logo
youtube logotwitter logofacebook logo
/ইসলামী জীবন
সারাজীবন বিয়ে না করে থাকা কি ইসলামে জায়েজ? - image

সারাজীবন বিয়ে না করে থাকা কি ইসলামে জায়েজ?

12 সেপ্টেম্বর 2026, বিকাল 1:23

বিয়ে মানবজীবনের ভারসাম্য, প্রশান্তি ও বংশবৃদ্ধির একটি গুরুত্বপূর্ণ মাধ্যম। ইসলামে এটি শুধু সামাজিক বন্ধন নয়, বরং আত্মিক প্রশান্তি ও চরিত্র রক্ষারও একটি উপায়। তবে কোনো ব্যক্তি যদি সারা জীবন বিয়ে না করার সিদ্ধান্ত নেন, তাহলে তার ক্ষেত্রে শরিয়তের বিধান কী হবে, তা নির্ভর করে তার শারীরিক সক্ষমতা, মানসিক অবস্থা এবং হারাম কাজে জড়িয়ে পড়ার আশঙ্কার ওপর।ইসলাম বিয়েকে উৎসাহিত করেছে এবং অকারণে চিরকুমার বা চিরকুমারী থাকার মানসিকতাকে নিরুৎসাহিত করেছে। পবিত্র কোরআনে আল্লাহ তাআলা বলেন, “وَأَنكِحُوا الْأَيَامَىٰ مِنكُمْ وَالصَّالِحِينَ مِنْ عِبَادِكُمْ وَإِمَاءِكُمْ ۚ إِن يَكُونُوا فُقَرَاءَ يُغْنِهِمُ اللَّهُ مِن فَضْلِهِ” অর্থাৎ, ‘তোমাদের মধ্যে যারা অবিবাহিত, তাদের বিয়ে দাও। তারা অভাবগ্রস্ত হলে আল্লাহ নিজ অনুগ্রহে তাদের সচ্ছল করে দেবেন।’ (সুরা আন-নুর: ৩২)শরিয়তের দৃষ্টিতে কোনো ব্যক্তির যদি স্বাভাবিক বা প্রবল যৌন চাহিদা থাকে এবং বিয়ে না করলে জিনা বা অন্য কোনো হারাম কাজে জড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা থাকে, তাহলে তার জন্য বিয়ে করা ওয়াজিব হতে পারে। আর যদি শারীরিক সক্ষমতা ও স্বাভাবিক চাহিদা থাকে, কিন্তু নিজেকে হারাম থেকে রক্ষা করার সামর্থ্যও থাকে, তাহলে বিয়ে তার জন্য সুন্নতে মুয়াক্কাদা। অন্যদিকে, কারও যৌন চাহিদা না থাকা, বার্ধক্য বা শারীরিক অক্ষমতার কারণে বিয়ে না করলেও যদি গুনাহে জড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা না থাকে, তাহলে তার ক্ষেত্রে বিয়ে না করে থাকা জায়েজ হতে পারে।রাসুলুল্লাহ (সা.) যুবকদের বিয়ের প্রতি উৎসাহিত করে বলেছেন, “يَا مَعْشَرَ الشَّبَابِ مَنِ اسْتَطَاعَ مِنْكُمُ الْبَاءَةَ فَلْيَتَزَوَّجْ” অর্থাৎ, ‘হে যুবকের দল! তোমাদের মধ্যে যারা বিয়ের সামর্থ্য রাখে, তারা যেন বিয়ে করে। কারণ তা দৃষ্টিকে সংযত রাখে এবং লজ্জাস্থান হেফাজত করে।’ আর যার সামর্থ্য নেই, তাকে রোজা রাখার নির্দেশ দিয়েছেন। (সহিহ বুখারি: ৫০৬৬; সহিহ মুসলিম: ১৪০০)এ ছাড়া রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, “النِّكَاحُ مِنْ سُنَّتِي” অর্থাৎ, ‘বিয়ে আমার সুন্নত।’ (ইবনে মাজাহ: ১৮৪৬) তাই বিশেষ কোনো বাধ্যবাধকতা বা শারীরিক কারণে বিয়ে সম্ভব না হলে বিষয়টি আলাদা। কিন্তু সক্ষমতা থাকা সত্ত্বেও শুধু বিয়ে থেকে দূরে থাকার জন্য সারাজীবন চিরকুমার থাকার সিদ্ধান্ত ইসলামী জীবনব্যবস্থার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়। প্রত্যেক সামর্থ্যবান মুসলিমের উচিত সুন্নাহ অনুসরণ করে নিজের চরিত্র ও ঈমান হেফাজতের চেষ্টা করা।/টি

সেপ্টেম্বর ১২, ২০২৬

হালাল রিজিকের জন্য যে দোয়াটি পড়তে বলেছেন রাসুলুল্লাহ (সা.)

মানুষের জীবনে রিজিক আল্লাহ তাআলার অন্যতম বড় নিয়ামত। তবে শুধু প্রাচুর্য নয়, একজন মুমিনের কাম্য হলো হালাল ও বরকতময় রিজিক। হালাল উপার্জন মানুষের আত্মমর্যাদা ও মানসিক প্রশান্তি বাড়ায় এবং তাকে হারাম থেকে দূরে থাকতে সহায়তা করে।হালাল রিজিক লাভ, হারাম থেকে বেঁচে থাকা এবং আল্লাহ ছাড়া অন্য কারও মুখাপেক্ষী না হওয়ার জন্য হাদিসে একটি গুরুত্বপূর্ণ দোয়া বর্ণিত হয়েছে। দোয়াটি হলো— “আল্লাহুম্মাকফিনী বিহালালিকা আন হারামিকা, ওয়াগনিনী বিফাদ্বলিকা আম্মান সিওয়াক।” এর অর্থ, ‘হে আল্লাহ! আপনার হালালের মাধ্যমে আমাকে আপনার হারাম থেকে বাঁচিয়ে যথেষ্ট করে দিন এবং আপনার অনুগ্রহে আপনি ছাড়া অন্য সবার মুখাপেক্ষিতা থেকে আমাকে মুক্ত করুন।’সুনানে তিরমিজির ৩৫৬৩ নম্বর হাদিসে এসেছে, হজরত আলী (রা.)-এর কাছে এক মুকাতিব এসে নির্ধারিত অর্থ পরিশোধে অক্ষমতার কথা জানান। তখন হজরত আলী (রা.) তাকে এই দোয়া শিক্ষা দেন এবং বলেন, রাসুলুল্লাহ (সা.) তাকে দোয়াটি শিখিয়েছিলেন।পবিত্র কোরআনেও আল্লাহ তাআলা বান্দার রিজিকের ব্যাপারে আশ্বস্ত করেছেন। সুরা হুদের ৬ নম্বর আয়াতে বলা হয়েছে, “জমিনে বিচরণকারী এমন কোনো প্রাণী নেই, যার রিজিকের দায়িত্ব আল্লাহর ওপর নেই।” রিজিক বলতে শুধু অর্থ-সম্পদ নয়; খাদ্য, পোশাক, বাসস্থানসহ জীবনধারণের জন্য প্রয়োজনীয় বৈধ নিয়ামতও এর অন্তর্ভুক্ত।তাই রিজিকের সন্ধানে মুমিনের কর্তব্য হলো হালাল পথে চেষ্টা করা, হারাম উপার্জন থেকে নিজেকে বাঁচানো এবং আল্লাহর ওপর পূর্ণ তাওয়াক্কুল রাখা। মানুষের কাছে প্রয়োজন প্রকাশের আগে মহান আল্লাহর কাছে দোয়া করা উচিত। আল্লাহ তাআলা সবাইকে হালাল ও বরকতময় রিজিক দান করুন, হারাম উপার্জন থেকে হেফাজত করুন এবং তাঁর অনুগ্রহ ছাড়া অন্য কারও মুখাপেক্ষী হওয়া থেকে মুক্ত রাখুন। আমিন।/টি 

সেপ্টেম্বর ১০, ২০২৬

সংসারে বরকত ও শান্তি পেতে যে আমলগুলো করবেন

সংসারে শান্তি, স্বস্তি ও কল্যাণ চান সবাই। তবে শুধু অর্থ-সম্পদ বা বাহ্যিক স্বাচ্ছন্দ্যই পারিবারিক সুখের নিশ্চয়তা দেয় না। ইসলামের দৃষ্টিতে বরকত হলো—কোনো নিয়ামতে আল্লাহর পক্ষ থেকে এমন কল্যাণ ও স্থায়িত্ব আসা, যাতে অল্পের মধ্যেও প্রশান্তি ও উপকার পাওয়া যায়। কোরআন-সুন্নাহর আলোকে ইমান ও তাকওয়া অবলম্বন, নামাজ-কোরআনের চর্চা এবং হালাল জীবনযাপন পরিবারে বরকত ও শান্তির অন্যতম মাধ্যম।পরিবারে বরকতের প্রধান ভিত্তি ইমান ও তাকওয়া। মহান আল্লাহ বলেন, ‘আর যদি জনপদের অধিবাসীরা ইমান আনত ও তাকওয়া অবলম্বন করত, তবে আমি তাদের জন্য আকাশ ও জমিনের বরকতসমূহ খুলে দিতাম।’ (সুরা আল-আরাফ, আয়াত: ৯৬)। তাই পরিবারে আল্লাহভীতি, ইমানি পরিবেশ ও ইসলামী জীবনচর্চা গড়ে তোলা জরুরি। পাশাপাশি পরিবারের সদস্যদের পাঁচ ওয়াক্ত নামাজে অভ্যস্ত করা এবং ঘরে নিয়মিত কোরআন তিলাওয়াতের পরিবেশ তৈরি করা উচিত। বিশেষ করে সুরা বাকারা পাঠের ব্যাপারে হাদিসে বিশেষ ফজিলতের কথা এসেছে।দিনের শুরুটাও হতে পারে বরকতের মাধ্যম। রাসুলুল্লাহ (সা.) তাঁর উম্মতের ভোরবেলায় বরকতের জন্য দোয়া করেছেন। সাখর ইবনে গামিদ (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘হে আল্লাহ! আমার উম্মতের ভোরবেলায় বরকত দান করুন।’ (সুনানে আবু দাউদ, হাদিস: ২৬০৬; জামে তিরমিজি, হাদিস: ১২১২)। তাই অযথা ঘুমিয়ে সময় নষ্ট না করে ফজরের নামাজ, কোরআন তিলাওয়াত ও প্রয়োজনীয় কাজ দিয়ে দিন শুরু করার অভ্যাস করা যেতে পারে।সংসারে বরকতের জন্য উপার্জনের পথ হালাল হওয়াও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। হারাম উপার্জনে বাহ্যিকভাবে সম্পদ বাড়লেও তাতে প্রকৃত কল্যাণ থাকে না। হালাল উপার্জনের পাশাপাশি সদকা করা এবং আল্লাহর নিয়ামতের শুকরিয়া আদায় করা উচিত। মহান আল্লাহ বলেন, ‘তোমরা কৃতজ্ঞ হলে অবশ্যই আমি তোমাদের আরও বাড়িয়ে দেব।’ (সুরা ইবরাহিম, আয়াত: ৭)। একই সঙ্গে ঘরে প্রবেশের সময় সালাম দেওয়া, খাবার শুরু করার আগে বিসমিল্লাহ বলা এবং সম্ভব হলে পরিবারের সদস্যদের একসঙ্গে খাবার খাওয়ার অভ্যাসও গড়ে তোলা যেতে পারে। হাদিসে একসঙ্গে খাওয়া ও আল্লাহর নাম নেওয়ার মধ্যে বরকতের কথা উল্লেখ রয়েছে।আত্মীয়তার সম্পর্ক বজায় রাখাও ইসলামে বরকতের গুরুত্বপূর্ণ মাধ্যম হিসেবে বিবেচিত। রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘যে ব্যক্তি চায় তার রিজিক প্রশস্ত করা হোক এবং তার আয়ু দীর্ঘ করা হোক, সে যেন আত্মীয়তার সম্পর্ক বজায় রাখে।’ (সহিহ বুখারি, হাদিস: ৫৯৮৬; সহিহ মুসলিম, হাদিস: ২৫৫৭)। তাই আত্মীয়দের খোঁজ নেওয়া, বিপদে পাশে দাঁড়ানো এবং সম্পর্ক নষ্ট না করার চেষ্টা করা উচিত। সব মিলিয়ে সংসারে বরকত পেতে শুধু বেশি অর্থের পেছনে ছুটলেই হবে না; ইমান-তাকওয়া, নামাজ-কোরআন, হালাল উপার্জন, সদকা, পারিবারিক সৌহার্দ্য ও আত্মীয়তার সম্পর্কের মাধ্যমে ঘরে আল্লাহর রহমত ও কল্যাণের পরিবেশ তৈরি করা সম্ভব।/টি

সেপ্টেম্বর ০৮, ২০২৬

গুনাহ ও ঋণ থেকে মুক্তির জন্য যে দোয়া শিখিয়েছেন রাসুল (সা.)

পরকালে সফলতা অর্জনের জন্য মহান আল্লাহ তায়ালার নির্দেশ মেনে চলার পাশাপাশি রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর আদর্শ ও দেখানো পথ অনুসরণ করা জরুরি। পবিত্র কোরআনে আল্লাহ বলেন, ‘হে নবী! আপনি বলে দিন, যদি তোমরা আল্লাহকে ভালোবাসো, তাহলে আমার অনুসরণ করো, আল্লাহ তোমাদের ভালোবাসবেন এবং তোমাদের পাপসমূহ ক্ষমা করে দেবেন।’ (সুরা আল-ইমরান, আয়াত: ৩১)।উম্মতের কল্যাণে রাসুলুল্লাহ (সা.) বিভিন্ন সময়ে নানা বিষয়ে দিকনির্দেশনা দিয়েছেন এবং আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জনের পথও দেখিয়েছেন। এমনই একটি হাদিসে গুনাহ, ঋণ, দারিদ্র্য, কবরের আজাব ও বিভিন্ন ফিতনা থেকে আল্লাহর আশ্রয় চাওয়ার দোয়া বর্ণিত হয়েছে। আয়েশা (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসুল (সা.) দোয়া করতেন—‘হে আল্লাহ! আমি আপনার আশ্রয় চাই অলসতা, অতিরিক্ত বার্ধক্য, গুনাহ ও ঋণ থেকে। কবরের ফিতনা ও আজাব, জাহান্নামের ফিতনা ও আজাব এবং ধন-সম্পদের পরীক্ষার মন্দ পরিণতি থেকেও আপনার আশ্রয় চাই।’ওই দোয়ায় আরও রয়েছে, দারিদ্র্যের অভিশাপ ও মসীহ দাজ্জালের ফিতনা থেকে আল্লাহর আশ্রয় চাওয়ার আবেদন। একই সঙ্গে নিজের গুনাহের দাগ থেকে অন্তরকে বরফ ও শীতল পানি দিয়ে ধুয়ে পরিষ্কার করে দেওয়ার প্রার্থনা করা হয়েছে। সাদা কাপড় যেমন ময়লা থেকে পরিষ্কার করা হয়, তেমনি অন্তরকে সব গুনাহ থেকে পবিত্র করার এবং দুনিয়ার পূর্ব ও পশ্চিম প্রান্তের মতো গুনাহ থেকে দূরত্ব সৃষ্টি করার আবেদনও রয়েছে। (সহিহ বুখারি, হাদিস: ৫৯২৮)।ঋণ পরিশোধের বিষয়েও রাসুলুল্লাহ (সা.) একটি বিশেষ দোয়া শিখিয়েছেন। আলী (রা.) থেকে বর্ণিত, এক ব্যক্তি তার ঋণ পরিশোধে অসামর্থ্যের কথা জানালে তিনি তাকে রাসুল (সা.) শেখানো একটি দোয়া পড়তে বলেন। হাদিসে এসেছে, কারও ওপর পাহাড়সম ঋণ থাকলেও আল্লাহর কাছে এ দোয়া করলে তা পরিশোধের ব্যবস্থা করে দিতে পারেন। দোয়াটি হলো— ‘আল্লাহুম্মাক-ফিনি বি-হালালিকা, আন-হারামিকা, ওয়াগনিনি বিফাদলিকা আম্মান-সিওয়াকা।’এই দোয়ার অর্থ হলো—‘হে আল্লাহ! হারাম থেকে মুক্ত রেখে তোমার দেওয়া হালাল বস্তুই আমার জন্য যথেষ্ট করে দাও। তোমার অনুগ্রহে তুমি ছাড়া অন্য সবকিছু থেকে আমাকে অমুখাপেক্ষী করে দাও।’ (সুনান আত-তিরমিজি, হাদিস: ৩৫৬৩)। তাই গুনাহ ও ঋণের বোঝা থেকে মুক্তি এবং আল্লাহর সন্তুষ্টি লাভের আশায় এসব দোয়া পড়ার পাশাপাশি হালাল উপার্জন, সৎ জীবনযাপন ও রাসুল (সা.)-এর সুন্নাহ অনুসরণের প্রতি যত্নশীল হওয়া উচিত।/টি

সেপ্টেম্বর ০৭, ২০২৬

আলো জ্বালিয়ে তাহাজ্জুদ আদায় করা যাবে কি?

তাহাজ্জুদের নামাজ অন্ধকারে পড়া আবশ্যক বা উত্তম—এমন ধারণার নির্ভরযোগ্য কোনো ভিত্তি নেই বলে জানিয়েছেন ইসলামি বিশেষজ্ঞরা। তাহাজ্জুদের নামাজ আলো জ্বালিয়ে, কম আলোতে কিংবা পুরোপুরি অন্ধকারেও আদায় করা যায়। এ ক্ষেত্রে শরিয়তে অন্ধকারে নামাজ পড়ার কোনো বাধ্যবাধকতা বা বিশেষ উৎসাহ নেই।কেউ আলো জ্বালিয়ে তাহাজ্জুদ আদায় করতে স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করলে তিনি আলো জ্বালিয়েই নামাজ পড়তে পারবেন। আবার কেউ কম আলো বা অন্ধকারে বেশি মনোযোগ ও একাগ্রতা অনুভব করলে সেভাবেও নামাজ আদায় করতে পারেন। তাই আলো জ্বালিয়ে তাহাজ্জুদ পড়লে সওয়াব কম হবে—এমন কোনো প্রমাণ নেই।হাদিসে এসেছে, মহানবী হজরত মুহাম্মদ (সা.) অনেক সময় অন্ধকারে তাহাজ্জুদের নামাজ আদায় করতেন। আয়েশা (রা.) বলেন, তিনি রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর সামনে ঘুমাতেন এবং তাঁর পা রাসুলের কিবলার দিকে থাকত। রাসুলুল্লাহ (সা.) সিজদায় যাওয়ার সময় তাঁর পায়ে মৃদু চাপ দিতেন, তখন তিনি পা গুটিয়ে নিতেন। তিনি দাঁড়ালে আবার পা প্রসারিত করতেন। তখন ঘরগুলোতে কোনো বাতি ছিল না। (সহিহ বুখারি: ৩৮২)অন্য এক বর্ণনায় আয়েশা (রা.) বলেন, এক রাতে তিনি বিছানায় রাসুলুল্লাহ (সা.)-কে না পেয়ে হাতড়ে তাঁকে খুঁজতে থাকেন। পরে তাঁর হাত রাসুলের পায়ে পড়ে এবং তিনি তাঁকে সিজদারত অবস্থায় দেখতে পান। তখন তিনি আল্লাহর কাছে তাঁর ক্রোধ থেকে সন্তুষ্টি, শাস্তি থেকে ক্ষমা এবং তাঁর কাছেই আশ্রয় প্রার্থনা করছিলেন। (সুনানে নাসাঈ: ১৬৯) এসব বর্ণনা থেকে বোঝা যায়, অন্ধকারে তাহাজ্জুদ পড়া জায়েজ হলেও এটিকে আবশ্যক বা বিশেষভাবে উত্তম মনে করার সুযোগ নেই।/টি

সেপ্টেম্বর ০৬, ২০২৬

জমজমের পানি দিয়ে অজু ও গোসলের বিধান কী?

মক্কার মসজিদুল হারাম প্রাঙ্গণে অবস্থিত জমজম কূপের পানি মুসলমানদের কাছে অত্যন্ত বরকতময় ও মর্যাদাপূর্ণ। হজ ও ওমরাহ পালনকারীদের পাশাপাশি বিশ্বের সব মুসলমানের জন্য জমজমের পানি পান করা মুস্তাহাব। নবীজি (সা.) নিজেও জমজমের পানি পান করেছেন। হজরত আবু জর (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘জমজমের পানি বরকতময়, স্বাদ অন্বেষণকারীর খাদ্য।’ (সহিহ মুসলিম, হাদিস : ২৪৭৩)জমজমের পানির বিশেষ মর্যাদার কারণে নবীজি (সা.) তা বহনও করতেন। হজরত আয়েশা (রা.) বর্ণনা করেন, রাসূলুল্লাহ (সা.) পাত্র ও মশকে করে জমজমের পানি সঙ্গে নিয়ে যেতেন। অসুস্থদের ওপর তা ছিটিয়ে দিতেন এবং তাদের পান করাতেন। এ থেকে জমজমের পানির বরকত ও ফজিলত সম্পর্কে ধারণা পাওয়া যায়।জমজমের পানি পান করার ক্ষেত্রে কিছু সুন্নত ও আদব রয়েছে। পান করার সময় কিবলামুখী হওয়া, বিসমিল্লাহ বলা, তিন শ্বাসে পানি পান করা, পরিতৃপ্ত হয়ে পান করা এবং শেষে আলহামদুলিল্লাহ বলা উত্তম। একই সঙ্গে জমজমের পানি পান করার সময় দোয়া করাও গুরুত্বপূর্ণ আমল হিসেবে বিবেচিত হয়।জমজমের পানি দিয়ে অজু ও গোসলের বিষয়েও ইসলামী শরিয়তে কিছু বিধান রয়েছে। আগে থেকেই অজু আছে এবং ব্যক্তি পবিত্র অবস্থায় থাকলে শুধু বরকত লাভের নিয়তে জমজমের পানি দিয়ে নতুন করে অজু বা গোসল করা জায়েজ। পবিত্র কাপড় জমজমের পানিতে ভেজানোও জায়েজ। তবে অজু না থাকা অবস্থায় অন্য পানি থাকা সত্ত্বেও জমজমের পানি দিয়ে অজু করা বা ফরজ গোসল করা মাকরুহ। অন্য কোনো পানি না থাকলে জমজমের পানি দিয়ে অজু করা যাবে; তবে এমন অবস্থাতেও অপবিত্রতা দূর করার জন্য তা দিয়ে গোসল করা মাকরুহ।তাই জমজমের পানি ব্যবহারের ক্ষেত্রে এর মর্যাদা ও আদব রক্ষা করা জরুরি। বরকত লাভের উদ্দেশ্যে মুখ, মাথা ও শরীরে জমজমের পানি ঢালা যেতে পারে। তবে শরীরের অপবিত্রতা দূর করা বা নাপাকি পরিষ্কার করার কাজে জমজমের পানি ব্যবহার না করাই উচিত। ইসলামী ফিকহের গ্রন্থ ফতোয়ায়ে শামী-তে এ বিষয়ে বিস্তারিত বিধান উল্লেখ রয়েছে।/টি

সেপ্টেম্বর ০৫, ২০২৬

পরপর তিন জুমা নামাজ আদায় না করলে কী শাস্তি?

ইসলামে জুমার দিনের বিশেষ মর্যাদা রয়েছে। শুক্রবারকে মুমিনদের সাপ্তাহিক ঈদের দিন হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। মহান আল্লাহ এই দিনকে অন্যান্য দিনের তুলনায় বিশেষ ফজিলত দিয়েছেন। জুমার নামাজ আদায় করা মুসলমানদের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ইবাদত। পবিত্র কোরআনে জুমার নামাজের আহ্বান শুনে দুনিয়াবি কাজকর্ম ছেড়ে আল্লাহর স্মরণে এগিয়ে যাওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।পবিত্র কোরআনে আল্লাহ তায়ালা বলেন, ‘হে মুমিনগণ! জুমার দিন যখন নামাজের আহ্বান জানানো হয়, তখন তোমরা আল্লাহর স্মরণে এগিয়ে যাও এবং বেচাকেনা ছেড়ে দাও। এটা তোমাদের জন্য কল্যাণকর; যদি তোমরা জানতে।’ (সুরা জুমা: ৯)। এ ছাড়া রাসুল (সা.) বলেছেন, ‘মুমিনের জন্য জুমার দিন হলো সাপ্তাহিক ঈদের দিন।’ (ইবনে মাজাহ: ১০৯৮)।জুমার দিনের আমলের মধ্যেও বিশেষ ফজিলত রয়েছে। আউস ইবনে আউস (রা.) থেকে বর্ণিত হাদিসে রাসুল (সা.) জুমার দিন গোসল করে, সময়মতো মসজিদে গিয়ে হেঁটে ইমামের কাছাকাছি বসা এবং খুতবা মনোযোগ দিয়ে শোনার ফজিলত বর্ণনা করেছেন। হাদিস অনুযায়ী, এসব আমলের প্রতিটি পদক্ষেপের বিনিময়ে এক বছর নফল রোজা ও এক বছর নফল নামাজের সওয়াব পাওয়ার কথা বলা হয়েছে। (আবু দাউদ: ৩৪৫)তবে জুমার নামাজ ইচ্ছাকৃতভাবে পরিত্যাগ করার ব্যাপারে হাদিসে কঠোর সতর্কবাণী এসেছে। রাসুল (সা.) বলেছেন, ‘যে ব্যক্তি ইচ্ছাকৃত পর পর তিন জুমা পরিত্যাগ করে, আল্লাহ তায়ালা তার অন্তরে মোহর মেরে দেন।’ (বুখারি: ১০৫২; তিরমিজি: ৫০২; মুসলিম: ১৯৯৯)। অন্য এক বর্ণনায় হজরত আব্দুল্লাহ ইবনে আব্বাস (রা.) থেকে এসেছে, পরপর তিন জুমা পরিত্যাগকারী ইসলামকে পেছনের দিকে নিক্ষেপ করল। এ থেকে জুমার নামাজের গুরুত্ব সম্পর্কে সতর্ক করা হয়েছে।তবে জুমার নামাজ সবার ওপর একইভাবে প্রযোজ্য নয়। হাদিসে ক্রীতদাস, নারী, অপ্রাপ্তবয়স্ক শিশু, মুসাফির ও রোগাক্রান্ত ব্যক্তিকে জুমার নামাজের বাধ্যবাধকতা থেকে অব্যাহতির কথা উল্লেখ করা হয়েছে। তাই সক্ষম ও প্রাপ্তবয়স্ক মুসলিমদের জন্য জুমার নামাজ আদায়ে গুরুত্ব দেওয়া জরুরি। একইভাবে পাঁচ ওয়াক্ত ফরজ নামাজও ইসলামের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ইবাদত। কোরআন-সুন্নাহর নির্দেশনা অনুযায়ী, জুমা ও অন্যান্য ফরজ নামাজ যথাযথভাবে আদায় করার প্রতি প্রত্যেক মুসলমানের যত্নশীল হওয়া উচিত।/টি

সেপ্টেম্বর ০৩, ২০২৬
footer small logo

যোগাযোগ :

এটিএন বাংলা, ওয়াসা ভবন, ২য় তলা, ৯৮ কাজী নজরুল ইসলাম এভিনিউ, কাওরান বাজার, ঢাকা-১২১৫, বাংলাদেশ

ফোনঃ +88-02-55011931

সোশ্যাল মিডিয়া

youtube logotwitter logofacebook logo

Design & Developed by:

developed-company-logo