
এটিএন বাংলা, ওয়াসা ভবন, ২য় তলা, ৯৮ কাজী নজরুল ইসলাম এভিনিউ, কাওরান বাজার, ঢাকা-১২১৫, বাংলাদেশ
ফোনঃ +88-02-55011931
এ সম্পর্কিত আরও খবর
মধ্যপ্রাচ্যে ইরান–বিরোধী মার্কিন-ইসরাইল সামরিক অভিযানের প্রভাব বিশ্ব জ্বালানি বাজারে স্পষ্ট হয়ে উঠেছে। সংঘাতের কারণে অঞ্চলের তেল উৎপাদন ও রপ্তানি ব্যাহত হয়েছে। এর সরাসরি প্রভাবে বুধবার (৪ মার্চ) বিশ্ববাজারে তেলের দাম ১ ডলারেরও বেশি বৃদ্ধি পায়। বিশ্লেষকরা বলছেন, সরবরাহ নিয়ে অনিশ্চয়তা এবং পরিবহন ঝুঁকি বৃদ্ধির কারণেই বাজারে এ ঊর্ধ্বগতি দেখা দিয়েছে।
বার্তাসংস্থা রয়টার্স–এর প্রতিবেদনে জানানো হয়, মঙ্গলবার ব্রেন্ট ক্রুডের দাম ১ দশমিক ১১ ডলার বা ১ দশমিক ৪ শতাংশ বেড়ে ব্যারেলপ্রতি ৮২ দশমিক ৫৩ ডলারে পৌঁছেছে, যা ২০২৫ সালের জানুয়ারির পর সর্বোচ্চ। একই সময়ে মার্কিন ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েট (ডব্লিউটিআই) অপরিশোধিত তেলের দাম ৭৯ সেন্ট বা ১ দশমিক ১ শতাংশ বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৭৫
মঙ্গলবার ইসরায়েলি ও মার্কিন বাহিনী ইরানের বিভিন্ন লক্ষ্যবস্তুতে হামলা চালায়, যার ফলে গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি অবকাঠামো ক্ষতিগ্রস্ত হয়। পাশাপাশি, পেট্রোলিয়াম রপ্তানিকারক দেশগুলোর মধ্যে দ্বিতীয় বৃহত্তম উৎপাদক ইরাক উৎপাদন কমাতে বাধ্য হয়েছে। মজুদের সীমাবদ্ধতা ও রপ্তানি রুট বন্ধ থাকায় দেশটি দৈনিক প্রায় ১ দশমিক ৫ মিলিয়ন ব্যারেল তেল উৎপাদন কমিয়েছে, যা তাদের মোট উৎপাদনের প্রায় অর্ধেক। পরিস্থিতি অব্যাহত থাকলে কয়েক দিনের মধ্যে আরও প্রায় ৩ মিলিয়ন ব্যারেল উৎপাদন বন্ধ হতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
সংঘাতের আরেকটি বড় প্রভাব পড়েছে কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালি–তে। এ প্রণালি দিয়ে বিশ্ব তেলের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ এবং বিপুল পরিমাণ তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস পরিবাহিত হয়। ইরান এখানে ট্যাংকারগুলোকে লক্ষ্যবস্তু করলে পাঁচটি জাহাজে হামলার ঘটনা ঘটে এবং টানা চার দিন প্রণালিটি কার্যত বন্ধ থাকে। যদিও মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প জানিয়েছেন, প্রয়োজন হলে মার্কিন নৌবাহিনী তেল ট্যাংকারগুলোকে এসকর্ট দেবে এবং উপসাগরীয় অঞ্চলে সামুদ্রিক বাণিজ্যের জন্য রাজনৈতিক ঝুঁকি বীমা ও আর্থিক গ্যারান্টির ব্যবস্থাও করা হবে।
তবে সামরিক সুরক্ষা ও বীমা সুবিধা বিশ্ববাজারে আস্থা ফিরিয়ে আনতে যথেষ্ট হবে কি না—তা নিয়ে সংশয় রয়েছে জাহাজ মালিক ও বিশ্লেষকদের মধ্যে। ইতোমধ্যে বিভিন্ন দেশ ও কোম্পানি বিকল্প সরবরাহ ও রুট খুঁজতে শুরু করেছে। এদিকে সৌদি আরবের রাষ্ট্রায়ত্ত তেল কোম্পানি সৌদি আরামকো লোহিত সাগর হয়ে রপ্তানি বাড়ানোর চেষ্টা করছে। অন্যদিকে, আমেরিকান পেট্রোলিয়াম ইনস্টিটিউট জানিয়েছে, গত সপ্তাহে যুক্তরাষ্ট্রে অপরিশোধিত তেলের মজুত ৫ দশমিক ৬ মিলিয়ন ব্যারেল বেড়েছে, যা বিশ্লেষকদের পূর্বাভাসের তুলনায় অনেক বেশি। সরকারি পরিসংখ্যান প্রকাশের পর বাজারে আরও ওঠানামা দেখা যেতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
/টিএ