশি হওয়ায় তাদের পর্যাপ্ত তরল দেওয়া হচ্ছে কি না, সেদিকে বাড়তি নজর রাখা জরুরি।সাধারণত জ্বর কমে গেলে ধীরে ধীরে ক্ষুধাও ফিরে আসে। তবে কয়েক দিন ধরে কিছুই খেতে না পারা, বারবার বমি হওয়া, পর্যাপ্ত পানি পান করতে না পারা বা দ্রুত দুর্বল হয়ে পড়ার মতো উপসর্গ দেখা দিলে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত। শিশু, গর্ভবতী নারী, বয়স্ক ব্যক্তি এবং দীর্ঘমেয়াদি রোগে আক্রান্তদের ক্ষেত্রে এমন পরিস্থিতি অবহেলা না করাই ভালো। তাই জ্বরের সময় ক্ষুধা কমে গেলে আতঙ্কিত না হয়ে শরীরের প্রয়োজন অনুযায়ী পর্যাপ্ত তরল ও সহজপাচ্য খাবার গ্রহণের চেষ্টা করা জরুরি।সূত্র: টিভি ৯

আগস্ট ১৬, ২০২৬

এক কাপ গ্রিন টি-তে মিলবে পারে যেসব স্বাস্থ্যগুণ

বিশ্বজুড়ে জনপ্রিয় পানীয়গুলোর মধ্যে চা অন্যতম। শুধু স্বাদ বা অভ্যাস নয়, চায়ের সঙ্গে জড়িয়ে আছে মানুষের আবেগ ও নানা স্মৃতি। এর মধ্যে গ্রিন টি স্বাস্থ্যসচেতন মানুষের কাছে দিন দিন জনপ্রিয় হয়ে উঠছে। স্বাদে কিছুটা তেতো হলেও এতে থাকা অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট, পলিফেনল ও ক্যাটেচিনের কারণে স্বাস্থ্যকর পানীয় হিসেবে এর কদর বেড়েছে। তবে গ্রিন টি কোনো জাদুকরী পানীয় নয়; সুষম খাবার ও স্বাস্থ্যকর জীবনযাপনের অংশ হিসেবেই এর সম্ভাব্য উপকার সবচেয়ে ভালোভাবে পাওয়া যায়।গ্রিন টি তৈরি করা হয় চা পাতাকে অতিরিক্ত অক্সিডাইজ না করে। ফলে এতে থাকা কিছু প্রাকৃতিক উপাদান তুলনামূলকভাবে অক্ষুণ্ন থাকে। বিশেষ করে ক্যাটেচিন নামের অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট গ্রিন টির অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ উপাদান। এসব উপাদান শরীরে অক্সিডেটিভ স্ট্রেসের ক্ষতিকর প্রভাব কমাতে ভূমিকা রাখতে পারে। পাশাপাশি গ্রিন টিতে থাকা ক্যাফেইন ও ক্যাটেচিন শরীরের শক্তি ব্যবহারের প্রক্রিয়ায় সামান্য প্রভাব ফেলতে পারে, ফলে ওজন নিয়ন্ত্রণে এটি কিছুটা সহায়ক হতে পারে। তবে শুধু গ্রিন টি পান করে দ্রুত ওজন কমানো সম্ভব নয়।গ্রিন টির সম্ভাব্য উপকারের মধ্যে হৃদ্‌স্বাস্থ্যও উল্লেখযোগ্য। এতে থাকা বিভিন্ন অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট হৃদ্‌স্বাস্থ্যের জন্য উপকারী হতে পারে এবং কিছু গবেষণায় গ্রিন টি গ্রহণের সঙ্গে কোলেস্টেরলের মাত্রার ইতিবাচক পরিবর্তনের সম্পর্ক পাওয়া গেছে। এছাড়া এর পলিফেনল ও ক্যাটেচিন নিয়ে ক্যান্সার প্রতিরোধে সম্ভাব্য ভূমিকা নিয়েও গবেষণা চলছে। তবে গ্রিন টি ক্যান্সার প্রতিরোধ বা চিকিৎসার নিশ্চয়তা দেয়—এমন দাবি করার মতো যথেষ্ট প্রমাণ নেই।মানসিক স্বাস্থ্যের ক্ষেত্রেও গ্রিন টি নিয়ে আগ্রহ রয়েছে। এতে থাকা এল-থিয়ানিন নামের অ্যামিনো অ্যাসিড শিথিলতা ও মনোযোগে ভূমিকা রাখতে পারে। কিছু গবেষণায় নিয়মিত গ্রিন টি পানকারীদের মানসিক সুস্থতার সঙ্গে ইতিবাচক সম্পর্ক দেখা গেলেও এটিকে বিষণ্নতার চিকিৎসা হিসেবে বিবেচনা করা ঠিক নয়। নারীদের হরমোনের ভারসাম্য বা মাসিকের সমস্যা নিয়ন্ত্রণেও গ্রিন টির সরাসরি কার্যকারিতা নিয়ে আরও নির্ভরযোগ্য গবেষণা প্রয়োজন। তাই এ ধরনের সমস্যায় চিকিৎসকের পরামর্শই গুরুত্বপূর্ণ।সবশেষে বলা যায়, পরিমিত গ্রিন টি স্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাসের একটি অংশ হতে পারে। এটি শরীরে তরল সরবরাহে ভূমিকা রাখে এবং অ্যান্টিঅক্সিডেন্টের একটি উৎস হিসেবে খাদ্যতালিকায় জায়গা করে নিতে পারে। তবে সুস্থ থাকতে শুধু একটি পানীয়ের ওপর নির্ভর না করে সুষম খাবার, নিয়মিত ব্যায়াম, পর্যাপ্ত ঘুম ও স্বাস্থ্যকর জীবনযাপনকে গুরুত্ব দিতে হবে। গ্রিন টি উপকারী হতে পারে, কিন্তু এটি কোনো রোগের বিকল্প চিকিৎসা নয়।/টি

আগস্ট ১৫, ২০২৬

অল্প বয়সে চুল পাকার পেছনে যেসব কারণ

২০ বা ৩০ বছর বয়সেই চুল সাদা হতে শুরু করলে অনেকেই উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েন। তবে অল্প বয়সে চুল পাকা মানেই গুরুতর কোনো রোগ হয়েছে, এমন নয়। বিশেষজ্ঞদের মতে, বংশগত বৈশিষ্ট্যের পাশাপাশি পুষ্টির ঘাটতি, দীর্ঘদিনের মানসিক চাপ, ধূমপান, কিছু স্বাস্থ্য সমস্যা ও জীবনযাপনের অভ্যাসও এর পেছনে ভূমিকা রাখতে পারে। তাই হঠাৎ চুল পাকতে শুরু করলে সম্ভাব্য কারণগুলো সম্পর্কে সচেতন হওয়া জরুরি।চুলের স্বাভাবিক রং মূলত মেলানিন নামের একটি রঞ্জক পদার্থের ওপর নির্ভর করে। চুলের গোড়ায় থাকা মেলানোসাইট কোষ মেলানিন তৈরি করে। বয়স বাড়ার সঙ্গে এসব কোষের কার্যক্ষমতা কমে গেলে মেলানিন উৎপাদনও কমে যায়, ফলে চুল ধূসর বা সাদা হতে শুরু করে। তবে অল্প বয়সে চুল পাকার অন্যতম বড় কারণ হলো জিনগত বৈশিষ্ট্য। পরিবারের বাবা-মা বা অন্য সদস্যদের কম বয়সে চুল পেকে থাকলে একই প্রবণতা পরবর্তী প্রজন্মের মধ্যেও দেখা যেতে পারে।এ ছাড়া শরীরে ভিটামিন বি-১২, আয়রন, কপার, ফলিক অ্যাসিড ও ভিটামিন ডির মতো গুরুত্বপূর্ণ পুষ্টি উপাদানের ঘাটতিও চুলের স্বাভাবিক রং ধরে রাখার ক্ষেত্রে প্রভাব ফেলতে পারে। দীর্ঘদিনের মানসিক চাপের সঙ্গেও অল্প বয়সে চুল পাকার সম্পর্ক রয়েছে বলে ধারণা করা হয়। পাশাপাশি ধূমপান চুলের স্বাস্থ্যের ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে এবং অল্প বয়সে চুল পাকার ঝুঁকি বাড়াতে পারে।কিছু স্বাস্থ্য সমস্যার সঙ্গেও চুল পাকার সম্পর্ক থাকতে পারে। এর মধ্যে থাইরয়েডের সমস্যা, ভিটিলিগো, কিছু অটোইমিউন রোগ এবং বিরল কিছু জিনগত রোগ রয়েছে। তবে একটি সাদা চুল তুলে ফেললে আশপাশের চুলও সাদা হয়ে যায়, এমন ধারণার বৈজ্ঞানিক ভিত্তি নেই। বরং বারবার চুল উপড়ে ফেললে চুলের গোড়া ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে এবং ওই স্থান থেকে ভবিষ্যতে চুল গজাতে সমস্যা হতে পারে।বয়সজনিত কারণে চুল পাকা পুরোপুরি ঠেকানো সম্ভব নয়। তবে পুষ্টির ঘাটতি বা কোনো স্বাস্থ্য সমস্যার কারণে চুল পেকে থাকলে সেই সমস্যার চিকিৎসায় উপকার পাওয়া যেতে পারে। স্বাস্থ্যকর খাবার খাওয়া, পর্যাপ্ত ঘুম, মানসিক চাপ নিয়ন্ত্রণ ও ধূমপান এড়িয়ে চলার পরামর্শ দেন বিশেষজ্ঞরা। খুব অল্প বয়সে হঠাৎ অনেক চুল সাদা হয়ে গেলে কিংবা এর সঙ্গে অতিরিক্ত চুল পড়া, ক্লান্তি, ওজনের পরিবর্তন বা অন্য কোনো শারীরিক উপসর্গ দেখা দিলে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত।সূত্র: হেল্থ

আগস্ট ১৩, ২০২৬
footer small logo

যোগাযোগ :

এটিএন বাংলা, ওয়াসা ভবন, ২য় তলা, ৯৮ কাজী নজরুল ইসলাম এভিনিউ, কাওরান বাজার, ঢাকা-১২১৫, বাংলাদেশ

ফোনঃ +88-02-55011931

সোশ্যাল মিডিয়া

youtube logotwitter logofacebook logo

Design & Developed by:

developed-company-logo