
এটিএন বাংলা, ওয়াসা ভবন, ২য় তলা, ৯৮ কাজী নজরুল ইসলাম এভিনিউ, কাওরান বাজার, ঢাকা-১২১৫, বাংলাদেশ
ফোনঃ +88-02-55011931
এ সম্পর্কিত আরও খবর
তীব্র গরমে স্বস্তির খোঁজে আমাদের প্রথম পছন্দ থাকে রসালো ও তৃষ্ণানিবারক ফল তরমুজ। ভিটামিন ও খনিজে ভরপুর এই ফলটি শরীর সতেজ রাখতে অতুলনীয়। তবে আমাদের অনেকেরই অজান্তে করা কিছু ছোট ছোট ভুলের কারণে এই উপকারী ফলটিই শরীরের জন্য ক্ষতির কারণ হয়ে দাঁড়াতে পারে। তাই তরমুজ খাওয়ার ক্ষেত্রে সঠিক নিয়ম জানা ও স্বাস্থ্য সচেতন হওয়া অত্যন্ত জরুরি।
খাওয়ার সময় ও খালি পেটে সতর্কতা
অনেকেই সকালে খালি পেটে তরমুজ খাওয়াকে উপকারী মনে করেন, যা আসলে সবার জন্য সঠিক নয়। বিশেষ করে যাদের হজমশক্তি কিছুটা দুর্বল, খালি পেটে তরমুজ খেলে তাদের পেটে গ্যাস বা অস্বস্তি হতে পারে। এছাড়া ভারী খাবার খাওয়ার ঠিক পরপরই তরমুজ খেলে
অতিরিক্ত ও ফ্রিজের ঠান্ডা তরমুজ
ফ্রিজ থেকে বের করা হাড়কাঁপানো ঠান্ডা তরমুজ সাময়িক তৃপ্তি দিলেও তা গলাব্যথা বা ঠান্ডাজনিত সমস্যার ঝুঁকি বাড়ায়। ফ্রিজ থেকে বের করার পর কিছুক্ষণ সাধারণ তাপমাত্রায় রেখে তারপর তরমুজ খাওয়া উচিত। পাশাপাশি, ফল বলে এটি অতিরিক্ত পরিমাণে খাওয়াও ঠিক নয়। তরমুজে থাকা প্রাকৃতিক চিনি রক্তে শর্করার মাত্রা বাড়িয়ে দিতে পারে, তাই একবারে মাঝারি পরিমাণে খাওয়ার অভ্যাস করা প্রয়োজন।
সংরক্ষণ ও রাস্তার ধারের কাটা ফল
কাটা তরমুজ দীর্ঘক্ষণ বাইরে বা ফ্রিজে খোলা অবস্থায় রাখলে দ্রুত ব্যাকটেরিয়া সংক্রমণ হতে পারে, যা পেটের পীড়ার অন্যতম কারণ। এছাড়া রাস্তার পাশে অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে কেটে রাখা তরমুজ জীবাণুমুক্ত থাকে না। সুস্থ থাকতে সবসময় তাজা ও পরিষ্কারভাবে কাটা তরমুজ খাওয়ার পরামর্শ দেন বিশেষজ্ঞরা। বিশেষ করে ডায়াবেটিস রোগীদের ক্ষেত্রে চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী এর পরিমাণ নির্ধারণ করা উচিত।
পরিশেষে, তরমুজ নিঃসন্দেহে গ্রীষ্মের একটি আদর্শ ফল, যদি তা নিয়ম মেনে গ্রহণ করা হয়। পরিমিত বোধ এবং সঠিক সময়ে খাওয়ার অভ্যাসই পারে এই ফলের পূর্ণ পুষ্টিগুণ নিশ্চিত করতে। সামান্য সচেতনতা অবলম্বন করলে আমরা যেমন তরমুজের আসল স্বাদ ও উপকার পাব, তেমনি গরমের ক্লান্তি কাটিয়ে শরীরকেও রাখতে পারব রোগমুক্ত ও প্রাণবন্ত।
/টিএ