logo
youtube logotwitter logofacebook logo

প্রণালি

বাইডেনের সঙ্গে জাপানের প্রধানমন্ত্রীর বৈঠক - image

বাইডেনের সঙ্গে জাপানের প্রধানমন্ত্রীর বৈঠক

13 জানুয়ারি 2023, বিকাল 6:00

চীনের সঙ্গে চলমান দ্বন্দ্বের মধ্যেই বৈঠকে বসলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন ও জাপানের প্রধানমন্ত্রী ফুমিও কিশিদা। শুক্রবার (১৩ জানুয়ারি) হোয়াইট হাউসে দুই নেতার বৈঠকে গুরুত্ব পায় তাইপে প্রণালিতে বেইজিংয়ের তৎপরতা, উত্তর কোরিয়ার ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচিসহ ইন্দো-প্যাসিফিক অঞ্চলের নানা বিষয়। খবর রয়টার্সের। জানা যায়, শুক্রবার যুক্তরাষ্ট্রের ওয়াশিংটন ডিসিতে পৌঁছানোর পর জাপানের প্রধানমন্ত্রী ফুমিও কিশিদাকে স্বাগত জানান মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট কামালা হ্যারিস। এ সময় বরাবরের মতো ওয়াশিংটন-টোকিওর মধ্যকার বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক অব্যাহত থাকবে বলে মন্তব্য করেন কামালা হ্যারিস।এর পরপরই হোয়াইট হাউসের বাইরে আরেক দফায় জাপানের প্রধানমন্ত্রীকে স্বাগত জানান মার্কিন প্রেসিডেন্ট। পরে সেখানে চলে দুই নেতার মুখোমুখি বৈঠক। বৈঠকে পূর্বঘোষণা অনুযায়ী, গুরুত্বারোপ করা হয় ইন্দো-প্যাসিফিক অঞ্চলে কৌশলগত শান্তি ও স্থিতিশীলতার বিষয়ে। এ ছাড়া নিষেধাজ্ঞা উপেক্ষা করে উত্তর কোরিয়ার অব্যাহত ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচি ও তাইওয়ান প্রণালিতে চীনের আধিপত্য বিস্তারের চেষ্টা নিয়ে আলোচনা হয় দুই সরকারপ্রধানের মধ্যে। ইউক্রেনে রাশিয়ার কর্মকাণ্ডের বিষয়টিও উঠে আসে বৈঠকে। সব ছাপিয়ে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর সম্প্রতি জাপানের প্রতিরক্ষা খাতে সরকারের ৩২ হাজার কোটি ডলারের বিনিয়োগকে পূর্ণ সমর্থন দেন বাইডেন। এ ছাড়া চলতি বছরের আসন্ন জি-সেভেন সম্মেলনে জাপানের সভাপতিত্ব ও জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদের অস্থায়ী সদস্য হিসেবে ম্যান্ডেটের জন্যও সমর্থন পুনর্ব্যক্ত করেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট।আর ওয়াশিংটনের সঙ্গে টোকিওর নজিরবিহীন কৌশলগত ও সামরিক সহযোগিতা অব্যাহত থাকবে বলে জানান কিশিদা। গত বছরের মে মাসে বাইডেনের এশিয়া সফরের অংশ হিসেবে জাপান সফরের পর এবার ফুমিও কিশিদা উপস্থিত হলেন হোয়াইট হাউসে। বাইডেন-কিশিদার মধ্যকার এ বৈঠকের তীব্র নিন্দা জানিয়েছে চীন। বেইজিংয়ের কাছে এটি শত্রুতামূলক আচরণ উল্লেখ করে যুক্তরাষ্ট্র ও জাপানকে স্নায়ুযুদ্ধের মানসিকতা এড়িয়ে চলার আহ্বান জানিয়েছে চীনা পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়।

জানুয়ারি ১৩, ২০২৩
ইসরায়েলে ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র হামলার পর বিশ্ববাজারে বাড়ল তেলের দাম - image

ইসরায়েলে ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র হামলার পর বিশ্ববাজারে বাড়ল তেলের দাম

01 অক্টোবর 2024, বিকাল 6:00

মঙ্গলবার ইসরায়েলি ভূখণ্ডে ইরানের ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র হামলার পর বিশ্ববাজারে বেড়েছে জ্বালানি তেলের দাম। মঙ্গলবার ইরানের হামলার পর বিশ্ববাজারে তেলের ডাম ১ ডলারের বেশি বৃদ্ধি পেয়েছে। মূলত, মধ্যপ্রাচ্যে আরও বৃহৎ সংঘাত এবং চলমান উত্তেজনার কারণে তেল সরবরাহে বিঘ্নিত হওয়ার শংকায় এ মূল্যবৃদ্ধি হয়েছে বলে এক প্রতিবেদনে জানিয়েছে বার্তা সংস্থা রয়টার্স। বর্তমান তালিকা অনুযায়ী, ব্রেন্ট ক্রুড তেলের ডাম ১ দশমিক ৪১ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়ে প্রতি ব্যারেল ৭৪ দশমিক ৬০ ডলারে পৌঁছেছে। মার্কিন ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েট (WTI) অপরিশোধিত তেল ১ দশমিক ৪৯ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়ে প্রতি ব্যারেল প্রায় ৭১ ডলারে পৌঁছেছে। এছাড়া মঙ্গলবারের লেনদেনে উভয় অপরিশোধিত তেলের বেঞ্চমার্কের দাম ৫ শতাংশের বেশি বৃদ্ধি পায়। ফিলিপ নোভার সিনিয়র মার্কেট বিশ্লেষক প্রিয়াঙ্কা সচদেভা বলেন, ‘তেল বাজারগুলো মূলত জ্বালানির চাহিদা হ্রাসের কারণে বিশ্ব অর্থনীতির দুর্বলতার গল্পের ওপর নির্ভর করছিল। তবুও ইরান ইসরায়েলের দিকে ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপের পর, মধ্যপ্রাচ্যে তেল সরবরাহে বিঘ্ন ঘটার আশঙ্কা দ্রুত বৃদ্ধি পায়।’ মার্কিন এনার্জি ইনফরমেশন অ্যাডমিনিস্ট্রেশনের তথ্য অনুযায়ী, ইরান বিশ্বের সপ্তম বৃহত্তম তেল উৎপাদনকারী দেশ। শিয়া প্রধান দেশটি তেল উৎপাদনকারী দেশের সংস্থা ওপেকের তৃতীয় বৃহত্তম সদস্য। ক্যাপিটাল ইকোনমিক্সের একটি নোটে বলা হয়েছে, ‘ইরানের বড় ধরনের হামলা যুক্তরাষ্ট্রকে যুদ্ধে টেনে নিতে পারে। ইরান বিশ্ব তেল উৎপাদনের প্রায় ৪ ‍শতাংশ জোগান দেয়। তবে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়, যদি ইরানের সরবরাহ বিঘ্নিত হয়, তবে সৌদি আরব উৎপাদন বাড়াবে কিনা।’ এ বিষয়ে ওপেক প্লাসের একটি প্যানেল বুধবার বৈঠক করবে এবং তেল বাজারের পরিস্থিতি পর্যালোচনা করবে। তবে এই বৈঠক থেকে কোনো নীতিগত পরিবর্তন আশা করা হচ্ছে না। অন্যদিকে ব্যবসায়ীদের আশঙ্কা, মধ্যপ্রাচ্যে সামরিক উত্তেজনা বাড়লে হরমুজ প্রণালির শিপিং কার্যক্রমে প্রভাব পড়তে পারে। ওমান ও ইরানের মধ্যে অবস্থিত গুরুত্বপূর্ণ এই শিপিং রুট দিয়ে বিশ্বের ২০ শতাংশ তেল সরবরাহ হয়ে থাকে। সূত্র: রয়টার্স

অক্টোবর ০১, ২০২৪
ইরানের একটি বন্দরে বিস্ফোরণের ঘটনায় ক্ষেপণাস্ত্রের রাসায়নিক উপাদান জড়িত থাকার খবর পাওয়া গেছে, এবং প্রাণহানির সংখ্যা বেড়ে ২৫ জনে পৌঁছেছে। - image

ইরানের একটি বন্দরে বিস্ফোরণের ঘটনায় ক্ষেপণাস্ত্রের রাসায়নিক উপাদান জড়িত থাকার খবর পাওয়া গেছে, এবং প্রাণহানির সংখ্যা বেড়ে ২৫ জনে পৌঁছেছে।

26 এপ্রিল 2025, বিকাল 6:00

ইরানের শহীদ রাজায়ী বন্দরে বিস্ফোরণ ও অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় নিহতের সংখ্যা ২৫ জনে পৌঁছেছে এবং প্রায় ৮০০ জন আহত হয়েছেন, জানিয়েছে ইরানের রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা ইরনা। বিস্ফোরণের প্রায় ২০ ঘণ্টা পরও আগুন পুরোপুরি নেভানো সম্ভব হয়নি, তবে বর্তমানে এটি অনেকটাই নিয়ন্ত্রণে এসেছে। কাতারভিত্তিক আল–জাজিরা জানিয়েছে, ফায়ার সার্ভিসের ইউনিটগুলো আগুন নিয়ন্ত্রণে আনার জন্য অক্লান্ত পরিশ্রম করছে, এবং এখন ৮০ শতাংশ আগুন নিয়ন্ত্রণে এসেছে, তবে পুরোপুরি নিভে যায়নি। আহতদের মধ্যে ৭৫২ জন হাসপাতাল থেকে ছাড়পত্র পেয়েছেন, তবে অন্তত ৫ জনের অবস্থা গুরুতর এবং তাঁদের উন্নত চিকিৎসার জন্য পার্শ্ববর্তী সিরাজ শহরে স্থানান্তরিত করা হয়েছে। এ দুর্ঘটনায় অন্তত তিনজন চীনা নাগরিকেরও মৃত্যু হয়েছে, জানিয়েছে চীনা সংবাদমাধ্যম সিজিটিএন। ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান নিহত ও আহতদের পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানিয়েছেন এবং ঘটনার কারণ অনুসন্ধানে তদন্তের নির্দেশ দিয়েছেন। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, রাসায়নিক পদার্থের রক্ষণাবেক্ষণে গাফিলতি থেকেই বিস্ফোরণ ঘটেছে। তবে, ইসলামি বিপ্লবী গার্ড বাহিনীর (আইআরজিসি) এক সদস্য দ্য নিউইয়র্ক টাইমসকে জানিয়েছেন, বিস্ফোরিত রাসায়নিকটি ছিল সোডিয়াম পারক্লোরেট, যা ক্ষেপণাস্ত্র তৈরিতে ব্যবহৃত একটি গুরুত্বপূর্ণ উপাদান। বিস্ফোরণটি ইরানের বৃহত্তম বাণিজ্যিক বন্দর শহীদ রাজায়ীতে ঘটে। এটি তেহরান থেকে প্রায় ১,০০০ কিলোমিটার দক্ষিণে এবং হরমুজ প্রণালির কাছেই অবস্থিত, যেখানে বিশ্বের এক-পঞ্চমাংশ জ্বালানি তেল পরিবহন হয়। বিস্ফোরণের তীব্রতা এত বেশি ছিল যে ৫০ কিলোমিটার পর্যন্ত এর ঝাঁকুনি অনুভূত হয়েছে এবং বিকট শব্দ শোনা যায়। শহীদ রাজায়ী বন্দর মূলত কনটেইনার পরিবহন করে, তবে এখানে তেল পরিশোধন কেন্দ্র ও পেট্রোকেমিক্যাল স্থাপনাও রয়েছে। সৌভাগ্যবশত, বিস্ফোরণে তেল পরিশোধন কেন্দ্র, জ্বালানি ট্যাংক, বিতরণ কমপ্লেক্স এবং তেল পাইপলাইনের কোনো ক্ষতি হয়নি। গত সেপ্টেম্বরে কয়লার খনিতে এক ভয়াবহ বিস্ফোরণের ঘটনার ৬ মাসের মধ্যেই রাজায়ী বন্দরে এই বিস্ফোরণ ঘটে। ওই বিস্ফোরণে নিহত হয়েছিল অর্ধশতাধিক কর্মী।

এপ্রিল ২৬, ২০২৫
যে কোনো সময় ইরানে মার্কিন হামলা: সামরিক প্রস্তুতি প্রায় চূড়ান্ত - image

যে কোনো সময় ইরানে মার্কিন হামলা: সামরিক প্রস্তুতি প্রায় চূড়ান্ত

27 জানুয়ারি 2026, বিকাল 7:59

ইরানের শীর্ষ নেতৃত্বকে লক্ষ্য করে যুক্তরাষ্ট্র যে কোনো সময় সামরিক হামলা চালাতে পারে—এমন জোর আলোচনা চলছে আন্তর্জাতিক কূটনৈতিক মহলে। পরিস্থিতির ওপর নির্ভর করে চলতি সপ্তাহেই এই হামলা হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে, যদিও সময়সূচিতে পরিবর্তনের সম্ভাবনাও উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না। যুক্তরাজ্যভিত্তিক সংবাদমাধ্যম মিডল ইস্ট আই এক বিশ্লেষণধর্মী প্রতিবেদনে জানায়, সম্ভাব্য হামলার পর ইরানের পাল্টা প্রতিক্রিয়া এবং এর আঞ্চলিক প্রভাব নিয়ে মার্কিন প্রশাসনের ভেতরেই মতভেদ রয়েছে।প্রতিবেদনে বলা হয়, গত এক মাস ধরে ইরানে চলমান বিক্ষোভ এবং বিক্ষোভকারীদের ওপর কঠোর দমন-পীড়নের অভিযোগকে সামনে রেখে হামলার বিষয়টি বিবেচনায় রাখছে ওয়াশিংটন। অভিযোগ রয়েছে, এসব অভিযানে হাজারো মানুষ নিহত হয়েছে। প্রথমদিকে যুক্তরাষ্ট্র বিক্ষোভকারীদের রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান দখলের আহ্বান জানালেও পরে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প উত্তেজনা কমানোর পথে হাঁটেন। তাঁর দাবি, হত্যাকাণ্ড বন্ধ হয়েছে। সৌদি আরব, কাতার ও ওমানের মতো উপসাগরীয় দেশগুলোর কূটনৈতিক চাপেই ট্রাম্প এই অবস্থান নেন বলে জানা গেছে। তবে সাবেক মার্কিন কর্মকর্তারা বলছেন, এটি সামরিক পরিকল্পনা থেকে সরে আসা নয়, বরং একটি সাময়িক বিরতি।এর আগে ভেনেজুয়েলার ক্ষেত্রেও একই ধরনের কৌশল অনুসরণ করেছিলেন ট্রাম্প। তখনও প্রথমে সংযম দেখানো হলেও পরে অভিযানের মাধ্যমে প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোকে আটক করা হয়। এক সাবেক মার্কিন গোয়েন্দা কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, তেহরানে সরকার পরিবর্তনের লক্ষ্য থেকে এখনো সরে আসেননি ট্রাম্প। বিশেষজ্ঞদের মতে, জানুয়ারির শুরুর দিকের তুলনায় বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্র ইরানে হামলার জন্য অনেক বেশি সামরিকভাবে প্রস্তুত। মধ্যপ্রাচ্যে অতিরিক্ত যুদ্ধবিমান ও যুদ্ধজাহাজ মোতায়েন করা হয়েছে, যা প্রস্তুতির চূড়ান্ত পর্যায়ের ইঙ্গিত দেয়।মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড জানিয়েছে, ‘আব্রাহাম লিংকন’ বিমানবাহী রণতরী ইতোমধ্যে মধ্যপ্রাচ্যে পৌঁছেছে, যেখানে রয়েছে এফ-৩৫, এফএ-১৮ এবং ইলেকট্রনিক যুদ্ধবিমান। পাশাপাশি জর্ডানের একটি ঘাঁটিতে এফ-১৫ যুদ্ধবিমানের স্কোয়াড্রন মোতায়েন করা হয়েছে। তবে উপসাগরীয় দেশগুলো তাদের আকাশসীমা ব্যবহার করে ইরানে হামলার অনুমতি দেয়নি। এই নিষেধাজ্ঞা এপ্রিল ২০২৫ থেকে কার্যকর রয়েছে। রয়টার্স জানিয়েছে, এক শীর্ষ ইরানি কর্মকর্তা সতর্ক করে বলেছেন, আরব দেশগুলোর ঘাঁটি ব্যবহার করে হামলা হলে সেসব দেশও ইরানের পাল্টা আঘাতের শিকার হবে।সৌদি আরব, কাতার, ওমান ও তুরস্ক প্রকাশ্যে ইরানে হামলার বিরোধিতা করেছে। যদিও কিছু ইসরায়েলি গণমাধ্যম দাবি করেছে, সংযুক্ত আরব আমিরাত ও জর্ডান নীরবে হামলার পক্ষে রয়েছে—যা আমিরাত আনুষ্ঠানিকভাবে অস্বীকার করেছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, বর্তমানে ইরানে চলমান ব্যাপক বিক্ষোভের প্রেক্ষাপটে নতুন কোনো মার্কিন হামলাকে দেশটির অস্তিত্বের জন্য সরাসরি হুমকি হিসেবে দেখা হতে পারে। এর জবাবে ইরান মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন ঘাঁটিতে হামলা বা হরমুজ প্রণালি বন্ধ করে দেওয়ার মতো কঠোর পদক্ষেপ নিতে পারে—যে প্রণালি দিয়ে বিশ্বের প্রায় ২০ শতাংশ তেল পরিবহন হয়। ফলে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ আঞ্চলিক সংঘাতে রূপ নিতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।/টিএ

জানুয়ারি ২৭, ২০২৬
ইরান উত্তেজনায় কাঁপছে জ্বালানি বাজার, সরবরাহে বড় ধাক্কা - image

ইরান উত্তেজনায় কাঁপছে জ্বালানি বাজার, সরবরাহে বড় ধাক্কা

04 মার্চ 2026, সকাল 11:38

মধ্যপ্রাচ্যে ইরান–বিরোধী মার্কিন-ইসরাইল সামরিক অভিযানের প্রভাব বিশ্ব জ্বালানি বাজারে স্পষ্ট হয়ে উঠেছে। সংঘাতের কারণে অঞ্চলের তেল উৎপাদন ও রপ্তানি ব্যাহত হয়েছে। এর সরাসরি প্রভাবে বুধবার (৪ মার্চ) বিশ্ববাজারে তেলের দাম ১ ডলারেরও বেশি বৃদ্ধি পায়। বিশ্লেষকরা বলছেন, সরবরাহ নিয়ে অনিশ্চয়তা এবং পরিবহন ঝুঁকি বৃদ্ধির কারণেই বাজারে এ ঊর্ধ্বগতি দেখা দিয়েছে।বার্তাসংস্থা রয়টার্স–এর প্রতিবেদনে জানানো হয়, মঙ্গলবার ব্রেন্ট ক্রুডের দাম ১ দশমিক ১১ ডলার বা ১ দশমিক ৪ শতাংশ বেড়ে ব্যারেলপ্রতি ৮২ দশমিক ৫৩ ডলারে পৌঁছেছে, যা ২০২৫ সালের জানুয়ারির পর সর্বোচ্চ। একই সময়ে মার্কিন ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েট (ডব্লিউটিআই) অপরিশোধিত তেলের দাম ৭৯ সেন্ট বা ১ দশমিক ১ শতাংশ বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৭৫ দশমিক ৩৭ ডলারে। বাজারে বিনিয়োগকারীরা পরিস্থিতি গভীরভাবে পর্যবেক্ষণ করছেন।মঙ্গলবার ইসরায়েলি ও মার্কিন বাহিনী ইরানের বিভিন্ন লক্ষ্যবস্তুতে হামলা চালায়, যার ফলে গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি অবকাঠামো ক্ষতিগ্রস্ত হয়। পাশাপাশি, পেট্রোলিয়াম রপ্তানিকারক দেশগুলোর মধ্যে দ্বিতীয় বৃহত্তম উৎপাদক ইরাক উৎপাদন কমাতে বাধ্য হয়েছে। মজুদের সীমাবদ্ধতা ও রপ্তানি রুট বন্ধ থাকায় দেশটি দৈনিক প্রায় ১ দশমিক ৫ মিলিয়ন ব্যারেল তেল উৎপাদন কমিয়েছে, যা তাদের মোট উৎপাদনের প্রায় অর্ধেক। পরিস্থিতি অব্যাহত থাকলে কয়েক দিনের মধ্যে আরও প্রায় ৩ মিলিয়ন ব্যারেল উৎপাদন বন্ধ হতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।সংঘাতের আরেকটি বড় প্রভাব পড়েছে কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালি–তে। এ প্রণালি দিয়ে বিশ্ব তেলের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ এবং বিপুল পরিমাণ তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস পরিবাহিত হয়। ইরান এখানে ট্যাংকারগুলোকে লক্ষ্যবস্তু করলে পাঁচটি জাহাজে হামলার ঘটনা ঘটে এবং টানা চার দিন প্রণালিটি কার্যত বন্ধ থাকে। যদিও মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প জানিয়েছেন, প্রয়োজন হলে মার্কিন নৌবাহিনী তেল ট্যাংকারগুলোকে এসকর্ট দেবে এবং উপসাগরীয় অঞ্চলে সামুদ্রিক বাণিজ্যের জন্য রাজনৈতিক ঝুঁকি বীমা ও আর্থিক গ্যারান্টির ব্যবস্থাও করা হবে।তবে সামরিক সুরক্ষা ও বীমা সুবিধা বিশ্ববাজারে আস্থা ফিরিয়ে আনতে যথেষ্ট হবে কি না—তা নিয়ে সংশয় রয়েছে জাহাজ মালিক ও বিশ্লেষকদের মধ্যে। ইতোমধ্যে বিভিন্ন দেশ ও কোম্পানি বিকল্প সরবরাহ ও রুট খুঁজতে শুরু করেছে। এদিকে সৌদি আরবের রাষ্ট্রায়ত্ত তেল কোম্পানি সৌদি আরামকো লোহিত সাগর হয়ে রপ্তানি বাড়ানোর চেষ্টা করছে। অন্যদিকে, আমেরিকান পেট্রোলিয়াম ইনস্টিটিউট জানিয়েছে, গত সপ্তাহে যুক্তরাষ্ট্রে অপরিশোধিত তেলের মজুত ৫ দশমিক ৬ মিলিয়ন ব্যারেল বেড়েছে, যা বিশ্লেষকদের পূর্বাভাসের তুলনায় অনেক বেশি। সরকারি পরিসংখ্যান প্রকাশের পর বাজারে আরও ওঠানামা দেখা যেতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।/টিএ

মার্চ ০৪, ২০২৬
হরমুজ প্রণালি ঘিরে শঙ্কা: বিশ্ববাজারে তেলের দাম সর্বোচ্চ - image

হরমুজ প্রণালি ঘিরে শঙ্কা: বিশ্ববাজারে তেলের দাম সর্বোচ্চ

09 মার্চ 2026, বিকাল 3:28

ইরান, ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে চলমান সংঘাতের প্রভাব ধীরে ধীরে বিশ্ব অর্থনীতিতে স্পষ্ট হয়ে উঠছে। সোমবার এশিয়ার বাজারে লেনদেন শুরুর সঙ্গে সঙ্গেই আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দামে বড় ধরনের উল্লম্ফন দেখা গেছে। মধ্যপ্রাচ্যের প্রধান তেল উৎপাদনকারী দেশগুলো উৎপাদন কমিয়ে দেওয়ার আশঙ্কা এবং হরমুজ প্রণালি দিয়ে পণ্য পরিবহন বন্ধ হয়ে যাওয়ার সম্ভাবনার কারণে এই অস্থিরতা তৈরি হয়েছে। ফলে তেলের দাম প্রায় ২০ শতাংশ বেড়ে ২০২২ সালের জুলাইয়ের পর সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছেছে।আজ সকালে আন্তর্জাতিক বেঞ্চমার্ক ব্রেন্ট ক্রুডের ফিউচার মূল্য ব্যারেলপ্রতি ১৮.৩৫ ডলার বা ১৯.৮ শতাংশ বেড়ে ১১১.০৪ ডলারে দাঁড়িয়েছে। একই সময়ে মার্কিন ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েট (ডব্লিউটিআই) ক্রুডের দাম ১৬.৫০ ডলার বা ১৮.২ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়ে ১০৭.৪০ ডলারে পৌঁছেছে। এর আগে গত সপ্তাহেই ব্রেন্ট ও ডব্লিউটিআইয়ের দাম যথাক্রমে প্রায় ২৭ শতাংশ এবং ৩৫.৬ শতাংশ পর্যন্ত বেড়েছিল, যা বাজারে গভীর উদ্বেগের ইঙ্গিত দিচ্ছে।যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে মধ্যপ্রাচ্য থেকে পণ্যবাহী জাহাজ চলাচল ব্যাহত হওয়ায় ইরাক ও কুয়েত তেল উৎপাদন কমাতে শুরু করেছে। কাতারও ইতিমধ্যে তাদের তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) সরবরাহ কমিয়েছে। ইরাকের রাষ্ট্রায়ত্ত বসরা অয়েল কোম্পানির এক কর্মকর্তা জানিয়েছেন, হরমুজ প্রণালি দিয়ে রপ্তানি বন্ধ হয়ে যাওয়ায় তাদের তেলের মজুদাগারগুলো দ্রুত পূর্ণ হয়ে যাচ্ছে। ফলে বাধ্য হয়ে তারা উৎপাদন প্রায় ৭০ শতাংশ কমিয়ে দৈনিক ১.৩ মিলিয়ন ব্যারেলে নামিয়ে এনেছে।বিশ্লেষকদের মতে, পর্যাপ্ত সংরক্ষণ সুবিধা না থাকায় সংযুক্ত আরব আমিরাত ও সৌদি আরবও দ্রুত উৎপাদন কমাতে বাধ্য হতে পারে। বহুজাতিক আর্থিক সেবা সংস্থা এএনজের সিনিয়র কমোডিটি স্ট্র্যাটেজিস্ট ড্যানিয়েল হাইনস জানিয়েছেন, উৎপাদন বন্ধ হয়ে গেলে শুধু সরবরাহই কমে যায় না, যুদ্ধ শেষে উৎপাদন স্বাভাবিক পর্যায়ে ফিরতেও দীর্ঘ সময় লাগে। ফলে তেলের উচ্চমূল্য দীর্ঘদিন স্থায়ী হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।এদিকে সংঘাতের মধ্যেই ইরানে নতুন সর্বোচ্চ নেতা হিসেবে আলী খামেনির স্থলাভিষিক্ত হয়েছেন তাঁর ছেলে মোজতবা খামেনি। বিশ্লেষকেরা মনে করছেন, এ পরিবর্তন তেহরানের কট্টরপন্থী অবস্থানকে আরও জোরালো করতে পারে। একই সময়ে মধ্যপ্রাচ্যের জ্বালানি অবকাঠামোও হুমকির মুখে পড়েছে—সংযুক্ত আরব আমিরাতের ফুজাইরাহ শিল্প এলাকায় অগ্নিকাণ্ডের খবর পাওয়া গেছে এবং সৌদি আরবের শায়বাহ তেলক্ষেত্রের দিকে ধেয়ে আসা একটি ড্রোন ভূপাতিত করার দাবি করেছে দেশটির প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়। ফলে যুদ্ধ দীর্ঘস্থায়ী হলে বিশ্বজুড়ে জ্বালানি সরবরাহে বড় ধরনের সংকট ও দীর্ঘমেয়াদি মূল্যবৃদ্ধির আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।

মার্চ ০৯, ২০২৬
বুধবার বিএনপির সংসদীয় দলের সভা - image

বুধবার বিএনপির সংসদীয় দলের সভা

09 মার্চ 2026, বিকাল 3:47

বুধবার অনুষ্ঠিত হবে বিএনপির সংসদীয় দলের সভা । এতে সভাপতিত্ব করবেন সংসদ নেতা প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। সরকারদলীয় সব সংসদ সদস্যকে জাতীয় সংসদের সরকারদলীয় সভাকক্ষে গুরুত্বপূর্ণ এ সভায় উপস্থিত থাকার অনুরোধ জানিয়েছেন চিফ হুইপ মো. নূরুল ইসলাম। বুধবার (১১ মার্চ) বেলা সাড়ে ১১টায় সংসদ ভবনে অবস্থিত সরকারদলীয় সভাকক্ষে এ সভা অনুষ্ঠিত হবে। সভায় সংসদীয় কার্যপ্রণালি, শৃঙ্খলা এবং দলীয় অবস্থান নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হবে। ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনে নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা পাওয়া বিএনপি সরকার গঠন করেছে। ১২ মার্চ ত্রয়োদশ সংসদের প্রথম অধিবেশন অনুষ্ঠিত হবে। ত্রয়োদশ সংসদে নূরুল ইসলামকে চিফ হুইপ মনোনয়ন দিয়েছে বিএনপি, যিনি বরগুনার সংসদ সদস্য ও দলের ভাইস চেয়ারম্যান।সেই সঙ্গে ছয় হুইপও নির্বাচিত করেছে বিএনপি।নিয়োগ পাওয়া হুইপরা হলেন- হবিগঞ্জ-৩ আসনের সংসদ সদস্য জি কে গউছ, খুলনা-৩ আসনের রকিবুল ইসলাম বকুল, শরীয়তপুর-৩ আসনের মিয়া নুরুদ্দিন আহাম্মেদ অপু, নাটোর-২ আসনের রুহুল কুদ্দুস তালুকদার দুলু, দিনাজপুর-৪ আসনের আখতারুজ্জামান মিয়া এবং লক্ষ্মীপুর-৪ আসনের সংসদ সদস্য এবিএম আশরাফ উদ্দিন নিজান।এই সংসদে বিরোধীদলীয় হুইপের দায়িত্ব পালন করবেন এনসিপির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম। বৃহস্পতিবার সংসদের প্রথম অধিবেশনে স্পিকার, ডেপুটি স্পিকার নির্বাচিত হবেন। বিরোধী দল থেকে স্পিকার দেওয়ার প্রস্তাব দিয়েছে বিএনপি।/টিএ

মার্চ ০৯, ২০২৬
এক শর্তে হরমুজ প্রণালি ব্যবহারের অনুমতি দেবে ইরান - image

এক শর্তে হরমুজ প্রণালি ব্যবহারের অনুমতি দেবে ইরান

14 মার্চ 2026, বিকাল 9:52

বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জলপথ হরমুজ প্রণালি দিয়ে তেলবাহী জাহাজ চলাচলে নতুন এক শর্তের কথা ভাবছে তেহরান। সম্প্রতি ইরানের একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানিয়েছেন, সীমিতসংখ্যক জাহাজ চলাচলের অনুমতি দিলেও একটি বড় শর্ত জুড়ে দেওয়া হবে। আর তা হলো—তেলের দাম মেটাতে হবে চীনা মুদ্রা ইউয়ানে। ডলারে আন্তর্জাতিক লেনদেনের যে প্রথা রয়েছে, তা থেকে বেরিয়ে আসার এক নতুন পরিকল্পনার কথা ভাবছে ইরান সরকার।সাধারণত বিশ্ববাজারে তেলের সব লেনদেন ডলারেই হয়ে থাকে। এর আগে কেবল পশ্চিমা নিষেধাজ্ঞার কবলে থাকা রাশিয়ার তেলের কারবার রুবল বা ইউয়ানে চলতে দেখা গেছে। তবে হরমুজ প্রণালির মতো গুরুত্বপূর্ণ ধমনীকে ঘিরে অস্থিরতা তৈরি হওয়ায় বিশ্ববাজারে তেলের দাম এখন আকাশছোঁয়া। বর্তমান বাজার দর ২০২২ সালের জুলাই মাসের রেকর্ডকেও ছাড়িয়ে গেছে, যা বিশ্ব অর্থনীতিতে বড় ধরনের চাপের সৃষ্টি করেছে।হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচলে বিধিনিষেধ জারি হলে কেবল জ্বালানি নয়, ত্রাণ ও মানবিক সহায়তার ওপরও এর 'বিরাট প্রভাব' পড়বে বলে সতর্ক করেছে জাতিসংঘ। সংস্থাটির আন্ডার-সেক্রেটারি জেনারেল টম ফ্লেচার জানিয়েছেন, এই পথ থমকে গেলে খাদ্য, ওষুধ ও সারের মতো জরুরি সামগ্রীর সরবরাহ যেমন কঠিন হবে, তেমনই অস্বাভাবিকভাবে বাড়বে পরিবহন খরচ। এর ফল পুরো বিশ্বের সাধারণ মানুষের জন্য সুদূরপ্রসারী ও ভয়াবহ হতে পারে।অন্যদিকে, পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত করে তুলেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তিনি স্পষ্ট হুমকি দিয়েছেন যে, পারস্য উপসাগরের এই প্রণালিতে জাহাজ চলাচলে বাধা দিলে ইরানের খারগ দ্বীপের তেল অবকাঠামোতে সরাসরি হামলা চালানো হবে। উল্লেখ্য, ইরানের মোট অপরিশোধিত তেল রপ্তানির প্রায় ৯০ শতাংশই নিয়ন্ত্রিত হয় এই খারগ দ্বীপ থেকে। ট্রাম্পের দাবি, ওই অঞ্চলের সামরিক লক্ষ্যবস্তুগুলো গুঁড়িয়ে দিতে আমেরিকা প্রস্তুত।হরমুজ প্রণালি এখন এক চরম স্নায়ুযুদ্ধের কেন্দ্রবিন্দু। একদিকে ইরান তাদের তেলের বাজারকে ডলারে বদলে ইউয়ানে নিতে চাইছে, অন্যদিকে আমেরিকা তাদের সামরিক শক্তির ভয় দেখাচ্ছে। জ্বালানি সরবরাহ এবং বৈশ্বিক অর্থনীতির স্থায়িত্ব এখন এই উত্তাল জলপথের সিদ্ধান্তের ওপর নির্ভর করছে। এই সংকটের সমাধান কি আলোচনার টেবিলে হবে, নাকি নতুন কোনো যুদ্ধের সূচনা করবে—সেদিকেই এখন তাকিয়ে আছে পুরো বিশ্ব।/টিএ

মার্চ ১৪, ২০২৬
হরমুজ প্রণালী নিয়ে ট্রাম্পের আল্টিমেটাম এর পর হু হু করে বাড়ছে তেলের দাম! - image

হরমুজ প্রণালী নিয়ে ট্রাম্পের আল্টিমেটাম এর পর হু হু করে বাড়ছে তেলের দাম!

23 মার্চ 2026, বিকাল 3:47

মধ্যপ্রাচ্যের তপ্ত মরুভূমিতে এখন কেবল বারুদের গন্ধ নয়, যুদ্ধের আগুনে পুড়ছে বিশ্ব জ্বালানি বাজারও। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের একটি ঘোষণা পুরো বিশ্বের অর্থনীতির ভিত নাড়িয়ে দিয়েছে। ইরানকে হরমুজ প্রণালি খুলে দিতে মাত্র ৪৮ ঘণ্টার সময়সীমা বেঁধে দিয়েছেন তিনি; অন্যথায় ইরানের জ্বালানি অবকাঠামোয় সরাসরি হামলার হুঁশিয়ারি এসেছে হোয়াইট হাউস থেকে। একদিকে ট্রাম্পের এই চরমপত্র, আর অন্যদিকে ইসরায়েলের সামরিক অভিযান আরও কয়েক সপ্তাহ চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা—এই দুই ঘটনার সংঘাতময় আবহে বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের দাম এখন আকাশচুম্বী। তবে কী এই যুদ্ধের দামামা কি শেষ পর্যন্ত আমাদের সাধারণ মানুষের পকেট খালি করার মূল কারণ হয়ে দাঁড়াবে?এই উত্তেজনার সরাসরি প্রভাব পড়েছে তেলের বাজারে। গত রোববার বাজার খোলার সাথে সাথেই মার্কিন অপরিশোধিত তেল ‘ডব্লিউটিআই’-এর দাম ১.৮ শতাংশ বেড়ে ব্যারেলপ্রতি ১০০ ডলারের মনস্তাত্ত্বিক সীমা অতিক্রম করেছে। অথচ গত ২৭ ফেব্রুয়ারি হামলার আগে এই দাম ছিল মাত্র ৬৭.০২ ডলার। একইভাবে ব্রেন্ট ক্রুড তেলের দামও লাফিয়ে ১১৪ ডলারের কাছাকাছি পৌঁছেছে। পরাশক্তিদের এই সামরিক জেদ কি তবে বিশ্ববাসীকে এক দীর্ঘমেয়াদী অর্থনৈতিক সংকটের দিকে ঠেলে দিচ্ছে?বিশ্লেষকরা বলছেন, হরমুজ প্রণালি যদি সত্যিই বন্ধ থাকে, তবে তেলের সরবরাহ ব্যবস্থা ভেঙে পড়বে। বিশ্ববাজারের এই অস্থিরতার ঢেউ এসে আছড়ে পড়েছে দেশের বাজারেও। সরবরাহ ব্যবস্থার সংকট আর যুদ্ধের কারণে অনিশ্চয়তা তেলের বাজারকে অস্থির করে তুলেছে। আন্তর্জাতিক বাজারে দামের এই উর্ধ্বগতি রুখে দেওয়া এখন প্রায় অসম্ভব হয়ে দাঁড়িয়েছে। আমদানিকারক দেশ হিসেবে আমাদের মতো দেশগুলো পড়েছে চরম বিপাকে। তেলের দাম বাড়লে কি শুধু পরিবহন খরচই বাড়ে?একদমই না,পাল্লা দিয়ে বাড়তে থাকে নিত্যপণ্যের দামও।অর্থনীতির এই দুষ্টচক্র থেকে মুক্তির পথ খোঁজা এখন সময়ের দাবি।সরকার বাজার নিয়ন্ত্রণে নানা পদক্ষেপের কথা বললেও বৈশ্বিক এই ঝড় সামলানো কতটা সম্ভব হবে, তা নিয়ে সংশয় কাটছে না। তেলের এই বাড়তি দাম শেষ পর্যন্ত সাধারণ মানুষের ক্রয়ক্ষমতার কতটা ভেতরে থাকবে, তা বলে দেবে সামনের দিনগুলো। 

মার্চ ২৩, ২০২৬
যে কোনো সময় দেশের সব পেট্রোল পাম্প বন্ধের আশংকা, মাথায় হাত বাইকারদের - image

যে কোনো সময় দেশের সব পেট্রোল পাম্প বন্ধের আশংকা, মাথায় হাত বাইকারদের

23 মার্চ 2026, বিকাল 3:56

যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের অনাকঙ্ক্ষিত যৌথ হামলার পর থেকে একের পর এক হামলা চালিয়ে পাল্টা জবাব দিচ্ছে ইরান। আর তাতে দখলদার দেশগুলো কেবল ইরানেরই নয় বরং ক্ষতি করেছে গোটা বিশ্বের। কারণ তাদের হামলার জবাবেই পাল্টা হামলা হয়েছে সৌদির আরামকো তেল শোধনাগারে এমনকি কাতারের সবচেয়ে বড় গ্যাস ক্ষেত্রেও। এছাড়াও যে হরমুজ প্রণালি দিয়েই বেশিরভাগ তেল গ্যাস সরবরাহ করা হতো বিশ্বের বিভিন্ন দেশে, সেটিই যুক্তরাষ্ট্র-ইসরাইলের কারণে এখন কার্যত বন্ধ করে দিয়েছে ইরান। আর তাতে হু হু করে বেড়েছে জ্বালানি তেলের দাম।যুদ্ধের কারণে অস্থির সারা বিশ্বের তেলের বাজার আর বাংলাদেশও এ সংকটের বাইরে নয়। হরমুজ প্রণালিতে বাংলাদেশি জাহাজ ইরান না আটকালেও এ পরিস্থিতিতে বৈশ্বিকভাবেই বেড়ে চলেছে জ্বালানি সংকট। যদিও পেট্রোলিয়াম জ্বালানি সরবরাহ স্বাভাবিক রাখতে অনেকটা নির্ঘুম রাত কাটাচ্ছেন বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশনের সংশ্লিষ্টরা। তবুও পেট্রল পাম্পগুলোতে প্রতিদিনই বাড়ছে ভীড় এবং কাঙ্ক্ষিত পরিমাণে নিতে না পেরে ক্ষোভ বাড়ছে ক্রেতাদের মধ্যে।তবে এবার এক দুঃসংবাদ দিলো বাংলাদেশ পেট্রোল পাম্প ওনার্স অ্যাসোসিয়েশন। যে কোনো সময় দেশের সব পেট্রোল পাম্পগুলো বন্ধ হয়ে যেতে পারে বলে এবার আশঙ্কা করেছে সংস্থাটি। জ্বালানি ঘাটতি ও নিরাপত্তাহীনতার কারণ উল্লেখ করে এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে সংস্থাটি জানিয়েছে, যে সারা দেশের পেট্রোল পাম্পগুলোর অবস্থা বেশ করুণ। যার কারণ কোম্পানি থেকে পাওয়া দৈনিক তেল দিয়ে ক্রেতাদের চাহিদা পূরণ করা সম্ভব হচ্ছে না। ফলে তেল নিতে এসে ঘণ্টার পর ঘণ্টা লাইনে দাঁড়িয়ে থাকছেন মোটরসাইকেল ব্যবহারকারীরা।একইসঙ্গে দীর্ঘ সময় বিরামহীন দায়িত্ব পালনের অভ্যাস না থাকায় শারীরিক ও মানসিকভাবে চাপে পড়ছেন পাম্পে কর্মরতরা। সব মিলিয়ে পর্যাপ্ত তেল সরবরাহ না পাওয়ার কারণে যে কোনো সময় সারা দেশের পেট্রোল পাম্পগুলো বন্ধ হয়ে যেতে পারে। এমনকি উল্লেখযোগ্য মজুদ রেখে কয়েক দিন বিক্রি করার কথা থাকলেও হঠাৎ অতিরিক্ত চাপ ও বিশৃঙ্খলার কারণে অল্প সময়েই তা শেষ হয়ে যাওয়ায় বিপাকে পড়েছে পাম্পগুলো।এছাড়াও ঠাকুরগায়ে গভীর রাতে সংঘবদ্ধভাবে পাম্পে এসে পেট্রোল পাম্প খুলিয়ে জোরপূর্বক তেল নেওয়ার ঘটনা ঘটেছে বলেও অভিযোগ করে সংগঠনটির দাবি, বর্তমানে জ্বালানি তেলের ঘাটতির সঙ্গে রাষ্ট্রের পক্ষ থেকে পেট্রোল পাম্পের নিরাপত্তাবিষয়ক ইস্যুগুলো আরও বেশি সংকটাপন্ন হয়ে উঠছে। এমন অবস্থায় দ্রুত নিরাপত্তা নিশ্চিত না করলে ব্যবসা বন্ধ করে দেওয়া ছাড়া কোনো পথ খোলা নেই বলে শঙ্কা প্রকাশ করে সংগঠনটি। 

মার্চ ২৩, ২০২৬
footer small logo

যোগাযোগ :

এটিএন বাংলা, ওয়াসা ভবন, ২য় তলা, ৯৮ কাজী নজরুল ইসলাম এভিনিউ, কাওরান বাজার, ঢাকা-১২১৫, বাংলাদেশ

ফোনঃ +88-02-55011931

সোশ্যাল মিডিয়া

youtube logotwitter logofacebook logo

Design & Developed by:

developed-company-logo