logo
youtube logotwitter logofacebook logo
/আন্তর্জাতিক
এবার বিশ্বের সব দেশকে সতর্ক করল ইরান - image

এবার বিশ্বের সব দেশকে সতর্ক করল ইরান

28 আগস্ট 2026, বিকাল 8:00

যুক্তরাষ্ট্রের নতুন নিষেধাজ্ঞার জেরে বিশ্বের সব দেশকে কঠোর হুঁশিয়ারি দিয়েছে ইরান। তেহরান স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে, মার্কিন এই নিষেধাজ্ঞা কার্যকরে কোনো দেশ সহায়তা করলে তাদেরও যুক্তরাষ্ট্র্রেরই সমতুল্য অপরাধী হিসেবে গণ্য করা হবে।শুক্রবার (২৮ আগস্ট) এক সতর্কবার্তায় ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, কোনো রাষ্ট্র যদি যুক্তরাষ্ট্রের এই নিষেধাজ্ঞা বাস্তবায়নে সহযোগিতা করে, তবে তারা অন্যের অবৈধ ইচ্ছা জোরপূর্বক চাপিয়ে দেওয়ার সহযোগী বলে বিবেচিত হবে।সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া বার্তায় ইরানি মন্ত্রণালয় মার্কিন এই পদক্ষেপকে 'বেআইনি, নিন্দনীয়, রাষ্ট্রীয় সন্ত্রাসবাদ ও মানবতাবিরোধী অপরাধ' হিসেবে উল্লেখ করেছে। দেশটির দাবি, এসব নিষেধাজ্ঞার কারণে সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রা ও স্বাস্থ্যসেবা চরম ঝুঁকিতে পড়বে।আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে আইনের শাসন রক্ষার আহ্বান জানিয়ে তেহরান জানিয়েছে, মার্কিন অর্থনৈতিক ও সামরিক আগ্রাসন থেকে নিজেদের সুরক্ষায় সব ধরনের সক্ষমতা প্রয়োগ করা হবে।এর আগে গত সপ্তাহে ইরানের ওপর ইতিহাসের অন্যতম কঠোর অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা আরোপের ঘোষণা দেয় যুক্তরাষ্ট্র। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সেসময় হুঁশিয়ারি দিয়েছিলেন যে, এই নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে যারা ইরানের সঙ্গে ব্যবসা চালিয়ে যাবে, তাদের বিরুদ্ধেও কঠোর পাল্টা ব্যবস্থা নেওয়া হবে।সূত্র: রয়টার্স

আগস্ট ২৮, ২০২৬

নেপালে বন্যায় মরদেহ ভেসে গেছে অনেক দূরে, মর্গগুলোতেও আর জায়গা নেই

নেপালের ভোটেকোশী নদীতে সংঘটিত ভয়াবহ আকস্মিক বন্যায় ব্যাপক প্রাণহানির ঘটনা ঘটেছে। তীব্র স্রোতের কারণে বহু মরদেহ ভেসে দূরদূরান্তের জেলাগুলোতে চলে যাওয়ায় উদ্ধারকাজ ও মর্গ ব্যবস্থাপনায় তীব্র সংকট তৈরি হয়েছে।গত বুধবার নেপালের ভোটেকোশি জেলা এই আকস্মিক ও শক্তিশালী বন্যাকবলিত হয়। দেশটির পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, এই দুর্যোগে শত শত মানুষের মৃত্যু হয়েছে এবং এখন পর্যন্ত ৫৪৭টি মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে।কাঠমান্ডু পোস্টের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, নদীর পানির প্রচণ্ড বেগের কারণে মরদেহগুলো ভাটির দিকে বহু দূরে চলে গেছে। রাসুয়া ও নুয়াকোট জেলার মানুষের মরদেহ চিতওয়ান, তানাহুন ও নাওয়ালপারাসির মতো দূরবর্তী এলাকা থেকেও উদ্ধার করা হচ্ছে।এদিকে অতিরিক্ত মরদেহ আসার ফলে নুয়াকোট, ধাদিং ও নাওয়ালপারাসি জেলার মর্গগুলোতে তিল ধারণের জায়গা নেই। চাপ সামলাতে কিছু মরদেহ পাশের জেলার মর্গে পাঠানো হয়েছে। চিতওয়ান ও পোখরা হাসপাতালের মর্গগুলোতেও ধারণক্ষমতা শেষ হয়ে যাওয়ায় চিতওয়ানে একটি অস্থায়ী মর্গ স্থাপন করা হয়েছে।বৃহস্পতিবার সকাল থেকে চিতওয়ানের ত্রিশূলি ও নারায়ণী নদীর তীরবর্তী অঞ্চল থেকে ১৩৭টি মরদেহ উদ্ধার করা হয় এবং সেখানে উদ্ধার অভিযান এখনো অব্যাহত রয়েছে। চিতওয়ান হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের তথ্য অনুযায়ী, তাদের মূল মর্গের ধারণক্ষমতা মাত্র ৩০ থেকে ৫০টি হলেও নতুন অস্থায়ী মর্গে প্রায় ২৫০টি মরদেহ রাখার ব্যবস্থা করা হয়েছে।সবচেয়ে বেশি মরদেহ চিতওয়ানে থাকায় নিখোঁজ স্বজনদের খোঁজে বিভিন্ন বন্যাকবলিত এলাকার মানুষ এই হাসপাতালেই ভিড় করছেন। 

আগস্ট ২৮, ২০২৬

নেপালে ভয়াবহ বন্যা-ভূমিধস, নিহত বেড়ে ১৫৭

২০১৫ সালের প্রাণঘাতী ভূমিকম্পের পর নেপালে সবচেয়ে বড় প্রাকৃতিক দুর্যোগের ঘটনা ঘটেছে। তিব্বত অঞ্চলে ভূমিকম্প আঘাত হানার মাত্র তিন মিনিট পর নেপালের মধ্যাঞ্চলে আকস্মিক বন্যা ও ভূমিধস শুরু হয়। ভয়াবহ এ দুর্যোগে এখন পর্যন্ত অন্তত ১৫৭ জনের মৃত্যু হয়েছে এবং নিখোঁজ রয়েছেন আরও ৪০৩ জন। নিখোঁজদের বড় একটি অংশ বিদেশি পর্যটক বলে জানিয়েছে নেপাল পর্যটন বোর্ড।বুধবার (২৬ আগস্ট) বাগমাতি প্রদেশের রসুয়া ও পার্শ্ববর্তী কয়েকটি জেলায় বন্যা ও ভূমিধসের ঘটনা ঘটে। নেপালের পররাষ্ট্রমন্ত্রী শিশির খানাল পার্লামেন্টে জানান, স্থানীয় সময় সকাল ৮টা ৩৭ মিনিটে ভূমিকম্প হয় এবং মাত্র তিন মিনিট পর, ৮টা ৪০ মিনিটে আকস্মিক বন্যা শুরু হয়। তবে ভূমিকম্পের সঙ্গে বন্যা ও ভূমিধসের সরাসরি সম্পর্ক রয়েছে কি না, তা এখনো নিশ্চিত নয়। পুলিশ জানিয়েছে, বন্যাকবলিত বিভিন্ন এলাকা থেকে রাত সাড়ে ৮টা পর্যন্ত ১৫৭টি মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে।নেপাল পর্যটন বোর্ডের তথ্য অনুযায়ী, নিখোঁজ ৪০৩ জনের মধ্যে ৩৪১ জন বিদেশি এবং ৬১ জন নেপালি নাগরিক। বিদেশিদের মধ্যে ভারতের ১৩৩ জন, যুক্তরাষ্ট্রের ৪৭ জন এবং যুক্তরাজ্যের ৩৩ জন রয়েছেন। ধারণা করা হচ্ছে, নিখোঁজদের মধ্যে অন্তত ২৬টি দেশের নাগরিক রয়েছেন। ট্যুর অপারেটরদের বরাতে বোর্ড জানিয়েছে, নিখোঁজদের বেশির ভাগই ভারত-নেপাল সীমান্তবর্তী মানস সরোবরের উদ্দেশে যাত্রা করছিলেন।দুর্যোগে নদীর তীব্র স্রোতে ঘরবাড়ি ভেসে গেছে এবং বহু এলাকা কাদামাটির নিচে চাপা পড়েছে। স্থানীয় বাসিন্দারা স্বজনদের নিখোঁজ হওয়ার কথা জানিয়েছেন। এদিকে নেপালের বিদ্যুৎ কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, জলবিদ্যুৎ ও সৌরবিদ্যুৎ মিলিয়ে প্রায় ৪৩০ মেগাওয়াট উৎপাদন সক্ষমতা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। বিদ্যুৎ উৎপাদন, সঞ্চালন ও বিতরণ অবকাঠামো ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় সরবরাহও ব্যাহত হচ্ছে।ক্ষয়ক্ষতির প্রকৃত পরিমাণ এখনো নির্ধারণ করা সম্ভব হয়নি। নদীতীরবর্তী এলাকার বাসিন্দাদের নিরাপদ স্থানে সরে যাওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। নেপাল সেনাবাহিনী হেলিকপ্টার ও দুর্যোগ মোকাবিলাকর্মী মোতায়েন করে উদ্ধার অভিযান চালাচ্ছে। একই সময়ে চীনের রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম সিসিটিভি জানিয়েছে, তিব্বতের গিরংয়ে বন্যায় তিনজন নিহত এবং অন্তত ২৬৫ জন নিখোঁজ হয়েছেন। নেপালের সীমান্তবর্তী তিব্বতের বাণিজ্যকেন্দ্রে ভূমিধসে ব্যাপক হতাহতের খবর পাওয়া গেছে। চীনের প্রেসিডেন্ট সি চিন পিং নিখোঁজদের উদ্ধারে সর্বাত্মক অভিযান চালানোর নির্দেশ দিয়েছেন।/টি

আগস্ট ২৭, ২০২৬

নেপাল-তিব্বত সীমান্তে আকস্মিক বন্যায় নিহত ৫৫, নিখোঁজ শতাধিক পর্যটক

নেপাল ও তিব্বত সীমান্তসংলগ্ন হিমালয় অঞ্চলে ভয়াবহ আকস্মিক বন্যায় অন্তত ৫৫ জন নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় শত শত পর্যটকসহ বহু মানুষ নিখোঁজ রয়েছেন। প্রবল পানির স্রোতে সড়ক, সেতু, ঘরবাড়ি ও বিদ্যুৎ প্রকল্প ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।বুধবার নেপালের রসুয়া, নুয়াকোট ও ধাদিং জেলার বিভিন্ন এলাকায় এই আকস্মিক বন্যার ঘটনা ঘটে। স্থানীয় ও আন্তর্জাতিক বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সীমান্তবর্তী তিব্বত অঞ্চল থেকে নেমে আসা প্রবল পানির ঢলে ভোতে কোশি নদীর পানি বিপৎসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হয়ে আশপাশের এলাকা প্লাবিত করে।নেপাল পর্যটন বোর্ড জানিয়েছে, বন্যার পর রসুয়া জেলায় অন্তত ৩৮৪ জন পর্যটক নিখোঁজ রয়েছেন। তাদের মধ্যে ২৯১ জন বিদেশি এবং ৯৩ জন নেপালি নাগরিক। নিখোঁজ বিদেশি পর্যটকদের মধ্যে অন্তত ১০৫ জন ভারতীয় এবং ১২ জন যুক্তরাজ্যের নাগরিক রয়েছেন বলে জানা গেছে।এদিকে দুর্যোগকবলিত এলাকায় দায়িত্ব পালনরত নেপাল পুলিশের অন্তত ২৬ সদস্য এখনো নিখোঁজ রয়েছেন। সশস্ত্র পুলিশ বাহিনীর আরও সাত সদস্যের সন্ধান পাওয়া যাচ্ছে না বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, হিমালয় অঞ্চলে ভূমিধস, বরফধস অথবা ভূমিকম্পজনিত কোনো ঘটনার কারণে নদীর গতিপথ বাধাগ্রস্ত হয়েছিল। পরে জমে থাকা বিপুল পানি হঠাৎ নেমে আসায় এই আকস্মিক বন্যার সৃষ্টি হয়।কাঠমান্ডু বিশ্ববিদ্যালয়ের এক বিশেষজ্ঞের প্রাথমিক মূল্যায়নে বলা হয়েছে, লেন্দে নদীর গতিপথ বরফধসের কারণে আটকে যাওয়ার পর পরিস্থিতির সৃষ্টি হতে পারে। এর প্রভাবে ভোতে কোশি নদীতে প্রবল আকস্মিক বন্যা দেখা দেয়। চীনের সীমান্তবর্তী তিব্বতের গিরং ও শিগাতসে অঞ্চলেও ভূমিধস ও বন্যার কারণে সড়ক যোগাযোগ, বিদ্যুৎ সরবরাহ এবং অন্যান্য অবকাঠামো ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।দুর্গত এলাকায় উদ্ধার তৎপরতা জোরদার করেছে নেপাল সেনাবাহিনী। হেলিকপ্টার ও বিশেষ দুর্যোগ মোকাবিলা দল মোতায়েন করে নিখোঁজদের সন্ধান ও ক্ষয়ক্ষতির তথ্য সংগ্রহ করা হচ্ছে। কর্তৃপক্ষ আশঙ্কা করছে, উদ্ধার অভিযান এগিয়ে যাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে নিহত ও ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে।এমআর//

আগস্ট ২৬, ২০২৬

ইরান আমার এক ছেলেকে হত্যার চেষ্টা করেছিল: নেতানিয়াহু

ইরান তার এক ছেলেকে হত্যার চেষ্টা করেছিল বলে দাবি করেছেন ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু। তবে কথিত এই ষড়যন্ত্রটি কখন বা কোথায় হয়েছিল কিংবা তার দুই ছেলের মধ্যে কাকে লক্ষ্যবস্তু করা হয়েছিল, সে বিষয়ে কোনো বিস্তারিত তথ্য দেননি তিনি। সোমবার (২৪ আগস্ট) ইরানবিরোধী সামরিক সংঘাত এবং অক্টোবরের সাধারণ নির্বাচনের আগে জনমত জরিপে নিজ জোট পিছিয়ে থাকার মধ্যে এই চাঞ্চল্যকর দাবি করেন নেতানিয়াহু।ইসরায়েলি সংবাদমাধ্যম দ্য জেরুজালেম পোস্টের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ডানপন্থি ও সরকারঘনিষ্ঠ হিসেবে পরিচিত চ্যানেল ১৪-কে দেওয়া এক টেলিফোন সাক্ষাৎকারে নেতানিয়াহু এ দাবি করেন। তিনি বলেন, ইরান তার এক ছেলেকে লক্ষ্যবস্তু বানিয়েছিল এবং তাকে হত্যার চেষ্টা করেছিল। তবে এ বিষয়ে কোনো প্রমাণ বা ঘটনার বিস্তারিত বিবরণ প্রকাশ করেননি ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী।আসন্ন নির্বাচনে পরবর্তী প্রধানমন্ত্রী পদের প্রতিদ্বন্দ্বিতায় এগিয়ে থাকা সাবেক সেনাপ্রধান গাদি আইজেনকোটকে নিরাপত্তা দিতে একটি ইসরায়েলি সংস্থার অস্বীকৃতির খবর নিয়েও কথা বলেন নেতানিয়াহু। তিনি আইজেনকোটের নিরাপত্তার পক্ষে সমর্থন জানিয়ে বলেন, এই নিরাপত্তা কোনো বিলাসিতা নয়। তা না থাকলে ইরানিরা সফল হতে পারে বলেও মন্তব্য করেন তিনি। ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রীর দুই ছেলে ও এক মেয়ে রয়েছে। চলতি বছরের জুলাইয়ে নিরাপত্তাজনিত উদ্বেগে তার স্ত্রী ও দুই ছেলেকে বাড়তি নিরাপত্তা দেওয়া হয়।নেতানিয়াহুর বড় ছেলে ৩৫ বছর বয়সী ইয়ার নেতানিয়াহু ২০২৪ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের মিয়ামিতে অবস্থান করছেন। সরকারি খরচে তার নিরাপত্তা নিয়ে ইসরায়েলে আগে থেকেই রাজনৈতিক বিতর্ক রয়েছে। এদিকে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ হামলায় ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি ও তার পরিবারের কয়েকজন সদস্য নিহত হওয়ার পর খামেনির ছেলে মোজতবা খামেনিকে নতুন সর্বোচ্চ নেতা হিসেবে মনোনীত করা হয়েছে। তিনি বাবার মৃত্যুর প্রতিশোধ নেওয়ার হুঁশিয়ারি দিয়েছেন।/টি

আগস্ট ২৫, ২০২৬

ইরানকে ‘অর্থনৈতিক ডি-ডে’র হুমকি যুক্তরাষ্ট্রের, তেহরানের কড়া জবাব

ইরানের ওপর আগামী দিনে আরও কঠোর অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা আরোপের হুমকি দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। দেশটির ট্রেজারি সেক্রেটারি স্কট বেসেন্ট সতর্ক করে বলেছেন, ইরানের অর্থনৈতিক জীবনের প্রতিটি পথ বন্ধ করে দেওয়ার লক্ষ্য নিয়ে এগোচ্ছে ওয়াশিংটন। ইরান থেকে জ্বালানি তেল কেনা, পরিবহন বা ব্যাংকিং ব্যবস্থার মাধ্যমে অবৈধ বাণিজ্যে সহায়তা করা দেশ ও প্রতিষ্ঠানগুলোকেও গুরুতর অর্থনৈতিক পরিণতির মুখে পড়তে হবে বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছেন তিনি।বেসেন্ট আরও দাবি করেছেন, যুক্তরাষ্ট্র ইতোমধ্যে ইরানের প্রায় শতভাগ সামরিক সক্ষমতা ও পরমাণু কর্মসূচি ধ্বংস করেছে। তার এমন বক্তব্যের কড়া জবাব দিয়েছে তেহরান। ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাঘেই বলেছেন, এ ধরনের দ্বিতীয় পর্যায়ের নিষেধাজ্ঞা আন্তর্জাতিক আইনের পরিপন্থী। তিনি এটিকে জাতিসংঘের সদস্য সার্বভৌম দেশগুলোর ওপর নিজেদের ক্ষমতা চাপিয়ে দেওয়ার মার্কিন প্রচেষ্টা হিসেবে উল্লেখ করেন।এদিকে ইরানের সর্বোচ্চ জাতীয় নিরাপত্তা পরিষদের সচিব মহসিন রেজাইও যুক্তরাষ্ট্রকে কঠোর সতর্কবার্তা দিয়েছেন। তিনি বলেন, মার্কিন অর্থনৈতিক যুদ্ধ অব্যাহত থাকলে পারস্য উপসাগর বা হরমুজ প্রণালী দিয়ে এক ফোঁটা তেলও বিদেশে রপ্তানি হতে দেবে না ইরান। একই সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের অর্থনৈতিক অভিযানে যে দেশই অংশ নেবে বা সমর্থন দেবে, তেহরান সেটিকে নিজেদের বিরুদ্ধে সরাসরি ‘যুদ্ধ ঘোষণা’ হিসেবে বিবেচনা করবে বলে হুঁশিয়ারি দেন তিনি।টানা প্রায় ছয় মাস ধরে চলা উত্তেজনাকর পরিস্থিতিতে এখনো সংকট নিরসনের কার্যকর কোনো পথ তৈরি হয়নি। বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি পরিবহন রুট হরমুজ প্রণালীতে অনুমোদনহীন ট্যাংকার চলাচলে তেহরানের কঠোর অবস্থানের কারণে তেল পরিবহনও ব্যাহত হচ্ছে। তবে বিশ্বের বৃহত্তম তেল আমদানিকারক চীন ও ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান উভয় পক্ষকে আলোচনার মাধ্যমে সংকট সমাধানের আহ্বান জানিয়েছেন। ইরানের পার্লামেন্ট স্পিকার মোহাম্মদ বাকের কালিবাফও সামরিক শক্তির পাশাপাশি অর্থনৈতিক সংকট মোকাবিলায় বাণিজ্যিক প্রবাহ অব্যাহত রাখার প্রয়োজনীয়তার কথা বলেছেন। সূত্র: এনডিটিভি/টি

আগস্ট ২৪, ২০২৬

শক্তি ধরে রেখে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সমঝোতার বার্তা ইরানের

যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আলোচনায় কোনো ছাড় দেওয়া হবে না বলে স্পষ্ট জানিয়েছেন ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান। একই সঙ্গে দীর্ঘদিন ধরে চলা ‘যুদ্ধও নয়, শান্তিও নয়’ পরিস্থিতির অবসান চেয়েছেন তিনি। ইরানের রাষ্ট্রীয় বার্তাসংস্থা ইরনার বরাতে এ তথ্য জানিয়েছে তুর্কি বার্তাসংস্থা আনাদোলু।পেজেশকিয়ান বলেন, যুদ্ধ কোনো সমস্যার সমাধান নয়। একইভাবে নতুন করে সংঘাত শুরু হতে পারে—এমন দীর্ঘস্থায়ী অনিশ্চয়তাও ইরানের অর্থনীতির ওপর চাপ তৈরি করছে। তাই দেশের শক্তি ও সক্ষমতা অক্ষুণ্ন রেখে বর্তমান পরিস্থিতি থেকে বেরিয়ে আসার ওপর জোর দিয়েছেন তিনি।ইরানের প্রেসিডেন্ট জানান, পরিস্থিতি থেকে বেরিয়ে এসে একটি সমঝোতায় পৌঁছানোর বিষয়ে দেশটির কর্মকর্তারা প্রায় প্রতিদিন আলোচনা করছেন। তবে যেকোনো সমঝোতায় ইরানের নীতি ও মূল্যবোধ অক্ষুণ্ন রাখতে হবে। একই সঙ্গে ভবিষ্যতে প্রতিপক্ষরা যাতে আবার ইরানের ওপর হামলার কথা চিন্তা না করে, সেই নিশ্চয়তাও প্রয়োজন বলে উল্লেখ করেন তিনি।পেজেশকিয়ান আরও বলেন, নতুন করে সংঘাতের আশঙ্কা থাকলে ইরানে বিনিয়োগ আকর্ষণ করা কঠিন হবে। এ কারণে ইরানের শক্তি বজায় রেখেই যৌক্তিক অবস্থান গ্রহণের মাধ্যমে বর্তমান অনিশ্চয়তা থেকে বেরিয়ে আসতে হবে। এ সময় যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সম্প্রতি হওয়া সমঝোতা স্মারকেরও পক্ষে সাফাই দেন তিনি। তার দাবি, ওই সমঝোতায় আত্মসমর্পণের মতো কোনো শর্ত নেই এবং তেহরানকে কোনো ছাড় দেওয়ার কথাও বলা হয়নি।পাকিস্তান ও কাতারের মধ্যস্থতায় গত জুনে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্র ওই সমঝোতা স্মারকে সই করে। এর মাধ্যমে ফেব্রুয়ারিতে শুরু হওয়া দুই দেশের সংঘাতের অবসান ঘটে এবং চূড়ান্ত একটি চুক্তিতে পৌঁছাতে আলোচনা চালিয়ে যাওয়ার সিদ্ধান্ত হয়। তবে সমঝোতা বাস্তবায়ন এবং বিশ্বজুড়ে তেল ও গ্যাস রপ্তানির জন্য গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচল নিয়ে মতবিরোধের কারণে পরবর্তী আলোচনা থমকে যায়।/টি

আগস্ট ২৩, ২০২৬

যুদ্ধের মধ্যে নির্বাচন ইউক্রেনকে বিভক্ত করবে: জেলেনস্কি

রাশিয়ার সঙ্গে চলমান যুদ্ধের মধ্যে ইউক্রেনে নির্বাচন আয়োজন অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ বলে মন্তব্য করেছেন দেশটির প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি। শনিবার সাংবাদিকদের সঙ্গে এক ব্রিফিংয়ে তিনি বলেন, যুদ্ধের সময় নির্বাচন আয়োজন করা হলে তা দেশকে বিভক্ত করে দিতে পারে।জেলেনস্কি বলেন, এমন পরিস্থিতিতে নির্বাচন ইউক্রেনের জন্য বড় ধরনের ঝুঁকি তৈরি করবে। তার ভাষায়, যুদ্ধের মধ্যে নির্বাচন আয়োজন করা হলে তা এমন এক ‘সুনামি’ তৈরি করতে পারে, যা দেশকে বিভক্ত করে দেবে। এমনকি তিনি সতর্ক করে বলেন, দেশকে ধ্বংস করতে চাইলে যুদ্ধ চলাকালেই নির্বাচনের দিকে এগোনো যেতে পারে।২০২২ সালে রাশিয়ার আগ্রাসন শুরুর পর ইউক্রেনে সামরিক আইন জারি রয়েছে। এর ফলে নির্বাচন স্থগিত রয়েছে। যুদ্ধের মধ্যে নির্বাচন আয়োজন করতে গেলে সেনাসদস্যদের ভোটাধিকার, বিদেশে থাকা লাখ লাখ ইউক্রেনীয় শরণার্থীর ভোটদান, রুশ-অধিকৃত এলাকার মানুষের অংশগ্রহণ এবং সম্ভাব্য রুশ অপপ্রচারসহ নানা জটিলতার মুখোমুখি হতে হবে।সম্প্রতি ইউক্রেনের সাবেক প্রতিরক্ষামন্ত্রী মিখাইলো ফেদোরভ যুদ্ধের মধ্যেই নির্বাচন আয়োজনের উপায় খুঁজে বের করার আহ্বান জানান। তবে তিনি কোনো বিস্তারিত পরিকল্পনা দেননি। তার এই অবস্থানের সমালোচনা করে জেলেনস্কি বলেন, ফেদোরভ ‘ভুল পথে’ এগোচ্ছেন অথবা তাকে সেই পথে ঠেলে দেওয়া হচ্ছে। এদিকে এক জরিপে দেখা গেছে, মাত্র ১৫ শতাংশ ইউক্রেনীয় যুদ্ধ শেষ হওয়ার আগেই নির্বাচন চান।এরই মধ্যে ইউক্রেনের বিভিন্ন শহর, বিশেষ করে রাজধানী কিয়েভে রাশিয়ার ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা অব্যাহত রয়েছে। এমন পরিস্থিতিতে নির্বাচন নিয়ে বিতর্ককে দেশের জন্য বিভাজনের ঝুঁকি হিসেবে দেখছেন জেলেনস্কি। তিনি বলেন, ইউক্রেনীয় সমাজ ও সেনাবাহিনীকে বিভক্ত করা উচিত নয়। ইউক্রেনের স্বাধীনতা দিবস উপলক্ষে সোমবার বিভিন্ন আন্তর্জাতিক নেতা দেশটিতে আসার কথা রয়েছে। একই সময়ে রুশ হামলা মোকাবিলায় ইউক্রেনের আকাশ প্রতিরক্ষা আরও শক্তিশালী করার বিষয়েও মিত্রদের মধ্যে আলোচনা হওয়ার কথা রয়েছে।/টি

আগস্ট ২৩, ২০২৬

৫০ শতাংশ শুল্কের হুমকি, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আলোচনা ভেঙে দিল কানাডা

নির্ধারিত সময়সীমার আগে কোনো চুক্তিতে পৌঁছাতে না পারায় যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বাণিজ্য আলোচনা স্থগিত করেছে কানাডা। শুক্রবার রাতে কানাডার প্রধানমন্ত্রী মার্ক কার্নি জানান, ওয়াশিংটনে তিন দিন ধরে চলা আলোচনায় গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি হলেও শেষ পর্যন্ত সমঝোতায় পৌঁছানো সম্ভব হয়নি। তিনি কানাডার আলোচনাকারীদের অটোয়ায় ফিরে যাওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন।কার্নি বলেন, যুক্তরাষ্ট্র মধ্যরাত থেকে প্রায় ২৮ বিলিয়ন ডলার মূল্যের কানাডীয় পণ্যের ওপর ৫০ শতাংশ নতুন শুল্ক আরোপের প্রস্তুতি নিচ্ছে। এর জবাবে কানাডাও নিজেদের শ্রমিক ও ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানকে সুরক্ষিত রাখতে মার্কিন পণ্যের ওপর সমপরিমাণ পাল্টা শুল্ক আরোপ করবে বলে সতর্ক করেন তিনি।তবে আলোচনা ভেঙে যাওয়ার জন্য কানাডাকেই দায়ী করেছে যুক্তরাষ্ট্র। মার্কিন বাণিজ্য প্রতিনিধি জেমিসন গ্রিয়ার বলেন, চুক্তির দিকে অগ্রগতি থাকা সত্ত্বেও কানাডা শেষ পর্যায়ে নতুন কিছু দাবি তোলে এবং আগের কিছু প্রতিশ্রুতি থেকে সরে আসে। এতে দুই দেশের মধ্যে তৈরি হওয়া সমঝোতার ভারসাম্য নষ্ট হয় বলে দাবি করেন তিনি।এদিকে, যুক্তরাষ্ট্রের নতুন শুল্ক মধ্যরাতের পর কার্যকর হওয়ার কথা রয়েছে। ইস্পাত, কাঠ ও গাড়িসহ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ খাতে আগে থেকেই থাকা শুল্কের সঙ্গে নতুন শুল্ক যুক্ত হওয়ায় কানাডার অর্থনীতিতে বাড়তি চাপ তৈরি হতে পারে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের বাজারনির্ভর কানাডীয় শিল্পগুলো এর প্রভাব অনুভব করতে পারে।আলোচনা স্থগিত হওয়ায় উত্তর আমেরিকার দুই প্রতিবেশী দেশের বাণিজ্য সম্পর্ক আবারও উত্তেজনাপূর্ণ হয়ে উঠেছে। কানাডা পাল্টা শুল্ক আরোপের প্রস্তুতি নিচ্ছে, অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্রও প্রয়োজন হলে আরও পদক্ষেপ নেওয়ার ইঙ্গিত দিয়েছে। ফলে দুই দেশের বাণিজ্য বিরোধ আরও গভীর হওয়ার পাশাপাশি যুক্তরাষ্ট্র-মেক্সিকো-কানাডা বাণিজ্য চুক্তি ঘিরে চলমান আলোচনাও জটিল হয়ে উঠতে পারে।/টি

আগস্ট ২২, ২০২৬

নতুন যুদ্ধ হলে আরও ধ্বংসাত্মক অস্ত্র ব্যবহারের হুঁশিয়ারি ইরানের

যুক্তরাষ্ট্রকে ইরানের বিরুদ্ধে নতুন কোনো সামরিক অভিযান থেকে বিরত থাকার হুঁশিয়ারি দিয়েছে দেশটির ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি)। বাহিনীটির মুখপাত্র ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মোহসেন মোহেবি বলেছেন, নতুন করে যুদ্ধ শুরু হলে আগের তুলনায় আরও ধ্বংসাত্মক অস্ত্র ব্যবহার করবে ইরান। খবর মেহের নিউজ এজেন্সির।মোহেবি বলেন, ইরানের ক্ষেপণাস্ত্রে ব্যবহৃত ওয়ারহেডগুলো আগের যুদ্ধগুলোর তুলনায় অনেক বেশি ধ্বংসক্ষম। নতুন কোনো সংঘাত শুরু হলে ইরানের ব্যবহৃত অস্ত্র ও সামরিক সক্ষমতা আগের তুলনায় ‘সম্পূর্ণ ভিন্ন’ হবে বলেও সতর্ক করেন তিনি।এর আগে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ইরানের আইআরজিসি কর্মকর্তাদের সঙ্গে ওয়াশিংটনের গোপন আলোচনার দাবি প্রত্যাখ্যান করেছিলেন মোহেবি। আইআরজিসির পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, তাদের কর্মকর্তাদের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের কোনো আলোচনা চলছে না। ট্রাম্পের দাবির প্রতিক্রিয়ায় মোহেবি বলেন, ‘ট্রাম্পের কল্পনা যুদ্ধক্ষেত্রে তাকে কোনো সহায়তা করবে না।’মোহেবির ভাষ্য, যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্টের সামনে বাস্তবসম্মত একমাত্র পথ হলো পরাজয় মেনে নেওয়া এবং ইরানের নির্ধারিত শর্ত মেনে চলা। এদিকে সাম্প্রতিক সময়ে ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যে উত্তেজনা আবারও বেড়েছে। আলোচনার অগ্রগতি থমকে যাওয়ার পাশাপাশি নতুন করে সংঘাত শুরু হলে আরও আক্রমণাত্মক অবস্থানে যাওয়ার হুমকি দিয়েছে ইরান।গত জুলাইয়ে আইআরজিসির আরেক বক্তব্যে বলা হয়েছিল, যুদ্ধবিরতির সময়কে কাজে লাগিয়ে ইরান তাদের প্রতিরক্ষা সক্ষমতা বাড়িয়েছে। একই সঙ্গে ক্ষেপণাস্ত্র উৎপাদনের গতি ও নির্ভুলতাও বাড়ানো হয়েছে বলে দাবি করেছিল বাহিনীটি। নতুন করে সামরিক সংঘাত শুরু হলে এসব সক্ষমতা কাজে লাগানোর ইঙ্গিতই দিচ্ছে আইআরজিসির সাম্প্রতিক সতর্কবার্তা।/টি

আগস্ট ২০, ২০২৬

কলকাতার হোটেলে ভয়াবহ আগুন, নিহত ৯ বাংলাদেশি

ভারতের পশ্চিমবঙ্গের রাজধানী কলকাতার নিউ মার্কেটসংলগ্ন মির্জা গালিব স্ট্রিটের একটি হোটেলে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে অন্তত ৯ জনের মৃত্যু হয়েছে। নিহতদের মধ্যে ছয়জন পুরুষ, দুজন নারী ও একটি শিশু রয়েছে। স্থানীয় পুলিশ ও সংবাদমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, নিহতরা বাংলাদেশি নাগরিক এবং কয়েকজন চিকিৎসার জন্য কলকাতায় গিয়েছিলেন। বুধবার (১৯ আগস্ট) গভীর রাতে হোটেলটিতে আগুন লাগে। দমকল ও পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে উদ্ধার অভিযান শুরু করে। পাঁচতলা ভবনটিতে একাধিক হোটেল ছিল এবং ভবনটি ছিল ঘনবসতিপূর্ণ এলাকায়। দমকলের একাধিক ইঞ্জিনের চেষ্টায় আগুন নিয়ন্ত্রণে আনা হয়। উদ্ধার অভিযানে প্রায় ৬০ থেকে ৮০ জনকে নিরাপদে বের করে আনা হয়েছে বলে বিভিন্ন প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে। আগুন লাগার সময় হোটেলের বিভিন্ন কক্ষে অনেকেই ঘুমিয়ে ছিলেন। ভবনের সরু প্রবেশ ও বের হওয়ার পথ এবং ঘন কালো ধোঁয়া উদ্ধারকাজকে জটিল করে তোলে। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, আগুনের চেয়ে ধোঁয়ায় শ্বাসরোধ হয়ে বেশিরভাগ মৃত্যুর ঘটনা ঘটেছে। তবে মৃত্যুর সঠিক কারণ ময়নাতদন্তের পর নিশ্চিত হওয়া যাবে। অগ্নিকাণ্ডের কারণ এখনও নিশ্চিত নয়। প্রাথমিক তদন্তে বৈদ্যুতিক শর্ট সার্কিটের সম্ভাবনার কথা বলা হলেও বিষয়টি খতিয়ে দেখা হচ্ছে। একই সঙ্গে হোটেল ও ভবনের অগ্নিনিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। আহত কয়েকজনকে কলকাতার হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। ঘটনাস্থলে পুলিশ ও দমকল বিভাগের কর্মকর্তারা উপস্থিত থেকে তদন্ত চালাচ্ছেন। ঘটনাটি এমন একটি এলাকায় ঘটেছে, যেখানে পশ্চিমবঙ্গ ফায়ার সার্ভিসের সদর দপ্তরও কাছেই অবস্থিত। দুর্ঘটনার পর ভবনটির অগ্নিনিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে। পুলিশ পুরো এলাকা ঘিরে তদন্ত শুরু করেছে এবং ভবনের নিরাপত্তা বিধি মানা হয়েছিল কি না, সেটিও খতিয়ে দেখা হচ্ছে। /টি

আগস্ট ১৯, ২০২৬

হরমুজ প্রণালিতে আবারও জাহাজে হামলা

হরমুজ প্রণালি দিয়ে যাওয়ার সময় অজ্ঞাত একটি ক্ষেপণাস্ত্র বা প্রজেক্টাইলের আঘাতে একটি জাহাজ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এতে জাহাজটির ইঞ্জিন কক্ষ ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার পাশাপাশি একজন ক্রু আহত হয়েছেন বলে জানিয়েছে যুক্তরাজ্যের মেরিটাইম ট্রেড অপারেশনস (ইউকেএমটিও)।ইউকেএমটিও জানায়, হরমুজ প্রণালি দিয়ে বের হওয়ার সময় জাহাজটিতে অজ্ঞাত একটি প্রজেক্টাইল আঘাত হানে। এতে ইঞ্জিন কক্ষে ক্ষয়ক্ষতি হয়। আহত ক্রুর বিষয়ে বিস্তারিত জানা যায়নি। অন্য ক্রুদের ওমানের কোস্টগার্ড সহায়তা করছে।ঘটনায় এখন পর্যন্ত কোনো পরিবেশগত ক্ষয়ক্ষতির খবর পাওয়া যায়নি। হামলার ঘটনা তদন্ত করছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ। একই সঙ্গে হরমুজ প্রণালির আশপাশে চলাচলকারী জাহাজগুলোকে সতর্কতার সঙ্গে চলাচল এবং সন্দেহজনক কোনো তৎপরতা দেখা গেলে তা জানানোর পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।এদিকে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে শান্তি আলোচনা অচলাবস্থায় পড়ায় হরমুজ প্রণালি দিয়ে জাহাজ চলাচল এখনো স্বাভাবিক হয়নি। বার্তা সংস্থা রয়টার্স জানিয়েছে, সোমবার এই জলপথে মাত্র ছয়টি পণ্যবাহী জাহাজ চলাচল করেছে। এর মধ্যে তিনটি উপসাগরে প্রবেশ করেছে এবং তিনটি বের হয়েছে। গত ১০ দিনে প্রতিদিন গড়ে প্রায় ১১টি জাহাজ এই জলপথ অতিক্রম করেছে।কেপলারের তথ্য অনুযায়ী, সপ্তাহান্তে পরিস্থিতি আরও খারাপ ছিল। শনিবার মাত্র তিনটি এবং রোববার দুটি জাহাজ হরমুজ প্রণালি দিয়ে চলাচল করেছে। সোমবার কোনো সুপারট্যাংকার বা তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) পরিবহনকারী জাহাজও প্রণালিটি অতিক্রম করেনি। তবে কিছু জাহাজ ট্রান্সপন্ডার বন্ধ রেখে চলাচল করতে পারে। ফলে পর্যবেক্ষণ করা তথ্য প্রকৃত জাহাজ চলাচলের পুরো চিত্র তুলে নাও ধরতে পারে বলে জানিয়েছে কেপলার।/টি

আগস্ট ১৮, ২০২৬
footer small logo

যোগাযোগ :

এটিএন বাংলা, ওয়াসা ভবন, ২য় তলা, ৯৮ কাজী নজরুল ইসলাম এভিনিউ, কাওরান বাজার, ঢাকা-১২১৫, বাংলাদেশ

ফোনঃ +88-02-55011931

সোশ্যাল মিডিয়া

youtube logotwitter logofacebook logo

Design & Developed by:

developed-company-logo