logo
youtube logotwitter logofacebook logo
/আন্তর্জাতিক
ইরানের সঙ্গে যুদ্ধবিরতি বাড়াতে চায় না ট্রাম্প - image

ইরানের সঙ্গে যুদ্ধবিরতি বাড়াতে চায় না ট্রাম্প

15 এপ্রিল 2026, বিকাল 4:28

ইরানের সঙ্গে চলমান অস্থিরতা নিরসনে এবার কোনো সাময়িক সমাধান নয়, বরং একটি পূর্ণাঙ্গ ও দীর্ঘমেয়াদী চুক্তিতে পৌঁছাতে চায় মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র। প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, গত ৮ এপ্রিল স্বাক্ষরিত অস্থায়ী যুদ্ধবিরতির মেয়াদ তিনি আর বাড়াতে আগ্রহী নন। এর বদলে একটি বড় ধরনের সমঝোতা চুক্তির মাধ্যমে দুদেশের মধ্যকার যাবতীয় সমস্যার স্থায়ী সমাধান নিশ্চিত করতে চায় ওয়াশিংটন।প্রেসিডেন্টের সুরেই সুর মিলিয়েছেন মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভান্স। তিনি জানান, যুক্তরাষ্ট্র কেবল সীমিত পরিসরের কোনো চুক্তিতে আটকে থাকতে চায় না। বিশেষ করে ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি এবং মধ্যপ্রাচ্যে দেশটির আঞ্চলিক ভূমিকার মতো স্পর্শকাতর বিষয়গুলো নিয়ে একটি বিস্তৃত ও শক্ত সমাধান চায় হোয়াইট হাউস। তবে ভান্স স্বীকার করেছেন যে, দুই দেশের মধ্যে দীর্ঘদিনের সঞ্চিত অবিশ্বাসের পাহাড় ডিঙিয়ে এমন একটি চুক্তিতে পৌঁছানো বেশ সময়সাপেক্ষ কাজ।চলমান এই উত্তেজনার মধ্যেই গত ১২ এপ্রিল পাকিস্তানে অনুষ্ঠিত যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের উচ্চপর্যায়ের বৈঠকটি কোনো সুনির্দিষ্ট সিদ্ধান্ত ছাড়াই শেষ হয়। আলোচনার টেবিলে কোনো সমঝোতা না আসায় ক্ষুব্ধ যুক্তরাষ্ট্র ইরানের বন্দরগুলোতে কঠোর নৌ অবরোধ আরোপ করে। ওয়াশিংটনের এই পদক্ষেপের ফলে পারস্য উপসাগরীয় অঞ্চলে পরিস্থিতি নতুন করে উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে এবং সংঘাতের আশঙ্কা আরও তীব্র হয়েছে।ইরানি কর্মকর্তাদের পক্ষ থেকে অবশ্য আলোচনায় বসার কিছুটা ইতিবাচক ইঙ্গিত পাওয়া গেছে। তবে বিদ্যমান সামরিক ও কূটনৈতিক চাপ কতটুকু প্রশমিত হয়, সেটাই এখন দেখার বিষয়। মার্কিন প্রশাসনের কঠোর অবস্থান এবং ইরানের পাল্টা কৌশলের কারণে মধ্যপ্রাচ্যের রাজনৈতিক সমীকরণ এখন অত্যন্ত জটিল মোড়ে দাঁড়িয়ে আছে।বিশ্লেষকদের মতে, বর্তমান অস্থায়ী যুদ্ধবিরতির মেয়াদ শেষ হওয়ার আগেই যদি বড় কোনো কূটনৈতিক অগ্রগতি না ঘটে, তবে অঞ্চলটি আবারও বড় ধরনের সশস্ত্র সংঘাতের মুখে পড়তে পারে। বিশ্ব সম্প্রদায়ের নজর এখন ওয়াশিংটন ও তেহরানের পরবর্তী পদক্ষেপের দিকে, কারণ এই চুক্তির ওপরই নির্ভর করছে মধ্যপ্রাচ্যের দীর্ঘমেয়াদী স্থিতিশীলতা।/টিএ

এপ্রিল ১৫, ২০২৬

তেহরানের সঙ্গে ফের আলোচনায় বসতে চায় যুক্তরাষ্ট্র

পাকিস্তানের রাজধানী ইসলামাবাদে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যকার সাম্প্রতিক বৈঠকটি সফল না হলেও, পুনরায় আলোচনায় বসার ইঙ্গিত পাওয়া গেছে। দুই দেশের মধ্যে বিদ্যমান উত্তেজনা নিরসনে আবারও কূটনৈতিক তৎপরতা শুরু হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। তবে এবারের আলোচনার টেবিল প্রস্তুত করার আগে তেহরানের সামনে দুটি কঠোর শর্ত জুড়ে দিয়েছে ওয়াশিংটন। ইসরায়েলি এক গণমাধ্যমের সাম্প্রতিক প্রতিবেদনে এই চাঞ্চল্যকর তথ্য উঠে এসেছে।মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প জানিয়েছেন, আগামী দুই দিনের মধ্যেই ইরানের সঙ্গে নতুন করে আলোচনা শুরু হতে পারে। ট্রাম্পের দাবি অনুযায়ী, বর্তমান পরিস্থিতিতে ইতিবাচক সাড়া পাওয়া গেছে এবং বেশ কিছু পক্ষ একটি কার্যকর সমঝোতায় পৌঁছাতে গভীর আগ্রহ প্রকাশ করেছে। ওয়াশিংটন এই আলোচনাকে মধ্যপ্রাচ্যের স্থিতিশীলতার জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে দেখছে।মার্কিন প্রশাসনের দেওয়া প্রথম শর্তটি মূলত কৌশলগত জলপথ হরমুজ প্রণালি কেন্দ্রিক। কূটনৈতিক সূত্রের বরাত দিয়ে প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, আলোচনা শুরুর আগে যুক্তরাষ্ট্র চায় হরমুজ প্রণালি দিয়ে যেন সব ধরনের জাহাজ চলাচল সম্পূর্ণভাবে ও বাধাহীনভাবে নিশ্চিত করা হয়। ওয়াশিংটন ‘পারস্পরিকতা’ নীতির কথা উল্লেখ করে সতর্ক করেছে যে, ইরান যদি এই জলপথে জাহাজ চলাচলে কোনো বিঘ্ন ঘটায়, তবে পাল্টা ব্যবস্থা হিসেবে ইরানি বাণিজ্যিক জাহাজের ওপরও কঠোর বিধিনিষেধ আরোপ করা হবে।দ্বিতীয় শর্তটি আলোচনার স্থায়িত্ব ও কার্যকারিতা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে দেওয়া হয়েছে। ওয়াশিংটন স্পষ্ট করেছে যে, আলোচনায় অংশ নেওয়া ইরানি প্রতিনিধি দলের অবশ্যই ইসলামিক রেভ্যুলশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি)-এর পূর্ণ অনুমোদন থাকতে হবে। মূলত যেকোনো সম্ভাব্য চুক্তি যেন দ্রুত এবং সর্বোচ্চ পর্যায়ের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী চূড়ান্ত করা যায়, তা নিশ্চিত করতেই এই শর্তারোপ করা হয়েছে।যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে শর্তের বিষয়টি প্রকাশ্যে এলেও এখন পর্যন্ত ইরানের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি। তেহরান এই শর্ত মেনে আলোচনায় বসবে নাকি নিজস্ব কোনো পাল্টা দাবি উত্থাপন করবে, তা নিয়ে আন্তর্জাতিক মহলে জল্পনা চলছে। সামনের কয়েক দিন মধ্যপ্রাচ্যের রাজনীতির মোড় পরিবর্তনে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।

এপ্রিল ১৫, ২০২৬

ইরানের বন্দর ঘিরে মার্কিন অবরোধ, বাড়ছে উত্তেজনা

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ঘোষিত সময় অনুযায়ী ইরানের সব বন্দর ঘিরে যুক্তরাষ্ট্রের অবরোধ কার্যকর হয়েছে। মার্কিন সামরিক বাহিনীর সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) জানিয়েছে, এই অবরোধের আওতাভুক্ত জলসীমায় প্রবেশকারী যেকোনো জাহাজকে থামানো, পথ পরিবর্তনে বাধ্য করা কিংবা প্রয়োজনে জব্দ করা হতে পারে। ফলে আন্তর্জাতিক নৌ চলাচলে নতুন করে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে।ওয়াশিংটনের স্থানীয় সময় সকাল ১০টা (বাংলাদেশ সময় রাত ৮টা) থেকে এই অবরোধ কার্যকর হয়। ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম দ্য গার্ডিয়ান জানায়, অবরোধ শুরুর আগেই নাবিক এবং যুক্তরাজ্যের মেরিটাইম ট্রেড অপারেশনস সংস্থাকে সতর্ক করা হয়েছিল। সতর্কবার্তায় বলা হয়, পতাকা নির্বিশেষে সব ধরনের জাহাজ চলাচলের ওপর এই নিষেধাজ্ঞা প্রযোজ্য হবে।তবে যুক্তরাজ্যের মেরিটাইম ট্রেড অপারেশনস সংস্থা জানিয়েছে, ইরানের বাইরে গন্তব্যে যাওয়ার জন্য হরমুজ প্রণালি দিয়ে সাধারণ ট্রানজিট প্যাসেজ সরাসরি বাধাগ্রস্ত হওয়ার কথা নয়। একই সঙ্গে তারা সতর্ক করে বলেছে, ওই অঞ্চলে প্রবেশকারী জাহাজগুলো সামরিক উপস্থিতির কারণে ঝুঁকির মুখে পড়তে পারে।এর আগে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প মন্তব্য করেন, ইরান আলোচনায় ফিরুক বা না ফিরুক, এতে তাঁর কোনো সমস্যা নেই। ফ্লোরিডা থেকে ফেরার পর মেরিল্যান্ডের জয়েন্ট বেস অ্যান্ড্রুজে সাংবাদিকদের তিনি বলেন, ইরান আলোচনায় না ফিরলেও যুক্তরাষ্ট্রের অবস্থানে কোনো পরিবর্তন আসবে না।এদিকে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে চলমান আলোচনা কোনো চুক্তিতে পৌঁছাতে ব্যর্থ হওয়ার পর পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে ওঠে। ইসলামাবাদে অনুষ্ঠিত ওই বৈঠকটি ছিল এক দশকেরও বেশি সময় পর প্রথম সরাসরি আলোচনা এবং ১৯৭৯ সালের ইসলামী বিপ্লবের পর সর্বোচ্চ পর্যায়ের সংলাপ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছিল। ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি দাবি করেন, দুই দেশ একটি চুক্তির খুব কাছাকাছি পৌঁছেছিল, তবে শেষ পর্যন্ত সমঝোতা হয়নি। সূত্র: আল–জাজিরা/টিএ

এপ্রিল ১৩, ২০২৬

ইরানে ফের বিমান হামলার কথা ভাবছেন ট্রাম্প

ইরানে আবারও বিমান হামলা চালানোর বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করছে ট্রাম্প প্রশাসন। প্রভাবশালী মার্কিন সংবাদমাধ্যম ওয়াল স্ট্রিট জার্নালের এক প্রতিবেদনে এই চাঞ্চল্যকর তথ্য উঠে এসেছে। মূলত পাকিস্তানে অনুষ্ঠিত সাম্প্রতিক আলোচনায় যুদ্ধের কোনো স্থায়ী সমাধান না আসায় যুক্তরাষ্ট্র পুনরায় সামরিক শক্তির পথে হাঁটার এই পরিকল্পনা করছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।ওয়াল স্ট্রিট জার্নালের প্রতিবেদনে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক মার্কিন কর্মকর্তাদের উদ্ধৃতি দিয়ে জানানো হয়েছে যে, প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প কেবল বিমান হামলা নয়, বরং আরও কিছু কঠোর পদক্ষেপের ছক কষছেন। এর মধ্যে অন্যতম হলো পারস্য উপসাগরের কৌশলগত গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্ট ‘হরমুজ প্রণালী’ সম্পূর্ণ অবরোধ করা। উল্লেখ্য, গত রবিবারই ট্রাম্প আনুষ্ঠানিকভাবে এই অবরোধের ঘোষণা দিয়েছেন।এই সংঘাতময় পরিস্থিতির বিষয়ে হোয়াইট হাউসের পক্ষ থেকে প্রতিক্রিয়া চাওয়া হলে জানানো হয়, ইরানের ক্ষেত্রে সব ধরনের বিকল্পই এখন পর্যন্ত খোলা রাখা হয়েছে। মার্কিন প্রশাসন এই মুহূর্তে কোনো নির্দিষ্ট সিদ্ধান্তকে চূড়ান্ত না বললেও সামরিক পদক্ষেপের সম্ভাবনাকে একেবারে উড়িয়ে দিচ্ছে না, যা মধ্যপ্রাচ্যের অস্থিতিশীলতাকে আরও উসকে দিতে পারে বলে বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন।হোয়াইট হাউসের মুখপাত্র অলিভিয়া ওয়েলস এক বিবৃতিতে বলেন, “প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প ইতোমধ্যে হরমুজ প্রণালীতে নৌ অবরোধের নির্দেশ দিয়েছেন, যার মূল লক্ষ্য ইরানের তথাকথিত ‘চাঁদাবাজি’ বন্ধ করা। একই সঙ্গে তিনি অত্যন্ত বিচক্ষণতার সঙ্গে অন্যান্য সব অতিরিক্ত বিকল্পের পথও খোলা রেখেছেন।” তার এই বক্তব্যে স্পষ্ট যে, যুক্তরাষ্ট্র এখন ইরানের ওপর সর্বোচ্চ চাপ প্রয়োগের নীতি গ্রহণ করছে।গণমাধ্যমে প্রকাশিত তথ্যগুলোকে কিছুটা ‘অনুমান’ হিসেবে আখ্যা দিয়ে ওয়েলস আরও যোগ করেন, “কে কী বলছে বা সংবাদমাধ্যমকে কে কী তথ্য দিচ্ছে, এগুলো কেবলই ধারণা। প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প পরবর্তীতে আসলে কী পদক্ষেপ নেবেন, তা এই মুহূর্তে নিশ্চিতভাবে কারও পক্ষেই জানা সম্ভব নয়।” ফলে বিশ্ব রাজনীতির নজর এখন হোয়াইট হাউসের পরবর্তী দাপ্তরিক আদেশের দিকে।/টিএ

এপ্রিল ১৩, ২০২৬

নাইজেরিয়ায় বাজারে ভয়াবহ বিমান হামলা, ২০০ জনের বেশি নিহতের শঙ্কা

নাইজেরিয়ার বোর্নো রাজ্যের সীমান্তবর্তী ইয়োবোর একটি বাজারে বিমান হামলা চালিয়েছে দেশটির বিমানবাহিনী। এতে ২০০ জনের বেশি মানুষ নিহত হয়েছেন বলে শঙ্কা করা হচ্ছে।সোমবার (১৩ এপ্রিল) সংবাদমাধ্যম রয়টার্স-এর এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানা গেছে।প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, শনিবার রাতে জিল্লি নামে ওই গ্রাম্য বাজারে দেশটির বিমান হামলা চালায়। এতে প্রায় দুইশ মানুষ নিহত হয়েছেন বলে জানিয়েছেন স্থানীয় বাসিন্দা ও এক কাউন্সিলর।প্রতিবেদনে নাইজেরিয়ার বিমানবাহিনীর বরাত দিয়ে জানানো হয়েছে, তারা জঙ্গিগোষ্ঠী বোকো হারামের যোদ্ধাদের টার্গেট করেছে। তবে বাজারে হামলার বিষয়টি বিমানবাহিনী উল্লেখ করেনি।যেখানে বিমান হামলার ঘটনা ঘটেছে সেখানে মিলিশিয়াদের ব্যাপক উপস্থিতি রয়েছে। এতে সেখানে প্রায়ই সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। এতে ওই অঞ্চলে হাজার হাজার মানুষের মৃত্যু হয়েছে।বোর্নোর সীমান্তবর্তী ইয়োবোর গেইদাম বিভাগের ফুচিমেরাম প্রধান ও কাউন্সিলর লাওয়ান জান্না নুর বলেছেন, ‘আহতদের ইয়োবো ও বোর্নোতে চিকিৎসার জন্য নিয়ে যাওয়া হয়েছে।তিনি বলেন, ‘জিল্লি বাজারে একটি খুবই বিপর্যয়কর একটি ঘটনা। বাজারে বিমান হামলায় ২০০ জনের বেশি মানুষ তাদের প্রাণ হারিয়েছেন।’/টিএ 

এপ্রিল ১৩, ২০২৬

আলোচনা ব্যর্থ, আবারো কি যুদ্ধ শুরু করবেন ট্রাম্প

যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে চলমান উত্তেজনা নিরসনে পাকিস্তানের ইসলামাবাদে অনুষ্ঠিত উচ্চপর্যায়ের শান্তি আলোচনা কোনো ফলাফল ছাড়াই শেষ হয়েছে। দীর্ঘ ২১ ঘণ্টার রুদ্ধশ্বাস বৈঠকের পর কোনো পক্ষই সমঝোতায় পৌঁছাতে পারেনি। ফলে কোনো চুক্তি ছাড়াই ইসলামাবাদ ত্যাগ করেছেন মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স। এই ব্যর্থতার মধ্য দিয়ে দুই দেশের বৈরী সম্পর্ক এক নতুন অনিশ্চয়তার মুখে পড়ল।নিউইয়র্ক টাইমসের প্রতিবেদন অনুযায়ী, এই আলোচনা ব্যর্থ হওয়ায় ট্রাম্প প্রশাসনের সামনে এখন মাত্র তিনটি পথ খোলা আছে। প্রথমত, ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে দীর্ঘমেয়াদি দরকষাকষি চালিয়ে যাওয়া। দ্বিতীয়ত, স্থগিত হওয়া যুদ্ধ পুনরায় শুরু করা—যা ইতিমধ্যে বিশ্বজুড়ে জ্বালানি সংকট তৈরি করেছে। আর তৃতীয় পথটি হলো কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালির নিয়ন্ত্রণ নিয়ে দীর্ঘস্থায়ী লড়াইয়ে জড়িয়ে পড়া।আলোচনা শেষে ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স সাফ জানিয়ে দিয়েছেন, যুক্তরাষ্ট্র তাদের 'রেডলাইন' বা চূড়ান্ত সীমার বিষয়ে অনড় ছিল। তিনি বলেন, "আমরা স্পষ্ট করেছি কোন কোন জায়গায় আমরা ছাড় দেব, কিন্তু ইরান আমাদের শর্ত মানতে রাজি হয়নি।" অন্যদিকে হোয়াইট হাউস জানিয়েছে, পরবর্তী পদক্ষেপের বিষয়ে খোদ প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প ফ্লোরিডা থেকে ঘোষণা দেবেন। তবে মার্কিন বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফের মতে, ইরানের উচিত ছিল সহজভাবে আত্মসমর্পণ করা, যা তেহরান প্রত্যাখ্যান করেছে।এই সংকটের মূলে রয়েছে ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ নিয়ে দীর্ঘদিনের বিরোধ। ইরান এনপিটি (NPT) চুক্তির দোহাই দিয়ে নিজেদের মাটিতে ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণকে অধিকার হিসেবে দাবি করছে। বিপরীতে যুক্তরাষ্ট্রের দাবি, এই সুযোগ বজায় রেখে ইরান আসলে পারমাণবিক অস্ত্র তৈরির পথ খোলা রাখতে চায়। গত ৪০ দিনের রক্তক্ষয়ী যুদ্ধ দুই পক্ষের এই অবস্থানকে নমনীয় করার পরিবর্তে আরও কঠোর ও জেদি করে তুলেছে।আগামী ২১ এপ্রিল যুদ্ধবিরতির মেয়াদ শেষ হতে চলায় বিশ্ববাজারে এখন চরম উদ্বেগ বিরাজ করছে। বিশ্বের মোট তেলের ২০ শতাংশ হরমুজ প্রণালি দিয়ে পরিবাহিত হয়, তাই যুদ্ধ পুনরায় শুরু হলে বৈশ্বিক মূল্যস্ফীতি ও জ্বালানি সংকট নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যেতে পারে। তবে ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, তাদের ওপর চাপ প্রয়োগ করে অধিকার থেকে বিচ্যুত করা যাবে না। বর্তমানে দুই পক্ষই নিজেদের অবস্থানে অনড় থাকায় মধ্যপ্রাচ্যের পরিস্থিতি এক ভয়াবহ মোড়ের দিকে এগোচ্ছে।/টিএ

এপ্রিল ১২, ২০২৬

শেষ হয়েছে যুক্তরাষ্ট্র-ইরানের প্রথম দফার আলোচনা

যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে প্রথম দফার আলোচনা শেষ হয়েছে। আড়াই ঘণ্টার এই আলোচনায় পাকিস্তানি মধ্যস্থতাকারীরাও উপস্থিত ছিলেন। আজ শনিবার (১১ এপ্রিল) পাকিস্তানের রাজধানী ইসলামাবাদে এই আলোচনা শুরু হয়।পাকিস্তানের দুজন সরকারি কর্মকর্তা বিবিসি উর্দুকে নিশ্চিত করেছেন, আলোচনা ইতিবাচক পরিবেশে অনুষ্ঠিত হয়েছে। এখন দুই দেশের প্রতিনিধিরা পাকিস্তানের আমন্ত্রণে নৈশভোজে অংশ নেবেন।একটি সূত্র অনুযায়ী, একটি সংক্ষিপ্ত বিরতির পর ত্রিপক্ষীয় আলোচনা রোববার পাকিস্তানের স্থানীয় সকাল ৮টা থেকে সাড়ে ৮টার মধ্যে পুনরায় শুরু হবে।আল–জাজিরা বলছে, রুদ্ধদ্বার বৈঠক হয়েছে। ধীরে ধীরে তথ্য আসছে কিন্তু তা তাৎক্ষণিকভাবে যাচাই করা খুব কঠিন। আরও অপেক্ষা করতে হবে কী ঘটে। সরাসরি আলোচনা প্রায় দুই ঘণ্টা চলে। এরপর নৈশভোজের বিরতি দেওয়া হয়েছে। আবার এই আলোচনা শুরু হবে। তবে ঠিক কখন তা শুরু হবে তা নিশ্চিত করতে পারেননি আল-জাজিরার প্রতিনিধি।এদিকে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ৮ এপ্রিল ঘোষণা দেন, পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ ও ফিল্ড মার্শাল আসিম মুনিরের সঙ্গে তার কথোপকথনের ভিত্তিতে তিনি ইরানের ওপর বোমা হামলা ও আক্রমণ দুই সপ্তাহের জন্য স্থগিত করছেন।এ প্রেক্ষাপটে শাহবাজ শরিফ এক বার্তায় লেখেন, গভীর বিনয়ের সঙ্গে আমি আনন্দের সংবাদ জানাচ্ছি যে, ইরান ও যুক্তরাষ্ট্র তাদের তাৎক্ষণিক যুদ্ধবিরতিতে সম্মত হয়েছে।আলোচনার জন্য ১০ দফা প্রস্তাব দিয়েছে ইরান। এ প্রস্তাবের বিষয়গুলো নিয়েই প্রাথমিক আলোচনা হওয়ার সম্ভাবনা সবচেয়ে বেশি।/টিএ

এপ্রিল ১১, ২০২৬

ইসলামাবাদে ইরান-যুক্তরাষ্ট্র শান্তি আলোচনা শুরু

পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে চলমান অস্থায়ী যুদ্ধবিরতির প্রেক্ষাপটে ইসলামাবাদে উচ্চপর্যায়ের আলোচনা শুরু হয়েছে বলে জানিয়েছে ইরানের সংবাদ সংস্থা তাসনিম নিউজ এজেন্সি।প্রতিবেদনে বলা হয়, ৪০ দিনের যুক্তরাষ্ট্র–ইসরায়েল সামরিক উত্তেজনার পর যুদ্ধবিরতির সময় এই আলোচনা শুরু করা হয়। ইসলামাবাদের ঘনিষ্ঠ কূটনৈতিক পরামর্শ ও সমন্বয়ের ফলে আলোচনার পথ সুগম হয়েছে।তাসনিমের ইসলামাবাদ প্রতিনিধি জানিয়েছেন, আলোচনার অগ্রগতির অংশ হিসেবে-লেবানন থেকে দক্ষিণ লেবানন পর্যন্ত ইসরায়েলি হামলা কিছুটা কমেছে যা যুদ্ধবিরতির বাস্তবায়নে একটি গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি হিসেবে দেখা হচ্ছে।যুক্তরাষ্ট্র ইরানের জব্দকৃত সম্পদ মুক্ত করতে সম্মত হয়েছে বলে দাবি করা হয়েছে। এ বিষয়ে আরও প্রযুক্তিগত ও বিশেষজ্ঞ পর্যায়ের আলোচনা প্রয়োজন।ইরান বলেছে-লেবাননে যুদ্ধবিরতি এখনো পুরোপুরি কার্যকর হয়নি, চুক্তি মানতে ইসরায়েলকে বাধ্য করতে হবে মার্কিন প্রশাসনের।পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় এই বিষয়টি জোরালোভাবে তোলা হয়েছে। অতীতের অভিজ্ঞতার কারণে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতি গভীর সন্দেহ বজায় রেখেই আলোচনায় অংশ নিচ্ছে তেহরান।/টিএ  

এপ্রিল ১১, ২০২৬

ইরানকে শক্তিশালী ক্ষেপনাস্ত্র দিচ্ছে চীন

নিউজ ডেস্ক:যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে চলমান ভঙ্গুর যুদ্ধবিরতির মাঝেই নতুন উত্তেজনার খবর পাওয়া গেছে। মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থার তথ্যমতে, আগামী কয়েক সপ্তাহের মধ্যে ইরানকে অত্যাধুনিক আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা সরবরাহ করার প্রস্তুতি নিচ্ছে চীন। শনিবার মার্কিন সংবাদমাধ্যম সিএনএন-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে গোয়েন্দা মূল্যায়নের সঙ্গে পরিচিত তিনজন ব্যক্তি এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন। বেইজিংয়ের এই পদক্ষেপকে ‘চরম উসকানিমূলক’ হিসেবে দেখা হচ্ছে, কারণ চলতি সপ্তাহের শুরুতেই চীন নিজেদের ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যকার মধ্যস্থতাকারী হিসেবে দাবি করেছিল।গোয়েন্দা সূত্রের দাবি, চীন মূলত কাঁধে বহনযোগ্য আকাশ প্রতিরক্ষা ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবস্থা বা ‘ম্যানপ্যাডস’ পাঠানোর পরিকল্পনা করছে। পাঁচ সপ্তাহের রক্তক্ষয়ী যুদ্ধে এই অস্ত্রগুলো নিচ দিয়ে ওড়া মার্কিন সামরিক বিমানের জন্য সবচেয়ে বড় হুমকি হিসেবে প্রমাণিত হয়েছিল। ধারণা করা হচ্ছে, ইরান এই যুদ্ধবিরতির সুযোগ কাজে লাগিয়ে বিদেশি মিত্রদের সহায়তায় তাদের সামরিক সক্ষমতা ও অস্ত্রভাণ্ডার নতুন করে সমৃদ্ধ করার চেষ্টা চালাচ্ছে।মার্কিন গোয়েন্দারা আরও জানিয়েছেন যে, চীন সরাসরি নয় বরং তৃতীয় কোনো দেশের মাধ্যমে এসব অস্ত্র পাঠানোর চেষ্টা করছে যাতে প্রকৃত উৎস গোপন রাখা যায়। গত সোমবার এক সংবাদ সম্মেলনে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পও ইঙ্গিত দিয়েছিলেন যে, সম্প্রতি ইরানের আকাশে ভূপাতিত হওয়া মার্কিন এফ-১৫ যুদ্ধবিমানটি সম্ভবত কোনো তাপ-নির্দেশিত ক্ষেপণাস্ত্র দ্বারা আঘাতপ্রাপ্ত হয়েছিল। এই ঘটনাটি অস্ত্র সরবরাহের বিষয়ে মার্কিন সন্দেহকে আরও জোরালো করেছে।তবে ওয়াশিংটনে চীনা দূতাবাসের মুখপাত্র এই অভিযোগ কঠোরভাবে অস্বীকার করেছেন। এক বিবৃতিতে তিনি জানান, চীন কখনোই সংঘাতের কোনো পক্ষকে অস্ত্র সরবরাহ করেনি এবং মার্কিন অভিযোগগুলোকে ‘ভিত্তিহীন ও অতিরঞ্জিত প্রচারণা’ হিসেবে আখ্যা দেন। চীনের দাবি, তারা একটি দায়িত্বশীল দেশ হিসেবে আন্তর্জাতিক আইন মেনে চলছে এবং যুক্তরাষ্ট্রকে এই ধরণের অপপ্রচার থেকে বিরত থাকার আহ্বান জানিয়েছে।বিশ্লেষকদের মতে, সরাসরি যুদ্ধে না জড়ালেও ইরানকে সহায়তার মাধ্যমে মধ্যপ্রাচ্যে নিজেদের প্রভাব বজায় রাখতে চায় বেইজিং। বিশেষ করে ইরানের তেলের ওপর চীনের ব্যাপক নির্ভরশীলতা এই সম্পর্কের অন্যতম কারণ। অন্যদিকে, ইউক্রেন যুদ্ধে রাশিয়াকে ইরানের ড্রোন সরবরাহ এবং বর্তমানে রাশিয়া-চীনের সঙ্গে তেহরানের ক্রমবর্ধমান সামরিক ঘনিষ্ঠতা মার্কিন প্রশাসনের জন্য নতুন মাথাব্যথার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।/টিএ

এপ্রিল ১১, ২০২৬

এবার ইরানের দ্বারস্থ সৌদি, দুই পররাষ্ট্রমন্ত্রীর ফোনালাপ

মধ্যপ্রাচ্যের উত্তপ্ত পরিস্থিতিতে শান্তি ও স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনতে দীর্ঘদিনের শীতল সম্পর্ক ঝেড়ে ফেলে এবার ইরানের দ্বারস্থ হয়েছে সৌদি আরব। বর্তমান অস্থিরতা নিরসনে প্রথমবারের মতো টেলিফোনে আলাপ করেছেন সৌদি পররাষ্ট্রমন্ত্রী প্রিন্স ফয়সাল বিন ফারহান আল সৌদ এবং ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি। বৃহস্পতিবার সৌদি পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক আনুষ্ঠানিক বিবৃতিতে এই তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে।সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম এক্স-এ (সাবেক টুইটার) শেয়ার করা ওই বিবৃতিতে জানানো হয়, দুই দেশের শীর্ষ কূটনীতিকরা মধ্যপ্রাচ্যের বর্তমান পরিস্থিতির সর্বশেষ অবস্থা নিয়ে বিস্তারিত পর্যালোচনা করেছেন। বিশেষ করে সাম্প্রতিক সংঘাতের পর এই অঞ্চলে যে মানবিক ও নিরাপত্তা ঝুঁকি তৈরি হয়েছে, তা নিয়ে দুই নেতার মধ্যে গভীর আলোচনা হয়েছে বলে জানা গেছে।আলোচনার মূল কেন্দ্রবিন্দুতে ছিল আঞ্চলিক নিরাপত্তা এবং স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনার বিষয়টি। দীর্ঘদিনের বৈরিতা কাটিয়ে কীভাবে এই অঞ্চলের ক্রমবর্ধমান উত্তেজনা প্রশমন করা যায়, সেই উপায়গুলো খুঁজে বের করতে উভয় পক্ষই গুরুত্বারোপ করেছেন। এই ফোনালাপকে মধ্যপ্রাচ্যের ভূ-রাজনীতিতে বড় ধরনের মোড় ঘোরানোর চেষ্টা হিসেবে দেখছেন বিশ্লেষকরা।উল্লেখ্য, সাম্প্রতিক যুদ্ধ পরিস্থিতি এবং পারস্য উপসাগরের দক্ষিণাঞ্চলীয় দেশগুলোতে ইরানের হামলার পর দুই দেশের মধ্যে এটিই প্রথম আনুষ্ঠানিক যোগাযোগ। দীর্ঘদিনের কূটনৈতিক অচলাবস্থার পর এই ফোনালাপ দুই শক্তিশালী প্রতিবেশী রাষ্ট্রের মধ্যে পুনরায় সংলাপে ফেরার ইঙ্গিত দিচ্ছে।কূটনৈতিক সূত্রগুলো বলছে, এই ফোনালাপ কেবল একটি সৌজন্য বিনিময় নয়, বরং মধ্যপ্রাচ্যে একটি টেকসই শান্তি প্রক্রিয়া শুরুর প্রাথমিক ধাপ। চরম উত্তেজনার এই সময়ে সৌদি আরব ও ইরানের এই নতুন উদ্যোগ পুরো অঞ্চলের নিরাপত্তা সমীকরণে নতুন প্রাণের সঞ্চার করবে বলে আশা করা হচ্ছে।টিএ

এপ্রিল ০৯, ২০২৬

যুক্তরাষ্ট্রকে কড়া সতর্কবার্তা দিলো ইরান

লেবাননে ইসরায়েলের বিধ্বংসী ও আগ্রাসী হামলার পর যুক্তরাষ্ট্রকে কঠোর সতর্কবার্তা দিয়েছেন ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী সৈয়দ আব্বাস আরাগচি। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম এক্সে (X) দেওয়া এক বার্তায় তিনি সাফ জানিয়েছেন, যুক্তরাষ্ট্রকে এখন হয় ইরানের সঙ্গে যুদ্ধবিরতি বজায় রাখা, অথবা ইসরায়েলের পক্ষে যুদ্ধ করা—এই দুটির মধ্যে একটি বেছে নিতে হবে। আরাগচি স্পষ্টভাবে বলেছেন যে, "এই দু’টো বিষয় একসঙ্গে চলতে পারে না" এবং বর্তমান পরিস্থিতিতে বল এখন যুক্তরাষ্ট্রের কোর্টেই রয়েছে।আশ্চর্যের বিষয় হলো, গত ৭ এপ্রিল যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে ১৫ দিনের একটি অস্থায়ী যুদ্ধবিরতি ঘোষিত হয়েছিল। যখন এই বিরতিকে স্থায়ী রূপ দেওয়ার কূটনৈতিক প্রচেষ্টা চলছিল, ঠিক তখনই বুধবার লেবাননজুড়ে ১০০টিরও বেশি বিমান হামলা চালায় ইসরায়েলি বিমানবাহিনী। মাত্র ১০ মিনিটের এই ঝটিকা অভিযানে ৫০টি যুদ্ধবিমান অংশ নেয়, যার লক্ষ্য ছিল মূলত ঘনবসতিপূর্ণ এলাকাগুলো। এই হামলাকে ইরানের পক্ষ থেকে বিদ্যমান চুক্তির সরাসরি লঙ্ঘন হিসেবে দেখা হচ্ছে।ইসরায়েলি প্রতিরক্ষা বাহিনীর (আইডিএফ) এই অতর্কিত হামলায় লেবাননজুড়ে এক ভয়াবহ মানবিক বিপর্যয় তৈরি হয়েছে। সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, নিহতের সংখ্যা ২৫৪ ছাড়িয়েছে এবং আহত হয়েছেন ১,১০০ জনেরও বেশি মানুষ। বৈরুতসহ বিভিন্ন শহরের হাসপাতালগুলো আহতদের ভিড়ে হিমশিম খাচ্ছে। লেবাননের ফায়ার সার্ভিসের উদ্ধারকারী বাহিনী জানিয়েছে, ধ্বংসস্তূপের নিচে আরও অনেকে আটকা পড়ে থাকায় প্রাণহানির সংখ্যা আরও বৃদ্ধির আশঙ্কা করা হচ্ছে।এই সংঘাতের মূলে রয়েছে গত বছরের সেপ্টেম্বর থেকে শুরু হওয়া ইসরায়েলি অভিযান, যার লক্ষ্য ছিল ইরান সমর্থিত সশস্ত্র গোষ্ঠী হিজবুল্লাহকে দমন করা। যদিও ২০২৫ সালের অক্টোবরে আন্তর্জাতিক চাপে একটি চুক্তি হয়েছিল, কিন্তু ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারিতে ইরান-যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল সরাসরি যুদ্ধে জড়িয়ে পড়লে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যায়। মার্চ মাস থেকে লেবাননে বিমান হামলার পাশাপাশি স্থল অভিযানও শুরু করে ইসরায়েল, যা বর্তমান উত্তজনাকে চরম পর্যায়ে নিয়ে গেছে।ইরানের আধাসরকারি সংবাদমাধ্যম তাসনিম নিউজ জানিয়েছে, ইসরায়েল যদি লেবাননে তাদের এই বর্বরোচিত হামলা অব্যাহত রাখে, তবে ইরান যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে হওয়া সাম্প্রতিক যুদ্ধবিরতি চুক্তি থেকে বেরিয়ে যেতে পারে। বিশ্লেষকরা মনে করছেন, যুক্তরাষ্ট্র যদি ইসরায়েলকে নিয়ন্ত্রণে ব্যর্থ হয়, তবে এই আঞ্চলিক যুদ্ধ আরও ভয়াবহ রূপ নিতে পারে। বিশ্ব এখন অধীর আগ্রহে তাকিয়ে আছে, যুক্তরাষ্ট্র তাদের শান্তি বজায় রাখার প্রতিশ্রুতি রক্ষা করে কি না তা দেখার জন্য।/টিএ

এপ্রিল ০৯, ২০২৬

‘বিজয়’ ঘোষণা করে যুদ্ধবিরতি মেনে নিল ইরান

 দীর্ঘদিনের চরম উত্তেজনার পর অবশেষে পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে দুই সপ্তাহের সাময়িক যুদ্ধবিরতি চুক্তিতে আনুষ্ঠানিকভাবে অনুমোদন দিয়েছে ইরান। এই সমঝোতাটি বিশেষ গুরুত্ব পাচ্ছে কারণ এতে ইরানের নতুন সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ মোজতবা খামেনির সরাসরি সম্মতি রয়েছে। দেশটির সর্বোচ্চ নীতিনির্ধারণী সংস্থা ‘সুপ্রিম ন্যাশনাল সিকিউরিটি কাউন্সিল’ এক বিবৃতিতে এই খবরের সত্যতা নিশ্চিত করে ঐতিহাসিক এই পদক্ষেপের ঘোষণা দিয়েছে।ইরানের অবস্থান ও ‘বিজয়’ দাবি ইরানের মেহর নিউজ এজেন্সিতে প্রকাশিত এক বিবৃতিতে এই সাময়িক যুদ্ধবিরতিকে তেহরানের পক্ষ থেকে ‘বিজয়’ হিসেবে অভিহিত করা হয়েছে। তবে সুপ্রিম কাউন্সিল স্পষ্ট করে জানিয়েছে যে, এটি যুদ্ধের চূড়ান্ত সমাপ্তি নয়। বরং তারা একে একটি স্থায়ী ও সম্মানজনক সমাধানের দিকে প্রাথমিক পদক্ষেপ হিসেবে দেখছে। বিবৃতিতে উল্লেখ করা হয়, ইরান তার জাতীয় স্বার্থ রক্ষা করেই এই আলোচনায় অংশ নিতে রাজি হয়েছে।পাকিস্তানের সক্রিয় মধ্যস্থতা ও কূটনৈতিক সাফল্য এই পুরো সমঝোতা প্রক্রিয়ার নেপথ্যে মূল কারিগর হিসেবে কাজ করেছে পাকিস্তান। প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরিফ এবং ফিল্ড মার্শাল আসিম মুনিরের নিরলস প্রচেষ্টায় ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যে এই অস্থায়ী বোঝাপড়া গড়ে উঠেছে। ইরানের পক্ষ থেকে পাকিস্তানের এই অভাবনীয় কূটনৈতিক ভূমিকার ভূয়সী প্রশংসা করা হয়েছে। মূলত ইসলামাবাদের সক্রিয় দূতিয়ালিই দুই পরমাণু শক্তি ও আঞ্চলিক পরাশক্তির মধ্যে সরাসরি সংঘাতের ঝুঁকি কমিয়ে এনেছে। ইসলামাবাদে শান্তি বৈঠক ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা চুক্তি অনুসারে, স্থায়ী যুদ্ধবিরতি ও দ্বিপাক্ষিক অন্যান্য সংকট নিরসনে বিস্তারিত আলোচনা শুরু হবে পাকিস্তানের রাজধানী ইসলামাবাদে। আগামী শুক্রবার (১০ এপ্রিল) থেকে এই বহুল প্রতিক্ষিত বৈঠক শুরু হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। সেখানে উভয় দেশের উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিরা মুখোমুখি বসে দীর্ঘমেয়াদি শান্তি প্রতিষ্ঠার রূপরেখা নিয়ে আলোচনা করবেন, যা পুরো মধ্যপ্রাচ্যের স্থিতিশীলতায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।বর্তমান পরিস্থিতি ও বিশ্ব বাজারে প্রভাব সম্প্রতি যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের ওপর বড় ধরনের হামলার হুমকি দিলেও পাকিস্তানের বিশেষ অনুরোধে তিনি তা দুই সপ্তাহের জন্য স্থগিত করেছেন। বিনিময়ে ইরান কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালীতে বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচলের নিরাপত্তা দিতে সম্মত হয়েছে। যদিও ইরান যুক্তরাষ্ট্রের ওপর পূর্ণ আস্থা রাখছে না বলে সতর্ক করেছে, তবুও এই পদক্ষেপ বিশ্ববাজারে তেলের সরবরাহ স্বাভাবিক রাখতে এবং বিশ্ব অর্থনীতিতে স্বস্তি ফিরিয়ে আনতে বড় ভূমিকা রাখবে বলে আশা করা হচ্ছে।/টিএ 

এপ্রিল ০৮, ২০২৬
footer small logo

যোগাযোগ :

এটিএন বাংলা, ওয়াসা ভবন, ২য় তলা, ৯৮ কাজী নজরুল ইসলাম এভিনিউ, কাওরান বাজার, ঢাকা-১২১৫, বাংলাদেশ

ফোনঃ +88-02-55011931

সোশ্যাল মিডিয়া

youtube logotwitter logofacebook logo

Design & Developed by:

developed-company-logo