
এটিএন বাংলা, ওয়াসা ভবন, ২য় তলা, ৯৮ কাজী নজরুল ইসলাম এভিনিউ, কাওরান বাজার, ঢাকা-১২১৫, বাংলাদেশ
ফোনঃ +88-02-55011931
এ সম্পর্কিত আরও খবর
ওজন কমানোর কথা ভাবলেই অনেকের চোখের সামনে ভেসে ওঠে কঠিন ডায়েট চার্ট, ঘণ্টার পর ঘণ্টা জিমে ঘাম ঝরানো কিংবা পছন্দের খাবার ত্যাগের ভয়ের ছবি। এই ধারণার কারণেই বহু মানুষ শুরুতেই নিরুৎসাহিত হয়ে পড়েন। অথচ ওজন নিয়ন্ত্রণ মানেই যে কষ্টকর নিয়মে বাঁধা পড়তে হবে, বিষয়টি এমন নয়।
পুষ্টিবিদ ও বিশেষজ্ঞদের মতে, জীবনযাত্রায় সামান্য কিন্তু সচেতন কিছু পরিবর্তন আনলেই ক্র্যাশ ডায়েট বা নিয়মিত জিম ছাড়াও ধীরে ধীরে উল্লেখযোগ্য ওজন কমানো সম্ভব। স্থূলতা শুধু শারীরিক গঠনের ওপর প্রভাব ফেলে না, বরং মানসিক স্বাস্থ্যের ওপরও নেতিবাচক প্রভাব ফেলে—যার ফল হিসেবে আত্মবিশ্বাসের অভাব, মানসিক চাপ বা হতাশা দেখা দিতে পারে। তাই সময় থাকতেই স্বাস্থ্যকর অভ্যাস গড়ে
ব্যস্ত জীবনে যাদের আলাদা করে ব্যায়ামের সময় বের করা কঠিন, তাদের জন্য খাদ্যাভ্যাসে পরিবর্তন আনা হতে পারে সবচেয়ে কার্যকর উপায়। খাদ্যাভ্যাসে পরিবর্তন মানে শুধু সেদ্ধ খাবারে সীমাবদ্ধ থাকা নয়; বরং প্রতিদিনের স্বাভাবিক খাবার থেকেই ক্যালোরি সম্পর্কে সচেতন হয়ে স্বাস্থ্যকর নির্বাচন করা। এই ক্ষেত্রে ক্যালোরি, প্রোটিন, ফাইবার ও ফ্যাটের সঠিক ভারসাম্য বোঝা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
জাঙ্ক ফুড, অতিরিক্ত চিনি, লবণ ও প্রসেসড খাবার এড়িয়ে চলাই হবে প্রথম শর্ত। সাদা চাল বা ময়দার পরিবর্তে ব্রাউন রাইস, কিনোয়া কিংবা মাল্টিগ্রেন আটার মতো বিকল্প খাদ্যতালিকায় রাখলে কম কার্বোহাইড্রেটের পাশাপাশি দীর্ঘ সময় পেট ভরা থাকে। সকালের নাস্তা কোনোভাবেই বাদ দেওয়া উচিত নয়, কারণ এটি সারাদিনের শক্তি ও ক্ষুধা নিয়ন্ত্রণে বড় ভূমিকা রাখে।
ওজন কমানোর মূল ভিত্তি হলো ‘ক্যালোরি ডেফিসিট’—অর্থাৎ শরীর যত ক্যালোরি খরচ করছে, তার চেয়ে কম ক্যালোরি গ্রহণ করা। পর্যাপ্ত ফাইবার ও প্রোটিনসমৃদ্ধ খাবার খেলে অপ্রয়োজনীয় খাওয়ার প্রবণতা কমে যায়। পাশাপাশি, ইন্টারমিটেন্ট ফাস্টিংয়ের মতো পদ্ধতি ধীরে ধীরে ও শরীরের সামর্থ্য বুঝে অনুসরণ করা যেতে পারে, তবে বিশেষ শারীরিক অবস্থায় অবশ্যই চিকিৎসকের পরামর্শ প্রয়োজন। তাড়াহুড়ো না করে নিয়মিতভাবে এই স্বাস্থ্যকর অভ্যাসগুলো মেনে চললেই এক থেকে দেড় মাসের মধ্যে ইতিবাচক পরিবর্তন চোখে পড়বে।
/টিএ