logo
youtube logotwitter logofacebook logo
/স্পোর্টস
বিশ্বকাপ হতাশা: দায়িত্ব ছাড়ার সিদ্ধান্ত জয়াসুরিয়ার - image

বিশ্বকাপ হতাশা: দায়িত্ব ছাড়ার সিদ্ধান্ত জয়াসুরিয়ার

01 মার্চ 2026, বিকাল 3:06

টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের সুপার এইট থেকে শ্রীলঙ্কার বিদায়ের পর দেশটির ক্রিকেটে বড়সড় পরিবর্তনের আভাস মিলেছে। দলের প্রধান কোচের পদ থেকে সরে দাঁড়ানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছেন সাবেক অধিনায়ক ও কিংবদন্তি অলরাউন্ডার সনাথ জয়াসুরিয়া। সেমিফাইনালে উঠতে ব্যর্থ হওয়া এবং সুপার এইট পর্বে টানা তিন ম্যাচে পরাজয়ই তার এমন সিদ্ধান্তের পেছনে প্রধান কারণ হিসেবে দেখা হচ্ছে। প্রথম রাউন্ডে দারুণ পারফরম্যান্স করলেও গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্তে ছন্দ হারিয়ে দলকে হতাশ করেছে লঙ্কানরা।সুপার এইট পর্বে নিজেদের প্রত্যাশা অনুযায়ী খেলতে পারেনি শ্রীলঙ্কা। শেষ ম্যাচে পাকিস্তানের কাছে মাত্র ৫ রানের ব্যবধানে হারলেও তার আগেই টুর্নামেন্ট থেকে তাদের বিদায় নিশ্চিত হয়ে গিয়েছিল। ধারাবাহিক ব্যর্থতায় দলের আত্মবিশ্বাসে ধস নামে, যা মাঠের পারফরম্যান্সেও স্পষ্ট হয়ে ওঠে। গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচগুলোতে স্নায়ুচাপ সামলাতে না পারাই শেষ পর্যন্ত তাদের স্বপ্নভঙ্গের কারণ হয়ে দাঁড়ায়।ইএসপিএন-ক্রিকইনফোকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে জয়াসুরিয়া জানান, এখন দায়িত্ব অন্য কারও হাতে তুলে দেওয়ার সময় এসেছে বলে তিনি মনে করেন। প্রায় দুই মাস আগে ইংল্যান্ড সিরিজ চলাকালেই তিনি ইঙ্গিত দিয়েছিলেন যে দীর্ঘমেয়াদে এই দায়িত্বে থাকার ইচ্ছা তার নেই। বিশ্বকাপ শেষে ইতিবাচক আবহে বিদায় নেওয়ার আশা থাকলেও প্রত্যাশা পূরণ না হওয়ায় তিনি হতাশ। তার মতে, দলের স্বার্থেই নতুন পরিকল্পনা ও নেতৃত্ব প্রয়োজন।জয়াসুরিয়া আরও জানান, শ্রীলঙ্কা ক্রিকেট বোর্ডের (এসএলসি) সঙ্গে তার চুক্তির মেয়াদ আগামী জুন পর্যন্ত রয়েছে। তবে আনুষ্ঠানিকভাবে বোর্ডকে কিছু না জানালেও শিগগিরই এ বিষয়ে আলোচনা করবেন তিনি। বোর্ড যদি নতুন কাউকে খুঁজে পায়, তবে দায়িত্ব বুঝিয়ে দিতে তিনি প্রস্তুত বলেও উল্লেখ করেন। এতে বোঝা যায়, পরিবর্তনের প্রক্রিয়া খুব শিগগিরই শুরু হতে পারে।সুপার এইটের শেষ ম্যাচে পাকিস্তানের বিপক্ষে জয় থেকে খুব কাছাকাছি গিয়েও হারতে হয় শ্রীলঙ্কাকে। ২১২ রানের বিশাল লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে অধিনায়ক দাসুন শানাকা মাত্র ৩১ বলে ৭৬ রানের দুর্দান্ত ইনিংস খেলেন। শেষ ওভারে জয়ের জন্য প্রয়োজন ছিল ২৮ রান, আর শাহিন শাহ আফ্রিদির প্রথম পাঁচ বলে তিনটি ছক্কা ও একটি চারের সাহায্যে ২২ রান তুলে সমীকরণ শেষ বলে ৬ রানে নামিয়ে আনেন তিনি। কিন্তু শেষ বলটি ‘ওয়াইড’ হবে ভেবে ছেড়ে দিলেও আম্পায়ার সাড়া দেননি, ফলে ৫ রানের আক্ষেপ নিয়েই মাঠ ছাড়তে হয় লঙ্কানদের। যদিও এই ম্যাচে জিতেও লাভ হতো না, কারণ শানাকার ব্যাটিং ঝড়ে ২০৬ রান তোলায় পাকিস্তানের নেট রান রেট সমীকরণ মিলেনি; ফলে নিউজিল্যান্ড ইংল্যান্ডের সঙ্গে সেমিফাইনালে জায়গা নিশ্চিত করে।/টিএ 

মার্চ ০১, ২০২৬

সেমিফাইনালের পথ কঠিন হলো পাকিস্তানের

পাকিস্তান সুপার এইটে এখনও জয়ের স্বাদ পায়নি। একটি ম্যাচ বৃষ্টিতে ধুয়ে যায়, অন্যটিতে হ্যারি ব্রুকের সেঞ্চুরির জোরে ইংল্যান্ডের হাতে পরাজয় হয়। ফলে সালমান আলি আগার দল চাপে পড়েছে এবং টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের সেমিফাইনালে ওঠার পথ বেশ কঠিন হয়ে উঠেছে। তবে সম্ভাবনা পুরোপুরি শেষ হয়নি।শেষ চারে জায়গা পাক্কা করতে হলে প্রথম শর্ত শ্রীলঙ্কার বিরুদ্ধে শেষ ম্যাচে জয় আদায় করতে হবে পাকিস্তানকে। সেইসঙ্গে গ্রুপের অন্যান্য ম্যাচের ফলাফলের দিকে তাকিয়ে থাকতে হবে। এই গ্রুপ থেকে ইংল্যান্ড ইতোমধ্যে দুটি জয় নিয়ে সেমিফাইনাল নিশ্চিত করেছে। বাকি একটি স্পটের জন্য লড়ছে পাকিস্তান, নিউজিল্যান্ড এবং শ্রীলঙ্কা।পয়েন্ট টেবিলে নিউজিল্যান্ড এখনও এগিয়ে থাকলেও শেষ মুহূর্তে চিত্র বদলানোর সুযোগ রয়েছে। পাকিস্তানের সবচেয়ে সহজ পথ হলো শ্রীলঙ্কাকে হারানো এবং নিউজিল্যান্ডের বাকি দুই ম্যাচেই পরাজয় কামনা করা। সেক্ষেত্রে কিউইদের পয়েন্ট থেমে থাকবে একটিতে, আর পাকিস্তান এগিয়ে যাবে সেমিফাইনালে।আরেকটি সম্ভাব্য পরিস্থিতিতে, পাকিস্তান যদি শ্রীলঙ্কাকে হারায় এবং শ্রীলঙ্কা নিউজিল্যান্ডকে টাইট করে, তাহলে পয়েন্ট হিসেবে পাকিস্তানই এগিয়ে থাকবে। তখন নিউজিল্যান্ড ও শ্রীলঙ্কা পিছিয়ে পড়বে। তবে সমীকরণ আরও জটিল হতে পারে—যদি পাকিস্তান জিতে কিন্তু নিউজিল্যান্ড একটা ম্যাচ জয় করে ফেলে, তাহলে সমান পয়েন্টে নেট রান রেটের হিসাব চলবে। সেক্ষেত্রে বড় ব্যবধানে জয় করা জরুরি।অন্যদিকে, শ্রীলঙ্কা যদি নিজেদের শেষ দুই ম্যাচেই জয়ী হয়, তাহলে কোনো হিসাব-নিকাশের দরকার পড়বে না। তারা সরাসরি সেমিফাইনালে উঠে যাবে।/টিএ

ফেব্রুয়ারি ২৫, ২০২৬

বিশ্বকাপের শেষ চারে ভেন্যু নিয়ে নতুন চমক

চলতি টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের সেমিফাইনাল ঘিরে শেষ মুহূর্তে বড় চমক দিল আইসিসি। সুপার এইট পর্বের লাইনআপ চূড়ান্ত হতেই বদলে গেল ভেন্যু পরিকল্পনা, তৈরি হলো নতুন সমীকরণ। অংশীজনদের কাছে পাঠানো বার্তায় জানানো হয়েছে—প্রথম সেমিফাইনাল রাখা হয়েছে ‘ফ্লোটিং’ অবস্থায়, অর্থাৎ অংশগ্রহণকারী দলের ওপর নির্ভর করেই ঠিক হবে ম্যাচের শহর।নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, প্রথম সেমিফাইনাল অনুষ্ঠিত হবে হয় কলম্বো, না হয় কলকাতা। যদি পাকিস্তান সেমিফাইনালে ওঠে, তবে ৪ মার্চ তারা খেলবে কলম্বোতেই। আবার পাকিস্তান বাদ পড়লেও স্বাগতিক শ্রীলঙ্কা শেষ চারে উঠলে—এবং প্রতিপক্ষ হিসেবে ভারত না থাকলে—ম্যাচটি হবে কলম্বোতে।ভারতীয় দলের জন্য ভেন্যু প্রায় নিশ্চিত ধরা হচ্ছে। ভারত সেমিফাইনালে উঠলে তারা খেলবে মুম্বাইয়ে, তবে শর্ত একটাই—প্রতিপক্ষ হিসেবে পাকিস্তান থাকা চলবে না। কারণ ভারত-পাকিস্তান মহারণ নিশ্চিত হলেই ম্যাচটি সরাসরি কলম্বোতে সরিয়ে নেওয়া হবে।অন্যদিকে, ভারত, পাকিস্তান বা শ্রীলঙ্কা—এই তিন দলের কেউই যদি সেমিফাইনালে উঠতে না পারে, তবে সূচি চলবে সাধারণ নিয়মে। সে ক্ষেত্রে গ্রুপ-১ চ্যাম্পিয়ন বনাম গ্রুপ-২ রানার্সআপ খেলবে কলকাতায় এবং গ্রুপ-২ চ্যাম্পিয়ন বনাম গ্রুপ-১ রানার্সআপের ম্যাচ হবে মুম্বাইয়ে।উল্লেখ্য, শ্রীলঙ্কা ও পাকিস্তান একই গ্রুপে (গ্রুপ-২) থাকায় তাদের মধ্যে সেমিফাইনাল হওয়ার সম্ভাবনা নেই। আগের সূচিতে পাকিস্তানের ভেন্যু নিয়ে স্পষ্টতা থাকলেও শ্রীলঙ্কাকে ঘিরে ছিল ধোঁয়াশা। আইসিসির নতুন ব্যাখ্যায় সেই অনিশ্চয়তার অবসান হয়েছে। ফলে সুপার এইটের ফলাফলের ওপর নির্ভর করে লঙ্কানদের সামনে এখন নিজেদের মাঠে সেমিফাইনাল খেলার সুবর্ণ সুযোগ তৈরি হয়েছে।

ফেব্রুয়ারি ২৪, ২০২৬

সমর্থকদের বড় সুখবর দিলেন মেসি

আর্জেন্টিনার ফুটবল জাদুকর লিওনেল মেসির চোট নিয়ে গত কয়েকদিন ধরে ফুটবল বিশ্বে যে দুশ্চিন্তার মেঘ জমেছিল, তা অবশেষে কেটে গেছে। চোট কাটিয়ে আবারও মাঠে ফেরার জোরালো সংকেত দিয়েছেন এই মহাতারকা। ইন্টার মিয়ামির হয়ে নিয়মিত অনুশীলনে যোগ দিয়ে তিনি ভক্তদের বড় এক সুখবর উপহার দিয়েছেন, যা বর্তমান ফুটবল অঙ্গনে স্বস্তির সুবাতাস বইয়ে দিচ্ছে।মূলত প্রাক-মৌসুম প্রীতি ম্যাচে ইকুয়েডরের বার্সেলোনা এসসির বিপক্ষে খেলার সময় বাঁ-উরুর হ্যামস্ট্রিং সমস্যায় পড়েন মেসি। এই অনাকাঙ্ক্ষিত চোটের কারণে বেশ কিছুদিন তাকে দলীয় অনুশীলনের বাইরে থাকতে হয়েছিল। এমএলএস মৌসুম শুরুর ঠিক আগমুহূর্তে তার এই চোট ক্লাব ও জাতীয় দল—উভয় শিবিরের কপালেই চিন্তার ভাঁজ ফেলে দিয়েছিল।সামনে ২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপ, তাই ফুটবল প্রেমীদের কাছে মেসির ফিটনেস এখন সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। তাকে ছাড়া ইন্টার মিয়ামির আক্রমণভাগ যেমন ছন্দ হারিয়েছিল, তেমনি ভক্তদের মনেও দানা বেঁধেছিল নানা শঙ্কা। তবে সব জল্পনা-কল্পনার অবসান ঘটিয়ে মেসি তার দৃঢ় মনোবল ও দ্রুত সেরে ওঠার ক্ষমতার পরিচয় দিয়েছেন।স্প্যানিশ দৈনিক মার্কার প্রতিবেদন অনুযায়ী, ১৮ ফেব্রুয়ারি থেকে মেসি পুরোদমে স্বাভাবিক অনুশীলন শুরু করেছেন। অনুশীলনে তাকে বেশ প্রাণবন্ত ও ফিট দেখাচ্ছিল। চিকিৎসকদের প্রাথমিক ধারণা ছিল তাকে অন্তত দুই সপ্তাহ মাঠের বাইরে থাকতে হবে, কিন্তু নির্ধারিত সময়ের আগেই তিনি মাঠে ফিরে সবাইকে চমকে দিয়েছেন।এখন সবার চোখ ২১ ফেব্রুয়ারি লস অ্যাঞ্জেলেসের বিপক্ষে মৌসুমের প্রথম ম্যাচের দিকে। কোচ হাভিয়ের মাসচেরানো ও তার কোচিং স্টাফরা মেসির ফেরার বিষয়ে এখনো চূড়ান্ত ঘোষণা দেননি। ম্যাচের আগে শেষবারের মতো তার ফিটনেস পরীক্ষা করা হবে এবং সেই মূল্যায়নের ওপর ভিত্তি করেই সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে যে তিনি শুরুর একাদশে থাকবেন কি না।

ফেব্রুয়ারি ২১, ২০২৬

বৈভব সূর্যবংশীর উত্থানের অদম্য গল্প

পাটনা: সুখদেও নারায়ণ আন্তঃস্কুল টুর্নামেন্টের জন্য নাম লেখানো শুরু হলেই সমস্তিপুর থেকে প্রায় ৯০ কিলোমিটার পথ পাড়ি দিত এক ছোট্ট ছেলে। কখনও সাইকেলে চড়ে, কখনও অন্য উপায়ে—শুধু ফর্ম সংগ্রহের জন্য। বিহারের মাটিতে উচ্চাকাঙ্ক্ষা যেখানে সম্পদের চেয়েও বড়, সেই দৃশ্য বহু মানুষের মনে দাগ কেটেছিল।রঞ্জি ট্রফির ক্রিকেটার ও কোচ মনীশ ওঝা খুব দ্রুতই এই গল্পের সঙ্গে পরিচিত হন। বহু বছর পর একদিন সেই ছেলেটিই, বড় হয়ে, হাজির হন তার দরজায়। নিজের জন্য নয়, আট বছরের ছেলে বৈভব সূর্যবংশীর জন্য।ততদিনে সঞ্জীব সূর্যবংশীর ত্যাগের কথা ক্রিকেট মহলে ছড়িয়ে পড়েছে। ঋণের বোঝা বাড়তে থাকে, ছেলের ক্রিকেট প্রশিক্ষণের খরচ জোগাতে বিক্রি হয়ে যায় কৃষিজমি। ভোর ৪টায় শুরু হত দিন। স্ত্রী ও ছেলেকে নিয়ে সমস্তিপুর থেকে পাটনা—প্রথমে বাস, তারপর গাড়ি। সঙ্গে থাকত আরও কয়েকজন কিশোর বোলার, যারা নেটে পালা করে বল করত। শুধু বৈভবের জন্য নয়, সবার জন্যই টিফিনের ব্যবস্থা থাকত।তখন আনিসাবাদের ছোট্ট জায়গায় অবস্থিত ওঝার একাডেমিতে দিনভর থাকতেন সঞ্জীব। একের পর এক বোলার ক্লান্ত হলে অন্যজন আসত, আর বৈভব ব্যাট চালিয়ে যেত—৫০০ বল, কখনও তারও বেশি। যেদিন পাটনা যাওয়া হত না, সেদিন সমস্তিপুরে বাড়ির বারান্দায় চলত অনুশীলন।শুরুর দিকে ওঝা সতর্ক ছিলেন। “বিলকুল হি বাচ্চা থা। আগর জ্যাদা তেজ ডাল দেতে, লাগ সক্ত থা,” স্মরণ করেন তিনি। তাই আন্ডারআর্ম ফুল টস, হাতে আলতো করে সিন্থেটিক বল—এইভাবেই শুরু। “এই বয়সে সম্ভাবনা বিচার করা খুব কঠিন,” বলেন তিনি।ছয়-আট মাস পর একদিন ওঝা কৌতূহলবশত রোবো আর্মে ১৩০-১৩৫ কিমি গতিতে বল সেট করেন। আচমকাই বৈভব সেই গতির সঙ্গে মানিয়ে নেয়। “এটা আমার জন্যও বড় আশ্চর্যের বিষয় ছিল,” স্বীকার করেন ওঝা।সম্পাটচকের নতুন একাডেমি মাঠে একদিন রাজ্য অনূর্ধ্ব-১৯ ক্রিকেটারের বিপক্ষে জীর্ণ উইকেটে ব্যাট করতে নেমে বৈভব অপরাজিত থাকেন। পরে এক অনুশীলন ম্যাচে, যেখানে প্রতিপক্ষ দলে ছিলেন অনূর্ধ্ব-১৯ ও অনূর্ধ্ব-২৩ পর্যায়ের পেসার-স্পিনাররা, জেলা ক্রিকেটও না-খেলা বৈভব করেন ১১৮ রান। “ছক্কার কোনওটিই ৮০-৮৫ মিটারের নিচে ছিল না,” জানান ওঝা।ইনিংস শেষে সঞ্জীবকে তিনি বলেন, “তোমার ছেলে বড় ক্রিকেটের জন্য প্রস্তুত।” সেই মুহূর্তেই দূর হয় সব সংশয়।তবে কোচ হিসেবে ওঝা চেয়েছিলেন বৈভব দীর্ঘক্ষণ ব্যাট করতে শিখুক, শুধু বাউন্ডারির ওপর নির্ভর না করুক। তাই সিমেন্টের উইকেটে জল ঢেলে স্কিড বাড়ানো, নতুন বলে দুই পেসারকে একসঙ্গে আক্রমণে নামানো, কখনও বালি-নুড়ি ছড়িয়ে অপ্রত্যাশিত টার্ন তৈরি—সবই ছিল ধৈর্যের পরীক্ষা। কিন্তু বৈভবের ব্যাট থামেনি।একদিন বিশেষ আক্রমণাত্মক ইনিংসের পর ওঝা প্রশ্ন করেন, কেন নির্দেশ না থাকলেও এত আক্রমণ? জবাব আসে, “যে বল কো ছক্কা মার সক্তে হ্যায়, সিঙ্গেল ডাবল কিউ লেইন?” এরপর থেকেই ওঝা আর তার আগ্রাসন থামাতে চাননি।ওঝার মতে, বৈভব খুব কম কথা বলত, প্রশ্নও করত না। “আমি যা বলতাম, সে তা-ই করত। একবার ব্যাখ্যা করো, যথেষ্ট।” ফিল্ডিং বা ফিটনেস ড্রিল এড়াতে কখনও বলত, “পেট মে দরদ হো রাহা হ্যায়।” উত্তরে ওঝার জবাব, “ব্যাটিং করো, পেটের ব্যথা চলে যাবে।”ক্রমে ক্রিকেটই তার হয়ে কথা বলতে শুরু করে। অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে যুব টেস্টে অভিষেকে সেঞ্চুরি, ১৪ বছর বয়সে আইপিএল চুক্তি, প্রথম বলেই ছক্কা—সব মিলিয়ে দ্রুত উত্থান।আইপিএলে রাজস্থান রয়্যালস-এর হয়ে খেলে আলোড়ন তোলেন বৈভব। গুজরাট টাইটান্স-এর বিপক্ষে করেন ৩৮ বলে ১০১ রান। সেঞ্চুরির পর ফ্র্যাঞ্চাইজির এক ভিডিওতে যখন জিজ্ঞাসা করা হয়, কাকে প্রথম ফোন করবেন, জবাব ছিল স্পষ্ট—“পাপা কো হি কারুঙ্গা।”ফোনে সংযোগ হতেই স্টেডিয়ামের কোলাহল পেরিয়ে নরম কণ্ঠে শোনা যায়, “পাপা পরনাম।” বিহারের উচ্চারণে ‘প্রণাম’ হয়ে যায় ‘পরনাম’—সেই শব্দে মিশে থাকে ছোট ছোট শহর থেকে শুরু করে বিশ্বমঞ্চে পৌঁছে যাওয়ার দীর্ঘ যাত্রার স্মৃতি।সমস্তিপুর থেকে শুরু হওয়া সেই পথচলা আজ আন্তর্জাতিক ক্রিকেটের আলোয়। আর তার কেন্দ্রবিন্দুতে রয়ে গেছেন এক বাবা, এক কোচ এবং এক অদম্য কিশোর—বৈভব সূর্যবংশী।প্রত্যুষ সিনহা (ক্রিকবাজ থেকে)/টিএ

ফেব্রুয়ারি ১৫, ২০২৬

মন্ত্রী হওয়ার গুঞ্জনে তামিমের খোলামেলা বার্তা

নতুন সরকার গঠনের প্রাক্কালে রাজনৈতিক অঙ্গনে যখন সম্ভাব্য মন্ত্রীসভা নিয়ে জোর আলোচনা চলছে, তখনই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে হঠাৎ ভেসে ওঠে একটি নাম— তামিম ইকবাল খান। গুঞ্জন ছড়িয়ে পড়ে, টেকনোক্র্যাট কোটায় তিনি ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব পেতে পারেন; কেউ কেউ আবার সরাসরি ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী হিসেবেও তার নাম প্রচার করেন। বিষয়টি দ্রুতই অনলাইনে আলোচনার কেন্দ্রে চলে আসে।তবে এই জল্পনায় নিজেই ইতি টানেন তামিম। শনিবার (১৪ জানুয়ারি) গভীর রাতে ফেসবুকে দেওয়া এক পোস্টে তিনি স্পষ্ট করে জানান, মন্ত্রী হওয়ার খবর সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন।নিজের পোস্টে তামিম লেখেন, দিনভর তাকে ঘিরে যে গুঞ্জন ও সংবাদ ছড়িয়েছে, তা পুরোপুরি মিথ্যা। এ ধরনের কোনো প্রস্তাব তিনি পাননি বলেও জানান। একই সঙ্গে যাচাই-বাছাই ছাড়া এমন সংবাদ প্রচার না করার আহ্বান জানান সাবেক এই ক্রিকেটার।নতুন সরকার শপথ নিতে যাচ্ছে আগামী মঙ্গলবারের মধ্যে— এমন প্রেক্ষাপটে সম্ভাব্য মন্ত্রীদের তালিকা নিয়ে রাজনৈতিক মহলে যেমন আলোচনা চলছে, তেমনি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও চলছে নানা অনুমান। সেই অনুমানের জালেই জড়িয়ে যায় তামিমের নাম।তামিমের পাশাপাশি সাবেক ফুটবল তারকা আমিনুল ইসলাম-এর নামও ঘুরে বেড়াচ্ছে অনলাইনে। নির্বাচনের আগ থেকেই তাকে সম্ভাব্য ক্রীড়ামন্ত্রী হিসেবে কেউ কেউ উল্লেখ করছিলেন। যদিও তিনি ঢাকা-১৬ আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে জয় পাননি। বিশ্লেষকদের মতে, সরকার গঠনের সময় সম্ভাব্য মন্ত্রীদের নিয়ে জল্পনা নতুন কিছু নয়। তবে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের বিস্তারে এখন এসব গুঞ্জন মুহূর্তেই ছড়িয়ে পড়ে এবং তা অনেক সময় বিভ্রান্তির জন্ম দেয়। তামিম ইকবালের সরাসরি বক্তব্যে অন্তত তার ক্ষেত্রে সেই বিভ্রান্তির অবসান ঘটেছে। নতুন মন্ত্রীসভায় কারা থাকছেন— তার আনুষ্ঠানিক ঘোষণা না আসা পর্যন্ত তাই অপেক্ষাই একমাত্র ভরসা।/টিএ

ফেব্রুয়ারি ১৫, ২০২৬

আল-নাসরের জার্সিতে মাঠে ফিরছেন রোনালদো

সব জল্পনা-কল্পনা, ক্ষোভ আর বয়কটের অধ্যায় পেছনে ফেলে আবারো মাঠে ফিরছেন ক্রিস্তিয়ানো রোনালদো। সৌদি প্রো লিগে আল-নাসরের ম্যাচ বয়কটের সিদ্ধান্ত থেকে সরে এসে আগামী ১৪ ফেব্রুয়ারি আল-ফাতেহর বিপক্ষে ম্যাচেই মাঠে নামবেন পর্তুগিজ সুপারস্টার। ক্রীড়াবিষয়ক সংবাদমাধ্যম ইএসপিএনের প্রতিবেদনে এমনটাই জানা গেছে।৪১ বছর বয়সী এই তারকা এরই মধ্যে আল-নাসরের টানা দুই ম্যাচে মাঠে নামেননি। রোনালদোকে ছাড়াই আল-ইত্তিহাদ ও আল-রিয়াদের বিপক্ষে জয় পেলেও দলের প্রধান তারকার অনুপস্থিতি নিয়ে ভক্তদের মধ্যে প্রশ্ন আর উদ্বেগ বাড়ছিল।ইএসপিএনের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সৌদি আরবের পাবলিক ইনভেস্টমেন্ট ফান্ড (পিআইএফ)-এর সঙ্গে মতবিরোধের কারণেই মূলত ম্যাচ বয়কটের সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন রোনালদো। জানুয়ারির ট্রান্সফার উইন্ডোতে আল-নাসর প্রত্যাশামতো দল শক্তিশালী না করায় তিনি অসন্তুষ্ট ছিলেন।এই অসন্তোষ আরও বেড়ে যায়, যখন পিআইএফ-সমর্থিত আরেক ক্লাব আল-হিলাল জানুয়ারির দলবদলে আল-ইত্তিহাদ থেকে করিম বেনজেমাকে দলে ভেড়ায়। নিজের সাবেক রিয়াল মাদ্রিদ সতীর্থের এই দলবদলকে আল-নাসরের প্রতি অবহেলা হিসেবেই দেখেছিলেন রোনালদো। তবে শেষ পর্যন্ত দুই পক্ষই সমঝোতার পথে হাঁটে।সূত্র জানায়, রোনালদোর প্রধান দাবিগুলো মেনে নেওয়ার পরই মাঠে ফেরার সিদ্ধান্ত আসে। আল-নাসরের বকেয়া বেতন পরিশোধ করা হয়েছে এবং ক্লাব পরিচালনায় শীর্ষ কর্মকর্তাদের আগের স্বাধীনতা ফিরিয়ে দেওয়া হয়েছে। চলতি মৌসুমে এখন পর্যন্ত আল-নাসরের হয়ে ২২ ম্যাচে ১৮ গোল ও তিনটি অ্যাসিস্ট করেছেন রোনালদো। লিগ টেবিলে দলটি বর্তমানে দ্বিতীয় স্থানে, শীর্ষে থাকা আল-হিলালের থেকে মাত্র এক পয়েন্ট পিছিয়ে।/টিএ

ফেব্রুয়ারি ১০, ২০২৬

ভারত-পাকিস্তান টানাপোড়েনে নতুন মোড়, লাহোরে বিসিবি সভাপতি

টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ ঘিরে ভারত–পাকিস্তান–বাংলাদেশ ত্রিমুখী সংকট যখন চরমে, ঠিক তখনই হঠাৎ আলোচনায় এল আইসিসির জরুরি বৈঠক। এমন উত্তপ্ত প্রেক্ষাপটে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) প্রেসিডেন্ট আমিনুল ইসলাম আজ রোববার (৮ ফেব্রুয়ারি) সকালে পাকিস্তানের লাহোরে পৌঁছেছেন। সন্ধ্যায় তিনি আইসিসির এক জরুরি ভার্চুয়াল সভায় অংশ নেবেন, যেখানে সংস্থাটির অন্যান্য সদস্যরাও উপস্থিত থাকার কথা রয়েছে।পাকিস্তানের জিও নিউজের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, লাহোরে পৌঁছে আমিনুল ইসলাম পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ডের (পিসিবি) চেয়ারম্যান মহসিন নাকভির সঙ্গে সাক্ষাৎ করবেন। দিনের শেষ ভাগে তিনি যুক্ত হবেন আইসিসির সেই গুরুত্বপূর্ণ ভার্চুয়াল সভায়, যেখানে চলমান অচলাবস্থা নিরসনে আলোচনা হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে ভারতে গিয়ে খেলতে না পারা এবং এর জেরে পাকিস্তানের ভারত-ম্যাচ বয়কটের ঘোষণায় যে সংকট তৈরি হয়েছে, তার মধ্যেই এই বৈঠকের খবর সামনে আসে। এর আগে শনিবার ইএসপিএন ক্রিকইনফো ও ক্রিকবাজ জানায়, ভারতের বিপক্ষে ম্যাচ না খেলার বিষয়ে পিসিবির সঙ্গে আলোচনা শুরু করেছে আইসিসি।এই সংকটের সূত্রপাত বাংলাদেশের পেসার মোস্তাফিজুর রহমানকে আইপিএল থেকে অব্যাহতি দেওয়ার ঘটনার পর। সাম্প্রদায়িক উগ্রপন্থীদের হুমকির মুখে তাকে বাদ দেওয়ার ঘটনায় বাংলাদেশ সরকার নিরাপত্তা শঙ্কা প্রকাশ করে ভারতে বিশ্বকাপ দল পাঠাতে অস্বীকৃতি জানায়। বিসিবি ম্যাচ শ্রীলঙ্কায় স্থানান্তরের অনুরোধ জানালেও আইসিসি তা প্রত্যাখ্যান করে এবং একপর্যায়ে বাংলাদেশকে বিশ্বকাপ থেকেই সরিয়ে দেওয়া হয়।এরপর গত ১ ফেব্রুয়ারি পাকিস্তান সরকার ঘোষণা দেয়, তারা ভারতের বিপক্ষে খেলবে না। পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ জানান, ক্রিকেট প্রশাসনে রাজনীতির ব্যবহার এবং বাংলাদেশের পাশে দাঁড়াতেই এই সিদ্ধান্ত। ভারত-পাকিস্তান ম্যাচ থেকে বিশ্বকাপের বড় অঙ্কের রাজস্ব আসে বলে পাকিস্তানের অবস্থানে চাপে পড়েছে আইসিসি। এমন জটিল বাস্তবতায়ই এখন সমাধানের পথ খুঁজতে আলোচনা চলছে।/টিএ

ফেব্রুয়ারি ০৮, ২০২৬

বাংলাদেশ ছাড়া শুরু হলো ২০২৬ টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ

বাংলাদেশ ছাড়া আজ থেকে শুরু হচ্ছে ২০২৬ সালের টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের আসর। ২০০৭ সালে দক্ষিণ আফ্রিকায় প্রথমবারের মতো কুড়ি ওভারের এই বিশ্বকাপ আয়োজন করা হয়েছিল, এবং তার পর থেকে মোট ৯বার এই টুর্নামেন্ট অনুষ্ঠিত হয়েছে। বাংলাদেশের ক্রিকেট দল প্রতিবারই অংশ নিয়েছে, কিন্তু এবার লাল-সবুজের প্রতিনিধিরা নেই। এটি প্রথমবারের মতো, যখন বাংলাদেশ টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ থেকে বাদ পড়ল।বাংলাদেশের এই অনুপস্থিতির মূল কারণ নিরাপত্তা শঙ্কা। তাই বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি) ভারতের মাঠে কোনো দল পাঠায়নি। তবুও, দেশের তিনজন প্রতিনিধি বিশ্বকাপে দায়িত্ব পালন করবেন। লিটন দাসরা খেলছেন না, তবে ধারাভাষ্য প্যানেলে সুযোগ পেয়েছেন আতহার আলী খান। আম্পায়ার প্যানেলে আছেন শরফুদ্দৌলা ইবনে শহীদ ও গাজী সোহেল।শুরুর আগেই এবারের বিশ্বকাপ বিতর্কের কেন্দ্রবিন্দু হয়ে দাঁড়িয়েছে। কোন দল কেমন পারফর্ম করবে, কোন ক্রিকেটার নিজের দক্ষতা প্রদর্শন করবে—এসব আলোচনা এখনো পিছনে। এবারের বিশ্বকাপ প্রথমবারের মতো সর্বোচ্চ ২০টি দল নিয়ে অনুষ্ঠিত হচ্ছে। কিন্তু মাঠে খেলা শুরু হওয়ার আগেই যা ঘটেছে, তা আগে দেখা যায়নি। রাজনীতি, নিরাপত্তা উদ্বেগ এবং বিশ্লেষকদের নানা মতামত এই টুর্নামেন্টকে ঘিরে বিতর্কের ঝড় তুলেছে।উদ্বোধনী দিনে তিনটি ম্যাচ মাঠে গড়াবে। ভারতের সঙ্গে যৌথ আয়োজক শ্রীলঙ্কার কলম্বোতে নেদারল্যান্ডসের মুখোমুখি হবে পাকিস্তান। ভারতের কলকাতা শহরের ঐতিহ্যবাহী ইডেন গার্ডেনে ওয়েস্ট ইন্ডিজ-স্কটল্যান্ড ম্যাচ অনুষ্ঠিত হবে। ‘এ’ গ্রুপের ম্যাচে মুম্বাইয়ে স্বাগতিক ভারত খেলবে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে। বাংলাদেশ না থাকায় সুযোগ পেয়েছে স্কটল্যান্ড, যেখানে মুস্তাফিজুর রহমানকেও নিয়ে বিশেষ আলোচনা হয়েছে।মুস্তাফিজুর রহমানকে কলকাতা নাইট রাইডার্স আইপিএলের জন্য দলে নিয়েছিল, কিন্তু ভারতের কিছু উগ্রবাদী সংগঠনের চাপের ফলে তাকে দল থেকে বাদ দিতে হয়। নিরাপত্তাজনিত কারণে বিসিবি তাদের ম্যাচ ভারত থেকে সরানোর জন্য আইসিসিকে অনুরোধ করে, কিন্তু সেটি প্রত্যাখ্যান করা হয়। বাংলাদেশকে বাদ দিয়ে স্কটল্যান্ডকে টুর্নামেন্টে অন্তর্ভুক্ত করা হয়। এরপর পাকিস্তানও নিরাপত্তা উদ্বেগের কারণে ১৫ ফেব্রুয়ারি ভারতের বিপক্ষে ম্যাচ খেলবে না বলে ঘোষণা দেয়। এই সমস্ত ঘটনার মধ্য দিয়ে বিশ্বকাপ শুরু হলেও বিতর্কের শেষ কোথায় তা এখনো অজানা।/টিএ

ফেব্রুয়ারি ০৭, ২০২৬

ভারতে বিশ্বকাপ আয়োজন অনিশ্চয়তা নিয়ে যা বলছে বিসিসিআই

ঘনিয়ে আসছে আইসিসি টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ। আগামী ৭ ফেব্রুয়ারি শুরু হতে যাওয়া এই বৈশ্বিক টুর্নামেন্ট যৌথভাবে আয়োজন করছে ভারত ও শ্রীলঙ্কা। তবে উদ্বোধনের আগেই ভারতের একটি ভেন্যু ঘিরে তৈরি হয়েছে অনিশ্চয়তা। পশ্চিমবঙ্গে নিপাহ ভাইরাসের সংক্রমণের খবরে কলকাতায় বিশ্বকাপ ম্যাচ আয়োজন নিয়ে দেখা দিয়েছে উদ্বেগ ও জল্পনা।সূচি অনুযায়ী, কলকাতার ইডেন গার্ডেন্সে সেমিফাইনালসহ মোট ছয়টি ম্যাচ অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা। কিন্তু নিপাহ পরিস্থিতির কারণে ইংল্যান্ড ও অস্ট্রেলিয়া বিশ্বকাপে অংশগ্রহণ নিয়ে আপত্তি তুলেছে বলে আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমে খবর প্রকাশিত হয়েছে। যদিও ভারত সরকার ও বিসিসিআই স্পষ্টভাবে জানিয়েছে, বিশ্বকাপ আয়োজন নিয়ে আতঙ্কিত হওয়ার কোনো কারণ নেই।পশ্চিমবঙ্গে নিপাহ ভাইরাস নতুন নয়। রাজ্যে এই নিয়ে অষ্টমবারের মতো ভাইরাসটি শনাক্ত হলো। সর্বশেষ বারাসাতে দুই নারী নার্সের শরীরে নিপাহ ধরা পড়ে। তাদের আইসোলেশনে রেখে চিকিৎসা দেয়া হচ্ছে। আক্রান্তদের সংস্পর্শে আসা সকলের স্বাস্থ্য পরীক্ষা করা হলেও এখন পর্যন্ত সব রিপোর্ট নেগেটিভ এসেছে।ভারতীয় স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, বর্তমান পরিস্থিতিকে স্বাস্থ্য জরুরি অবস্থা বলা অতিরঞ্জিত। এটি একটি নিয়ন্ত্রিত স্থানীয় প্রাদুর্ভাব মাত্র। কেন্দ্র ও রাজ্য স্বাস্থ্য বিভাগ যৌথভাবে নজরদারি, পরীক্ষা ও মাঠপর্যায়ের তদন্তের মাধ্যমে দ্রুত সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণে এনেছে। একইসঙ্গে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা জানিয়েছে, নতুন কোনো নিপাহ রোগী শনাক্ত হয়নি এবং ভ্রমণ বা বাণিজ্যে কোনো নিষেধাজ্ঞার প্রয়োজন নেই।এদিকে, বিসিসিআই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া আতঙ্ককে ভিত্তিহীন বলে অভিহিত করেছে। সংস্থাটির এক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা জানান, খেলোয়াড়দের স্বাস্থ্য ও নিরাপত্তাই সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার। নিপাহ আক্রান্ত এলাকা ইডেন গার্ডেন্স থেকে প্রায় ৩০ কিলোমিটার দূরে হওয়ায় ম্যাচ আয়োজন নিয়ে কোনো ঝুঁকি নেই। নির্ধারিত সূচি অনুযায়ীই কলকাতায় বিশ্বকাপের ম্যাচগুলো অনুষ্ঠিত হবে বলে স্পষ্ট করেছে বিসিসিআই।/টিএ

জানুয়ারি ৩১, ২০২৬

ভারতে নিপাহ ভাইরাসের আতঙ্ক, বিশ্বকাপ নিয়ে শঙ্কা!

আইসিসি টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ শুরুর দিন যতই ঘনিয়ে আসছে, ততই নতুন করে উদ্বেগ তৈরি করছে ভারতে নিপাহ ভাইরাসের সংক্রমণ। আগামী ৭ ফেব্রুয়ারি টুর্নামেন্ট শুরুর কথা থাকলেও প্রাণঘাতী এই ভাইরাসের বিস্তার বিশ্বকাপ আয়োজন নিয়ে বড় ধরনের অনিশ্চয়তা সৃষ্টি করেছে। জনস্বাস্থ্য ঝুঁকি, বিদেশি দলগুলোর নিরাপত্তা এবং সার্বিক আয়োজন—সবকিছু মিলিয়ে পরিস্থিতি এখন আয়োজকদের জন্য বাড়তি দুশ্চিন্তার কারণ হয়ে উঠেছে।ভারতীয় গণমাধ্যমের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক নিপাহ সংক্রমণের ফলে টুর্নামেন্টের প্রস্তুতি, লজিস্টিক ব্যবস্থাপনা এবং অংশগ্রহণকারী বিদেশি দলগুলোর যাতায়াত পরিকল্পনা নিয়ে সংশয় দেখা দিয়েছে। বড় পরিসরের এই আন্তর্জাতিক আসর আয়োজনের ক্ষেত্রে জনস্বাস্থ্যের ঝুঁকি একটি বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়াতে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন সংশ্লিষ্টরা।ভারতের স্বাস্থ্য বিভাগ জানিয়েছে, পশ্চিমবঙ্গে এখন পর্যন্ত অন্তত পাঁচজন নিপাহ ভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছেন। তাদের মধ্যে কয়েকজনের শারীরিক অবস্থা আশঙ্কাজনক বলে জানা গেছে। সংক্রমণ ঠেকাতে এরই মধ্যে শতাধিক মানুষকে কোয়ারেন্টাইনে রাখা হয়েছে এবং ঝুঁকিপূর্ণ এলাকাগুলোতে নজরদারি জোরদার করা হয়েছে।এদিকে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে স্বাস্থ্য নিরাপত্তা ব্যবস্থা আরও কঠোর করা হয়েছে। সংক্রমণ যাতে দ্রুত ছড়িয়ে না পড়ে, সে জন্য অতিরিক্ত সতর্কতা গ্রহণ করা হচ্ছে বলে জানিয়েছেন স্বাস্থ্য কর্মকর্তারা। তারা সতর্ক করে বলেছেন, পরিস্থিতির অবনতি হলে বিশ্বকাপের সূচি, দলগুলোর চলাচল, নিরাপত্তা ব্যবস্থা এবং দর্শক উপস্থিতি নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নিতে হতে পারে।বিশেষজ্ঞদের মতে, নিপাহ সংক্রমণ যদি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যায়, তাহলে টুর্নামেন্টের সময়সূচি পুনর্নির্ধারণ কিংবা কঠোর বায়োসিকিউরিটি বিধিনিষেধ আরোপের সম্ভাবনাও উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না। এতে আন্তর্জাতিক দল ও সমর্থকদের মধ্যে উদ্বেগ আরও বাড়তে পারে। এমন বাস্তবতায় বিশ্বকাপ আয়োজন এখন এক অনিশ্চিত ও চ্যালেঞ্জিং পর্যায়ে দাঁড়িয়ে আছে, যা আন্তর্জাতিক ক্রিকেট কাউন্সিল (আইসিসি) নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছে বলে জানা গেছে।/টিএ

জানুয়ারি ২৭, ২০২৬
footer small logo

যোগাযোগ :

এটিএন বাংলা, ওয়াসা ভবন, ২য় তলা, ৯৮ কাজী নজরুল ইসলাম এভিনিউ, কাওরান বাজার, ঢাকা-১২১৫, বাংলাদেশ

ফোনঃ +88-02-55011931

সোশ্যাল মিডিয়া

youtube logotwitter logofacebook logo

Design & Developed by:

developed-company-logo