logo
youtube logotwitter logofacebook logo
/স্বাস্থ্য ও রূপচর্চা
পূজা আসছে, গহনায় সাজবে তো এবারের লুক? - image

পূজা আসছে, গহনায় সাজবে তো এবারের লুক?

09 অক্টোবর 2026, সকাল 11:46

শরতের সাদা মেঘ, শিউলি ফুলের সুবাস আর কাশফুলের দোলায় প্রকৃতিজুড়ে বইছে দুর্গাপূজার আগমনী সুর। দেবী দুর্গার আগমনকে ঘিরে বাঙালির মনে উৎসবের আনন্দ, আর সেই আনন্দকে পূর্ণতা দিতে চলছে সাজসজ্জার প্রস্তুতি। পূজার পোশাকের পাশাপাশি নারীদের সাজে বিশেষ গুরুত্ব পাচ্ছে গহনা। লাল-সাদা শাড়ি, জামদানি কিংবা তাঁতের পোশাকের সঙ্গে মানানসই গহনা বেছে নিতে ব্যস্ত ফ্যাশনপ্রেমীরা। এ বছর পূজার ফ্যাশনে ঐতিহ্যবাহী নকশার পাশাপাশি আধুনিক ফিউশন গহনার জনপ্রিয়তা বাড়ছে।শারদীয় দুর্গোৎসব উপলক্ষে দেশীয় ফ্যাশন ব্র্যান্ড ‘শঙ্খলতা’ নিয়ে এসেছে বিশেষ গহনার কালেকশন। ফ্যাশন ডিজাইনার এনামতারা সাকীর নকশায় তৈরি এসব গহনায় ফুটে উঠেছে মাটি, ধাতু, কাপড় ও প্রাকৃতিক উপাদানের নান্দনিক সমন্বয়। কালেকশনে রয়েছে হাতে আঁকা মাটির দুগ্গা লকেট, প্রাকৃতিক কড়ি, রঙিন কাচের পুঁতি, কাঠের পুঁতি, সুতি কাপড় এবং অক্সিডাইজড ও ব্রাস মেটালের কারুকাজ। লাল, হলুদ, সবুজ ও নীলসহ বিভিন্ন রঙের মাল্টি-লেয়ার মালা এবং দেবী দুর্গার অবয়বসংবলিত লকেট সুতি, জামদানি ও তাঁতের শাড়ির সঙ্গে সহজেই মানিয়ে যাবে। এনামতারা সাকীর মতে, পূজা কেবল উৎসব নয়, শেকড় ও সংস্কৃতি উদযাপনের উপলক্ষ। তাই গহনায় নিজস্বতা ও ঐতিহ্যের গল্প তুলে ধরতেই তাঁদের এই আয়োজন।পূজার গহনা কেনাকাটায় রাজধানীর বিভিন্ন বাজারেও দেখা যাচ্ছে উৎসবের আমেজ। তরুণ-তরুণীদের পছন্দের তালিকায় রয়েছে শাহবাগের আজিজ সুপার মার্কেট, যেখানে পাওয়া যাচ্ছে হ্যান্ডপেইন্টেড মাটির লকেট, কাঠের দুল, কাপড়ের গহনা ও ফিউশন জুয়েলারি। অন্যদিকে, ঐতিহ্যবাহী সাজের জন্য পুরান ঢাকা ও শাঁখারীবাজারের দোকানগুলোতে ভিড় করছেন ক্রেতারা। অক্সিডাইজড সিলভার, ব্রাস, সিটি গোল্ড, ঝুমকো ও কানপাশার মতো গহনার চাহিদা রয়েছে। বিশেষ করে অষ্টমীর অঞ্জলিতে লাল-পাড় সাদা শাড়ির সঙ্গে ভারী গহনা পরার প্রবণতা এ বাজারগুলোতে ক্রেতাদের আগ্রহ বাড়াচ্ছে।বাজেটের কথা মাথায় রেখেও ক্রেতারা বেছে নিতে পারছেন পছন্দের গহনা। শঙ্খলতার পূজার কালেকশনের দাম ৫০০ থেকে ১ হাজার টাকার মধ্যে। আজিজ সুপার মার্কেটে ৩০০ থেকে ২ হাজার টাকায় মিলছে বিভিন্ন নকশার গহনা। পুরান ঢাকা ও শাঁখারীবাজারে মেটাল, ব্রাস ও অক্সিডাইজড গহনার দাম ৪০০ থেকে ২ হাজার ৫০০ টাকা পর্যন্ত; ঐতিহ্যবাহী শাঁখা পাওয়া যাচ্ছে ৪০০ থেকে ৪ হাজার টাকায়। এ ছাড়া নিউ মার্কেট ও গাউছিয়ায় ১৫০ থেকে ৮০০ টাকার মধ্যে সাধারণ অক্সিডাইজড ও ইমিটেশন গহনা কেনা সম্ভব। অনলাইন বুটিকগুলোতে হ্যান্ডক্রাফটেড বিশেষ গহনার সেটের দাম ১ হাজার ৫০০ থেকে ৩ হাজার ৫০০ টাকা পর্যন্ত।পূজার পাঁচ দিন পোশাক ও গহনার সমন্বয়ে ভিন্ন ভিন্ন সাজে নিজেকে তুলে ধরার সুযোগ রয়েছে। ষষ্ঠী ও সপ্তমীতে হালকা সুতি শাড়ির সঙ্গে কড়ি, কাঠ কিংবা কাপড়ের তৈরি রঙিন মালা মানানসই। অষ্টমীর অঞ্জলিতে লাল-পাড় সাদা শাড়ি বা জামদানির সঙ্গে ভারী অক্সিডাইজড লকেট ও ব্রাসের হার এনে দিতে পারে আভিজাত্যের ছোঁয়া। নবমী ও দশমীতে কাতান কিংবা সিল্কের সঙ্গে অ্যান্টিক ও মেটালের স্টেটমেন্ট জুয়েলারি সাজে যোগ করবে ভিন্ন মাত্রা। সব মিলিয়ে, এবারের দুর্গাপূজার গহনার ট্রেন্ডে ঐতিহ্য, সৃজনশীলতা ও আধুনিকতার মেলবন্ধন যেমন গুরুত্ব পাচ্ছে, তেমনি সাধ্যের মধ্যে পছন্দের সাজ বেছে নেওয়ার সুযোগও তৈরি হয়েছে।

অক্টোবর ০৯, ২০২৬

লবণ কম খাওয়ার অভ্যাস গড়বেন যেভাবে

শরীরের স্বাভাবিক কার্যক্রমের জন্য প্রতিদিন অল্প পরিমাণ সোডিয়াম প্রয়োজন হলেও অতিরিক্ত সোডিয়াম স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর হতে পারে। বেশি সোডিয়াম রক্তচাপ বাড়িয়ে হৃদযন্ত্র ও রক্তনালির ওপর চাপ সৃষ্টি করে। এর ফলে হৃদ্‌রোগ ও স্ট্রোকের ঝুঁকিও বাড়তে পারে। তাই প্রতিদিনের খাবারে লবণের পরিমাণ নিয়ন্ত্রণ করা জরুরি।রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে কম সোডিয়ামযুক্ত খাবারের পরিচিত পদ্ধতিগুলোর একটি হলো ড্যাশ খাদ্যপদ্ধতি। এতে ফল, সবজি ও পূর্ণ শস্য বেশি এবং বাদাম ও কম চর্বিযুক্ত দুধজাত খাবার পরিমিত রাখা হয়। অন্যদিকে লাল ও প্রক্রিয়াজাত মাংস কম খাওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়। তবে শুধু এই খাদ্যপদ্ধতি অনুসরণ নয়, দৈনন্দিন খাবারে কিছু সহজ পরিবর্তন এনেও সোডিয়াম গ্রহণ কমানো সম্ভব।প্রথমত, কৌটাজাত, প্রক্রিয়াজাত ও হিমায়িত খাবার কমিয়ে তাজা বা কম প্রক্রিয়াজাত খাবার বেছে নেওয়া যেতে পারে। ফল, সবজি, পূর্ণ শস্য, বাদাম ও ডাল বেশি খেলে বাড়তি লবণের ওপর নির্ভরতা কমে। পাশাপাশি প্যাকেটজাত খাবার কেনার সময় পুষ্টিগুণের তথ্য দেখে প্রতি পরিবেশনে সোডিয়ামের পরিমাণ যাচাই করে কম সোডিয়ামযুক্ত পণ্য বেছে নেওয়া ভালো। পিৎজা, সাদা পাউরুটি, প্রক্রিয়াজাত পনির, সসেজ, হ্যাম, বিভিন্ন সস ও ময়দার রুটির মতো খাবারেও উল্লেখযোগ্য পরিমাণ সোডিয়াম থাকতে পারে।বাইরে খাওয়ার সময়ও বাড়তি সতর্কতা প্রয়োজন। হোটেল, রেস্তোরাঁ ও ফাস্টফুডের কিছু খাবারে অত্যধিক সোডিয়াম থাকতে পারে। তাই বড় পরিবেশন এড়িয়ে খাবার ভাগ করে খাওয়া, কম সোডিয়ামযুক্ত খাবার বেছে নেওয়া এবং সম্ভব হলে খাবারে কম লবণ দেওয়ার অনুরোধ করা যেতে পারে। একই সঙ্গে লবণ একবারে বাদ না দিয়ে ধীরে ধীরে পরিমাণ কমানো উচিত। এতে জিহ্বা কম লবণের স্বাদে অভ্যস্ত হয়ে উঠবে এবং সময়ের সঙ্গে অতিরিক্ত লবণের প্রয়োজনও কমে আসবে।বিশেষজ্ঞদের মতে, শরীরের জন্য সোডিয়াম প্রয়োজন হলেও অতিরিক্ত সোডিয়াম এড়িয়ে চলা রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণ এবং হৃদযন্ত্র ও রক্তনালির সুস্থতার জন্য গুরুত্বপূর্ণ। তাই একসঙ্গে বড় পরিবর্তন না এনে প্রতিদিনের খাবারে ছোট ছোট পরিবর্তন আনা যেতে পারে। স্বাস্থ্যকর খাবারকে প্রাধান্য দিয়ে পরিমিত লবণ ব্যবহার এবং ধীরে ধীরে কম লবণের স্বাদে অভ্যস্ত হওয়ার অভ্যাস দীর্ঘমেয়াদে স্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাস গড়ে তুলতে সহায়ক হতে পারে। সূত্র: হার্ভার্ডটি/

অক্টোবর ০৭, ২০২৬

হাসপাতাল ও কমিউনিটি ফার্মেসিতে অবদানের স্বীকৃতি পেলেন গ্রাজুয়েট ফার্মাসিস্টরা

বিশ্ব ফার্মাসিস্ট দিবস-২০২৬ উপলক্ষে বাংলাদেশের হাসপাতাল, ক্লিনিক্যাল ও কমিউনিটি ফার্মেসি খাতে গ্রাজুয়েট ফার্মাসিস্টদের দীর্ঘদিনের পেশাগত অবদান ও রোগীসেবায় ভূমিকার স্বীকৃতি দিতে ‘রিকগনিশন প্রোগ্রাম’ আয়োজন করেছে SCALE UP।‘রিকগনিশন ফর ডেডিকেটেড কনট্রিবিউশন টু হসপিটাল, ক্লিনিক্যাল অ্যান্ড কমিউনিটি ফার্মেসি’ শীর্ষক এ অনুষ্ঠান শনিবার রাজধানীর ধানমন্ডির গ্র্যান্ড লাউঞ্জ রেস্টুরেন্টে অনুষ্ঠিত হয়। SCALE UP-এর ফ্যাসিলিটেটর খাদিজাতুল কুবরা স্মৃতির উপস্থাপনায় আয়োজিত অনুষ্ঠানে বিভিন্ন হাসপাতাল, ক্লিনিক ও স্বাস্থ্যসেবা প্রতিষ্ঠানে কর্মরত অভিজ্ঞ ফার্মাসিস্টরা অংশ নেন।পবিত্র কোরআন তিলাওয়াতের মধ্য দিয়ে অনুষ্ঠান শুরু হয়। স্বাগত বক্তব্য দেন SCALE UP-এর ফ্যাসিলিটেটর ও ইবনে সিনা হাসপাতাল, ধানমন্ডির হেড অব ফার্মেসি মো. রবিউল ইসলাম।অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন বাংলাদেশ ফার্মেসি কাউন্সিলের পরিচালক মো. আসিফ হাসান এবং ঔষধ প্রশাসন অধিদপ্তরের ওষুধ তত্ত্বাবধায়ক নাহিন আল ইসলাম। এছাড়া উপস্থিত ছিলেন ভেন্যু ফাউন্ডেশনের সিনিয়র প্রোগ্রাম ম্যানেজার মোহাম্মদ মিরাজুল ইসলাম সম্রাট এবং এস্টার ফার্মেসি বাংলাদেশের ভাইস প্রেসিডেন্ট ওবায়দুল ইসলাম রাহাত। SCALE UP-এর কার্যক্রম ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা তুলে ধরেন প্রতিষ্ঠানটির লিড ফ্যাসিলিটেটর এবং এভারকেয়ার হাসপাতালের সাবেক ফার্মেসি ম্যানেজার মোছা. ফারহানা আক্তার।আলোচনায় বক্তারা স্বাস্থ্যসেবায় গ্রাজুয়েট ফার্মাসিস্টদের আরও কার্যকরভাবে সম্পৃক্ত করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন। রোগীকেন্দ্রিক চিকিৎসাসেবা, ওষুধের নিরাপত্তা, প্রেসক্রিপশন পর্যালোচনা, ওষুধের সমন্বয়, অ্যান্টিমাইক্রোবিয়াল স্টিউয়ার্ডশিপ, ওষুধের পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া পর্যবেক্ষণ, ওষুধের যৌক্তিক ব্যবহার এবং রোগী কাউন্সেলিংয়ে ফার্মাসিস্টদের ভূমিকা আরও বাড়ানোর প্রয়োজনীয়তার কথা তুলে ধরা হয়।অনুষ্ঠানে দীর্ঘদিন ধরে হাসপাতাল, ক্লিনিক্যাল ও কমিউনিটি ফার্মেসিতে কর্মরত এবং ফার্মেসি পেশা ও রোগীসেবায় গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখা ফার্মাসিস্টদের সার্টিফিকেট ও ক্রেস্ট প্রদান করে সম্মাননা জানানো হয়। SCALE UP-এর পক্ষ থেকে জানানো হয়, ফার্মাসিস্টদের শিক্ষা, দক্ষতা উন্নয়ন, ক্যারিয়ার ডেভেলপমেন্ট ও পেশাগত সক্ষমতা বৃদ্ধির পাশাপাশি রোগীকেন্দ্রিক ফার্মেসি সেবা বিকাশে তাদের কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে। 

অক্টোবর ০৭, ২০২৬

জ্বর হলে যেসব বিষয়ে সতর্ক থাকা জরুরি

ঋতু পরিবর্তনের সময় জ্বরে আক্রান্ত হওয়া খুবই সাধারণ। অনেকেই জ্বরকে আলাদা কোনো রোগ মনে করলেও এটি মূলত শরীরে কোনো সংক্রমণ বা সমস্যার বিরুদ্ধে দেহের স্বাভাবিক প্রতিক্রিয়া। বেশিরভাগ ক্ষেত্রে পর্যাপ্ত বিশ্রাম, পানি পান ও সঠিক পরিচর্যায় জ্বর ভালো হয়ে যায়। তবে এ সময় কিছু ভুল অভ্যাস সুস্থ হতে দেরি করাতে পারে। তাই জ্বর হলে খাবার, পানি পান ও দৈনন্দিন পরিচর্যার বিষয়ে সচেতন থাকা জরুরি।জ্বরের সময় শরীরের তাপমাত্রা বাড়ার পাশাপাশি ঘামের মাধ্যমে শরীর থেকে পানি বেরিয়ে যায়। এতে পানিশূন্যতা দেখা দিতে পারে এবং মাথা ঘোরা, মাথাব্যথা ও দুর্বলতার মতো সমস্যা বাড়তে পারে। এ কারণে জ্বর হলে অল্প অল্প করে নিয়মিত পানি পান করা উচিত। পাশাপাশি খাবার স্যালাইন, ডাবের পানি, পরিষ্কার হালকা স্যুপ বা তাজা ফলের রসও গ্রহণ করা যেতে পারে। এ সময় অতিরিক্ত তেল-মসলাযুক্ত, ভাজাপোড়া ও ভারী খাবার এড়িয়ে ভাত, খিচুড়ি, ডাল, জাউ বা পাউরুটির মতো সহজপাচ্য খাবার খাওয়া ভালো।জ্বরের সময় ঠান্ডা বা বরফঠান্ডা পানিতে গোসল করাও ঠিক নয়। অতিরিক্ত ঠান্ডা পানি শরীরে কাঁপুনি তৈরি করতে পারে, যা শরীরের ভেতরের তাপমাত্রা আরও বাড়িয়ে দিতে পারে। তাই গোসলের প্রয়োজন হলে হালকা কুসুম গরম পানি ব্যবহার করা ভালো। চাইলে কুসুম গরম পানিতে কাপড় ভিজিয়ে শরীর মুছেও নেওয়া যায়। একই সঙ্গে পর্যাপ্ত বিশ্রাম নেওয়া জরুরি, কারণ শরীর তখন সংক্রমণের বিরুদ্ধে লড়াই করে।শুধু ওষুধ খেলেই দ্রুত জ্বর সেরে যাবে—এমন ধারণাও ঠিক নয়। জ্বরের সময় শরীরকে বাড়তি চাপ না দিয়ে পর্যাপ্ত বিশ্রাম, প্রয়োজনীয় পানি ও পুষ্টিকর খাবার নিশ্চিত করতে হবে। পাশাপাশি পরিচ্ছন্নতার দিকেও নজর রাখা প্রয়োজন। সঠিক পরিচর্যা শরীরকে স্বাভাবিকভাবে সুস্থ হওয়ার সুযোগ দেয় এবং জ্বরের সময় বাড়তি জটিলতার ঝুঁকি কমাতে সহায়তা করতে পারে।হালকা জ্বরের ক্ষেত্রে অনেক সময় বাড়িতে বিশ্রাম ও প্রয়োজনীয় পরিচর্যাই যথেষ্ট হতে পারে। তবে দীর্ঘসময় ধরে বেশি জ্বর থাকা, তীব্র শরীরব্যথা, শ্বাসকষ্ট বা অন্য কোনো গুরুতর উপসর্গ দেখা দিলে দেরি না করে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া জরুরি। বিশেষ করে জ্বরের সঙ্গে গুরুতর কোনো লক্ষণ দেখা দিলে নিজে থেকে চিকিৎসা না করে দ্রুত চিকিৎসকের শরণাপন্ন হওয়া উচিত। তাই জ্বর হলে আতঙ্কিত না হয়ে পর্যাপ্ত পানি, হালকা খাবার, বিশ্রাম ও সঠিক পরিচর্যার দিকে নজর দেওয়াই গুরুত্বপূর্ণ।টি/

অক্টোবর ০৪, ২০২৬

নারী-পুরুষে ডায়াবেটিসের প্রভাব ভিন্ন, সতর্ক থাকতে হবে যেসব বিষয়ে

ডায়াবেটিস বর্তমানে একটি পরিচিত স্বাস্থ্য সমস্যা। অনিয়মিত জীবনযাপন, অস্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাস ও দীর্ঘস্থায়ী মানসিক চাপসহ নানা কারণে রক্তে শর্করার মাত্রা বেড়ে যেতে পারে। তবে নারী ও পুরুষের শরীরে ডায়াবেটিসের প্রভাব সব সময় এক রকম হয় না। হরমোন, শারীরিক গঠন, জিনগত বৈশিষ্ট্য এবং হৃদরোগের ঝুঁকির পার্থক্যের কারণে রোগটির প্রভাব ও জটিলতাতেও ভিন্নতা দেখা দিতে পারে।পুরুষদের ক্ষেত্রে ডায়াবেটিসের কারণে হৃদযন্ত্র ও কিডনিতে বিভিন্ন ধরনের জটিলতার ঝুঁকি বাড়তে পারে। বিশেষ করে উচ্চ রক্তচাপ, কোলেস্টেরলের সমস্যা ও ইনসুলিন রেজিস্ট্যান্স থাকলে ঝুঁকি আরও বাড়তে পারে। তাই শুধু রক্তে শর্করার মাত্রা পরীক্ষা করাই যথেষ্ট নয়। চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী নিয়মিত রক্তচাপ ও কোলেস্টেরল পরিমাপের পাশাপাশি কিডনির কার্যকারিতা এবং প্রস্রাবে অ্যালবুমিনের মতো পরীক্ষাও করা প্রয়োজন।নারীদের ক্ষেত্রে ডায়াবেটিসের সঙ্গে মানসিক স্বাস্থ্যেরও গুরুত্বপূর্ণ সম্পর্ক রয়েছে। দীর্ঘদিন রোগ নিয়ন্ত্রণের চাপ থেকে উদ্বেগ, মানসিক ক্লান্তি কিংবা বিষণ্নতা তৈরি হতে পারে। আবার অতিরিক্ত মানসিক চাপের কারণে নিয়ম মেনে খাবার গ্রহণ, ব্যায়াম বা ওষুধ সেবন করাও কঠিন হয়ে পড়তে পারে। একই সঙ্গে বয়ঃসন্ধি, ঋতুচক্র, গর্ভাবস্থা ও মেনোপজের মতো হরমোনগত পরিবর্তন রক্তে গ্লুকোজের মাত্রা ও ইনসুলিন রেজিস্ট্যান্সে প্রভাব ফেলতে পারে।বয়স বাড়ার সঙ্গে পুরুষ ও নারী উভয়ের শরীরেই হরমোন ও বিপাকীয় পরিবর্তন দেখা দিতে পারে, যা ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণ এবং হৃদযন্ত্রের স্বাস্থ্যে প্রভাব ফেলতে পারে। তাই ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণে শুধু রক্তে শর্করার মাত্রার দিকে নজর দিলেই হবে না। ওজন, রক্তচাপ, কোলেস্টেরল, কিডনি, চোখ ও পায়ের স্বাস্থ্যের বিষয়েও নিয়মিত খেয়াল রাখা জরুরি। চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী গ্লুকোজ ও HbA1c-এর মাত্রাও পর্যবেক্ষণে রাখতে হবে।ডায়াবেটিসে কিছু লক্ষণ দেখা দিলে তা অবহেলা না করে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া প্রয়োজন। বুকে ব্যথা বা চাপ, শ্বাসকষ্ট, হঠাৎ ঝাপসা দেখা বা দৃষ্টির পরিবর্তন, শরীরের কোনো ক্ষত শুকাতে দেরি হওয়া এবং শরীরের কোনো অংশে অস্বাভাবিক ফোলা দেখা দিলে দ্রুত চিকিৎসা নেওয়া উচিত। নিয়মিত স্বাস্থ্য পরীক্ষা, সুষম খাদ্যাভ্যাস, শারীরিক পরিশ্রম এবং চিকিৎসকের পরামর্শ মেনে চলার মাধ্যমে ডায়াবেটিসজনিত জটিলতার ঝুঁকি কমানোর চেষ্টা করা যায়।/টি

অক্টোবর ০৩, ২০২৬

হার্ট সুস্থ রাখতে শুধু খাবার নয়, নজর দিন অভ্যাসেও

হৃদ্‌যন্ত্রের যত্ন বলতে অনেকেই শুধু তেল-চর্বি কম খাওয়া কিংবা নিয়মিত হাঁটার কথা ভাবেন। তবে হৃদ্‌স্বাস্থ্য ভালো রাখতে আরও বেশ কিছু বিষয় গুরুত্বপূর্ণ। দিনের বড় সময় বসে থাকা, খাবারে অতিরিক্ত লবণ ও চিনি, ধূমপান, অনিয়মিত ঘুম, দীর্ঘস্থায়ী মানসিক চাপ এবং নিয়মিত রক্তচাপ ও কোলেস্টেরল পরীক্ষা না করার মতো অভ্যাস দীর্ঘমেয়াদে হৃদ্‌রোগের ঝুঁকি বাড়াতে পারে। আমেরিকান হার্ট অ্যাসোসিয়েশনও হৃদ্‌রোগ প্রতিরোধে খাদ্যাভ্যাস, শারীরিক সক্রিয়তা, ঘুম, ওজন, রক্তচাপ, কোলেস্টেরল, রক্তে শর্করা ও তামাক ব্যবহারের ওপর গুরুত্ব দেয়।দিনের বেশির ভাগ সময় বসে থাকাও হৃদ্‌স্বাস্থ্যের জন্য ভালো নয়। অফিসে দীর্ঘ সময় বসে কাজ করা, বাসায় ফিরে টেলিভিশন দেখা কিংবা মোবাইল ব্যবহারের কারণে অনেকের দিনের বড় একটি সময় শারীরিকভাবে নিষ্ক্রিয় কাটে। প্রতিদিন জিমে যাওয়ার সুযোগ না থাকলেও একটানা বসে থাকার সময় কমানো জরুরি। আমেরিকান হার্ট অ্যাসোসিয়েশন প্রাপ্তবয়স্কদের সপ্তাহে অন্তত ১৫০ মিনিট মাঝারি মাত্রার শারীরিক কার্যক্রমের পরামর্শ দেয়। পাশাপাশি মাঝেমধ্যে উঠে হাঁটা, সিঁড়ি ব্যবহার ও হালকা স্ট্রেচিংয়ের অভ্যাস করা যেতে পারে।খাবারের ক্ষেত্রেও সতর্ক থাকা প্রয়োজন। অতিরিক্ত লবণ রক্তচাপ বাড়াতে পারে, আর উচ্চ রক্তচাপ হৃদ্‌রোগ ও স্ট্রোকের গুরুত্বপূর্ণ ঝুঁকি। শুধু রান্নায় ব্যবহৃত লবণ নয়, নুডলস, চিপস, সস, প্রক্রিয়াজাত মাংসসহ বিভিন্ন প্যাকেটজাত খাবারেও বেশি সোডিয়াম থাকতে পারে। একইভাবে অতিরিক্ত যোগ করা চিনি, কোমল পানীয় ও মিষ্টিজাতীয় খাবার কমানো দরকার। ২০২৬ সালের আমেরিকান হার্ট অ্যাসোসিয়েশনের খাদ্য নির্দেশনায় যোগ করা চিনি, পরিশোধিত শস্য ও অতি-প্রক্রিয়াজাত খাবার কমিয়ে বেশি পুষ্টিকর ও কম প্রক্রিয়াজাত খাবার বেছে নেওয়ার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।ধূমপান, ঘুমের অনিয়ম ও দীর্ঘস্থায়ী মানসিক চাপও অবহেলা করা উচিত নয়। ধূমপান এবং পরোক্ষ ধূমপান হৃদ্‌স্বাস্থ্যের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ। পাশাপাশি প্রাপ্তবয়স্কদের সাধারণত প্রতি রাতে ৭ থেকে ৯ ঘণ্টা ঘুমের লক্ষ্য রাখার পরামর্শ দেওয়া হয়। দীর্ঘস্থায়ী মানসিক চাপও রক্তচাপ বাড়াতে পারে এবং অতিরিক্ত খাওয়া, ধূমপান বা শারীরিক নিষ্ক্রিয়তার মতো অস্বাস্থ্যকর অভ্যাসকে উৎসাহিত করতে পারে। তাই নিয়মিত হাঁটা বা ব্যায়াম, শ্বাস-প্রশ্বাসের অনুশীলন এবং পরিবার-বন্ধুদের সঙ্গে সময় কাটানোর মতো স্বাস্থ্যকর উপায় কাজে লাগানো যেতে পারে।হৃদ্‌স্বাস্থ্য রক্ষায় নিয়মিত স্বাস্থ্য পরীক্ষাও গুরুত্বপূর্ণ। উচ্চ রক্তচাপ ও উচ্চ কোলেস্টেরল অনেক সময় কোনো স্পষ্ট লক্ষণ ছাড়াই থাকতে পারে। তাই বয়স ও ব্যক্তিগত ঝুঁকি অনুযায়ী রক্তচাপ, কোলেস্টেরল ও রক্তে শর্করা পরীক্ষা করা প্রয়োজন। শুধু একটি খাবার বা একটি অভ্যাস বদলালেই হৃদ্‌স্বাস্থ্য নিশ্চিত হয় না; বরং স্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাস, নিয়মিত শারীরিক সক্রিয়তা, পর্যাপ্ত ঘুম, স্বাস্থ্যকর ওজন, তামাক থেকে দূরে থাকা এবং প্রয়োজনীয় স্বাস্থ্য পরীক্ষা—সবগুলো বিষয় একসঙ্গে বিবেচনা করা জরুরি।সূত্র: হেল্থটি/

অক্টোবর ০১, ২০২৬

ঘুমের রুটিন এলোমেলো হলে বাড়তে পারে স্বাস্থ্যঝুঁকি

ভালো থাকতে পর্যাপ্ত ঘুমের প্রয়োজনীয়তা নিয়ে চিকিৎসক ও গবেষকেরা দীর্ঘদিন ধরেই গুরুত্ব দিয়ে আসছেন। তবে নতুন এক গবেষণায় উঠে এসেছে, শুধু কত ঘণ্টা ঘুম হচ্ছে তা নয়, প্রতিদিন ঘুমানো ও জেগে ওঠার সময়ের নিয়মিততাও স্বাস্থ্যের জন্য গুরুত্বপূর্ণ। অর্থাৎ প্রতিদিন প্রায় একই সময়ে ঘুমানো ও ওঠার অভ্যাস ঘুমের মানের পাশাপাশি সামগ্রিক স্বাস্থ্যের ওপরও প্রভাব ফেলতে পারে।যুক্তরাজ্যে ৬০ হাজার ৯৭৭ জন প্রাপ্তবয়স্কের ওপর পরিচালিত ওই গবেষণায় প্রায় এক কোটি ঘণ্টার ঘুমের তথ্য বিশ্লেষণ করা হয়েছে। গবেষণায় দেখা যায়, যারা তুলনামূলকভাবে নিয়ম মেনে ঘুমাতেন, তাদের যেকোনো কারণে মৃত্যুর ঝুঁকি ২০ থেকে ৪৮ শতাংশ কম ছিল। এমনকি মৃত্যুঝুঁকি বোঝার ক্ষেত্রে মোট কত ঘণ্টা ঘুম হয়েছে, তার চেয়েও ঘুমের নিয়মিততা বেশি গুরুত্বপূর্ণ বলে গবেষণায় উঠে এসেছে। তবে এটি পর্যবেক্ষণভিত্তিক গবেষণা হওয়ায় ঘুমের নিয়মিততার সঙ্গে মৃত্যুঝুঁকি কমার সরাসরি কারণ-ফল সম্পর্ক প্রমাণ করা যায়নি।বিশেষজ্ঞদের মতে, এর সঙ্গে শরীরের নিজস্ব ২৪ ঘণ্টার জৈবিক ঘড়ির সম্পর্ক থাকতে পারে। ঘুম ও জাগরণের পাশাপাশি রক্তচাপ, হরমোন নিঃসরণ এবং রোগ প্রতিরোধ ব্যবস্থাসহ শরীরের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ কার্যক্রম এই ছন্দের সঙ্গে যুক্ত। প্রতিদিন ঘুমানো ও জেগে ওঠার সময় বারবার বদলে গেলে শরীরের স্বাভাবিক ছন্দ ব্যাহত হতে পারে। তাই নিয়মিত ঘুমের অভ্যাস শরীরের জৈবিক ছন্দ বজায় রাখতে সহায়ক হতে পারে।ঘুমের রুটিন ঠিক রাখতে প্রতিদিন নির্দিষ্ট সময়ে ঘুম থেকে ওঠার অভ্যাস করা যেতে পারে। ঘুমানোর আগের অন্তত এক ঘণ্টা মোবাইল, কম্পিউটার ও উজ্জ্বল আলো এড়িয়ে চলার পরামর্শ দেওয়া হয়। ছুটির দিনেও স্বাভাবিক সময়ের তুলনায় খুব বেশি দেরি করে না ওঠা ভালো। পাশাপাশি সকালে কিছু সময় প্রাকৃতিক আলোয় কাটানো ঘুম ও জাগরণের স্বাভাবিক ছন্দ ঠিক রাখতে সাহায্য করতে পারে। একদিন রুটিনে ব্যতিক্রম ঘটলে অবশ্য অতিরিক্ত দুশ্চিন্তারও প্রয়োজন নেই; লক্ষ্য হওয়া উচিত যতটা সম্ভব নিয়মিত থাকা।ভালো ঘুমের জন্য তাই শুধু আট ঘণ্টা ঘুমানোর লক্ষ্য রাখলেই হবে না, কখন ঘুমাচ্ছেন এবং কখন ঘুম থেকে উঠছেন, সেদিকেও নজর দেওয়া প্রয়োজন। প্রতিদিন প্রায় একই সময়ে ঘুমানো ও ওঠা এবং সকালে প্রাকৃতিক আলোয় থাকার মতো ছোট ছোট অভ্যাস ধীরে ধীরে শরীরের স্বাভাবিক ছন্দ বজায় রাখতে সাহায্য করতে পারে। ফলে পর্যাপ্ত ঘুমের পাশাপাশি নিয়মিত ঘুমের রুটিনও সুস্থ জীবনযাপনের গুরুত্বপূর্ণ অংশ হতে পারে।টি/

সেপ্টেম্বর ৩০, ২০২৬

চুল পাতলা হওয়ার কারণ কি ভিটামিনের ঘাটতি?

চিরুনিতে আগের চেয়ে বেশি চুল ওঠা, গোসলের সময় একগুচ্ছ চুল হাতে চলে আসা কিংবা ধীরে ধীরে চুল পাতলা হয়ে যাওয়ার সমস্যায় অনেকেই প্রথমে শ্যাম্পু, তেল বা হেয়ার সিরাম পরিবর্তনের কথা ভাবেন। তবে চুল পড়ার কারণ সবসময় বাইরের কোনো পণ্য নয়। শরীরে প্রয়োজনীয় পুষ্টির ঘাটতিও চুল পড়া বাড়িয়ে দিতে পারে। আমেরিকান একাডেমি অব ডার্মাটোলজি (AAD) বলছে, খাবারে পর্যাপ্ত আয়রন, জিঙ্ক, প্রোটিন বা বায়োটিনের ঘাটতি থাকলে লক্ষণীয় চুল পড়তে পারে।চুলের স্বাভাবিক বৃদ্ধি ও স্বাস্থ্য ধরে রাখতে আয়রন, জিঙ্ক, প্রোটিনসহ বিভিন্ন ভিটামিন ও খনিজের প্রয়োজন হয়। বিশেষ করে আয়রনের ঘাটতি কিছু মানুষের চুল পড়ার সঙ্গে সম্পর্কিত হতে পারে। অতিরিক্ত মাসিক রক্তপাত, খাবারে পর্যাপ্ত আয়রনের অভাব বা শরীরে আয়রন শোষণে সমস্যা থাকলে এ ঘাটতির ঝুঁকি বাড়ে। প্রয়োজন হলে চিকিৎসক ফ্যারিটিন ও অন্যান্য রক্ত পরীক্ষা করে শরীরে আয়রনের মাত্রা সম্পর্কে ধারণা নিতে পারেন। মাছ, মাংস, ডিম, ডাল ও শাকসবজি থেকে আয়রন পাওয়া যায়।ভিটামিন ডি, জিঙ্ক ও ভিটামিন বি১২-এর ঘাটতিও চুলের স্বাস্থ্যের সঙ্গে সম্পর্কিত হতে পারে। কিছু গবেষণায় ভিটামিন ডি-এর ঘাটতির সঙ্গে বিভিন্ন ধরনের চুল পড়ার সম্পর্ক পাওয়া গেলেও সব গবেষণার ফল এক নয়। একইভাবে জিঙ্ক চুলের ফলিকলের স্বাভাবিক কার্যক্রমে ভূমিকা রাখে। অন্যদিকে বায়োটিনের ঘাটতি চুল পাতলা হওয়ার কারণ হতে পারে, তবে প্রকৃত বায়োটিন ঘাটতি তুলনামূলকভাবে বিরল। তাই শুধু চুল পড়ছে বলে নিজে থেকে এসব ভিটামিনের সাপ্লিমেন্ট শুরু করা ঠিক নয়।শুধু ভিটামিনের ঘাটতিই চুল পড়ার কারণ নয়। বংশগত চুল পড়া, হরমোনের পরিবর্তন, থাইরয়েডের সমস্যা, দীর্ঘস্থায়ী মানসিক চাপ, দ্রুত ওজন কমে যাওয়া, অসুস্থতার পর শরীরের পরিবর্তন, সন্তান জন্মের পরের সময় এবং কিছু ওষুধের প্রভাবেও চুল পড়তে পারে। দীর্ঘদিনের মানসিক চাপের পর একসঙ্গে বেশি চুল ঝরে পড়ার ঘটনাকে টেলোজেন এফ্লুভিয়াম বলা হয়। এ কারণে চুল পড়ার পাশাপাশি ঘুম, মানসিক চাপ, খাদ্যাভ্যাস ও সামগ্রিক জীবনযাপনের দিকেও নজর দেওয়া প্রয়োজন।চুল পড়া কয়েক সপ্তাহ ধরে চলতে থাকলে, ক্রমশ বেড়ে গেলে বা মাথার নির্দিষ্ট অংশ ফাঁকা হতে শুরু করলে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত। প্রয়োজন অনুযায়ী চিকিৎসক সিবিসি, ফ্যারিটিন, ভিটামিন বি১২ বা ভিটামিন ডি-এর মতো পরীক্ষা দিতে পারেন। চুল পড়া শুরু হলেই নিজের ইচ্ছায় হেয়ার ভিটামিন বা সাপ্লিমেন্ট খাওয়া নিরাপদ নয়; অতিরিক্ত কিছু পুষ্টি গ্রহণও শরীরের ক্ষতি করতে পারে এবং উল্টো চুল পড়া বাড়াতে পারে। তাই ডিম, মাছ, মাংস, দুধ, ডাল, ছোলা, শাকসবজি, বাদাম ও বীজসহ সুষম খাবার খাওয়ার পাশাপাশি দীর্ঘস্থায়ী চুল পড়ার ক্ষেত্রে বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নেওয়াই নিরাপদ।সূত্র: এনডিটিভিটি/

সেপ্টেম্বর ২৯, ২০২৬

সুস্থ থাকতে প্রতিদিনের জীবনে গড়ে তুলুন ৫ সহজ অভ্যাস

সুস্থ থাকতে সব সময় কঠিন নিয়ম বা দ্রুত ফল পাওয়ার পদ্ধতির প্রয়োজন নেই। বরং প্রতিদিনের জীবনযাত্রায় কিছু সহজ ও টেকসই অভ্যাস যুক্ত করলেই শরীর ও মন ভালো রাখা সম্ভব। বিশেষজ্ঞদের মতে, নিজের জন্য সময় রাখা, পর্যাপ্ত ঘুম, পুষ্টিকর খাবার, নিয়মিত নড়াচড়া এবং ক্ষতিকর উপাদানের সংস্পর্শ কমানোর মতো অভ্যাস দীর্ঘমেয়াদে স্বাস্থ্যের জন্য গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।প্রথমত, প্রতিদিন কিছুটা সময় নিজের জন্য রাখা জরুরি। হাঁটার সময় চারপাশের প্রকৃতি, গাছপালা বা পাখির দিকে মনোযোগ দেওয়া এবং নিয়মিত ধ্যান ও শ্বাস-প্রশ্বাসের অনুশীলন মানসিক চাপ কমাতে সহায়ক হতে পারে। একইভাবে খাওয়ার সময় ধীরে ধীরে খাবারের স্বাদ উপভোগ করে খেলে অতিরিক্ত খাওয়ার প্রবণতা কমতে পারে। পাশাপাশি পর্যাপ্ত ও নিরবচ্ছিন্ন ঘুমও স্বাস্থ্যের জন্য গুরুত্বপূর্ণ। বেশির ভাগ প্রাপ্তবয়স্কের প্রতি রাতে অন্তত সাত ঘণ্টা ঘুম প্রয়োজন। প্রতিদিন একই সময়ে ঘুমানো ও জাগা, নিয়মিত শরীরচর্চা এবং ঘুমের আগে পর্দার ব্যবহার কমানো ভালো ঘুমে সহায়তা করতে পারে।খাদ্যাভ্যাসের ক্ষেত্রেও প্রাকৃতিক ও কম প্রক্রিয়াজাত খাবারকে গুরুত্ব দেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়। শাকসবজি, ফল, ডাল, মটরশুঁটি ও ছোলার মতো খাবার নিয়মিত খাদ্যতালিকায় রাখা যেতে পারে। অন্যদিকে অতিরিক্ত প্রক্রিয়াজাত খাবারে বেশি লবণ, চিনি ও বিভিন্ন সংযোজিত উপাদান থাকতে পারে। তাই যতটা সম্ভব তাজা ও স্বাভাবিক খাবার বেছে নেওয়া দীর্ঘমেয়াদে স্বাস্থ্যকর অভ্যাস গড়ে তুলতে সহায়ক হতে পারে।এর পাশাপাশি শরীরকে সচল রাখাও জরুরি। প্রতিদিন একটানা ৩০ মিনিট শরীরচর্চার পাশাপাশি দিনের বিভিন্ন সময়ে ছোট ছোট পরিসরে হাঁটা, সিঁড়ি ব্যবহার করা কিংবা কাজের ফাঁকে নড়াচড়া করার অভ্যাস করা যেতে পারে। দীর্ঘ সময় একটানা বসে না থেকে সুযোগ পেলেই হাঁটাচলা করা উপকারী। বয়স, অসুস্থতা বা দুর্ঘটনার কারণে যাদের চলাফেরায় সীমাবদ্ধতা রয়েছে, তারা নিজেদের সামর্থ্য অনুযায়ী উপযুক্ত শারীরিক কার্যক্রম বেছে নিতে পারেন।সুস্থ থাকতে দৈনন্দিন জীবনে ক্ষতিকর উপাদানের সংস্পর্শ কমানোও গুরুত্বপূর্ণ। বায়ুদূষণ ও আগুনের ধোঁয়ার অতি ক্ষুদ্র কণা ফুসফুস ও হৃদ্‌যন্ত্রের ওপর ক্ষতিকর প্রভাব ফেলতে পারে। রান্নাঘরে পর্যাপ্ত বাতাস চলাচলের ব্যবস্থা রাখা এবং সম্ভব হলে বৈদ্যুতিক বা তড়িৎচৌম্বক চুলা ব্যবহার করা যেতে পারে। পানি পরিশোধন, প্লাস্টিকের বদলে কাচের পাত্র ব্যবহার এবং স্টিলের বোতল ব্যবহারের মতো পদক্ষেপও নেওয়া যায়। সব মিলিয়ে দ্রুত ফলের আশায় কঠিন পদ্ধতির বদলে প্রতিদিনের জীবনে টেকসই স্বাস্থ্যকর অভ্যাস গড়ে তোলাই সুস্থ থাকার সহজ উপায় হতে পারে।সূত্র: হার্ভার্ডটি/

সেপ্টেম্বর ২৭, ২০২৬

হলুদ খাওয়ার আগে জেনে নিন উপকার ও ঝুঁকি

শরীরের প্রদাহ কমাতে সহায়ক প্রাকৃতিক উপাদান হিসেবে হলুদ বা টারমেরিকের কথা উল্লেখ করেছেন বিশেষজ্ঞরা। হলুদের সক্রিয় উপাদান কারকিউমিনের প্রদাহনাশক ও অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট গুণ রয়েছে বলে বিভিন্ন গবেষণায় উঠে এসেছে। দীর্ঘমেয়াদি কিছু স্বাস্থ্য সমস্যায় এটি সহায়ক ভূমিকা রাখতে পারে বলে জানিয়েছেন পুষ্টিবিদরা।পুষ্টিবিদ গ্যাব্রিয়েল কিশনারের মতে, কারকিউমিন ইনসুলিন সংবেদনশীলতা বাড়াতে, রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে রাখতে এবং কোলেস্টেরলের মাত্রা উন্নত করতে সহায়তা করতে পারে। একইভাবে প্রদাহজনিত অন্ত্রের রোগ, আর্থ্রাইটিস ও সোরিয়াসিসের মতো সমস্যায়ও এটি উপকারী হতে পারে। পুষ্টিবিদ জুলিয়ানা ভোক্কার ভাষ্য, কারকিউমিন শরীরের প্রদাহ নিয়ন্ত্রণকারী প্রক্রিয়ায় প্রভাব ফেলার পাশাপাশি অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট প্রতিরক্ষা বাড়াতে পারে।বিশেষজ্ঞদের মতে, কারকিউমিন শরীরে প্রদাহ তৈরির সঙ্গে যুক্ত কিছু প্রক্রিয়া ও এনজাইমের কার্যক্রম নিয়ন্ত্রণে ভূমিকা রাখতে পারে। এটি NF-κB নামের একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রোটিন কমপ্লেক্সের কার্যক্রমে প্রভাব ফেলে এবং COX-2, LOX ও iNOS-এর মতো এনজাইমের কার্যক্রম কমাতে পারে। এ ছাড়া কারকিউমিন সি-রিঅ্যাকটিভ প্রোটিন বা CRP-এর মাত্রা কমাতে সহায়তা করতে পারে। পাশাপাশি অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট প্রতিরক্ষা বাড়িয়ে অক্সিডেটিভ স্ট্রেস কমাতেও ভূমিকা রাখতে পারে।তবে হলুদ বা কারকিউমিন সবার জন্য সমানভাবে নিরাপদ নাও হতে পারে। অতিরিক্ত গ্রহণে বমি বমি ভাব, অ্যাসিডিটি, পেটের অস্বস্তি, ডায়রিয়া বা কোষ্ঠকাঠিন্যের মতো সমস্যা দেখা দিতে পারে। বিরল ক্ষেত্রে বেশি মাত্রায় গ্রহণে লিভারের সমস্যা বা আয়রনের ঘাটতি এবং কিছু মানুষের ক্ষেত্রে কিডনিতে পাথর হওয়ার ঝুঁকি বাড়তে পারে। বিশেষ করে গর্ভবতী ও স্তন্যদানকারী নারী, কিডনি বা পিত্তথলিতে পাথর রয়েছে এমন ব্যক্তি এবং নির্দিষ্ট কিছু রোগে আক্রান্তদের সাপ্লিমেন্ট গ্রহণের আগে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া প্রয়োজন।বিশেষজ্ঞদের মতে, কারকিউমিন সাপ্লিমেন্ট বেছে নেওয়ার ক্ষেত্রে বিশ্বস্ত ও স্বাধীনভাবে পরীক্ষিত পণ্য নির্বাচন করা উচিত। পাইপেরিন বা ব্ল্যাক পেপারের উপাদান যুক্ত সাপ্লিমেন্ট কারকিউমিনের শোষণ বাড়াতে পারে বলে উল্লেখ করা হয়েছে। তবে এটি কোনো স্বাস্থ্য সমস্যার একক সমাধান নয়। প্রদাহ ও সামগ্রিক স্বাস্থ্য নিয়ন্ত্রণে সুষম খাবার, নিয়মিত ব্যায়াম, পর্যাপ্ত ঘুম ও মানসিক চাপ নিয়ন্ত্রণও গুরুত্বপূর্ণ। কারকিউমিনের উপযুক্ত মাত্রা নির্ধারণের আগে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়াই নিরাপদ।টি/

সেপ্টেম্বর ২৬, ২০২৬

যেসব দৈনন্দিন অভ্যাসে বাড়তে পারে হাঁটুর সমস্যা

হাঁটা, সিঁড়ি ভাঙা, বসা কিংবা দাঁড়ানো—প্রায় প্রতিটি দৈনন্দিন কাজেই হাঁটুর ওপর চাপ পড়ে। বয়স বা আঘাতের পাশাপাশি দীর্ঘ সময় বসে থাকা, শারীরিক নিষ্ক্রিয়তা, ভুলভাবে ব্যায়াম করা কিংবা অনুপযুক্ত জুতা ব্যবহারের মতো অভ্যাসও হাঁটুর ওপর অতিরিক্ত চাপ তৈরি করতে পারে। তাই হাঁটুর সুস্থতা ধরে রাখতে প্রতিদিনের কিছু অভ্যাসের দিকে নজর দেওয়া জরুরি।একটানা দীর্ঘ সময় বসে থাকলে হাঁটুকে সহায়তা করা উরু ও নিতম্বের পেশি দুর্বল হয়ে যেতে পারে। এতে হাঁটার সময় হাঁটুর ওপর চাপ বাড়তে পারে এবং দীর্ঘ সময় হাঁটু ভাঁজ করে বসে থাকার পর উঠে দাঁড়ালে শক্তভাব বা আড়ষ্টতা দেখা দিতে পারে। একইভাবে শারীরিক সক্ষমতার তুলনায় অতিরিক্ত সিঁড়ি ওঠানামা করলেও হাঁটুর ওপর বাড়তি চাপ পড়তে পারে। তাই দীর্ঘ সময় বসে না থেকে মাঝে মাঝে হাঁটাহাঁটি বা পা নড়াচড়া করা এবং সিঁড়ি ব্যবহারের সময় তাড়াহুড়ো না করা উপকারী।ওয়ার্ম-আপ ছাড়াই দৌড়ানো, লাফানো, স্কোয়াট বা লাঞ্জের মতো ব্যায়াম শুরু করলেও পেশি ও জয়েন্টে অতিরিক্ত চাপ পড়তে পারে। ব্যায়ামের আগে কয়েক মিনিট হালকা নড়াচড়া করে শরীর প্রস্তুত করা এবং ধীরে ধীরে ব্যায়ামের তীব্রতা বাড়ানো ভালো। একই সঙ্গে ব্যায়ামের সময় হাঁটুর ব্যথাকে উপেক্ষা করা উচিত নয়। ব্যথা বারবার হলে, দীর্ঘস্থায়ী হলে বা বাড়তে থাকলে ব্যায়ামের ধরন ও তীব্রতা কমিয়ে বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নেওয়া প্রয়োজন।হাঁটুর ওপর চাপ কমানোর ক্ষেত্রে উপযুক্ত জুতাও গুরুত্বপূর্ণ। ভুল মাপের বা পর্যাপ্ত সাপোর্ট না দেওয়া জুতা দীর্ঘ সময় হাঁটা কিংবা ব্যায়ামের সময় অস্বস্তি বাড়াতে পারে। অন্যদিকে একেবারেই শারীরিক পরিশ্রম না করাও হাঁটুর জন্য ভালো নয়। নিয়মিত হাঁটা, সাইকেল চালানো বা সাঁতারের মতো কম চাপযুক্ত ব্যায়াম শরীর সচল রাখতে এবং হাঁটুকে সহায়তা করা পেশি শক্তিশালী রাখতে সাহায্য করতে পারে।এ ছাড়া অতিরিক্ত ওজন থাকলে দৈনন্দিন চলাফেরার সময় হাঁটুর ওপর চাপ বাড়তে পারে, যা দীর্ঘমেয়াদে হাঁটুর অস্বস্তি ও অস্টিওআর্থারাইটিসের সঙ্গে সম্পর্কিত হতে পারে। স্কোয়াট, লাঞ্জ বা ভারোত্তোলনের সময় ভুল কৌশল অনুসরণ করলেও হাঁটুর ওপর অপ্রয়োজনীয় চাপ তৈরি হতে পারে। তাই ব্যায়ামের সঠিক কৌশল শেখা, প্রয়োজন অনুযায়ী ওজন ও তীব্রতা নির্ধারণ এবং হাঁটুর ব্যথা অবহেলা না করাই গুরুত্বপূর্ণ।/টি

সেপ্টেম্বর ২৪, ২০২৬

শরীরে সোডিয়াম কমে গেলে দেখা দিতে পারে যে ৩ লক্ষণ

লবণ কম খাওয়াকে সাধারণত স্বাস্থ্যকর অভ্যাস হিসেবে ধরা হয়। বিশেষ করে উচ্চ রক্তচাপ ও হৃদ্‌রোগের ঝুঁকি কমাতে অতিরিক্ত লবণ এড়িয়ে চলার পরামর্শ দেওয়া হয়। তবে শরীরে সোডিয়ামের মাত্রা অস্বাভাবিকভাবে কমে গেলেও নানা সমস্যা দেখা দিতে পারে। সোডিয়াম শরীরের তরলের ভারসাম্য, স্নায়ুর কার্যক্রম এবং পেশির স্বাভাবিক কাজের জন্য গুরুত্বপূর্ণ। রক্তে সোডিয়ামের মাত্রা স্বাভাবিকের চেয়ে কমে যাওয়ার অবস্থাকে হাইপোনাট্রেমিয়া বলা হয়।হাইপোনাট্রেমিয়ার একটি লক্ষণ হতে পারে মাথা ঘোরা ও দুর্বল লাগা। সোডিয়ামের মাত্রা কমে গেলে শরীরের তরলের ভারসাম্যে পরিবর্তন আসতে পারে। ফলে অস্বাভাবিক ক্লান্তি, দুর্বলতা বা মাথা ঘোরার মতো সমস্যা দেখা দিতে পারে। পাশাপাশি পেশিতে টান, ক্র্যাম্প বা দুর্বলতাও হতে পারে, কারণ সোডিয়াম স্নায়ু ও পেশির স্বাভাবিক কার্যক্রমের সঙ্গে যুক্ত। তবে এসব উপসর্গের পেছনে পানিশূন্যতা, রক্তচাপের সমস্যা, অতিরিক্ত ঘাম বা অন্য শারীরিক কারণও থাকতে পারে।সোডিয়ামের মাত্রা অনেক কমে গেলে বিভ্রান্তি বা আচরণে পরিবর্তন দেখা দিতে পারে। এর সঙ্গে মাথাব্যথা, বমি বমি ভাবের মতো উপসর্গও থাকতে পারে। গুরুতর ক্ষেত্রে খিঁচুনি বা জ্ঞান হারানোর মতো জরুরি পরিস্থিতি তৈরি হতে পারে। বিশেষ করে হঠাৎ বিভ্রান্তি, খিঁচুনি বা জ্ঞান হারানোর মতো লক্ষণ দেখা দিলে দ্রুত জরুরি চিকিৎসা নেওয়া প্রয়োজন।তবে শুধু খাবারে লবণ কম খেলেই যে রক্তে সোডিয়াম কমে যাবে, এমন নয়। অতিরিক্ত পানি পান, কিছু ধরনের ওষুধ, কিডনি বা হৃদ্‌যন্ত্রের সমস্যা এবং হরমোনজনিত কিছু অবস্থাও হাইপোনাট্রেমিয়ার কারণ হতে পারে। তাই মাথা ঘোরা, দুর্বলতা বা পেশিতে টান ধরলেই নিজের সিদ্ধান্তে বেশি লবণ খাওয়া ঠিক নয়। অন্যদিকে অতিরিক্ত সোডিয়াম গ্রহণও ক্ষতিকর; বেশি লবণ রক্তচাপ বাড়াতে পারে এবং দীর্ঘমেয়াদে হৃদ্‌রোগ ও স্ট্রোকের ঝুঁকি বাড়াতে পারে।বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার নির্দেশনা অনুযায়ী, প্রাপ্তবয়স্কদের দিনে ২০০০ মিলিগ্রামের কম সোডিয়াম গ্রহণ করা উচিত, যা প্রায় ৫ গ্রাম বা এক চা-চামচের সামান্য কম লবণের সমান। রান্নার লবণের পাশাপাশি প্যাকেটজাত ও প্রক্রিয়াজাত খাবার থেকেও সোডিয়াম গ্রহণ হয়। শরীরে সোডিয়ামের মাত্রা কমেছে কি না তা শুধু উপসর্গ দেখে নিশ্চিত হওয়া যায় না; সাধারণত রক্ত পরীক্ষার মাধ্যমে তা নির্ণয় করা হয়। বারবার দুর্বলতা, মাথা ঘোরা, পেশিতে টান বা মাথাব্যথার সঙ্গে বিভ্রান্তি দেখা দিলে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত। সূত্র: আনন্দবাজার/টি

সেপ্টেম্বর ২৩, ২০২৬
footer small logo

যোগাযোগ :

এটিএন বাংলা, ওয়াসা ভবন, ২য় তলা, ৯৮ কাজী নজরুল ইসলাম এভিনিউ, কাওরান বাজার, ঢাকা-১২১৫, বাংলাদেশ

ফোনঃ +88-02-55011931

সোশ্যাল মিডিয়া

youtube logotwitter logofacebook logo

Design & Developed by:

developed-company-logo