
এটিএন বাংলা, ওয়াসা ভবন, ২য় তলা, ৯৮ কাজী নজরুল ইসলাম এভিনিউ, কাওরান বাজার, ঢাকা-১২১৫, বাংলাদেশ
ফোনঃ +88-02-55011931
এ সম্পর্কিত আরও খবর
ইরান যুদ্ধের প্রভাবে বিশ্বজুড়ে জ্বালানির দাম বেড়ে যাওয়ায় রাশিয়া থেকে বিপুল পরিমাণ ডিজেল আমদানির পরিকল্পনা করেছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। শুক্রবার তিনি জানান, রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন অবিলম্বে যুক্তরাষ্ট্র ও বিশ্ববাজারে তিন লাখ টন ডিজেল সরবরাহ করতে সম্মত হয়েছেন। পর্যায়ক্রমে আরও কয়েক দফায় ডিজেল সরবরাহ করবে মস্কো। তবে রাশিয়ার সঙ্গে এই চুক্তি নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের ভেতরে ও আন্তর্জাতিক অঙ্গনে তীব্র সমালোচনার মুখে পড়েছেন ট্রাম্প। বিশেষ করে, মাত্র কয়েক সপ্তাহ আগে রাশিয়ার তেল ও গ্যাস আমদানিকারক দেশগুলোর ওপর নিষেধাজ্ঞা ও শুল্ক আরোপের অনুমোদন দিয়ে আইন স্বাক্ষর করার পর তাঁর এই সিদ্ধান্ত নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।
ট্রাম্পের ঘোষণা অনুযায়ী, প্রথম দফায় তিন লাখ টন ডিজেল
চুক্তিটির বিরোধিতা করেছেন রিপাবলিকান ও ডেমোক্র্যাট—উভয় দলের কয়েকজন মার্কিন আইনপ্রণেতা। রোববার সাতজন সিনেটর যৌথ বিবৃতিতে দাবি করেন, রাশিয়ার সঙ্গে এই চুক্তি যুক্তরাষ্ট্রের আইন লঙ্ঘন করছে। তাঁরা ট্রাম্পকে সিদ্ধান্ত থেকে সরে আসার আহ্বান জানান। বিবৃতিতে স্বাক্ষরকারীদের মধ্যে চারজন রিপাবলিকান ও তিনজন ডেমোক্র্যাট রয়েছেন। তাঁদের বক্তব্য, ইউক্রেনের বেসামরিক নাগরিকদের ওপর হামলা অব্যাহত থাকা অবস্থায় পুতিনকে আর্থিকভাবে শক্তিশালী হওয়ার সুযোগ দেওয়া উচিত নয়। ২০২২ সালে কংগ্রেস রাশিয়ার জ্বালানি আমদানি নিষিদ্ধ করেছিল বলেও তাঁরা উল্লেখ করেন। তবে ট্রাম্পের অর্থমন্ত্রী স্কট বেসেন্ট দাবি করেছেন, জ্বালানির দাম কমাতে বিদ্যমান মার্কিন আইনি কাঠামোর মধ্যেই চুক্তিটি বাস্তবায়ন করা সম্ভব। অন্যদিকে, ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি এই চুক্তিকে পুতিনের জন্য ‘একটি পুরস্কার’ হিসেবে অভিহিত করেছেন। কানাডার প্রধানমন্ত্রী মার্ক কার্নি ও যুক্তরাজ্যের প্রতিরক্ষামন্ত্রী ওয়েস স্ট্রিটিংসহ কয়েকজন আন্তর্জাতিক নেতাও চুক্তিটির সমালোচনা করেছেন।
চলতি বছরের ফেব্রুয়ারির শেষ দিকে ইরানকে ঘিরে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সঙ্গে যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর বিশ্ববাজারে জ্বালানির সরবরাহ ব্যাহত হয়েছে এবং দাম বেড়েছে। যুক্তরাষ্ট্রে ডিজেলের মূল্যবৃদ্ধি বিশেষ করে কৃষক, পশুপালক ও ট্রাকচালকদের ওপর চাপ সৃষ্টি করেছে। ট্রাম্প তাঁর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে জানিয়েছেন, মার্কিন নাগরিকদের জন্য জ্বালানির দাম কমানো তাঁর অন্যতম প্রধান অগ্রাধিকার। মার্কিন অটোমোবাইল অ্যাসোসিয়েশন—এএএ-এর তথ্য অনুযায়ী, দেশটিতে প্রতি গ্যালন ডিজেলের গড় দাম ৬ দশমিক ২৮ ডলার, যা এর আগে ৬ দশমিক ৫৩ ডলারে পৌঁছেছিল। তবে যুক্তরাষ্ট্রে প্রতিদিন প্রায় ৩৬ লাখ ব্যারেল ডিজেল ব্যবহৃত হওয়ায় রাশিয়ার প্রতিশ্রুত সরবরাহে বাজারে কতটা প্রভাব পড়বে, তা নিয়ে বিশ্লেষকদের মধ্যে সংশয় রয়েছে। প্রথম দফার তিন লাখ টন ডিজেল যুক্তরাষ্ট্রের দৈনিক চাহিদার তুলনায় সীমিত পরিমাণ।
এদিকে, আগামী মাসে যুক্তরাষ্ট্রে মধ্যবর্তী নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। এতে কংগ্রেসের নিয়ন্ত্রণ রিপাবলিকানদের হাতে থাকবে কি না, তা নির্ধারিত হবে। জ্বালানির মূল্যবৃদ্ধি ও ইরান যুদ্ধ মোকাবিলায় ট্রাম্পের ভূমিকা নিয়ে অসন্তোষ নির্বাচনে তাঁর দলের জন্য চ্যালেঞ্জ তৈরি করতে পারে। বিশেষ করে কৃষিপ্রধান রাজ্যগুলোতে ডিজেলের দাম গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক ইস্যু হয়ে উঠেছে। এ পরিস্থিতিতে জ্বালানির দাম কমানোর উদ্যোগ হিসেবে রাশিয়ার সঙ্গে চুক্তি করলেও এর বাস্তব সুফল নিয়ে প্রশ্ন থেকেই যাচ্ছে। রোববার ট্রাম্প আরও দাবি করেন, রাশিয়া ও ইউক্রেন একটি ‘জ্বালানি যুদ্ধবিরতি’তে পৌঁছেছে। জেলেনস্কি এই ঘোষণাকে স্বাগত জানালেও মস্কোর পক্ষ থেকে এখনো কোনো প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি। ফলে রাশিয়ার ডিজেল সরবরাহের প্রতিশ্রুতি কতটা বাস্তবায়িত হবে এবং এই চুক্তি যুদ্ধ ও জ্বালানির বাজারে কী প্রভাব ফেলবে, তা এখনো অনিশ্চিত।
টি/