
এটিএন বাংলা, ওয়াসা ভবন, ২য় তলা, ৯৮ কাজী নজরুল ইসলাম এভিনিউ, কাওরান বাজার, ঢাকা-১২১৫, বাংলাদেশ
ফোনঃ +88-02-55011931
এ সম্পর্কিত আরও খবর
ইরানের শীর্ষ নেতৃত্বকে লক্ষ্য করে যুক্তরাষ্ট্র যে কোনো সময় সামরিক হামলা চালাতে পারে—এমন জোর আলোচনা চলছে আন্তর্জাতিক কূটনৈতিক মহলে। পরিস্থিতির ওপর নির্ভর করে চলতি সপ্তাহেই এই হামলা হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে, যদিও সময়সূচিতে পরিবর্তনের সম্ভাবনাও উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না। যুক্তরাজ্যভিত্তিক সংবাদমাধ্যম মিডল ইস্ট আই এক বিশ্লেষণধর্মী প্রতিবেদনে জানায়, সম্ভাব্য হামলার পর ইরানের পাল্টা প্রতিক্রিয়া এবং এর আঞ্চলিক প্রভাব নিয়ে মার্কিন প্রশাসনের ভেতরেই মতভেদ রয়েছে।
প্রতিবেদনে বলা হয়, গত এক মাস ধরে ইরানে চলমান বিক্ষোভ এবং বিক্ষোভকারীদের ওপর কঠোর দমন-পীড়নের অভিযোগকে সামনে রেখে হামলার বিষয়টি বিবেচনায় রাখছে ওয়াশিংটন। অভিযোগ রয়েছে, এসব অভিযানে হাজারো মানুষ নিহত হয়েছে। প্রথমদিকে যুক্তরাষ্ট্র বিক্ষোভকারীদের রাষ্ট্রীয়
এর আগে ভেনেজুয়েলার ক্ষেত্রেও একই ধরনের কৌশল অনুসরণ করেছিলেন ট্রাম্প। তখনও প্রথমে সংযম দেখানো হলেও পরে অভিযানের মাধ্যমে প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোকে আটক করা হয়। এক সাবেক মার্কিন গোয়েন্দা কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, তেহরানে সরকার পরিবর্তনের লক্ষ্য থেকে এখনো সরে আসেননি ট্রাম্প। বিশেষজ্ঞদের মতে, জানুয়ারির শুরুর দিকের তুলনায় বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্র ইরানে হামলার জন্য অনেক বেশি সামরিকভাবে প্রস্তুত। মধ্যপ্রাচ্যে অতিরিক্ত যুদ্ধবিমান ও যুদ্ধজাহাজ মোতায়েন করা হয়েছে, যা প্রস্তুতির চূড়ান্ত পর্যায়ের ইঙ্গিত দেয়।
মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড জানিয়েছে, ‘আব্রাহাম লিংকন’ বিমানবাহী রণতরী ইতোমধ্যে মধ্যপ্রাচ্যে পৌঁছেছে, যেখানে রয়েছে এফ-৩৫, এফএ-১৮ এবং ইলেকট্রনিক যুদ্ধবিমান। পাশাপাশি জর্ডানের একটি ঘাঁটিতে এফ-১৫ যুদ্ধবিমানের স্কোয়াড্রন মোতায়েন করা হয়েছে। তবে উপসাগরীয় দেশগুলো তাদের আকাশসীমা ব্যবহার করে ইরানে হামলার অনুমতি দেয়নি। এই নিষেধাজ্ঞা এপ্রিল ২০২৫ থেকে কার্যকর রয়েছে। রয়টার্স জানিয়েছে, এক শীর্ষ ইরানি কর্মকর্তা সতর্ক করে বলেছেন, আরব দেশগুলোর ঘাঁটি ব্যবহার করে হামলা হলে সেসব দেশও ইরানের পাল্টা আঘাতের শিকার হবে।
সৌদি আরব, কাতার, ওমান ও তুরস্ক প্রকাশ্যে ইরানে হামলার বিরোধিতা করেছে। যদিও কিছু ইসরায়েলি গণমাধ্যম দাবি করেছে, সংযুক্ত আরব আমিরাত ও জর্ডান নীরবে হামলার পক্ষে রয়েছে—যা আমিরাত আনুষ্ঠানিকভাবে অস্বীকার করেছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, বর্তমানে ইরানে চলমান ব্যাপক বিক্ষোভের প্রেক্ষাপটে নতুন কোনো মার্কিন হামলাকে দেশটির অস্তিত্বের জন্য সরাসরি হুমকি হিসেবে দেখা হতে পারে। এর জবাবে ইরান মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন ঘাঁটিতে হামলা বা হরমুজ প্রণালি বন্ধ করে দেওয়ার মতো কঠোর পদক্ষেপ নিতে পারে—যে প্রণালি দিয়ে বিশ্বের প্রায় ২০ শতাংশ তেল পরিবহন হয়। ফলে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ আঞ্চলিক সংঘাতে রূপ নিতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
/টিএ