logo
youtube logotwitter logofacebook logo
/আন্তর্জাতিক
মোদির বিরুদ্ধে পথে ভারতের ক্ষুব্ধ তরুণেরা - image

মোদির বিরুদ্ধে পথে ভারতের ক্ষুব্ধ তরুণেরা

13 অক্টোবর 2026, বিকাল 1:09

ভারতের রাজধানী নয়াদিল্লির রাজপথে পুলিশের ব্যারিকেড, ধরপাকড় আর তরুণদের প্রতিবাদ—সব মিলিয়ে উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে দেশটির রাজনৈতিক পরিস্থিতি। ভোটার তালিকা থেকে কোটি কোটি নাম বাদ দেওয়ার ঘটনায় ক্ষোভ ছড়িয়ে পড়েছে তরুণদের মধ্যে। তাদের অভিযোগ, এই পদক্ষেপের ফলে অনেক যোগ্য নাগরিক ভোটাধিকার হারাতে পারেন এবং এতে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির দল বিজেপি রাজনৈতিক সুবিধা পেতে পারে।গত শনিবার (১০ অক্টোবর) প্রতিবাদে অংশ নিতে নয়াদিল্লিতে যান ২২ বছর বয়সী অর্থনীতির শিক্ষার্থী কাশিশ রাওয়াত। পরিবারের সদস্যদেরও তিনি যাওয়ার কথা জানাননি। রাজধানীতে পৌঁছে তিনি দেখেন, বিভিন্ন সড়কে ব্যারিকেড বসানো হয়েছে। পুলিশ বিক্ষোভকারীদের সরিয়ে দিতে গিয়ে কাউকে মারধর করছে, কাউকে টেনেহিঁচড়ে বাসে তুলছে। অনেকে পুলিশের হাত থেকে বাঁচতে ছুটে পালাচ্ছেন। বিক্ষোভকারীদের ধারণ করা এসব দৃশ্য সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে।তবে পুলিশের কঠোর অবস্থানেও দমে যাননি কাশিশ। সন্ধ্যা পর্যন্ত রাস্তায় থেকে তিনি বলেন, তারা প্রতিবাদ বন্ধ করবেন না, আবারও ফিরে এসে নিজেদের দাবি জানাবেন।ভারতে গত বছর থেকে ভোটার তালিকা ব্যাপকভাবে পর্যালোচনার কাজ চলছে। এ প্রক্রিয়ায় ইতোমধ্যে ১৩ কোটির বেশি নাম বাদ পড়েছে। নির্বাচন কমিশনের বক্তব্য, তালিকা থেকে একাধিকবার থাকা নাম এবং ভোট দেওয়ার যোগ্য নন—এমন ব্যক্তিদের নাম বাদ দিতেই এই উদ্যোগ।তবে সমালোচকদের অভিযোগ, তালিকা সংশোধনের নামে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে ভোটারদের বাদ দেওয়া হচ্ছে। এতে লাখো বা আরও বেশি যোগ্য নাগরিক ভোটাধিকার হারাতে পারেন। তাদের আশঙ্কা, এই প্রক্রিয়া মোদির দল ভারতীয় জনতা পার্টিকে সুবিধা দিতে পারে।এ নিয়ে প্রতিবাদে নেতৃত্ব দিচ্ছে তরুণদের সংগঠন ‘ককরোচ জনতা পার্টি’। আন্দোলনকারীরা প্রধান নির্বাচন কমিশনার গনেশ কুমারের পদত্যাগ দাবি করছেন। তাদের মতে, ভোট দেওয়ার অধিকার গণতন্ত্রের অন্যতম ভিত্তি। সেই অধিকার নিশ্চিত করতে হলে ভোটার তালিকা সংশোধনের প্রক্রিয়া স্বচ্ছ হতে হবে।অন্যদিকে, নির্বাচন কমিশনের দাবি, ভোটার তালিকার নির্ভুলতা নিশ্চিত করতেই এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী মোদি প্রকাশ্যে এ প্রতিবাদ নিয়ে কোনো মন্তব্য করেননি। তার দলের কয়েকজন নেতা বিক্ষোভকারীদের নৈরাজ্যবাদী বলে আখ্যা দিয়েছেন এবং প্রমাণ ছাড়াই তাদের পেছনে বিদেশি শক্তির মদদ থাকার অভিযোগ তুলেছেন।নরেন্দ্র মোদি এক দশকেরও বেশি সময় ধরে ভারতের প্রধানমন্ত্রী। তার শাসনামলে দেশটির গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠানগুলোর স্বাধীনতা, ভিন্নমত প্রকাশের সুযোগ এবং সংবাদমাধ্যমের স্বাধীনতা নিয়ে বিভিন্ন মহল উদ্বেগ জানিয়েছে। সমালোচকদের অভিযোগ, সরকার নির্বাহী ক্ষমতার ওপর নিয়ন্ত্রণ কমিয়ে দিচ্ছে এবং ধর্মীয় সংখ্যালঘুদের, বিশেষ করে মুসলিমদের, লক্ষ্যবস্তু করা হচ্ছে।তবে সরকার এসব অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করে বলেছে, দেশটির প্রতিষ্ঠানগুলো শক্তিশালী এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী আইন ভঙ্গের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়, ভিন্নমতের বিরুদ্ধে নয়।কিন্তু অনেক তরুণের কাছে পরিস্থিতি ভিন্ন। তাদের ধারণা, সরকারের সমালোচনা করলেই বাধা, হয়রানি কিংবা গ্রেপ্তারের মুখে পড়তে হতে পারে। ভোটার তালিকা নিয়ে বিতর্ক সেই অসন্তোষকে আরও বাড়িয়ে দিয়েছে। দীর্ঘদিনের হতাশা এখন একটি নির্দিষ্ট দাবিকে কেন্দ্র করে প্রতিবাদে রূপ নিচ্ছে।এর আগে চলতি বছরের গ্রীষ্মে তরুণদের আন্দোলনের চাপে মোদির শিক্ষামন্ত্রী পদত্যাগ করেছিলেন। সেই ঘটনা বিক্ষোভকারীদের মনে নতুন আশা জাগায়—রাজপথে প্রতিবাদ করেও রাজনৈতিক সিদ্ধান্তে পরিবর্তন আনা সম্ভব।১৯ বছর বয়সী সমাজবিজ্ঞানের শিক্ষার্থী মায়া রিবেইরোও ভোটার তালিকা নিয়ে উদ্বিগ্ন। তার সঙ্গে শনিবারের (১০ অক্টোবর) প্রতিবাদে অংশ নেন দুই বন্ধু। মায়া জানান, তারা (১০ অক্টোবর) ভোটার হিসেবে নিবন্ধন করেছিলেন, কারণ গণতন্ত্রে অংশ নেওয়াকে তারা অধিকার ও দায়িত্ব—দুটিই মনে করেন।কিন্তু তালিকা থেকে আরও নাম বাদ পড়ার আশঙ্কা তাদের মনে প্রশ্ন তৈরি করেছে—ভোট দেওয়ার অধিকার কি সত্যিই সবার জন্য নিশ্চিত?মায়ার মতে, ভোট দেওয়ার প্রতিষ্ঠানটি গুরুত্বপূর্ণ হলেও সেটিকে স্বচ্ছ ও নির্ভরযোগ্য রাখা প্রয়োজন। বন্ধুদের সঙ্গে আলোচনা, পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে বিতর্ক এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে মতবিনিময়ের মধ্য দিয়ে তরুণদের ব্যক্তিগত ক্ষোভ এখন সম্মিলিত প্রতিবাদে রূপ নিচ্ছে।তাদের ভাষ্য, দীর্ঘদিন নিজেদের অসহায় মনে হলেও আন্দোলনে অংশ নিয়ে তারা নতুন করে রাজনৈতিকভাবে সক্রিয় হওয়ার শক্তি খুঁজে পেয়েছেন।প্রতিবাদ ঠেকাতে পুলিশের ব্যাপক তৎপরতা তরুণদের ক্ষোভ আরও বাড়িয়েছে। তাদের মতে, গণতান্ত্রিক দেশে শান্তিপূর্ণভাবে সমবেত হওয়ার অধিকার থাকা সত্ত্বেও তাদের সঙ্গে যে আচরণ করা হয়েছে, তা অযৌক্তিক।২১ বছর বয়সী দর্শনের শিক্ষার্থী আরিয়ান কাজানিয়া মনে করেন, ভোটার তালিকা নিয়ে বিরোধ আসলে ভারতের রাজনৈতিক ব্যবস্থার প্রতি তরুণদের বৃহত্তর হতাশারই প্রতিফলন। তার প্রশ্ন, যখন কর্তৃপক্ষ যেকোনো সময় সমাবেশে বাধা দিতে পারে বা বিক্ষোভকারীদের আটক করতে পারে, তখন তারা নিজেদের মতপ্রকাশের অধিকার কীভাবে প্রয়োগ করবেন?আরিয়ানের ভাষ্য, রাজধানীতে কী ঘটছে, তা জানতে বিভিন্ন শহরের মানুষ চেষ্টা করছেন এবং আন্দোলনে যোগ দিচ্ছেন। কিন্তু একই সময়ে তাঁদের কণ্ঠ স্তব্ধ করে দেওয়ার চেষ্টাও চলছে।এই আন্দোলনের অংশ নেওয়া সবাই কোনো নির্দিষ্ট রাজনৈতিক দল বা সংগঠনের সঙ্গে যুক্ত নন। অনেকেই জানিয়েছেন, ভোটাধিকার, স্বচ্ছতা ও জবাবদিহির প্রশ্ন তাদের এক জায়গায় নিয়ে এসেছে।মোদির বিরুদ্ধে দীর্ঘমেয়াদি রাজনৈতিক চ্যালেঞ্জ গড়ে তোলা সহজ নয়। এক দশকেরও বেশি সময় ধরে তিনি ভারতের রাজনীতিতে প্রভাবশালী অবস্থানে রয়েছেন। তার দল ভারতীয় জনতা পার্টির রয়েছে শক্তিশালী নির্বাচনী সংগঠন। অন্যদিকে, বিরোধী দলগুলো অতীতের অসন্তোষকে স্থায়ী জাতীয় আন্দোলনে রূপ দিতে হিমশিম খেয়েছে।তরুণদের বর্তমান আন্দোলনও এখনো সুসংগঠিত বিকল্প রাজনৈতিক শক্তি হয়ে উঠতে পারেনি। তবে সরকারের সিদ্ধান্ত নিয়ে প্রকাশ্যে প্রশ্ন তোলার সুযোগ তৈরি করাকেও তারা গুরুত্বপূর্ণ লড়াই হিসেবে দেখছেন।কাশিশ রাওয়াতের পরিবারেও রাজনীতি নিয়ে মতবিরোধ তৈরি হয়েছে। তার ধারণা, পরিবারের সদস্যদের রাজনৈতিক দৃষ্টিভঙ্গিতে মোদির দলের প্রতি সহানুভূতিশীল টেলিভিশন সংবাদমাধ্যমের প্রভাব রয়েছে। মতের অমিলের কারণে কখনো কখনো আত্মীয়দের সঙ্গে কথাবার্তাও বন্ধ হয়ে গেছে বলে জানান তিনি। তবু তাদের সঙ্গে আলোচনা চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন কাশিশ।মায়া রিবেইরোর কাছে এখন সবচেয়ে বড় প্রশ্ন, তরুণেরা নিজেদের ক্ষোভকে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহির দাবিতে দীর্ঘস্থায়ী আন্দোলনে রূপ দিতে পারবেন কি না।তার বিশ্বাস, সাম্প্রতিক প্রতিবাদ তরুণদের মনে গণতন্ত্রের প্রতি নতুন করে আস্থা তৈরি করেছে। এখন দেখার বিষয়, রাজপথের এই ক্ষোভ কতটা স্থায়ী রাজনৈতিক পরিবর্তন আনতে পারে এবং ভারতের গণতান্ত্রিক ব্যবস্থায় ভোটাধিকার নিয়ে তৈরি হওয়া উদ্বেগের সমাধান কীভাবে হয়।সূত্র: এপি

অক্টোবর ১৩, ২০২৬

আবারো রিয়াদে ক্ষেপণাস্ত্র হামলা হুথিদের

সৌদি আরবের রাজধানী রিয়াদ লক্ষ্য করে টানা তৃতীয় দিনের মতো ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছে ইয়েমেনের হুথি বিদ্রোহীরা। সৌদি নেতৃত্বাধীন জোটের দাবি, রিয়াদ অভিমুখে ছোড়া একটি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র এবং দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলীয় খামিস মুশাইতের দিকে ছোড়া আরও দুটি ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিহত করা হয়েছে। সোমবার (১২ অক্টোবর) রাতে রিয়াদের বাসিন্দারা একাধিক শক্তিশালী বিস্ফোরণের শব্দ শুনেছেন। এর কিছুক্ষণ আগে তাদের মোবাইল ফোনে আকাশপথে হামলার আশঙ্কা জানিয়ে সতর্কবার্তা পাঠানো হয়।আলজাজিরার প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, হুথিরা রিয়াদের কিং খালিদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরকে লক্ষ্য করে হামলা চালানোর দাবি করেছে। গোষ্ঠীটির সামরিক মুখপাত্র ইয়াহিয়া সারি জানান, খামিস মুশাইতের একটি সামরিক বিমানঘাঁটি লক্ষ্য করেও ড্রোন পাঠানো হয়েছে।সৌদি নেতৃত্বাধীন জোটের মুখপাত্র তুর্কি আল-মালিকি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে জানান, রিয়াদ অভিমুখে ছোড়া একটি এবং খামিস মুশাইতের দিকে ছোড়া দুটি ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিহত ও ধ্বংস করা হয়েছে।গত শনিবার হুথিদের হামলায় রিয়াদের কিং খালিদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অন্তত ১৩ জন নিহত এবং ৩০০ জনের বেশি আহত হন। রোববারের আরেক হামলায় একজন নিহত ও ১১ জন আহত হন। এসব হামলার পর বিমানবন্দরটি বন্ধ রয়েছে।সৌদি কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, আগামী শনিবার পর্যন্ত বিমানবন্দরটি বন্ধ থাকতে পারে। এরই মধ্যে বিভিন্ন এয়ারলাইনস তাদের ফ্লাইট বাতিল করেছে।হুথি সামরিক মুখপাত্র ইয়াহিয়া সারি সৌদি আরবের বিমানবন্দরগুলোতে ফ্লাইট পরিচালনা না করতে আন্তর্জাতিক এয়ারলাইনস ও যাত্রীদের সতর্ক করেছেন। তার ভাষ্য, মক্কা ও মদিনা ছাড়া দেশটির অন্য বিমানবন্দরগুলো অনিরাপদ।সৌদি আরবের তেল স্থাপনাগুলোতেও হামলা চালিয়েছে হুথিরা। গোষ্ঠীটির রাজনৈতিক ব্যুরোর সদস্য মোহাম্মদ আল-বুখাইতি সৌদি আরবের তেল স্থাপনা ও বিমানবন্দরের কর্মীদের এসব এলাকা থেকে দূরে থাকার আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, এসব স্থাপনা এখন তাদের বৈধ লক্ষ্যবস্তু।এইদিকে বিমানবন্দরে ধারাবাহিক হামলা ঠেকাতে সৌদি আরবের আকাশ প্রতিরক্ষাব্যবস্থা কেন ব্যর্থ হয়েছে, তা তদন্ত করছে দেশটির কর্তৃপক্ষ। বার্তা সংস্থা এপিকে এ বিষয়ে অবগত দুই আঞ্চলিক কর্মকর্তা এ তথ্য জানিয়েছেন।প্রাথমিক তদন্তে ধারণা করা হচ্ছে, হুথিরা প্রথমে কয়েকটি ড্রোন পাঠিয়ে পথ পরিষ্কার করে। এরপর ক্রুজ ও ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্রের সমন্বিত হামলা চালানো হয়, যার কিছু বিমানবন্দরে আঘাত হানে।কর্মকর্তাদের মতে, হুথিদের এমন কিছু ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র রয়েছে, যেগুলোর ওয়ারহেড উড্ডয়নের সময় গতিপথ পরিবর্তন করতে পারে। এতে সৌদি আরবের ব্যবহৃত প্যাট্রিয়টসহ অন্যান্য ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষাব্যবস্থার জন্য সেগুলোকে প্রতিহত করা কঠিন হয়ে পড়ে।হামলার আগে কেন আগাম সতর্কতা দেওয়া হয়নি, সেটিও তদন্তের অংশ। ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোনগুলো এক হাজার কিলোমিটারের বেশি পথ পাড়ি দিয়ে রিয়াদে পৌঁছেছিল বলে কর্মকর্তারা জানিয়েছেন।

অক্টোবর ১৩, ২০২৬

রাশিয়া থেকে ডিজেল আমদানির পরিকল্পনা, সমালোচনার মুখে ট্রাম্প

ইরান যুদ্ধের প্রভাবে বিশ্বজুড়ে জ্বালানির দাম বেড়ে যাওয়ায় রাশিয়া থেকে বিপুল পরিমাণ ডিজেল আমদানির পরিকল্পনা করেছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। শুক্রবার তিনি জানান, রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন অবিলম্বে যুক্তরাষ্ট্র ও বিশ্ববাজারে তিন লাখ টন ডিজেল সরবরাহ করতে সম্মত হয়েছেন। পর্যায়ক্রমে আরও কয়েক দফায় ডিজেল সরবরাহ করবে মস্কো। তবে রাশিয়ার সঙ্গে এই চুক্তি নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের ভেতরে ও আন্তর্জাতিক অঙ্গনে তীব্র সমালোচনার মুখে পড়েছেন ট্রাম্প। বিশেষ করে, মাত্র কয়েক সপ্তাহ আগে রাশিয়ার তেল ও গ্যাস আমদানিকারক দেশগুলোর ওপর নিষেধাজ্ঞা ও শুল্ক আরোপের অনুমোদন দিয়ে আইন স্বাক্ষর করার পর তাঁর এই সিদ্ধান্ত নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।ট্রাম্পের ঘোষণা অনুযায়ী, প্রথম দফায় তিন লাখ টন ডিজেল সরবরাহের পর নভেম্বরে আরও পাঁচ লাখ টন এবং পরবর্তী সময়ে আরও ১০ লাখ টন ডিজেল দেবে রাশিয়া। এ ছাড়া অল্প সময়ের মধ্যে আরও ৩০ লাখ টন ডিজেল সরবরাহের পরিকল্পনা রয়েছে। রাশিয়ার উপপ্রধানমন্ত্রী আলেকজান্ডার নোভাকও দেশটির রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা তাসকে দেওয়া বক্তব্যে সরবরাহের পরিমাণ নিশ্চিত করেছেন। তাঁর মতে, ভবিষ্যতে রাশিয়ার ডিজেল রপ্তানির পরিমাণ প্রতি মাসে ৩০ লাখ টনে পৌঁছাতে পারে। তবে ইউক্রেনের সঙ্গে চলমান যুদ্ধে রাশিয়ার কয়েকটি তেল শোধনাগার ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় এই প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়ন নিয়ে অনিশ্চয়তা রয়েছে। চুক্তির অংশ হিসেবে আগামী ৭ এপ্রিল পর্যন্ত রাশিয়ার ডিজেল রপ্তানির ওপর মার্কিন নিষেধাজ্ঞা স্থগিত রাখা হচ্ছে। তবে মার্কিন ব্যাংকে থাকা রাশিয়ার সম্পদসহ অন্যান্য সম্পদের ওপর নিষেধাজ্ঞা বহাল থাকবে।চুক্তিটির বিরোধিতা করেছেন রিপাবলিকান ও ডেমোক্র্যাট—উভয় দলের কয়েকজন মার্কিন আইনপ্রণেতা। রোববার সাতজন সিনেটর যৌথ বিবৃতিতে দাবি করেন, রাশিয়ার সঙ্গে এই চুক্তি যুক্তরাষ্ট্রের আইন লঙ্ঘন করছে। তাঁরা ট্রাম্পকে সিদ্ধান্ত থেকে সরে আসার আহ্বান জানান। বিবৃতিতে স্বাক্ষরকারীদের মধ্যে চারজন রিপাবলিকান ও তিনজন ডেমোক্র্যাট রয়েছেন। তাঁদের বক্তব্য, ইউক্রেনের বেসামরিক নাগরিকদের ওপর হামলা অব্যাহত থাকা অবস্থায় পুতিনকে আর্থিকভাবে শক্তিশালী হওয়ার সুযোগ দেওয়া উচিত নয়। ২০২২ সালে কংগ্রেস রাশিয়ার জ্বালানি আমদানি নিষিদ্ধ করেছিল বলেও তাঁরা উল্লেখ করেন। তবে ট্রাম্পের অর্থমন্ত্রী স্কট বেসেন্ট দাবি করেছেন, জ্বালানির দাম কমাতে বিদ্যমান মার্কিন আইনি কাঠামোর মধ্যেই চুক্তিটি বাস্তবায়ন করা সম্ভব। অন্যদিকে, ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি এই চুক্তিকে পুতিনের জন্য ‘একটি পুরস্কার’ হিসেবে অভিহিত করেছেন। কানাডার প্রধানমন্ত্রী মার্ক কার্নি ও যুক্তরাজ্যের প্রতিরক্ষামন্ত্রী ওয়েস স্ট্রিটিংসহ কয়েকজন আন্তর্জাতিক নেতাও চুক্তিটির সমালোচনা করেছেন।চলতি বছরের ফেব্রুয়ারির শেষ দিকে ইরানকে ঘিরে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সঙ্গে যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর বিশ্ববাজারে জ্বালানির সরবরাহ ব্যাহত হয়েছে এবং দাম বেড়েছে। যুক্তরাষ্ট্রে ডিজেলের মূল্যবৃদ্ধি বিশেষ করে কৃষক, পশুপালক ও ট্রাকচালকদের ওপর চাপ সৃষ্টি করেছে। ট্রাম্প তাঁর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে জানিয়েছেন, মার্কিন নাগরিকদের জন্য জ্বালানির দাম কমানো তাঁর অন্যতম প্রধান অগ্রাধিকার। মার্কিন অটোমোবাইল অ্যাসোসিয়েশন—এএএ-এর তথ্য অনুযায়ী, দেশটিতে প্রতি গ্যালন ডিজেলের গড় দাম ৬ দশমিক ২৮ ডলার, যা এর আগে ৬ দশমিক ৫৩ ডলারে পৌঁছেছিল। তবে যুক্তরাষ্ট্রে প্রতিদিন প্রায় ৩৬ লাখ ব্যারেল ডিজেল ব্যবহৃত হওয়ায় রাশিয়ার প্রতিশ্রুত সরবরাহে বাজারে কতটা প্রভাব পড়বে, তা নিয়ে বিশ্লেষকদের মধ্যে সংশয় রয়েছে। প্রথম দফার তিন লাখ টন ডিজেল যুক্তরাষ্ট্রের দৈনিক চাহিদার তুলনায় সীমিত পরিমাণ।এদিকে, আগামী মাসে যুক্তরাষ্ট্রে মধ্যবর্তী নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। এতে কংগ্রেসের নিয়ন্ত্রণ রিপাবলিকানদের হাতে থাকবে কি না, তা নির্ধারিত হবে। জ্বালানির মূল্যবৃদ্ধি ও ইরান যুদ্ধ মোকাবিলায় ট্রাম্পের ভূমিকা নিয়ে অসন্তোষ নির্বাচনে তাঁর দলের জন্য চ্যালেঞ্জ তৈরি করতে পারে। বিশেষ করে কৃষিপ্রধান রাজ্যগুলোতে ডিজেলের দাম গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক ইস্যু হয়ে উঠেছে। এ পরিস্থিতিতে জ্বালানির দাম কমানোর উদ্যোগ হিসেবে রাশিয়ার সঙ্গে চুক্তি করলেও এর বাস্তব সুফল নিয়ে প্রশ্ন থেকেই যাচ্ছে। রোববার ট্রাম্প আরও দাবি করেন, রাশিয়া ও ইউক্রেন একটি ‘জ্বালানি যুদ্ধবিরতি’তে পৌঁছেছে। জেলেনস্কি এই ঘোষণাকে স্বাগত জানালেও মস্কোর পক্ষ থেকে এখনো কোনো প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি। ফলে রাশিয়ার ডিজেল সরবরাহের প্রতিশ্রুতি কতটা বাস্তবায়িত হবে এবং এই চুক্তি যুদ্ধ ও জ্বালানির বাজারে কী প্রভাব ফেলবে, তা এখনো অনিশ্চিত।টি/

অক্টোবর ১২, ২০২৬

দিল্লি পুলিশকে ২৪ ঘণ্টার আলটিমেটাম দিলো ককরোচ পার্টি

ভারতের রাজধানী দিল্লির যন্তর মন্তরে বিক্ষোভের নতুন তারিখ নির্ধারণ করে দিতে পুলিশকে ২৪ ঘণ্টার সময়সীমা বেঁধে দিয়েছে ককরোচ জনতা পার্টি (সিজেপি)। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে পুলিশ কোনো জবাব না দিলে পরবর্তী কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছেন দলটির সহ-সমন্বয়ক আশুতোষ রানকা। সোমবার (১২ অক্টোবর) পার্লামেন্ট স্ট্রিট থানায় গিয়ে বিক্ষোভের নতুন তারিখ নির্ধারণের দাবি জানান তিনি। এ সময় তার সঙ্গে ছিলেন দলের আরেক সহ-সমন্বয়ক সৌরভ দাস। খবর হিন্দুস্তান টাইমসের।থানায় গিয়ে আশুতোষ রানকা বলেন, যন্তর মন্তর বিক্ষোভের জন্য নির্ধারিত স্থান। সেখানে তারা কবে বিক্ষোভ করতে পারবেন, তা জানতে এসেছেন। তিনি আরও বলেন, আগামী ২৪ ঘণ্টার মধ্যে পুলিশকে জানাতে হবে, কীভাবে তারা বিক্ষোভ করতে পারবেন এবং কবে কর্মসূচি পালন করা যাবে। অন্যথায় দলটি পরবর্তী কর্মসূচি ঘোষণা করবে। বিক্ষোভের অধিকার নিশ্চিত করতে নতুন তারিখ নির্ধারণের দাবি জানিয়েছে দলটি।এর আগে গত ১০ অক্টোবর যন্তর মন্তরে সিজেপির প্রস্তাবিত বিক্ষোভের অনুমতি দেয়নি দিল্লি পুলিশ। পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয়, কর্মসূচির বিষয়ে তাদের ৭ অক্টোবর অবহিত করা হয়েছিল, অর্থাৎ বিক্ষোভের মাত্র তিন দিন আগে আবেদন করা হয়। অথচ নিয়ম অনুযায়ী, বিক্ষোভের অনুমতি পেতে অন্তত ১০ দিন আগে আবেদন জমা দিতে হয়। এ ছাড়া আয়োজকদের স্বল্প সময়ের নোটিশ, আগের বিক্ষোভে নিয়ম লঙ্ঘনের অভিযোগ এবং জননিরাপত্তা, যান চলাচল ও আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগের কারণেও অনুমতি প্রত্যাখ্যান করা হয়েছে বলে জানায় পুলিশ।প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবিতে বিক্ষোভের পরিকল্পনা করেছিল সিজেপি। ভোটার তালিকা সংশোধন বা এসআইআর কার্যক্রমে কথিত অনিয়মের প্রতিবাদে দলটির চলমান আন্দোলনের অংশ ছিল এই কর্মসূচি। এদিকে, যন্তর মন্তরে সিজেপির আগের বিক্ষোভগুলোর প্রসঙ্গ তুলে পুলিশ অভিযোগ করেছে, এর আগে একটি বিক্ষোভ নির্ধারিত সময়ের পরও চলেছিল, যার ফলে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি ঘটে। নতুন করে বিক্ষোভের অনুমতি ও তারিখ নির্ধারণ নিয়ে এখন দলটি ও পুলিশের মধ্যে আলোচনা কোন দিকে এগোয়, তা-ই দেখার বিষয়।টি/

অক্টোবর ১২, ২০২৬

দিল্লিতে আটকের পর মুক্তি পেলেন সিজেপির তিন নেতা, ‘ককরোচরা কখনও মরে না’

ভারতের রাজধানী নয়াদিল্লিতে বিক্ষোভে যোগ দেওয়ার আগে আটক ককরোচ জনতা পার্টির (সিজেপি) প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দীপকে এবং দুই নেতা আশুতোষ রাঙ্কা ও সৌরভ দাস মুক্তি পেয়েছেন।রোববার (১১ অক্টোবর) নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট আদালত তাদের মুক্তি দেন। শনিবার (১০ অক্টোবর) দিল্লিতে পৌঁছানোর পর তাদের আটক করেছিল পুলিশ।তিন নেতার আইনজীবী সৌতিক বন্দ্যোপাধ্যায় তাদের মুক্তির বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি বলেন, তিনজনকেই ছেড়ে দেওয়া হয়েছে। তারা এখন চলে যেতে পারবেন।মুক্তির পর নিজেদের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের পাতায় দিল্লি পুলিশের বিরুদ্ধে কটাক্ষ করে সিজেপি। দলটি জানায়, অবশেষে দিল্লি পুলিশ অভিজিৎ দীপকে, আশুতোষ রাঙ্কা ও সৌরভ দাসকে মুক্তি দিতে বাধ্য হয়েছে। পোস্টে আরও লেখা হয়, ‘ককরোচরা (তেলাপোকা) কখনও মরে না।’পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, শনিবার (১০ অক্টোবর) দিল্লিতে তাদের উড়োজাহাজ অবতরণের পরপরই তিন নেতাকে আটক করা হয়। জন্তর মন্তরে পূর্বনির্ধারিত বিক্ষোভ কর্মসূচিতে অংশ নেওয়া ঠেকাতে তাদের আগাম সতর্কতামূলকভাবে আটক করা হয়েছিল।প্রধান নির্বাচন কমিশনার গনেশ কুমারের পদত্যাগের দাবিতে এই বিক্ষোভের ডাক দিয়েছিল সিজেপি ও বিরোধী দলগুলো। ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধন কার্যক্রমে অনিয়মের অভিযোগ তুলে তারা এ দাবি জানিয়ে আসছে।বিক্ষোভ ঘিরে দিল্লিতে ব্যাপক নিরাপত্তাব্যবস্থা নেওয়া হয়। পুলিশের সূত্রের বরাতে জানা গেছে, রাজধানীর বিভিন্ন স্থান থেকে সাত হাজারের বেশি বিক্ষোভকারীকে আটক করা হয়। তাদের জন্তর মন্তরে পৌঁছাতে বাধা দেওয়া হয়।বিক্ষোভে যোগ দিতে যাওয়ার সময় সাবেক মুখ্যমন্ত্রী অরবিন্দ কেজরিওয়াল, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়, পিনারাই বিজয়ন ও মানিক সরকারসহ বিরোধী দলের একাধিক নেতাকেও আটক করা হয়।তিন নেতার মুক্তির পরও বিক্ষোভের কর্মসূচি থেকে সরে আসেনি সিজেপি। রোববার (১১ অক্টোবর) জন্তর মন্তরে আবারও বিক্ষোভের ডাক দেয় দলটি। এদিকে কর্মসূচি ঘিরে দিল্লিতে নিরাপত্তা বজায় রাখতে ৩০ হাজারের বেশি পুলিশ ও আধাসামরিক বাহিনীর সদস্য মোতায়েনের প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছিল বলে জানা গেছে।সূত্র: টাইমস অফ ইন্ডিয়া

অক্টোবর ১১, ২০২৬

যুক্তরাষ্ট্রসহ বিশ্ববাজারে ডিজেল পাঠাবে রাশিয়া, জানালেন ট্রাম্প

রাশিয়া থেকে যুক্তরাষ্ট্রসহ বিশ্ববাজারে বিপুল পরিমাণ ডিজেল সরবরাহের ঘোষণা দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তিনি জানিয়েছেন, অবিলম্বে তিন লাখ টনের বেশি ডিজেল সরবরাহ করা হবে। এ ছাড়া আগামী কয়েক মাসে ধাপে ধাপে আরও বিপুল পরিমাণ ডিজেল পাঠাবে মস্কো। ভারতীয় সংবাদ সংস্থা এএনআইয়ের প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের সঙ্গে ‘খুবই সফল আলোচনা’র পর শুক্রবার (স্থানীয় সময়) নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে দেওয়া এক পোস্টে এ ঘোষণা দেন ট্রাম্প। তিনি জানান, নভেম্বর মাসে রাশিয়া আরও পাঁচ লাখ টন ডিজেল সরবরাহ করবে। এরপর পাঠানো হবে আরও ১০ লাখ টন। এ ছাড়া রাশিয়ার ডিজেল শোধনাগারগুলোর পরিস্থিতি বিবেচনায় অল্প সময়ের মধ্যে আরও ৩০ লাখ টন ডিজেল সরবরাহের পরিকল্পনা রয়েছে বলে উল্লেখ করেন তিনি। ট্রাম্পের দাবি, রাশিয়ার এই সরবরাহ এবং হরমুজ প্রণালির ওপর যুক্তরাষ্ট্রের নিয়ন্ত্রণ জ্বালানির দাম কমাতে সহায়তা করবে।ট্রাম্প বলেন, মার্কিন নাগরিকদের পণ্য ও জীবনযাত্রার ব্যয় কমানো তার অন্যতম প্রধান অগ্রাধিকার। বিশেষ করে কৃষক, পশুপালনকারী ও ট্রাকচালকদের খরচ কমাতে চান তিনি। রাশিয়ার ডিজেল সরবরাহের ঘোষণাকে তিনি ‘খুবই বড় ও গুরুত্বপূর্ণ’ বলে উল্লেখ করেন। একই সঙ্গে ইরানকে কোনোভাবেই পারমাণবিক অস্ত্রের মালিক হতে দেওয়া হবে না বলেও পুনর্ব্যক্ত করেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট। তবে রাশিয়ার উপপ্রধানমন্ত্রী আলেকজান্ডার নোভাক জানিয়েছেন, দেশের অভ্যন্তরীণ বাজারে ডিজেলের সরবরাহ ও চাহিদার ভারসাম্য বজায় রাখাই মস্কোর প্রধান বিবেচ্য। অক্টোবর মাসে ডিজেল রপ্তানির ওপর নিষেধাজ্ঞার মেয়াদ আবারও বাড়ানো হয়েছে। উৎপাদন অভ্যন্তরীণ চাহিদার চেয়ে বেশি হলে সীমিত পরিসরে রপ্তানি পুনরায় চালুর বিষয়টি বিবেচনা করা হবে।রাশিয়ার রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা তাসের বরাতে নোভাক জানান, দেশটি অভ্যন্তরীণ চাহিদার তুলনায় প্রায় ৮০ শতাংশ বেশি ডিজেল উৎপাদন করে। তবে অতিরিক্ত জ্বালানি সংরক্ষণের পর্যাপ্ত জায়গা না থাকলে তেল শোধনাগারগুলোকে উৎপাদন কমাতে হতে পারে। এতে ডিজেলের পাশাপাশি অন্যান্য পেট্রোলিয়াম পণ্যের উৎপাদনও ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। অন্যদিকে, আন্তর্জাতিক জ্বালানি সংস্থার (আইইএ) ১১ সেপ্টেম্বর ২০২৬ প্রকাশিত প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সেপ্টেম্বরের শুরুতে যুক্তরাষ্ট্রে ডিজেলের দাম ব্যারেলপ্রতি ২০০ ডলার ছাড়িয়ে যায়, যা যুদ্ধ শুরুর আগের দামের তুলনায় ৯৪ শতাংশ বেশি। পশ্চিম এশিয়ার সংঘাত এবং রাশিয়ার তেল পরিশোধন খাতের সংকটের কারণে বিশ্ববাজারে জ্বালানি সরবরাহ ব্যাহত হয়েছে। আইইএর তথ্য অনুযায়ী, ফেব্রুয়ারির তুলনায় আগস্টে উপসাগরীয় দেশগুলো ও রাশিয়া থেকে ডিজেল ও গ্যাস অয়েলের নিট রপ্তানি দৈনিক ১৬ লাখ ব্যারেল কমেছে। একই সময়ে বিশ্বজুড়ে পর্যবেক্ষণ করা তেলের মজুদও উল্লেখযোগ্যভাবে হ্রাস পেয়েছে।এদিকে, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সঙ্গে চলমান আঞ্চলিক সংঘাত নিরসনে ইরানকে সহায়তা করতে মস্কো তার সাধ্যের মধ্যে সবকিছু করবে বলে জানিয়েছেন পুতিন। বৃহস্পতিবার তুর্কমেনিস্তানে ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ানের সঙ্গে বৈঠকে তিনি এ কথা বলেন। বৈঠকে দুই নেতা দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক ও আঞ্চলিক পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনা করেন। অন্যদিকে, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আলোচনা চালিয়ে যাওয়ার কথা জানিয়েছেন পেজেশকিয়ান। তবে তার অভিযোগ, বিভিন্ন পর্যায়ে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সংলাপে বসার পরও ইরান হামলার শিকার হয়েছে। ফলে জ্বালানি সরবরাহ ও মূল্য পরিস্থিতির পাশাপাশি মধ্যপ্রাচ্যের চলমান সংঘাতও আন্তর্জাতিক রাজনীতি ও অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলছে।টি/

অক্টোবর ১০, ২০২৬

চীন-নির্ভর ইইউর বাজার, ঘাটতি দৈনিক ১০০ কোটি ইউরো

চীনা পন্যের আমদানী বাড়ায় ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) সঙ্গে দেশটির বানিজ্য ঘাটতি দৈনিক ১০০ কোটি ইউরো ছাড়িয়েছে। এতে দুই পক্ষের অর্থনৈতিক সম্পর্ক নিয়ে নতুন করে উদ্বেক দেখা দিয়েছে।সম্প্রতি চীনের বানিজ্যমন্ত্রী ওয়াং ওয়েনতাওর সঙ্গে বৈঠক করতে চীন সফরে যান ইইউর বানিজ্য বিষয়ক কমিশনার মারোস সেফকোভিচ। গত তিন মাস ধরে চলা দ্বিপাক্ষীয় আলোচনার অংশ হিসেবে এ সফর করেন তিনি। বানিজ্য ঘাটতি কমানো এবং বিরল খনিজ রপ্তানিতে চীনের বিধিনিষেধ নিয়ে আলোচনায় গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।চীনের পন্য ইউরোপের বাজারে সহজে প্রবেশ করতে পারলেও চীনে ইউরোপীয় কম্পানিগুলোর ব্যবসা পরিচালনায় নানা বাধার মুখে পড়তে হয় বলে অভিযোগ রয়েছে। এছাড়া চীনের উপর ইউরোপের নির্ভরতা বাড়ায় অর্থনৈতিক নিরাপত্তা নিয়েও উদ্বেগ তৈরী হয়েছে।বৈদ্যুতিক গাড়ি, নবায়নযোগ্য জ্বালানি ও উন্নত প্রযুক্তি তৈরীতে ব্যবহৃত বিরল খনিজ রপ্তানিতে চীনের বিধিনিষেধ পরিস্থিতিকে আরও জটিল করেছে। এসব খনিজের বিকল্প উৎস খুঁজছে ইউরোপীয় দেশগুলো। তবে চীনের উপর নির্ভরতা দ্রুত কমানো কঠিন।বৃহস্পতিবার  চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রানালয়ের মুখপাত্র মাও নিং বলেন, চীন ও ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) মধ্যে বিদ্যমান মতপার্থক্য দূর করতে উন্মুক্ত সহযোগিতা ও সমমর্যাদার ভিত্তিতে সংলাপ জরুরি। তিনি বলেন, দুই পক্ষের উচিৎ আলোচনার মাধ্যমে পারস্পরিক উদ্বেগগুলো নিশ্চিহ্ন করা এবং যেীথভাবে গ্রহনযোগ্য সমাধান খুঁজে বের করা। চীন আশা করে , ইউরোপীয় ইউনিয়নও বিরোধ নিরসনে গঠনমূলক ভূমিকা রাখবে। বেইজিংয়ের মতে, স্থিতিশীল অর্থনৈতিক ও বানিজ্যিক সম্পর্ক বঝায় রাখা উভয় পক্ষের স্বার্থের জন্য গুরুত্বপূর্ন। এদিকে চীন ও ইউরোপীয় ইউনিয়নের বানিজ্যিক সম্পর্কের পাশাপাশি বৃহত্তর কুটনৈতিক যোগাযোগও গুরুত্ব পাচ্ছে। ফরাসি প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রোঁর কুটনৈতিক উপদেষ্টা ইমানুয়েল বোন ৯ থেকে ১৩ অক্টোবর চীন সফর করবেন। সফরে চীনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ওয়াং ইর সঙ্গে তার বৈঠক হওয়ার কথা রয়েছে। বৈঠকে কেীশলগত যোগাযোগ এবং আন্তর্জাতিক বিভিন্ন বিষয়ে দুই দেশের অবস্থান নিয়ে আলোচনা হবে। বিশ্ব অর্থনীতি, সর্বরাহব্যবস্থা এবং যুক্তরাষ্ট্রের সাথে সম্পর্কের মতো বিষয়গুলো চীন-ইউরোপ সম্পর্ককে প্রভাবিত করছে। এ পরিস্থিতিতে চীনের সঙ্গে ফ্রান্সের এই আলোচনা বৃহত্তর কুটনৈতিক সমঝোতার সুযোগ তৈরী করতে পারে। চীন ও ইইউর মধ্যে বর্তমান বিরোধের কেস্দ্রে রয়েছে বানিজ্য ঘাটতি, বাজারে প্রবেশের অসম সুযোগ এবং বিরল খনিজের সম্পর্ক।  ইউরোপীয় দেশগুলোর অভিযোগ, চীনা পন্য ইউরোপীয় বাজারে ব্যাপকভাবে প্রবেশ করলেও চীনের বাজারে ইউরোপের প্রতিষ্ঠানগুলোকে নানা বাধার মুখে পড়তে হয়। অন্যদিকে, বৈদ্যুতিক গাড়ি, নবায়নযোগ্য জ্বালানি ও উন্নত প্রযুক্তির শিল্পে ব্যবহৃত বিরল খনিজের সর্বরাহে চীনের উপর ইউরোপের নির্ভরতা রয়েছে। ফলে এসব খনিজ রপ্তানিতে বিধিনিষেধ আরোপের বিষয়টি ইউরোপের অর্থনৈতিক নিরাপত্তার জন্য উদ্বেগের কারন হয়ে উঠেছে।বিশ্লেষকদের মতে, বানিজ্য ঘাটতি কমানো, উভয় পক্ষের বাজারে প্রবেশের সুযোগ বাড়ানো এবং বিরল খনিজের নিরবচ্ছিন্ন সরবরাহ নিশ্চিৎ করার বিষয়ে সমঝোতা হলে  চীন ও ইইউর অর্থনৈতিক সম্পর্ক স্থিতিশীল হতে পারে। তবে এ ক্ষেত্রে উভয় পক্ষকেই নিজেদের স্বার্থের পাশাপাশি অপর পক্ষের উদ্বেগের বিষয়গুলোকে বিবেচনায় নিতে হবে। ইউরোপ যেসন চীনের উপর অতিরিক্ত নির্ভরতা কমাতে চায়, তেমনি চীনও ইউরোপের গুরুত্বপূর্ন বাজারে নিজের অবস্থান ধরে রাখতে আগ্রহী।আলোচনা ব্যর্থ হলে ইউরোপ চীনা পন্যের উপর আরও বিধিনিষেধ আরোপ করতে পারে। পাশাপাশি বিকল্প দেশ থেকে বিরল খনিজ সংগ্রহ এবং নিজস্ব সরবরাহব্যবস্থা গড়ে তোলার উদ্যোগও জোরদার হতে পারে। এতে দুই পক্ষের বানিজ্যিক সম্পর্কে নতুন করে উদ্বেগ দেখা দিতে পারে। তাই বর্তমান আলোচনার ফলাফল শুধু বানিজ্য ঘাটতি কমানোর মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়; বরং ভবিষ্যতে চীন ও ইউরোপের অর্থনৈতিক সহযোগিতা ও কেীশলগত সম্পর্ক কোন পথে এগোবে, তা নির্ধারনেও গুরুত্বপূর্ন ভূমিকা রাখতে পারে।

অক্টোবর ০৯, ২০২৬

শান্তিতে নোবেল পেলেন নাভি পিল্লাই

এ বছর বিশ্বজুড়ে মানবাধিকার রক্ষা ও প্রতিষ্ঠায় অসামান্য অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ শান্তিতে নোবেল পুরস্কার লাভ করেছেন দক্ষিণ আফ্রিকার বিশিষ্ট মানবাধিকারকর্মী নাভি পিল্লাই। সুইডেনের দ্য নোবেল অ্যাসেম্বলি আন্তর্জাতিক শান্তির মঞ্চে তাঁর দীর্ঘ সংগ্রাম ও নিবেদিতপ্রাণ ভূমিকা বিবেচনা করে এই সর্বোচ্চ সম্মাননায় ভূষিত করে।শান্তি পুরস্কারের পাশাপাশি সাহিত্য ও বিজ্ঞানের অন্যান্য শাখায়ও নোবেলজয়ীদের নাম ঘোষণা করা হয়েছে। গতকাল বৃহস্পতিবার সাহিত্যে নোবেল পেয়েছেন কানাডীয় সাহিত্যিক অ্যান কারসন। ৭৬ বছর বয়সী এই লেখিকা কবিতা ও গদ্যের ব্যতিক্রমী মিশ্রণ এবং সমকালীন গল্পের সঙ্গে প্রাচীন পুরাণের অনবদ্য সমন্বয়ের জন্য বিশ্বজুড়ে সুপরিচিত। বিশেষ করে ১৯৯৮ সালে প্রকাশিত তাঁর পদ্য উপন্যাস ‘অটোবায়োগ্রাফি অব রেড’-এ গ্রিক পুরাণের নতুন রূপায়ণ বিশ্বসাহিত্যে ব্যাপকভাবে প্রশংসিত হয়।এর আগে বিজ্ঞানের তিন প্রধান শাখায় নোবেলজয়ীদের নাম প্রকাশ করা হয়। বুধবার রসায়নে যৌথভাবে নোবেল পান ফরাসি বিজ্ঞানী হেনরি কাগান ও জাপানি বিজ্ঞানী কেনসো সোয়াই; অ্যাসিমেট্রিক জৈব সংশ্লেষণে নন-লিনিয়ার প্রভাব ও অটোক্যাটালাইসিস আবিষ্কারের জন্য তাঁরা এ পুরস্কার পান। মঙ্গলবার পদার্থবিজ্ঞানে নোবেল পান বেলজিয়ামের বিজ্ঞানী ফ্রান্সিস হ্যালজেন, যিনি অ্যান্টার্কটিকার বরফ ব্যবহার করে মহাজাগতিক উৎস থেকে আসা উচ্চ-শক্তির নিউট্রিনো শনাক্তকরণের পথ দেখান। সোমবার চিকিৎসায় যৌথভাবে নোবেল অর্জন করেন যুক্তরাষ্ট্রের কার্ল ডাইসেরথ এবং জার্মানির পিটার হেগেমান ও গেয়র্গ নাগেল; ‘আলোক-নিয়ন্ত্রিত আয়ন চ্যানেল ও অপটোজেনেটিকস’ সংক্রান্ত তাঁদের আবিষ্কার চিকিৎসাবিজ্ঞানে নতুন দিগন্ত খুলে দিয়েছে।নোবেল কমিটির সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, বিজয়ীরা প্রত্যেকে একটি স্বর্ণপদক, সনদপত্র এবং নগদ ১ কোটি ২০ লাখ সুইডিশ ক্রোনা (প্রায় ৯ লাখ পাউন্ড বা ১৪ কোটি ৭৮ লাখ টাকা) পাবেন। যেসব বিভাগে একাধিক বিজয়ী রয়েছেন, তাঁদের মধ্যে এই নির্দিষ্ট অর্থ সমপরিমাণে ভাগ হয়ে যাবে। নোবেল কমিটির আনুষ্ঠানিক আয়োজনের মধ্য দিয়েই তাঁদের হাতে এই ঐতিহাসিক স্মারক তুলে দেওয়া হবে।উল্লেখ্য, ১৮৯৫ সালে সুইডিশ বিজ্ঞানী ও ব্যবসায়ী আলফ্রেড নোবেলের লিখিত উইলের ভিত্তিতে এই পুরস্কারের সূচনা ঘটে। পরবর্তীতে বিজ্ঞান, সাহিত্য ও শান্তির ক্ষেত্রে মানবজাতির কল্যাণে অনন্য ও অবিস্মরণীয় অবদান রাখার স্বীকৃতিস্বরূপ ১৯০১ সাল থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে এই বিশ্বখ্যাত পুরস্কার প্রদান করা হচ্ছে।টি/

অক্টোবর ০৯, ২০২৬

নির্বাচনের আগে ইরানে হামলা চালাবেন না ট্রাম্প

নভেম্বরে যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগে ইরানে নতুন করে হামলা না চালানোর ঘোষণা দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। একই সঙ্গে ইরানের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের ফলপ্রসূ আলোচনা চলছে বলেও জানিয়েছেন তিনি। বৃহস্পতিবার (৮ অক্টোবর) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে দেওয়া এক পোস্টে ট্রাম্প এ কথা বলেন। আগামী ৩ নভেম্বর যুক্তরাষ্ট্রে মধ্যবর্তী নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে।ট্রাম্পের এ ঘোষণা এমন এক সময়ে এসেছে, যখন ইরান-যুক্তরাষ্ট্র যুদ্ধ এবং জ্বালানির উচ্চমূল্য মার্কিন নির্বাচনি রাজনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ ইস্যু হয়ে উঠেছে। যুদ্ধের প্রভাবে জ্বালানির দাম বেড়ে যাওয়ায় দেশটিতে জীবনযাত্রার ব্যয় নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে। এ পরিস্থিতিতে যুদ্ধের বিষয়ে ট্রাম্পের অবস্থান এবং সরকারের পদক্ষেপ রিপাবলিকানদের নির্বাচনি হিসাব-নিকাশে প্রভাব ফেলতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে।সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোতে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে যুদ্ধ বন্ধ এবং গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি পরিবহনপথ হরমুজ প্রণালি পুনরায় চালুর বিষয়ে একাধিক প্রস্তাব বিনিময় হয়েছে। তবে ইরানের সর্বশেষ প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করেছেন ট্রাম্প। অন্যদিকে, ইরান ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ কার্যক্রম বন্ধ করা কিংবা তাদের মজুত ইউরেনিয়াম হস্তান্তরে রাজি নয় বলে জানিয়েছে দেশটির রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম। এর আগে মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স ইরানকে ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণের সক্ষমতা ‘অর্থবহভাবে’ কমানোর আহ্বান জানিয়েছিলেন।ইরান পরমাণু অস্ত্র তৈরির চেষ্টা করছে বলে দীর্ঘদিন ধরে অভিযোগ করে আসছে যুক্তরাষ্ট্র, ইসরায়েল ও তাদের পশ্চিমা মিত্ররা। তবে তেহরান বরাবরই এ অভিযোগ অস্বীকার করে আসছে। দুই দেশের মধ্যে চলমান উত্তেজনার পাশাপাশি পরমাণু কর্মসূচি নিয়ে মতপার্থক্যও আলোচনার অগ্রগতির ক্ষেত্রে বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে রয়ে গেছে।বার্তা সংস্থা রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইরান যুদ্ধ নিয়ে ট্রাম্পের অবস্থানের বিষয়ে সাম্প্রতিক এক জরিপে ৬০ শতাংশ মার্কিন নাগরিক অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন। যুদ্ধ ও জ্বালানির মূল্যবৃদ্ধি নভেম্বরে কংগ্রেসের মধ্যবর্তী নির্বাচনে রিপাবলিকানদের ওপর রাজনৈতিক চাপ তৈরি করছে। তবে নির্বাচনের পর ইরান যুদ্ধ নিয়ে তিনি কী পদক্ষেপ নেবেন, সে বিষয়ে এখনো বিস্তারিত কোনো পরিকল্পনা জানাননি ট্রাম্প।টি/

অক্টোবর ০৯, ২০২৬

হরমুজে নিরাপদ নৌপথে ইরান-ওমানের সমঝোতা

যুদ্ধ বন্ধ এবং পারস্য উপসাগর ও হরমুজ প্রণালিতে নিরাপত্তা পুনঃপ্রতিষ্ঠায় নিজেদের শর্ত স্পষ্ট করেছে ইরান। একই সঙ্গে হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচলের নিরাপদ পথ নির্ধারণে ওমানের সঙ্গে সমঝোতায় পৌঁছানোর কথা জানিয়েছে তেহরান।ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাঘেই ইরান-যুক্তরাষ্ট্রের আলোচনার সর্বশেষ পরিস্থিতি নিয়ে কথা বলার সময় এসব তথ্য জানান। তিনি বলেন, যুদ্ধ বন্ধ এবং পারস্য উপসাগর ও হরমুজ প্রণালিতে নিরাপত্তা ফিরিয়ে আনার বিষয়ে ইরানের অবস্থান ও শর্ত পরিষ্কারভাবে জানানো হয়েছে। অন্য পক্ষের প্রস্তাবের বিষয়ে প্রয়োজনীয় জবাব মধ্যস্থতাকারীদের মাধ্যমে দেওয়া হবে বলেও জানান তিনি।বাঘেই বলেন, হরমুজ প্রণালির নিরাপত্তা ও নৌ চলাচল নিয়ে ওমানের সঙ্গে পরামর্শ ও আলোচনা ভালোভাবেই এগিয়েছে। দুই দেশ প্রণালিটিতে জাহাজের নিরাপদ প্রবেশ ও বের হওয়ার পথের ভৌগোলিক সীমারেখা নিয়েও একমত হয়েছে।এ ছাড়া এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট আন্তর্জাতিক সংস্থার কাছে কীভাবে বিষয়টি উপস্থাপন করা হবে, সে নিয়েও দুই পক্ষের মধ্যে সমঝোতা হয়েছে বলে জানান ইরানের এই কর্মকর্তা। তার আশা, শিগগিরই আন্তর্জাতিক সংস্থার কাছে এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে বিষয়টি তুলে ধরা হবে।বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ তেল পরিবহণপথ হরমুজ প্রণালিতে নিরাপত্তা ও জাহাজ চলাচল নিয়ে এমন সমঝোতা আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজারের জন্যও গুরুত্বপূর্ণ বলে বিবেচিত হচ্ছে। কারণ, এই নৌপথে যেকোনো ধরনের অস্থিরতা বৈশ্বিক তেল সরবরাহ ও বাজারে বড় ধরনের প্রভাব ফেলতে পারে। তথ্যসূত্র: মেহেরটি/

অক্টোবর ০৮, ২০২৬

কাতার উপকূলে তেলের ট্যাংকারে দফায় দফায় ক্ষেপণাস্ত্র হামলা

কাতারের উত্তর উপকূলে একটি জাহাজে দফায় দফায় ক্ষেপণাস্ত্র হামলার ঘটনা ঘটেছে। এতে বেশ কয়েকজন হতাহত হয়েছেন। বুধবার (৭ অক্টোবর) যুক্তরাজ্যের সামুদ্রিক বাণিজ্যবিষয়ক সংস্থা ইউকে মেরিটাইম ট্রেড অপারেশনস (ইউকেএমটিও) এই তথ্য নিশ্চিত করেছে।সংস্থাটি জানিয়েছে, কাতারের মদিনাত আশ শামাল থেকে প্রায় ৯৪ কিলোমিটার উত্তরে ট্যাংকার জাহাজটিতে একাধিক ক্ষেপণাস্ত্র আঘাত হানে। তবে হামলায় ঠিক কতজন হতাহত হয়েছেন, তা জানানো হয়নি।আলজাজিরার প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ব্রিটিশ সামুদ্রিক বাণিজ্যবিষয়ক সংস্থাটি সম্প্রতি হরমুজ প্রণালিতে জাহাজে হামলার ঘটনা বেড়ে যাওয়ার খবর জানিয়েছিল। এর মধ্যেই নতুন করে এই হামলার ঘটনা ঘটল। তবে হামলায় কতজন নিহত বা আহত হয়েছেন, তা জানায়নি ইউকেএমটিও।সংস্থাটি বলেছে, বিষয়টি নিয়ে তদন্ত চলছে। হামলার শিকার জাহাজটি কোন দেশের, সেটিও জানানো হয়নি।মূলত উপসাগরের মাঝামাঝি এলাকায় কোনো জাহাজে হামলার ঘটনা বেশ অস্বাভাবিক। বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচল নিয়ে কাজ করা প্রকাশনা ‘দ্য মেরিটাইম এক্সিকিউটিভ’ জানিয়েছে, কয়েক সপ্তাহের মধ্যে উপসাগরের পশ্চিম অংশে কোনো ট্যাংকারে হামলার এটিই প্রথম খবর।এদিকে কাতারের এক্সক্লুসিভ ইকোনমিক জোনের (ইইজেড) মধ্যে হামলার ঘটনাটি ঘটলেও এ বিষয়ে এখনো কোনো মন্তব্য করেনি কাতার।আলজাজিরা বলছে, ইরান যুদ্ধের শুরু থেকেই কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালিতেই জাহাজে হামলার ঘটনা বেশি ঘটেছে। সরু এই সমুদ্রপথটি পারস্য উপসাগরকে ওমান উপসাগরের সঙ্গে যুক্ত করেছে।চলতি বছরের ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র-ইসরাইলের যুদ্ধ শুরুর আগে প্রতিদিন গড়ে প্রায় ১২৫টি বড় বাণিজ্যিক জাহাজ হরমুজ প্রণালি দিয়ে চলাচল করত। বিশ্বের মোট অপরিশোধিত তেল ও তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাসের (এলএনজি) প্রায় ২০ শতাংশ এই সমুদ্রপথ দিয়েই পরিবহণ করা হতো।তবে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের হামলার জবাবে ইরান কার্যত হরমুজ প্রণালি বন্ধ করে দেয়। অন্যদিকে ওয়াশিংটন ইরানের বন্দরগুলোতে অবরোধ বজায় রেখেছে।ইউকেএমটিও গত মঙ্গলবার জানিয়েছে, চলতি মাসে হরমুজ প্রণালিতে ট্যাংকারে ৯টি হামলার ঘটনা ঘটেছে। আর গত সেপ্টেম্বর মাসে হরমুজ প্রণালি ও পারস্য উপসাগর মিলিয়ে যতগুলো হামলা হয়েছিল, চলতি মাসের এই সংখ্যা তার অর্ধেক।তবে হামলার ঘটনা সত্ত্বেও সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোতে মধ্যপ্রাচ্য থেকে তেল রপ্তানি বেড়েছে। প্রাথমিক তথ্যানুযায়ী, যুদ্ধ শুরুর আগের মাত্রাকেও ছাড়িয়ে গেছে তেলের এই রপ্তানি।তথ্য সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠান কেপলারের তথ্যানুযায়ী, গত ৩০ সেপ্টেম্বর মধ্যপ্রাচ্য থেকে অপরিশোধিত তেল রপ্তানির সাত দিনের গড় ছিল প্রতিদিন এক কোটি ৮৩ লাখ ব্যারেল। যেখানে যুদ্ধ শুরুর আগের ১২ মাসে এই গড় ছিল প্রতিদিন প্রায় এক কোটি ৮০ লাখ ব্যারেল।

অক্টোবর ০৮, ২০২৬

বিশ্ব ডিম দিবস আজ

পুষ্টির সহজলভ্য ও সাশ্রয়ী উৎস হিসেবে ডিমের গুরুত্ব তুলে ধরে আজ (৮ অক্টোবর) বিশ্ব ডিম দিবস পালিত হচ্ছে। এ বছর দিবসটির ৩০তম বার্ষিকী।বাংলাদেশে প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের (ডিএলএস) তথ্য অনুযায়ী, দেশে বছরে প্রায় ২ হাজার ৪৪৬ কোটি ৫০ লাখ ডিম উৎপাদিত হয়। অর্থাৎ প্রতিদিন উৎপাদিত হচ্ছে ৬ কোটির বেশি ডিম।এতে দেশে মাথাপিছু বার্ষিক ডিমের প্রাপ্যতা দাঁড়িয়েছে প্রায় ১৩৭টি। ২০৩০ সালের মধ্যে মাথাপিছু ডিমের প্রাপ্যতা ২০০টিতে উন্নীত করার লক্ষ্য রয়েছে সরকারের।বিশ্ব ডিম দিবস উপলক্ষে প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তর, ওয়ার্ল্ডস পোল্ট্রি সায়েন্স অ্যাসোসিয়েশন-বাংলাদেশ শাখা এবং বাংলাদেশ পোল্ট্রি ইন্ডাস্ট্রিজ সেন্ট্রাল কাউন্সিল (বিপিআইসিসি) যৌথভাবে বিভিন্ন কর্মসূচি নিয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে দেশজুড়ে শোভাযাত্রা, সেমিনার ও সচেতনতামূলক কার্যক্রম।বিভিন্ন কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়েও পুষ্টিবিষয়ক কর্মসূচি থাকবে। পাশাপাশি এতিমখানা, বৃদ্ধাশ্রম ও সুবিধাবঞ্চিত শিশুদের মধ্যে বিনামূল্যে ডিম বিতরণ করা হবে।৩০ বছরে বিশ্ব ডিম দিবস১৯৯৬ সালে অস্ট্রিয়ার ভিয়েনায় অনুষ্ঠিত এক সম্মেলনে আন্তর্জাতিক সংস্থা ইন্টারন্যাশনাল এগ কমিশন (আইইসি) বিশ্ব ডিম দিবস পালনের ঘোষণা দেয়। সেই হিসেবে ২০২৬ সালে দিবসটির ৩০ বছর পূর্ণ হচ্ছে।এবারের ৩০তম বার্ষিকীতে ‘এগউইন’ নামে একটি মাসকটও চালু করা হয়েছে। সব বয়সী মানুষের মধ্যে ডিমের পুষ্টিগুণ সম্পর্কে সচেতনতা বাড়ানোই এর উদ্দেশ্য।বিশ্ব ডিম দিবসের এবারের প্রতিপাদ্যে ডিমের উচ্চমানের সম্পূর্ণ প্রোটিনের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। পেশি গঠন, মস্তিষ্কের বিকাশ, রোগ প্রতিরোধক্ষমতা এবং সুস্থ বার্ধক্যে এই প্রোটিনের ভূমিকা তুলে ধরা হচ্ছে।কম দামে পুষ্টির বড় উৎসডিমে উচ্চমানের প্রোটিনের পাশাপাশি কোলিন, আয়রন ও ভিটামিন বি-১২ রয়েছে। বিশেষ করে ডিমের কুসুমে থাকা কোলিন শিশুদের মস্তিষ্ক ও স্নায়ুতন্ত্রের বিকাশে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। ডিমে থাকা লুটিন ও জিয়াজ্যানথিন চোখের স্বাস্থ্যের জন্যও উপকারী।ডিম নিয়ে মানুষের মধ্যে প্রচলিত বিভিন্ন ভুল ধারণা দূর করার ওপরও এবার গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। বিশেষ করে ডিম বা মুরগি উৎপাদনে গ্রোথ হরমোন ব্যবহারের ধারণাটি সঠিক নয় বলে আয়োজকরা জানিয়েছেন। বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়সহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের গবেষণায়ও উৎপাদন প্রক্রিয়ায় গ্রোথ হরমোন ব্যবহারের প্রমাণ পাওয়া যায়নি বলে তারা দাবি করেছেন।ডিমের আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো এর পরিবেশগত সুবিধা। গরু বা খাসির মাংসের তুলনায় ডিম উৎপাদনে কার্বন ফুটপ্রিন্ট ও গ্রিনহাউস গ্যাস নির্গমন কম। ফলে ডিমকে তুলনামূলকভাবে পরিবেশবান্ধব ও টেকসই প্রোটিনের উৎস হিসেবে বিবেচনা করা হয়।উৎপাদন বাড়লেও চাপে খামারিরাদেশে ডিমের উৎপাদন ও প্রাপ্যতা বাড়লেও খামারিরা নানা চ্যালেঞ্জের মুখে রয়েছেন। পোল্ট্রি ফিড, বাচ্চা, ওষুধ ও জ্বালানির দাম বেড়ে যাওয়ায় উৎপাদন খরচ বাড়ছে। অন্যদিকে মধ্যস্বত্বভোগীদের প্রভাব ও সরবরাহব্যবস্থার বিভিন্ন সমস্যার কারণে খামার পর্যায়ের বিক্রয়মূল্য এবং খুচরা বাজারের দামের মধ্যে বড় ব্যবধান থাকছে।এতে অনেক সময় ভোক্তাকে বেশি দামে ডিম কিনতে হলেও খামারিরা কাঙ্ক্ষিত দাম পাচ্ছেন না। ফলে প্রান্তিক খামারিরা লোকসানের মুখে পড়ছেন।স্কুল ফিডিংয়ে ডিমশিশুদের অপুষ্টি ও খর্বকায়তা কমানো এবং মেধার বিকাশ নিশ্চিত করতে জাতীয় স্কুল ফিডিং কর্মসূচিতেও ডিম অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের প্রকল্পের আওতায় প্রতিটি শিক্ষার্থীর জন্য সপ্তাহে দুই থেকে তিনটি ডিম দেওয়ার ব্যবস্থা রাখা হয়েছে।বিশ্বে চীন শীর্ষে, ব্যবহারে মেক্সিকোবিশ্বে সবচেয়ে বেশি ডিম উৎপাদন করে চীন। দেশটিতে বছরে প্রায় ৬১৭ বিলিয়ন বা ৬১ হাজার ৭০০ কোটি ডিম উৎপাদিত হয়, যা বৈশ্বিক উৎপাদনের প্রায় এক-তৃতীয়াংশ।মাথাপিছু ডিম খাওয়ার ক্ষেত্রে শীর্ষে রয়েছে মেক্সিকো। দেশটিতে বছরে গড়ে একজন মানুষ ৪০৯টি ডিম খান। জাপানে এই সংখ্যা ৩৩৭টি। উন্নত দেশগুলোতে মাথাপিছু বার্ষিক ডিমের ব্যবহার গড়ে ২৭০ থেকে ৩০০টির মধ্যে। সেই তুলনায় বাংলাদেশে মাথাপিছু ডিমের ব্যবহার এখনো কম।আয়োজকেরা বলছেন, ডিমের পুষ্টিগুণ সম্পর্কে সচেতনতা বাড়ানোর পাশাপাশি উৎপাদন ও বিপণনব্যবস্থার সমস্যাগুলো সমাধান করা গেলে দেশে ডিমের ব্যবহার আরও বাড়ানো সম্ভব। এতে একদিকে মানুষের পুষ্টির চাহিদা পূরণ হবে, অন্যদিকে পোল্ট্রি খাতের খামারি ও উদ্যোক্তাদের আয়ও বাড়বে।

অক্টোবর ০৮, ২০২৬
footer small logo

যোগাযোগ :

এটিএন বাংলা, ওয়াসা ভবন, ২য় তলা, ৯৮ কাজী নজরুল ইসলাম এভিনিউ, কাওরান বাজার, ঢাকা-১২১৫, বাংলাদেশ

ফোনঃ +88-02-55011931

সোশ্যাল মিডিয়া

youtube logotwitter logofacebook logo

Design & Developed by:

developed-company-logo