ইরান-যুক্তরাষ্ট্র শান্তিচুক্তিতে ট্রাম্পের দুই শর্ত
30 মে 2026, বিকাল 4:20
প্রায় তিন মাস পেরিয়ে গেলেও যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের চলমান উত্তেজনার স্থায়ী সমাধান এখনও অধরাই রয়ে গেছে। দুই দেশের মধ্যে আলোচনা অব্যাহত থাকলেও গুরুত্বপূর্ণ কয়েকটি বিষয়ে মতৈক্যে পৌঁছানো যায়নি। গত এপ্রিলে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দুই মাসের যুদ্ধবিরতি ঘোষণা করেছিলেন, যার মেয়াদ আরও বাড়ানোর বিষয়ে বর্তমানে কূটনৈতিক তৎপরতা চলছে।বার্তা সংস্থা রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ট্রাম্পের উত্থাপিত দুটি প্রধান শর্ত নিয়ে এখনও একমত হতে পারেনি তেহরান। এ কারণে বহুল আলোচিত শান্তিচুক্তি চূড়ান্ত রূপ পাচ্ছে না। শুক্রবার ট্রাম্প জানান, হোয়াইট হাউসের নিরাপদ বৈঠককক্ষে ইরানের সর্বশেষ প্রস্তাব নিয়ে আলোচনা করে তিনি চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবেন। ইরান যুদ্ধবিরতির সময়সীমা আরও বাড়ানোর প্রস্তাব দিয়েছে, যাতে স্থায়ী সমঝোতার জন্য আলোচনার সুযোগ বাড়ে।হোয়াইট হাউসের এক কর্মকর্তা জানিয়েছেন, ট্রাম্প ‘সিচুয়েশন রুমে’ প্রায় দুই ঘণ্টা বৈঠক করেছেন। তবে ওই বৈঠকে কোনো সিদ্ধান্ত হয়েছে কিনা, তা প্রকাশ করা হয়নি। কর্মকর্তার ভাষ্য, যুক্তরাষ্ট্রের স্বার্থ সুরক্ষিত হয় এমন চুক্তিতেই সম্মতি দেবেন ট্রাম্প এবং কোনো অবস্থাতেই ইরানকে পারমাণবিক অস্ত্র অর্জনের সুযোগ দেওয়া হবে না। অন্যদিকে ইরানের এক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা দাবি করেছেন, দুই পক্ষ চুক্তির অনেক কাছাকাছি পৌঁছালেও এখনও চূড়ান্ত সমঝোতা হয়নি।শান্তিচুক্তির জন্য ট্রাম্প ইরানের সামনে দুটি শর্ত রেখেছেন। প্রথমত, হরমুজ প্রণালীর ওপর থেকে ইরানের নিয়ন্ত্রণ প্রত্যাহার করে যুদ্ধ-পূর্ব পরিস্থিতি পুনর্বহাল করতে হবে। দ্বিতীয়ত, ভবিষ্যতে পারমাণবিক অস্ত্র তৈরির সব ধরনের সম্ভাবনা বন্ধ করতে হবে। তবে তেহরান এখন পর্যন্ত কোনো শর্তেই সম্মতি দেয়নি। ট্রাম্প পুনরায় জোর দিয়ে বলেছেন, ইরানকে অবশ্যই পারমাণবিক অস্ত্র না তৈরির নিশ্চয়তা দিতে হবে এবং হরমুজ প্রণালী আন্তর্জাতিক নৌচলাচলের জন্য সম্পূর্ণ উন্মুক্ত রাখতে হবে।এদিকে ইরানের আধা-সরকারি বার্তা সংস্থা ফার্স ট্রাম্পের বক্তব্যকে রাজনৈতিকভাবে ‘জয়’ প্রদর্শনের চেষ্টা বলে উল্লেখ করেছে। ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, হরমুজ প্রণালী দিয়ে চলাচলকারী জাহাজের নিয়ন্ত্রণ কেবল ইরান ও ওমানের হাতে থাকা উচিত। পাশাপাশি, ইরানি জাহাজের ওপর আরোপিত মার্কিন নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার না হলে প্রণালী পুরোপুরি উন্মুক্ত করা হবে না বলেও জানানো হয়েছে। তবে মার্কিন অর্থমন্ত্রী স্কট বেসেন্ট ইঙ্গিত দিয়েছেন, হরমুজে ইরানের নিয়ন্ত্রণ শিথিল হলে যুক্তরাষ্ট্রও ধীরে ধীরে নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের পথে এগোতে পারে। ফলে আগামী কয়েক দিনের মধ্যেই আলোচনায় উভয় পক্ষ কতটা ছাড় দিতে প্রস্তুত, তা স্পষ্ট হতে পারে।/টি