logo
youtube logotwitter logofacebook logo
/স্পোর্টস
আন্তর্জাতিক ক্রিকেটকে বিদায় জানালেন রুবেল - image

আন্তর্জাতিক ক্রিকেটকে বিদায় জানালেন রুবেল

15 এপ্রিল 2026, বিকাল 7:47

দীর্ঘ দেড় দশকের বর্ণাঢ্য ক্যারিয়ারের ইতি টানলেন বাংলাদেশের তারকা পেসার রুবেল হোসেন। ২০২২ সালে টেস্ট ক্রিকেট থেকে অবসর নেওয়ার পর এবার ওয়ানডে ও টি-টোয়েন্টি ফরম্যাট থেকেও নিজের অবসরের ঘোষণা দিয়েছেন তিনি। বুধবার (১৫ এপ্রিল) সন্ধ্যায় নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে এক আবেগঘন পোস্টের মাধ্যমে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটকে চূড়ান্তভাবে ‘গুডবাই’ জানান এই গতিদানব।আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে বিদায়ি বার্তায় রুবেল হোসেন লিখেছেন, "জাতীয় দল আমার আবেগ। কিন্তু একটা সময় আন্তর্জাতিক ক্রিকেট থেকে বিদায় নিতেই হতো। সেই চিন্তা করেই আন্তর্জাতিক ক্রিকেটকে গুডবাই জানালাম।" দেশের হয়ে দীর্ঘ যাত্রায় পাশে থাকার জন্য তিনি তার পরিবার, বন্ধু-বান্ধব, গণমাধ্যমকর্মী এবং অগণিত ভক্তদের প্রতি বিশেষ কৃতজ্ঞতা ও ভালোবাসা প্রকাশ করেছেন। আন্তর্জাতিক আঙিনায় লাল-সবুজ জার্সি তুলে রাখলেও মাঠের লড়াই এখনই থামছে না রুবেলের। তিনি জানিয়েছেন, দেশের ঘরোয়া ক্রিকেটের আসরগুলোতে খেলা চালিয়ে যাওয়ার প্রবল ইচ্ছা রয়েছে তার। বাকি সময়টাতেও ভক্তরা একইভাবে তার পাশে থাকবেন বলে বিশ্বাস করেন তিনি। ঘরোয়া টুর্নামেন্টগুলোতে নিজের অভিজ্ঞতাকে তরুণদের সাথে ভাগ করে নিতে চান এই অভিজ্ঞ পেসার।২০০৯ সালে ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে টেস্ট অভিষেকের মাধ্যমে আন্তর্জাতিক পথচলা শুরু হয় রুবেলের। ক্যারিয়ারে বাংলাদেশের হয়ে তিনি খেলেছেন ২৭টি টেস্ট, ১০৪টি ওয়ানডে এবং ২৮টি টি-টোয়েন্টি ম্যাচ। সাদা পোশাকে ২০২০ সালে পাকিস্তানের বিপক্ষে রাওয়ালপিন্ডিতে শেষ ম্যাচ খেললেও, সীমিত ওভারের ক্রিকেটে তিনি সর্বশেষ মাঠে নেমেছিলেন ২০২১ সালে। টি-টোয়েন্টিতে ২৮ ম্যাচে ২৮টি উইকেট নিয়ে মাঝারি মানের সফল হলেও ওয়ানডেতে তিনি ছিলেন দলের অন্যতম ভরসা। রুবেল হোসেনের ক্যারিয়ারের কথা উঠলেই সবার আগে মনে পড়ে ২০১৫ বিশ্বকাপের সেই ঐতিহাসিক মুহূর্ত। অ্যাডিলেডে রুবেলের বিধ্বংসী বোলিংয়েই ইংল্যান্ডকে হারিয়ে প্রথমবারের মতো বিশ্বকাপের কোয়ার্টার ফাইনালে পৌঁছেছিল বাংলাদেশ। তার সেই ইনসুইং আর গতিময় ডেলিভারিগুলো বাংলাদেশের ক্রিকেট ইতিহাসের অন্যতম শ্রেষ্ঠ অধ্যায় হিসেবে স্বর্ণাক্ষরে লেখা থাকবে।/টিএ

এপ্রিল ১৫, ২০২৬

আনচেলত্তির কঠিন শর্ত, ২০২৬ বিশ্বকাপে কি দেখা যাবে নেইমারকে?

২০২৬ বিশ্বকাপকে সামনে রেখে ব্রাজিল ফুটবল দলে নেইমারের ভবিষ্যৎ নিয়ে যখন ধোঁয়াশা তৈরি হয়েছে, ঠিক তখনই ভক্তদের মনে আশার সঞ্চার করেছেন সেলেসাও কোচ কার্লো আনচেলত্তি। আগামী মার্চ মাসের আন্তর্জাতিক প্রীতি ম্যাচের স্কোয়াডে জায়গা না পেলেও নেইমারের জন্য জাতীয় দলের দরজা একেবারে বন্ধ হয়ে যায়নি। আনচেলত্তি স্পষ্ট করে দিয়েছেন যে, নিজেকে প্রমাণ করার জন্য এই মহাতারকার হাতে এখনো দুই মাস সময় আছে। ফিটনেস আর পারফরম্যান্সের মানদণ্ডে উত্তীর্ণ হতে পারলে আবারও হলুদ জার্সিতে দেখা যেতে পারে নেইমারকে।ব্রাজিল জাতীয় দলের ইতিহাসের সর্বোচ্চ গোলদাতা নেইমার বর্তমানে খেলছেন তার শৈশবের ক্লাব সান্তোসে। তবে ২০২৩ সালের অক্টোবরে লিগামেন্টের গুরুতর চোট তাকে দীর্ঘ সময়ের জন্য মাঠের বাইরে পাঠিয়ে দেয়। গত ডিসেম্বরে হাঁটুতে অস্ত্রোপচারের ধকল কাটিয়ে ৩৪ বছর বয়সী এই ফরোয়ার্ডকে চলতি মৌসুমে ১০টি ম্যাচ মিস করতে হয়েছে। দীর্ঘ বিরতির পর ক্লাবের হয়ে মাঠে ফিরলেও জাতীয় দলের তীব্র প্রতিযোগিতার মুখে তাকে নিজের সক্ষমতা নতুন করে চেনাতে হচ্ছে।ফরাসি সংবাদমাধ্যম ‘লেকিপ’-কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে কার্লো আনচেলত্তি জানান, সিবিএফ এবং তিনি নিজে নেইমারকে নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছেন। আনচেলত্তির মতে, নেইমার গোল পাচ্ছেন এবং ভালো খেলছেন, তবে বিশ্বকাপের মতো বড় আসরে খেলার জন্য কেবল দক্ষতাই যথেষ্ট নয়, প্রয়োজন শতভাগ শারীরিক ফিটনেস। আনচেলত্তি সাফ জানিয়ে দিয়েছেন, দল ঘোষণার সময় তিনি কেবল তাদেরই বিবেচনায় নেবেন যারা শারীরিকভাবে সম্পূর্ণ প্রস্তুত থাকবেন।ভিনিসিয়ুস জুনিয়র, এনদ্রিক কিংবা রাফিনিয়াদের মতো তরুণ তুর্কিদের ভিড়ে দলে জায়গা হারানো নেইমারের জন্য কষ্টের। তবে এই হতাশাকে শক্তিতে রূপান্তর করতে চান তিনি। কিংস লিগ ব্রাজিলের এক অনুষ্ঠানে নেইমার পুনর্ব্যক্ত করেছেন যে, তার স্বপ্নের মৃত্যু ঘটেনি। বাদ পড়া তাকে কষ্ট দিলেও কঠোর পরিশ্রমের মাধ্যমে শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত লড়াই চালিয়ে যাওয়ার প্রত্যয় ব্যক্ত করেছেন তিনি। তার একমাত্র লক্ষ্য এখন শেষ দল ঘোষণার আগে কোচের আস্থার প্রতিদান দেওয়া।মাঠের লড়াইয়ের পাশাপাশি নেইমারের দলবদল নিয়ে চলছে নানা গুঞ্জন। সান্তোসের সঙ্গে ২০২৬ সাল পর্যন্ত চুক্তিবদ্ধ থাকলেও শোনা যাচ্ছে আমেরিকার মেজর লিগ সকারে (এমএলএস) পাড়ি জমাতে পারেন তিনি। গণমাধ্যমের খবর অনুযায়ী, এফসি সিনসিনাটি ইতোমধ্যেই তার সঙ্গে যোগাযোগ শুরু করেছে। তবে এই মুহূর্তে ক্লাব ক্যারিয়ারের চেয়েও নেইমারের কাছে বড় হয়ে দাঁড়িয়েছে নিজের শেষ বিশ্বকাপ রাঙানো। আর সেই লক্ষ্যেই এখন ঘাম ঝরাচ্ছেন ব্রাজিলের এই পোস্টার বয়।/টিএ

এপ্রিল ১৩, ২০২৬

নিউজিল্যান্ড সিরিজের জন্য বাংলাদেশের দল ঘোষণা

নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে আসন্ন হোম সিরিজের জন্য শনিবার (১১ এপ্রিল) চূড়ান্ত স্কোয়াড ঘোষণা করেছে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি)। নির্বাচক প্যানেল পাকিস্তান সিরিজের স্কোয়াডটিই হুবহু বজায় রেখেছেন। অর্থাৎ, পাকিস্তানের বিপক্ষে খেলা ক্রিকেটারদের ওপরই আস্থা রাখা হয়েছে; দলে নতুন কোনো মুখ যেমন যুক্ত হয়নি, তেমনি বাদ পড়েননি আগের কোনো সদস্যও।পাকিস্তানের বিপক্ষে শেষ সিরিজে আশানুরূপ পারফরম্যান্স করতে না পারলেও তরুণ তুর্কি আফিফ হোসেন ও সাইফ হাসানদের ওপর পুনরায় ভরসা রেখেছে বিসিবি। সিনিয়র ক্রিকেটারদের মধ্যে এই বহরে নিয়মিত সদস্য হিসেবে থাকছেন নাজমুল হোসেন শান্ত, মেহেদী হাসান মিরাজ এবং লিটন দাসের মতো অভিজ্ঞ ক্রিকেটাররা।আসন্ন এই সিরিজে কিউইদের বিপক্ষে তিনটি ওয়ানডে ও তিনটি টি-টোয়েন্টি ম্যাচ খেলবে টাইগাররা। ওয়ানডে সিরিজের লড়াই শুরু হবে ১৭ এপ্রিল থেকে। প্রথম দুটি ওয়ানডে মিরপুর শের-ই বাংলা স্টেডিয়ামে এবং ২৩ এপ্রিল সিরিজের শেষ ম্যাচটি অনুষ্ঠিত হবে সাগরিকা খ্যাত চট্টগ্রামের জহুর আহমেদ চৌধুরী স্টেডিয়ামে।টি-টোয়েন্টি সিরিজটি শুরু হবে ২৭ এপ্রিল থেকে। সংক্ষিপ্ত ফরম্যাটের প্রথম দুটি ম্যাচ হবে চট্টগ্রামে এবং ২ মে শেষ ম্যাচটি অনুষ্ঠিত হবে মিরপুরে। উল্লেখ্য যে, দেশের বিদ্যুৎ সাশ্রয়ের বিষয়টি বিবেচনায় রেখে ওয়ানডে ম্যাচগুলো সকাল ১১টা এবং টি-টোয়েন্টি ম্যাচগুলো বিকেল ৩টা থেকে শুরুর সিদ্ধান্ত নিয়েছে বোর্ড। মাত্র ২০০ টাকা খরচ করেই গ্যালারিতে বসে এই সিরিজ দেখার সুযোগ পাবেন দর্শকরা।ঘোষিত পূর্ণাঙ্গ ওয়ানডে স্কোয়াড মেহেদী হাসান মিরাজ (অধিনায়ক), সৌম্য সরকার, সাইফ হাসান, তানজিদ হাসান তামিম, নাজমুল হোসেন শান্ত, তাওহীদ হৃদয়, লিটন দাস, আফিফ হোসেন, মাহিদুল ইসলাম অঙ্কন, রিশাদ হোসেন, তানভীর ইসলাম, মুস্তাফিজুর রহমান, তাসকিন আহমেদ, শরিফুল ইসলাম এবং নাহিদ রানা।

এপ্রিল ১১, ২০২৬

দিনের আলোতে হবে বাংলাদেশ-নিউজিল্যান্ড সিরিজ

বিশ্বব্যাপী চলমান জ্বালানি সংকট ও বিদ্যুৎ সাশ্রয়ের বিষয়টি বিবেচনা করে নিউজিল্যান্ড সিরিজের সময়সূচিতে বড় পরিবর্তন এনেছে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি)। পূর্বনির্ধারিত দিবা-রাত্রির ম্যাচের পরিকল্পনা থেকে সরে এসে এখন সিরিজের সবকটি ম্যাচই অনুষ্ঠিত হবে দিনের আলোতে। মূলত ফ্লাডলাইটের ব্যবহার কমিয়ে বিদ্যুৎ খরচ সাশ্রয় করতেই এই সময়োপযোগী সিদ্ধান্ত নিয়েছে দেশের ক্রিকেট নিয়ন্ত্রক সংস্থা।বৃহস্পতিবার (৯ এপ্রিল) বিসিবি আনুষ্ঠানিকভাবে এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে নতুন এই সময়সূচি ঘোষণা করে। সংস্থাটি জানায়, চলতি মাসের ১৭ তারিখ থেকে শুরু হতে যাওয়া তিন ম্যাচের ওয়ানডে সিরিজের প্রতিটি ম্যাচ এখন থেকে সকাল ১১টায় মাঠে গড়াবে। এর ফলে পুরো ম্যাচটি দিনের আলোতেই শেষ করা সম্ভব হবে, যা জাতীয় পর্যায়ে বিদ্যুৎ সাশ্রয়ের লক্ষ্যমাত্রাকে ত্বরান্বিত করবে।কেবল ওয়ানডে সিরিজই নয়, সূচির এই পরিবর্তনের প্রভাব পড়েছে পরবর্তী টি-টোয়েন্টি সিরিজেও। বিসিবির তথ্যমতে, টি-টোয়েন্টি সিরিজের প্রতিটি ম্যাচ দুপুর ২টা থেকে শুরু করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। সাধারণত টি-টোয়েন্টি ম্যাচগুলো সন্ধ্যার পর শুরু হলেও বর্তমান পরিস্থিতির প্রেক্ষাপটে দর্শকদের বিকেলের মধ্যেই টানটান উত্তেজনার এই ফরম্যাটের লড়াই উপভোগ করতে হবে।এর আগে গত বুধবার বিসিবির অ্যাডহক কমিটির সভায় এই গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্তটি নেওয়া হয়। সভা শেষে এক সংবাদ সম্মেলনে বিসিবি সভাপতি তামিম ইকবাল জানান, জাতীয় স্বার্থে এবং বিদ্যুৎ সাশ্রয়ের কথা মাথায় রেখেই সময় এগিয়ে আনার পরিকল্পনা করা হচ্ছে। তিনি তখনই আভাস দিয়েছিলেন যে ওয়ানডে এবং টি-টোয়েন্টি ম্যাচগুলো দুপুরের আগেই শুরু করা হতে পারে।শেষ পর্যন্ত সভাপতির সেই ঘোষণা এবং পরিকল্পনা অনুযায়ী নিউজিল্যান্ড সিরিজের চূড়ান্ত সময়সূচি নির্ধারণ করল বিসিবি। এই সিদ্ধান্তের ফলে মাঠের ক্রিকেট যেমন সচল থাকবে, তেমনি রাষ্ট্রীয় জ্বালানি নীতিমালার প্রতিও বিসিবির দায়বদ্ধতা প্রকাশ পেল। এখন ক্রিকেটপ্রেমীদের অপেক্ষার পালা দিনের আলোতে কিউইদের বিপক্ষে টাইগারদের লড়াই দেখার।/টিএ

এপ্রিল ০৯, ২০২৬

নতুন মাঠে মেসির জাদুকরী গোল

ইন্টার মিয়ামির নতুন দুর্গ, নবনির্মিত ‘ন্যু স্টেডিয়াম’। গ্যালারিতে হাজার হাজার দর্শক অপেক্ষায় নতুন ইতিহাসের সাক্ষী হতে। ইন্টার মিয়ামির নতুন পথচলার শুরুটা যেন রূপকথার মতো হতে পারতো। তবে সেই রোমাঞ্চকর ম্যাচে ইতিহাস গড়ার অপেক্ষা আর টানটান উত্তেজনার মাঝেও শেষ পর্যন্ত মিয়ামিকে মাঠ ছাড়তে হয়েছে একরাশ আফসোস সঙ্গী করে। সবাই ভেবেছিল নতুন স্টেডিয়ামের ইতিহাসের প্রথম গোলটি আসবে জাদুকর লিওনেল মেসির পা থেকে। কিন্তু চিত্রনাট্য ছিল কিছুটা ভিন্ন। ম্যাচের মাত্র ৬ মিনিটেই অস্টিন এফসির ডিফেন্ডার গুইলহার্মে বিরোর গোলে স্তব্ধ হয়ে যায় পুরো গ্যালারি। মিয়ামির নতুন মাঠে ইতিহাসের প্রথম গোলটি লেখা হয়ে যায় বিরোর নামে। তবে সেই ধাক্কা কাটিয়ে উঠতে বেশি সময় নেয়নি স্বাগতিকরা।পিছিয়ে পড়ার ঠিক চার মিনিট পরেই জ্বলে ওঠেন কিংবদন্তি। ম্যাচের ১০ মিনিটে এক অসাধারণ হেডে বল জালে পাঠিয়ে মিয়ামিকে সমতায় ফেরান লিওনেল মেসি। নতুন স্টেডিয়ামে নিজের গোলের খাতা খুলে দর্শকদের উন্মাদনায় ভাসান আর্জেন্টাইন জাদুকর। মিয়ামির আক্রমণগুলো ধারালো হলেও অস্টিন এফসি বল দখলের লড়াইয়ে নিজেদের আধিপত্য বজায় রেখেছিল পুরো প্রথমার্ধ জুড়ে।দ্বিতীয়ার্ধে আবারও লিড নেয় অস্টিন। ৫৩ মিনিটে জেইডেন নেলসনের গোলে পিছিয়ে পড়ে মিয়ামি। ৭৩ মিনিটে বদলি হিসেবে মাঠে নেমেই নিজের জাত চেনান লুইস সুয়ারেজ। মাত্র আট মিনিটের মাথায় গোল করে দলকে ২-২ সমতায় ফেরান এই উরুগুয়ান তারকা। ঘরের মাঠে পয়েন্ট ভাগাভাগির শঙ্কায় যখন ম্যাচ দুলছিল, তখন নাটকীয়তা তখনও শেষ হয়নি।ম্যাচের একদম শেষ প্রান্তে ৯০ মিনিটে মেসির সেই বিখ্যাত ফ্রি-কিক পোস্টে লেগে ফিরে আসলে স্বপ্নভঙ্গ হয় দর্শকদের। ফিরতি বলে সুয়ারেজ জালে বল জড়ালেও রেফারি তা বাতিল করে দেন। শেষ পর্যন্ত ২-২ ড্র নিয়ে মাঠ ছাড়ে ইন্টার মিয়ামি। তবে থামলে চলবে না, আগামী সপ্তাহে এই একই মাঠে নিউইয়র্ক রেড বুলসের বিপক্ষে পূর্ণ পয়েন্টের লক্ষ্য নিয়ে মাঠে নামবে মেসির দল।

এপ্রিল ০৫, ২০২৬

টাইব্রেকারে ভারতকে হারিয়ে চ্যাম্পিয়ন বাংলাদেশ

সাফ অনূর্ধ্ব-২০ চ্যাম্পিয়নশিপের সিংহাসনে নিজেদের আধিপত্য ধরে রাখলো লাল-সবুজের বাংলাদেশ। চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী ভারতকে হারিয়ে টানা দ্বিতীয়বারের মতো শিরোপা জয়ের স্বাদ পেল বাংলার যুবারা। এর আগে ২০১৯, ২০২২ এবং ২০২৫ সালের বিভিন্ন ফাইনালে ভারতের কাছে হারের যে আক্ষেপ ছিল, শুক্রবার মালদ্বীপের মালেতে সেই ইতিহাস পাল্টে দিয়ে প্রথমবার ফাইনালে ভারতকে হারানোর গৌরব অর্জন করলো বাংলাদেশ।মালের জাতীয় স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত এই মেগা ফাইনালে শুরু থেকেই দুই দল ছিল আক্রমণাত্মক। ম্যাচের প্রথমার্ধে আধিপত্য বিস্তার করে খেলে বাংলাদেশ, বেশ কিছু দারুণ সুযোগ তৈরি করলেও গোলের দেখা পায়নি। অন্যদিকে, দ্বিতীয়ার্ধে ভারত আক্রমণের ধার বাড়ালেও বাংলাদেশের জমাট রক্ষণভাগ এবং গোলরক্ষক মাহিনের দৃঢ়তায় কোনো গোল করতে সক্ষম হয়নি। ফলে নির্ধারিত ৯০ মিনিটের খেলা গোলশূন্য ড্রয়ে শেষ হয়।ম্যাচ গড়ায় সরাসরি টাইব্রেকারে, যেখানে ছড়িয়ে পড়ে চরম উত্তেজনা। ভারতের প্রথম শট নিতে আসা ঋষি সিংয়ের আক্রমণ ডান দিকে ঝাঁপিয়ে পড়ে দুর্দান্তভাবে রুখে দেন বাংলাদেশের গোলরক্ষক ইসমাইল হোসেন মাহিন। এরপর ভারত লক্ষ্যভেদ করলেও বাংলাদেশের স্যামুয়েল রাকসামের চতুর্থ শটটি ক্রসবারে লেগে ফিরে আসলে গ্যালারিতে উৎকণ্ঠা বাড়ে এবং স্কোরলাইন ৩-৩ এ সমতায় ফেরে।নাটকীয়তার তখনও বাকি ছিল। পঞ্চম শট নিতে এসে ভারতের ওমং দোদুম বল পোস্টের বাইরে মারলে বাংলাদেশের জয়ের সুযোগ তৈরি হয়। চূড়ান্ত শট নিতে আসেন রোনান সুলিভান। অসীম সাহসিকতায় এক নিখুঁত ‘পানেনকা’ শটে ভারতের জাল কাঁপিয়ে দেন তিনি। ৪-৩ ব্যবধানের এই জয়ে বাঁধনহারা উল্লাসে মেতে ওঠে পুরো বাংলাদেশ দল।এই জয়ের মাধ্যমে বয়সভিত্তিক সাফ টুর্নামেন্টের ইতিহাসে নেপালের সমান দ্বিতীয়বার শিরোপা জেতার রেকর্ড গড়লো বাংলাদেশ। যদিও সাত আসরের মধ্যে চারবার চ্যাম্পিয়ন হয়ে ভারত এখনো শীর্ষে, তবে টানা দুই শিরোপা জিতে বাংলার যুবারা জানান দিল যে, দক্ষিণ এশিয়ার ফুটবলে এখন তাদেরই রাজত্ব। এই জয় কেবল একটি ট্রফি নয়, বরং বাংলাদেশের ফুটবলের আগামীর এক উজ্জ্বল সম্ভাবনার প্রতিফলন।

এপ্রিল ০৪, ২০২৬

আন্তর্জাতিক ক্রিকেটকে বিদায় জানালেন প্রোটিয়া তারকা

আন্তর্জাতিক ক্রিকেটকে বিদায় জানালেন দক্ষিণ আফ্রিকার অভিজ্ঞ ব্যাটার রাসি ভ্যান ডার ডুসেন। ২০২৬-২৭ মৌসুমের জন্য ক্রিকেট দক্ষিণ আফ্রিকার কেন্দ্রীয় চুক্তি থেকে বাদ পড়ার পরই আজ বৃহস্পতিবার সব ধরনের আন্তর্জাতিক ফরম্যাট থেকে অবসরের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত জানান ৩৭ বছর বয়সী এই ক্রিকেটার। দীর্ঘদিনের ক্যারিয়ারের ইতি টেনে তিনি জানান, প্রোটিয়াদের জার্সি গায়ে জড়ানো ছিল তার জীবনের অন্যতম বড় অর্জন এবং সম্মানের বিষয়।সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ইনস্টাগ্রামে এক দীর্ঘ বার্তায় ডুসেন তার ক্রিকেট যাত্রার পেছনের ত্যাগ ও প্রাপ্তির কথা তুলে ধরেন। তিনি কৃতজ্ঞতা জানান দক্ষিণ আফ্রিকা ক্রিকেট বোর্ড, সতীর্থ, কোচ এবং বিশেষ করে তার স্ত্রী ও পরিবারের প্রতি। ভক্তদের উদ্দেশ্যে তিনি বলেন, দেশের হয়ে প্রতিনিধিত্ব করতে পারা ছিল এক কঠিন পরীক্ষার মতো, যা তাকে যেমন লড়াকু করেছে, তেমনি দুহাত ভরে দিয়েছে সাফল্যও। তরুণদের উদ্দেশ্যে তিনি বড় স্বপ্ন দেখার আহ্বান জানান।২০১৮ সালে জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে অভিষেকের পর তিন ফরম্যাটেই নিজের কার্যকারিতা প্রমাণ করেছেন ডানহাতি এই ব্যাটার। ১৮টি টেস্ট, ৭১টি ওয়ানডে এবং ৫৭টি টি-টোয়েন্টি ম্যাচ খেলেছেন তিনি। এর মধ্যে ওয়ানডে ফরম্যাটে তিনি ছিলেন প্রোটিয়াদের অন্যতম স্তম্ভ। ২০২৫ সালের ১৬ আগস্ট অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে খেলা ম্যাচটিই হয়ে থাকল তার বর্ণাঢ্য আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ারের শেষ ম্যাচ।ওয়ানডে ক্রিকেটে রাসি ভ্যান ডার ডুসেনের সাফল্য ছিল চোখে পড়ার মতো। কিংবদন্তি এবি ডি ভিলিয়ার্সের পর দক্ষিণ আফ্রিকার ওয়ানডে ইতিহাসে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ ৫০.১৩ গড় নিয়ে তিনি ক্যারিয়ার শেষ করলেন। ৬৫ ওয়ানডে ইনিংসে ৬টি সেঞ্চুরি ও ১৭টি ফিফটির সাহায্যে তিনি করেছেন ২৬৫৭ রান। ২০১৯ বিশ্বকাপের আগে শুরু হওয়া তার দুর্দান্ত ধারাবাহিকতা তাকে ডি ভিলিয়ার্সের অনুপস্থিতিতেও দলের প্রধান ভরসায় পরিণত করেছিল।আন্তর্জাতিক ক্রিকেট ছাড়লেও খেলা থেকে পুরোপুরি দূরে সরে যাচ্ছেন না ডুসেন। তিনি ঘরোয়া ক্রিকেটে লায়ন্সের হয়ে খেলা চালিয়ে যাবেন এবং বিভিন্ন ফ্র্যাঞ্চাইজি লিগেও তাকে নিয়মিত দেখা যাবে। পাশাপাশি দক্ষিণ আফ্রিকার আগামী প্রজন্মের ক্রিকেটারদের গড়ে তুলতে প্রশিক্ষণ ও পরামর্শদাতার ভূমিকা পালন করার অঙ্গীকার করেছেন তিনি। দেশের প্রতি ভালোবাসা এবং ক্রিকেটের প্রতি অনুরাগ বজায় রেখেই মাঠের লড়াই থেকে সরে দাঁড়ালেন এই টপ অর্ডার ব্যাটার।

এপ্রিল ০২, ২০২৬

সাকিব আল হাসানের জন্মদিন আজ

বাংলাদেশের ক্রিকেট ইতিহাসের বরপুত্র এবং বিশ্বসেরা অলরাউন্ডার সাকিব আল হাসানের আজ ৩৯তম জন্মদিন। ১৯৮৭ সালের এই দিনে মাগুরা জেলায় জন্মগ্রহণ করেন তিনি। মাগুরার সেই ছোট্ট ছেলেটি যে একদিন বিশ্ব ক্রিকেটের মানচিত্র বদলে দেবেন, তা হয়তো তখন কেউ কল্পনাও করেনি। আজ ভক্তদের অগণিত ভালোবাসায় সিক্ত হচ্ছেন এই কিংবদন্তি।২০০৬ সালে মাত্র ১৯ বছর বয়সে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে পা রাখেন সাকিব। অভিষেকের পর থেকেই ব্যাট আর বলের জাদুতে বুঁদ করে রেখেছেন ক্রিকেট বিশ্বকে। সময়ের সাথে সাথে নিজেকে এমন উচ্চতায় নিয়ে গেছেন যে, ক্রিকেট ইতিহাসে তিনিই একমাত্র খেলোয়াড় যিনি একইসাথে তিন ফরম্যাটেই আইসিসি র‍্যাঙ্কিংয়ের এক নম্বর অলরাউন্ডার হওয়ার অভাবনীয় কীর্তি গড়েছেন।২০১১ সালের বিশ্বকাপে ঘরের মাঠে বাংলাদেশকে নেতৃত্ব দিয়েছেন সাকিব আল হাসান। মাঠের ভেতরের পারফরম্যান্স যেমন তাকে দিয়েছে ‘পোস্টার বয়’-এর মর্যাদা, তেমনি মাঠের বাইরের নানা বিতর্কও তাকে ঘিরে থেকেছে প্রায়ই। তবে দিনশেষে মাঠের লড়াকু মানসিকতা আর দলের প্রয়োজনে নিজেকে উজাড় করে দেওয়ার অদম্য স্পৃহা তাকে দলের অপরিহার্য ভরসার প্রতীক করে তুলেছে।পরিসংখ্যানের পাতায় চোখ রাখলে সাকিবের মাহাত্ম্য আরও স্পষ্ট হয়। আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে ৬৫০-এর বেশি উইকেটের পাশাপাশি ১৪ হাজারের বেশি রান তাকে বসিয়েছে অনন্য এক সিংহাসনে। বিশেষ করে এক বিশ্বকাপে ৬০০-এর বেশি রান এবং ১০টির বেশি উইকেট নেওয়ার বিরল নজির একমাত্র তারই দখলে। টেস্ট ও ওয়ানডে—উভয় ফরম্যাটেই তার হাজার হাজার রান এবং শত শত উইকেটের পরিসংখ্যান তাকে করেছে সর্বকালের অন্যতম সেরা অলরাউন্ডার। টেস্ট ক্রিকেটে ৬৫ ম্যাচে ৪৩৬৭ রান ও ২৩১ উইকেট এবং ওয়ানডেতে ২৩০ ম্যাচে ৭০৮৬ রানসহ ৩০১ উইকেট শিকার করা সাকিব কেবল একজন খেলোয়াড় নন, বরং বাংলাদেশ ক্রিকেটের এক অবিচ্ছেদ্য অংশ। এই জীবন্ত কিংবদন্তির জন্মদিনে ভক্ত-অনুরাগীদের একটাই প্রার্থনা—আগামী দিনগুলোতেও তিনি যেন এভাবেই লাল-সবুজের পতাকাকে বিশ্বমঞ্চে গর্বের সাথে উঁচিয়ে ধরেন।/টিএ

মার্চ ২৪, ২০২৬

বিদেশের মাটিতে দেশের ক্রিকেট: সিডনিতে বসছে ‘বাংলা হান্ড্রেড লিগ’-এর জমজমাট আসর

অস্ট্রেলিয়ার সিডনিতে বসবাসরত প্রবাসী বাংলাদেশিদের ক্রিকেট উন্মাদনাকে এক নতুন উচ্চতায় নিয়ে যেতে আয়োজিত হতে যাচ্ছে ‘বাংলা হান্ড্রেড লিগ (বিএইচএল) সিজন-১’। ইউনিলিংক গ্লোবাল সলুশনের পৃষ্ঠপোষকতায় এই ফ্র্যাঞ্চাইজি টুর্নামেন্টটি কেবল মাঠের লড়াইয়ে সীমাবদ্ধ নয়, বরং এটি সিডনির বাংলাদেশি কমিউনিটির মিলনমেলায় পরিণত হতে যাচ্ছে।এই আয়োজনের অন্যতম বিশেষত্ব হলো ‘লাইভ প্লেয়ার অকশন’। প্রবাসের কমিউনিটি ক্রিকেটে এমন আধুনিক ও পেশাদার সংযোজন এবারই প্রথম, যা টুর্নামেন্টকে ঘিরে দর্শক ও খেলোয়াড়দের মাঝে বাড়তি রোমাঞ্চ তৈরি করেছে।টুর্নামেন্টের প্রধান সমন্বয়ক আতীকুর রহমান সজীব বলেন, ‘‘পেশাদার পরিবেশে প্রবাসের মেধাবী ক্রিকেটারদের প্রতিভা বিকাশের লক্ষ্যেই আমাদের এই আয়োজন।’’ টুর্নামেন্টের ব্র্যান্ড অ্যাম্বাসেডর হিসেবে যুক্ত হয়ে আয়োজনের জৌলুস বাড়িয়ে দিয়েছেন জাতীয় দলের সাবেক তারকা ইমরুল কায়েস।এই আসরে শিরোপার লড়াইয়ে নামছে ঐতিহ্যবাহী ছয়টি অঞ্চলের প্রতিনিধিত্বকারী দল—ঢাকা পাওয়ার ব্লেজার্স, চট্টগ্রাম কিংস, ময়মনসিংহ জায়ান্টস, খুলনা ফাইটার্স, রংপুর রাইডার্স এবং কুমিল্লা সুপার স্টার্স। স্থানীয় উদ্যোক্তা ও ব্যবসায়ীদের পৃষ্ঠপোষকতায় প্রতিটি দলই এখন চূড়ান্ত প্রস্তুতির পথে। মাঠের লড়াইয়ে ভারসাম্য বজায় রাখতে প্রতিটি দলেই থাকছেন অভিজ্ঞ ‘আইকনিক’ ক্রিকেটাররা।আগামী ২৮ মার্চ ২০২৬ তারিখে সিডনির লাকেম্বা লাইব্রেরিতে অনুষ্ঠিত হবে ঐতিহাসিক প্লেয়ার অকশন। এই নিলাম থেকেই নির্ধারিত হবে কোন তারকা লড়বেন কোন দলের হয়ে। ক্রিকেটপ্রেমীদের জন্য আনন্দের বিষয় হলো, এআর স্পোর্টস নেটওয়ার্কের কারিগরি সহায়তায় প্রতিটি ম্যাচ ফেসবুক ও ইউটিউবে সরাসরি সম্প্রচার করা হবে।অত্যাধুনিক ক্যামেরা ও প্রাণবন্ত ধারাভাষ্যের মাধ্যমে দর্শকরা ঘরে বসেই উপভোগ করতে পারবেন পূর্ণাঙ্গ ক্রিকেট আমেজ। সবকিছু ঠিক থাকলে আগামী ১৯ এপ্রিল ২০২৬ থেকে মাঠে গড়াবে এই লিগ। আয়োজকদের বিশ্বাস, সবার সম্মিলিত অংশগ্রহণে এই আসরটি বিদেশের মাটিতে বাংলাদেশি ক্রিকেটের এক গৌরবোজ্জ্বল অধ্যায় সূচনা করবে।

মার্চ ২০, ২০২৬

তানজিদ তামিমের প্রথম আন্তর্জাতিক সেঞ্চুরি: লড়ছে বাংলাদেশ

পাকিস্তানের বিপক্ষে সিরিজ নির্ধারণী মহাগুরুত্বপূর্ণ ম্যাচে আজ মিরপুরের শেরে বাংলা স্টেডিয়ামে যেন রুদ্রমূর্তি ধারণ করেছেন টাইগার ওপেনার তানজিদ হাসান তামিম। বাঁচা-মরার এই লড়াইয়ে টস হেরে ব্যাটিংয়ে নেমে শুরু থেকেই পাকিস্তানি বোলারদের ওপর চড়াও হন দুই টাইগার ওপেনার। তাদের আক্রমণাত্মক ব্যাটিংয়ে ভর করে কোনো উইকেট না হারিয়েই দলীয় একশ রানের মাইলফলক স্পর্শ করে বাংলাদেশ।ইনিংসের শুরুতে সাইফ হাসানকে সাথে নিয়ে বেশ শক্ত ভিত গড়ে দেন তানজিদ। দলীয় স্কোর একশ পার হওয়ার পর ব্যক্তিগত ৩৬ রানে শাহিন শাহ আফ্রিদির বলে বোল্ড হয়ে সাজঘরে ফেরেন সাইফ। তবে সঙ্গীকে হারালেও উইকেটের অন্য প্রান্তে বিন্দুমাত্র বিচলিত হননি তানজিদ। বরং সময়ের সাথে সাথে তার ব্যাটের ধার যেন আরও বাড়তে থাকে। সাইফের বিদায়ের পর ক্রিজে আসেন নাজমুল হোসেন শান্ত। তানজিদকে যোগ্য সঙ্গ দেওয়ার চেষ্টা করলেও ব্যক্তিগত ২৭ রানে হারিস রউফের শিকার হয়ে প্যাভিলিয়নে ফেরেন তিনি। দ্রুত দুই উইকেট হারিয়ে কিছুটা চাপে পড়লেও লিটন দাসকে সঙ্গে নিয়ে সেই চাপ সামাল দেন তানজিদ। তাদের দায়িত্বশীল ব্যাটিংয়ে বড় সংগ্রহের পথে এগিয়ে যায় স্বাগতিকরা। ইনিংসের ৩৩তম ওভারের শেষ বলে দর্শকদের উল্লাসে ভাসিয়ে নিজের প্রথম আন্তর্জাতিক সেঞ্চুরি পূর্ণ করেন তানজিদ হাসান তামিম। হারিস রউফকে চমৎকার এক ছক্কা মেরে তিন অঙ্কের ঘরে পৌঁছান তিনি। মাত্র ৯৮ বলে খেলা এই বিধ্বংসী ইনিংসে ছিল ৭টি ছক্কা ও ৬টি চারের মার। এটি তার ক্যারিয়ারের এক স্মরণীয় মুহূর্ত হয়ে থাকবে।এর আগে ২০২৪ সালে শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে ৮৪ রান ছিল তানজিদের ক্যারিয়ার সেরা, আজ সেই রেকর্ড ভেঙে প্রথমবার সেঞ্চুরির স্বাদ পেলেন তিনি। এই প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত বাংলাদেশের সংগ্রহ ৩৩ ওভার শেষে ২ উইকেটে ১৭৭ রান। তানজিদের এই অনবদ্য শতক টাইগারদের একটি বিশাল পুঁজি গড়ার স্বপ্ন দেখাচ্ছে।/টিএ

মার্চ ১৫, ২০২৬

প্রথম বাংলাদেশি হিসেবে ইংল্যান্ডের ‘দ্য হানড্রেড’-এ মোস্তাফিজ

ক্রিকেট বিশ্বের অন্যতম রোমাঞ্চকর টুর্নামেন্ট ইংল্যান্ডের ‘দ্য হানড্রেড’-এ এবার লাল-সবুজের প্রতিনিধি হিসেবে নাম লেখালেন মোস্তাফিজুর রহমান। প্রথম বাংলাদেশি ক্রিকেটার হিসেবে এই আসরে সুযোগ পেয়ে ইতিহাস গড়েছেন ‘কাটার মাস্টার’। ১ লাখ পাউন্ড, অর্থাৎ বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় ১ কোটি ৬৪ লাখ টাকার আকাশছোঁয়া মূল্যে তাকে দলে ভিড়িয়েছে বার্মিংহাম ফিনিক্স।এবারের ড্রাফটে মোস্তাফিজের সঙ্গে বাংলাদেশের আরও একজন প্রতিনিধি ছিলেন উদীয়মান লেগ স্পিনার রিশাদ হোসেন। সম্প্রতি বিগ ব্যাশে দুর্দান্ত পারফর্ম করে রিশাদ সবার নজর কাড়লেও, দ্য হানড্রেডের নিলামে তাকে নিয়ে কোনো দল আগ্রহ দেখায়নি। ফলে এবারের মতো অবিক্রিতই থাকতে হয়েছে এই তরুণ তুর্কিকে।আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অভিষেকের পর থেকেই ফ্র্যাঞ্চাইজি লিগগুলোতে মোস্তাফিজের কদর সব সময় তুঙ্গে। ২০১৬ সালে আইপিএল দিয়ে শুরু হওয়া সেই জয়যাত্রা আজও থামেনি। কাটার এবং স্লোয়ারের জাদুতে বিশ্বের বাঘা বাঘা ব্যাটসম্যানদের পরাস্ত করে তিনি নিজেকে প্রমাণ করেছেন অনন্য এক উচ্চতায়।সবশেষ আইপিএল নিলামে মোস্তাফিজকে নিয়ে বেশ কাড়াকাড়ি হয়েছিল, যেখানে ৯ কোটি ২০ লাখ রুপিতে তাকে দলে নিয়েছিল কলকাতা নাইট রাইডার্স। তবে মাঠের বাইরের অনাকাঙ্ক্ষিত বিতর্ক ও উগ্র রাজনৈতিক চাপের মুখে শেষ পর্যন্ত তাকে স্কোয়াড থেকে বাদ দিতে বাধ্য হয় কেকেআর কর্তৃপক্ষ।আইপিএলের তিক্ত অভিজ্ঞতার রেশ কাটতে না কাটতেই মোস্তাফিজের সামনে খুলে যায় নতুন দুয়ার। সরাসরি চুক্তিতে ৬ কোটি ৪৪ লাখ রুপিতে তাকে দলে নেয় পাকিস্তান সুপার লিগের দল লাহোর কালান্দার্স। সব মিলিয়ে একের পর এক বড় টুর্নামেন্টে সুযোগ পেয়ে ফিজ আবারো প্রমাণ করলেন—ফর্ম সাময়িক হলেও ক্লাস চিরস্থায়ী।

মার্চ ১৪, ২০২৬

পাকিস্তানকে ১১৪ রানেই রুখে দিল বাংলাদেশ: নাহিদ রানার ৫ উইকেট

মিরপুর শেরেবাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়ামে তিন ম্যাচ সিরিজের প্রথম ওয়ানডেতে পাকিস্তানের বিপক্ষে দাপুটে সূচনা করেছে বাংলাদেশ। বুধবার টস জিতে সফরকারী পাকিস্তানকে প্রথমে ব্যাটিংয়ের আমন্ত্রণ জানান টাইগার অধিনায়ক। বাংলাদেশের নিয়ন্ত্রিত বোলিংয়ে পাকিস্তান মাত্র ৩০.৪ ওভারে ১১৪ রানেই অলআউট হয়ে যায়।শুরুটা অবশ্য পাকিস্তানের জন্য বেশ ইতিবাচক ছিল। বিনা উইকেটে ৪১ রান তুলে স্কোরবোর্ডে ভালো সংগ্রহের ইঙ্গিত দিচ্ছিল তারা। কিন্তু ওপেনিং জুটি ভাঙার পরই শুরু হয় নাটকীয় ব্যাটিং বিপর্যয়। মাত্র ৪১ রান যোগ করতেই পাকিস্তান তাদের ওপরের সারির ৯টি উইকেট হারিয়ে চরম সংকটে পড়ে। এক সময় মনে হচ্ছিল, সফরকারীরা দলীয় স্কোর ১০০ পার করতে পারবে কি না।দলের এই চরম বিপর্যয়ে শেষ উইকেটে হাল ধরেন ফাহিম আশরাফ। লেগ স্পিনার আবরার আহমেদকে সাথে নিয়ে তিনি ৩২ রানের একটি লড়াকু জুটি গড়েন। ফাহিম আশরাফের ব্যক্তিগত সর্বোচ্চ ৩৭ রানের সুবাদেই পাকিস্তান শেষ পর্যন্ত ১১৪ রান তুলতে সক্ষম হয়। এই জুটিটি না জমলে পাকিস্তানের ইনিংস ১০০ রানের নিচেই গুটিয়ে যাওয়ার সম্ভাবনা ছিল।বাংলাদেশের এই বোলিং তান্ডবের নায়ক ছিলেন তরুণ পেসার নাহিদ রানা। তিনি মাত্র ৭ ওভার বল করে ২৪ রান খরচায় একাই শিকার করেন ৫টি উইকেট। তাকে যোগ্য সঙ্গ দেন অভিজ্ঞ মেহেদি হাসান মিরাজ, যিনি ১০ ওভারে ২৯ রান দিয়ে নেন ৩টি উইকেট। এছাড়া মুস্তাফিজুর রহমান ও তাসকিন আহমেদ একটি করে উইকেট শিকার করে পাকিস্তানের ইনিংস দ্রুত শেষ করতে সাহায্য করেন।আগামী বছরের শেষদিকে অনুষ্ঠেয় বিশ্বকাপের সরাসরি মূলপর্বে খেলতে হলে বাংলাদেশকে র‍্যাঙ্কিংয়ের সেরা আটে থাকতে হবে। বর্তমানে ১০ম অবস্থানে থাকা টাইগারদের জন্য এই সিরিজটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। সিরিজের প্রথম ম্যাচেই এমন দাপুটে বোলিং পারফরম্যান্স বাংলাদেশের র‍্যাঙ্কিং উন্নতির লক্ষ্যে বড় একটি ধাপ হিসেবে দেখা হচ্ছে।/টিএ

মার্চ ১১, ২০২৬
footer small logo

যোগাযোগ :

এটিএন বাংলা, ওয়াসা ভবন, ২য় তলা, ৯৮ কাজী নজরুল ইসলাম এভিনিউ, কাওরান বাজার, ঢাকা-১২১৫, বাংলাদেশ

ফোনঃ +88-02-55011931

সোশ্যাল মিডিয়া

youtube logotwitter logofacebook logo

Design & Developed by:

developed-company-logo