logo
youtube logotwitter logofacebook logo
/অন্যান্য
বাসযোগ্য নগরী গঠনে মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত - image

বাসযোগ্য নগরী গঠনে মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত

24 আগস্ট 2026, বিকাল 9:08

অপরিকল্পিত নগর উন্নয়নের ফলে ঢাকা শহরে পার্ক, খেলার মাঠ, সবুজ এলাকা, জলাধার ও জলাভূমি ক্রমেই কমে যাচ্ছে। এর ফলে নগরের তাপমাত্রা, বায়ু ও শব্দদূষণ, যানজট এবং জনস্বাস্থ্যঝুঁকি বাড়ছে। বাসযোগ্য নগরী গড়ে তুলতে ব্যক্তিগত গাড়ির ব্যবহার নিয়ন্ত্রণের পাশাপাশি নিরাপদ ফুটপাত, রাস্তা পারাপারের ব্যবস্থা, হাঁটাবান্ধব অবকাঠামো, নিরাপদ সাইকেল চলাচল এবং মানসম্মত গণপরিবহন নিশ্চিত করা জরুরি।সোমবার (২৪ আগস্ট) সকাল ১০টায় ওয়ার্ক ফর এ বেটার বাংলাদেশ (ডব্লিউবিবি) ট্রাস্টের কৈবর্ত সভাকক্ষে আয়োজিত “বাসযোগ্য নগরী গঠনে আমাদের করণীয়” শীর্ষক মতবিনিময় সভায় বক্তারা এসব কথা বলেন।সভায় বক্তারা বলেন, ঢাকা শহরের মাত্র ৫-৭ শতাংশ মানুষ ব্যক্তিগত গাড়িতে যাতায়াত করেন। বিপরীতে ৯০ শতাংশের বেশি মানুষ দৈনন্দিন যাতায়াতে হাঁটা, সাইকেল ও গণপরিবহনের ওপর নির্ভরশীল। তাই নগর পরিকল্পনায় অধিকাংশ মানুষের প্রয়োজনকে অগ্রাধিকার দিতে হবে। একই সঙ্গে পার্ক, খেলার মাঠ, উন্মুক্ত স্থান, জলাধার ও সবুজ এলাকা সংরক্ষণ, কাঁচাবাজারের পরিবেশ ও অবকাঠামোর উন্নয়ন এবং এসব নাগরিক সুবিধায় সবার প্রবেশাধিকার নিশ্চিত করা প্রয়োজন।ডব্লিউবিবি ট্রাস্টের সহকারী প্রকল্প কর্মকর্তা মো. মিঠুনের সঞ্চালনায় সভায় শুভেচ্ছা বক্তব্য দেন সংস্থার পরিচালক গাউস পিয়ারী। বক্তব্য দেন সমাজকর্মী ও তেঁতুলতলা মাঠ রক্ষা আন্দোলনের সমন্বয়ক সৈয়দা রত্না, বাংলাদেশ পরিবেশ আন্দোলন (বাপা)-এর হুমায়ুন কবির সুমন, ক্যাবের অর্গানাইজিং সেক্রেটারি আবুল কালাম আজাদ, ডব্লিউবিবি ট্রাস্টের প্রজেক্ট ম্যানেজার নাঈমা আকতার, শিশুদের মুক্ত বায়ুসেবন সংস্থার সদস্য মো. সেলিম, অ্যাকশন ফর চেঞ্জ ফাউন্ডেশনের মেরিনা আক্তার, ডিডিপির সভাপতি জাকির হোসেন, ব্রেভের নির্বাহী পরিচালক জাকিয়া জাহান, ধানমন্ডি কচিকণ্ঠ হাই স্কুলের প্রতিষ্ঠাতা এইচ এম নুরুল ইসলাম, বেঙ্গলী মিডিয়াম হাই স্কুলের সহকারী প্রধান শিক্ষক জাকির হোসেন, রায়েরবাজার উচ্চ বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক সবিতা রাণী পাল, বারসিকের রুমা আক্তার, ডিওয়াইডিএফের হেড অব এনভায়রনমেন্ট মো. মুন্না হোসেন, গ্রিন ভয়েসের আহসান হক, ডাব্লিউডিডিএফের অ্যাসিস্ট্যান্ট অ্যাডমিন অফিসার রওশন আরা চৌধুরী, ভিডিসির এস এম শফিউল ইসলাম, ছায়াতল বাংলাদেশের মিতু খাতুন এবং ইনস্টিটিউট অব ওয়েলবিয়িং বাংলাদেশের পলিসি অফিসার তালুকদার রিফাত পাশাসহ বিভিন্ন সংগঠনের প্রতিনিধিরা।সভায় অংশগ্রহণকারীরা কয়েকটি দলে বিভক্ত হয়ে হাঁটা ও সাইকেলে নিরাপদ যাতায়াত, শিক্ষার্থীদের নিরাপদে বিদ্যালয়ে যাতায়াত, মাঠ-পার্ক ও এলাকাভিত্তিক গণপরিসর উন্নয়ন, জলাধার রক্ষা, দূষণ হ্রাস এবং কাঁচাবাজারকে মানসম্মত করার বিষয়ে বিভিন্ন সুপারিশ তুলে ধরেন।বক্তারা ফুটপাতের মান উন্নয়ন, প্রশস্তকরণ ও দখলমুক্ত করা; সাইকেলের জন্য নির্দিষ্ট লেন ও রুট নেটওয়ার্ক তৈরি; ট্রাফিক ব্যবস্থার উন্নয়ন; শহরের খাস জমি দখলমুক্ত করে পুকুর খনন; শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও হাসপাতালের আশপাশে হর্ন বাজানো সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ করা এবং পরিবেশদূষণের উৎস চিহ্নিত করে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার সুপারিশ করেন।এ ছাড়া দখল ও দূষণকারীদের শাস্তির আওতায় আনা, মাঠ-পার্কগুলোকে কোনো ক্লাবের নিয়ন্ত্রণে না রেখে সরকারি ব্যবস্থাপনায় এনে সবার প্রবেশাধিকার ও অন্তর্ভুক্তি নিশ্চিত করা এবং মাঠ-পার্কে প্রবেশ ও খেলাধুলার জন্য কোনো অর্থ আদায় না করার ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়।কাঁচাবাজারের মানোন্নয়নে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা রক্ষায় দক্ষ জনবল নিয়োগ, পরিকল্পিত ড্রেনেজ ব্যবস্থা, কার্যকর ও সক্রিয় মনিটরিং, বাজার ব্যবস্থাপনা আইন সম্পর্কে জনসচেতনতা বৃদ্ধি এবং আইনের যথাযথ বাস্তবায়নের সুপারিশ করা হয়। একই সঙ্গে ভোক্তা ও ব্যবসায়ী উভয়ের জন্য প্রবেশগম্যতা, অন্তর্ভুক্তি ও অধিকার নিশ্চিত করে পরিকল্পিত অবকাঠামো ও প্রয়োজনীয় নাগরিক সুবিধা তৈরির আহ্বান জানানো হয়।আয়োজনের দ্বিতীয় পর্বে বিশ্ব ব্যক্তিগত গাড়িমুক্ত দিবস ২০২৬ উদযাপন উপলক্ষে বিভিন্ন কর্মসূচি নিয়ে আলোচনা করা হয়। দিবসটি উপলক্ষে সম্মিলিতভাবে মানববন্ধন, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রচারাভিযান, গাড়িমুক্ত সড়ক কর্মসূচি এবং স্কুলভিত্তিক প্রচারণা আয়োজনের প্রত্যয় ব্যক্ত করেন অংশগ্রহণকারীরা।স্থানীয় জ্ঞান, সংস্কৃতি, অর্থনীতি ও মানুষের অভিজ্ঞতাকে গুরুত্ব দিয়ে ন্যায়ভিত্তিক ও টেকসই ভবিষ্যৎ নির্মাণের লক্ষ্যে ইনস্টিটিউট অব ওয়েলবিয়িং বাংলাদেশ ও ওয়ার্ক ফর এ বেটার বাংলাদেশ ট্রাস্টের যৌথ উদ্যোগে সভাস্থলে একটি প্রদর্শনীরও আয়োজন করা হয়।সভায় ধানমন্ডি কচিকণ্ঠ হাই স্কুল, বেঙ্গলী মিডিয়াম হাই স্কুল, শিশুদের মুক্ত বায়ুসেবন সংস্থা, ছায়াতল বাংলাদেশ, ডিডিপি, ইনস্টিটিউট অব ওয়েলবিয়িং বাংলাদেশ এবং ওয়ার্ক ফর এ বেটার বাংলাদেশ ট্রাস্টসহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।

আগস্ট ২৪, ২০২৬

ঈদে মিলাদুন্নবী (সা.) উপলক্ষে ‘হযরত মোহাম্মদ (সা.)-এর জীবনাদর্শ’ শীর্ষক সেমিনার

পবিত্র ঈদে মিলাদুন্নবী (সা.) উপলক্ষে সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ মহামানব হযরত মোহাম্মদ (সা.)-এর জীবনাদর্শ নিয়ে রাজধানীতে বিশেষ সেমিনার অনুষ্ঠিত হয়েছে।আশেকে রাসুল জেনারেল অফিসিয়ালস অর্গানাইজেশনের (আর্গো) উদ্যোগে শনিবার রাজধানীর আইডিইবি মিলনায়তনে এই সেমিনার অনুষ্ঠিত হয়।ঈদে মিলাদুন্নবী (সা.) উদযাপনে যারা বাধা দিচ্ছেন তাদের নিন্দা জানিয়ে সেমিনারে বলা হয়, হযরত রাসুল (সা.)-এর শুভ জন্মদিন সৃষ্টিজগতের সবচেয়ে আনন্দের দিন। তাই এই দিনটিতে রাসুল প্রেমিকরা যাতে নির্বিঘ্নে আনন্দ উদযাপন করতে পারেন সরকারের প্রতি সেই আহবান জানানো হয়।অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন মোহাম্মদী ইসলামের নেতৃত্ব প্রদানকারী ইমাম প্রফেসর ড. কুদরত এ খোদা হুজুর।বিচারপতি, বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক, গবেষক, চিকিৎসক, সরকারি কর্মকর্তা, আইনজীবী, প্রকৌশলী, ইসলামী চিন্তাবিদ এবং বিভিন্ন পেশার আশেকে রাসুলরা সেমিনারে অংশ নেন।প্রধান অতিথির বক্তব্যে ইমাম প্রফেসর ড. কুদরত এ খোদা হযরত রাসুল (সা.)-এর প্রতি গভীর ভালোবাসা, তাঁর জীবনাদর্শ অনুসরণ, আত্মশুদ্ধি এবং উত্তম চরিত্র গঠনের ওপর গুরুত্বারোপ করেন।তিনি বলেন, মানুষের জীবনে ধর্মের শিক্ষা তখনই পূর্ণতা পায়, যখন তা মানুষের অন্তর, চরিত্র ও আচরণে প্রতিফলিত হয়।ঈদে মিলাদুন্নবি প্রচলনে সৈয়দ মাহবুব-এ-খোদা দেওয়ানবাগী হুজুরের অবদান তুলে ধরে কুদরত এ খোদা বলেন, মুসলিম জাতির ধারনা ছিল ১২ রবিউল আউয়ালেই হযরত রাসুল (সা.) ওফাত লাভ করেছেন। যে কারনে মুসলমানরা দয়াল রাসুলের (সা.) জন্মদিনের আনন্দ উদযাপনের রহমত থেকে বঞ্চিত ছিল। কিন্তু হযরত দেওয়ানবাগী (রহ.) ঐতিহাসিক দলিল দিয়ে প্রমাণ করেছেন, তিনি ওফাত লাভ করেছেন ১ রবিউল আউয়াল, আর জন্মগ্রহণ করেছেন ১২ রবিউল আউয়াল তারিখে।আগে বাংলাদেশে সিরাতুন্নবি পালিত হতো উল্লেখ করে প্রফেসর কুদরত এ খোদা বলেন, হযরত দেওয়ানবাগী (রহ.)-এর অব্যাহত প্রচেষ্টায় বাংলাদেশ সরকার রাষ্ট্রীয়ভাবে ঈদে মিলাদুন্নবি পালন করা শুরু করেছে। এজন্য রাসুল প্রেমিকরা আজীবন দেওয়ানবাগী হুজুরকে কৃতজ্ঞচিত্তে স্বরণ করবে।সম্মানিত অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন নেদারল্যান্ডসের স্থায়ী সালিশি আদালতের সাবেক সদস্য বিচারপতি মো. আওলাদ আলী, বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতি ড. সৈয়দ মোহাম্মদ জিয়াউল করিম এবং গ্লোবাল ইউনিভার্সিটি বাংলাদেশের ভাইস চ্যান্সেলর প্রফেসর ইমেরিটাস ড. আনিসুজ্জামান৷এছাড়া বক্তব্য দেন নজরুল গবেষক ও গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের সাবেক অতিরিক্ত সচিব মো. জাকির হোসেন এবং সিরাজুল ইসলাম মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালের প্রিন্সিপাল ডা. দেওয়ান ফারুকুল ইসলাম, সাবেক যুগ্মসচিব মোহাম্মদ নুরুল ইসলাম, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ফারসি ভাষা ও সাহিত্য বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. আহসানুল হাদী এবং বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টের সিনিয়র অ্যাডভোকেট মো. জিয়াউর রহমানসহ বিভিন্ন পেশার বিশিষ্ট ব্যক্তিরা।  সভাপতিত্ব করেন গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের সাবেক অতিরিক্ত সচিব ও আশেকে রাসুল জেনারেল অফিসিয়ালস অর্গানাইজেশনের (ARGOO) আহ্বায়ক ড. পিয়ার মোহাম্মদ।

আগস্ট ২৩, ২০২৬

রাসুলপ্রেম, আত্মশুদ্ধি ও মানবিক সমাজ গঠনের আহ্বান

সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ মহামানব হযরত মোহাম্মদ (সা.)-এর পবিত্র জন্মদিন ঈদে মিলাদুন্নবি (সা.) উপলক্ষে রাজধানীতে সোমবার  (১৭ আগস্ট) বিশেষ আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।দেওয়ানবাগীর দল ওলামা মিশন বাংলাদেশের উদ্যোগে সোমবার বিকেলে মতিঝিলের এজিবি কলোনি কমিউনিটি সেন্টারে এ আয়োজন অনুষ্ঠিত হয়। এতে অংশ নেন পাঁচ শতাধিক দেশবরেণ্য আলেম।অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন মোহাম্মদী ইসলামের নেতৃত্ব প্রদানকারী ইমাম প্রফেসর ড. কুদরত এ খোদা হুজুর। বিশেষ অতিথি ছিলেন বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টের অবসরপ্রাপ্ত  বিচারপতি মো. ফারুক (এম. ফারুক)।প্রধান অতিথির বক্তব্যে প্রফেসর কুদরত এ খোদা রাসুলপ্রেম, আত্মশুদ্ধি এবং উত্তম চরিত্র গঠনের ওপর গুরুত্বারোপ করেন।ঈদে মিলাদুন্নবি (সা.) প্রচলনে সৈয়দ মাহবুব-এ-খোদা দেওয়ানবাগী (রহ.)-এর অবদান তুলে ধরে তিনি বলেন, মুসলিম জাতির ধারনা ছিল ১২ রবিউল আউয়ালেই হযরত রাসুল (সা.) ওফাত লাভ করেছেন। যে কারনে মুসলমানরা দয়াল রাসুলের (সা.) জন্মদিনের আনন্দ উদযাপনের রহমত থেকে বঞ্চিত ছিল। কিন্তু শাহ দেওয়ানবাগী (রহ.) ঐতিহাসিক দলিল দিয়ে প্রমাণ করে দিলেন, তিনি ওফাত লাভ করেছেন ১ রবিউল আউয়াল, আর জন্মগ্রহণ করেছেন ১২ রবিউল আউয়াল তারিখে।আগে বাংলাদেশে সিরাতুন্নবি পালিত হতো উল্লেখ করে প্রফেসর কুদরত এ খোদা বলেন, হযরত দেওয়ানবাগী (রহ.)-এর অব্যাহত প্রচেষ্টায় বাংলাদেশ সরকার রাষ্ট্রীয়ভাবে ঈদে মিলাদুন্নবি পালন করা শুরু করেছে।ইমাম কুদরত এ খোদা তাঁর আলোচনায় হযরত রাসুল (সা)-এর প্রতি গভীর ভালোবাসাকে আত্মশুদ্ধি ও আল্লাহর নৈকট্য অর্জনের গুরুত্বপূর্ণ পথ হিসেবে তুলে ধরেন। তিনি বলেন, মানুষের অন্তরে শান্তি প্রতিষ্ঠা না হলে পরিবার, সমাজ কিংবা বিশ্বে স্থায়ী শান্তি প্রতিষ্ঠা সম্ভব নয়।তিনি আলেম-ওলামা ও আশেকে রাসুলদের প্রতি মহানবি (সা.)-এর প্রেম, ক্ষমা, সহমর্মিতা ও মানবিকতার শিক্ষা তথা মোহাম্মদী ইসলামের শিক্ষা সমাজের সর্বস্তরে ছড়িয়ে দেওয়ার আহ্বান জানান।অনুষ্ঠানে দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আগত আলেম-ওলামা, আশেকে রাসুল ও ইসলামী চিন্তাবিদরা হযরত মোহাম্মদ (সা.)-এর জীবনাদর্শ, তাঁর প্রতি ভালোবাসা, ঈদে মিলাদুন্নবির তাৎপর্য, আত্মশুদ্ধি, সুফিবাদ এবং ব্যক্তি ও সমাজজীবনে মহানবি (সা.)-এর আদর্শ অনুসরণের গুরুত্ব নিয়ে আলোচনা করেন।উক্ত অনুষ্ঠানে মোহাম্মদী ইসলামের মিলাদ শরিফ পাঠ করা হয়। আখেরি মোনাজাতে দেশ ও জাতির কল্যাণ, মুসলিম উম্মাহর ঐক্য এবং বিশ্বমানবতার শান্তি ও সমৃদ্ধি কামনা করা হয়।/টি

আগস্ট ১৮, ২০২৬

বাংলাদেশ প্রেসক্লাব ফ্রান্সের নেতৃত্বে শাহ সুহেল ও আশিক উল্লাস

ফ্রান্সে কর্মরত বাংলাদেশি সংবাদকর্মীদের সংগঠন ‘বাংলাদেশ প্রেসক্লাব, ফ্রান্স’-এর কার্যনির্বাহী কমিটি গঠন করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার দুপুরে প্যারিসের একটি অভিজাত রেস্টুরেন্টে আয়োজিত আত্মপ্রকাশ ও সাধারণ সভায় নতুন কমিটির নাম ঘোষণা করেন ইকবাল মোহাম্মদ জাফর।শাহ সুহেল আহমদকে সভাপতি ও  আশিক আহমেদ উল্লাসকে সাধারণ সম্পাদক করে ১১ সদস্য বিশিষ্ট কমিটির অন্য নেতৃবৃন্দ হলেন- সহ সভাপতি জান-ই-আলম, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আবু বাকার আল আমিন, কোষাধ্যক্ষ সাইফুল ইসলাম রনি, প্রচার সম্পাদক তানভীর তালুকদার, ক্রীড়া ও সাংস্কৃতিক সম্পাদক নিপু বড়ুয়া, দপ্তর সম্পাদক মোহাম্মদ কায়সার আহমেদ। এছাড়া কার্যনির্বাহী সদস্য হিসেবে রয়েছেন বাদল পাল, ইকবাল মোহাম্মদ জাফর এবং সাহাদ উদ্দিন।সভায় সর্বসম্মতিক্রমে আগামী দুই বছরের জন্য নতুন কমিটিকে দায়িত্ব দেয়া হয়।নবগঠিত কমিটির নেতারা বলেন, ফ্রান্সে কর্মরত বাংলাদেশি সাংবাদিকদের পেশাগত মর্যাদা, পারস্পরিক সহযোগিতা ও ঐক্য সুদৃঢ় করার পাশাপাশি বস্তুনিষ্ঠ সাংবাদিকতা ও পেশাগত দক্ষতা উন্নয়নে সংগঠনটি কাজ করবে। একই সঙ্গে ফ্রান্সে বাংলাদেশের ইতিবাচক ভাবমূর্তি তুলে ধরা এবং প্রবাসী বাংলাদেশিদের বিভিন্ন সমস্যা ও সাফল্যের সংবাদ আরও কার্যকরভাবে তুলে ধরার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হবে।

আগস্ট ১৪, ২০২৬

জলবায়ু পরিবর্তন ও অপরিকল্পিত নগরায়নে সবুজ হারিয়ে উত্তপ্ত ঢাকা, শীতল হবে কীভাবে

পেশায় রিকশাচালক চল্লিশ বছর বয়সী সবুজ। ভোরে বের হন জীবিকার তাগিদে, গ্রীষ্মের প্রবল তাপদাহে সকাল আটটা পেরোতেই সূর্যের তাপ যেন গায়ে আগুন ধরিয়ে দেয়। দুপুরের আগেই রাজধানীর ফুটপাত, ফ্লাইওভার, কংক্রিটের ভবন আর পিচঢালা সড়ক যেন বিশাল এক চুল্লিতে পরিণত হয়। সন্ধ্যার পরও স্বস্তি মেলে না। এরমধ্যেই রিকশা চালিয়ে ঘরে ফেরেন মধ্যবয়সী এই মানুষটি। তবে সেখানেও নেই শান্তি, শহরের কংক্রিট সারাদিনের সঞ্চিত তাপ ধীরে ধীরে ছাড়ে রাতভর। ফলে সবুজের মতো রাজধানীবাসী এখন শুধু দিনের গরম নয়, রাতের গরমেও অতিষ্ঠ।আবহাওয়াবিদদের মতে, এটি গ্রীষ্মের স্বাভাবিক বৈশিষ্ট্য নয়। গরম বৃদ্ধির কারণ হিসেবে  জলবায়ু পরিবর্তনের সঙ্গে যুক্ত হয়েছে অপরিকল্পিত নগরায়ণ, গাছপালা কমে যাওয়া, জলাভূমি ভরাট এবং কংক্রিটের বিস্তার। এই চারটি কারণ মিলে ঢাকাকে ধীরে ধীরে আরবান হিট আইল্যান্ড (Urban Heat Island) -এ পরিণত করেছে। গত এক দশকে আশপাশের এলাকার তুলনায় বিশ্বের বড় শহরগুলোর তাপমাত্রা গড়ে ২-৩ ডিগ্রি সেলসিয়াস বেড়েছে। কিন্তু ঢাকার তাপমাত্রা বেড়েছে আশেপাশের এলাকা থেকে ৩ -৪ ডিগ্রি। প্রশ্ন হচ্ছে ঢাকায় কেন উর্ধমুখী তাপের পারদ?কংক্রিটের নিচে হারিয়ে গেছে ঢাকাপঞ্চাশ বছর আগের ঢাকার সঙ্গে বর্তমান ঢাকার তুলনা করলে সবচেয়ে বড় পার্থক্য চোখে পড়ে সবুজ আর পানির পরিমাণে। একসময় রাজধানীজুড়ে ছিল অসংখ্য খাল, বিল, পুকুর, উন্মুক্ত মাঠ এবং বিশাল বৃক্ষ। এখন তার বড় অংশই বহুতল ভবন, শপিং কমপ্লেক্স, পার্কিং এলাকা ও সড়কে রূপ নিয়েছে। পরিবেশবিদদের মতে, একটি শহরের তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণে সবচেয়ে বড় ভূমিকা রাখে তিনটি উপাদান, সেগুলো হল- গাছপালা, জলাধার ও খোলা জায়গা। আশংকার বিষয় হল ঢাকায় এই তিনটিই দ্রুত কমেছে।গাছ সূর্যের আলো আটকে ছায়া দেয়, পাতার মাধ্যমে পানি বাষ্পীভূত করে আশপাশ ঠান্ডা রাখে। অন্যদিকে জলাশয় তাপ শোষণ করে পরিবেশের ভারসাম্য বজায় রাখে। খোলা জায়গা বাতাস চলাচলের সুযোগ তৈরি করে। এই তিনটি উপাদান কমে যাওয়ার ফলে ঢাকার প্রাকৃতিক শীতলীকরণ ব্যবস্থা প্রায় ভেঙে পড়েছে বলে মনে করেন পরিবেশ সংশ্লিষ্টরা।ঢাকা যেন এখন এক Urban Heat Island (UHI), যেখানে শহরের তাপমাত্রা আশপাশের গ্রামীণ এলাকার তুলনায় অনেক বেশি। এর প্রধান কারণ, কংক্রিট, অ্যাসফল্ট, কাচের ভবন, যানবাহনের তাপ, শিল্পকারখানা, শীতাতপ নিয়ন্ত্রণ যন্ত্রের বহির্গত গরম বাতাস। এই উপকরণগুলো দিনে বিপুল তাপ শোষণ করে এবং রাতে ধীরে ধীরে ছেড়ে দেয়। ফলে শহরের রাতও গরম থাকে।তাপ কমাতে সরকারের উদ্যোগঢাকার তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণে রাখতে সাম্প্রতিক বছরগুলোতে সরকার ও দুই সিটি করপোরেশন ইতোমধ্যে অসংখ্য প্রকল্প হাতে নিয়েছে। তবে এসব প্রকল্পের সফলতা বাস্তবে খুবই নগন্য। দুই সিটির রাস্তার পাশে বৃক্ষরোপণ, পার্ক উন্নয়ন, লেক সংস্কার, খালপূর্ন:খনন, ছাদবাগান, খালপাড় সবুজায়নের মত কর্মসূচি অন্যতম। তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণে উত্তরার মিয়াওয়াকি বন তৈরী করেছে ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশন। এই প্রকল্পের অনুষ্ঠানিক কাজ শুরু হয় গেল বছরের নভেম্বর মাসে। দ্বিতীয় দফায় গাছ লাগানো শুরু হয় গত মে মাসে। বর্তমানে তৃতীয় দফায় বৃক্ষ রোপনের জন্য মাটি প্রস্তুতের কাজ চলমান রয়েছে।দিয়াবাড়ি ৪ নম্বর ব্রিজ সংলগ্ন ১১ নম্বর লেকপাড়ের এই বনের আয়তন প্রায় ৩ দশমিক ২ একর। সেখানে মোট আড়াইশ প্রজাতির  প্রায় ৫৩ হাজার ৪০০ গাছ লাগানোর পরিকল্পনা রয়েছে সিটি কর্পোরেশনের। কৃত্রিম এই বনে দেশীয় ফলদ, ফুল, ঔষধি, কাঠ, ঝোপ, গুল্মসহ বিভিন্ন ধরনের গাছ লাগানো হয়েছে। তবে প্রাধান্য পাচ্ছে বিলুপ্তপ্রায় প্রজাতির গাছ। গেল নভেম্বরে শুরু এই প্রকল্পের গাছ মাত্র আট মাসে এটি ঘন বনে পরিণত হয়েছে।প্রশ্ন রয়ে গেছে, হাজার হাজার গাছ লাগানো হলেও কি তাপমাত্রা কমেছে? যদি কমে তাহলে কত ডিগ্রি কিংবা কত এলাকাজুড়ে কমেছে, তার কোন গবেষণা হয়নি এখনো। তাই শুধু গাছ লাগিয়ে থিম না থেকে এর বৈজ্ঞানিক মূল্যায়ন জরুরি বলে মনে করেন পরিবেশ বিজ্ঞানীরা।স্টামফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের বিজ্ঞান অনুষদের ডিন ও পরিবেশ বিজ্ঞানী অধ্যাপক ড. আহমদ কামরুজ্জামানের মতে, শুধু গাছ লাগালেই হবে না, এর বৈজ্ঞানিক মূল্যায়নও জরুরি। বন তৈরির আগে সেখানে কী পরিস্থিতি ছিল, এখন কী অবস্থা সেটি দেখতে হবে। বৈজ্ঞানিক এই পরিসংখ্যান হাতে পেলেই এই বনের সফলতা কিংবা ব্যর্থতা অনুমান করা যাবে। তিনি বলেন, প্রকল্প শুরু হওয়ার আগে ও পরে, তাপমাত্রা, আর্দ্রতা, জীববৈচিত্র্য, কার্বন শোষণ, বায়ুর মান পরিমাপ করতে হবে।ঢাকার সবচেয়ে বড় সমস্যা পরিকল্পনার অভাব বলে মনে করে নগর পরিকল্পনাবিদ আদিল মোহাম্মদ খান। তার মতে, যেখানে-সেখানে গাছ লাগিয়ে সমাধান হবে না। সড়কের দুই পাশে, খালপাড়ে, সরকারি খালি জমিতে, পার্কে বিপুল পরিমানে গাছ লাগানো যেতে পারে। বৈজ্ঞানিক পরিকল্পনায় দেশীয় গাছ লাগাতে হবে।  তাতে পরিবেশের উন্নতি হবে।আদিল মোহাম্মদ খান বলেন, ঢাকার প্রতিটি ওয়ার্ডে ছোট নগর বন, খাল পুনরুদ্ধার, লেক সংরক্ষণ, গ্রিন রুফ বাধ্যতামূলক, কুল রুফ ব্যবহার, নতুন ভবনে গাছ বাধ্যতামূলক,  স্যাটেলাইট দিয়ে হিট ম্যাপ তৈরি, রাস্তার পাশে বড় ছায়াদানকারী গাছ,স্কুলভিত্তিক সবুজায়ন এবং এসব কাজে নাগরিকদের সম্পৃক্ত  করতে পারলে সুন্দর শহর গড়া সম্ভব হবে।বিশেষজ্ঞরা বলছেন, জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব আগামী দশকে আরও বাড়বে। এর সঙ্গে যদি একইভাবে কংক্রিটের বিস্তার চলতে থাকে, তাহলে রাজধানীতে তাপপ্রবাহ আরও দীর্ঘ ও তীব্র হবে। অন্যদিকে, যদি এখন থেকেই বিজ্ঞানভিত্তিক নগর পরিকল্পনা, জলাধার সংরক্ষণ, বৃহৎ পরিসরে দেশীয় বৃক্ষরোপণ, সবুজ করিডোর, ছাদবাগান এবং মিয়াওয়াকির মতো প্রকল্পগুলোকে সমন্বিতভাবে বাস্তবায়ন করা যায়, তবে ঢাকার স্থানীয় তাপমাত্রা ধীরে ধীরে নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব।গরমেরে সাথে বাড়ছে স্বাস্থ্যঝুঁকিরাজধানী ঢাকায় তাপমাত্রা ও অনুভূত তাপমাত্রা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে জনস্বাস্থ্য ঝুঁকিও বাড়ছে। টানা গরম, উচ্চ আর্দ্রতা এবং নগরজুড়ে কংক্রিটের বিস্তারের কারণে সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন জীবন যেমন দুর্বিষহ হয়ে উঠছে, তেমনি বাড়ছে গরমজনিত নানা রোগের প্রকোপ। বিশেষ করে শিশু, বয়স্ক, গর্ভবতী নারী, নির্মাণশ্রমিক, রিকশাচালক এবং খোলা আকাশের নিচে কাজ করা শ্রমজীবী মানুষ সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিতে রয়েছেন।চিকিৎসকদের মতে, অতিরিক্ত গরমের কারণে হিট স্ট্রোক, পানিশূন্যতা, হিট এক্সহসশন, মাথা ঘোরা, অজ্ঞান হয়ে যাওয়া, শ্বাসকষ্ট, কিডনির জটিলতা এবং হৃদ্‌রোগের ঝুঁকি বেড়ে যায়। দীর্ঘ সময় রোদে কাজ করলে শরীরের তাপমাত্রা অস্বাভাবিকভাবে বৃদ্ধি পেয়ে জীবনহানির ঘটনাও ঘটতে পারে। গরমে হাসপাতালগুলোতে গরমজনিত অসুস্থতা নিয়ে রোগীর সংখ্যাও ধীরে ধীরে বেড়েছে।স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ, তীব্র তাপদাহে প্রয়োজন ছাড়া দুপুরের তীব্র রোদ এড়িয়ে চলা, পর্যাপ্ত নিরাপদ পানি ও খাবার স্যালাইন পান করা, হালকা রঙের সুতি ও ঢিলেঢালা পোশাক পরা এবং শিশু ও বয়স্কদের প্রতি বিশেষ যত্ন নেওয়া জরুরি। পাশাপাশি কর্মক্ষেত্রে পর্যাপ্ত বিশ্রাম, ছায়াযুক্ত স্থান ও বিশুদ্ধ পানির ব্যবস্থা নিশ্চিত করার আহ্বান জানিয়েছেন তারা। বিশেষজ্ঞদের মতে, দীর্ঘমেয়াদে তাপঝুঁকি কমাতে নগরজুড়ে সবুজায়ন বৃদ্ধি, জলাধার সংরক্ষণ, তাপসহনশীল অবকাঠামো নির্মাণ এবং বৈজ্ঞানিক নগর পরিকল্পনা বাস্তবায়নের কোনো বিকল্প নেই।এ বিষয়ে জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ ডা. কামার উদ্দীন মুযাক্কির বলেন, জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে ঘন ঘন তাপপ্রবাহে বাংলাদেশে জনস্বাস্থ্য সংকট আরও গভীর হচ্ছে। পরিবেশ ও সামাজিক উন্নয়ন সংস্থার (ESDO) এক গবেষণার সূত্র ধরে তিনি বলেন, গত দুই দশকে দেশে তাপজনিত কারণে মৃত্যুর সংখ্যা প্রায় ১৫০ শতাংশ বেড়েছে। শুধু ২০২২ সালেই বাংলাদেশে রেকর্ড ৫৩ দিন তাপপ্রবাহ বয়ে গেছে। এর ফলে হিট স্ট্রোকে আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। একই সময়ে কিডনি জটিলতা নিয়ে হাসপাতালের জরুরি বিভাগে রোগী ভর্তি প্রায় ২০ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে।এই চিকিৎসকের মতে, তাপদহের সংকটে সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিতে বয়স্ক মানুষ, শিশু, দীর্ঘসময় খোলা আকাশের নিচে কাজ করা শ্রমজীবী এবং নিম্নআয়ের জনগোষ্ঠী। অতিরিক্ত গরমে হিট স্ট্রোক, পানিশূন্যতা, কিডনির জটিলতা ও অন্যান্য তাপজনিত অসুস্থতার ঝুঁকি দ্রুত বাড়ছে।প্রাণহানি কমাতে দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা। ডা. মুযাক্কির বলেন, তাপপ্রবাহের আগাম সতর্কবার্তা ব্যবস্থা আরও শক্তিশালী করা, সহজে পৌঁছানো যায় এমন শীতল আশ্রয়কেন্দ্র বা কুলিং সেন্টার গড়ে তোলা এবং তাপজনিত রোগ মোকাবিলায় স্বাস্থ্যকর্মীদের বিশেষ প্রশিক্ষণ দিতে হবে।দীর্ঘমেয়াদে এই সংকট মোকাবিলায় টেকসই নগর পরিকল্পনা, নবায়নযোগ্য জ্বালানির ব্যবহার বৃদ্ধি, জ্বালানি-সাশ্রয়ী অবকাঠামো নির্মাণ এবং জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব কমাতে কার্যকর নীতি বাস্তবায়নের কোনো বিকল্প নেই। এসব উদ্যোগই ভবিষ্যতে তাপপ্রবাহের ক্ষতি কমিয়ে দেশের মানুষের স্বাস্থ্য সুরক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।

আগস্ট ০৬, ২০২৬

সেরা সংবাদ পাঠিকার সম্মাননা অর্জন করলেন শান্তা ইসলাম

দীর্ঘদিন ধরে সামাজিক ও সাংস্কৃতিক ক্ষেত্রে বিশেষ অবদান রাখায় বিভিন্ন ক্যাটাগরিতে প্রদান করা হয়েছে ওয়ার্ল্ড মিডিয়া পারফরম্যান্স অ্যাওয়ার্ড ২০২৬। শুক্রবার (৩১ জুলাই) রাতে রাজধানীর অফিসার্স ক্লাবে ওয়ার্ল্ড মিডিয়া কমিউনিকেশনের আয়োজনে জমকালো অনুষ্ঠানের মাধ্যমে এ সম্মাননা প্রদান করা হয়।এ বছর সমাজসেবা, অভিনয়, রেমিটেন্স যোদ্ধা, সংগীত, বিনোদন সাংবাদিকতা, সংবাদপাঠ, তরুণ উদ্যোক্তা ও মডেলসহ মোট দশটি ক্যাটাগরিতে অ্যাওয়ার্ড প্রদান করা হয়।অনুষ্ঠানে সেরা সংবাদ পাঠিকার সম্মাননা অর্জন করেন এটিএন বাংলার সংবাদ পাঠিকা শান্তা ইসলাম। দীর্ঘদিন ধরে সংবাদ উপস্থাপনার মাধ্যমে গণমাধ্যমে তার পেশাদারিত্ব ও অবদানের স্বীকৃতি হিসেবে তাকে এ সম্মাননা দেওয়া হয়।অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন শিক্ষা সচিব আব্দুল খালেক। বিশেষ অতিথি ছিলেন এটিএন বাংলার অনুষ্ঠান ও সম্প্রচার উপদেষ্টা তাশিক আহমেদ।তাশিক আহমেদ বলেন, দেশের সামাজিক ও সাংস্কৃতিক অগ্রযাত্রায় তরুণদের আরও বেশি এগিয়ে আসতে হবে। তিনি সুস্থ ধারার সংস্কৃতির চর্চায় সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার আহ্বান জানান।অনুষ্ঠানে বিভিন্ন অঙ্গনের বিশিষ্ট ব্যক্তি, গণমাধ্যমকর্মী ও সংস্কৃতিকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।/টি

আগস্ট ০১, ২০২৬

রাজধানীর ক্ষুধার্ত মানুষের মুখে হাসি ফোটাচ্ছে ‘মাস্তুল মেহমানখানা’

ক্ষুধার কষ্ট যে কতটা তীব্র তা কেবল তারাই বোঝেন, যারা প্রতিদিন অভাব আর অনিশ্চয়তার সঙ্গে লড়াই করেন। রাজধানীর দিনমজুর, রিকশাচালক, পথশিশু কিংবা আশ্রয়হীন অনেক মানুষের দিন কাটে একবেলা খাবারের চিন্তায়। এমন অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়াতে ব্যতিক্রমী উদ্যোগ নিয়েছে দেশের অন্যতম মানবিক প্রতিষ্ঠান মাস্তুল ফাউন্ডেশন। তাদের ‘মাস্তুল মেহমানখানা’ কর্মসূচির মাধ্যমে প্রতিদিন বিনামূল্যে হাজারো মানুষের জন্য খাবার বিতরণ করা হচ্ছে রাজধানীর বিভিন্ন স্থানে।মাস্তুল ফাউন্ডেশনের তথ্য অনুযায়ী, প্রতিদিন ঢাকার প্রায় ২০টি স্থানে হাজারো মানুষের মাঝে খাবার বিতরণ করা হয়। স্বেচ্ছাসেবকদের সমন্বিত প্রচেষ্টায় নিয়মিত পরিচালিত হচ্ছে এই কার্যক্রম। যাদের অনেকের দিন কাটতো খেয়ে না খেয়ে, তাদের কাছে এই মেহমানখানা এখন ভরসার আরেক নাম।শুধু সুবিধাবঞ্চিত মানুষই নন,  এই শহরের যে কেউ চাইলে হতে পারেন মাস্তুল মেহমানখানার সম্মানিত মেহমান। মহান আল্লাহর সন্তুষ্টির নিয়তে ক্ষুধার্ত মানুষের মুখে খাবার তুলে দেওয়াই এই উদ্যোগের লক্ষ্য।আয়োজকদের মতে, এমন মানবিক প্রয়াস টিকিয়ে রাখতে সমাজের সামর্থ্যবান মানুষদের আরও এগিয়ে আসা প্রয়োজন। কারণ একটু সহযোগিতাও ক্ষুধার্ত মানুষের একবেলার খাবার নিশ্চিত করতে পারে। মাস্তুল মেহমানখানা’ কর্মসূচির মাধ্যমে প্রতিদিন যে মানবিক সহায়তা পৌঁছে যাচ্ছে, তা রাজধানীর অসহায় মানুষের জীবনে স্বস্তির পাশাপাশি ফিরিয়ে দিচ্ছে মর্যাদাবোধও। সমাজের সামর্থ্যবান মানুষ আরও এগিয়ে এলে এই উদ্যোগ আরও বেশি মানুষের কাছে পৌঁছে যাবে সহমর্মিতার হাত। মানবিক বাংলাদেশ গঠনের পথে এমন উদ্যোগ হয়ে উঠতে পারে গুরুত্বপূর্ণ এক অনুপ্রেরণা।/টি

আগস্ট ০১, ২০২৬

নগরসেবাকেন্দ্রিক অবৈধ অর্থনীতি ও রাজনৈতিক প্রভাব বন্ধের আহ্বান আইপিডির

ঢাকার কাফরুলে ময়লার ব্যবসা, ফুটপাত দখল এবং চাঁদাবাজিকে কেন্দ্র করে সংঘটিত হত্যাকাণ্ডে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে ইনস্টিটিউট ফর প্ল্যানিং অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট (আইপিডি)। সংস্থাটি বলেছে, এ ঘটনা আবারও প্রমাণ করেছে যে নগরের সেবা ও ব্যবস্থাপনার বিভিন্ন খাতে অবৈধ অর্থনৈতিক স্বার্থ এবং রাজনৈতিক প্রভাবের বিপজ্জনক যোগসূত্র এখনও বহাল রয়েছে।সোমবার এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে আইপিডি জানায়, গণমাধ্যমে প্রকাশিত তথ্য ও আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর বক্তব্যে এ ঘটনার পেছনে নগরসেবাকেন্দ্রিক অবৈধ অর্থনৈতিক স্বার্থ, রাজনৈতিক প্রভাব এবং স্থানীয় আধিপত্যের বিষয়টি উঠে এসেছে। সংস্থাটির মতে, এটি কোনো বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়; বরং দীর্ঘদিন ধরে গড়ে ওঠা নগরভিত্তিক অবৈধ অর্থনীতি ও রাজনৈতিক পৃষ্ঠপোষকতার বাস্তবতারই বহিঃপ্রকাশ।বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, দেশের রাজনীতিতে এখনও এমন একটি সংস্কৃতি বিদ্যমান, যেখানে দলীয় পদ-পদবি ও রাজনৈতিক পরিচয় অনেক ক্ষেত্রে জনসেবার পরিবর্তে অবৈধ অর্থ উপার্জনের হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছে। ফলে রাজনীতির সঙ্গে অবৈধ বাণিজ্যের সম্পর্ক আরও গভীর হয়েছে। জুলাই গণঅভ্যুত্থানের পর এই রাজনৈতিক অপসংস্কৃতির অবসান হবে বলে জনমনে প্রত্যাশা থাকলেও তা যথাযথভাবে পূরণ হয়নি বলে মন্তব্য করেছে আইপিডি।সংস্থাটি জানায়, ময়লা সংগ্রহ, ফুটপাত, বাজার, পরিবহন, মাঠ-পার্ক, খাল-জলাশয় ও জমি দখলসহ বিভিন্ন নগরসেবাকে কেন্দ্র করে একটি সমান্তরাল অবৈধ অর্থনৈতিক কাঠামো গড়ে উঠেছে। এই অর্থনীতির নিয়ন্ত্রণকে ঘিরে রাজনৈতিক বলয়ের অভ্যন্তরেও সংঘাত, সহিংসতা ও হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটছে।ঢাকার ময়লা ব্যবস্থাপনাকে ঘিরে গড়ে ওঠা বাণিজ্যিক কাঠামোর সমালোচনা করে আইপিডি জানায়, নাগরিকরা নিয়মিত হোল্ডিং ট্যাক্স পরিশোধ করলেও তাদের কাছ থেকে আলাদাভাবে ময়লা অপসারণের জন্য অতিরিক্ত অর্থ আদায় করা হয়। বিষয়টি নিয়ে আদালতে রিটও হয়েছে। সংস্থাটির মতে, এই অস্বচ্ছ ও অনিয়ন্ত্রিত ব্যবস্থা চাঁদাবাজি ও অবৈধ আর্থিক লেনদেনের সুযোগ সৃষ্টি করেছে। সিটি কর্পোরেশন চাইলে আধুনিক ও স্বচ্ছ ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে পুরো ময়লা সংগ্রহ ও অপসারণ কার্যক্রম নিজেদের নিয়ন্ত্রণে এনে রাজস্ব বৃদ্ধি এবং অবৈধ মধ্যস্বত্বভোগী চক্রের অবসান ঘটাতে পারে।বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়, ফুটপাত, সরকারি জমি, খাল, জলাশয়, পার্ক ও উন্মুক্ত স্থান দখল করে অবৈধ ব্যবসার মাধ্যমে একটি শক্তিশালী নগর মাফিয়াতন্ত্র গড়ে উঠেছে। রাজনৈতিক প্রভাব ও পেশিশক্তির কারণে এই দখলদারিত্ব বছরের পর বছর টিকে থাকায় নাগরিকদের চলাচল, পরিবেশ ও জীবনমান ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে এবং পরিকল্পিত নগর উন্নয়ন বাধাগ্রস্ত হচ্ছে।আইপিডির মতে, সিটি কর্পোরেশনগুলোতে দীর্ঘদিন নির্বাচিত কাউন্সিলর বা জনপ্রতিনিধির অনুপস্থিতি এবং দলীয়ভাবে নিয়োগপ্রাপ্ত প্রশাসকদের মাধ্যমে স্থানীয় প্রশাসন পরিচালিত হওয়ায় জবাবদিহিতা দুর্বল হয়েছে। এর ফলে স্থানীয় পর্যায়ে বিভিন্ন অবৈধ গোষ্ঠী আরও শক্তিশালী হওয়ার সুযোগ পেয়েছে। শক্তিশালী, জবাবদিহিমূলক ও গণতান্ত্রিক স্থানীয় সরকার ব্যবস্থা ছাড়া নগর ব্যবস্থাপনায় সুশাসন প্রতিষ্ঠা সম্ভব নয় বলেও উল্লেখ করা হয়।কাফরুলের হত্যাকাণ্ডের মতো ঘটনা প্রতিরোধে কেবল আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর অভিযান যথেষ্ট নয় বলে মনে করে আইপিডি। সংস্থাটির ভাষ্য, এ ধরনের সংঘাতের অর্থনৈতিক ও প্রাতিষ্ঠানিক ভিত্তি ভেঙে দিতে হবে। অবৈধ অর্থনীতির উৎস বন্ধ না হলে ব্যক্তি পরিবর্তিত হলেও সহিংসতার চক্র অব্যাহত থাকবে।এ প্রেক্ষাপটে সরকারের প্রতি সাত দফা সুপারিশ তুলে ধরেছে আইপিডি। এর মধ্যে রয়েছে রাজনৈতিক পরিচয় ব্যবহার করে চাঁদাবাজি, দখলদারিত্ব ও অবৈধ বাণিজ্যের সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনের যথাযথ প্রয়োগ নিশ্চিত করা; রাজনৈতিক দলগুলোর অভ্যন্তরে এ ধরনের কর্মকাণ্ডে জড়িত সদস্যদের বিরুদ্ধে কঠোর সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া; ময়লা সংগ্রহ ব্যবস্থাকে পুরোপুরি সিটি কর্পোরেশনের আওতায় আনা; নাগরিকদের কাছ থেকে অতিরিক্ত ফি আদায় বন্ধ করা; ফুটপাত, সরকারি জমি, খাল, জলাশয়, পার্ক ও উন্মুক্ত স্থান দখলমুক্ত করতে নিয়মিত ও নিরপেক্ষ অভিযান পরিচালনা; নগরসেবাভিত্তিক সব ইজারা, চুক্তি ও আর্থিক লেনদেনে স্বচ্ছতা নিশ্চিত ও ডিজিটাল নজরদারি চালু; সিটি কর্পোরেশনে দ্রুত নির্বাচিত জনপ্রতিনিধিদের মাধ্যমে জবাবদিহিমূলক স্থানীয় সরকার ব্যবস্থা পুনঃপ্রতিষ্ঠা এবং নগর ব্যবস্থাপনায় বিদ্যমান অবৈধ অর্থনীতি নির্মূলে সমন্বিত জাতীয় কর্মপরিকল্পনা গ্রহণ।সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে আইপিডি দৃঢ়ভাবে উল্লেখ করেছে, নগরসেবাকে ঘিরে গড়ে ওঠা অবৈধ অর্থনীতি, চাঁদাবাজি ও দখলদারিত্বের অবসানে আইনের নিরপেক্ষ প্রয়োগ, কার্যকর স্থানীয় সরকার, স্বচ্ছ নগর ব্যবস্থাপনা এবং রাজনৈতিক ও প্রাতিষ্ঠানিক সংস্কারের কোনো বিকল্প নেই। অন্যথায় নগরের বিভিন্ন সেবা ও সম্পদ দখলকে কেন্দ্র করে সংঘাত, সহিংসতা ও প্রাণহানির পুনরাবৃত্তি ঘটতেই থাকবে।/টি

জুলাই ২৮, ২০২৬

কাঠমান্ডুতে বাংলাদেশি বিভিন্ন জাতের আম ও আমজাত পণ্যের উৎসব

বাংলাদেশ দূতাবাস, কাঠমান্ডু আজ কাঠমান্ডুস্থ দূতাবাস সংলগ্ন উৎসব কুঞ্জ (UTSAV Kunja) ব্যাংকুয়েট হলে "বাংলাদেশ ম্যাঙ্গো ডেলিকেসি" শীর্ষক এক বিশেষ আম উৎসবের আয়োজন করে। এ উৎসবের মাধ্যমে বাংলাদেশের সমৃদ্ধ আমের ঐতিহ্য, অনন্য গুণগত মান ও বৈচিত্র্যময় স্বাদের পরিচয় তুলে ধরা হয় এবং তাজা ফল ও মূল্যসংযোজিত প্রক্রিয়াজাত কৃষিপণ্যের রপ্তানিতে বাংলাদেশের ক্রমবর্ধমান সম্ভাবনা তুলে ধরা হয়।অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সার্ক সচিবালয়ের মহাসচিব রাষ্ট্রদূত মো. গোলাম সারওয়ার। বিশেষ অতিথি হিসেবে নেপালের পররাষ্ট্র সচিবের পক্ষে নেপালের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের দক্ষিণ এশিয়া বিভাগের যুগ্মসচিব জনাব গহেন্দ্র রাজভাণ্ডারী নেপালের পররাষ্ট্র সচিবের পক্ষে অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণ করেন। এছাড়া বিভিন্ন দেশের কূটনীতিক, নেপাল সরকারের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, ব্যবসায়ী প্রতিনিধি, শীর্ষস্থানীয় আমদানিকারক, গণমাধ্যমকর্মী এবং অন্যান্য আমন্ত্রিত অতিথিরা অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন।স্বাগত বক্তব্যে বাংলাদেশ দূতাবাসের রাষ্ট্রদূত মো. শফিকুর রহমান কৃষি ও কৃষি পণ্য ভিত্তিক শিল্পে বাংলাদেশের সাম্প্রতিক অগ্রগতির কথা তুলে ধরেন। তিনি বলেন, বাংলাদেশে আম কেবল একটি ফল নয়; এটি আমাদের সংস্কৃতি, ঐতিহ্য, কৃষি এবং জীবনযাত্রার অবিচ্ছেদ্য অংশ। মুঘল আমলের ইতিহাসের নানা প্রসঙ্গ উল্লেখ করে তিনি বলেন, উর্বর পলিমাটি ও অনুকূল জলবায়ুর কারণে বাংলাদেশ বিশ্বের উৎকৃষ্টতম আম উৎপাদনকারী দেশগুলোর অন্যতম। তিনি উল্লেখ করেন যে খিরসাপাত (হিমসাগর), হারিভাঙ্গা, ল্যাংড়া, ফজলি, গোপালভোগ, আম্রপালি, আশ্বিনা, বানানা ম্যাঙ্গো, কাটিমন, গৌরমতি এবং বারি আমসহ বাংলাদেশের বিভিন্ন জাতের আম তাদের অতুলনীয় মিষ্টতা, অনন্য সুবাস, উচ্চমান এবং পুষ্টিগুণের জন্য বিশ্বব্যাপী সমাদৃত।রাষ্ট্রদূত আরও বলেন, বাংলাদেশের বিজ্ঞানী ও গবেষকেরা দেরিতে মৌসুমের পরেও ফলনশীল বিভিন্ন নতুন জাতের বারি আম উদ্ভাবন এবং বিদেশি কিছু জাতের সফল অভিযোজনের মাধ্যমে আম গবেষণায় উল্লেখযোগ্য অবদান রেখেছেন। তিনি দেশের বেসরকারি খাতের প্রশংসা করে বলেন, বাংলাদেশের আমভিত্তিক প্রক্রিয়াজাত শিল্প ইতোমধ্যে আন্তর্জাতিক মানসম্পন্ন আমের জুস, নেকটার, পাল্প, জ্যাম, আচার, চাটনি, শুকনো আম, ক্যান্ডি, ফ্রুট বার, ডেজার্টসহ নানা ধরনের মূল্যসংযোজিত পণ্য উৎপাদনে সফলতা অর্জন করেছে।দক্ষিণ এশিয়ার বিভিন্ন দেশের আমের ঐতিহ্য ও স্বাদের প্রসঙ্গ তুলে ধরে সার্ক মহাসচিব রাষ্ট্রদূত মো. গোলাম সারওয়ার বলেন, বিপুল সম্ভাবনা থাকা সত্ত্বেও এ অঞ্চলের আম ও আমজাত পণ্যের রপ্তানি এখনও প্রত্যাশিত পর্যায়ে পৌঁছায়নি। তিনি এ ধরনের উদ্যোগ গ্রহণের জন্য বাংলাদেশ দূতাবাসকে অভিনন্দন জানান এবং কৃষিখাতে সার্কভুক্ত দেশগুলোর মধ্যে সহযোগিতা আরও জোরদারের আহ্বান জানান।বিশেষ অতিথি নেপালের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের যুগ্মসচিব জনাব গহেন্দ্র রাজভাণ্ডারী বাংলাদেশ দূতাবাসকে এ ধরনের ব্যতিক্রমী আয়োজনের জন্য ধন্যবাদ জানান। তিনি বলেন, এ উদ্যোগ শুধু বাংলাদেশের আন্তরিকতা ও আতিথেয়তার পরিচয় বহন করে না, বরং দুই বন্ধুত্বপূর্ণ দেশের জনগণের মধ্যে বিভিন্ন ক্ষেত্রে সেতুবন্ধন গড়ে তুলতেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। তিনি রাষ্ট্রদূত মো. শফিকুর রহমানের "ম্যাঙ্গো ডিপ্লোমেসি" উদ্যোগের প্রশংসা করেন এবং বর্তমান বৈশ্বিক প্রেক্ষাপটে পারস্পরিক সম্প্রীতি ও বন্ধুত্ব আরও জোরদারের লক্ষ্যে এ ধরনের কার্যক্রম অব্যাহত রাখার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।প্রদর্শনীতে বাংলাদেশের বিভিন্ন জাতের তাজা আমের পাশাপাশি আমভিত্তিক প্রক্রিয়াজাত নানাবিধ পণ্য একটি সমৃদ্ধ সংগ্রহ প্রদর্শন করা হয়। অতিথিরা বাংলাদেশের আমের স্বাদ, বৈচিত্র্য ও রন্ধনশৈলীর সঙ্গে পরিচিত হওয়ার সুযোগ পান। সমাজের বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার দর্শনার্থীরা বাংলাদেশের আধুনিক উদ্যানতত্ত্ব, টেকসই কৃষি এবং খাদ্য প্রক্রিয়াজাত প্রযুক্তির অগ্রগতি সম্পর্কে নতুন ধারণা লাভ করেন।অনুষ্ঠানে বাংলাদেশের একজন সফল আমচাষি জনাব রফিকুল ইসলাম গত ১৫ বছরের তার আমচাষের অভিজ্ঞতা তুলে ধরেন। তিনি বাংলাদেশ কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের তত্ত্বাবধানে গুড অ্যাগ্রিকালচারাল প্র্যাকটিসেস (GAP) অনুসরণ করে নিরাপদ ও মানসম্মত আম উৎপাদনের বিভিন্ন পদ্ধতি এবং নিজের বাস্তব অভিজ্ঞতা অতিথিদের সামনে উপস্থাপন করেন।এই উৎসব শুধু বাংলাদেশের কৃষি সাফল্যের উদযাপনই নয়, বরং বাংলাদেশ ও নেপালের মধ্যে অর্থনৈতিক সহযোগিতা জোরদারের একটি গুরুত্বপূর্ণ উদ্যোগ। এর মাধ্যমে নেপালের ভোক্তাদের মধ্যে বাংলাদেশের আম ও আমজাত পণ্যের প্রতি নতুন করে আগ্রহ সৃষ্টি হয়েছে এবং দুই দেশের রপ্তানিকারক ও আমদানিকারকদের মধ্যে ব্যবসায়িক অংশীদারিত্ব গড়ে তোলার মাধ্যমে দ্বিপাক্ষিক কৃষি ও খাদ্যপণ্যের বাণিজ্য সম্প্রসারণের পথ সুগম করেছে লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে।উপস্থিত অতিথিরা বাংলাদেশের আমের অসাধারণ স্বাদ, গুণগত মান ও বৈচিত্র্যের ভূয়সী প্রশংসা করেন।বাংলাদেশ দূতাবাস বাংলাদেশ ও নেপালের মধ্যে বাণিজ্য, বিনিয়োগ ও সাংস্কৃতিক বিনিময় সম্প্রসারণে তার অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেন এবং আশা প্রকাশ করেন যে, "বাংলাদেশ ম্যাঙ্গো ডেলিকেসি"-এর মতো উদ্যোগ দুই দেশের দীর্ঘদিনের বন্ধুত্ব ও পারস্পরিক লাভজনক অংশীদারিত্বকে আরও সুদৃঢ় করবে।উৎসবে বাংলাদেশের রাজশাহীর মৌসুমের পরে দেরিতে উৎপাদিত বিভিন্ন জাতের আম, যেমন—ফজলি, আম্রপালি, বারি-৪, কাটিমন, গৌরমতি, আশ্বিনা প্রভৃতি প্রদর্শন করা হয়। পাশাপাশি বাংলাদেশের বিভিন্ন ব্র্যান্ডের আমের জুস, আচার, ফ্রুট বার, শুকনো আম, চাটনি, জ্যাম ও জেলিসহ নানা ধরনের প্রক্রিয়াজাত আমপণ্যও প্রদর্শিত হয়। অতিথিদের জন্য আমের কেক, ম্যাঙ্গো স্টিকি রাইস, ম্যাঙ্গো পুডিংসহ বিভিন্ন ধরনের আমের ডেজার্ট পরিবেশন করা হয়। এছাড়া বাংলাদেশে আম চাষ, দেশের সংস্কৃতি, পর্যটন এবং Beautiful Bangladesh-এর ওপর নির্মিত প্রামাণ্যচিত্রও প্রদর্শন করা হয়।প্রায় ২৫০ জন অতিথি, যার মধ্যে ফল ব্যবসায়ী, আমদানিকারক, ব্যবসায়ী সংগঠনের প্রতিনিধি, চেম্বার নেতৃবৃন্দ এবং অন্যান্য বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ উপস্থিত ছিলেন। অনুষ্ঠানের শেষে অতিথিদের জন্য ঐতিহ্যবাহী বাংলাদেশি খাবারের আপ্যায়নের ব্যবস্থা করা হয়।/টি

জুলাই ২৭, ২০২৬

লক্ষ্মীপুর-রামগতি সড়ক চার লেনে উন্নীত করার দাবি সাংবাদিক জুনাইদ আল হাবিবের

লক্ষ্মীপুর-রামগতি সড়ককে চার লেনে উন্নীত করার দাবি জানিয়েছেন কালের কণ্ঠের প্রতিবেদক সাংবাদিক জুনাইদ আল হাবিব। তিনি বলেছেন, লক্ষ্মীপুরের দক্ষিণাঞ্চল দেশের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অর্থনৈতিক অঞ্চল হলেও এ অঞ্চলের প্রধান সড়কটি এখনও সরু ও ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় রয়েছে।সম্প্রতি নিজের ফেসবুক পোস্টে জুনাইদ আল হাবিব লিখেছেন, দক্ষিণাঞ্চলে কোটি কোটি টাকার মৎস্য উৎপাদন, কৃষিনির্ভর অর্থনীতি ও পর্যটন খাত জাতীয় অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। তাই এ সড়কে চলাচলকারী মানুষের জন্য চার লেনের সড়ক অত্যন্ত প্রয়োজন।তিনি আরও উল্লেখ করেন, সড়কটি সরু হওয়ায় প্রায়ই দুর্ঘটনায় প্রাণহানির ঘটনা ঘটে। রাতের বেলায় সড়কটি আরও অনিরাপদ হয়ে ওঠে। এতে প্রতিদিন যাতায়াতকারী সাধারণ মানুষকে নানা ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করতে হয়।ফেসবুক পোস্টে তিনি বলেন, দক্ষিণাঞ্চলের অর্থনৈতিক গুরুত্ব বিবেচনায় লক্ষ্মীপুর-রামগতি সড়ককে দ্রুত চার লেনে উন্নীত করা সময়ের দাবি। এতে একদিকে মানুষের নিরাপদ যাতায়াত নিশ্চিত হবে, অন্যদিকে এ অঞ্চলের অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডও আরও গতিশীল হবে।/টিএ

জুলাই ২৩, ২০২৬

নিরাপদ বাংলাদেশ কি সম্ভব?

জাতীয় নিরাপত্তা একটি দেশের প্রধান রক্ষাকবজ। আভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা ও বৈশ্বিক নিরাপত্তা দুটোই অতি গুরুত্বপূর্ব বিষয়। বৈশ্বিক নিরাপত্তা নির্ভর করে আভ্যন্তরীণ নিরাপত্তার উপর। বাংলাদেশের মত তৃতীয় বিশ্বের দেশ গুলিতে আভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা অনেকটা স্বপ্নের মতো হয়ে দাঁড়িয়েছে। ঘর থেকে বের হয়ে কাজ শেষ করে সুরক্ষিত অবস্থায় আবার ঘরে ফিরা একটা যুদ্ধ জয় করার মতো অবস্থা হয়ে দাঁড়িয়েছে। পৃথিবীর অনেক দেশই নাগরিকদের জন্য শতভাগ নিরাপদ। তারা পারলে আমরা পারছি না কেন? আমাদের সমাজের প্রিতিটি স্তর বা সর্ব দিক থেকে আমরা অনৈতিকতার বেড়াজালে আবৃত, আশ্চর্যের বিষয় হল ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান গুলিও অনৈতিকতা থেকে বাদ যাচ্ছে না! শিক্ষা ব্যবস্থা থেকে নৈতিক শিক্ষা প্রায় বিলুপ্ত। প্রথমেই আইন শৃঙ্খলা ও নিরাপত্তা ব্যবস্থা ব্যাহত হওয়ার কারণ খুঁজা দরকার - ১) নিরাপত্তা বাহিনীর অপ্রতুলতা, এলাকাভেদে ৩-৫ লক্ষ্য মানুষের বিপরীতে ৫০-১০০ জন পুলিশ কাজ করে, ২) ডাকাত- সন্ত্রাসীদের কাছে বিপুল পরিমান অবৈধ অস্ত্র ও গুলাবারুদ রয়েছে, ৩) সারাদেশে একসাথে নিরাপত্তা বাহিনীর টহল বা তদারকি করতে না পারা, ৪) অপরাধের তথ্য সংগ্রহের সঠিক (আগাম) ব্যবস্থা না থাকা, ৫) প্রত্যন্ত অঞ্চলের সাথে থানার যোগাযোগ ব্যবস্থা ভালো না হওয়া, ৬) আইন শৃঙ্খলা বাহিনীর কাছে পর্যাপ্ত পরিবহন ব্যবস্থা না থাকা, ৭) সময়মতো আইন শৃঙ্খলা বাহিনীর হাজির হতে না পারা ইত্যাদি।  সামাজিকভাবে প্রতিরোধ গড়ে তুলার মাধ্যমে অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা সুদৃঢ় করার একটি প্রচেষ্টা গড়া সম্ভবঃ-বিভিন্ন বাহিনী থেকে অবসর নেওয়া হাজার হাজার অফিসার ও লক্ষ লক্ষ সৈনিক দেশের প্রতিটি প্রান্তেই আছেন, তাদের সহায়তায় আভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা ও শৃঙ্খলা অনেকাংশে নিশ্চিত করা সম্ভব। যেমনঃ দেশের প্রতিটি ইউনিয়নে / ওয়ার্ডে অবসরপ্রাপ্ত অফিসার, সৈনিক ও শিক্ষিত বেকার যুবকদের সমন্বয়ে একটি করে ‘সামাজিক সুরক্ষা কমিটি’ গঠন করা করে আভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা ও শৃঙ্খলা নিশ্চিত করা সম্ভব। একটি অধ্যাদেশ জারির মাধ্যমে রাষ্ট্রীয় পৃষ্ঠপোষকতায় গঠিত হবে এই কমিটি, উল্লেখ্য যে এটি কোনো বাহিনী নয়। কমিটি হবে ১১ সদস্য বিশিষ্ট, প্রতিটি কমিটিতে অবসরপ্রাপ্ত ‘স্থানীয়’ ১ জন (অবসরপ্রাপ্ত) অফিসার, ৫ জন (অবসরপ্রাপ্ত) সৈনিক ও ৫ জন শিক্ষিত যুবক থাকবেন, কমিটির সবাই স্থানীয় নাগরিক হলে ইউনিয়নের সকল মানুষকে চিনবেন, ফলে তথ্য সংগ্রহ ও আসামি সনাক্ত করা সহজ হবে, সৈনিকদের সকল ধরণের প্রশিক্ষণ আছে, তারা যেকোনো পরিস্থিতি মোকাবেলা করতে সক্ষম, অন্যদিকে যুবকদের-কে সৈনিকরাই প্রশিক্ষণ দিতে পারবে, এই কমিটি থানার সহায়ক হিসেবে কাজ করবে, কমিটির মূল কাজ হবে তৃণমূল পর্যায়ে শান্তি শৃঙ্খলা রক্ষায় নিয়মিত টহল, পরিস্থিতি তদারকি ও তথ্য সংগ্রহ করা, সংগ্রহীত সকল তথ্য অ্যাপ এর মাধ্যমে সংশ্লিষ্ট থানার OC ও UNO সাহেব সহ SP ও DC, IG সাহেব-কে অবহিত করবেন (অ্যাপ তৈরী করতে হবে)। কমিটির গ্রেফতারি ক্ষমতা থাকবে, অতি প্রয়োজনে থানার অনুমতিক্রমে গ্রেফতার করতে পারবে, অবৈধ অস্ত্র ও মাদকদ্রব্য উদ্ধার করতে পারবে, গ্রেফতারের পর / অস্ত্র বা মাদকদ্রব্য উদ্ধারের পর আসামিকে বা উদ্ধার কৃত বস্তু থানায় সোপর্দ করবেন, সংশ্লিষ্ট থানা আসামি বা উক্ত  বিষয়ে পরবর্তী পদক্ষেপ নিবে। কমিটির প্রত্যেককে মাসিক ৭০০০ - ১০০০০ টাকা ভাতা দেয়া হবে, দেশব্যাপী এই কমিটি পরিচালনায় মাসিক খরচ হবে ৭৫-৮০ কোটি টাকা যা আন্তর্জাতিক দাতা সংস্থা বা উন্নয়ন সহযোগীদের থেকেই সংগ্রহ করা সম্ভব বলে মনে করি, আর না পাওয়া গেলে দেশের প্রয়োজনে সরকার নিজেই খরচ করবে।  এই পদক্ষেপ বাস্তবায়ন এর মাধ্যমে আইন শৃঙ্খলার দ্রুত উন্নতি হবে, অপরাধ প্রবণতাও হ্রাস পাবে। স্বচ্ছতা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে ৬ মাস অন্তর অন্তর নতুন করে কমিটি গঠন করার প্রয়োজন হতে পারে। প্রশ্ন হলো এই উদ্যোগ নিবেন কে ? প্রধানমন্ত্রী ও মন্ত্রী পরিষদের সম্মিলিত হস্তক্ষেপ ছাড়া এই ধরণের উদ্যোগ বাস্তবায়ন দুঃস্বপ্ন।  লেখামোহাম্মদ আরিফুল ইসলামলেখক, গবেষক ও সমাজকর্মী

জুলাই ১৮, ২০২৬

বিশ্বমঞ্চে বাংলাদেশের মুখ উজ্জ্বল করলেন জোবায়ের হক ফাহিম

আন্তর্জাতিক নেতৃত্বের মঞ্চে বাংলাদেশের জন্য নতুন সাফল্য বয়ে এনেছেন তরুণ সংবাদ উপস্থাপক, শিক্ষক ও মডেল জোবায়ের হক ফাহিম। মালয়েশিয়ার এশিয়া প্যাসিফিক ইউনিভার্সিটি অব টেকনোলজি অ্যান্ড ইনোভেশন (এপিইউ)-এ অনুষ্ঠিত গ্লোবাল লিডারশিপ সামিট ২০২৬-এ বাংলাদেশের প্রতিনিধিত্ব করে তিনি অর্জন করেছেন ‘সাইলেন্ট স্ট্রেংথ অ্যাওয়ার্ড’। পাশাপাশি সম্মেলনে অংশগ্রহণ ও নেতৃত্বের স্বীকৃতি হিসেবে পেয়েছেন আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত অংশগ্রহণ সনদ।জাতিসংঘের টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা (এসডিজি), নেতৃত্ব, উদ্ভাবন, নীতিনির্ধারণ এবং বৈশ্বিক সহযোগিতা নিয়ে আয়োজিত এই সম্মেলনে বিশ্বের ১৪টি দেশের ৩৫০-এর বেশি প্রতিনিধি অংশ নেন। বিভিন্ন দেশের তরুণরা গবেষণা, নেতৃত্ব, কূটনৈতিক দক্ষতা এবং উদ্ভাবনী ধারণার মাধ্যমে সমসাময়িক বৈশ্বিক চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় নিজেদের পরিকল্পনা ও দৃষ্টিভঙ্গি তুলে ধরেন।সম্মেলনের অন্যতম আকর্ষণ ছিল বাংলাদেশের আন্তর্জাতিকভাবে পরিচিত তরুণ নেতৃত্ব ফাতিহা আয়াত। তাঁর উদ্যোগেই এ আন্তর্জাতিক আয়োজন বাস্তবায়িত হয়। জাতিসংঘ, হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয়, কনকর্ডিয়া বিশ্ববিদ্যালয় এবং টেডএক্সের বক্তা হিসেবে পরিচিত ফাতিহা আয়াত শিশু অধিকার ও জলবায়ু বিষয়ক কর্মকাণ্ডের জন্য আন্তর্জাতিক অঙ্গনেও সুপরিচিত। তরুণদের নেতৃত্ব বিকাশ এবং এসডিজি বাস্তবায়নে কার্যকর ভূমিকা রাখার লক্ষ্যেই তিনি এই বৈশ্বিক প্ল্যাটফর্ম গড়ে তুলেছেন।সম্মেলনে নিজ দলের ষষ্ঠ বক্তা হিসেবে জোবায়ের হক ফাহিম ‘প্রত্যাশিত প্রভাব ও সমাপনী’ অধিবেশনে ‘প্রজেক্ট পিওরস্টেপ’ উপস্থাপন করেন। উপস্থাপনায় তিনি শিশুদের স্বাস্থ্য সুরক্ষা, স্বাস্থ্যসম্মত অভ্যাস গড়ে তোলা, প্রকল্পটির স্বল্পমেয়াদি ও দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব এবং বৃহৎ পরিসরে বাস্তবায়নের পরিকল্পনা তুলে ধরেন। তাঁর উপস্থাপনা জাতিসংঘের এসডিজি-৩ (সুস্বাস্থ্য ও কল্যাণ), এসডিজি-৪ (মানসম্মত শিক্ষা) এবং এসডিজি-১৭ (লক্ষ্য অর্জনে অংশীদারিত্ব)-এর সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ ছিল।অধ্যাপক ফারাহ হানিফ (মালয়েশিয়া), ড. সারভিন্দার কৌর সান্ধু (ভারত), অধ্যাপক ফাতমির শেহু (আলবেনিয়া) এবং ড. নাজমুস সায়াদাত (বাংলাদেশ) সম্মেলনের বিভিন্ন পর্বে অংশগ্রহণকারীদের নেতৃত্বের দক্ষতা, বিশ্লেষণী সক্ষমতা, উপস্থাপনার মান, উদ্ভাবনী চিন্তা এবং ভবিষ্যৎ নেতৃত্বের সম্ভাবনা মূল্যায়ন করেন।বিচারকদের মূল্যায়নে নেতৃত্বে নীরব কিন্তু কার্যকর অবদান, গঠনমূলক অংশগ্রহণ এবং আন্তর্জাতিক মানের উপস্থাপনার স্বীকৃতি হিসেবে জোবায়ের হক ফাহিমকে ‘সাইলেন্ট স্ট্রেংথ অ্যাওয়ার্ড’ প্রদান করা হয়। একই সঙ্গে সম্মেলনে সফল অংশগ্রহণ ও এসডিজিভিত্তিক নেতৃত্ব প্রদর্শনের জন্য তিনি আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত অংশগ্রহণ সনদ লাভ করেন।জোবায়ের হক ফাহিমের এই অর্জনের পেছনে রয়েছে দীর্ঘদিনের সংগ্রাম ও অধ্যবসায়। নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁ উপজেলার কাঁচপুর ইউনিয়নের ললাটি গ্রামের সাধারণ পরিবারে বেড়ে ওঠা তিনি নবম শ্রেণিতে পড়ার সময় থেকেই নিজের পড়াশোনার পাশাপাশি পরিবারের দায়িত্ব কাঁধে তুলে নেন। শিক্ষকতা দিয়ে কর্মজীবন শুরু করে এক দশকের বেশি সময় ধরে শিক্ষার্থীদের পাঠদান করেছেন। পাশাপাশি দেশের শীর্ষস্থানীয় ফ্যাশন ব্র্যান্ড বিশ্বরঙ-এর মডেল এবং কাজী টিভির সংবাদ উপস্থাপক হিসেবেও নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করেছেন।আন্তর্জাতিক এই স্বীকৃতি শুধু ব্যক্তিগত সাফল্য নয়, বরং বৈশ্বিক নেতৃত্বের অঙ্গনে বাংলাদেশের তরুণদের সম্ভাবনারও একটি উজ্জ্বল উদাহরণ। সীমিত সুযোগ-সুবিধার মধ্যেও নিষ্ঠা, দক্ষতা ও আত্মবিশ্বাস থাকলে বিশ্বমঞ্চে বাংলাদেশের প্রতিনিধিত্ব করা সম্ভব, সেই বার্তাই নতুন করে তুলে ধরেছেন জোবায়ের হক ফাহিম। তাঁর এই অর্জন দেশের আরও অনেক তরুণকে নেতৃত্ব, উদ্ভাবন এবং টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা বাস্তবায়নে কাজ করতে অনুপ্রাণিত করবে।

জুলাই ১৬, ২০২৬
footer small logo

যোগাযোগ :

এটিএন বাংলা, ওয়াসা ভবন, ২য় তলা, ৯৮ কাজী নজরুল ইসলাম এভিনিউ, কাওরান বাজার, ঢাকা-১২১৫, বাংলাদেশ

ফোনঃ +88-02-55011931

সোশ্যাল মিডিয়া

youtube logotwitter logofacebook logo

Design & Developed by:

developed-company-logo