logo
youtube logotwitter logofacebook logo
/লাইফস্টাইল
প্রতিদিন কতটুকু পানি পান করা প্রয়োজন - image

প্রতিদিন কতটুকু পানি পান করা প্রয়োজন

14 মে 2026, বিকাল 6:09

সারাদিন বারবার পানি পান করাকে অনেকেই সুস্বাস্থ্যের চাবিকাঠি মনে করেন। কিন্তু 'বেশি পানি মানেই বেশি সুস্থতা'—এই ধারণা সবসময় সঠিক নয়। প্রকৃতপক্ষে, শরীরের প্রয়োজন না বুঝে অতিরিক্ত পানি পান করা উপকারের চেয়ে ক্ষতিই বেশি করতে পারে। বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, প্রতিদিন আট গ্লাস পানি পান করার যে প্রচলিত নিয়ম আমরা জানি, তার পেছনে খুব একটা জোরালো বৈজ্ঞানিক ভিত্তি নেই।পানির চাহিদা ব্যক্তিভেদে ভিন্ন হওয়াটাই স্বাভাবিক। আপনার বয়স, শারীরিক গঠন, কাজের ধরন এবং আপনি কোন ধরনের আবহাওয়ায় থাকছেন, তার ওপর নির্ভর করে শরীরে পানির প্রয়োজনীয়তা। একজন অ্যাথলেট বা কঠোর পরিশ্রমী মানুষের শরীরে যে পরিমাণ পানির প্রয়োজন, একজন শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত ঘরে বসে কাজ করা মানুষের চাহিদা তার চেয়ে অনেক কম হবে। তাই নির্দিষ্ট কোনো সংখ্যা দিয়ে সবার পানির চাহিদাকে মাপা অসম্ভব।সাধারণভাবে একজন সুস্থ মানুষের জন্য দিনে গড়ে ১.৫ লিটার থেকে ১.৮ লিটার বা ৬ থেকে ৭ গ্লাস পানিই যথেষ্ট। তবে গর্ভবতী নারী, দুগ্ধদানকারী মা কিংবা যারা রোদে বা গরমে কঠোর পরিশ্রম করেন, তাদের ক্ষেত্রে এই পরিমাণ বাড়তে পারে। শরীর মূলত নিজেই তৃষ্ণার মাধ্যমে সংকেত দেয় যে কখন তার পানি প্রয়োজন। প্রাকৃতিক এই সংকেত উপেক্ষা করে জোরপূর্বক অতিরিক্ত পানি পান করলে রক্তে সোডিয়ামের ভারসাম্য নষ্ট হতে পারে, যা থেকে মাথা ঘোরা বা বমির মতো সমস্যা দেখা দেয়।পানির অভাব বা পানিশূন্যতা বোঝার কিছু সহজ উপায় রয়েছে। যদি প্রস্রাবের রঙ গাঢ় হলুদ হয়, মুখ শুকিয়ে আসে, ক্লান্তি বা বারবার মাথা ঘোরার মতো উপসর্গ দেখা দেয়, তবে বুঝতে হবে আপনার শরীর আরও পানি চাইছে। এসব লক্ষণ দেখা দিলে দ্রুত পানি পান করা জরুরি। তবে মনে রাখা প্রয়োজন, শরীর কেবল সরাসরি পানি থেকেই আর্দ্রতা পায় না; প্রতিদিনের খাবার তালিকায় থাকা ফলমূল, শাকসবজি, ডাবের পানি বা দুধ থেকেও শরীর প্রয়োজনীয় পানির বড় একটা অংশ সংগ্রহ করে।পরিশেষে, সুস্থ থাকার জন্য শরীরের চাহিদাকে গুরুত্ব দেওয়া সবচেয়ে বুদ্ধিমানের কাজ। অন্ধভাবে নিয়ম মেনে না চলে নিজের শরীর কী বলছে তা বোঝার চেষ্টা করুন। তৃষ্ণা পেলে পানি পান করুন এবং শরীর আর্দ্র রাখতে সুষম খাবার গ্রহণ করুন। মনে রাখবেন, পরিমিতি বোধই সুস্থ জীবনের মূলমন্ত্র, তা সেটি পানি পানের ক্ষেত্রেই হোক না কেন।/টিএ

মে ১৪, ২০২৬

অফিসে প্রেমের সম্পর্কে জড়াচ্ছেন ৬০ শতাংশেরও বেশি মানুষ

শহুরে ব্যস্ততায় এখন দিনের বড় একটা অংশ কাটে চার দেয়ালের অফিসে। সকালের ডেডলাইন সামলানো থেকে শুরু করে বিকেলের কফি বিরতি—এই দীর্ঘ সময় একসঙ্গে কাটাতে গিয়ে সহকর্মীদের মধ্যে তৈরি হচ্ছে এক অদৃশ্য সেতুবন্ধন। পেশাদার আলাপ ছাপিয়ে কখন যে একে অপরের প্রতি যত্ন বা ভালো লাগা তৈরি হয়, তা অনেকেই শুরুতে টের পান না। এভাবেই বর্তমান সময়ে কর্মক্ষেত্র হয়ে উঠছে সম্পর্কের নতুন ঠিকানা।সাম্প্রতিক এক আন্তর্জাতিক সমীক্ষায় উঠে এসেছে চমকপ্রদ তথ্য। ফোর্বস ম্যাগাজিনের প্রতিবেদন অনুযায়ী, প্রায় ৬০ শতাংশেরও বেশি কর্মজীবী মানুষ জীবনের কোনো না কোনো সময়ে সহকর্মীর প্রেমে পড়েছেন। এর মধ্যে আশাব্যঞ্জক বিষয় হলো, এই সম্পর্কগুলোর প্রায় ৪৩ শতাংশই শেষ পর্যন্ত বিয়ে বা স্থায়ী পরিণয়ে গড়িয়েছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, বাইরে সামাজিক যোগাযোগের সুযোগ কমে যাওয়ায় মানুষ এখন কর্মস্থলেই মানসিক নিরাপত্তা ও নির্ভরতা খুঁজে নিচ্ছে।তবে অফিসের এই রোমান্স সবসময় সহজ হয় না। সমীক্ষায় দেখা গেছে, প্রায় ৫৭ শতাংশ কর্মী মনে করেন অফিসের সম্পর্কের প্রভাব সরাসরি কাজের পারফরম্যান্সে পড়ে। কারো জন্য এটি অনুপ্রেরণা হলেও অনেকের ক্ষেত্রে ব্যক্তিগত টানাপোড়েন কর্মপরিবেশকে অস্বস্তিকর করে তোলে। এছাড়া সহকর্মীদের কানাঘুষা, ঈর্ষা বা পক্ষপাতিত্বের অভিযোগের ভয়ে প্রায় ৩৫ শতাংশ মানুষ তাদের সম্পর্কের বিষয়টি কর্তৃপক্ষের কাছে গোপন রাখতে পছন্দ করেন।পেশাদারিত্বের এই চড়াই-উতরাইয়ের মাঝেও সফল গল্পের অভাব নেই। যেমন শাহরিয়ার নীরব, যিনি তার সহকর্মীকে বিয়ে করে সুখে সংসার করছেন। তার মতে, অফিসের কাজের চাপের মাঝেও প্রিয় মানুষের সান্নিধ্য ক্লান্তি দূর করে দেয়। অন্যদিকে সাদমিনার মতো অনেকেই আছেন যারা এখনো অব্যক্ত ভালো লাগা নিয়ে প্রতিদিন অফিসে যান, যাদের কাছে দুপুরের লাঞ্চ বা চায়ের আড্ডাই হয়ে ওঠে দিন শেষের পরম প্রাপ্তি।বিশেষজ্ঞরা বলছেন, কর্মক্ষেত্রে সম্পর্ক হওয়াটা মানবিক ও স্বাভাবিক বিষয়। তবে এর সঙ্গে জড়িয়ে থাকে পেশাদারিত্ব এবং ব্যক্তিগত সীমারেখার ভারসাম্য। একটি সুন্দর সম্পর্কের কারণে যেন অফিসের সুস্থ পরিবেশ বা অন্য সহকর্মীদের কাজের ব্যাঘাত না ঘটে, সেদিকে খেয়াল রাখা জরুরি। দিনশেষে অফিসের প্রেম শুধু দুজন মানুষের গল্প নয়, এটি একটি পুরো কর্মপরিবেশের ভারসাম্যের ওপরও প্রভাব ফেলে।/টিএ

মে ১৩, ২০২৬

ঘণ্টার পর ঘণ্টা ডেস্কে বসে কাজ? অজান্তেই বাড়ছে বড় স্বাস্থ্যঝুঁকি

সারাদিন ডেস্কে বসে কাজ করছেন, অথচ খাওয়াদাওয়ায় তেমন পরিবর্তন নেই—তবুও কি ওজন বাড়ছে? শরীর ভারী লাগা কিংবা অনবরত ক্লান্তি কি আপনার নিত্যসঙ্গী হয়ে দাঁড়িয়েছে? অনেকেই ভাবেন কেবল জিম বা ব্যায়াম করলেই এই সমস্যার সমাধান সম্ভব। কিন্তু চিকিৎসকদের মতে, আসল সমস্যা লুকিয়ে আছে দিনের দীর্ঘ সময় একই ভঙ্গিতে বসে থাকার মধ্যে। দীর্ঘক্ষণ নড়াচড়া না করায় শরীরের স্বাভাবিক কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে, যা দীর্ঘমেয়াদী রোগের কারণ হয়ে দাঁড়াচ্ছে।কেন ডেস্কে বসে থাকলে ওজন বাড়ে, তার ব্যাখ্যা দিয়েছেন বিশেষজ্ঞ কানিকা মালহোত্রা। তিনি জানান, দীর্ঘসময় এক জায়গায় বসে থাকলে শরীরের মেটাবলিজম বা বিপাক প্রক্রিয়া ধীর হয়ে যায়। এর ফলে শরীর পর্যাপ্ত ক্যালরি পোড়াতে পারে না এবং দ্রুত ফ্যাট জমতে থাকে। ঘণ্টার পর ঘণ্টা বসে থাকলে শরীরের ‘মেটাবলিক ফ্লেক্সিবিলিটি’ কমে যায়, অর্থাৎ শরীর কার্বোহাইড্রেট ও ফ্যাটের মধ্যে শক্তির উৎস পরিবর্তন করার ক্ষমতা হারায়। এর ফলে রক্তে শর্করার ভারসাম্য নষ্ট হয় এবং হৃদরোগের ঝুঁকি কয়েক গুণ বেড়ে যায়।চিকিৎসকরা দীর্ঘক্ষণ বসে থাকার ক্ষতিকর প্রভাব হিসেবে প্রধানত ছয়টি লক্ষণকে চিহ্নিত করেছেন। প্রথমত, নড়াচড়া কম হওয়ায় সরাসরি পেটের চারপাশে চর্বি জমতে শুরু করে। দ্বিতীয়ত, রক্তপ্রবাহ ব্যাহত হয়ে উচ্চ রক্তচাপ দেখা দেয়। এছাড়া শরীর গ্লুকোজ ঠিকভাবে ব্যবহার করতে না পারায় রক্তে শর্করার পরিমাণ বেড়ে যায় এবং ডায়াবেটিসের ঝুঁকি তৈরি হয়। পাশাপাশি শরীরে খারাপ কোলেস্টেরল ও ট্রাইগ্লিসারাইড বৃদ্ধি এবং বিপাক প্রক্রিয়া ধীর হওয়ায় সার্বক্ষণিক ক্লান্তি অনুভূত হয়। এমনকি নিয়মিত ব্যবহারের অভাবে পা ও কোমরের মাংসপেশিও দুর্বল হয়ে পড়তে পারে।তবে ডেস্ক জব থাকলেও জীবনযাত্রায় সামান্য কিছু পরিবর্তন এনে সুস্থ থাকা সম্ভব বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। তারা পরামর্শ দিয়েছেন, প্রতি ২০-৩০ মিনিট বা অন্তত এক ঘণ্টা পর পর অন্তত ৫ মিনিটের জন্য দাঁড়িয়ে হাঁটাহাঁটি বা স্ট্রেচিং করতে হবে। দীর্ঘক্ষণ বসার ক্ষেত্রে পিঠ সোজা রাখা এবং ঘাড় ও কাঁধের সঠিক অবস্থান নিশ্চিত করা জরুরি। কাজের ফাঁকে ‘ডেস্কারসাইজ’ বা চেয়ারে বসেই হালকা হাত-পায়ের ব্যায়াম করা শরীরের রক্ত সঞ্চালন সচল রাখতে সহায়তা করে।খাদ্যাভ্যাসের বিষয়ে বিশেষজ্ঞরা বলছেন, সকালের নাস্তা পুষ্টিকর হওয়া প্রয়োজন এবং রাতের ভারী খাবার এড়িয়ে চলা উচিত। মূলত সচেতনতা এবং ছোট ছোট শারীরিক সক্রিয়তাই পারে ডেস্কে বসে কাজের দীর্ঘমেয়াদী স্বাস্থ্যঝুঁকি থেকে রক্ষা করতে। জীবনযাত্রায় এই পরিবর্তনগুলো আনলে কেবল ওজন নিয়ন্ত্রণই নয়, বরং হৃদরোগ ও ডায়াবেটিসের মতো মরণব্যাধি থেকেও দূরে থাকা সম্ভব।টিএ

মে ১১, ২০২৬

কেন প্রতিদিন সকালে ডিম খাওয়া জরুরি?

পুষ্টিগুণে ভরপুর ডিমকে বলা হয় ‘সুপারফুড’, যা শরীরের জন্য প্রয়োজনীয় প্রোটিন, ভিটামিন ও মিনারেলের এক অনন্য উৎস। প্রতিদিন সকালের নাস্তায় একটি বা দুটি সেদ্ধ ডিম খেলে তা দিনভর কাজের শক্তি জোগায়। এতে থাকা উচ্চমাত্রার প্রোটিন ক্ষুধা নিবারণ করে কাজে মনোযোগ বাড়াতে সাহায্য করে।ডিম ওজন নিয়ন্ত্রণ এবং মস্তিষ্কের কার্যকারিতা বৃদ্ধিতে বিশেষভাবে কার্যকর। এতে ক্যালরি কম থাকলেও প্রোটিন বেশি থাকায় দীর্ঘক্ষণ পেট ভরা থাকে, যা অতিরিক্ত খাবার খাওয়ার প্রবণতা কমায়। এ ছাড়া ডিমে থাকা ‘কোলিন’ নামক উপাদান স্মৃতিশক্তি বৃদ্ধি ও মস্তিষ্কের কোষ গঠনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।শারীরিক গঠনেও ডিমের জুড়ি নেই। নিয়মিত ডিম খেলে এর ভিটামিন ডি ও ক্যালসিয়াম হাড়কে শক্তিশালী করে এবং পেশি গঠনে সহায়তা করে। একইসাথে ডিমে বিদ্যমান বায়োটিন ও প্রোটিন ত্বককে উজ্জ্বল করতে এবং চুলের স্বাস্থ্য ভালো রাখতে কাজ করে। শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ে এর অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট ও প্রয়োজনীয় ভিটামিনের প্রভাবে।প্রতিদিন সকালে সেদ্ধ ডিম খাওয়ার এই অভ্যাস সার্বিক সুস্থতার জন্য দারুণ উপকারী। তবে সুস্থ ব্যক্তিরা অনায়াসেই ১-২টি ডিম খেতে পারলেও যাদের উচ্চ কোলেস্টেরল বা বিশেষ স্বাস্থ্য সমস্যা রয়েছে, তাদের ক্ষেত্রে চিকিৎসকের পরামর্শ নিয়ে ডিমের পরিমাণ নির্ধারণ করা উচিত।/টিএ

মে ১০, ২০২৬

চুল পড়া কমাতে সেরা পাঁচ প্রাকৃতিক ফর্মুলা

অল্প বয়সেই চুল পাতলা হয়ে যাওয়া বা মাত্রাতিরিক্ত চুল পড়া বর্তমান সময়ের অন্যতম বড় দুশ্চিন্তার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। কর্মব্যস্ত জীবনযাত্রা, অনিয়মিত খাদ্যাভ্যাস, অতিরিক্ত মানসিক চাপ এবং অপর্যাপ্ত ঘুম সরাসরি প্রভাব ফেলছে আমাদের চুলের স্বাস্থ্যে। অনেক ক্ষেত্রে দেখা যায়, বাজারচলতি বিভিন্ন রাসায়নিক পণ্য বা ওষুধ ব্যবহারের ফলে চুলের সাময়িক উন্নতি হলেও পরবর্তীতে এর পার্শ্বপ্রতিক্রিয়ায় চুল আরও বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়। তাই বিশেষজ্ঞরা বাহ্যিক প্রসাধনীর চেয়ে অভ্যন্তরীণ পুষ্টির ওপর বেশি গুরুত্ব দেওয়ার পরামর্শ দিচ্ছেন।বিশেষজ্ঞদের মতে, চুলের গোড়া মজবুত করতে এবং নতুন চুল গজাতে সবচেয়ে কার্যকরী উপায় হলো সুষম খাদ্যাভ্যাস। আমাদের প্রতিদিনের খাবারের মধ্যেই লুকিয়ে আছে চুলের প্রয়োজনীয় ভিটামিন ও মিনারেল। ঘরোয়াভাবে চুলের হারানো উজ্জ্বলতা ফিরিয়ে আনতে এবং অকালে টেকো হয়ে যাওয়া থেকে বাঁচতে খাদ্যতালিকায় সামান্য পরিবর্তন আনলে অভূতপূর্ব ফলাফল পাওয়া সম্ভব। বিশেষ করে পাঁচটি নির্দিষ্ট খাবার চুলের যত্নে ম্যাজিকের মতো কাজ করে।চুলের গঠন মজবুত করতে প্রোটিন ও ওমেগা-৩ ফ্যাটি অ্যাসিডের ভূমিকা অপরিসীম। এক্ষেত্রে প্রতিদিনের ডায়েটে চিয়া বীজ ও শিমের বীজ রাখা অত্যন্ত জরুরি। চিয়া বীজে থাকা ওমেগা-৩ ফ্যাটি অ্যাসিড চুলের পুষ্টি জোগায় এবং শিমের বীজে থাকা উচ্চমাত্রার প্রোটিন চুলের ঘনত্ব বৃদ্ধি করতে সহায়তা করে। এছাড়া নিয়মিত আখরোট, আমন্ড ও কাজুর মতো বাদাম খেলে এতে থাকা প্রয়োজনীয় ফ্যাটি অ্যাসিড ও ভিটামিন চুলের গোড়াকে ভেতর থেকে শক্তিশালী ও উজ্জ্বল করে তোলে।সবুজ শাকসবজি এবং ফলমূলও চুলের স্বাস্থ্যের জন্য সমানভাবে গুরুত্বপূর্ণ। পালং শাক ভিটামিন এ-এর একটি চমৎকার উৎস, যা মাথার ত্বকের আর্দ্রতা বজায় রাখে এবং চুলের স্বাভাবিক বৃদ্ধিতে সহায়তা করে। অন্যদিকে, দেশি ফল আমলকিকে বলা হয় চুলের সুপারফুড। এতে থাকা প্রচুর পরিমাণ ভিটামিন সি ও অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট চুলের গোড়ায় সরাসরি পুষ্টি সরবরাহ করে এবং অকালে চুল পেকে যাওয়া ও পড়া রোধে দারুণ কার্যকর ভূমিকা পালন করে।পরিশেষে, চুলের বাহ্যিক পরিচর্যা যেমন তেল বা শ্যাম্পুর ব্যবহার প্রয়োজন, ঠিক তেমনি দীর্ঘমেয়াদী সুফল পেতে শরীরের ভেতর থেকে পুষ্টি নিশ্চিত করা আরও বেশি জরুরি। রাসায়নিক উপাদানের পেছনে কাড়ি কাড়ি টাকা ব্যয় না করে প্রাকৃতিক খাবার ও স্বাস্থ্যকর জীবনযাপনের মাধ্যমেই চুলের সুস্বাস্থ্য ধরে রাখা সম্ভব। তাই আজ থেকেই নিজের খাদ্যতালিকায় এসব পুষ্টিকর খাবার যোগ করে অকাল টাক সমস্যাকে বিদায় জানান।সূত্র : হিন্দুস্তান টাইমসটিএ/

মে ০৯, ২০২৬

ঘাড়ের যন্ত্রণায় কাবু? মুক্তি পাবেন যেভাবে

বর্তমানের কর্মব্যস্ত জীবনে দীর্ঘক্ষণ কম্পিউটারের সামনে বসে থাকা কিংবা ভুল ভঙ্গিতে ঘুমানোর ফলে ঘাড় ব্যথার সমস্যায় ভুগছেন না এমন মানুষ মেলা ভার। সাধারণ এই সমস্যাটি বেশিরভাগ ক্ষেত্রে বড় কোনো রোগ নয় বরং জীবনযাত্রার ত্রুটির কারণেই হয়ে থাকে। তবে দীর্ঘ সময় ধরে এই ব্যথা স্থায়ী হলে এবং এর সঙ্গে মাথাব্যথা, বমি ভাব বা জ্বর দেখা দিলে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া জরুরি। কিন্তু সাধারণ টান লাগা বা পেশির ব্যথায় সাথে সাথে আতঙ্কিত না হয়ে প্রাকৃতিক উপায়ে সমাধান খোঁজা বুদ্ধিমানের কাজ।আয়ুর্বেদিক শাস্ত্রে ঘাড় ব্যথার অব্যর্থ ঔষধ হিসেবে আদার বিশেষ সুখ্যাতি রয়েছে। আদার প্রদাহ-বিরোধী উপাদান ব্যথার স্থানে রক্ত সঞ্চালন বাড়িয়ে দ্রুত আরাম প্রদান করে। কুচানো আদা গরম পানিতে ফুটিয়ে তাতে সামান্য মধু মিশিয়ে দিনে তিনবার চা হিসেবে পান করলে শরীরের ভেতর থেকে আরাম পাওয়া যায়। এছাড়াও গ্রেট করা আদা পাতলা কাপড়ে মুড়িয়ে ব্যথার স্থানে সেঁক দিলেও পেশির আড়ষ্টতা দ্রুত কেটে যায়।রান্নাঘরের আরেকটি জাদুকরী উপাদান হলো হলুদ। এর শক্তিশালী প্রদাহ-বিরোধী গুণাবলী গাঁটের ব্যথা এবং ফোলাভাব কমাতে বেশ কার্যকর। আয়ুর্বেদিক চিকিৎসকদের মতে, এক গ্লাস গরম দুধে এক চা চামচ হলুদ মিশিয়ে খেলে মাংসপেশির জড়তা দূর হয়। তাৎক্ষণিক আরাম পেতে হলুদ ও পানির ঘন মিশ্রণ তৈরি করে ব্যথার জায়গায় প্রলেপ হিসেবে ব্যবহার করা যেতে পারে, যা দ্রুত ব্যথা উপশমে সাহায্য করে।প্রাকৃতিক উপশমকারী হিসেবে অ্যাপেল সিডার ভিনেগারও বেশ জনপ্রিয়। এতে থাকা এসিটিক অ্যাসিড পেশির প্রদাহ কমাতে সাহায্য করে। একটি তুলোর প্যাড অ্যাপেল সিডার ভিনেগারে ভিজিয়ে ঘাড়ের আক্রান্ত স্থানে কিছুক্ষণ চেপে ধরে রাখলে ব্যথা কমে আসে। এছাড়া শরীরের অভ্যন্তরীণ নিরাময় প্রক্রিয়া ত্বরান্বিত করতে এক গ্লাস পানিতে এক টেবিল চামচ ভিনেগার মিশিয়ে পান করাও বেশ কার্যকর।ঘাড়ের ব্যথা থেকে বাঁচতে ঘরোয়া প্রতিকারের পাশাপাশি দৈনন্দিন অভ্যাসে পরিবর্তন আনা জরুরি। নিয়মিত হালকা ব্যায়াম, শোয়ার সময় সঠিক উচ্চতার বালিশ ব্যবহার এবং দীর্ঘক্ষণ নিচু হয়ে ফোন ব্যবহার না করার অভ্যাস করলে এ সমস্যা থেকে দীর্ঘমেয়াদী মুক্তি পাওয়া সম্ভব। তবে ঘরোয়া উপায়ে দুই দিনের মধ্যে অবস্থার উন্নতি না হলে সেটিকে অবহেলা না করে অবশ্যই বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের শরণাপন্ন হওয়া উচিত।/টিএ

মে ০৭, ২০২৬

যে ৫ অভ্যাসে অজান্তেই মারাত্মক ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে আপনার দাঁত

বর্তমান সময়ে ডেন্টাল ক্লিনিকগুলোতে দাঁতের শিরশিরানি (সেনসিটিভিটি), এনামেল ক্ষয় বা দাঁতের ধার ভেঙে যাওয়ার মতো সমস্যা নিয়ে আসা রোগীর সংখ্যা আশঙ্কাজনকভাবে বাড়ছে। একসময় এসব সমস্যাকে বার্ধক্যজনিত মনে করা হলেও, বর্তমানে তরুণ প্রজন্মের মধ্যেও এটি প্রকট। সম্প্রতি প্রতিবেশী দেশ ভারতের এক গবেষণায় দেখা গেছে, প্রায় ২৭ শতাংশ দন্ত রোগী এনামেল ক্ষয়ের শিকার। বাংলাদেশের দন্ত চিকিৎসকরাও একই ধরণের প্রবণতা লক্ষ্য করছেন।আশ্চর্যের বিষয় হলো, দাঁতের এই ক্ষতি বাইরের কোনো কারণে নয়, বরং আমাদের অতি পরিচিত এবং আপাতদৃষ্টিতে ‘ভালো’ মনে হওয়া ৫টি অভ্যাসের কারণেই হচ্ছে। দেখে নিন আপনার অজান্তেই কোন ভুলগুলো দাঁতকে দুর্বল করে দিচ্ছে:১. জোরে ব্রাশ করলেই দাঁত পরিষ্কার হয়—এই ভুল ধারণাঅনেকেই মনে করেন ব্রাশ দিয়ে জোরে ঘষলে দাঁত বেশি সাদা ও পরিষ্কার হবে। কিন্তু চিকিৎসকদের মতে, এটি এনামেলের জন্য সবথেকে বড় শত্রু। অতিরিক্ত জোরে বা শক্ত ব্রাশ ব্যবহার করলে দাঁতের উপরের পাতলা সুরক্ষামূলক স্তর (Enamel) চিরতরে ক্ষয়ে যেতে পারে। এর ফলে দাঁত দ্রুত সংবেদনশীল হয়ে পড়ে এবং শিরশিরানি শুরু হয়।২. অ্যাসিডিক ও চিনিযুক্ত খাবারের প্রভাবআধুনিক জীবনযাত্রায় কোমল পানীয়, এনার্জি ড্রিঙ্কস, অতিরিক্ত চা-কফি বা লেবুর রসের মতো অ্যাসিডিক পানীয়র ব্যবহার বেড়েছে। এই পানীয়র প্রতিটি চুমুক দাঁতের এনামেলকে নরম করে দেয়। দীর্ঘ সময় ধরে এসব খাবারের সংস্পর্শে থাকলে দাঁত ধীরে ধীরে তার উজ্জ্বলতা হারায় এবং ক্ষয়ে যেতে থাকে। এক্ষেত্রে স্ট্র ব্যবহার করা বা পানীয় পানের পর জল দিয়ে মুখ ধোয়ার পরামর্শ দেন বিশেষজ্ঞরা।৩. পর্যাপ্ত পানি পান না করালালা (Saliva) হলো দাঁতের প্রাকৃতিক সুরক্ষা কবজ। এটি মুখের অ্যাসিডকে নিষ্ক্রিয় করে এবং এনামেলকে খনিজ সরবরাহ করে। কিন্তু যারা পর্যাপ্ত পানি পান করেন না বা অতিরিক্ত ক্যাফেইন গ্রহণ করেন, তাদের মুখে লালার প্রবাহ কমে যায়। এতে দাঁত অরক্ষিত হয়ে পড়ে এবং ক্ষয়ের ঝুঁকি বেড়ে যায়।৪. ঘরে বসে দাঁত সাদা করার বিপজ্জনক চেষ্টাসামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের প্রভাবে অনেকেই এখন লেবুর রস, বেকিং সোডা বা অ্যাক্টিভেটেড চারকোল দিয়ে বাড়িতেই দাঁত সাদা করার চেষ্টা করেন। চিকিৎসকদের মতে, এসব উপাদান প্রচণ্ড ঘর্ষণকারী ও অম্লীয়। এগুলো দাঁতকে সাময়িক উজ্জ্বল করলেও দীর্ঘমেয়াদে এনামেলের অপূরণীয় ক্ষতি করে। এতে দাঁত আরও দ্রুত হলুদ হয়ে যায়।৫. ভুল টুথপেস্ট নির্বাচনবাজারে প্রচলিত অনেক টুথপেস্ট কেবল দাঁত পরিষ্কার বা নিঃশ্বাসে সতেজতা আনার দিকে নজর দেয়। কিন্তু এনামেল সুরক্ষায় সেগুলো কার্যকর নয়। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এনামেল একবার ক্ষয়ে গেলে তা আর প্রাকৃতিকভাবে ফিরে আসে না। তাই সাধারণ টুথপেস্টের বদলে এমন টুথপেস্ট বেছে নেওয়া উচিত যা খনিজ পুনঃস্থাপনে সাহায্য করে এবং এনামেলকে শক্তিশালী করে।বিশেষজ্ঞরা কী বলছেন?দন্ত চিকিৎসকদের পরামর্শ হলো, এনামেল রক্ষা করতে নরম বা সফট ব্রাশ ব্যবহার করা এবং অন্তত দুই মিনিট সময় নিয়ে আলতোভাবে দাঁত মাজা। এছাড়া মিষ্টি বা অ্যাসিডিক খাবার খাওয়ার পরপরই ব্রাশ না করে কিছুক্ষণ অপেক্ষা করা উচিত, যাতে লালা তার কাজ করার সময় পায়।মনে রাখবেন, সুস্থ হাসি কেবল বাহ্যিক সৌন্দর্য নয়, এটি মজবুত এনামেল ও সঠিক যত্নের প্রতিফলন। তাই আজই আপনার এই বদভ্যাসগুলো পরিবর্তন করুন।সূত্র : টাইমস অব ইন্ডিয়াটিএ/

মে ০৬, ২০২৬

জেনে নিন হার্ট সুস্থ রাখে যেসব চা

বর্তমান বিশ্বে হৃদরোগ মৃত্যুর অন্যতম প্রধান কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে, যার ফলে হৃদযন্ত্রের সুরক্ষা এখন সময়ের দাবি। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, প্রতিদিনের খাদ্যতালিকায় ছোটখাটো পরিবর্তন এনে বড় ধরণের স্বাস্থ্যঝুঁকি এড়ানো সম্ভব। এই তালিকায় সবচেয়ে কার্যকর ও সহজলভ্য পানীয় হিসেবে উঠে এসেছে বিশেষ কিছু ভেষজ ও সাধারণ চা, যা প্রাকৃতিক উপায়ে হার্টকে সুরক্ষিত রাখে।গবেষণা অনুযায়ী, নিয়মিত চা পান হৃদযন্ত্রের রক্ত সঞ্চালন উন্নত করে এবং রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে রাখতে সহায়তা করে। বিশেষ করে সবুজ চা (Green Tea) এবং কালো চায়ে (Black Tea) থাকা শক্তিশালী অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট শরীরের ক্ষতিকর কোলেস্টেরল কমাতে কার্যকর ভূমিকা রাখে। একাধিক গবেষণায় দেখা গেছে, যারা নিয়মিত চা পানে অভ্যস্ত, তাদের হৃদরোগে আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকি সাধারণ মানুষের তুলনায় অনেক কম।ভেষজ চায়ের গুণাগুণও হৃদরোগ প্রতিরোধে অনন্য। জবা চা, পুদিনা চা, জিনসেং এবং রুইবোস চায়ের মতো বিশেষ কিছু পানীয় শরীরের মানসিক চাপ কমিয়ে রক্তনালীকে শিথিল রাখতে সাহায্য করে। এছাড়া কালো চায়ে বিদ্যমান 'ফ্ল্যাভোনয়েড' নামক উপাদান রক্তনালীর স্বাস্থ্য রক্ষায় এবং ধমনীর কার্যক্ষমতা বৃদ্ধিতে সরাসরি প্রভাব ফেলে, যা দীর্ঘমেয়াদে হার্টকে শক্তিশালী করে।তবে যেকোনো উপকারী পানীয়র ক্ষেত্রে পরিমিতি বজায় রাখা জরুরি বলে সতর্ক করেছেন বিশেষজ্ঞরা। অতিরিক্ত চা পান করলে ক্যাফেইনের প্রভাবে অনিদ্রা, অস্থিরতা কিংবা বুক ধড়ফড় করার মতো সমস্যা দেখা দিতে পারে। তাই হৃদযন্ত্রের সুফল পেতে সারাদিনে দুই থেকে তিন কাপ চা পান করাকেই আদর্শ মাত্রা হিসেবে বিবেচনা করা হয়।পরিশেষে চিকিৎসকদের পরামর্শ হলো, চা পান হার্টের জন্য সহায়ক হলেও এটি কোনো মূল চিকিৎসার বিকল্প নয়। বরং একটি স্বাস্থ্যকর জীবনযাপন, সুষম খাবার এবং নিয়মিত ব্যায়ামের পাশাপাশি সঠিক ধরনের চা পান করা হৃদপিণ্ডকে সচল ও প্রাণবন্ত রাখার একটি প্রাকৃতিক ও সহজ উপায় হতে পারে।/টিএ

মে ০৬, ২০২৬

গরমে শরীর ঠান্ডা রাখবে যেসব পানীয়

গ্রীষ্মের তপ্ত রোদে জনজীবন যখন ওষ্ঠাগত, তখন সুস্থ থাকাটাই হয়ে দাঁড়ায় বড় চ্যালেঞ্জ। চিকিৎসকদের মতে, এই মৌসুমে শরীরকে হিটস্ট্রোক ও ডিহাইড্রেশন থেকে রক্ষা করতে সরাসরি রোদ এড়িয়ে চলার পাশাপাশি খাদ্যাভ্যাসে বিশেষ নজর দেওয়া জরুরি। পর্যাপ্ত পানির পাশাপাশি প্রথাগত ও দেশি পানীয় গ্রহণ করলে শরীরের তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণে থাকে এবং প্রয়োজনীয় পুষ্টি পাওয়া যায়।অত্যধিক গরমে বেলের শরবত হতে পারে আপনার সেরা সঙ্গী। ফাইবার, ক্যালসিয়াম ও ভিটামিন ‘সি’ সমৃদ্ধ বেলের শরবত শুধু শরীরকে তাৎক্ষণিক শীতলই করে না, বরং এটি হজম প্রক্রিয়া উন্নত করতে এবং গরমজনিত পেটের সমস্যা দূর করতে কার্যকরী ভূমিকা রাখে। নিয়মিত এই শরবত পান করলে তীব্র তাপদাহেও শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা অটুট থাকে।শরীরে দ্রুত শক্তি জোগাতে এবং ইলেক্ট্রোলাইটের ভারসাম্য বজায় রাখতে আখের রস ও ছাতুর শরবতের বিকল্প নেই। আখের রসে থাকা প্রাকৃতিক গ্লুকোজ ক্লান্তি দূর করে শরীরকে সতেজ করে তোলে। অন্যদিকে, প্রোটিন ও ফাইবারে ভরপুর ছাতুর শরবত দীর্ঘক্ষণ পেট ভরিয়ে রাখার পাশাপাশি শরীরকে ভেতর থেকে ঠান্ডা রাখে, যা বাইরের রোদে কাজ করা মানুষের জন্য অত্যন্ত উপকারী।ঐতিহ্যবাহী পানীয় হিসেবে ঠান্ডাই ও জিরাপানি গ্রীষ্মের দুপুরে আনে প্রশান্তি। দুধ ও শুকনো ফল দিয়ে তৈরি ঠান্ডাই যেমন পুষ্টি জোগায়, তেমনি ভাজা জিরা, পুদিনা ও বিট লবণের সংমিশ্রণে তৈরি জিরাপানি হজমশক্তি বাড়িয়ে শরীরকে সজীব রাখে। এই পানীয়গুলো শরীরে প্রয়োজনীয় আর্দ্রতা ধরে রাখতে এবং গরমের ক্লান্তি দূর করতে জাদুর মতো কাজ করে।পরিশেষে, কৃত্রিম ও অতিরিক্ত চিনিযুক্ত কোমল পানীয়ের বদলে ঘরে তৈরি এসব প্রাকৃতিক পানীয় বেছে নেওয়াই বুদ্ধিমানের কাজ। গরমে সুস্থ থাকতে প্রচুর পানি পান করার পাশাপাশি প্রতিদিনের খাদ্যতালিকায় এই দেশি পানীয়গুলো অন্তর্ভুক্ত করলে তা আপনাকে হিটস্ট্রোকের ঝুঁকি থেকে রক্ষা করবে এবং সারা দিন কাজের উদ্যম বজায় রাখতে সাহায্য করবে।/টিএ

মে ০৫, ২০২৬

প্রতিদিন ১৫ মিনিট খালি পায়ে হাঁটার উপকারিতা

আধুনিক নগরজীবনে জুতো আমাদের নিত্যসঙ্গী হলেও সুস্থতার খোঁজে মানুষ এখন ফিরে যাচ্ছে আদি অভ্যাসে। খালি পায়ে হাঁটা কেবল একটি প্রাচীন জীবনযাপনের পদ্ধতি নয়, বরং এটি বর্তমান সময়ে স্বাস্থ্য সচেতনদের কাছে একটি কার্যকর ব্যায়াম হিসেবে জনপ্রিয় হয়ে উঠছে। শত শত বছর ধরে মানুষ খালি পায়ে চলাফেরা করলেও বর্তমানের গবেষণায় এর বৈজ্ঞানিক ভিত্তি ও প্রয়োজনীয়তা নতুন করে সামনে আসছে।চিকিৎসাবিজ্ঞানীদের মতে, মানুষের পায়ের তলার সাথে শরীরের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গের সরাসরি স্নায়বিক সংযোগ রয়েছে। ইমিউনোলজি বিশেষজ্ঞরা জানিয়েছেন, খালি পায়ে হাঁটার সময় পায়ের পাতায় যে উদ্দীপনা সৃষ্টি হয়, তা শরীরের অভ্যন্তরীণ রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধিতে সহায়ক হতে পারে। বিশেষ করে অসমতল ভূমি বা প্রাকৃতিক সংস্পর্শে হাঁটা শরীরের স্নায়ুগুলোকে সজাগ করে তোলে, যা দীর্ঘমেয়াদী স্বাস্থ্য সমস্যা সমাধানে ভূমিকা রাখে।মানসিক প্রশান্তির ক্ষেত্রেও এই অভ্যাসের জুড়ি নেই। ঘাস, পাথর কিংবা ভেজা মাটির ওপর দিয়ে হাঁটা মানসিক চাপ বা স্ট্রেস দ্রুত কমিয়ে আনতে সাহায্য করে। বিশেষজ্ঞরা বিশেষ করে শিশু এবং বয়স্কদের জন্য নরম ঘাসের ওপর হাঁটার পরামর্শ দেন। শিশুদের ক্ষেত্রে এটি পায়ের পাতার সঠিক গঠন তৈরিতে সাহায্য করে এবং 'ফ্ল্যাট ফুট' হওয়ার ঝুঁকি কমায়। অন্যদিকে, বয়স্কদের শারীরিক ভারসাম্য ও মানসিক সতেজতা রক্ষায় এটি বেশ কার্যকর।তবে সুফলের পাশাপাশি কিছু সতর্কতার কথাও মনে করিয়ে দিয়েছেন স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা। হেলথলাইনের তথ্যমতে, অস্বাস্থ্যকর বা অপরিচ্ছন্ন স্থানে খালি পায়ে হাঁটলে সংক্রমণের ঝুঁকি থেকে যায়। বিশেষ করে ক্ষতিকর ব্যাকটেরিয়া বা ছত্রাক থেকে বাঁচতে স্থান নির্বাচনের ক্ষেত্রে সতর্ক হতে হবে। এছাড়া ডায়াবেটিস রোগীদের ক্ষেত্রে পায়ের ক্ষতের ঝুঁকি থাকায়, এই অভ্যাস শুরু করার আগে অবশ্যই বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া জরুরি।শুরুতেই দীর্ঘক্ষণ খালি পায়ে না হেঁটে বরং শরীরকে মানিয়ে নেওয়ার সুযোগ দেওয়া উচিত। চিকিৎসকদের পরামর্শ অনুযায়ী, প্রতিদিন মাত্র ১৫ থেকে ২০ মিনিট দিয়ে এই যাত্রা শুরু করা যেতে পারে। পরবর্তীতে শরীরের সহনশীলতা বাড়লে ধীরে ধীরে এই সময়সীমা বাড়ানো সম্ভব। সঠিক নিয়ম ও পরিচ্ছন্নতা মেনে চললে প্রকৃতির এই সহজ ছোঁয়া আমাদের দীর্ঘমেয়াদী সুস্থতার চাবিকাঠি হতে পারে।

এপ্রিল ৩০, ২০২৬

বৃষ্টির দিনে তৈরি করুন 'সবজির আচারি খিচুড়ি'

বাঙালির বারো মাসে তেরো পার্বণ, আর সেই পার্বণের তালিকায় বৃষ্টির দিনের 'খিচুড়ি উৎসব' যেন এক অবিচ্ছেদ্য অংশ। বর্ষার মেঘলা আকাশ আর টিনের চালে বৃষ্টির ঝমঝম শব্দের সাথে ধোঁয়া ওঠা খিচুড়ির ঘ্রাণ বাঙালির চিরচেনা আবেগ। কেবল স্বাদে নয়, পুষ্টিগুণেও খিচুড়ি অতুলনীয়। তাই এই বর্ষায় একঘেয়েমি কাটাতে আর ঘরোয়া আড্ডায় ভিন্নতা আনতে আপনিও সহজে রান্না করতে পারেন জিভে জল আনা 'সবজির আচারি খিচুড়ি'।খিচুড়ি রান্নার প্রতি বাঙালি নারীদের বিশেষ এক মমতা কাজ করে। বিশেষ করে বৃষ্টির দিন এলে যেন রান্নাঘরে শুরু হয় এক উৎসবের আমেজ। আচারি খিচুড়ির বিশেষত্ব হলো এর টক-ঝাল-মিষ্টি স্বাদ, যা সাধারণ সবজি খিচুড়িকে করে তোলে অনন্য। আধ কেজি নাজিরশাইল চালের সাথে এক কাপ ডাল এবং আধ কাপ করে পেঁপে, বরবটি, গাজর ও ফুলকপি কিউব করে কেটে নিলেই রান্নার মূল প্রস্তুতি সম্পন্ন হয়। সাথে বাড়তি স্বাদ যোগ করতে প্রয়োজন এক কাপ টক-মিষ্টি আমের আচার।রান্নার শুরুতে চাল আধ ঘণ্টা ভিজিয়ে রেখে পানি ঝরিয়ে নিতে হবে এবং সবজিগুলো হালকা সেদ্ধ করে নিতে হবে। এরপর চুলায় আধ কাপ তেল গরম করে তাতে রসুন কুচি, পেঁয়াজ কুচি, শুকনো মরিচ ও পাঁচফোড়ন দিয়ে বাদামি করে ভেজে নিতে হবে। এরপর হলুদ, জিরা, মরিচ গুঁড়ো এবং আদা বাটা দিয়ে সামান্য পানিতে মশলাটি ভালো করে কষিয়ে নিতে হবে। এই মশলার সুগন্ধই মূলত খিচুড়ির আসল স্বাদ নির্ধারণ করে।মশলা কষানো হলে সেদ্ধ সবজি, চাল ও ডাল দিয়ে ভালো করে কষিয়ে পরিমাণমতো পানি দিয়ে ২০ মিনিট দমে রাখতে হবে। এই পর্যায়ে ঢাকনা দিয়ে ঢেকে রাখলে সবজির পুষ্টি ও চালের সুগন্ধ অটুট থাকে। চাল পুরোপুরি সেদ্ধ হয়ে এলে রান্নার শেষ চমক হিসেবে পুরো খিচুড়িতে টক-মিষ্টি আমের আচার ভালো করে মিশিয়ে নিতে হবে। আচারের টক স্বাদ আর সবজির মিষ্টতা মিলে তৈরি হবে এক রাজকীয় স্বাদ।গরম গরম এই আচারি খিচুড়ি শুধু রসনা তৃপ্তিই দেয় না, বরং ঘরোয়া আড্ডায় যোগ করে বাড়তি আনন্দ। বৃষ্টির দিনে পরিবারের সবাইকে নিয়ে এক থালা ধোঁয়া ওঠা সবজির আচারি খিচুড়ি আর সাথে যদি থাকে একটু বেগুন ভাজা বা ডিম ভাজি, তবে সেই দুপুরের তৃপ্তি আর কিছুর সাথেই তুলনা করা যায় না। তাই দেরি না করে আজই আপনার রান্নাঘরে তৈরি করে ফেলুন দারুণ এই রেসিপিটি।/টিএ

এপ্রিল ২৯, ২০২৬

বজ্রপাত থেকে নিজেকে বাঁচাতে যা করবেন

বর্ষা মৌসুমে প্রকৃতির সজীবতার পাশাপাশি বর্তমানে বজ্রপাত এক ভয়াবহ আতঙ্ক হিসেবে আবির্ভূত হয়েছে। ভৌগোলিক অবস্থানের কারণে বাংলাদেশ এখন বিশ্বের অন্যতম বজ্রপাতপ্রবণ দেশ, যেখানে প্রতিবছর অসংখ্য মানুষ প্রাণ হারান। সাম্প্রতিক সময়ে দেশের বিভিন্ন জেলায় মাত্র কয়েক দিনে অন্তত ২০ জনের মৃত্যু এই দুর্যোগের ভয়াবহতাকে আবারও স্মরণ করিয়ে দিচ্ছে। বজ্রপাত কেবল প্রাণঘাতীই নয়, এটি শরীরে দীর্ঘস্থায়ী পঙ্গুত্ব, শ্রবণশক্তি হ্রাস এবং হৃদরোগের মতো জটিল স্বাস্থ্যঝুঁকি তৈরি করে।বজ্রপাতের সময় ঘরের ভেতরে থাকাটাই সবচেয়ে নিরাপদ, তবে সেখানেও কিছু নিয়ম মানা জরুরি। বজ্রঝড় শুরু হলে দ্রুত ঘরের জানালা ও দরজা বন্ধ করে দিতে হবে। এই সময়ে ল্যান্ডফোন বা বৈদ্যুতিক সরঞ্জাম ব্যবহার করা থেকে বিরত থাকা উচিত, কারণ বৈদ্যুতিক লাইনের মাধ্যমে বজ্রপাতের প্রভাব ঘরের ভেতর ছড়িয়ে পড়তে পারে। এছাড়া পানি বিদ্যুতের সুপরিবাহী হওয়ায় এই সময়ে গোসল করা, পানির কল ব্যবহার করা বা জলাধারের সংস্পর্শে থাকা অত্যন্ত বিপজ্জনক।যদি আপনি বজ্রপাতের সময় খোলা আকাশের নিচে থাকেন, তবে কখনোই বড় গাছের নিচে আশ্রয় নেবেন না। উঁচু গাছ বা বিদ্যুতের খুঁটি বজ্রপাতকে আকর্ষণ করে, যা কাছে থাকা ব্যক্তির জন্য মৃত্যুর কারণ হতে পারে। খোলা মাঠে থাকলে নিচু হয়ে বসে পড়ুন, তবে মাটিতে শুয়ে পড়বেন না। রাস্তায় চলাচলের ক্ষেত্রে রাবারের সোলযুক্ত জুতা পরা কিছুটা সুরক্ষা দেয়। গাড়ির ভেতরে থাকলে জানালার কাঁচ বন্ধ করে ভেতরে অবস্থান করাটাই সবচেয়ে বুদ্ধিমানের কাজ।বজ্রপাতের ঝুঁকি এড়াতে ইলেকট্রনিক গ্যাজেট যেমন—মোবাইল বা কম্পিউটার ব্যবহার থেকে দূরে থাকা শ্রেয়। অনেক সময় ঝড় থেমে যাওয়ার পরও বজ্রপাতের আশঙ্কা থেকে যায়, তাই শেষ বজ্রধ্বনির অন্তত ৩০ মিনিট পর ঘর থেকে বের হওয়া নিরাপদ। এছাড়া শিশুদের এই দুর্যোগ সম্পর্কে সচেতন করা এবং মানসিকভাবে প্রস্তুত রাখা প্রয়োজন যাতে তারা আতঙ্কিত না হয়ে দ্রুত নিরাপদ স্থানে আশ্রয় নিতে পারে।প্রাকৃতিক এই দুর্যোগকে রুখে দেওয়ার ক্ষমতা মানুষের নেই, তবে সচেতনতা ও সঠিক প্রস্তুতিই পারে প্রাণহানি কমিয়ে আনতে। নিয়মিত আবহাওয়ার পূর্বাভাস অনুসরণ করা এবং বজ্রপাতের সময় ঘরের বাইরে না যাওয়ার অভ্যাস গড়ে তোলাই হবে আত্মরক্ষার মূল কৌশল। মনে রাখবেন, সামান্য অবহেলা কেড়ে নিতে পারে একটি মূল্যবান জীবন, তাই মেঘের গর্জন শুনলেই নিরাপদ আশ্রয়ে থাকাকে অগ্রাধিকার দিন।/টিএ

এপ্রিল ২৮, ২০২৬
footer small logo

যোগাযোগ :

এটিএন বাংলা, ওয়াসা ভবন, ২য় তলা, ৯৮ কাজী নজরুল ইসলাম এভিনিউ, কাওরান বাজার, ঢাকা-১২১৫, বাংলাদেশ

ফোনঃ +88-02-55011931

সোশ্যাল মিডিয়া

youtube logotwitter logofacebook logo

Design & Developed by:

developed-company-logo