logo
youtube logotwitter logofacebook logo
/অন্যান্য
পরিকল্পনা ও উন্নয়ন নিয়ন্ত্রণে ক্রমাগত আপোষে ঢাকার বাসযোগ্যতা ফিরবে না: আইপিডি - image

পরিকল্পনা ও উন্নয়ন নিয়ন্ত্রণে ক্রমাগত আপোষে ঢাকার বাসযোগ্যতা ফিরবে না: আইপিডি

11 জুলাই 2026, বিকাল 3:40

​ত্রুটিপূর্ণ উন্নয়ন দর্শন, স্বার্থান্বেষী মহলের চাপে পরিকল্পনায় ক্রমাগত অন্যায্য আপোষ, উন্নয়ন ব্যবস্থাপনা ও নিয়ন্ত্রণে সরকারী সংস্থাসমূহের ব্যর্থতা, আইনের প্রয়োগে সরকারী সংস্থাসমুহের অনীহা এবং জনবান্ধব নগর ব্যবস্থাপনার অনুপস্থিতির কারণে বিপুল পরিমাণ বিনিয়োগের পরও ঢাকাকে বাসযোগ্য করা যাচ্ছে না বলে মনে করে ইনস্টিটিউট ফর প্ল্যানিং এন্ড ডেভেলপমেন্ট (আইপিডি)। ঢাকা মহানগরীর পরিকল্পনার ক্রমাগত সংশোধন ও কাঁটাছেড়া, হাজার হাজার কোটি টাকার বাজেট বিনিয়োগ এবং দৃশ্যমান বড় বড় উন্নয়ন ও অবকাঠামো প্রকল্প বাস্তবায়ন করার পরও বৈশ্বিক বাসযোগ্যতা সূচকে ঢাকার অবস্থান আবারও তলানিতে গিয়ে ঠেকেছে। লন্ডনভিত্তিক গবেষণা প্রতিষ্ঠান ইকোনমিস্ট ইন্টেলিজেন্স ইউনিটের (ইআইইউ) এর প্রকাশিত ‘গ্লোবাল লিভেবিলিটি ইনডেক্স’ এ ১৭৩টি শহরের মধ্যে ঢাকার অবস্থান ১৭১তম। দেশের জিডিপি ও অর্থনীতির মূল কেন্দ্রে থাকা রাজধানী শহর ঢাকার বাসযোগ্যতার ক্রমাবনতির বিষয়টি অত্যন্ত উদ্বেগের বলে মনে করে আইপিডি। একইসাথে এই অবস্থার পেছনে দায়ীদের চিহ্নিত করবার পেছনে সরকারের নির্লিপ্ততা ও উদাসীনতা শহরের ভবিষ্যতকে আরও ঝুঁকিতে ফেলেছে বলে মনে করে আইপিডি।বিগত বছরগুলোতে ঢাকার যোগাযোগ ও অবকাঠামো খাতে ফ্লাইওভার, এক্সপ্রেসওয়েসহ অসংখ্য বড় বড় প্রকল্প নেওয়া হয়েছে। কিন্তু এই সমস্ত বিনিয়োগের সিংহভাগই ছিল অবকাঠামোসর্বস্ব, যা সাধারণ নগরবাসীর প্রতিদিনের যাতায়াত, পরিবেশ বা জীবনযাত্রার মানোন্নয়নে দীর্ঘমেয়াদী ইতিবাচক প্রভাব ফেলতে ব্যর্থ হয়েছে। বিনিয়োগ ও পরিকল্পনার পরও ঢাকার বাসযোগ্যতার উত্তরণ না হবার পেছনে বেশ কিছু কারণ রয়েছে বলে মনে করে আইপিডি ।• ​পরিকল্পনায় ক্রমাগত আপোষ ও গোষ্ঠী স্বার্থে বারংবার সংশোধন: রাজধানী ঢাকাকে বাঁচাতে ঢাকার স্ট্রাকচার প্ল্যান বা কৌশলগত পরিকল্পনা এবং বিশদ অঞ্চল পরিকল্পনা (ড্যাপ) এর প্রস্তাবিত পরিকল্পনা, নীতি ও কৌশলকে যথাযথ বাস্তবায়ন না করে প্রভাবশালীদের চাপে বারবার সেখানে আপোষ করা হয়েছে। ২০২২ সালে সর্বশেষ ড্যাপ প্রণয়ন এর তিন বছরের মাথায় আবাসন ব্যবসায়ীদের চাপে দুইবার ড্যাপ সংশোধন করা হয়েছে। বর্তমান সরকারকে আবাসন ব্যবসায়ীরা সম্প্রতি আবার ফার বাড়ানোর জন্য ড্যাপ পুনরায় সংশোধন এর জন্য ইতিমধ্যে চাপ দিচ্ছে। বিস্ময়কর হলো পরিকল্পনাবিদদের সতর্কবার্তা উপেক্ষা করে গোষ্ঠী স্বার্থে এই পরিবর্তনসমূহ ঢাকার বাসযোগ্যতা ধ্বংসের অন্যতম প্রধান কারণ। জলাশয়-জলাধার-জলাভূমি রক্ষা, সবুজ এলাকা সংরক্ষণ এবং জনঘনত্ব নিয়ন্ত্রণের মতো অতি প্রয়োজনীয় পরিকল্পনাগুলো স্বার্থান্বেষী মহলের ব্যবসায়িক মুনাফার স্বার্থে সংশোধন ও কাটছাঁট করে পুরো পরিকল্পনার মূল চেতনাকেই ধ্বংস করা হয়েছে। • ভুল উন্নয়ন দর্শন এবং সমন্বয়হীন অবকাঠামো ও উন্নয়ন প্রকল্প: ঢাকা শহরের বাসযোগ্যতার ক্রমাবনতির পেছনে ভুল উন্নয়ন দর্শন, সমন্বয়হীন অবকাঠামো ও উন্নয়ন প্রকল্প, উন্নয়ন নিয়ন্ত্রণে সরকারের ধারাবাহিক ব্যর্থতার দায় রয়েছে বলে মনে করে আইপিডি। শহরের প্রকৃত টেকসই উন্নয়ন এবং বাসযোগ্যতা বৃদ্ধির জন্য প্রয়োজন মানসম্মত আবাসন এলাকা তৈরি, নাগরিক সুবিধাদির সার্বজনীন অধিকার নিশ্চিত করা, পরিবেশ সুরক্ষা, গণপরিবহন ব্যবস্থার আধুনিকায়ন, এবং হাঁটার পরিবেশ নিশ্চিত করা দরকার ছিল। অথচ আমাদের উন্নয়ন ভাবনা কেবল কংক্রিটের বড় বড় অবকাঠামো নির্মাণের মধ্যেই সীমাবদ্ধ। বিভিন্ন সেবা সংস্থার মধ্যে সমন্বয়হীনতার কারণে এই প্রকল্পগুলো উল্টো জনগণের দুর্ভোগ ও পরিবেশ দূষণ বাড়িয়েছে। • ​উন্নয়ন নিয়ন্ত্রণে চরম ব্যর্থতা: ঢাকা মহানগরীতে একের পর উন্নয়ন ও অবকাঠামো প্রকল্প নেওয়া হলেও ঢাকা শহরের ডেভেলপমেন্ট কন্ট্রোল বা উন্নয়ন নিয়ন্ত্রণ এর কোনো কার্যকর উদ্যোগ নেই। ইমারত নির্মাণ বিধিমালা অমান্য করে জলাভূমি ভরাট, উন্মুক্ত স্থান দখল এবং যত্রতত্র বহুতল ভবন নির্মাণ চললেও নিয়ন্ত্রক সংস্থা রাজউক, সিটি কর্পোরেশনসহ নগর সংস্থাসমুহের নীরব ভূমিকার তেমন কোন পরিবর্তন নেই। • ওয়ার্ডভিত্তিক সমস্যা চিহ্নিতকরণ ও বিকেন্দ্রীকৃত পরিকল্পনার অভাব: ঢাকা শহরের একেকটি এলাকা তথা ওয়ার্ড এর বৈশিষ্ট্য, জনঘনত্ব এবং নাগরিক সংকট সম্পূর্ণ ভিন্ন। অথচ আমাদের নগর পরিকল্পনা ও উন্নয়ন প্রকল্পগুলো এখনও উপর থেকে চাপিয়ে দেওয়া বা টপ-ডাউন প্রকৃতির। স্থানীয় পর্যায়ে—অর্থাৎ প্রতিটি ওয়ার্ডের পানি সরবরাহ, ড্রেনেজ ব্যবস্থা, বর্জ্য ব্যবস্থাপনা, ফুটপাত, পার্ক ও খেলার মাঠের সুনির্দিষ্ট চাহিদা ও সংকটগুলোকে বৈজ্ঞানিক উপায়ে ম্যাপ বা চিহ্নিত করে কার্যকর স্থানীয় কর্মপরিকল্পনা নেওয়া হচ্ছে না।• জনসংখ্যা ও জনঘনত্ব নিয়ন্ত্রণে ব্যর্থতা:ঢাকা শহরের ধারণক্ষমতা ইতিমধ্যে তার সীমা অতিক্রম করেছে। মেগা প্রকল্প বা বড় বড় অবকাঠামো তৈরি করেও ঢাকার বাসযোগ্যতা ফেরানো সম্ভব হচ্ছে না, কারণ এর মূল মূলে রয়েছে অনিয়ন্ত্রিত জনসংখ্যা, অতি-জনঘনত্ব এবং উন্নয়ন নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থার চরম ব্যর্থতা। ঢাকার বর্তমান জনঘনত্ব পৃথিবীর অন্যতম সর্বোচ্চ, যা নাগরিক সুবিধাদি ও পরিষেবার ওপর প্রচন্ড চাপ সৃষ্টি করছে। ফলে উন্নয়ন এর বিকেন্দ্রীকরণ এর মাধ্যমে ঢাকার ওপর জনসংখ্যার চাপ কমাতে না পারলে কোনো পরিকল্পনাই সফল হবে না।• আবাসন খাতের কাঠামোগত বৈষম্য ও নিম্ন আয়ের মানুষের আবাসন সংকট: ঢাকার বিশদ অঞ্চল পরিকল্পনা (ড্যাপ) এবং জাতীয় নগর উন্নয়ন নীতিতে সকল শ্রেণীর মানুষের জন্য অন্তর্ভুক্তিমূলক আবাসনের সুস্পষ্ট নির্দেশনা থাকা সত্ত্বেও, ঢাকার আবাসন খাত সম্পূর্ণভাবে উচ্চ ও উচ্চ-মধ্যবিত্ত শ্রেণীর বাণিজ্যিক স্বার্থে নিয়ন্ত্রিত হচ্ছে। ঢাকার কর্মক্ষম জনসংখ্যার সিংহভাগ তথা পোশাক শ্রমিক, দিনমজুর, রিকশাচালক ও নিম্ন আয়ের মানুষদের জন্য সাশ্রয়ী আবাসন নিশ্চিতে রাষ্ট্রীয় বা বেসরকারি পর্যায়ে তেমন কোনো কার্যকর উদ্যোগ নেই। পরিকল্পনায় ক্রমাগত আপোষের কারণে নিম্ন আয়ের মানুষ অত্যন্ত অস্বাস্থ্যকর ও মানবিক বিপর্যয়কর বস্তি বা অনানুষ্ঠানিক বসতিতে তুলনামূলক বেশি ভাড়ায় বাস করতে বাধ্য হচ্ছেন।

জুলাই ১১, ২০২৬

ব্যাংক কর্মকর্তা আরিফুল ইসলাম হত্যাকাণ্ডে জেবিএবি’র প্রতিবাদ

উত্তরা ব্যাংক পিএলসি গোপিনাথপুর শাখা, ব্রাম্মণবাড়িয়ার কর্মকর্তা জনাব মোঃ আরিফুল ইসলামকে সন্ত্রাসী হামলার মাধ্যমে হত্যাকাণ্ডের তীব্র নিন্দা, প্রতিবাদ ও দোষী সন্ত্রাসী খুনিদের অতিসত্বর গ্রেফতারের দাবি জানিয়েছে জাতীয়তাবাদী ব্যাংকার্স এসোসিয়েশন বাংলাদেশ জেবিএবি কেন্দ্রীয় কমিটি। জেবিএবি কেন্দ্রীয় কমিটির আহবায়ক জনাব মোঃ ইকবাল হোসেন ও সদস্য সচিব জনাব মোঃ মোস্তাফিজুর রহমান মোস্তাক এক শোকবার্তায় উক্ত সন্ত্রাসী হামলার তীব্র নিন্দা, প্রতিবাদ ও সন্ত্রাসীদের গ্রেপ্তারের এ দাবি জানান।নিহত আরিফুল ইসলাম উত্তরা ব্যাংক লিমিটেডের কসবা উপজেলার গোপীনাথপুর শাখার প্রিন্সিপাল অফিসার ছিলেন। তিনি জয়পুরহাটের পাচঁবিবি উপজেলার বাসিন্দা। তিনি কসবার গোপীনাথপুর গ্রামের একটি বাড়িতে ভাড়া থাকতেন।উল্লেখ্য, গত সোমবার আরিফুল ব্যাংকিং কার্যক্রম শেষে সন্ধ্যা সাতটার দিকে বাড়ির উদ্দেশে রওনা দেন। গোপীনাথপুর বাজার অতিক্রম করে বাসায় যাওয়ার পথে তাঁর ওপর হামলা করে দুর্বত্তরা। একপর্যায়ে তারা ব্যাংক কর্মকর্তার মাথাসহ শরীরের বিভিন্ন স্থানে এলোপাতাড়ি ছুরিকাঘাত করে। সে সময় তাঁর চিৎকারে স্থানীয় লোকজন দৌড়ে এগিয়ে গেলে দুর্বৃত্তরা ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যায়। খবর পেয়ে উত্তরা ব্যাংকের লোকজন ঘটনাস্থলে পৌঁছে তাঁকে উদ্ধার করে কসবা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে রাতেই তাঁকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপতালে নেওয়া হয়। সেখানে শরীরের অবস্থার আরও অবনতি হলে তাঁকে রাজধানীর একটি বেসরকারি হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখানকার নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে (আইসিইউ) স্থানান্তর করা হলে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মঙ্গলবার বেলা সাড়ে তিনটার দিকে তাঁর মৃত্যু হয়।মহান আল্লাহ মরহুম ব্যাংক কর্মকর্তাকে জান্নাতের সর্বোচ্চ মাকাম দান করুন। শোক সন্তপ্ত পরিবারের সকলকে ধৈর্য ধারণ করার তৌফিক দান করুন। আমিন। এ ঘটনায় ব্যাংকার সমাজের মধ্যে শোক ও ভীতির সঞ্চার হয়েছে। একজন দায়িত্বরত কর্মকর্তার উপর ন্যক্করজনক এমন হামলা মেনে নেওয়া যায় না।জাতীয়তাবাদী ব্যাংকার্স এসোসিয়েশন বাংলাদেশ (জেবিএবি) কেন্দ্রীয় কমিটির আহবায়ক মোঃ ইকবাল হোসেন ও সদস্য সচিব মোঃ মোস্তাফিজুর রহমান মোস্তাক এ হত্যাকান্ডের তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানানোর পাশাপাশি সন্ত্রাসীদের গ্রপ্তারের মাধ্যমে উপযুক্ত শাস্তি নিশ্চিত করার জোর দাবি জানান এবং উত্তরা ব্যাংক কর্তৃপক্ষকে নিহত কর্মকর্তার পরিবারকে পর্যাপ্ত আর্থিক সহযোগীতা প্রদান ও সহানুভূতিশীল দৃষ্টি রাখার অনুরোধ জানান । একই সাথে ব্যাংকারদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য সরকারের প্রতি দাবি জানিয়েছেন।/টি

জুলাই ০৯, ২০২৬

দক্ষিণ এশিয়ায় জলবায়ু কূটনীতি ও তরুণদের লড়াই: কাঠমান্ডু থেকে পোখরা, নতুন আশার আলো

জলবায়ু পরিবর্তনের চরম ও নির্মম বাস্তবতার মুখোমুখি দাঁড়িয়ে বাংলাদেশসহ দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলো। কখনো অসময়ের বন্যা, কখনো তীব্র তাপদাহ, আবার কখনো সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধি, প্রকৃতির এই রুদ্ররূপ এখন এই অঞ্চলের কোটি কোটি মানুষের নিত্যদিনের সঙ্গী। কিন্তু ঐতিহাসিকভাবে কিংবা বর্তমানের পরিসংখ্যানে, বিশ্বজুড়ে যে গ্রিনহাউস গ্যাস নির্গমন এবং পরিবেশ দূষণ ঘটছে, তার জন্য দক্ষিণ এশিয়ার এই দরিদ্র ও উন্নয়নশীল দেশগুলোর দায় একেবারেই নগণ্য। দায় যাদের সবচেয়ে বেশি, সেই উন্নত বিশ্ব প্রতিনিয়ত কার্বন নিঃসরণ বাড়িয়েই চলেছে, কিন্তু ক্ষতিগ্রস্ত রাষ্ট্রগুলোকে ন্যায্য ক্ষতিপূরণ দিতে তারা চরম উদাসীন।এমন এক বৈশ্বিক ও আঞ্চলিক সংকটের প্রেক্ষাপটে, দক্ষিণ এশিয়ায় জলবায়ু নেতৃত্ব, আঞ্চলিক সহযোগিতা এবং টেকসই উন্নয়নকে এগিয়ে নিতে নেপালে শুরু হয়েছে পাঁচ দিনব্যাপী ‘দ্বিতীয় আন্তর্জাতিক জলবায়ু ক্যাম্প-২০২৬’। হিমালয়কন্যা নেপালের রাজধানী কাঠমান্ডু এবং অন্যতম পর্যটন নগরী পোখরায় ৭-১১ জুলাই অনুষ্ঠিত হচ্ছে এই বিশাল আয়োজন। যেখানে বাংলাদেশ, নেপাল, পাকিস্তানসহ দক্ষিণ এশিয়ার বিভিন্ন দেশের দেড় শতাধিক তরুণ জলবায়ু কর্মী, গবেষক, শিক্ষার্থী ও পরিবেশ আন্দোলনের প্রতিনিধিরা অংশ নিচ্ছেন।সহযোগিতা ভিক্ষা নয়, এটা আমাদের অধিকারমঙ্গলবার (৭ জুলাই) সন্ধ্যায় কাঠমান্ডুর প্রাণকেন্দ্রে ‘ওয়ালনাট বিস্ট্রো’-তে (Walnut Bistro) এই জলবায়ু ক্যাম্পের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করা হয়। এতে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন নেপাল সরকারের কৃষি, বন ও পরিবেশমন্ত্রী গীতা চৌধুরী। নিজের বক্তব্যে জলবায়ু ইস্যুতে উন্নত বিশ্বের বিরুদ্ধে তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করে ক্ষতিগ্রস্ত দেশগুলোর অধিকারের কথা জোরালোভাবে তুলে ধরেন এই মন্ত্রী। গীতা চৌধুরী বলেন, জলবায়ু সংকট মোকাবিলায় উন্নত বিশ্বের সহযোগিতা চাওয়া মানে কোনো ভিক্ষা চাওয়া নয়, এটা আমাদের অধিকার। তারা অবাধে পরিবেশ দূষণ করে আমাদের জীবন ও প্রকৃতিকে বিপদে ফেলছে, সুতরাং ক্ষতিপূরণ তাদেরই দিতে হবে। এই ঐতিহাসিক দায়ের অবসান ঘটাতে হবে। তিনি আরও উল্লেখ করেন যে, আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে উন্নত দেশগুলোর কাছ থেকে নিজেদের ন্যায্য পাওনা বুঝে নিতে ক্ষতিগ্রস্ত দেশগুলোর মধ্যে ঐক্য গড়ে তোলা অত্যন্ত জরুরি। এই ধরনের আঞ্চলিক ক্যাম্প সেই ঐক্য গড়ার ক্ষেত্রে মাইলফলক হিসেবে কাজ করবে বলেও মত গীতা চৌধুরীর।অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তব্যে নেপালের সংসদ সদস্য ও এপিএমডিডি'র চেয়ারম্যান ড. অর্জুন কার্কি বলেন, জলবায়ু পরিবর্তন কোনো ভৌগোলিক সীমানা চেনে না। কোনো একটি নির্দিষ্ট দেশের পক্ষে এককভাবে এই বৈশ্বিক মহামারি সদৃশ সংকট সমাধান করা অসম্ভব। তিনি বলেন, সবার সমন্বিত প্রচেষ্টায় জলবায়ু পরিবর্তনের ক্ষতি মোকাবিলা করতে হবে। আঞ্চলিক সহযোগিতার মাধ্যমে এই কাজ সহজ হবে। বিনিয়োগ, জ্ঞান ও পারস্পরিক সহায়তার মাধ্যমে এই অঞ্চলের মানুষের জীবন রক্ষা করা আমাদের যৌথ দায়িত্ব।তাত্ত্বিক আলোচনা নয়, বাংলাদেশের সামনে এখন কঠিন বাস্তবতাউদ্বোধনী অধিবেশনে বিশেষ আকর্ষণ হিসেবে উপস্থিত ছিলেন নেপালে নিযুক্ত বাংলাদেশের হাইকমিশনার শফিকুর রহমান। তিনি বাংলাদেশের ভৌগোলিক অবস্থান এবং জলবায়ুগত ঝুঁকির কথা স্মরণ করিয়ে দিয়ে বলেন, জলবায়ু পরিবর্তন এখন আর কোনো সেমিনার বা এসি রুমে বসে আলোচনার তাত্ত্বিক বিষয় নয়। বাংলাদেশের মতো উপকূলীয় ও নদীমাতৃক রাষ্ট্রের জন্য এটা এখন এক কঠিন ও নিষ্ঠুর বাস্তবতা। প্রতিদিন মানুষ ভিটেমাটি হারাচ্ছে, লবণাক্ততার কারণে জমি উর্বরতা হারাচ্ছে।বাংলাদেশি এই কূটনীতিক জোর দিয়ে বলেন, জলবায়ুর এই আসন্ন ও চলমান অভিঘাত মোকাবিলায় দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোর মধ্যে এখন দক্ষতা অর্জন ও দ্রুত সমন্বিত পদক্ষেপ নেওয়া জরুরি। তার কথায়, আমাদের এখন সবচেয়ে বেশি প্রয়োজন তথ্য ও প্রযুক্তি বিনিময়। কার্বন কমানোর পাশাপাশি কীভাবে আমরা অভিযোজন প্রক্রিয়া জোরদার করতে পারি, তা নিয়ে কাজ করতে হবে। এই ধরনের আন্তর্জাতিক ক্যাম্পের মাধ্যমেই বিভিন্ন দেশের তরুণ ও বিশেষজ্ঞদের মধ্যে দক্ষতা বিনিময়ের চমৎকার সুযোগ তৈরি হয় বলেও মন্তব্য করেন তিনি।তরুণদের জলবায়ু নেতৃত্বএই ক্যাম্প আয়োজনের পেছনে মূল চালিকাশক্তি হিসেবে কাজ করছে দক্ষিণ এশিয়ার বেশ কয়েকটি পরিবেশবাদী সংগঠন। এর মধ্যে অন্যতম প্রধান মিশন গ্রিন বাংলাদেশ (Mission Green Bangladesh)। ক্যাম্পের লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য সম্পর্কে জানতে চাইলে সংস্থাটির নির্বাহী পরিচালক আহসান রনি বলেন, এই আয়োজনের মূল লক্ষ্য দক্ষিণ এশিয়ার তরুণদের মধ্যে একটি শক্তিশালী ও দীর্ঘমেয়াদি নেটওয়ার্কিং বা যোগাযোগ সূত্র সৃষ্টি করা।“আমরা প্রতিবেশী দেশগুলোর জলবায়ুজনিত সমস্যাগুলো সম্পর্কে কেবল গণমাধ্যমে দেখি। কিন্তু এই ক্যাম্পে তরুণরা সরাসরি একে অপরের মুখোমুখি বসে অভিজ্ঞতা ও সংকটের গল্প বিনিময় করতে পারছে। একইসঙ্গে তরুণদেরকে আগামীর জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবিলায় নেতৃত্ব দেওয়ার উপযোগী হিসেবে গড়ে তোলাই আমাদের মূল লক্ষ্য। কারণ আজকের তরুণরাই আগামী দিনের নীতিনির্ধারক হবে, যোগ করেন আহসান রনি।৫ দিনের ব্যস্ত সূচীতে তরুণ জলবায়ু কর্মীরাপাঁচ দিনব্যাপী এই আন্তর্জাতিক জলবায়ু ক্যাম্পের কর্মসূচিগুলো সাজানো হয়েছে তাত্ত্বিক জ্ঞান এবং মাঠপর্যায়ের বাস্তব অভিজ্ঞতার এক অপূর্ব সমন্বয়ে। ক্যাম্পের প্রথম  দিন কাঠমান্ডুতে জলবায়ু বিজ্ঞান, নেতৃত্ব বিকাশ, কমিউনিটিভিত্তিক অভিযোজন, নীতি সংলাপ ও পরিবেশ শিক্ষার ওপর আন্তর্জাতিক বিশেষজ্ঞদের পরিচালনায় সেমিনার অনুষ্ঠিত হয়েছে। এরপর ক্যাম্পের প্রতিনিধি দলটি যাবে নেপালের বিখ্যাত পর্যটন শহর পোখরায়। সেখানে ঘরের ভেতরের আলোচনার গণ্ডি পেরিয়ে প্রতিনিধিরা প্রকৃতির কাছাকাছি গিয়ে জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব অবলোকন করবেন।দক্ষিণ এশিয়ার নতুন আশার আলোবিশ্বের মোট জনসংখ্যার এক-চতুর্থাংশ বাস করে দক্ষিণ এশিয়ায়। অথচ এই বিশাল জনগোষ্ঠীর জীবন আজ জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে হুমকির মুখে। দক্ষিণ এশীয় আঞ্চলিক সহযোগিতা সংস্থা (সার্ক) দীর্ঘদিন ধরে নিষ্ক্রিয় থাকায় জলবায়ু ইস্যুতে এই অঞ্চলের দেশগুলোর যৌথ দরকষাকষির প্ল্যাটফর্ম দুর্বল হয়ে পড়েছে। এমন সময়ে তরুণদের এই উদ্যোগ আঞ্চলিক কূটনীতিতে এক নতুন মাত্রা যোগ করছে।আয়োজক এবং আন্তর্জাতিক জলবায়ু বিশেষজ্ঞদের প্রত্যাশা, এই ক্যাম্প দক্ষিণ এশিয়ার তরুণদের মধ্যে জলবায়ু নেতৃত্বের একটি শক্তিশালী ও নতুন নেটওয়ার্ক গড়ে তুলবে। এই ক্যাম্প থেকে প্রাপ্ত জ্ঞান, অভিজ্ঞতা এবং পারস্পরিক মেলবন্ধন অংশগ্রহণকারীদের নিজ নিজ দেশে ফিরে গিয়ে টেকসই উন্নয়ন ও জলবায়ু অভিযোজন কার্যক্রমে আরও কার্যকর ও জোরালো ভূমিকা রাখতে সক্ষম করে তুলবে বলেও দাবি সংশ্লিষ্টদের।কাঠমান্ডুর বুক থেকে শুরু হওয়া তরুণ পরিবেশকর্মীদের এই সম্মিলিত কণ্ঠস্বর ও অধিকারের দাবি একদিন বৈশ্বিক জলবায়ু নীতি নির্ধারণে প্রভাব ফেলবে এবং উন্নত বিশ্বকে তাদের ঐতিহাসিক দায় স্বীকার করতে বাধ্য করবে, এমনটাই আশা করছেন এই ক্যাম্পের প্রতিনিধিরা।

জুলাই ০৮, ২০২৬

অসহায় মানুষের সেবায় নিবেদিত প্রাণ পুলিশ সদস্য দোলন

পুলিশ—শব্দটি উচ্চারিত হলেই চোখের সামনে ভেসে ওঠে খাকি পোশাকে কঠোর শৃঙ্খলা, আইন প্রয়োগের দৃঢ়তা এবং অপরাধ দমনে নিরলস এক প্রতিচ্ছবি। সাধারণ মানুষের মনে পুলিশের পরিচয় যেন দায়িত্ব, কর্তব্য ও কঠোরতার মধ্যেই সীমাবদ্ধ। অথচ এই পরিচয়ের আড়ালেও এমন কিছু মানুষ রয়েছেন, যাদের মানবিকতা ইউনিফর্মের গণ্ডি পেরিয়ে সমাজে আশার আলো ছড়িয়ে দেয়। তারা প্রমাণ করেন, আইন রক্ষার পাশাপাশি মানুষের হৃদয়ও জয় করা যায় ভালোবাসা, সহমর্মিতা ও নিঃস্বার্থ সেবার মাধ্যমে। তেমনই একজন ব্যতিক্রমী মানুষ বাংলাদেশ পুলিশের কনস্টেবল মো. দোলন, যিনি সবার কাছে শুধু ‘দোলন’ নামেই পরিচিত। আইনশৃঙ্খলা রক্ষার দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি সমাজের সবচেয়ে অবহেলিত, অসহায় ও সুবিধাবঞ্চিত মানুষের মুখে হাসি ফোটানোই যেন তার জীবনের ব্রত। ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ (ডিএমপি) থেকে শুরু করে পাহাড়-সমতলের নানা প্রান্তজুড়ে ছড়িয়ে আছে তার নীরব অথচ অনন্য মানবিক অভিযাত্রার অসংখ্য অনুপ্রেরণার গল্প।শৈশবের লালিত স্বপ্ন ও খাকি পোশাকে পদার্পণমো. দোলনের বেড়ে ওঠা লক্ষ্মীপুর জেলায়। ছোটবেলা থেকেই তার মনের কোণে সুপ্ত একটা ইচ্ছে ডানা মেলতÑ সমাজের অসহায় ও পিছিয়েপড়া মানুষের জন্য কিছু করার। কিন্তু মধ্যবিত্ত বা সাধারণ পরিবারের নানাবিধ সীমাবদ্ধতার কারণে ছাত্রজীবনে সেই স্বপ্নগুলোকে পুরোপুরি বাস্তবায়ন করা সম্ভব হয়নি। ২০১৬ সালে তিনি যখন বাংলাদেশ পুলিশে একজন সাধারণ কনস্টেবল হিসেবে যোগদান করেন, তখন তার সামনে খুলে যায় এক নতুন দিগন্ত। পরিবারকে অর্থনৈতিকভাবে সহযোগিতা করার পাশাপাশি তিনি লক্ষ্য করেন, তৃণমূল পর্যায়ের পুলিশিং নিয়ে সাধারণ মানুষের মনে কিছু নেতিবাচক ধারণা রয়েছে। দোলন সিদ্ধান্ত নেন, তিনি তার কাজের মাধ্যমে এই ধারণাকে বদলে দেবেন এবং খাকি পোশাকের আড়ালে লুকিয়ে থাকা আসল ‘জনগণের বন্ধু’রূপটি ফুটিয়ে তুলবেন।পাহাড়ের বুকে শিক্ষার আলো : বান্দরবানের ‘মানবিক পাঠশালা’কনস্টেবল দোলনের চাকরি জীবনের শুরুটা হয়েছিল দেশের অন্যতম দুর্গম অঞ্চল পার্বত্য জেলা বান্দরবানে। পাহাড়ি অঞ্চলের অপার সৌন্দর্যের আড়ালে শিক্ষার আলো থেকে বঞ্চিত শত শত শিশুর করুণ দশা দোলনের হৃদয়কে নাড়া দেয়। তিনি বুঝতে পারেন, কেবল অন্ন-বস্ত্রের জোগান সাময়িক স্বস্তি দিলেও শিক্ষার অভাব একটি প্রজন্মকে অন্ধকারের দিকে ঠেলে দেয়। এই ভাবনা থেকেই স্থানীয় কিছু উদ্যমী স্বেচ্ছাসেবীদের সঙ্গে নিয়ে তিনি গড়ে তোলেন ‘মানবিক পাঠশালা’। বান্দরবান সদর উপজেলার মুসলিম পাড়ায় শুরু হওয়া এই পাঠশালায় প্রায় ৬৮ জন পাহাড়ি ও বাঙালি সুবিধাবঞ্চিত শিশু শিক্ষার সুযোগ পায়। নিজের বেতনের একটি বড় অংশ দিয়ে তিনি এই শিশুদের বই, খাতা, কলম ও অন্যান্য শিক্ষাসামগ্রীর জোগান দিতে থাকেন। ডিউটির কঠিন সূচির মাঝেও যখনই সময় পেতেন, দোলন নিজেই বসে যেতেন শিশুদের শিক্ষক হিসেবে। পাহাড়ের দুর্গম উপত্যকায় খাকি পোশাক পরিহিত একজন পুলিশ সদস্যকে পরম মমতায় অক্ষরজ্ঞান দিতে দেখে স্থানীয় মানুষরা পুলিশের এক নতুন রূপ প্রত্যক্ষ করেন।কংক্রিটের অরণ্যে আলোর ছোঁয়াবান্দরবান ও চট্টগ্রাম পর্ব শেষ করে দোলনের কর্মস্থল যখন ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশে (ডিএমপি) নির্ধারিত হয়, তখন শহরের চাকচিক্যের আড়ালের অন্ধকার তাকে নতুন করে ভাবিয়ে তোলে। ঢাকার ব্যস্ত সড়ক, ফুটপাত ও রেলস্টেশনে বেড়ে ওঠা পথশিশুরা যখন মাদক, চুরি বা ভিক্ষাবৃত্তির মতো অপরাধে জড়িয়ে পড়ছিল, তখন দোলন আবারও এগিয়ে আসেন। ঢাকার অন্যতম ব্যস্ত এলাকা পলাশীর মোড়ে তিনি শুরু করেন তার ‘মানবিক পাঠশালা’র দ্বিতীয় অধ্যায়। ফুটপাতে ধুলোবালি মেখে বড় হওয়া ২৬ জন পথশিশুকে নিয়ে এই ভ্রাম্যমাণ পাঠশালার যাত্রা শুরু হয়। ঢাকার এই ব্যস্ততম জীবনে যেখানে মানুষের নিজের দিকে তাকানোর সময় নেই, সেখানে দোলন তার ডিউটি শেষ করে ক্লান্ত শরীরে ছুটে যেতেন এই পথশিশুদের কাছে। কখনো নিজে ক্লাস নিতেন, আবার কখনো বিশ্ববিদ্যালয়ের তরুণ স্বেচ্ছাসেবীদের সহায়তায় শিশুদের বর্ণমালার সাথে পরিচয় করিয়ে দিতেন। এই শিশুদের কাছে দোলন কেবল একজন পুলিশ অফিসার নন, বরং একজন পরম নির্ভরযোগ্য ‘দোলন ভাই’।ভিক্ষাবৃত্তি থেকে স্বাবলম্বনের পথে : জীবনের চাকা ঘুরিয়ে দেওয়ার গল্পকনস্টেবল দোলন কেবল সাময়িক করুনা বা খাদ্য বিতরণের মধ্যে নিজের মানবিকতাকে সীমাবদ্ধ রাখেননি। তিনি বিশ্বাস করেন, কোনো মানুষকে স্থায়ীভাবে সাহায্য করতে হলে তাকে উপার্জনের পথ তৈরি করে দিতে হবে। তার কর্মজীবনে এমন বহু ঘটনা রয়েছে, যেখানে তিনি অসহায় মানুষকে স্থায়ী বা ভ্রাম্যমাণ ব্যবসার ব্যবস্থা করে দিয়েছেন।এমনই একটি হৃদয়স্পর্শী উদাহরণ হলেন ৪৫ বছর বয়সী নূর ইসলাম। এক মর্মান্তিক ট্রেন দুর্ঘটনায় দুই পা হারিয়ে নূর ইসলামের জীবন যখন পুরোপুরি অন্ধকারে নিমজ্জিত এবং পরিবার যখন অনাহারে দিন কাটাচ্ছিল, তখন তার জীবনে দেবদূতের মতো আবির্ভূত হন দোলন। দোলন তার বন্ধুবান্ধব ও শুভাকাঙ্ক্ষীদের সহযোগিতায় নূর ইসলামকে একটি ব্যাটারিচালিত রিকশা কিনে দেন। এই একটি উপহার নূর ইসলামের জীবনকে ভিক্ষাবৃত্তির অভিশাপ থেকে মুক্ত করে সম্মানের সাথে বেঁচে থাকার পথ দেখায়। অনুরূপভাবে, বহু বিধবা ও অসহায় নারীকে সেলাই মেশিন বিতরণ এবং শারীরিক প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের জন্য ভ্রাম্যমাণ মুদি দোকানের ব্যবস্থা করে দিয়ে তিনি তাদের সমাজে মাথা উঁচু করে বাঁচার স্বপ্ন দেখিয়েছেন। তার এই সুদূরপ্রসারী চিন্তাভাবনা অনেক পরিবারকে দারিদ্র্যের চরম কষাঘাত থেকে মুক্তি দিয়েছে।উষ্ণতার ফেরিওয়ালা ও ছিন্নমূলের আশ্রয়শীতের কনকনে ঠান্ডায় যখন সাধারণ মানুষ লেপ-কম্বলের ওমে ওম খোঁজে, তখন ঢাকার ফুটপাতে বা রেললাইনে শুয়ে থাকা ছিন্নমূল মানুষের কষ্ট দোলনকে ঘুমাতে দেয় না। প্রতি বছর শীতকালে তিনি গভীর রাতে চাদর বা কম্বল কাঁধে নিয়ে বেরিয়ে পড়েন শহরের অলিতে-গলিতে। ঘুমে মগ্ন থাকা কোনো শীতার্ত বৃদ্ধ বা শিশুর গায়ে আলতো করে কম্বলটি জড়িয়ে দিয়ে তিনি নীরবে চলে যান। প্রচারের আলো থেকে দূরে থেকে এই যে মানুষের পাশে দাঁড়ানো, এটাই তাকে অন্য সবার চেয়ে আলাদা করেছে। এ ছাড়া বিভিন্ন উৎসবে বা করোনাকালীন দুর্যোগের সময়ে ছিন্নমূল মানুষের মাঝে খাদ্য সামগ্রী বিতরণ ও জরুরি ওষুধ সরবরাহ করার কাজেও দোলন ছিলেন সর্বদা অগ্রগামী।পেশাগত দায়িত্ব ও মানবিকতার অপূর্ব সমন্বয়অনেকেই মনে করতে পারেন, পুলিশের মতো একটি সার্বক্ষণিক ও চাপযুক্ত চাকরিতে থেকে কীভাবে এত বড় সামাজিক কাজ পরিচালনা করা সম্ভব? দোলনের জীবন এই প্রশ্নের সবচেয়ে বড় উত্তর। তিনি প্রমাণ করেছেন যে, সদিচ্ছা থাকলে পেশাগত দায়িত্ব পালনের পাশাপাশিও সমাজের জন্য অসামান্য অবদান রাখা যায়। তিনি কখনো তার ওপর অর্পিত সরকারি দায়িত্বে অবহেলা করেননি। বরং, দিনের বা রাতের ডিউটি যথাযথভাবে শেষ করে তার পর যে অবসর সময়টুকু পেতেন, তা তিনি ঘুমিয়ে বা বিনোদনে না কাটিয়ে ব্যয় করতেন সুবিধাবঞ্চিতদের কল্যাণে। তার এই নিষ্ঠা ও সততা দেখে তার ঊর্ধ্বতন পুলিশ কর্মকর্তারাও তাকে বিভিন্ন সময়ে উৎসাহ ও অনুপ্রেরণা জুগিয়েছেন।প্রচারবিমুখ এক নিঃস্বার্থ যোদ্ধাবর্তমান যুগে সামান্য ভালো কাজ করেই যেখানে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে প্রচারের ঝড় তোলার প্রতিযোগিতা চলে, সেখানে দোলন সম্পূর্ণ ব্যতিক্রম। তিনি তার কাজের কোনো ঢাকঢোল পেটান না। বিভিন্ন সময়ে দেশের মূলধারার গণমাধ্যমে তার এই মানবিক কর্মকাণ্ডের প্রতিবেদন প্রকাশিত হওয়ার পর সাধারণ মানুষ এই নীরব নায়কের খোঁজ পায়। এই প্রচারের ফলে তার কাজের পরিধি আরও বৃদ্ধি পেয়েছে, কারণ অনেক সহৃদয় ব্যক্তি এখন তার এই মানবিক উদ্যোগে শামিল হতে এগিয়ে আসছেন।/টি

জুলাই ০২, ২০২৬

ইংলিশ মিডিয়াম পড়ুয়া ১০০ শিক্ষার্থী হলেন কুরআনে হাফেজ, দেয়া হলো সংবর্ধনা

রাজধানীর বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রে উইটন ইন্টারন্যাশনাল স্কুল (ডব্লিউআইএস) ও গাইডেন্স ইন্টারন্যাশনাল স্কুল (জিআইএস)-এর হিফজ ও এ লেভেল সমাবর্তন-২০২৬ অনুষ্ঠিত হয়েছে। অনুষ্ঠানে ১০০ জন হাফেজে কুরআন এবং এ লেভেলে কৃতিত্ব অর্জনকারী ৫ জন শিক্ষার্থীর হাতে সমাবর্তনের সনদ, সম্মাননা পদক ও স্মারক তুলে দেওয়া হয়।প্রতিষ্ঠানটির তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে ডব্লিউআইএস ও জিআইএসে এক হাজারের বেশি শিক্ষার্থী হিফজুল কুরআন অধ্যয়ন করছে। ইংরেজি মাধ্যম শিক্ষার পাশাপাশি ইসলামিক শিক্ষার সমন্বয়ে একটি স্বতন্ত্র শিক্ষাব্যবস্থা পরিচালনা করছে প্রতিষ্ঠান দুটি।অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী সুলতান সালাহউদ্দিন টুকু। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী নুরুল হক নুর, জাতীয় সংসদের হুইপ মিয়া নূরউদ্দীন অপু, কবি ও সাহিত্যিক আনিসুল হক, ধর্ম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব ড. আয়াতুল ইসলাম, অক্সফোর্ড একিউএ বাংলাদেশের কান্ট্রি ডিরেক্টর শাহেন রেজা, কেমব্রিজ ইউনিভার্সিটি প্রেস অ্যান্ড অ্যাসেসমেন্ট বাংলাদেশের প্রধান সারওয়াত রেজা, পিয়ারসন এডএক্সেল বাংলাদেশের আঞ্চলিক ব্যবস্থাপক লিটন আব্দুল্লাহ এবং ব্রিটিশ কাউন্সিল বাংলাদেশের ব্যবসা উন্নয়ন পরিচালক তাহনী ইয়াসমিন। এছাড়া দেশের বিশিষ্ট ইসলামি আলেম, শিক্ষাবিদ, শিক্ষক, অভিভাবক ও বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার অতিথিরা অনুষ্ঠানে অংশ নেন।অনুষ্ঠানের সমাবর্তন বক্তা ছিলেন বাংলাদেশের অন্তর্বর্তী সরকারের সাবেক ধর্ম বিষয়ক উপদেষ্টা ড. এ.এফ.এম. খালিদ হোসাইন।পবিত্র কুরআন তিলাওয়াত ও জাতীয় সংগীত পরিবেশনের মাধ্যমে অনুষ্ঠানের সূচনা হয়। পরে শিক্ষার্থীদের পরিবেশনায় সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়।স্বাগত বক্তব্যে ডব্লিউআইএস ও জিআইএসের অধ্যক্ষ ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক আব্দুল্লাহ জামান বলেন, সমাবর্তন কেবল শিক্ষাজীবনের একটি আনুষ্ঠানিক সমাপ্তি নয়, বরং নতুন দায়িত্ব গ্রহণের সূচনা। তিনি বলেন, প্রতিষ্ঠানের লক্ষ্য এমন শিক্ষার্থী গড়ে তোলা, যারা কুরআনের শিক্ষা, নৈতিক মূল্যবোধ এবং আন্তর্জাতিক মানের জ্ঞানকে সমন্বিতভাবে ধারণ করবে।তিনি সহিহ হাদিসের আলোকে হাফেজে কুরআনের মর্যাদা তুলে ধরে বলেন, কিয়ামতের দিন হাফেজে কুরআনের পিতা-মাতাকে নূরের মুকুট পরিয়ে সম্মানিত করা হবে। পাশাপাশি হাফেজদের 'কুরআনের সঙ্গী' হিসেবে বিশেষ মর্যাদা দেওয়া হবে।অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী সুলতান সালাহউদ্দিন টুকু শিক্ষার্থীদের অভিনন্দন জানিয়ে বলেন, আধুনিক জ্ঞান, নৈতিক শিক্ষা ও দেশপ্রেমে সমৃদ্ধ একটি প্রজন্মই দেশের উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। তিনি সততা, নিষ্ঠা ও সামাজিক দায়বদ্ধতার সঙ্গে ভবিষ্যৎ জীবন গড়ে তোলার আহ্বান জানান।বিশেষ অতিথিরা তাঁদের বক্তব্যে আন্তর্জাতিক শিক্ষার পাশাপাশি নৈতিক ও মানবিক মূল্যবোধের বিকাশের ওপর গুরুত্বারোপ করেন। তাঁরা ডব্লিউআইএস ও জিআইএসের সমন্বিত শিক্ষা কার্যক্রমের প্রশংসা করেন এবং শিক্ষার্থীদের ভবিষ্যৎ সাফল্য কামনা করেন।সমাবর্তন বক্তা ড. এ.এফ.এম. খালিদ হোসাইন বলেন, কুরআনের শিক্ষা ব্যক্তি, পরিবার ও সমাজে বাস্তবায়নের মধ্য দিয়েই হিফজের প্রকৃত মর্যাদা প্রতিষ্ঠিত হয়। তিনি শিক্ষার্থীদের কুরআনের আদর্শ অনুসরণ করে দেশ ও মানবকল্যাণে কাজ করার আহ্বান জানান।অনুষ্ঠানে ১০০ জন হাফেজে কুরআন এবং এ লেভেলে কৃতিত্ব অর্জনকারী ৫ জন শিক্ষার্থীর হাতে সনদ, সম্মাননা পদক ও স্মারক তুলে দেওয়া হয়। এ সময় উপস্থিত অভিভাবকেরা করতালির মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের অভিনন্দন জানান। অনেকেই সন্তানের এ অর্জনকে জীবনের অন্যতম স্মরণীয় মুহূর্ত হিসেবে উল্লেখ করেন।সাংস্কৃতিক পর্বে শিক্ষার্থীরা ইসলামিক নাশিদ, নাট্য পরিবেশনা, আবৃত্তি এবং দেশাত্মবোধক পরিবেশনা উপস্থাপন করে।সমাপনী বক্তব্যে অতিথি, শিক্ষক, অভিভাবক, শিক্ষার্থী এবং অনুষ্ঠানের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট সবার প্রতি কৃতজ্ঞতা জানান ডব্লিউআইএস ও জিআইএসের পরিচালনা পর্ষদের চেয়ারম্যান মোহাম্মদ আব্দুল কাদের। তিনি বলেন, আন্তর্জাতিক মানের শিক্ষা, ইসলামিক মূল্যবোধ ও নৈতিক নেতৃত্বের সমন্বয়ে শিক্ষার্থী গড়ে তুলতে ভবিষ্যতেও প্রতিষ্ঠান দুটি কাজ করে যাবে।সমাপনী বক্তব্যের মধ্য দিয়ে হিফজ ও এ লেভেল সমাবর্তন-২০২৬-এর আনুষ্ঠানিক সমাপ্তি ঘোষণা করা হয়।

জুলাই ০২, ২০২৬

অনলাইন বিনিয়োগ প্রতারণা চক্রের ৬ সদস্য গ্রেফতার করেছে ডিবি পুলিশ

অনলাইনে সহজে অধিক মুনাফার প্রলোভন দেখিয়ে সাধারণ মানুষের কাছ থেকে বিনিয়োগের নামে অর্থ আত্মসাৎকারী একটি সংঘবদ্ধ প্রতারক চক্রের ৬ জন সক্রিয় সদস্যকে গ্রেফতার করেছে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের ডিবি-সাইবার অ্যান্ড স্পেশাল ক্রাইম বিভাগ (দক্ষিণ)।গ্রেফতারকৃতরা হলো- ১। মোঃ বাবলু ওরফে সূর্য (২৪) ২। মোঃ শাহিন (২১) ৩। মোঃ তুষার মিয়া (২৫) ৪। মোঃ আতিকুর রহমান ওরফে নিরব রানা (২০) ৫। মোঃ লিখন ওরফে ইমন (২২) ও ৬। মোঃ শাকিল রানা (৩০)।ডিবি-সাইবার অ্যান্ড স্পেশাল ক্রাইম বিভাগ (দক্ষিণ) সূত্রে জানা যায়, বাড্ডা থানায় সাইবার সুরক্ষা আইনে রুজুকৃত একটি মামলা ডিএমপির গোয়েন্দা বিভাগে হস্তান্তর করা হলে ফাইনান্সিয়াল ক্রাইম ইনভেস্টিগেশন টিম মামলাটির তদন্ত শুরু করে। তদন্তে জানা যায়, একটি সংঘবদ্ধ প্রতারক চক্র অনলাইনে উচ্চ মুনাফার প্রলোভন দেখিয়ে সাধারণ মানুষকে বিনিয়োগে উদ্বুদ্ধ করে আসছে। প্রতারণার উদ্দেশ্যে তারা আস-সুন্নাহ ফাউন্ডেশন ও শায়খ আহমাদুল্লাহর নাম, ছবি ও পরিচিতির অপব্যবহার করে ভুয়া ওয়েবসাইট ও ফেসবুক পেজ তৈরি করে বিভ্রান্তিকর বিজ্ঞাপন প্রচার করে আসছিল।প্রতারকরা দেশের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের নামে পরিচালিত জনপ্রিয় ওয়েবসাইট ও ফেসবুক পেজের আদলে প্রায় একই ধরনের ডোমেইন ও পেজ তৈরি করে সাধারণ মানুষের আস্থা অর্জনের চেষ্টা করত। এসব ভুয়া প্ল্যাটফর্মে প্রকাশিত বিজ্ঞাপনে বিশ্বাস করে অনেকেই সেখানে উল্লেখিত মোবাইল ফাইন্যান্সিয়াল সার্ভিস (এমএফএস) অ্যাকাউন্টে অর্থ বিনিয়োগ করতেন। পরবর্তীতে প্রতারণার মাধ্যমে সেই অর্থ আত্মসাৎ করা হতো।ডিবি সূত্রে আরও জানা যায়, গোয়েন্দা তথ্য ও তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় আসামিদের অবস্থান শনাক্ত করে মঙ্গলবার (৩০ জুন) সকাল আনুমানিক ১১:০০ ঘটিকায় গাজীপুর জেলার আশুলিয়ার জিরানী বাজারস্থ কাবাব প্লাজায় অভিযান পরিচালনা করে বাবলু ওরফে সূর্য ও শাহিনকে গ্রেফতার করা হয়। পরবর্তীতে গ্রেফতারকৃতদের দেওয়া তথ্য এবং তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় একই দিন রাত আনুমানিক ১১:৩০ ঘটিকায় জামালপুর জেলার সরিষাবাড়ী উপজেলার পিংনা এলাকায় অভিযান পরিচালনা করে তুষার মিয়া, আতিকুর রহমান ওরফে নিরব রানা এবং লিখন ওরফে ইমনকে গ্রেফতার করা হয়। তাদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে বুধবার (১ জুলাই) ভোর আনুমানিক ৫:১৫ ঘটিকায় গাজীপুর জেলার কালিয়াকৈর উপজেলার রাখালিয়া পাড়া এলাকায় অভিযান পরিচালনা করে শাকিল রানাকে গ্রেফতার করা হয়।গ্রেফতারকৃতদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।/টি

জুলাই ০২, ২০২৬

তারেক আজিজের শিশুতোষ ৫টি ছড়া

১. চাঁদের দেশে পাড়ি– তারেক আজিজ আয়রে খোকন, আয়রে মণি,আকাশ জুড়ে তারার খনি। মেঘের ভেলায় চড়বো আজ,ফেলে রেখে ঘরের কাজ। চাঁদের বুড়ি ডাকছে আয়,চরকা কাটে জোছনায়। সবাই মিলে দেবো পাড়ি,কেউ নেব না কারোর বাড়ি! ২. মেঘের গাড়ি– তারেক আজিজ নীল আকাশে মেঘের গাড়ি,চলছে উড়ে কার সে বাড়ি? পঙ্খীরাজ ঘোড়ার পিঠে,রোদের আলো মিষ্টি মিঠে। ঝমঝমাঝম নামলো বৃষ্টি,জগৎ জুড়ে মধুর সৃষ্টি। কাগজ কেটে বানাব নাও,ভাসিয়ে দেবো যেথায় যাও। ৩. রঙিন প্রজাপতি– তারেক আজিজ লাল-নীল-হলুদ প্রজাপতি,উড়ছে দেখো কী দ্রুত গতি! ফুলের কানে বলছে কথা,মন থেকে সব মুছে ব্যথা। আমায় তুমি দেবে পাখা?আঁকা-বাঁকা মেঘে ঢাকা, আকাশ পানে দেবো উড়াল,ছুঁয়ে আসবো ওই মহাকাল! ৪. দুষ্টু কাঠবিড়ালি– তারেক আজিজ কাঠবিড়ালি, কাঠবিড়ালি,লেজটি তোমার কেন ফুলি? পেয়ারা গাছের ডালে বসে,ফলটি খাও যে কেমন কষে! আমায় দুটো দেবে ভাই?আমি তো আর দুষ্টু নাই। একটুখানি নামো নিচে,ছুটবো না আর তোমার পিছে! ৫. ইস্কুল ছুটি– তারেক আজিজ টিং টিং টিং বাজলো বেল,শুরু হলো ছুটির খেল। বই-খাতা সব ব্যাগে ভরে,ছুটবো এবার আপন ঘরে। মাঠের মাঝে খেলবো খেলা,কাটবে দারুণ বিকেল বেলা। পড়াশোনা শেষ তো আজ,খেলতে যাওয়ার মস্ত কাজ!  /টিএ 

জুলাই ০১, ২০২৬

‘ফেমিনিস্ট গ্রিন অ্যাকশন অ্যাওয়ার্ড’ পেল তিন প্রতিষ্ঠান, বিশেষ সম্মাননায় দুজন

দ্বিতীয়বারের মতো প্রদান করা হলো ‘ফেমিনিস্ট গ্রিন অ্যাকশন অ্যাওয়ার্ড ২০২৬’। নারীবাদী সবুজ জলবায়ু রূপান্তর এবং টেকসই অর্থনীতিতে বিশেষ অবদান রাখার স্বীকৃতিস্বরূপ তিনটি প্রতিষ্ঠান ও দুজন তৃণমূল উদ্যোক্তাকে এই পুরস্কার ও সম্মাননা প্রদান করেছে একশনএইড বাংলাদেশ।রাজধানীর একটি হোটেলে বুধবার (২৪ জুন) রাতে এক বর্ণাঢ্য অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে বিজয়ীদের হাতে এই পুরস্কার তুলে দেওয়া হয়। এবারের পুরস্কার মূলত ‘ইয়ুথ-লেড গ্রিন এন্টারপ্রেনারশিপ’ (যুব নেতৃত্বাধীন সবুজ ব্যবসা) এবং ‘এসএমই’ (ক্ষুদ্র ও মাঝারি উদ্যোক্তা) - এই দুই বিভাগে প্রদান করা হয়। ‘ইয়ুথ-লেড গ্রিন এন্টারপ্রেনারশিপ’ বিভাগে পুরস্কার পেয়েছে দুটি প্রতিষ্ঠান - ‘স্বচ্ছ’ এবং ‘ওয়ার্ল্ড লিংকআপ’। অন্যদিকে, ‘এসএমই’ বিভাগে পুরস্কার অর্জন করেছে ‘ক্লাসিক্যাল হ্যান্ডমেইড প্রোডাক্টস বিডি লিমিটেড’।পুরস্কারপ্রাপ্ত প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে ‘স্বচ্ছ’ পরিবেশবান্ধব বর্জ্য ব্যবস্থাপনা ও পুনর্ব্যবহার; ‘ওয়ার্ল্ড লিংকআপ’ যুবকদের সম্পৃক্ত করে জলবায়ু সচেতনতা ও সবুজ প্রযুক্তির প্রসার এবং ‘ক্লাসিক্যাল হ্যান্ডমেইড প্রোডাক্টস বিডি লিমিটেড’ স্থানীয় কাঁচামাল ব্যবহার করে আন্তর্জাতিক মানের পরিবেশবান্ধব হস্তশিল্প তৈরির মাধ্যমে টেকসই অর্থনীতিতে অবদান রাখার স্বীকৃতিস্বরূপ এই পুরস্কার লাভ করেছে।পুরস্কারের পাশাপাশি সমাজে টেকসই পরিবেশ ও কর্মসংস্থানে বিশেষ অবদানের জন্য এ বছর দুজনকে বিশেষ সম্মাননা প্রদান করা হয়। তারা হলেন—বগুড়ার নারী উদ্যোক্তা শারমিন আক্তার এবং ঠাকুরগাঁওয়ের সৌরবিদ্যুৎ-ভিত্তিক উদ্যোক্তা সোলেমান আলী। শারমিন আক্তার উচ্ছিষ্ট কাপড় ও সুতা থেকে দড়ি তৈরি করে ২ শতাধিক মানুষের কর্মসংস্থান করেছেন, যাদের বেশিরভাগই নারী ও বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন মানুষ। অন্যদিকে, ‘সোলার ম্যান’ খ্যাত সোলেমান আলী তাঁর উদ্ভাবনী চিন্তার মাধ্যমে কৃষকদের সেচকাজে স্বল্প খরচে সৌরবিদ্যুৎ ব্যবহারের মডেল তৈরি করেছেন। তাঁর এই 'ভ্রাম্যমাণ সৌর সেচযন্ত্র' মডেলটি বর্তমান বিদ্যুৎ সংকটের সময়ে স্থানীয় কৃষকদের সেচকাজে দারুণ স্বস্তি এনে দিয়েছে।অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য রাখেন এবং পুরো অধিবেশনটি সঞ্চালনা করেন একশনএইড বাংলাদেশের কান্ট্রি ডিরেক্টর ফারাহ্ কবির। তিনি বলেন, ‘ন্যায্য ও নারীবাদী রূপান্তরে এসএমই এবং তরুণ উদ্যোক্তাদের স্বীকৃতি দিতে আমাদের এই ধারাবাহিক প্রচেষ্টা। আমরা বিশ্বাস করি, এই উদ্যোগ একটি টেকসই, অন্তর্ভুক্তিমূলক এবং সবুজ পৃথিবী গড়ে তোলার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।’জলবায়ু ও পরিবেশের টেকসই রূপান্তরের সাথে মানুষের মানসিকতা ও সংস্কৃতির যোগসূত্রটি তুলে ধরে তিনি দেশে শিশু ও নারী নির্যাতনের বিরুদ্ধে আপসের মানসিকতা এবং আইনের শাসন নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেন।অনুষ্ঠানে ‘স্পটলাইট স্পিকার’ হিসেবে প্রকৃতি, নারী ও মানুষের দায়বদ্ধতার আলোকে বক্তব্য রাখেন একুশে পদকপ্রাপ্ত বরেণ্য অভিনেতা, মিডিয়া ব্যক্তিত্ব ও সমাজকর্মী আফজাল হোসেন। তিনি বলেন, ‘আমি নিজেকে নারীবাদী ভাবি কি না, তা বড় কথা নয়; তবে আমি বিশ্বাস করি এই পৃথিবীটা মূলত নারীদের কাছ থেকে পাওয়া অনুভবের পাঠশালা। প্রকৃতি যেভাবে সবকিছুকে লালন করে, নারীরাও ঠিক সেভাবেই সমাজ ও জীবনকে আগলে রাখে।’নাট্যচার্য সেলিম আল দীনের একটি নাটকের সংলাপ স্মরণ করে তিনি বলেন, ‘বেঁচে থাকাটা বড় কথা নয়, কীভাবে বেঁচে আছি সেটাই বড়। জলবায়ুর এই লড়াইয়ে আমাদের শুধু একা বেঁচে থাকার অহংকার করলে চলবে না। তেলের মতো পানির ওপর ভেসে না থেকে, আমাদের পানির মতো হতে হবে—যার গৌরব অন্যকে ধারণ করার বা ভাসিয়ে রাখার মধ্যে।’আরেকজন ‘স্পটলাইট স্পিকার’ বিশিষ্ট করপোরেট আইনজীবী ও ব্যবসায়ী নেতা ব্যারিস্টার নিহাদ কবির আইন, করপোরেট পরিবেশ ও সামাজিক মূল্যবোধের ওপর জোর দিয়ে বলেন, ‘করপোরেট সেক্টরে সাসটেইনেবিলিটি বা ক্লাইমেট চেঞ্জ নিয়ে কাগজে-কলমে অনেক বড় বড় আইন থাকলেই পরিবেশ বা সমাজ বদলায় না, যদি না মানুষের ভেতরের চিন্তাভাবনা বা মূল্যবোধের রূপান্তর ঘটে।’নারী ও শিশুদের ওপর সহিংসতা রোধে প্রাতিষ্ঠানিক আইনের চেয়ে পারিবারিক মূল্যবোধের চর্চাকে বড় উল্লেখ করে তিনি বলেন, টেকসই অর্থনীতির লক্ষ্যে তরুণদের ও যুবসমাজকে পরিবেশ সুরক্ষার লড়াইয়ে যুক্ত করতে হলে শুধু আইনি কড়াকড়ি নয়, বরং জীবনের গল্প ও আড্ডার ছলে তাদের উদ্বুদ্ধ করা বেশি কার্যকর।এ বছর পুরস্কারের জন্য অনলাইনে মোট ২৭টি আবেদন জমা পড়ে। এরপর বিচারকদের নিবিড় যাচাই-বাছাই প্রক্রিয়ার মাধ্যমে চূড়ান্ত বিজয়ীদের নির্বাচিত করা হয়। এবারের বিচারক প্যানেলে ছিলেন সাপোর্ট-এর কান্ট্রি ম্যানেজার সুরাইয়া আক্তার, প্রাণ-আরএফএল গ্রুপের হেড অব সাসটেইনেবিলিটি সুমাইয়া টি. আহমেদ, বিশিষ্ট স্থপতি ও বিল্ড বাংলাদেশ-এর প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি ফরহাদুর রেজা, একশনএইড ইন্টারন্যাশনালের আইএইচএআরটি (IHART)-এর গ্লোবাল রেজিলিয়েন্স অ্যাডভাইজার তানজির হোসেন এবং একশনএইড বাংলাদেশের কান্ট্রি ডিরেক্টর ফারাহ্ কবির।পুরস্কার বিতরণী শেষে ছিল মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক পরিবেশনা। সংগীতশিল্পী ও কালচারাল অ্যাক্টিভিস্ট ওয়ার্দা আশরাফ জলবায়ু পরিবর্তন, নারী অধিকার, ন্যায়বিচার এবং সংগ্রামের গল্প নিয়ে দেশি-বিদেশি গানের এক অনবদ্য পরিবেশনা উপস্থাপন করেন। অনুষ্ঠানটি শেষ হয় সমাপনী বক্তব্য ও নৈশভোজের মধ্য দিয়ে।উল্লেখ্য, নারীবাদী সবুজ জলবায়ু রূপান্তরে অবদান রাখা ক্ষুদ্র ও মাঝারি (এসএমই) উদ্যোক্তা এবং করপোরেট প্রতিষ্ঠানকে স্বীকৃতি ও উৎসাহিত করতে একশনএইড বাংলাদেশের আয়োজনে গত বছর (২০২৫) সালে যাত্রা শুরু করে ‘ফেমিনিস্ট গ্রিন অ্যাকশন অ্যাওয়ার্ড’। এরই ধারাবাহিকতায় এ বছরও দেশের তৃণমূল উদ্যোক্তাসহ বিভিন্ন স্বতন্ত্র ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানকে এই পুরস্কার ও বিশেষ সম্মাননা প্রদান হলো।

জুন ২৫, ২০২৬

এ বি এম আবদুল্লাহর ইমেরিটাস অধ্যাপক নিয়োগ বাতিল

বাংলাদেশ মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বিএমইউ) ইমেরিটাস অধ্যাপক হিসেবে ডা. এ বি এম আবদুল্লাহর আজীবন নিয়োগ বাতিল করেছে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ। একই সঙ্গে ওই পদের বিপরীতে উত্তোলিত সব বেতন-ভাতা ফেরত দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।বুধবার (২৪ জুন) বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার অধ্যাপক ডা. মো. মোস্তফা কামাল স্বাক্ষরিত এক অফিস আদেশে  এ সিদ্ধান্তের কথা জানানো হয়।অফিস আদেশে বলা হয়, ২০২৪ সালের ২০ জুন অনুষ্ঠিত সিন্ডিকেটের ৯২তম বাজেট অধিবেশন সভায় আলোচ্যসূচির বাইরে একজন সদস্যের প্রস্তাবের ভিত্তিতে ‘ইমেরিটাস অধ্যাপক নিয়োগ অধ্যাদেশ’ সংশোধন করা হয়। একই সভায় ডা. এ বি এম আবদুল্লাহকে আজীবন মেয়াদে ইমেরিটাস অধ্যাপক হিসেবে পুনর্নিয়োগ দেওয়া হয়েছিল। পরবর্তীতে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ ওই সিদ্ধান্তকে বিধিবহির্ভূত বলে বিবেচনা করে।এর পরিপ্রেক্ষিতে, ২০২৬ সালের ১৩ জুন অনুষ্ঠিত ৯৯তম সিন্ডিকেট সভার সিদ্ধান্ত অনুযায়ী অধ্যাপক ডা. এ বি এম আবদুল্লাহর ইমেরিটাস অধ্যাপক হিসেবে দেওয়া আজীবন নিয়োগ বাতিল করা হয়েছে। একই সঙ্গে ৯২তম সভার তারিখ (২০২৪ সালের ২০ জুন) থেকে অধ্যাপক ইমেরিটাস পদের বিপরীতে তার উত্তোলিত বেতন-ভাতাও ফেরত দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে বলে অফিস আদেশে উল্লেখ করা হয়।এ বিষয়ে অধ্যাপক এ বি এম আবদুল্লাহ গণমাধ্যমকে বলেন, হ্যাঁ, আমি এমন একটি চিঠি পেয়েছি। বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন যা করেছে, তা অন্যায়। আমার প্রতি অবিচার করা হয়েছে। পৃথিবীর ইতিহাসে কোথাও এভাবে একটি সম্মানজনক পদ ছিনিয়ে নেওয়ার নজির নেই।তিনি আরও বলেন, ‘আমি ৫০ বছর ধরে চিকিৎসাসেবা দিয়ে আসছি। আমার ছাত্ররা এখন স্বনামধন্য অধ্যাপক। জীবনের শেষ সময়ে এসে এমন আচরণ প্রত্যাশিত নয়। কারা, কী কারণে এটি করছে, তা তারাই জানে।

জুন ২৫, ২০২৬

শোষণের অবসান ঘটিয়ে গলফ হবে আন্তর্জাতিক ইন্ডাস্ট্রি : ডা. আফশান

বাংলাদেশ প্রফেশনাল গলফারস অ্যাসোসিয়েশনের (বিপিজিএ) আসন্ন ২০২৫-২০২৭ মেয়াদের নির্বাচনে সভাপতি পদপ্রার্থী হিসেবে নিজের ১০ দফা নির্বাচনী ইশতেহার ঘোষণা করেছেন বিশিষ্ট চিকিৎসক ও পেশাদার গলফার ডা. আফশান আনিস। 'পেশাদারিত্বের মর্যাদা, গলফের নতুন দিগন্ত' স্লোগানকে সামনে রেখে তার ঘোষিত এই ইশতেহারে গলফ খেলাকে একটি পূর্ণাঙ্গ ও স্বাবলম্বী শিল্প হিসেবে গড়ে তোলার পাশাপাশি খেলোয়াড়দের আর্থিক ও সামাজিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করার সুনির্দিষ্ট রূপরেখা দেওয়া হয়েছে।বিগত সরকারের ফ্যাসিবাদী সিন্ডিকেট ও লুটেরা চক্রের অবসান ঘটিয়ে দেশের ক্রীড়াঙ্গনে আমূল সংস্কারের লক্ষ্যে বাংলাদেশ প্রফেশনাল গলফারস অ্যাসোসিয়েশনের (বিপিজিএ) আসন্ন ২০২৬-২০২৯ মেয়াদের নির্বাচনে সভাপতি পদপ্রার্থী হিসেবে নিজের যুগান্তকারী ১১ দফা নির্বাচনী ইশতেহার ঘোষণা করেছেন বিশিষ্ট চিকিৎসক, কুমিল্লা মহানগর জাসাস সভাপতি পেশাদার গলফার ডা. আফশান আনিস। ফ্যাসিবাদ মুক্ত নতুন বাংলাদেশে ‘পেশাদারিত্বের মর্যাদা, গলফের নতুন দিগন্ত’ স্লোগানকে সামনে রেখে ঘোষিত এই ইশতেহারে গলফ খেলাকে একটি পূর্ণাঙ্গ ও স্বাবলম্বী শিল্প (ইন্ডাস্ট্রি) হিসেবে গড়ে তোলার পাশাপাশি খেলোয়াড়দের আর্থিক ও সামাজিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করার এক বৈপ্লবিক রূপরেখা দেওয়া হয়েছে।আজ এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে প্রকাশিত এই ইশতেহারে ডা. আফশান আনিস অতীতের বৈষম্য ও শোষণের দেয়াল ভেঙে গলফকে বিশ্বমানে নিয়ে যাওয়ার প্রত্যয় ব্যক্ত করে বলেন, "গলফ শুধুমাত্র একটি খেলা নয়, এটি আমাদের পেশা, আমাদের স্বপ্ন, আমাদের মর্যাদা।" তিনি কোনো রকম সস্তা সহানুভূতি নয়, বরং দীর্ঘমেয়াদী টেকসই সমাধানের মাধ্যমে গলফারদের অধিকার আদায়ে কাজ করার দৃঢ় অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন।ডা. আফশান আনিসের ঘোষিত ১১ দফার মূল হাইলাইটস:হাই-পারফরম্যান্স সেন্টার ও নিজস্ব রেঞ্জ: বিপিজিএ-এর নিজস্ব ব্যবস্থাপনায় একটি বিশ্বমানের সেন্টার প্রতিষ্ঠা করা হবে, যেখানে আধুনিক জিম, মেন্টাল হেলথ ও রিকভারি জোন (সুইমিং পুলসহ) এবং আন্তর্জাতিক মানের কোচিং একাডেমি থাকবে।'টপ ২৫' প্লেয়ারদের মাসিক সম্মানী: প্রতি মাসের র্যাংকিংয়ের শীর্ষ ২৫ জন পেশাদার গলফারকে বিপিজিএ-এর পক্ষ থেকে নিয়মিত নির্দিষ্ট সম্মানী ও বিশেষ মর্যাদা দেওয়া হবে।আন্তর্জাতিক মানের প্রাইজমানি বণ্টন: বাংলাদেশে প্রথমবারের মতো এশিয়ান/ইউরোপ ট্যুর স্ট্যান্ডার্ড মেনে চ্যাম্পিয়নকে ১৬% সহ কাট-মেক করা শেষ পজিশন (যেমন ৭০তম) পর্যন্ত প্রতিটি প্লেয়ারকে শতভাগ স্বচ্ছতার সাথে প্রাইজমানির অর্থ বুঝিয়ে দেওয়া হবে।ফ্রি রেঞ্জ বল ও সাবস্ক্রিপশন ফি মওকুফ: খেলোয়াড়দের ওপর থেকে আর্থিক বোঝা কমাতে প্রতিদিন ৫০টি করে ফ্রি রেঞ্জ বল দেওয়া হবে এবং কোনো মাসিক সাবসক্রিপশন ফি নেওয়া হবে না।যাতায়াত ও ফ্রি ভেন্যু সুবিধা: কিট বহন ও যাতায়াতের জন্য বিনামূল্যে ‘ডেডিকেটেড মিনিবাস’ সার্ভিস চালু হবে। এছাড়া সেনা সদর ও ফেডারেশনের সাথে সমন্বয় করে টুর্নামেন্টে শতভাগ ফ্রি ভেন্যু এবং অনুশীলনের বিশেষ ছাড় ও সুযোগ নিশ্চিত করা হবে।আর্থিক ও সামাজিক নিরাপত্তা: ব্যাংকের সাথে MoU-এর মাধ্যমে সহজ শর্তে 'বিপিজিএ প্লেয়ার্স ক্রেডিট কার্ড' ও পার্সোনাল লোন, সেই সাথে প্রত্যেক গলফারের জন্য হেলথ ও লাইফ ইন্স্যুরেন্স এবং জরুরি সহায়তার জন্য স্থায়ী 'ওয়েলফেয়ার ফান্ড' গঠন করা হবে।ডিজিটাল বিপ্লব ও ব্রডকাস্ট: লাইভ লিডারবোর্ড ও প্লেয়ার স্ট্যাটিস্টিকস সহ ডেডিকেটেড মোবাইল অ্যাপ তৈরি এবং দেশের শীর্ষ স্পোর্টস চ্যানেলের সাথে টুর্নামেন্ট সরাসরি সম্প্রচারের প্রাতিষ্ঠানিক চুক্তি করা হবে।স্বচ্ছ প্রশাসন ও ডিজিটাল অ্যাকাউন্টস: অ্যাসোসিয়েশনের সার্বিক আধুনিকায়নে ফুল-টাইম পেশাদার সিইও (CEO) নিয়োগ এবং লেনদেনে শতভাগ স্বচ্ছতা নিশ্চিতে সেন্ট্রালাইজড ফাইন্যান্সিয়াল সফটওয়্যার চালু করা হবে।প্লেয়ার কোড অফ কন্ডাক্ট: আন্তর্জাতিক স্ট্যান্ডার্ড অনুসরণ করে আচরণবিধি প্রণয়ন করা হবে এবং বাংলাদেশ গলফ ফেডারেশন (BGF) কর্তৃক প্রফেশনাল ঘোষণার পর থেকে ওই খেলোয়াড়ের সব ধরনের অধিকার রক্ষা ও অভিভাবকত্বের দায়িত্ব নেবে বিপিজিএ।প্রো-এম ও অ্যাসোসিয়েট মেম্বারশিপ: করপোরেট ব্যক্তিত্বদের নিয়ে নিয়মিত 'প্রো-এম' টুর্নামেন্ট, গালা অ্যাওয়ার্ড ও কন্ট্রিবিউশন ভিত্তিক অ্যাসোসিয়েট মেম্বারশিপ চালু করা হবে।গ্লোবাল ট্যুর ভিশন: বিপিজিএ-এর টুর্নামেন্টগুলোকে অফিসিয়াল ওয়ার্ল্ড গলফ র্যাংকিং (OWGR)-এর আওতাভুক্ত করা এবং বিদেশি গলফারদের জন্য আন্তর্জাতিক কিউ-স্কুল (Q-School) চালুর দূরদর্শী পরিকল্পনা নেয়া হয়েছে।ডাক্তার আফশান আনিসের এই নির্বাচনী ইশতেহার কেবল কিছু প্রতিশ্রুতি নয়, এটি বাংলাদেশের পেশাদার গলফারদের অধিকার আদায় এবং গলফকে একটি লাভজনক ক্যারিয়ার হিসেবে প্রতিষ্ঠা করার পূর্ণাঙ্গ রোডম্যাপ। নেতৃত্বে শতভাগ মেলবন্ধন বজায় রাখতে প্রতিটি প্লেয়ারের সাথে নিয়মিত মতবিনিময় সভার মাধ্যমে সবাইকে সাথে নিয়ে এগিয়ে যাওয়ার আশাবাদ ব্যক্ত করা হয়েছে।

জুন ২৪, ২০২৬

আজ বিশ্ব বাবা দিবস

আজ (২১ জুন) বিশ্বের বিভিন্ন দেশের মতো বাংলাদেশেও পালিত হচ্ছে বিশ্ব বাবা দিবস। সন্তানের জীবনে ভরসা, নিরাপত্তা ও নিঃশর্ত ভালোবাসার প্রতীক বাবাদের প্রতি শ্রদ্ধা ও কৃতজ্ঞতা জানাতে প্রতি বছর জুন মাসের তৃতীয় রোববার দিবসটি উদযাপন করা হয়। এ উপলক্ষে অনেকেই বাবাকে উপহার দেন, পরিবারের সঙ্গে সময় কাটান এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বাবাকে নিয়ে স্মৃতিচারণ ও ভালোবাসার বার্তা প্রকাশ করেন।বিশ্ব বাবা দিবসের সূচনা যুক্তরাষ্ট্রে হলেও এর পেছনে রয়েছে এক আবেগঘন ইতিহাস। ১৯০৮ সালে পশ্চিম ভার্জিনিয়ার ফেয়ারমন্টে প্রথমবার বাবাদের স্মরণে একটি বিশেষ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। তবে দিবসটিকে বিশ্বব্যাপী পরিচিত করে তোলার কৃতিত্ব মূলত ওয়াশিংটনের বাসিন্দা সোনোরা স্মার্ট ডডের। মায়ের মৃত্যুর পর তার বাবা উইলিয়াম জ্যাকসন স্মার্ট একাই ছয় সন্তানকে লালন-পালন করেছিলেন, যা ডডকে গভীরভাবে অনুপ্রাণিত করে।বাবার ত্যাগ ও দায়িত্ববোধের স্বীকৃতি দিতে ডড মনে করেন, মায়েদের মতো বাবাদের জন্যও একটি বিশেষ দিন থাকা প্রয়োজন। তার উদ্যোগেই ১৯১০ সালের ১৯ জুন প্রথম আনুষ্ঠানিকভাবে বাবা দিবস পালিত হয়। পরবর্তীতে দিবসটি ধীরে ধীরে জনপ্রিয়তা লাভ করে এবং ১৯২৪ সালে তৎকালীন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ক্যালভিন কুলিজ এর প্রতি সমর্থন জানান। পরে ১৯৬৬ সালে প্রেসিডেন্ট লিন্ডন বি. জনসন জুন মাসের তৃতীয় রোববারকে বাবা দিবস হিসেবে পালনের ঘোষণা দেন।সবশেষে ১৯৭২ সালে প্রেসিডেন্ট রিচার্ড নিক্সন আইনে স্বাক্ষরের মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্রে বাবা দিবসকে স্থায়ী জাতীয় দিবস হিসেবে স্বীকৃতি দেন। বর্তমানে বিশ্বের অধিকাংশ দেশেই জুন মাসের তৃতীয় রোববার বিশ্ব বাবা দিবস পালিত হয়। দিবসটি শুধু উদযাপনের নয়, বরং বাবার প্রতি ভালোবাসা, সম্মান ও কৃতজ্ঞতা প্রকাশেরও একটি বিশেষ উপলক্ষ হিসেবে বিবেচিত হয়।/টি 

জুন ২১, ২০২৬
footer small logo

যোগাযোগ :

এটিএন বাংলা, ওয়াসা ভবন, ২য় তলা, ৯৮ কাজী নজরুল ইসলাম এভিনিউ, কাওরান বাজার, ঢাকা-১২১৫, বাংলাদেশ

ফোনঃ +88-02-55011931

সোশ্যাল মিডিয়া

youtube logotwitter logofacebook logo

Design & Developed by:

developed-company-logo