
এটিএন বাংলা, ওয়াসা ভবন, ২য় তলা, ৯৮ কাজী নজরুল ইসলাম এভিনিউ, কাওরান বাজার, ঢাকা-১২১৫, বাংলাদেশ
ফোনঃ +88-02-55011931
এ সম্পর্কিত আরও খবর
বিয়ের সঠিক বয়স কোনটি তা নিয়ে সমাজে নানা মতবিরোধ থাকলেও, জীবন এবং সম্পর্কের গভীরতা বোঝার পাশাপাশি অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা বিয়ের সিদ্ধান্তের মূল ভিত্তি হিসেবে কাজ করে। অনেকেই মনে করেন স্বাবলম্বী না হওয়া পর্যন্ত বিয়ের কথা ভাবা উচিত নয়, তবে বিশেষজ্ঞদের মতে, সঠিক সময়ে বিয়ে করা জীবনের ভারসাম্য বজায় রাখার ক্ষেত্রে অনেক বেশি কার্যকরী ভূমিকা রাখতে পারে। আজকের এই প্রতিবেদনে আমরা জেনে নেব কম বয়সে বিয়ের কিছু গুরুত্বপূর্ণ উপকারিতা।
অল্প বয়সে বিয়ের অন্যতম বড় সুবিধা হলো দ্রুত সন্তান নেওয়ার মানসিক চাপ থেকে মুক্তি পাওয়া। বিয়ের শুরুর দিকে দম্পতিরা সন্তান লালন-পালনের বাড়তি চিন্তামুক্ত হয়ে অনেকটা সময় নিজেদের মতো কাটাতে পারেন। একে অপরের সঙ্গী হিসেবে
বেশি বয়সে বিয়ের ক্ষেত্রে অনেক সময় বয়সের গাম্ভীর্য সম্পর্কের স্বতঃস্ফূর্ততায় বাধা হয়ে দাঁড়ায়। বয়স বাড়ার সাথে সাথে মানুষের মধ্যে যে জড়তা বা দায়সারা মনোভাব তৈরি হতে পারে, তা দাম্পত্য জীবনে একঘেয়েমি নিয়ে আসে। তুলনায় কম বয়সে বিয়ে করলে সম্পর্কের উষ্ণতা এবং একে অপরের প্রতি মানসিক টান দীর্ঘস্থায়ী হওয়ার সম্ভাবনা থাকে।
শারীরিক ও জীবনযাত্রার দিক থেকেও কম বয়সে বিয়ের গুরুত্ব অপরিসীম। বেশি বয়সে বিয়ের ফলে সন্তান জন্মদানে বিভিন্ন শারীরিক জটিলতা দেখা দিতে পারে। এছাড়া সন্তান জন্ম নিলেও তাদের বড় করে তোলার মতো পর্যাপ্ত শারীরিক শক্তি বা দীর্ঘমেয়াদী সময় পাওয়া কঠিন হয়ে পড়ে। অল্প বয়সে বিয়ে করলে সন্তান লালন-পালন ও পরবর্তী দায়িত্বগুলো অনেক বেশি সহজ ও সাবলীল হয়।
বর্তমান সময়ে ডিভোর্সের হার বৃদ্ধির অন্যতম কারণ হলো অপরিকল্পিত বা পরিস্থিতির চাপে হুট করে বিয়ের সিদ্ধান্ত নেওয়া। অল্প বয়সে বিয়ের ক্ষেত্রে দম্পতিরা একে অপরকে বোঝার ও মানিয়ে নেওয়ার জন্য অনেক বেশি সময় পান, যা ডিভোর্সের সম্ভাবনা অনেকাংশে কমিয়ে দেয়। এছাড়া কোনো কারণে সম্পর্কে বিচ্ছেদ ঘটলেও, অল্প বয়সে নতুন করে জীবন সাজানোর অঢেল সুযোগ থাকে।
সামাজিক দৃষ্টিকোণ থেকেও অল্প বয়সে বিয়ের ইতিবাচক দিক রয়েছে। অনেক সময় অভিভাবকরা মনে করেন, সন্তানদের নির্দিষ্ট বয়সে বিয়ে দিলে তারা ভুল পথে বা সমাজ বহির্ভূত সম্পর্কে জড়িয়ে পড়ার হাত থেকে রক্ষা পায়। অল্প বয়সে বিয়ের ফলে সন্তানরা দায়িত্বশীল হয়ে ওঠে এবং একটি শৃঙ্খল জীবনযাপনের মাধ্যমে সামাজিকভাবেও সম্মানজনক অবস্থানে থাকতে পারে।
তাই আগেভাগে বিয়ে করার আরেকটি বড় সুবিধা হলো অপ্রাসঙ্গিক ও বিরক্তিকর প্রশ্ন থেকে মুক্তি। বিয়ের বয়স পার হওয়ার পর আত্মীয়-স্বজন বা প্রতিবেশীদের কাছ থেকে ‘কবে বিয়ে করবে’ বা ‘কেন করছ না’—এমন হাজারো বিরক্তিকর প্রশ্নের সম্মুখীন হতে হয়। সঠিক সময়ে বিয়ে করে ফেললে এসব সামাজিক চাপ থেকে নিজেকে মুক্ত রেখে জীবনের নতুন অধ্যায় শান্তিতে শুরু করা সম্ভব।
তবে অতি উৎসাহী না হয়ে দেশের আইনের প্রতি শ্রদ্ধা করা জরুরী। দেশে বাল্যবিবাহের শাস্তি হিসেবে বলা আছে প্রাপ্ত বয়স্ক কোনো নারী বা পুরুষ বাল্যবিবাহ করিলে উহা হইবে একটি অপরাধ এবং তজ্জন্য তিনি অনধিক ২ (দুই) বৎসর কারাদণ্ড বা অনধিক ১ (এক) লক্ষ টাকা অর্থদণ্ড বা উভয় দণ্ডে দণ্ডনীয় হইবেন এবং অর্থদণ্ড অনাদায়ে অনধিক ৩ (তিন) মাস কারাদণ্ডে দণ্ডনীয় হইবেন। স্বামী প্রাপ্ত বয়স্ক হলে তার দুই বছরের জেল ও ১ লাখ টাকা জরিমানা হতে পারে। জরিমানা না দিতে পারলে আরও তিন মাস বেশি কারাবাস হবে।
অপ্রাপ্ত বয়স্ক কোনো নারী বা পুরুষ বাল্যবিবাহ করিলে তিনি অনধিক ১ (এক) মাসের আটকাদেশ বা অনধিক ৫০,০০০ (পঞ্চাশ) হাজার টাকা জরিমানা বা উভয় ধরনের শাস্তিযোগ্য হইবেন।
/টিএ