
এটিএন বাংলা, ওয়াসা ভবন, ২য় তলা, ৯৮ কাজী নজরুল ইসলাম এভিনিউ, কাওরান বাজার, ঢাকা-১২১৫, বাংলাদেশ
ফোনঃ +88-02-55011931
এ সম্পর্কিত আরও খবর
বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জলপথ হরমুজ প্রণালি দিয়ে তেলবাহী জাহাজ চলাচলে নতুন এক শর্তের কথা ভাবছে তেহরান। সম্প্রতি ইরানের একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানিয়েছেন, সীমিতসংখ্যক জাহাজ চলাচলের অনুমতি দিলেও একটি বড় শর্ত জুড়ে দেওয়া হবে। আর তা হলো—তেলের দাম মেটাতে হবে চীনা মুদ্রা ইউয়ানে। ডলারে আন্তর্জাতিক লেনদেনের যে প্রথা রয়েছে, তা থেকে বেরিয়ে আসার এক নতুন পরিকল্পনার কথা ভাবছে ইরান সরকার।
সাধারণত বিশ্ববাজারে তেলের সব লেনদেন ডলারেই হয়ে থাকে। এর আগে কেবল পশ্চিমা নিষেধাজ্ঞার কবলে থাকা রাশিয়ার তেলের কারবার রুবল বা ইউয়ানে চলতে দেখা গেছে। তবে হরমুজ প্রণালির মতো গুরুত্বপূর্ণ ধমনীকে ঘিরে অস্থিরতা তৈরি হওয়ায় বিশ্ববাজারে তেলের দাম এখন আকাশছোঁয়া। বর্তমান বাজার দর
হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচলে বিধিনিষেধ জারি হলে কেবল জ্বালানি নয়, ত্রাণ ও মানবিক সহায়তার ওপরও এর 'বিরাট প্রভাব' পড়বে বলে সতর্ক করেছে জাতিসংঘ। সংস্থাটির আন্ডার-সেক্রেটারি জেনারেল টম ফ্লেচার জানিয়েছেন, এই পথ থমকে গেলে খাদ্য, ওষুধ ও সারের মতো জরুরি সামগ্রীর সরবরাহ যেমন কঠিন হবে, তেমনই অস্বাভাবিকভাবে বাড়বে পরিবহন খরচ। এর ফল পুরো বিশ্বের সাধারণ মানুষের জন্য সুদূরপ্রসারী ও ভয়াবহ হতে পারে।
অন্যদিকে, পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত করে তুলেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তিনি স্পষ্ট হুমকি দিয়েছেন যে, পারস্য উপসাগরের এই প্রণালিতে জাহাজ চলাচলে বাধা দিলে ইরানের খারগ দ্বীপের তেল অবকাঠামোতে সরাসরি হামলা চালানো হবে। উল্লেখ্য, ইরানের মোট অপরিশোধিত তেল রপ্তানির প্রায় ৯০ শতাংশই নিয়ন্ত্রিত হয় এই খারগ দ্বীপ থেকে। ট্রাম্পের দাবি, ওই অঞ্চলের সামরিক লক্ষ্যবস্তুগুলো গুঁড়িয়ে দিতে আমেরিকা প্রস্তুত।
হরমুজ প্রণালি এখন এক চরম স্নায়ুযুদ্ধের কেন্দ্রবিন্দু। একদিকে ইরান তাদের তেলের বাজারকে ডলারে বদলে ইউয়ানে নিতে চাইছে, অন্যদিকে আমেরিকা তাদের সামরিক শক্তির ভয় দেখাচ্ছে। জ্বালানি সরবরাহ এবং বৈশ্বিক অর্থনীতির স্থায়িত্ব এখন এই উত্তাল জলপথের সিদ্ধান্তের ওপর নির্ভর করছে। এই সংকটের সমাধান কি আলোচনার টেবিলে হবে, নাকি নতুন কোনো যুদ্ধের সূচনা করবে—সেদিকেই এখন তাকিয়ে আছে পুরো বিশ্ব।
/টিএ