logo
youtube logotwitter logofacebook logo
/আন্তর্জাতিক
ইরান-যুক্তরাষ্ট্র শান্তিচুক্তিতে ট্রাম্পের দুই শর্ত - image

ইরান-যুক্তরাষ্ট্র শান্তিচুক্তিতে ট্রাম্পের দুই শর্ত

30 মে 2026, বিকাল 4:20

প্রায় তিন মাস পেরিয়ে গেলেও যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের চলমান উত্তেজনার স্থায়ী সমাধান এখনও অধরাই রয়ে গেছে। দুই দেশের মধ্যে আলোচনা অব্যাহত থাকলেও গুরুত্বপূর্ণ কয়েকটি বিষয়ে মতৈক্যে পৌঁছানো যায়নি। গত এপ্রিলে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দুই মাসের যুদ্ধবিরতি ঘোষণা করেছিলেন, যার মেয়াদ আরও বাড়ানোর বিষয়ে বর্তমানে কূটনৈতিক তৎপরতা চলছে।বার্তা সংস্থা রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ট্রাম্পের উত্থাপিত দুটি প্রধান শর্ত নিয়ে এখনও একমত হতে পারেনি তেহরান। এ কারণে বহুল আলোচিত শান্তিচুক্তি চূড়ান্ত রূপ পাচ্ছে না। শুক্রবার ট্রাম্প জানান, হোয়াইট হাউসের নিরাপদ বৈঠককক্ষে ইরানের সর্বশেষ প্রস্তাব নিয়ে আলোচনা করে তিনি চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবেন। ইরান যুদ্ধবিরতির সময়সীমা আরও বাড়ানোর প্রস্তাব দিয়েছে, যাতে স্থায়ী সমঝোতার জন্য আলোচনার সুযোগ বাড়ে।হোয়াইট হাউসের এক কর্মকর্তা জানিয়েছেন, ট্রাম্প ‘সিচুয়েশন রুমে’ প্রায় দুই ঘণ্টা বৈঠক করেছেন। তবে ওই বৈঠকে কোনো সিদ্ধান্ত হয়েছে কিনা, তা প্রকাশ করা হয়নি। কর্মকর্তার ভাষ্য, যুক্তরাষ্ট্রের স্বার্থ সুরক্ষিত হয় এমন চুক্তিতেই সম্মতি দেবেন ট্রাম্প এবং কোনো অবস্থাতেই ইরানকে পারমাণবিক অস্ত্র অর্জনের সুযোগ দেওয়া হবে না। অন্যদিকে ইরানের এক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা দাবি করেছেন, দুই পক্ষ চুক্তির অনেক কাছাকাছি পৌঁছালেও এখনও চূড়ান্ত সমঝোতা হয়নি।শান্তিচুক্তির জন্য ট্রাম্প ইরানের সামনে দুটি শর্ত রেখেছেন। প্রথমত, হরমুজ প্রণালীর ওপর থেকে ইরানের নিয়ন্ত্রণ প্রত্যাহার করে যুদ্ধ-পূর্ব পরিস্থিতি পুনর্বহাল করতে হবে। দ্বিতীয়ত, ভবিষ্যতে পারমাণবিক অস্ত্র তৈরির সব ধরনের সম্ভাবনা বন্ধ করতে হবে। তবে তেহরান এখন পর্যন্ত কোনো শর্তেই সম্মতি দেয়নি। ট্রাম্প পুনরায় জোর দিয়ে বলেছেন, ইরানকে অবশ্যই পারমাণবিক অস্ত্র না তৈরির নিশ্চয়তা দিতে হবে এবং হরমুজ প্রণালী আন্তর্জাতিক নৌচলাচলের জন্য সম্পূর্ণ উন্মুক্ত রাখতে হবে।এদিকে ইরানের আধা-সরকারি বার্তা সংস্থা ফার্স ট্রাম্পের বক্তব্যকে রাজনৈতিকভাবে ‘জয়’ প্রদর্শনের চেষ্টা বলে উল্লেখ করেছে। ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, হরমুজ প্রণালী দিয়ে চলাচলকারী জাহাজের নিয়ন্ত্রণ কেবল ইরান ও ওমানের হাতে থাকা উচিত। পাশাপাশি, ইরানি জাহাজের ওপর আরোপিত মার্কিন নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার না হলে প্রণালী পুরোপুরি উন্মুক্ত করা হবে না বলেও জানানো হয়েছে। তবে মার্কিন অর্থমন্ত্রী স্কট বেসেন্ট ইঙ্গিত দিয়েছেন, হরমুজে ইরানের নিয়ন্ত্রণ শিথিল হলে যুক্তরাষ্ট্রও ধীরে ধীরে নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের পথে এগোতে পারে। ফলে আগামী কয়েক দিনের মধ্যেই আলোচনায় উভয় পক্ষ কতটা ছাড় দিতে প্রস্তুত, তা স্পষ্ট হতে পারে।/টি 

মে ৩০, ২০২৬

ইসরায়েলকে কালো তালিকাভুক্ত করল জাতিসংঘ

সংঘাতপূর্ণ অঞ্চলে যৌন সহিংসতার দায়ে ইসরায়েলকে ‘কালো তালিকাভুক্ত’ করেছে জাতিসংঘ। এ সিদ্ধান্তের প্রতিবাদে জাতিসংঘ মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেসের সঙ্গে সব ধরনের সম্পর্ক ছিন্ন করার ঘোষণা দিয়েছে ইসরায়েল। বৃহস্পতিবার জাতিসংঘে নিযুক্ত ইসরায়েলের রাষ্ট্রদূত ড্যানি ড্যানন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে প্রকাশিত এক ভিডিও বার্তায় বলেন, “এই মহাসচিবের সঙ্গে আমাদের সব সম্পর্ক শেষ।” আল-জাজিরার প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।জাতিসংঘের নিয়ম অনুযায়ী, সংঘাতকালীন যৌন সহিংসতা বিষয়ক বার্ষিক প্রতিবেদন প্রকাশের আগে সংশ্লিষ্ট দেশগুলোর কাছে তা পাঠানো হয়। এর আগেও ২০২৪ সালের আগস্টে প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে ইসরায়েলকে সম্ভাব্য কালো তালিকাভুক্তির বিষয়ে সতর্ক করা হয়েছিল। ইসরায়েলের রাষ্ট্রদূত ড্যানন এই সিদ্ধান্তকে ‘জঘন্য’ আখ্যা দিয়ে বলেন, জাতিসংঘ মহাসচিব ও তার দল ইসরায়েলের বিরুদ্ধে ধারাবাহিকভাবে মিথ্যা তথ্য ছড়াচ্ছে এবং হামাসের সঙ্গে একই তালিকায় রাখা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়।এদিকে, জাতিসংঘে ইসরায়েলি মিশন জানিয়েছে, আন্তোনিও গুতেরেস জাতিসংঘের মহাসচিব হিসেবে দায়িত্বে থাকা পর্যন্ত তার কার্যালয়ের সঙ্গে কোনো ধরনের যোগাযোগ রাখবে না ইসরায়েল। দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ওরেণ মারমরস্টেইনও জাতিসংঘের এই পদক্ষেপকে ‘রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত ও লজ্জাজনক’ বলে মন্তব্য করেছেন। তবে জাতিসংঘ মহাসচিবের মুখপাত্র স্টিফেন দুজারিক জানিয়েছেন, ইসরায়েলি রাষ্ট্রদূতের বক্তব্য সম্পর্কে তারা অবগত এবং আলোচনার জন্য মহাসচিবের দরজা সবসময় খোলা রয়েছে।অন্যদিকে, নারী ও শিশুদের ওপর সহিংসতা বিষয়ক জাতিসংঘের বিশেষ দূত রিম আলসালেম এই সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানিয়ে বলেন, “ইসরায়েলকে কালো তালিকাভুক্ত করার সিদ্ধান্ত অনেক আগেই নেওয়া উচিত ছিল।” তিনি অভিযোগ করেন, ফিলিস্তিনি নারী, পুরুষ ও শিশুদের বিরুদ্ধে ইসরায়েলি বাহিনীর পদ্ধতিগত যৌন সহিংসতার ঘটনা স্বাধীনভাবে নথিবদ্ধ ও প্রমাণিত হলেও এতদিন কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। জাতিসংঘের তথ্যানুযায়ী, ইসরায়েলি কারাগার ও আটক কেন্দ্রে ফিলিস্তিনি বন্দীদের ওপর যৌন সহিংসতার নির্ভরযোগ্য প্রমাণ পাওয়া গেছে।মানবাধিকার সংস্থাগুলোর বিভিন্ন প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২০২৩ সালের গাজা যুদ্ধ শুরুর পর আটক হওয়া বহু ফিলিস্তিনি ইসরায়েলি রক্ষীদের হাতে নির্যাতন ও যৌন নিপীড়নের শিকার হয়েছেন। সম্প্রতি মুক্ত হওয়া আন্তর্জাতিক ত্রাণকর্মীরাও ইসরায়েলি হেফাজতে থাকার সময় যৌন নির্যাতনের অভিযোগ তুলেছেন। একই সময়ে নিউইয়র্ক টাইমসের সাংবাদিক নিকোলাস ক্রিস্টফের অনুসন্ধানী প্রতিবেদনে ১৪ জন ফিলিস্তিনি ভুক্তভোগীর সাক্ষাৎকারে ধর্ষণের অভিযোগ উঠে আসে। যদিও ইসরায়েল সরকার এসব অভিযোগ অস্বীকার করে সংবাদমাধ্যমটির বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার ঘোষণা দিয়েছে। উল্লেখ্য, ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর হামাসের হামলার পর গাজায় ইসরায়েলের সামরিক অভিযানে এখন পর্যন্ত ৭২ হাজারের বেশি ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন।/টিএ 

মে ২৯, ২০২৬

কুয়েতে ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা

মধ্যপ্রাচ্যের চলমান উত্তেজনা এবার ছড়িয়ে পড়েছে উপসাগরীয় দেশ কুয়েতে। দেশটির সামরিক বাহিনী জানিয়েছে, তাদের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা শত্রুপক্ষের ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা প্রতিহত করছে। একইসঙ্গে দেশজুড়ে সতর্কতামূলক সাইরেন বাজানো হচ্ছে। সামরিক বাহিনীর এক বিবৃতিতে বলা হয়েছে, কুয়েতে যেসব বিস্ফোরণের শব্দ শোনা যাচ্ছে, সেগুলো মূলত আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার মাধ্যমে হামলা প্রতিহত করার ফল।তাৎক্ষণিকভাবে এ ঘটনায় কোনো হতাহত বা বড় ধরনের ক্ষয়ক্ষতির খবর পাওয়া যায়নি। তবে জনগণকে নিরাপত্তা নির্দেশনা মেনে চলার আহ্বান জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ। কুয়েতের এই পরিস্থিতিকে কেন্দ্র করে মধ্যপ্রাচ্যে আঞ্চলিক সংঘাত আরও বিস্তৃত হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে বলে বিশ্লেষকরা মনে করছেন।এদিকে, যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে ভঙ্গুর যুদ্ধবিরতি এবং দীর্ঘ শান্তি আলোচনার মধ্যেই গত তিন দিনের মধ্যে দ্বিতীয়বারের মতো ইরানে হামলা চালিয়েছে মার্কিন সামরিক বাহিনী। যুক্তরাষ্ট্রের সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) জানিয়েছে, হরমুজ প্রণালির গুরুত্বপূর্ণ বন্দরনগরী বন্দর আব্বাসে একটি সামরিক স্থাপনায় হামলা চালানো হয়েছে। পাশাপাশি হুমকি তৈরি করা চারটি ইরানি ‘ওয়ান-ওয়ে অ্যাটাক ড্রোন’ ভূপাতিত করার দাবি করেছে তারা।সেন্টকমের দাবি, বন্দর আব্বাসের যে সামরিক স্থাপনাটিতে হামলা চালানো হয়েছে, সেখান থেকে আরও একটি ড্রোন উৎক্ষেপণের প্রস্তুতি চলছিল। ওয়াশিংটন এই হামলাকে পরিমিত ও প্রতিরক্ষামূলক পদক্ষেপ হিসেবে উল্লেখ করে বলেছে, এটি যুদ্ধবিরতি বজায় রাখার অংশ। তবে সাম্প্রতিক এই হামলা বিদ্যমান যুদ্ধবিরতির ভবিষ্যৎকে নতুন করে অনিশ্চয়তার মুখে ফেলেছে।যুক্তরাষ্ট্রের হামলার জবাবে পাল্টা পদক্ষেপ নিয়েছে ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কোর (আইআরজিসি)। আধা-সরকারি তাসনিম বার্তাসংস্থায় প্রকাশিত এক বিবৃতিতে আইআরজিসি জানিয়েছে, তাদের ওপর হওয়া মার্কিন ‘আগ্রাসনের উৎস’ হিসেবে চিহ্নিত একটি মার্কিন বিমানঘাঁটিতে স্থানীয় সময় ভোর ৪টা ৫০ মিনিটে হামলা চালানো হয়েছে। এছাড়া আইআরজিসি-ঘনিষ্ঠ গণমাধ্যমের দাবি, হরমুজ প্রণালিতে একটি মার্কিন তেলবাহী জাহাজকে পিছু হটতে বাধ্য করা হয়েছে। চলমান এই সংঘাতের প্রভাবে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচল ব্যাহত হওয়ার পাশাপাশি বিশ্ববাজারে জ্বালানির দামও বেড়েছে।সূত্র: আলজাজিরা/টি

মে ২৮, ২০২৬

আব্রাহাম চুক্তিতে সই করবে না পাকিস্তান

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের আহ্বান সত্ত্বেও ইসরায়েলের সঙ্গে সম্পর্ক স্বাভাবিক করার লক্ষ্যে ‘আব্রাহাম চুক্তি’তে সই করবে না পাকিস্তান। দেশটির প্রতিরক্ষামন্ত্রী খাজা মোহাম্মদ আসিফ এক টিভি সাক্ষাৎকারে বিষয়টি পরিষ্কার করে জানিয়েছেন, পাকিস্তান এমন কোনো চুক্তিতে যোগ দেবে না যা তাদের মৌলিক আদর্শের সঙ্গে সাংঘর্ষিক। পাকিস্তান তাদের পাসপোর্টেও ইসরায়েলকে স্বীকৃতি দেয় না উল্লেখ করে তিনি বলেন, এ ধরনের চুক্তি পাকিস্তানের কাছে গ্রহণযোগ্য নয় এবং ভবিষ্যতে এই অবস্থান পরিবর্তনের কোনো পরিকল্পনা নেই। এই বিষয়ে এখন পর্যন্ত ওয়াশিংটন ও ইসলামাবাদের মধ্যে কোনো আনুষ্ঠানিক যোগাযোগ হয়নি বলেও তিনি জানান।সম্প্রতি মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প মধ্যপ্রাচ্যে ঐক্য ও অর্থনৈতিক সহযোগিতার অংশ হিসেবে সৌদি আরব, কাতার, তুরস্ক ও পাকিস্তানসহ কয়েকটি দেশকে আব্রাহাম চুক্তির সম্প্রসারিত কাঠামোয় যুক্ত হওয়ার আহ্বান জানান। ২০২০ সালে ট্রাম্পের প্রথম মেয়াদে শুরু হওয়া এই চুক্তির মাধ্যমে সংযুক্ত আরব আমিরাত, বাহরাইন, মরক্কো ও সুদান ইসরায়েলের সঙ্গে কূটনৈতিক সম্পর্ক স্থাপন করে। ট্রাম্পের মতে, ইরান সংকট নিয়ে যেসব দেশ আলোচনা করছে, সৌদি আরব ও কাতারের দ্রুত স্বাক্ষরের মাধ্যমে তাদের সবারই এই চুক্তিতে যোগ দেওয়া উচিত। তবে যুক্তরাষ্ট্রের এই চাওয়াকে সরাসরি নাকচ করে দিল ইসলামাবাদ।দীর্ঘদিন ধরে ফিলিস্তিনের পক্ষে অবস্থান নেওয়া পাকিস্তান এখনো ইসরায়েলকে রাষ্ট্র হিসেবে স্বীকৃতি দেয় না এবং দুই দেশের মধ্যে কোনো কূটনৈতিক সম্পর্ক নেই। পাকিস্তান বরাবরই ১৯৬৭ সালের পূর্ব সীমার ভিত্তিতে এবং পূর্ব জেরুজালেমকে রাজধানী করে একটি স্বাধীন ফিলিস্তিন রাষ্ট্র গঠনের দাবিকে সমর্থন জানিয়ে আসছে। বর্তমান গাজা পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে প্রতিরক্ষামন্ত্রী খাজা আসিফ বলেন, গাজায় যুদ্ধবিরতি বারবার ভঙ্গ হচ্ছে এবং ইসরায়েলি হামলা অব্যাহত রয়েছে। এমন পরিস্থিতিতে যাদের বিশ্বাস করা কঠিন, তাদের সঙ্গে কোনো আলোচনায় বসা জটিল।আঞ্চলিক কূটনীতির একটি অত্যন্ত সংবেদনশীল সময়ে পাকিস্তানের পক্ষ থেকে এই দৃঢ় মন্তব্য এল। সাম্প্রতিক সময়ে ইরান ইস্যু ঘিরে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের উত্তেজনা বাড়ার পর উপসাগরীয় দেশগুলো, চীন এবং যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে সমন্বিত কূটনৈতিক প্রচেষ্টা চলছে। এই পরিস্থিতিতে পাকিস্তানও মধ্যস্থতাকারী হিসেবে ভূমিকা রাখছে। এরই অংশ হিসেবে পাকিস্তানের সেনাপ্রধান আসিম মুনির এবং স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী মহসিন নাকভি সম্প্রতি তেহরান সফর করেছেন, যা কর্মকর্তাদের মতে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে একটি সম্ভাব্য চূড়ান্ত সমঝোতার দিকে এগোচ্ছে।২০২১ সালে আফগানিস্তান থেকে মার্কিন সেনা প্রত্যাহারের পর পাকিস্তান ও যুক্তরাষ্ট্রের সম্পর্কে কিছুটা টানাপোড়েন তৈরি হলেও সাম্প্রতিক সময়ে তা আবার উন্নতির দিকে যাচ্ছে। তবে যুক্তরাষ্ট্র ও উপসাগরীয় দেশগুলোর সঙ্গে সম্পর্ক বৃদ্ধি পেলেও পাকিস্তান বারবার স্পষ্ট করেছে যে, ইসরায়েল ইস্যুতে তাদের নীতি অপরিবর্তিত। এদিকে পাকিস্তানের অভ্যন্তরীণ জনমত ও রাজনৈতিক দলগুলোও সবসময় ফিলিস্তিনিদের পক্ষে অনড়। একটি স্বাধীন ফিলিস্তিন রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা না হওয়া পর্যন্ত ইসরায়েলের সঙ্গে সম্পর্ক স্থাপনের যেকোনো উদ্যোগের বিরুদ্ধে দেশটির জনগণ ও ধর্মীয় দলগুলো তীব্র প্রতিরোধী অবস্থানে রয়েছে।/টিএ 

মে ২৬, ২০২৬

লাব্বাইক ধ্বনিতে মুখরিত আরাফাত ময়দান

 ‘লাব্বায়েক আল্লাহুম্মা লাব্বায়েক, লাব্বায়েক লা শারিকা লাকা লাব্বায়েক’ ধ্বনিতে মুখরিত হয়ে উঠেছে মক্কার ঐতিহাসিক আরাফাতের ময়দান। মঙ্গলবার (২৬ মে) পবিত্র হজের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ও আধ্যাত্মিক ধাপ ‘উকুফে আরাফাহ’ পালনে ১৬ লাখেরও বেশি হাজি এই পবিত্র ময়দানে সমবেত হয়েছেন। সৌদি প্রেস এজেন্সির (এসপিএ) বরাত দিয়ে আন্তর্জাতিক গণমাধ্যম আরব নিউজ এই গভীর ভক্তি, আত্মত্যাগ ও প্রার্থনার দৃশ্য তুলে ধরেছে। এর আগে সোমবার মিনায় ‘তারবিয়াহর দিন’ অতিবাহিত করে নিজেদের আধ্যাত্মিক ও শারীরিকভাবে প্রস্তুত করার পর, জিলহজ মাসের নবম দিনে ভোর থেকেই হাজিরা দলে দলে আরাফাতে জড়ো হতে শুরু করেন।ইসলামি ঐতিহ্য অনুযায়ী, আরাফাতের ময়দানে অবস্থান করাকে হজের মূল আনুষ্ঠানিকতা হিসেবে গণ্য করা হয়। মহানবী হযরত মুহাম্মদ (সা.) বলেছিলেন, ‘হজই হলো আরাফাহ’, যা এই মহাসমাবেশের অপরিহার্য গুরুত্বকে প্রকাশ করে। মক্কা থেকে প্রায় ২০ কিলোমিটার দক্ষিণ-পূর্বে অবস্থিত এই উন্মুক্ত প্রান্তরের কেন্দ্রে রয়েছে ‘জাবাল আল-রাহমাহ’ বা রহমতের পাহাড়, যেখানে অনেক হাজি প্রার্থনা ও ধ্যানের জন্য সমবেত হন। ইসলামী বিশ্বাস অনুযায়ী, এই স্থানটি আদম ও হাওয়া (আ.)-এর পুনর্মিলনের পবিত্র স্মৃতি বিজড়িত এবং বিশ্বজুড়ে মুসলমানদের কাছে এটি গভীর প্রতীকী তাৎপর্য বহন করে।ইসলামী চিন্তাবিদদের মতে, এই দিনটি ইসলামী ক্যালেন্ডারের সবচেয়ে পবিত্র দিনগুলোর একটি, যা আল্লাহর রহমত, ক্ষমা এবং আধ্যাত্মিক পুনর্জাগরণের মহাসুযোগ। এছাড়া ৬৩২ খ্রিস্টাব্দে এই আরাফাত পাহাড়েই বিদায় হজের ঐতিহাসিক শেষ খুতবা দিয়েছিলেন মহানবী হযরত মুহাম্মদ (সা.); যেখানে ন্যায়বিচার, সমতা এবং মানবজাতির জীবন ও সম্পদের পবিত্রতার নীতিগুলো তুলে ধরা হয়েছিল। সেই ধারাবাহিকতায় মঙ্গলবার দুপুরে হাজিদের উদ্দেশ্যে সমসাময়িক ও ধর্মীয় দিকনির্দেশনামূলক আরাফাতের খুতবা দেওয়া হয়। এরপর হাজিরা মহানবীর সুন্নাহ অনুযায়ী জোহর এবং আসরের নামাজ একসঙ্গে এবং সংক্ষিপ্ত করে আদায় করেন।তীব্র গরমের মাঝেও দিনভর হাজিরা অত্যন্ত বিনয় ও আত্মোপলব্ধির মধ্য দিয়ে আল্লাহর দরবারে হাত তুলে ক্ষমা প্রার্থনা ও জিকিরে মগ্ন থাকেন। এদিকে চলতি বছর তাপমাত্রা ৪৫ ডিগ্রি সেলসিয়াসের বেশি থাকায় সৌদি স্বাস্থ্য কর্তৃপক্ষ সর্বোচ্চ সতর্কতা (হাই অ্যালার্ট) জারি করেছে। হাজিদের চলাচল নির্বিঘ্ন করতে ব্যাপক নিরাপত্তা ও ভিড় নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থার পাশাপাশি জরুরি চিকিৎসা সেবা ও পর্যাপ্ত ঠাণ্ডা পানির ব্যবস্থা করা হয়েছে। স্বাস্থ্য কর্মকর্তারা হাজিদের হিট স্ট্রোক থেকে বাঁচতে প্রচুর পানি পান এবং সরাসরি সূর্যের আলো থেকে দূরে থাকার পরামর্শ দিয়েছেন।পবিত্র এই ময়দানে সূর্যাস্ত পর্যন্ত অবস্থান করে ইবাদত-বন্দেগি শেষে হাজিরা এখন মুজদালিফার উদ্দেশ্যে রওনা হতে শুরু করেছেন। সেখানে পৌঁছানোর পর তারা মাগরিব ও এশার নামাজ একসঙ্গে সংক্ষেপে আদায় করবেন। আজ রাতে খোলা আকাশের নিচে মুজদালিফায় ইবাদত ও বিশ্রামের পাশাপাশি মিনায় প্রতীকী শয়তানকে পাথর নিক্ষেপ করার আনুষ্ঠানিকতার জন্য কঙ্কর বা পাথর সংগ্রহ করবেন হাজিরা। এই পাথর সংগ্রহের মধ্য দিয়েই সম্পন্ন হবে হজের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ আরেকটি ধাপের প্রস্তুতি।

মে ২৬, ২০২৬

পবিত্র হজের মূল আনুষ্ঠানিকতা শুরু, মিনায় লাখো মুসল্লি হাজির

পবিত্র হজের মূল আনুষ্ঠানিকতা আজ সোমবার (২৫ মে) শুরু হয়েছে। বিশ্বের বিভিন্ন দেশ থেকে আগত লাখো মুসল্লি ইতোমধ্যে মিনায় পৌঁছেছেন এবং ইহরামের সাদা পোশাকে হজের গুরুত্বপূর্ণ আনুষ্ঠানিকতায় অংশ নিচ্ছেন। রোববার এশার নামাজের পর থেকেই হাজিরা ধাপে ধাপে মিনার উদ্দেশে যাত্রা শুরু করেন। পুরো হজ এলাকা মুখর হয়ে ওঠে ‘লাব্বাইক আল্লাহুম্মা লাব্বাইক’ ধ্বনিতে।শরিয়তের বিধান অনুযায়ী, ৮ জিলহজ হাজিরা মিনায় অবস্থান করে পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ আদায় করবেন। এরপর ৯ জিলহজ মঙ্গলবার তারা আরাফাতের ময়দানে যাবেন, যা হজের মূল রুকন হিসেবে বিবেচিত। এ বছর হজের খুতবা প্রদান করবেন শায়েখ আলি বিন আবদুল রহমান আল-হুদাইফি। সূর্যাস্ত পর্যন্ত আরাফাতে অবস্থানের পর হাজিরা মুজদালিফায় রাতযাপন করবেন এবং পরদিন মিনায় ফিরে জামরায় কঙ্কর নিক্ষেপ করবেন।হজের অন্যান্য আনুষ্ঠানিকতার মধ্যে রয়েছে পশু কোরবানি, মাথা মুণ্ডন বা চুল ছোট করা। পরে ১১ ও ১২ জিলহজ মিনায় অবস্থান করে হাজিরা বাকি আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন করবেন। নির্ধারিত নিয়ম অনুযায়ী, ১২ জিলহজ সূর্যাস্তের আগেই তারা মিনা ত্যাগ করবেন।সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, চলতি বছর বিশ্বজুড়ে প্রায় ১৬ থেকে ১৮ লাখ মুসলমান হজ পালন করতে পারেন। বাংলাদেশ থেকে গেছেন প্রায় ৭৮ হাজার ৫০০ হজযাত্রী। হজকে কেন্দ্র করে সৌদি আরব ব্যাপক নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়েছে। দেশটির নিরাপত্তা বাহিনীর কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, হাজিদের নিরাপত্তা ও নির্বিঘ্ন ইবাদত নিশ্চিত করতে সব ধরনের প্রস্তুতি সম্পন্ন করা হয়েছে।/টিএ

মে ২৫, ২০২৬

হঠাৎ চীন-রাশিয়া ঘনিষ্ঠতা, দক্ষিণ এশিয়ার জন্য কিসের বার্তা?

বিশ্বরাজনীতি এখন এক বড় ধরনের পুনর্বিন্যাসের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে, যেখানে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ-পরবর্তী পশ্চিমা নেতৃত্বাধীন আন্তর্জাতিক ব্যবস্থার ভিত নড়বড়ে হয়ে উঠছে। এই প্রেক্ষাপটে চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং এবং রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের সাম্প্রতিক বৈঠক কেবল একটি দ্বিপক্ষীয় কূটনৈতিক ঘটনা নয়, বরং এটি বহুমেরুকেন্দ্রিক বিশ্বব্যবস্থার ক্রমবর্ধমান বাস্তবতার প্রতীক। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে আতিথ্য দেওয়ার পরপরই বেইজিংয়ে পুতিনের এই সফর বৈশ্বিক কূটনীতির কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছে। চীন-রাশিয়া বন্ধুত্ব ও সহযোগিতা চুক্তির ২৫ বছর পূর্তিতে অনুষ্ঠিত এই সফরে পুতিন সম্পর্ককে "অভূতপূর্ব উচ্চতায়" দাবি করলেও বিশ্লেষকরা প্রশ্ন তুলছেন—এটি কি সমমর্যাদার অংশীদারিত্ব, নাকি এক ধরনের "অসম নির্ভরতার কৌশলগত অক্ষ"?ইউক্রেন যুদ্ধের জেরে পশ্চিমা নিষেধাজ্ঞায় পড়ে রাশিয়া যখন আন্তর্জাতিক আর্থিক ও বাণিজ্যিক কাঠামো থেকে প্রায় বিচ্ছিন্ন, তখন চীন তাদের জন্য অর্থনৈতিক “লাইফলাইন” হিসেবে আবির্ভূত হয়েছে। ইউরোপ রাশিয়ার জ্বালানি নির্ভরতা কমানোর পর মস্কো বাধ্য হয়ে পূর্বমুখী নীতি গ্রহণ করেছে এবং বেইজিং এখন রুশ তেল-গ্যাসের সবচেয়ে বড় ক্রেতায় পরিণত হয়েছে। প্রস্তাবিত “পাওয়ার অব সাইবেরিয়া-২” পাইপলাইন প্রকল্প এই গভীর অর্থনৈতিক সম্পর্কের বড় উদাহরণ। আন্তর্জাতিক রাজনৈতিক অর্থনীতির ভাষায় এটি এক ধরনের ‘অসম পারস্পরিক নির্ভরতা’ (Asymmetric Interdependence), যেখানে চীনের জন্য রাশিয়া গুরুত্বপূর্ণ হলেও রাশিয়ার টিকে থাকার জন্য চীন এখন প্রায় অপরিহার্য। ফলে ক্ষমতার ভারসাম্য স্পষ্টভাবেই বেইজিংয়ের দিকে ঝুঁকছে।পশ্চিমা দেশগুলোর অভিযোগ, চীন মুখে ইউক্রেন যুদ্ধে নিরপেক্ষতা ও শান্তি মধ্যস্থতাকারীর দাবি করলেও পর্দার আড়ালে রাশিয়াকে ড্রোন প্রশিক্ষণ ও সামরিক উচ্চপ্রযুক্তি সরবরাহ করে যুদ্ধ সক্ষমতা টিকিয়ে রাখছে। আসলে বেইজিংয়ের মূল লক্ষ্য আদর্শিক নয়, বরং ভূরাজনৈতিক; তারা চায় না রাশিয়া সম্পূর্ণ দুর্বল হয়ে পশ্চিমা প্রভাবের অধীনে চলে যাক। কারণ একটি পশ্চিমবিরোধী রাশিয়া চীনের জন্য কৌশলগত বাফার ও মার্কিনবিরোধী ভারসাম্য রক্ষাকারী শক্তি হিসেবে কাজ করে। তবে চীন একই সাথে ‘কৌশলগত অস্পষ্টতা’ (Strategic Ambiguity) বজায় রাখছে, যাতে রাশিয়ার কারণে ইউরোপ-আমেরিকার সাথে তাদের নিজস্ব বাণিজ্য ও অর্থনৈতিক সম্পর্ক ক্ষতিগ্রস্ত না হয় এবং নতুন কোনো নিষেধাজ্ঞার ঝুঁকি তৈরি না হয়।এদিকে দীর্ঘমেয়াদি যুদ্ধ ও মধ্যপ্রাচ্যের চলমান অস্থিতিশীলতা এই সমীকরণকে আরও জটিল করে তুলছে। ইরান-সংকট বা আঞ্চলিক যুদ্ধের কারণে বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারে অনিশ্চয়তা তৈরি হলে চীনের জন্য রুশ জ্বালানির গুরুত্ব যেমন বাড়বে, তেমনি দীর্ঘস্থায়ী যুদ্ধ বৈশ্বিক অর্থনীতিকে অস্থিতিশীল করায় বেইজিংয়ের ধৈর্যও কমছে। কূটনৈতিক সূত্রে জানা গেছে, শি জিনপিং ব্যক্তিগত আলোচনায় পুতিনের ইউক্রেন আক্রমণের সিদ্ধান্ত নিয়ে অসন্তোষও প্রকাশ করেছেন। ২১ শতকের ভূরাজনীতি এখন মূলত “জ্বালানি, প্রযুক্তি ও নিরাপত্তা”-কেন্দ্রিক প্রতিযোগিতায় রূপ নিচ্ছে, যেখানে চীন ও রাশিয়া মিলে পশ্চিমা প্রভাবকে চ্যালেঞ্জ জানাতে একটি বিকল্প শক্তি-অক্ষ গড়ে তোলার চেষ্টা করছে।এই ভূরাজনৈতিক পুনর্বিন্যাস বাংলাদেশসহ দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোর জন্য অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ বার্তা বহন করছে। বিশ্ব বহুমেরুকেন্দ্রিক হলে ছোট ও মাঝারি রাষ্ট্রগুলোর জন্য কৌশলগত ভারসাম্যের সুযোগ যেমন বাড়বে, তেমনি পরাশক্তিগুলোর চাপও বৃদ্ধি পাবে। ভারত মহাসাগরীয় অঞ্চলের নিরাপত্তা, বাণিজ্য, অবকাঠামো বিনিয়োগ ও জ্বালানি সরবরাহের ক্ষেত্রে এই প্রতিযোগিতার সরাসরি প্রভাব পড়বে। পরিশেষে বলা যায়, বেইজিং-মস্কো অক্ষকে কেবল ‘বন্ধুত্ব’ হিসেবে দেখলে ভুল হবে; এটি মূলত ক্ষমতার অসমতা, সন্দেহ ও স্বার্থের সংঘাতের মাঝে গড়ে ওঠা এক হিসাবি কৌশল। রাশিয়া আজ চীনের জন্য একটি প্রয়োজনীয় এবং সস্তা জ্বালানির উৎস হতে পারে, কিন্তু কোনোভাবেই সমমর্যাদার অংশীদার নয়।

মে ২৩, ২০২৬

চীনের কয়লা খনিতে ভয়াবহ গ্যাস বিস্ফোরণ, নিহত ৮

চীনের উত্তরাঞ্চলীয় শানসি প্রদেশে একটি কয়লা খনিতে ভয়াবহ গ্যাস বিস্ফোরণে অন্তত আটজন শ্রমিক নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় আরও ৩৮ জন শ্রমিক এখনো খনির মাটির নিচে আটকা পড়েছেন। নিখোঁজদের উদ্ধারে দ্রুতগতিতে উদ্ধার অভিযান চালানো হচ্ছে।চীনের রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম সিনহুয়ার বরাতে জানা যায়, গত শুক্রবার (২২ মে) স্থানীয় সময় সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে শানসি প্রদেশের চাংঝি শহরের লিউশেনিউ কয়লা খনিতে এই বিস্ফোরণ ঘটে। দুর্ঘটনার সময় খনির ভেতরে মোট ২৪৭ জন শ্রমিক কাজ করছিলেন।ঘটনার পরপরই স্থানীয় প্রশাসন ও উদ্ধারকারী দল দ্রুত অভিযান শুরু করে। শনিবার (২৩ মে) সকাল ৬টার মধ্যে খনির ভেতর থেকে অন্তত ২০০ জন শ্রমিককে নিরাপদে উদ্ধার করা সম্ভব হয়। তবে এখনো ৩৮ জন শ্রমিক ভেতরে আটকে আছেন এবং তাদের জীবিত উদ্ধারে কাজ চলছে।এই ভয়াবহ দুর্ঘটনায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং। তিনি নিখোঁজ শ্রমিকদের উদ্ধারে সর্বোচ্চ প্রচেষ্টা চালানোর নির্দেশ দিয়েছেন এবং দুর্ঘটনার কারণ অনুসন্ধান করে দায়ীদের দ্রুত আইনের আওতায় আনার আহ্বান জানিয়েছেন। ইতিমধ্যে ঘটনার তদন্তে একটি কমিটি গঠন করা হয়েছে।শানসি প্রদেশ চীনের অন্যতম বৃহৎ কয়লা উৎপাদন অঞ্চল হিসেবে পরিচিত হলেও এখানকার খনি নিরাপত্তা নিয়ে দীর্ঘদিন ধরেই প্রশ্ন রয়েছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, উৎপাদন বাড়ানোর চাপ ও নিরাপত্তা বিধি উপেক্ষার কারণে এসব খনিতে বারবার প্রাণঘাতী দুর্ঘটনা ঘটছে, যা শ্রমিক নিরাপত্তাকে বড় ঝুঁকিতে ফেলছে।/টিএ

মে ২৩, ২০২৬

যুদ্ধবিরতির মধ্যেই দ্রুত সামরিক সক্ষমতা পুনর্গঠন করছে ইরান

প্রায় ৪০ দিনের রক্তক্ষয়ী যুদ্ধের পর শুরু হওয়া যুদ্ধবিরতির মাত্র ছয় সপ্তাহের মধ্যেই আবারও ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র উৎপাদন শুরু করেছে ইরান। মার্কিন সংবাদমাধ্যম সিএনএন-এর এক প্রতিবেদনে যুক্তরাষ্ট্রের গোয়েন্দা সূত্রের বরাতে জানানো হয়েছে, ওয়াশিংটন ও ইসরায়েলের হামলার পর ইরানের সামরিক সক্ষমতা যতটুকু ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছিল, তেহরান তার চেয়ে বহু গুণ দ্রুত গতিতে তা পুনর্গঠন করছে। যুদ্ধবিরতির এই সুযোগে ক্ষতিগ্রস্ত ক্ষেপণাস্ত্র ঘাঁটি, লঞ্চারসহ গুরুত্বপূর্ণ অস্ত্র ব্যবস্থা পুনর্নির্মাণে পুরো দমে কাজ করছে দেশটিকে, যা মার্কিন প্রশাসনের পূর্বানুমানকে ভুল প্রমাণ করেছে।মার্কিন গোয়েন্দা কর্মকর্তাদের আশঙ্কা, ওয়াশিংটনের প্রত্যাশার চেয়ে ইরানের ক্ষয়ক্ষতি অনেক কম হয়েছে এবং হামলার পরও দেশটির ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ও আকাশ প্রতিরক্ষা সক্ষমতা পুরোপুরি ধ্বংস হয়নি। ফলে একেবারে শূন্য থেকে শুরু না করে পূর্বের অবকাঠামোকে কাজে লাগিয়ে মাত্র ছয় মাসের মধ্যেই পূর্ণমাত্রার ড্রোন হামলা সক্ষমতা পুনরুদ্ধার করতে পারে ইরান। মূলত রাশিয়া ও চীনের পরোক্ষ সহায়তা এই দ্রুত পুনর্গঠনে বড় ভূমিকা রাখছে; যদিও চীন ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র তৈরিতে উপাদান সরবরাহের এই অভিযোগ অস্বীকার করেছে।পেন্টাগনের প্রধান মুখপাত্র শন পারনেল দাবি করেছেন যে, মার্কিন সামরিক বাহিনীর কাছে নিজেদের স্বার্থ রক্ষার জন্য প্রয়োজনীয় সব ধরনের সক্ষমতা ও অস্ত্রভাণ্ডার রয়েছে। তবে মার্কিন গোয়েন্দা তথ্যের ভিন্ন চিত্রে দেখা গেছে, হামলার পরও ইরানের প্রায় দুই-তৃতীয়াংশ ক্ষেপণাস্ত্র লঞ্চার এবং প্রায় ৫০ শতাংশ ড্রোন এখনো সম্পূর্ণ সক্রিয় রয়েছে। একই সঙ্গে হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচলের জন্য অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ ইরানের উপকূলীয় প্রতিরক্ষা ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্রের একটি বড় অংশও অক্ষত অবস্থায় উদ্ধার করা হয়েছে।এদিকে ইরানের এই সামরিক পুনর্গঠন নিয়ে মার্কিন প্রশাসনের অভ্যন্তরেই তথ্যের স্পষ্ট অমিল দেখা গেছে। সম্প্রতি সেন্টকম প্রধান অ্যাডমিরাল ব্র্যাড কুপার দাবি করেছিলেন যে, ‘অপারেশন এপিক ফিউরি’র মাধ্যমে ইরানের প্রতিরক্ষা সক্ষমতার প্রায় ৯০ শতাংশ ধ্বংস করা হয়েছে এবং তা পুনর্গঠনে ‘বছরের পর বছর’ সময় লাগবে। তবে সিএনএন-এর প্রতিবেদন অনুযায়ী, গোয়েন্দা সংস্থাগুলো বলছে এই পুনর্গঠন প্রক্রিয়া বছরের পর বছর নয়, বরং মাত্র কয়েক মাসের মধ্যেই সম্পন্ন হতে যাচ্ছে।অন্যদিকে, ভূ-রাজনৈতিক এই উত্তেজনার মধ্যেই প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সতর্ক করে বলেছেন যে ইরান শান্তি চুক্তিতে সম্মত না হলে ওয়াশিংটন আবারও হামলা চালাতে প্রস্তুত। এর জবাবে তেহরানের পক্ষ থেকে স্পষ্ট জানিয়ে দেওয়া হয়েছে, নতুন কোনো হামলা হলে তারা মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন ঘাঁটি থাকা দেশগুলোতে এবং আরও দূরবর্তী লক্ষ্যবস্তুতে পাল্টা আঘাত হানবে। বিশ্লেষকদের মতে, চলমান যুদ্ধবিরতির মধ্যেও ইরানের এই দ্রুত সামরিক পুনরুত্থান মধ্যপ্রাচ্যের আঞ্চলিক উত্তেজনাকে নতুন করে আরও এক দফা সংকটের দিকে ঠেলে দিচ্ছে।/টিএ

মে ২১, ২০২৬

ইরানে আবারও হামলার হুঁশিয়ারি ট্রাম্পের

ইরানে আবারও সামরিক হামলা চালানোর প্রয়োজন হতে পারে বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প। মঙ্গলবার (১৯ মে) হোয়াইট হাউসে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এই মন্তব্য করেন। ট্রাম্প জানান, ইরানকে কোনোভাবেই পারমাণবিক অস্ত্র অর্জন করতে দেওয়া হবে না। যদি চলমান আলোচনা কোনো চুক্তিতে পৌঁছাতে ব্যর্থ হয়, তবে আগামী দুই-তিন দিনের মধ্যে—সম্ভবত শুক্রবার, শনিবার, রবিবার কিংবা আগামী সপ্তাহের শুরুতে—একটি সীমিত সময়ের জন্য ব্যবস্থা নেওয়া হতে পারে। তবে ট্রাম্প এও উল্লেখ করেছেন যে, ইরানের নেতারা এখন চুক্তির জন্য আগ্রহ দেখাচ্ছেন এবং আলোচনা এগিয়ে নিতে চাইছেন।এর আগে সোমবার (১৮ মে) ট্রাম্প জানান যে, তিনি ইরানের বিরুদ্ধে একটি পরিকল্পিত সামরিক হামলার সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত করেও শেষ মুহূর্তে তা স্থগিত করেছেন। ইরানের পক্ষ থেকে প্রস্তাবিত চুক্তির খসড়া প্রত্যাখ্যান করার পর এই হামলার প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছিল। তবে কাতার, সৌদি আরব এবং সংযুক্ত আরব আমিরাতের মতো আঞ্চলিক মিত্রদের অনুরোধে এবং কূটনৈতিক আলোচনাকে আরেকটি সুযোগ দিতে তিনি সিদ্ধান্ত পরিবর্তন করেন। ট্রাম্প স্পষ্ট করেন, হোয়াইট হাউস আপাতত আলোচনার টেবিলকেই অগ্রাধিকার দিচ্ছে, তবে সমঝোতা না হলে বিকল্প পথ উন্মুক্ত রয়েছে।এদিকে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যকার এই উত্তেজনা প্রশমনে এবং আলোচনা সফল করতে পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় একটি কূটনৈতিক উদ্যোগ চলছে। এই উদ্যোগকে ইতিবাচক হিসেবে দেখছে কাতার। মঙ্গলবার এক সংবাদ সম্মেলনে কাতারের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র মাজেদ আল-আনসারি জানান, পক্ষগুলোকে আলোচনার টেবিলে আনতে এবং সমাধান খুঁজে বের করতে পাকিস্তানের আন্তরিক প্রচেষ্টাকে দোহা পূর্ণ সমর্থন করে। একই সঙ্গে এই সংকট সমাধানের জন্য প্রক্রিয়াটিকে আরও সময় দেওয়া প্রয়োজন বলে মনে করে কাতার, যাতে অঞ্চলের সাধারণ মানুষ কোনো উত্তেজনার শিকার না হয়।অন্যদিকে মার্কিন সংবাদমাধ্যম অ্যাক্সিওস-এর বরাত দিয়ে একজন জ্যেষ্ঠ মার্কিন কর্মকর্তা জানিয়েছেন, ইরান সম্প্রতি যুক্তরাষ্ট্রের কাছে একটি নতুন শান্তি প্রস্তাব হস্তান্তর করেছে। তবে ওই কর্মকর্তার মতে, তেহরানের এই নতুন প্রস্তাব তাদের আগের অবস্থানের চেয়ে খুব একটা উন্নত বা তাৎপর্যপূর্ণ কিছু নয়। তিনি পরিস্থিতির জটিলতা উল্লেখ করে বলেন, আলোচনার ক্ষেত্রে দৃশ্যত বড় কোনো অগ্রগতি হচ্ছে না এবং এখন সঠিক উপায়ে ইতিবাচক সাড়া দেওয়ার সব চাপ ইরানের ওপরই রয়েছে।চলমান এই অচলাবস্থা নিয়ে ওয়াশিংটন স্পষ্ট বার্তা দিয়েছে যে, তারা ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে একটি গুরুত্বের সঙ্গে আলোচনা দেখতে চায়। ওই মার্কিন কর্মকর্তা হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, কূটনৈতিক আলোচনা যদি ব্যর্থ হয়, তবে শেষ পর্যন্ত 'বোমার মাধ্যমে' কথা বলতে হবে, যা হবে অত্যন্ত দুর্ভাগ্যজনক। বিশ্লেষকদের মতে, মধ্যপ্রাচ্যে নতুন করে বড় ধরনের যুদ্ধ বা উত্তেজনা এড়াতে কাতারসহ আঞ্চলিক শক্তিগুলো এখন সামরিক পদক্ষেপের চেয়ে কূটনৈতিক সমাধানের ওপরই সবচেয়ে বেশি জোর দিচ্ছে।/টিএ

মে ২০, ২০২৬

ক্যালিফোর্নিয়ায় মসজিদে বন্দুক হামলা, নিহত ৫

যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়া অঙ্গরাজ্যে একটি মসজিদে বন্দুকধারীদের হামলায় দুই সন্দেহভাজন কিশোরসহ মোট পাঁচজন নিহত হয়েছেন। স্থানীয় সময় সোমবার (১৮ মে) এ ঘটনা ঘটে। পুলিশ জানিয়েছে, দুপুরের দিকে দুই কিশোর হঠাৎ মসজিদে ঢুকে এলোপাতাড়ি গুলি চালাতে শুরু করে। এ সময় মসজিদে থাকা নিরাপত্তাকর্মীরা হামলাকারীদের থামানোর চেষ্টা করলে বন্দুকধারীদের গুলিতে তিনজন নিহত হন। পরে হামলাকারী দুই কিশোরকে একটি গাড়ির ভেতরে মৃত অবস্থায় পাওয়া যায়। পুলিশের ধারণা, তারা আত্মহত্যা করেছে। নিহত দুই কিশোরের বয়স ১৭ ও ১৯ বছর।পুলিশ জানিয়েছে, ঘটনাটিকে ঘৃণাজনিত অপরাধ হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে। সন্দেহভাজনদের একজন তার বাবা-মায়ের বাড়ি থেকে তিনটি অস্ত্র নিয়ে এসেছিল বলেও জানা গেছে। স্কট ওয়াহল বলেন, মসজিদ পরিচালিত দিবাকালীন বিদ্যালয়ের সব শিশু নিরাপদ রয়েছে এবং তাদের সবাইকে খুঁজে পাওয়া গেছে।আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, একটি অস্ত্রের ওপর ঘৃণামূলক বক্তব্য লেখা ছিল। এছাড়া ঘটনাস্থল থেকে একটি আত্মহত্যার চিরকুট উদ্ধার করা হয়েছে, যেখানে বর্ণবাদী বক্তব্য পাওয়া গেছে বলে জানিয়েছেন একাধিক কর্মকর্তা। ঘটনার তদন্তে সহায়তার জন্য ফেডারেল তদন্ত ব্যুরো-কে ডাকা হয়েছে। হামলার পেছনের উদ্দেশ্য এখনো স্পষ্ট না হলেও পুলিশ এটিকে ‘ঘৃণাজনিত অপরাধ’ হিসেবেই তদন্ত করছে।মসজিদের ইমাম ও পরিচালক তাহা হাসান সাংবাদিকদের বলেন, ‘আমরা আগে কখনো এমন ট্র্যাজেডির মুখোমুখি হইনি। উপাসনালয়কে লক্ষ্যবস্তু করা অত্যন্ত ন্যক্কারজনক।’

মে ১৯, ২০২৬

ট্রাম্পের ঘোষণার পর বিশ্ববাজারে তেলের দাম কমে গেছে

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের ওপর মঙ্গলবারের (১৯ মে) পরিকল্পিত সামরিক হামলা আপাতত স্থগিতের ঘোষণা দেওয়ার পর বিশ্ববাজারে তেলের দাম কমে গেছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে দেওয়া ঘোষণার পর আন্তর্জাতিক বাজারে ব্রেন্ট ক্রুড তেলের দাম ব্যারেলপ্রতি ১১২ ডলার থেকে কমে ১০৯ ডলারে নেমে আসে। এর আগে সোমবার সারাদিনজুড়ে তেলের দামে বড় ওঠানামা দেখা যায়। সপ্তাহান্তে ট্রাম্প ইরানকে সতর্ক করে বলেছিলেন, ‘সময় দ্রুত ফুরিয়ে যাচ্ছে’।গত ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে শুরু হওয়া যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের হামলার জবাবে ইরান গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালি কার্যত বন্ধ করে দেয়। এর ফলে বিশ্ব জ্বালানি বাজারে বড় ধরনের অস্থিরতা তৈরি হয়। বিশ্বের মোট তেল ও তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাসের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ এই সংকীর্ণ নৌপথ দিয়ে পরিবহন করা হয়। ফলে শান্তি আলোচনায় অগ্রগতি বা অচলাবস্থার যেকোনো খবরেই তেলের বাজার দ্রুত প্রতিক্রিয়া দেখাচ্ছে। সোমবার দিনের শুরুতে মার্কিন প্রেসিডেন্ট সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে লেখেন, ‘ইরানকে দ্রুত এগোতে হবে, নইলে তাদের কিছুই অবশিষ্ট থাকবে না। ‘ তিনি আরও লেখেন, ‘সময় খুবই গুরুত্বপূর্ণ’।  এরপরই তেলের দাম বেড়ে যায়।সংবাদমাধ্যম অ্যাক্সিওস জানিয়েছে, ইরান ইস্যুতে সামরিক পদক্ষেপের সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা করতে মঙ্গলবার ট্রাম্প তার শীর্ষ জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টাদের সঙ্গে বৈঠকে বসতে পারেন।তবে পরে তেলের দাম আবার কমে যায়।  কারণ, ইরানের একটি সংবাদ সংস্থা জানায় যে, আলোচনার সময় ইরানের অপরিশোধিত তেলের ওপর নিষেধাজ্ঞায় সাময়িক ছাড় দিতে যুক্তরাষ্ট্র রাজি হয়েছে। এতে শান্তি আলোচনায় অগ্রগতির আশা তৈরি হয়।পরে সোমবার ট্রাম্প বলেন, ‘এখন খুবই গুরুত্বপূর্ণ আলোচনা চলছে।' ট্রুথ সোশ্যালে দেওয়া এক পোস্টে তিনি জানান, কাতার, সৌদি আরব ও সংযুক্ত আরব আমিরাতের নেতাদের অনুরোধে তিনি মঙ্গলবারের পরিকল্পিত হামলা স্থগিত করেছেন।ট্রাম্প জানান, তাকে জানানো হয়েছে যে এমন একটি চুক্তি হতে যাচ্ছে, যা যুক্তরাষ্ট্রের জন্য ‘খুবই গ্রহণযোগ্য’ হবে। একই সঙ্গে তিনি জোর দিয়ে বলেন, ‘ইরানের কাছে কোনো পারমাণবিক অস্ত্র থাকতে পারবে না’।তবে তিনি সতর্ক করে দেন, যদি গ্রহণযোগ্য কোনো চুক্তি না হয়, তাহলে যুক্তরাষ্ট্র মুহূর্তের নোটিশেই ইরানের বিরুদ্ধে বড় পরিসরের সামরিক অভিযান চালাতে প্রস্তুত থাকবে।এ বিষয়ে ইরান এখন পর্যন্ত প্রকাশ্যে কোনো মন্তব্য করেনি।

মে ১৯, ২০২৬
footer small logo

যোগাযোগ :

এটিএন বাংলা, ওয়াসা ভবন, ২য় তলা, ৯৮ কাজী নজরুল ইসলাম এভিনিউ, কাওরান বাজার, ঢাকা-১২১৫, বাংলাদেশ

ফোনঃ +88-02-55011931

সোশ্যাল মিডিয়া

youtube logotwitter logofacebook logo

Design & Developed by:

developed-company-logo