logo
youtube logotwitter logofacebook logo
/ইসলামী জীবন
আজকের নামাজের সময়সূচি, ১৪ অক্টোবর ২০২৬ - image

আজকের নামাজের সময়সূচি, ১৪ অক্টোবর ২০২৬

14 অক্টোবর 2026, 4:16 PM

আজ বুধবার, ১৪ অক্টোবর ২০২৬, ২৯ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ ও ২ জমাদিউল আউয়াল ১৪৪৮ হিজরি। ঢাকা ও এর পার্শ্ববর্তী এলাকার মুসল্লিদের জন্য আজকের নামাজের সময়সূচি প্রকাশ করা হয়েছে।সময়সূচি অনুযায়ী, আজ জোহরের নামাজের সময় শুরু দুপুর ১১টা ৪৮ মিনিটে। আসরের ওয়াক্ত শুরু হবে বিকেল ৩টা ৫৬ মিনিটে। মাগরিবের নামাজের সময় শুরু হবে বিকেল ৫টা ৩৭ মিনিটে এবং এশার ওয়াক্ত শুরু হবে সন্ধ্যা ৬টা ৫১ মিনিটে।এ ছাড়া, আগামীকাল বৃহস্পতিবার ফজরের নামাজের সময় শুরু হবে ভোর ৪টা ৪৪ মিনিটে।আজ ঢাকায় সূর্যাস্ত হবে বিকেল ৫টা ৩৭ মিনিটে। আগামীকাল সূর্যোদয় হবে ভোর ৫টা ৫৬ মিনিটে।সূত্র: ইসলামিক রিসার্চ সেন্টার, বসুন্ধরা, ঢাকা।টি/

অক্টোবর ১৪, ২০২৬

সন্তানের মতের বিরুদ্ধে বিয়ে দেওয়া কি জায়েজ? ইসলামের বিধান কি

ইসলামে বিয়েকে গুরুত্বপূর্ণ ইবাদত ও পারিবারিক বন্ধনের মাধ্যম হিসেবে বিবেচনা করা হয়েছে। সামর্থ্যবান যুবকদের যথাসময়ে বিয়ের প্রতি উৎসাহ দিয়েছেন হজরত মুহাম্মদ (সা.)। সহিহ বুখারির একটি হাদিসে তিনি বিয়েকে দৃষ্টি সংযত রাখা ও পবিত্রতা রক্ষার অন্যতম মাধ্যম হিসেবে উল্লেখ করেছেন। তবে বিয়ের ক্ষেত্রে পাত্র-পাত্রীর সম্মতি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। প্রাপ্তবয়স্ক নারী-পুরুষের মতামত উপেক্ষা করে তাদের বিয়ে দেওয়ার সুযোগ ইসলামী শরিয়তে নেই। বিয়েতে প্রস্তাব ও গ্রহণের পাশাপাশি সাক্ষীর উপস্থিতিও প্রয়োজন।হজরত আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত হাদিসে রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, তালাকপ্রাপ্তা বা বিধবা নারীর মতামত ছাড়া এবং কুমারি নারীর অনুমতি ছাড়া তার বিয়ে দেওয়া যাবে না। কুমারি নারীর ক্ষেত্রে তার নীরবতাকে সম্মতি হিসেবে গণ্য করার কথাও হাদিসে এসেছে। (সহিহ বুখারি, হাদিস: ৫১৩৬) সন্তানের অমতে বিয়ে দেওয়ার বিষয়টি বোঝাতে আরও একটি ঘটনা পাওয়া যায়। খানসা বিনতে খিজাম (রা.)-কে তার বাবা তার ইচ্ছার বিরুদ্ধে বিয়ে দিয়েছিলেন। তিনি সেই বিয়েতে সন্তুষ্ট ছিলেন না। বিষয়টি নবী (সা.)-কে জানালে তিনি বিয়েটি বাতিল করে দেন। (সহিহ বুখারি, হাদিস: ৫১৩৮)আরেক বর্ণনায়, এক নারী অভিযোগ করেন যে তার বাবা নিজের মর্যাদা বাড়ানোর উদ্দেশ্যে তাকে তার ভাতিজার সঙ্গে বিয়ে দিয়েছেন। তখন রাসুলুল্লাহ (সা.) বিষয়টি ওই নারীর ইচ্ছার ওপর ছেড়ে দেন—তিনি চাইলে বিয়ে বহাল রাখতে পারবেন, আবার চাইলে তা প্রত্যাখ্যানও করতে পারবেন। (ইবনে মাজাহ, হাদিস: ১৮৭৪) এসব বর্ণনায় বিয়ের ক্ষেত্রে পাত্র-পাত্রীর সম্মতির গুরুত্ব স্পষ্টভাবে উঠে এসেছে।ইসলামী আইনবিদদের আলোচনাতেও সন্তানের পছন্দ-অপছন্দকে গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। ইমাম ইবনে তাইমিয়া (রহ.) বলেছেন, বাবা-মায়ের উচিত নয় এমন কোনো মেয়ের সঙ্গে ছেলের বিয়ে দেওয়া, যাকে সে পছন্দ করে না। ছেলে এমন বিয়ে প্রত্যাখ্যান করলে তাকে অবাধ্য হিসেবে গণ্য করা হবে না। আস-সুন্নাহ ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান শায়খ আহমাদুল্লাহও এক প্রশ্নের উত্তরে বলেছেন, সন্তানের অনিচ্ছার বিরুদ্ধে তাকে বিয়ে দেওয়ার অধিকার বাবা-মায়ের নেই। ছেলে বা মেয়ে রাজি না থাকলে শুধু অভিভাবকের ইচ্ছায় বিয়ে দেওয়া ইসলামে বৈধ নয় বলে তিনি মত দেন।তবে বিয়ের ক্ষেত্রে বাবা-মায়ের পরামর্শ ও সন্তুষ্টিকে গুরুত্ব দেওয়া উচিত। একই সঙ্গে সন্তানদেরও অভিভাবকদের সঙ্গে সম্মানজনকভাবে আলোচনা করে সিদ্ধান্ত নেওয়া প্রয়োজন। আর কোনো বিয়েতে জোরজবরদস্তি বা চাপ প্রয়োগের পরিস্থিতি তৈরি হলে স্থানীয় নির্ভরযোগ্য আলেম বা ইসলামী আইনজ্ঞের পরামর্শ নেওয়া যেতে পারে।টি/

অক্টোবর ০৮, ২০২৬

নফল নামাজের ৮ আমল

নফল ইবাদত বান্দার আমলনামার এক অতুলনীয় সৌন্দর্য। ফরজ ও সুন্নতে মুআক্কাদা আদায়ের পর নফল ইবাদতের মাধ্যমে বান্দা খুব দ্রুত মহান আল্লাহর প্রিয়ভাজন হয়ে ওঠে। প্রতিটি রুকু, সেজদা ও তাসবিহের বিনিময়ে বান্দার মর্যাদা বহুগুণ বৃদ্ধি পেতে থাকে। সবচেয়ে বড় কথা হলো, কিয়ামতের দিন ফরজের হিসাবের সময় কোনো ঘাটতি দেখা দিলে এই নফল ইবাদত দিয়েই সেই সূক্ষ্মাতিসূক্ষ্ম ত্রুটিগুলো পূরণ করা হবে।হজরত আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত হাদিসে রাসুলুল্লাহ (সা.) ইরশাদ করেছেন—إِنَّ أَوَّلَ مَا يُحَاسَبُ بِهِ الْعَبْدُ يَوْمَ الْقِيَامَةِ مِنْ عَمَلِهِ: فَإِنْ صَلُحَتْ فَقَدْ أَفْلَحَ وَأَنْجَحَ، وَإِنْ فَسَدَتْ فَقَدْ خَابَ وَخَسِرَ، فَإِنِ انْتَقَصَ مِنْ فَرِيضَتِهِ شَيْءٌ، قَالَ الرَّبُّ عَزَّ وَجَلَّ: انظُرُوا هَلْ لِعَبْدِي مِنْ تَطَوُّعٍ؟ فَيُكَمَّلُ بِهَا مَا انْتَقَصَ مِنَ الْفَرِيضَةِ، ثُمَّ تَكُونُ سَائِرُ أَعْمَالِهِ عَلَى ذَلِكَ‘নিশ্চয় কেয়ামতের দিন সর্বপ্রথম বান্দার নামাজের (ফরজ নামাজ) হিসাব নেওয়া হবে। যদি তা সঠিক হয়, তাহলে সে পরিত্রাণ ও সফলতা লাভ করবে। আর যদি খারাপ হয়, তাহলে সে ব্যর্থ ও ক্ষতিগ্রস্ত হবে। যদি তার ফরজের মধ্যে কিছু কম পড়ে যায়, তখন আল্লাহ তাআলা বলবেন, ‘দেখ তো! আমার বান্দার নফল (ইবাদত) আছে কি না?’ তা দিয়ে ফরজের ঘাটতি পূরণ করা হবে। এরপর অন্যান্য আমলের হিসাবও একইভাবে নেওয়া হবে।’ (তিরমিজি ৪১৩, আবু দাউদ ৮৬৪)তাই মুমিন মুসলমানের উচিত, আল্লাহর নৈকট্য লাভের সুবর্ণ সুযোগ ও পরকালের পাথেয় পেতে প্রতিদিন ৮ নফল নামাজ পড়ার সুযোগ রয়েছে। যার বর্ণনা নিচে তুলে ধরা হলো— ১. তাহাজ্জুদের নামাজ: ফরজ নামাজের পর সর্বশ্রেষ্ঠ নামাজ হলো তাহাজ্জুদ। রাতের নিস্তব্ধতায় আরামের ঘুম ভেঙে এই নামাজ আদায় করা হয় বিধায় এর সওয়াব ও মর্যাদা অনেক বেশি। পবিত্র কুরআনে আল্লাহ তাআলা ইরশাদ করেছেন— تَتَجَافَى جُنُوبُهُمْ عَنِ الْمَضَاجِعِ يَدْعُونَ رَبَّهُمْ خَوْفًا وَطَمَعًا وَمِمَّا رَزَقْنَاهُمْ يُنْفِقُونَ ‘তাদের পার্শ্বদেশ বিছানা থেকে পৃথক হয়ে যায় এবং তারা নিজ প্রতিপালককে ভয় ও আশা মিশ্রিত অনুভূতি নিয়ে ডাকে এবং আমি তাদেরকে যে রিজিক দিয়েছি, তা থেকে ব্যয় করে।’ (সুরা আস-সিজদা: আয়াত ১৬) রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন— وَأَفْضَلُ الصَّلَاةِ بَعْدَ الْفَرِيضَةِ صَلَاةُ اللَّيْلِ ‘আর ফরজ নামাজের পর সর্বশ্রেষ্ঠ নামাজ হলো রাতের (তাহাজ্জুদের) নামাজ।’ (মুসলিম ১১৬৩) ২. ইশরাকের নামাজ: সকালে ফজর নামাজের পর সূর্য পুরোপুরি উদিত হয়ে গেলে দুই থেকে চার রাকাত নফল নামাজ আদায় করাকে ইশরাক বলা হয়। ফজরের পর জামাতে নামাজ পড়ে জিকির-আসকারে সময় কাটিয়ে সূর্যোদয়ের পর এই নামাজ আদায় করলে রয়েছে পূর্ণ হজ ও ওমরার সওয়াব। রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন— مَنْ صَلَّى الْغَدَاةَ فِي جَمَاعَةٍ ثُمَّ قَعَدَ يَذْكُرُ اللَّهَ حَتَّى تَطْلُعَ الشَّمْسُ ثُمَّ صَلَّى رَكْعَتَيْنِ كَانَتْ كَلَحْجِ عُمْرَةٍ تَامَّةٍ تَامَّةٍ تَامَّةٍ ‘যে ব্যক্তি জামাতের সঙ্গে ফজরের নামাজ আদায় করল এবং সূর্যোদয় পর্যন্ত আল্লাহর জিকিরে বসে থাকল, অতঃপর দুই রাকাত নামাজ আদায় করল, সে একটি পরিপূর্ণ হজ ও ওমরাহর সওয়াব পাবে।’ (তিরমিজি ৫৮৬) ৩. চাশত বা দুহার নামাজ: সূর্য মধ্যাকাশে স্থির হওয়ার আগ মুহূর্তে এই নামাজ পড়া হয়। হাদিসে এর অনেক ফজিলত বর্ণিত হয়েছে। যেমনটি রাসুলুল্লাহ (সা.) তার প্রিয় সাহাবি আবু হুরায়রা (রা.)-কে অসিয়ত করেছিলেন— أَوْصَانِي خَلِيلِي بِثَلَاثٍ لَا أَدَعُهُنَّ حَتَّى أَمُوتَ: صَوْمِ ثَلَاثَةِ أَيَّامٍ مِنْ كُلِّ شَهْرٍ، وَصَلَاةِ الضُّحَى، وَنَوْمٍ عَلَى وِتْرٍ ‘আমার প্রিয়তম (রাসুল) আমাকে তিনটি বিষয়ে অসিয়ত করেছেন, মৃত্যুর আগ পর্যন্ত আমি যেন তা ত্যাগ না করি: প্রতি মাসে তিন দিন রোজা রাখা, দুহা বা চাশতের নামাজ পড়া এবং ঘুমানোর আগে বিতর আদায় করা।’ (বুখারি ১১৮) অন্য হাদিসে এসেছে, চাশতের নামাজ আদায়কারী উদাসীনদের তালিকাভুক্ত হয় না এবং নিয়মিত ১২ রাকাত পড়লে আল্লাহ তার জন্য জান্নাতে একটি ঘর নির্মাণ করেন। (তাবারানির ৬৭১)৪. আওয়াবিনের নামাজ: মাগরিবের ফরজ ও সুন্নত নামাজের পর কমপক্ষে ছয় রাকাত নফল নামাজ পড়া আউওয়াবিন নামে পরিচিত। এশার ওয়াক্ত আসার আগ পর্যন্ত এটি পড়া যায়। রাসুলুল্লাহ (সা.) ইরশাদ করেছেন— مَنْ صَلَّى بَعْدَ الْمَغْرِبِ سِتَّ رَكَعَاتٍ لَمْ يَتَكَلَّمْ بَيْنَھُنَّ بِسُوءٍ عُدِلْنَ لَهُ بِعِبَادَةِ ثِنْتَيْ عَشْرَةَ سَنَةً ‘যে ব্যক্তি মাগরিবের পর (সুন্নত ও নফল মিলিয়ে) ছয় রাকাত নামাজ আদায় করবে এবং এর মাঝে কোনো মন্দ কথা বলবে না, তার আমলনামায় ১২ বছরের ইবাদতের সওয়াব লেখা হবে।’ (ইবনে মাজাহ ১১৬৭) ৫. তাহিয়্যাতুল অজু: সুন্নত তরিকা অনুযায়ী উত্তমরূপে অজু করার পর দুই রাকাত নফল নামাজ পড়া হলো তাহিয়্যাতুল অজু। অপবিত্র অবস্থা থেকে পবিত্রতা অর্জনের কৃতজ্ঞতাস্বরূপ এটি আদায় করা হয়। রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন— مَا مِنْ عَبْدٍ يَتَوَضَّأُ فَيُحْسِنُ وُضُوءَهُ ثُمَّ يَقُومُ فَيُصَلِّي رَكْعَتَيْنِ مُقْبِلٌ عَلَيْهِمَا بِقَلْبِهِ وَوَجْهِهِ إِلَّا وَجَبَتْ لَهُ الْجَنَّةُ ‘যে ব্যক্তি উত্তমরূপে অজু করল এবং নিষ্ঠার সঙ্গে (মনোযোগ সহকারে) দুই রাকাত নামাজ আদায় করল, তার জন্য জান্নাত ওয়াজিব হয়ে যায়।’ (মুসলিম ২৩৪)৬. তাহিয়্যাতুল মসজিদ: মসজিদে প্রবেশ করে বসার পূর্বে দুই রাকাত নফল নামাজ আদায় করাকে তাহিয়্যাতুল মসজিদ বলা হয়। মসজিদে উপস্থিত হওয়ার নেয়ামতের শুকরিয়া হিসেবে এটি পড়তে হয়। রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন— إِذَا دَخَلَ أَحَدُكُمُ الْمَسْجِدَ فَلَا يَجْلِسْ حَتَّى يُصَلِّيَ رَكْعَتَيْنِ ‘তোমাদের কেউ মসজিদে প্রবেশ করলে সে যেন বসার আগে দুই রাকাত নামাজ আদায় করে নেয়।’ (বুখারি ১১৬৭) ৭. সালাতুল হাজাত: বিশেষ কোনো প্রয়োজন বা সংকটে পড়ে আল্লাহর সাহায্য প্রার্থনা করার জন্য দুই রাকাত নফল নামাজ পড়া হলো সালাতুল হাজাত। নিষিদ্ধ সময় ছাড়া যেকোনো সময় এটি পড়া যায়। রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, যে ব্যক্তি সুন্দরভাবে অজু করে এই বিশেষ নামাজ আদায় করবে এবং আল্লাহর কাছে প্রার্থনা করবে, আল্লাহ তার প্রয়োজন পূরণ করবেন।’ (তিরমিজি ৪৭৮) ৮. তাওবার নামাজ: মানুষ মাত্রই ভুল। কিন্তু কোনো গুনাহ হয়ে গেলে হতাশ না হয়ে তওবার নিয়তে দুই রাকাত নামাজ আদায় করা অত্যন্ত ফজিলতপূর্ণ। হজরত আবু বকর সিদ্দিক (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন— مَا مِنْ عَبْدٍ يُذْنِبُ ذَنْبًا ثُمَّ يَتَطَهَّرُ فَيُصَلِّي ثُمَّ يَسْتَغْفِرُ اللَّهَ إِلَّا غَفَرَ لَهُ ‘যখন কোনো বান্দা পাপ করে ফেলে, এরপর সে ভালোভাবে অজু করে এবং দাঁড়িয়ে দুই রাকাত নামাজ আদায় করে, তারপর আল্লাহর কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করে—আল্লাহ তাকে অবশ্যই ক্ষমা করে দেন।’ (আবু দাউদ ১৫২১)ফরজ ইবাদত হলো দ্বীনের মূল ভিত, আর নফল ইবাদত হলো সেই অট্টালিকার সৌন্দর্য ও সুরক্ষার চাদর। জীবনের নানা ব্যস্ততার ফাঁকে নফল ইবাদতের অভ্যাস গড়ে তোলার মাধ্যমে আমরা যেমন দুনিয়াতে আল্লাহর প্রিয়ভাজন হতে পারি, তেমনি পরকালের হিসাবের দিনেও নিজেদের আমলনামাকে ভারী করতে পারি। আসুন, বেশি বেশি নফল ইবাদতের মাধ্যমে জীবনকে বরকতময় করে তুলি।/টি

অক্টোবর ০৩, ২০২৬

প্রতিটি কাজে বিসমিল্লাহর বরকত ও উপকারিতা

বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহিম। এটি একটি আয়াতের অংশ; কেউ কেউ একে পূর্ণাঙ্গ আয়াতও বলেছেন। আয়াত হোক বা আয়াতাংশ—‘বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহিম’-এর রয়েছে বিশেষ গুরুত্ব। কেউ ফরজ হুকুম পালনের পাশাপাশি বিসমিল্লাহর আমল করলে আল্লাহ তাআলা তাকে বরকত ও কল্যাণ দান করেন। বিসমিল্লাহ হৃদয়ে প্রশান্তি আনে, কাজে আত্মনিবেদিত হতে প্রেরণা জোগায়, আল্লাহর প্রতি নির্ভরতা বাড়ায় এবং জীবনকে আলোকিত করে। এর রয়েছে অফুরন্ত বরকত ও অনন্য উপকারিতা।বিসমিল্লাহর অন্যতম উপকারিতা হলো কোরআনের অনুসরণ। কোরআনুল কারিম আল্লাহর পক্ষ থেকে মানবজাতির প্রতি শ্রেষ্ঠ উপহার। এর প্রতিটি সুরায় রয়েছে নূর ও হিদায়াত। পবিত্র এই কিতাবের প্রতিটি সুরার শুরুতে রয়েছে বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহিম। ১১৪টি সুরার মধ্যে সুরা তওবা ছাড়া বাকি ১১৩টি সুরার সূচনাই বিসমিল্লাহর মাধ্যমে। এছাড়া বিসমিল্লাহ বরকতহীনতা থেকে মুক্তির মাধ্যম। কোনো ভালো কাজ বিসমিল্লাহ বলে শুরু করলে তাতে বরকতের স্পর্শ পাওয়া যায়। হজরত আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘প্রতিটি গুরুত্বপূর্ণ কাজ যদি আল্লাহকে স্মরণ (বিসমিল্লাহ) করে শুরু না করা হয়, তাহলে তা লেজকাটা বা বরকতহীন হয়ে যায়।’ (আল জামেউস সগীর : ৬২৬৬)।বিসমিল্লাহর আরেকটি উপকারিতা হলো আল্লাহর প্রতি মুখাপেক্ষিতা বৃদ্ধি। বিসমিল্লাহ বলার মাধ্যমে মানুষ প্রতিমুহূর্তে তার জীবনের গতিবিধি একমাত্র আল্লাহর দিকে ফিরিয়ে রাখে এবং তাঁর আনুগত্য স্বীকার করে। প্রতিটি কাজে আল্লাহর প্রতি মুখাপেক্ষিতাই বান্দার সফলতা বয়ে আনে। একই সঙ্গে বিসমিল্লাহ নবীদের পবিত্র অভ্যাসের অনুকরণ। পূর্ববর্তী নবীদের জীবনাদর্শেও এর উপস্থিতি লক্ষণীয়। হজরত নূহ (আ.) মহাপ্লাবনের সময় নৌকায় আরোহণকালে বিসমিল্লাহ বলে আল্লাহর সাহায্য কামনা করেছিলেন। কোরআনে এসেছে, ‘তোমরা এ নৌকায় আরোহণ কর। এর চলাও আল্লাহর নামে এবং নোঙর করাও।’ (সুরা হুদ : ৪১)। হজরত সুলায়মান (আ.)-এর চিঠিও বিসমিল্লাহ দিয়ে শুরু হয়েছিল। (সুরা নামল : ২৯-৩০)।সর্বব্যাপী আল্লাহর রহমত ও কৃতজ্ঞতা প্রকাশ-এরও মাধ্যম বিসমিল্লাহ। ‘বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহিম’-এ পরম করুণাময় ও অতি দয়ালু আল্লাহর নাম রয়েছে। ফলে বান্দা আল্লাহর দয়া ও রহমতের আশ্রয় গ্রহণ করে। ওজু, নামাজের প্রস্তুতি, পানাহারসহ বিভিন্ন কাজে বিসমিল্লাহ বলার মাধ্যমে আল্লাহর দয়া ও রহমত কামনার পাশাপাশি তাঁর প্রতি কৃতজ্ঞতাও প্রকাশ করা হয়। এতে অন্তরে বিনয় ও নম্রতা তৈরি হয়। আল্লাহর শোকর আদায় বান্দাকে আল্লাহর প্রিয় করে এবং নিয়ামত বৃদ্ধি করে। ইরশাদ হয়েছে, ‘তোমরা কৃতজ্ঞ হলে তোমাদের অবশ্যই অধিক দেব আর অকৃতজ্ঞ হলে অবশ্যই আমার শাস্তি হবে কঠোর।’ (সুরা ইবরাহিম : ৭)।বিসমিল্লাহর আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ উপকারিতা হলো সুসংবাদ ও নিরাপত্তার নিশ্চয়তা। হজরত আনাস ইবনু মালিক (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, কোনো ব্যক্তি ঘর থেকে বের হওয়ার সময় ‘বিসমিল্লাহি তাওয়াক্কালতু আলাল্লাহ, ওয়া লা হাওলা ওয়ালা কুওয়াতা ইল্লা বিল্লাহ’ বললে তাকে বলা হয়—তুমি হিদায়াতপ্রাপ্ত হয়েছ, রক্ষা পেয়েছ ও নিরাপত্তা লাভ করেছ। ফলে শয়তান তার থেকে দূরে সরে যায়। (সুনানে আবু দাউদ : ৫০৯৫)। মহান আল্লাহ সবাইকে বিসমিল্লাহর গুরুত্ব বোঝার এবং তা জীবনের বিভিন্ন ক্ষেত্রে আমল করার তাওফিক দান করুন। আমিন।টি/

সেপ্টেম্বর ৩০, ২০২৬

আজকের নামাজের সময়সূচি

ইসলামের পাঁচটি স্তম্ভের মধ্যে নামাজ অন্যতম। পঞ্চস্তম্ভের মধ্যে নামাজের অবস্থান দ্বিতীয়। নির্ধারিত সময়ে নামাজ আদায় করা ইসলামের গুরুত্বপূর্ণ বিধান।শনিবার (২৬ সেপ্টেম্বর) ঢাকা ও পার্শ্ববর্তী এলাকার নামাজের সময়সূচি নিচে দেওয়া হলো—জোহর: দুপুর ১১টা ৫৪ মিনিটআসর: বিকেল ৪টা ১০ মিনিটমাগরিব: সন্ধ্যা ৫টা ৫৫ মিনিটএশা: সন্ধ্যা ৭টা ৯ মিনিটবিভাগভেদে সময়ের পরিবর্তনঢাকার সময়ের সঙ্গে বিভিন্ন বিভাগের ক্ষেত্রে নির্দিষ্ট সময় যোগ বা বিয়োগ করতে হবে।যেসব বিভাগে সময় যোগ করতে হবে:খুলনা: ৩ মিনিটরাজশাহী: ৭ মিনিটরংপুর: ৮ মিনিটবরিশাল: ১ মিনিটযেসব বিভাগে সময় বিয়োগ করতে হবে:চট্টগ্রাম: ৫ মিনিটসিলেট: ৬ মিনিট টি/

সেপ্টেম্বর ২৬, ২০২৬

জুমার নামাজে দেরি করলে যে ফজিলতগুলো হাতছাড়া হয়

সপ্তাহের শ্রেষ্ঠ দিন জুমাবার উম্মতে মুহাম্মাদির জন্য অফুরন্ত বরকত ও কল্যাণের দিন। রাসুলুল্লাহ (সা.) এই দিনের মর্যাদা সম্পর্কে ইরশাদ করেছেন, ‘সূর্য উদিত হওয়ার দিনগুলোর মধ্যে জুমার দিন সর্বোত্তম। এই দিনে আদম (আ.)-কে সৃষ্টি করা হয়েছে, এই দিনেই তাকে জান্নাতে প্রবেশ করানো হয়েছে এবং এই দিনেই তাকে সেখান থেকে বের করা হয়েছে।’ (মুসলিম ৮৫৪) তবে জুমার মর্যাদা কেবল দুই রাকাত ফরজ নামাজ আদায়ের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়; বরং এর প্রস্তুতি, আগেভাগে মসজিদে গমন এবং খুতবা শোনার প্রতিটি স্তরে রয়েছে বিশেষ ও অফুরন্ত সওয়াব। বর্তমান ব্যস্ততা বা অলসতার কারণে অনেকেই জুমার নামাজে দেরি করে মসজিদে পৌঁছান। অথচ এতে তারা গুরুত্বপূর্ণ ফজিলত ও সওয়াব থেকে বঞ্চিত হন।আল্লাহ তাআলা মুমিনদের জুমার দিনের গুরুত্ব অনুধাবন করে দ্রুত মসজিদে আসার নির্দেশ দিয়ে বলেছেন— يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا إِذَا نُودِيَ لِلصَّلَاةِ مِنْ يَوْمِ الْجُمُعَةِ فَاسْعَوْا إِلَى ذِكْرِ اللَّهِ وَذَرُوا الْبَيْعَ ۚ ذَلِكُمْ لَكُم إنْ كُنْتُمْ تَعْلَمُونَ ‘হে মুমিনগণ! জুমার দিনে যখন নামাজের জন্য আহ্বান করা হয়, তখন তোমরা আল্লাহর স্মরণের দিকে ধাবিত হও এবং বেচাকেনা ছেড়ে দাও। এটাই তোমাদের জন্য উত্তম, যদি তোমরা জানতে।’ (সুরা আল-জুমা: আয়াত ৯) এখানে ‘ধাবিত হওয়া’ বলতে শুধু দ্রুত দৌড়ে যাওয়া বোঝানো হয়নি; বরং এর মূল তাৎপর্য হলো আল্লাহর স্মরণের প্রতি গভীর আগ্রহ ও গুরুত্বের সঙ্গে এগিয়ে যাওয়া এবং পার্থিব সকল ব্যস্ততা বর্জন করা।জুমার দিন যত আগে মসজিদে যাওয়া যায়, সওয়াবের সুযোগ ততই বেশি। রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন— مَنِ اغْتَسَلَ يَوْمَ الْجُمُعَةِ غُسْلَ الْجَنَابَةِ ثُمَّ رَاحَ، فَكَأَنَّمَا قَرَّبَ بَدَنَةً... ‘জুমার দিন মসজিদের প্রতিটি দরজায় ফেরেশতারা দাঁড়িয়ে থাকে এবং যে আগে আসে তার নাম লিখতে থাকে। যে সবার আগে আসে, তার জন্য যেন একটি উট কুরবানি করার সওয়াব লেখা হয়। এরপর যে আসে, তার জন্য যেন একটি গরু কুরবানি করার সওয়াব লেখা হয়। অতঃপর মেষ কুরবানি করার ন্যায়। এরপর আগমনকারী ব্যক্তি মুরগি দানকারীর ন্যায়। তারপর আগমনকারী ব্যক্তি একটি ডিম দানকারীর ন্যায়। অতঃপর ইমাম যখন খুতবা দিতে বের হন, তখন ফেরেশতারা তাদের খাতা গুটিয়ে ফেলেন এবং খুতবা শুনতে বসেন।’ (বুখারি ৮৮১) এ ছাড়া পায়ে হেঁটে আগেভাগে মসজিদে যাওয়ারও রয়েছে বিশেষ প্রতিদান। রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন— مَنْ غَسَّلَ يَوْمَ الْجُمُعَةِ وَاغْتَسَلَ ثُمَّ بَكَّرَ وَابْتَكَرَ وَمَشَى وَلَمْ يَرْكَبْ... ‘যে ব্যক্তি জুমার দিন গোসল করে, আগেভাগে মসজিদে যায়, হেঁটে যায়, বাহনে চড়ে না, ইমামের কাছাকাছি বসে, মনোযোগ দিয়ে খুতবা শোনে এবং কোনো অনর্থক কাজে লিপ্ত হয় না, তার প্রতিটি পদক্ষেপের বিনিময়ে এক বছরের রোজা ও রাতের নামাজের সওয়াব লেখা হয়।’ (আবু দাউদ ৩৪৫)দেরিতে মসজিদে পৌঁছালে প্রথম কাতারের ফজিলত থেকেও বঞ্চিত হতে হয়। প্রথম কাতারের ফজিলত সম্পর্কে নবীজি (সা.) বলেছেন, ‘মানুষ যদি আজান ও প্রথম কাতারে কী ফজিলত রয়েছে তা জানত, এরপর তা পাওয়ার জন্য লটারির ব্যবস্থা করা ছাড়া আর কোনো উপায় থাকত না, তাহলে তারা অবশ্যই লটারি করত।’ (বুখারি ৬১৫) আবার দেরিতে এসে সামনের দিকে যাওয়ার জন্য মুসল্লিদের কাঁধ ডিঙিয়ে যাওয়ার মতো অনুচিত কাজও ঘটতে পারে। অথচ রাসুলুল্লাহ (সা.) এক ব্যক্তিকে উদ্দেশ্য করে বলেছিলেন, ‘বসে পড়ো। তুমি কষ্ট দিয়েছ এবং দেরি করে এসেছ।’ (আবু দাউদ ১১১৮) একইভাবে খুতবার শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত মনোযোগ সহকারে শোনারও রয়েছে বিশেষ বরকত। রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন— مَنْ تَوَضَّأَ فَأَحْسَنَ الْوُضُوءَ ثُمَّ أَتَى الْجُمُعَةَ فَأَنصَتَ وَأَسْمَعَ، غُفِرَ لَهُ مَا بَيْنَهُ وَبَيْنَ الْجُمُعَةِ وَزِيَادَةُ ثَلَاثَةِ أَيَّامٍ ‘যে ব্যক্তি উত্তমভাবে অজু করে জুমায় আসে, খুতবা মনোযোগ দিয়ে শোনে এবং নীরব থাকে, তার এক জুমা থেকে পরবর্তী জুমা পর্যন্ত এবং আরও তিন দিনের গুনাহ ক্ষমা করে দেওয়া হয়।’ (মুসলিম ৮৫৭)জুমার দিনে দোয়া কবুলের একটি বিশেষ মুহূর্তও রয়েছে। রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন— فِيهِ سَاعَةٌ لَا يُوَافِقُهَا عَبْدٌ مُسْلِمٌ وَهُوَ قَائِمٌ يُصَلِّي يَسْأَلُ اللَّهَ شَيْئًا إِلَّا أَعْطَاهُ إِيَّاهُ ‘জুমার দিনে এমন একটি সময় আছে, কোনো মুসলিম বান্দা নামাজরত অবস্থায় সেই সময় আল্লাহর কাছে কিছু চাইলে আল্লাহ তাকে তা দান করেন।’ (বুখারি ৯৩৫) তবে দেরিতে মসজিদে পৌঁছালে জুমার ফরজ নামাজ বাতিল হয়ে যায়—বিষয়টি এমন নয়। ইমামের সঙ্গে রুকু বা জামাত পেলে জুমা আদায় হয়ে যায়। তবে জুমার দিনের উদ্দেশ্য শুধু দায়সারাভাবে ফরজ নামাজ আদায় করা নয়; বরং প্রস্তুতি নিয়ে আগেভাগে মসজিদে গিয়ে সর্বোচ্চ সওয়াব ও ফজিলত অর্জনের চেষ্টা করা। তাই আলস্য ও অপ্রয়োজনীয় ব্যস্ততা ত্যাগ করে পর্যাপ্ত সময় হাতে নিয়ে মসজিদের পথে বের হওয়া এবং জুমার দিনের সুন্নত ও ফজিলতগুলো যথাসম্ভব পূর্ণভাবে পালনের প্রতি গুরুত্ব দেওয়া উচিত।/টি

সেপ্টেম্বর ২৫, ২০২৬

কোরআন-হাদিসে কঠিন সময়ে প্রশান্তির বার্তা

জীবনের কোনো না কোনো মোড়ে এসে মানুষকে নানা প্রতিকূলতা, হতাশা ও দীর্ঘ অপেক্ষার মুখোমুখি হতে হয়। এমন পরিস্থিতিতে ধৈর্য ধারণ এবং আল্লাহর ওপর ভরসা রাখাকে মুমিনের অন্যতম বড় শক্তি হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। কুরআন মাজিদে মহান আল্লাহ রাব্বুল আলামিন ইরশাদ করেন— وَاصْبِرْ لِحُكْمِ رَبِّكَ فَإِنَّكَ بِأَعْيُنِنَا ‘তুমি ধৈর্য ধরে তোমার রবের সিদ্ধান্তের অপেক্ষায় থাকো; তুমি তো আমার চোখের সামনেই আছো!’ (সুরা আত-তুর: আয়াত ৪৮)। আয়াতটিতে কঠিন সময়ে ধৈর্য ধারণের পাশাপাশি আল্লাহর তত্ত্বাবধানের ওপর আস্থা রাখার বার্তা দেওয়া হয়েছে।আয়াতটির মর্মার্থ অনুযায়ী, জীবনের সংকটময় সময়ে মানুষ নিজেকে একা মনে করলেও আল্লাহর তত্ত্বাবধান থেকে সে কখনো বিচ্ছিন্ন নয়। চারপাশের সব দরজা বন্ধ মনে হলেও ধৈর্য ও আল্লাহর ওপর বিশ্বাস ধরে রাখার মাধ্যমে হতাশা কাটিয়ে ওঠার শিক্ষা পাওয়া যায়। কষ্ট, দুঃখ ও দীর্ঘ অপেক্ষার মধ্যেও একজন মুমিনের জন্য আল্লাহর ওপর আস্থা রাখাকে গুরুত্বপূর্ণ বলে তুলে ধরা হয়েছে।ধৈর্যের প্রতিদান সম্পর্কে কুরআনে আরও সুসংবাদ দেওয়া হয়েছে। মহান আল্লাহ বলেন— إِنَّمَا يُوَفَّى الصَّابِرُونَ أَجْرَهُم بِغَيْرِ حِسَابٍ ‘কেবল ধৈর্যশীলদেরকেই তাদের প্রতিদান দেওয়া হবে অগণিত ও হিসাব ছাড়া।’ (সুরা যুমার: আয়াত ১০)। এ আয়াতের মাধ্যমে ধৈর্যশীলদের জন্য অগণিত প্রতিদানের কথা উল্লেখ করা হয়েছে। অর্থাৎ জীবনের কঠিন সময়, চোখের জল ও নীরব অপেক্ষাকে আল্লাহর কাছে মূল্যহীন মনে করার কারণ নেই; বরং ধৈর্যের মাধ্যমে এসব পরিস্থিতি মোকাবিলার প্রতি উৎসাহ দেওয়া হয়েছে।ধৈর্যের গুরুত্ব রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর হাদিসেও বিশেষভাবে উঠে এসেছে। হজরত আবু সাঈদ খুদরী (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন— ... وَمَنْ يَتَصَبَّرْ يُصَبِّرْهُ اللَّهُ، وَمَا أُعْطِيَ أَحَدٌ عَطَاءً خَيْرًا وَأَوْسَعَ مِنَ الصَّبْرِ ‘...যে ব্যক্তি ধৈর্য ধারণের চেষ্টা করে, আল্লাহ তাকে ধৈর্য ধারণের ক্ষমতা দান করেন। আর ধৈর্যের চেয়ে উত্তম ও কল্যাণকর কিছু কাউকে দেওয়া হয়নি।’ (বুখারি ১৪৬৯, মুসলিম ১০৫১)। নবীজি (সা.)-এর এই বাণীতে বিপদের সময় ধৈর্য ধারণের মর্যাদা এবং এর কল্যাণকর দিক তুলে ধরা হয়েছে।ইসলামী শিক্ষায় কষ্ট ও পরীক্ষার সময়কে স্থায়ী হিসেবে দেখার পরিবর্তে আল্লাহর ওপর আস্থা রেখে ধৈর্য ধারণের শিক্ষা দেওয়া হয়েছে। রাতের আঁধার কেটে যেমন ভোরের আলো ফোটে, তেমনি জীবনের কঠিন সময়ও একসময় পার হয়ে যায়। তাই দুঃখ-কষ্ট ও অপেক্ষার মুহূর্তে আল্লাহর সিদ্ধান্তের ওপর আস্থা রেখে ধৈর্য ধারণ এবং সবকিছু তাঁর কাছে সোপর্দ করার আহ্বান জানানো হয়েছে। /টি

সেপ্টেম্বর ২৪, ২০২৬

আয়াতুল কুরসি পাঠের ফজিলত ও তাৎপর্য

মানুষ হিসেবে আমরা নানা রকম সমস্যায় জর্জরিত। আমরা দুনিয়া নিয়ে এত ব্যস্ত হয়ে পড়ি যে, আখেরাত ভুলে যায়। আল্লাহকে ভুলে যায়। নামাজ তেমন পড়া হয় না। অন্যান্য ইবাদতও তেমন করা হয় না। আমাদেরকে সবচেয়ে বেশি কুমন্ত্রণা দেয় শয়তান। শয়তানই ভালো কাজ থেকে আমাদের দূরে রাখে। এদিকে আবার দুষ্ট জিন আমাদের ক্ষতি করতে চায়। শারীরিকভাবে অসুস্থ করে ফেলতে চায়। কারও কারও জীবনকে একবারে ভেঙেচুরে ফেলে। অপরদিকে আবার আমরা মুসলিম হিসেবে জান্নাতে যেতে যায়। জান্নাতই তো আমাদের আসল ঠিকানা। শয়নতান ও জিনের কুমন্ত্রণা থেকে বেঁচে থাকা এবং জান্নাতে যাওয়ার সহজ একটি আমল হলো আয়াতুল কুরসি পড়া।সুরা বাকারার ২৫৫ নম্বর আয়াতের নাম আয়াতুল কুরসি। এটি কোরআনের সর্বশ্রেষ্ঠ আয়াত। এর মধ্যে ৫০টি শব্দ ও ১০টি বাক্য আছে। এ আয়াতে আল্লাহর একত্ববাদ, মর্যাদা ও গুণের বর্ণনা রয়েছে। এ আয়াত পাঠে অনেক ফজিলত আছে। আছে জান্নাতে যাওয়ার সুসংবাদ। এটি অভাব দূর হওয়ার পাথেয়। শয়তানের কুমন্ত্রণা থেকে বেঁচে থাকার পথ্য। হজরত মুহাম্মদ (সা.) একে কোরআনের শ্রেষ্ঠ আয়াত বলেছেন। তিনি এই আয়াত দিনে-রাতে পড়ার নির্দেশ দিয়েছেন। আল্লামা ইবনে কাসির (রহ.)-এর বক্তব্য অনুসারে এই মহিমান্বিত আয়াতে দশটি স্বয়ংসম্পূর্ণ বাক্য রয়েছে। এই দশ বাক্যের মূল বিষয়বস্তু তাওহিদ বা একত্ববাদ।আয়াতুল কুরসিٱللَّهُ لَآ إِلَٰهَ إِلَّا هُوَ ٱلۡحَيُّ ٱلۡقَيُّومُۚ لَا تَأۡخُذُهُۥ سِنَةٞ وَلَا نَوۡمٞۚ لَّهُۥ مَا فِي ٱلسَّمَٰوَٰتِ وَمَا فِي ٱلۡأَرۡضِۗ مَن ذَا ٱلَّذِي يَشۡفَعُ عِندَهُۥٓ إِلَّا بِإِذۡنِهِۦۚ يَعۡلَمُ مَا بَيۡنَ أَيۡدِيهِمۡ وَمَا خَلۡفَهُمۡۖ وَلَا يُحِيطُونَ بِشَيۡءٖ مِّنۡ عِلۡمِهِۦٓ إِلَّا بِمَا شَآءَۚ وَسِعَ كُرۡسِيُّهُ ٱلسَّمَٰوَٰتِ وَٱلۡأَرۡضَۖ وَلَا يَ‍ُٔودُهُۥ حِفۡظُهُمَاۚ وَهُوَ ٱلۡعَلِيُّ ٱلۡعَظِيمُআয়াতুল কুরসির উচ্চারণআল্লাহু লা ইলাহা ইল্লা হুয়াল হাইয়ুল কাইয়ুম, তা তাখুজুহু সিনাতুও ওয়ালা নাওম। লাহু মা ফিস-সামা ওয়াতি ওয়া মা ফিল আরজ। মান জাল্লাজি ইয়াশফাউ ইনদাহু ইল্লা বি ইজনিহ, ইয়ালামু মা বাইনা আইদিহিম ওয়া মা খালফাহুম, ওয়া লা ইউহিতুনা বি শাইইম মিন ইলমিহি ইল্লা বিমা শাআ। ওয়া সিয়া কুরসিইহুস্ সামা ওয়াতি ওয়াল আরজ। ওয়া লা ইয়াউদুহ হিফজুহুমা ওয়া হুয়াল আলিইয়ুল আজিম।আয়াতুল কুরসির অর্থআল্লাহ ছাড়া অন্য কোনো উপাস্য নেই। তিনি জীবিত, সবকিছুর ধারক। তাঁকে তন্দ্রাও স্পর্শ করতে পারে না এবং নিদ্রাও নয়। আসমান ও জমিন যা কিছু রয়েছে, সবই তাঁর। কে আছ এমন যে সুপারিশ করবে তাঁর কাছে তাঁর অনুমিত ছাড়া? দৃষ্টির সামনে কিংবা পেছনে যা কিছু রয়েছে, সে সবই তিনি জানেন। তাঁর জ্ঞানসীমা থেকে তারা কোনো কিছুকেই পরিবেষ্টিত করতে পারে না, কিন্তু যতটুকু তিনি ইচ্ছা করেন। তাঁর কুরসি (সিংহাসন) সমস্ত আসমান ও জমিনকে পরিবেষ্টিত করে আছে। আর সেগুলোকে ধারণ করা তাঁর পক্ষে কঠিন নয়। তিনিই সর্বোচ্চ এবং সর্বাপেক্ষা মহান।রাতে ঘুমানোর আগে আয়াতুল কুরসি পড়লে শয়তানের কুমন্ত্রণা থেকে বেঁচে থাকা যায়। রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘কেউ যদি রাতে শোয়ার সময় আয়াতুল কুরসি পাঠ করে, তাহলে সকাল পর্যন্ত আল্লাহ তাআলার পক্ষ থেকে তার জন্য একজন হেফাজতকারী থাকে এবং শয়তান তার কাছে যেতে পারে না।’ (সহিহ বুখারি, হাদিস: ৫০১০) ফরজ নামাজের পর আয়াতুল কুরসি পড়ারও বিশেষ ফজিলতের কথা বর্ণিত হয়েছে। রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘যে প্রত্যেক ফরজ নামাজের পর আয়াতুল কুরসি পাঠ করবে, তার জান্নাতে প্রবেশের পথে মৃত্যু ছাড়া আর কোনো অন্তরায় থাকবে না।’ (সুনানে নাসায়ি, হাদিস: ১৪৪৩)সকাল ও সন্ধ্যায় আয়াতুল কুরসি পাঠ করলে জিনের ক্ষতি থেকে নিরাপদ থাকার কথা হাদিসে বর্ণিত হয়েছে। মুসতাদরাকে হাকিমে বর্ণিত হয়েছে, ‘যে সকালে আয়াতুল কুরসি পাঠ করবে, সে সন্ধ্যা পর্যন্ত জিনের ক্ষতি থেকে হেফাজতে থাকবে। যে সন্ধ্যায় আয়াতুল কুরসি পাঠ করবে, সে সকাল পর্যন্ত জিনের ক্ষতি থেকে হেফাজতে থাকবে।’ আয়াতুল কুরসি পাঠ করা অত্যন্ত ফজিলতপূর্ণ আমল। এটি যেকোনো সময় পড়া যায়। তবে হাদিসে তিন সময়ে পাঠ করার বিষয়ে অধিক ফজিলতের কথা বর্ণিত হয়েছে—সকাল-সন্ধ্যায়, ফরজ নামাজের পর এবং রাতে ঘুমানোর আগে। এতে তাওহিদ বা একত্ববাদের ঘোষণা রয়েছে, আল্লাহর হেফাজতের কথা রয়েছে এবং এটি পাঠে আত্মার প্রশান্তি ও হৃদয়ে সান্ত্বনা লাভের কথা বলা হয়েছে।/টি 

সেপ্টেম্বর ২৩, ২০২৬

খালি মাথায় নামাজ পড়া নিয়ে ডা. জাকির নায়েকের বিশ্লেষণ

নামাজ আদায়ের সময় টুপি বা পাগড়ি দিয়ে মাথা ঢেকে রাখা ইসলামি সংস্কৃতির এক অবিচ্ছেদ্য অংশ হলেও সাম্প্রতিক সময়ে অনেককে ইচ্ছাকৃতভাবে খালি মাথায় নামাজ পড়তে দেখা যায়। বিশেষ করে মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোতে বসবাসকারী কিংবা হজ থেকে ফিরে আসা অনেকের মাঝে এই প্রবণতা স্পষ্ট, যা সাধারণ মানুষের মনে নানা প্রশ্ন ও সংশয়ের সৃষ্টি করেছে। এ বিষয়ে প্রখ্যাত ইসলামি চিন্তাবিদ ডা. জাকির নায়েক জানান, মহানবী (সা.) এবং তাঁর সাহাবিদের মাথা সর্বদাই আবৃত থাকত। নবীজি (সা.) টুপি, পাগড়ি কিংবা যুদ্ধক্ষেত্রের শিরস্ত্রাণ পরিধান করতেন এবং চার মাজহাবের ইমামগণও একমত যে, কোনো গ্রহণযোগ্য কারণ ছাড়া ইচ্ছাকৃতভাবে খালি মাথায় নামাজ পড়া মাকরুহ বা অপছন্দনীয়।পূর্বে উপমহাদেশসহ বিশ্বের প্রায় শতভাগ মানুষ টুপি পরে নামাজে দাঁড়ালেও বর্তমানে প্রায় ২৫ থেকে ৩০ শতাংশ মানুষকে খালি মাথায় নামাজ পড়তে দেখা যায়, যার পেছনে মূল কারণ হলো অসম্পূর্ণ জ্ঞান এবং ভুল তুলনা। বিদেশে গিয়ে 'নামাজ কবুল হওয়ার জন্য টুপি পরা ফরজ নয়'—এমন আংশিক তথ্য জেনে অনেকে টুপি পরা ছেড়ে দেন। অন্যদিকে, অনেকে হজের সময়ে ইহরাম অবস্থায় খালি মাথায় থাকার নিয়মটিকে সাধারণ সময়ের সঙ্গে গুলিয়ে ফেলেন। ডা. জাকির নায়েক বিষয়টিকে অযৌক্তিক আখ্যা দিয়ে বলেন, ইহরামের সময়ে মাথা ঢাকা হারাম হওয়া একটি বিশেষ বিধান, যা অন্য সময়ের নখ ও চুল কাটার মতো বিধিনিষেধের সমতুল্য; তাই ইহরামের আমলকে সাধারণ জীবনের সাথে মেলানো শরিয়তের দৃষ্টিতে ভুল।রাসুলুল্লাহ (সা.) ও তাঁর প্রিয় সাহাবিগণ যে সর্বদা মাথা ঢেকে রাখতেন, তা একাধিক সহিহ হাদিস দ্বারা সুপ্রমাণিত। হজরত জাবের ইবনে আব্দুল্লাহ (রা.) থেকে বর্ণিত, মক্কা বিজয়ের দিনে আল্লাহর রাসুল (সা.)-এর মাথার পোশাকের বর্ণনা এসেছে এভাবে—أَنَّ النَّبِيَّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ دَخَلَ مَكَّةَ يَوْمَ الْفَتْحِ وَعَلَيْهِ عِمَامَةٌ سَوْدَاءُ‘নামাজে টুপি পরা নিয়ে ডা. জাকির নায়েকের বিশ্লেষণ নামাজ আদায়ের সময় টুপি বা পাগড়ি দিয়ে মাথা ঢেকে রাখা ইসলামি সংস্কৃতির এক অবিচ্ছেদ্য অংশ হলেও সাম্প্রতিক সময়ে মধ্যপ্রাচ্য থেকে ফিরে আসা অনেকের মধ্যেই খালি মাথায় নামাজ আদায়ের প্রবণতা দেখা যাচ্ছে। বিষয়টিকে কেন্দ্র করে সাধারণ মানুষের মনে নানা সংশয় ও দ্বিমত তৈরি হওয়ায় এক টিভি অনুষ্ঠানে বিখ্যাত ইসলামি চিন্তাবিদ ডা. জাকির নায়েক শরিয়তের প্রকৃত দৃষ্টিভঙ্গি তুলে ধরেন। তিনি জানান, রাসুলুল্লাহ (সা.) ও তার প্রিয় সাহাবিদের মাথা সর্বদাই আবৃত থাকত। চার মাজহাবের সম্মানিত ইমামগণের ঐক্যমত অনুযায়ী, টুপি বা পাগড়ি দিয়ে মাথা ঢেকে রাখা একটি প্রিয় সুন্নত ও মুস্তাহাব আমল, আর গ্রহণযোগ্য কারণ ছাড়া ইচ্ছাকৃতভাবে খালি মাথায় নামাজ পড়া মাকরুহ বা অপছন্দনীয়।ডা. জাকির নায়েক সমাজে খালি মাথায় নামাজ পড়ার পেছনে অসম্পূর্ণ জ্ঞান ও ভ্রান্ত যুক্তিকে দায়ী করেছেন। অনেকেই বিদেশে গিয়ে জানতে পারেন যে নামাজ কবুল হওয়ার জন্য টুপি পরা ফরজ নয়; এই প্রাথমিক জ্ঞানটুকু পাওয়ার পর তারা নিজেদের জ্ঞান জাহির করতেই টুপি পরা ছেড়ে দেন, অথচ এর ফজিলত এড়িয়ে যান। অন্যদিকে, অনেকে ইহরাম অবস্থার খালি মাথার সঙ্গে সাধারণ সময়ের তুলনা করেন, যা সম্পূর্ণ ভুল। ইহরাম অবস্থায় মাথা ঢাকা নিষিদ্ধ, ঠিক যেমন ইহরামে চুল-নখ কাটা নিষিদ্ধ হলেও সাধারণ সময়ে তা সুন্নত; তাই ইহরামের বিশেষ বিধানকে সাধারণ সময়ের আমলের সঙ্গে মেলানো শরিয়তসম্মত নয়।নবীজি (সা.) ও সাহাবিদের আমল থেকে টুপি এবং পাগড়ি পরিধানের স্পষ্ট প্রমাণ পাওয়া যায়। হজরত জাবের ইবনে আব্দুল্লাহ (রা.) থেকে বর্ণিত, অَنَّ النَّبِيَّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ دَخَلَ مَكَّةَ يَوْمَ الْفَتْحِ وَعَلَيْهِ عِمَامَةٌ سَوْدَاءُ অর্থাৎ ‘নবী করিম (সা.) মক্কা বিজয়ের দিন যখন মক্কায় প্রবেশ করেন, তখন তার মাথায় একটি কালো রঙের পাগড়ি শোভা পাচ্ছিল।’ (মুসলিম ৩১৪৮)। এছাড়া হজরত ওমর (রা.) বর্ণনা করেছেন যে মহানবী (সা.) সাদা রঙের টুপি পরিধান করতেন। সাহাবিদের অনুসরণের বিষয়ে সহিহ বুখারিতে এসেছে, وَكُوفِيَّةٌ: وَكَانَ أَنَسُ بْنُ مَالِكٍ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ يَلْبَسُ الْكُوفِيَّةَ অর্থাৎ ‘হজরত আনাস ইবনে মালিক (রা.) টুপি (কুফি) দিয়ে নিজের মাথা ঢেকে রাখতেন।’ (বুখারি ৫৮০২)।মধ্যপ্রাচ্য ও গালফ অঞ্চলের বিশিষ্ট আলেমদের আমল উল্লেখ করে ডা. জাকির নায়েক বলেন, আল্লামা আলবানি (রহ.) এবং সৌদি আরবের সাবেক গ্র্যান্ড মুফতি শায়খ বিন বাজ (রহ.)-সহ শীর্ষ আলেমরা সর্বদা টুপি বা রুমাল দিয়ে মাথা ঢেকে রাখতেন। কিন্তু মিসরের কিছু আলেমের শিথিল ফতোয়া কিংবা ভুল ব্যাখ্যার কারণে সাধারণ মানুষ আজ এই সুন্দর আমল থেকে দূরে সরে যাচ্ছে। তিনি স্মরণ করিয়ে দেন যে, ইসলামের শুরু থেকে সালাফদের যুগপরম্পরায় মাথা ঢেকে রাখার এই রীতি অব্যাহতভাবে চলে আসছে।পরিশেষে বলা যায়, নামাজ হলো আল্লাহর দরবারে বান্দার সবচেয়ে শ্রেষ্ঠ হাজিরা ও ইবাদত, যেখানে পোশাকে শালীনতা ও সৌন্দর্য বজায় রাখা ইমানের দাবি। টুপি পরা ফরজ না হলেও অবহেলা করে খালি মাথায় নামাজে দাঁড়ানো মহানবীর প্রিয় সুন্নত ও সালাফদের ধারার পরিপন্থি। তাই কোনো ভ্রান্ত যুক্তি বা বিভ্রান্তিতে না পড়ে রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর ভালোবাসায় টুপি বা পাগড়ি দিয়ে মাথা ঢেকে নামাজ আদায় করাই একজন সচেতন মুমিনের পরিচয়, যা একই সঙ্গে সওয়াব অর্জন ও রাসুল (সা.)-এর সুন্নত জিন্দা করার মহান সুযোগ তৈরি করে।/টি

সেপ্টেম্বর ২২, ২০২৬

আজ নামাজের সময়সূচি : ১৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬

ইসলামের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ স্তম্ভ নামাজ। ঈমানের পর নামাজকে সবচেয়ে তাৎপর্যপূর্ণ আমল হিসেবে বিবেচনা করা হয়। পাঁচ ওয়াক্ত ফরজ নামাজের পাশাপাশি বিভিন্ন নফল সালাতেরও বিশেষ গুরুত্ব রয়েছে।হাদিসে নামাজকে মুমিন ও অমুসলিমের মধ্যে পার্থক্য নির্দেশকারী গুরুত্বপূর্ণ আমল হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। নামাজ মানুষকে পাপ ও অন্যায় থেকে বিরত রাখতে এবং আত্মিকভাবে পরিশুদ্ধ হতে সহায়তা করে। তাই দৈনন্দিন কর্মব্যস্ততার মধ্যেও যথাসময়ে নামাজ আদায় করা প্রত্যেক মুসলিমের দায়িত্ব।শনিবার, ১৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৪ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ ও ৭ রবিউস সানি ১৪৪৮ হিজরি। এদিন ঢাকা ও পার্শ্ববর্তী এলাকার নামাজের সময়সূচি হলো—ফজর: ভোর ৪টা ৩২ মিনিটজুমা: দুপুর ১১টা ৫৬ মিনিটআসর: বিকেল ৪টা ১৭ মিনিটমাগরিব: সন্ধ্যা ৬টা ৩ মিনিটএশা: রাত ৭টা ১৬ মিনিটরোববার, ২০ সেপ্টেম্বর ফজর: ভোর ৪টা ৩২ মিনিট।নামাজ মুসলিম জীবনের অবিচ্ছেদ্য অংশ। এটি শারীরিক পবিত্রতার পাশাপাশি আত্মিক পরিশুদ্ধিতেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। কর্মব্যস্ত জীবনে সময়মতো নামাজ আদায়ের মাধ্যমে আল্লাহর ইবাদতের জন্য সময় বের করার গুরুত্বও স্মরণ করা যায়।নামাজের সময় স্থান ও তারিখভেদে কিছুটা পরিবর্তিত হতে পারে; স্থানীয় মসজিদের সময়সূচির সঙ্গে মিলিয়ে নেওয়া উত্তম।/টি

সেপ্টেম্বর ১৯, ২০২৬

অন্যের গোপন কথা কানে এলে ইসলামের নির্দেশনা কী

পাশের কক্ষ থেকে ভেসে আসা ফিসফাস কিংবা কোনো বৈঠকে অনিচ্ছাকৃতভাবে অন্যের ব্যক্তিগত কথা কানে চলে আসা—এমন পরিস্থিতির মুখোমুখি হতে হয় অনেককেই। ইচ্ছাকৃতভাবে কারও গোপন কথা শোনা ইসলাম কঠোরভাবে নিষেধ করেছে। পবিত্র কুরআনে আল্লাহ তাআলা বলেন— وَلَا تَجَسَّسُوا — ‘তোমরা একে অপরের গোপন বিষয় অনুসন্ধান করো না।’ (সুরা হুজরাত: ১২)। হাদিসেও আড়ি পেতে অন্যের কথা শোনার ব্যাপারে কঠোর সতর্কবার্তা এসেছে। রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন— مَنْ استَمَعَ إِلَى حَدِيثِ قَوْمٍ، وَهُمْ لَهُ كَارِهُونَ، صُبَّ فِي أُذُنِهِ الْآنُكُ يَوْمَ الْقِيَامَةِ — ‘যে ব্যক্তি কোনো এক দলের কথা কান পেতে শোনে, অথচ তারা তা অপছন্দ করে, কেয়ামতের দিন তার কানে গলিত সিসা ঢেলে দেওয়া হবে।’ (বুখারি: ৭০৪২)তবে কোনো ব্যক্তির গোপন কথা অনিচ্ছাকৃতভাবে কানে চলে এলে ইসলাম সংযম ও সতর্কতার শিক্ষা দেয়। এমন পরিস্থিতিতে সম্ভব হলে সেখান থেকে সরে যাওয়া উচিত। শারীরিকভাবে সরে যাওয়া সম্ভব না হলে নিজের মনোযোগ অন্যদিকে সরিয়ে নেওয়া জরুরি, যাতে পরবর্তী কথাগুলো ইচ্ছাকৃতভাবে শোনা না হয়। পাশাপাশি কথার কোনো অংশ কানে চলে এলে সেটিকে আমানত হিসেবে গোপন রাখার নির্দেশনাও রয়েছে। রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন— إِذَا حَدَّثَ الرَّجُلُ بِالْحَدِيثِ ثُمَّ الْتَفَتَ فَهِيَ أَمَانَةٌ — ‘যখন কোনো ব্যক্তি কোনো কথা বলে এবং মুখ ঘুরায় (এদিক-সেদিক তাকায়), তখন তা আমানত।’ (আবু দাউদ: ৪৮৬৮)।ইসলামি শিষ্টাচারে অনিচ্ছাকৃতভাবে শোনা কথাকে কেন্দ্র করে অতিরিক্ত কৌতূহল দেখানো থেকেও বিরত থাকতে বলা হয়েছে। কথার সামান্য অংশ শুনে পুরো ঘটনা জানার চেষ্টা করা, পরে বিষয়টি নিয়ে খোঁজখবর নেওয়া কিংবা অন্যের কাছে তা ছড়িয়ে দেওয়া গোপনীয়তার মর্যাদা নষ্ট করতে পারে। বিশেষ করে কারও ব্যক্তিগত দুর্বলতা, পারিবারিক বিষয় বা এমন কোনো তথ্য যা প্রকাশ পেলে তিনি বিব্রত হতে পারেন—এসব বিষয় প্রচার না করে গোপন রাখাই ইসলামের শিক্ষা।অন্যের গোপন তথ্য জেনে যাওয়ার পর সেটি ব্যবহার করে তাকে অপমান, খোঁটা বা হেয় করাও অনুচিত। বরং মানুষের দোষ-ত্রুটি গোপন রাখার ব্যাপারে হাদিসে বিশেষ ফজিলতের কথা বলা হয়েছে। রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন— وَمَنْ سَتَرَ مُسْلِمًا سَتَرَهُ اللَّهُ فِي الدُّنْيَا وَالْآخِرَةِ — ‘যে ব্যক্তি কোনো মুসলিমের দোষ-ত্রুটি লুকিয়ে রাখবে, আল্লাহ দুনিয়া ও আখেরাতে তার দোষ-ত্রুটি গোপন রাখবেন।’ (মুসলিম: ২৬৯৯)। ফলে অনিচ্ছাকৃতভাবে কোনো ব্যক্তিগত তথ্য জেনে গেলে তা দিয়ে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিকে পরবর্তীতে বিব্রত করা বা সামাজিকভাবে ছোট করা থেকে বিরত থাকা উচিত।তবে কোনো গোপন কথার মধ্যে যদি কারও জীবনহানি, গুরুতর নিরাপত্তাঝুঁকি কিংবা মারাত্মক অপরাধের পূর্বপরিকল্পনার মতো বিষয় স্পষ্টভাবে ধরা পড়ে, তখন বিষয়টি সাধারণ ব্যক্তিগত গোপনীয়তার পর্যায়ে থাকে না। এমন পরিস্থিতিতে দায়িত্বশীলতা ও বিচক্ষণতার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট বিশ্বস্ত কর্তৃপক্ষ বা দায়িত্বশীল ব্যক্তিকে জানানো প্রয়োজন হতে পারে। কারণ অন্যের কথা অনিচ্ছাকৃতভাবে কানে চলে আসা সবসময় নিজের নিয়ন্ত্রণে থাকে না; কিন্তু তা শোনার পর কীভাবে আচরণ করা হবে, সেটিই ব্যক্তির সংযম, আমানতদারি ও নৈতিকতার পরিচয় বহন করে।/টি

সেপ্টেম্বর ১৭, ২০২৬

সারাজীবন বিয়ে না করে থাকা কি ইসলামে জায়েজ?

বিয়ে মানবজীবনের ভারসাম্য, প্রশান্তি ও বংশবৃদ্ধির একটি গুরুত্বপূর্ণ মাধ্যম। ইসলামে এটি শুধু সামাজিক বন্ধন নয়, বরং আত্মিক প্রশান্তি ও চরিত্র রক্ষারও একটি উপায়। তবে কোনো ব্যক্তি যদি সারা জীবন বিয়ে না করার সিদ্ধান্ত নেন, তাহলে তার ক্ষেত্রে শরিয়তের বিধান কী হবে, তা নির্ভর করে তার শারীরিক সক্ষমতা, মানসিক অবস্থা এবং হারাম কাজে জড়িয়ে পড়ার আশঙ্কার ওপর।ইসলাম বিয়েকে উৎসাহিত করেছে এবং অকারণে চিরকুমার বা চিরকুমারী থাকার মানসিকতাকে নিরুৎসাহিত করেছে। পবিত্র কোরআনে আল্লাহ তাআলা বলেন, “وَأَنكِحُوا الْأَيَامَىٰ مِنكُمْ وَالصَّالِحِينَ مِنْ عِبَادِكُمْ وَإِمَاءِكُمْ ۚ إِن يَكُونُوا فُقَرَاءَ يُغْنِهِمُ اللَّهُ مِن فَضْلِهِ” অর্থাৎ, ‘তোমাদের মধ্যে যারা অবিবাহিত, তাদের বিয়ে দাও। তারা অভাবগ্রস্ত হলে আল্লাহ নিজ অনুগ্রহে তাদের সচ্ছল করে দেবেন।’ (সুরা আন-নুর: ৩২)শরিয়তের দৃষ্টিতে কোনো ব্যক্তির যদি স্বাভাবিক বা প্রবল যৌন চাহিদা থাকে এবং বিয়ে না করলে জিনা বা অন্য কোনো হারাম কাজে জড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা থাকে, তাহলে তার জন্য বিয়ে করা ওয়াজিব হতে পারে। আর যদি শারীরিক সক্ষমতা ও স্বাভাবিক চাহিদা থাকে, কিন্তু নিজেকে হারাম থেকে রক্ষা করার সামর্থ্যও থাকে, তাহলে বিয়ে তার জন্য সুন্নতে মুয়াক্কাদা। অন্যদিকে, কারও যৌন চাহিদা না থাকা, বার্ধক্য বা শারীরিক অক্ষমতার কারণে বিয়ে না করলেও যদি গুনাহে জড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা না থাকে, তাহলে তার ক্ষেত্রে বিয়ে না করে থাকা জায়েজ হতে পারে।রাসুলুল্লাহ (সা.) যুবকদের বিয়ের প্রতি উৎসাহিত করে বলেছেন, “يَا مَعْشَرَ الشَّبَابِ مَنِ اسْتَطَاعَ مِنْكُمُ الْبَاءَةَ فَلْيَتَزَوَّجْ” অর্থাৎ, ‘হে যুবকের দল! তোমাদের মধ্যে যারা বিয়ের সামর্থ্য রাখে, তারা যেন বিয়ে করে। কারণ তা দৃষ্টিকে সংযত রাখে এবং লজ্জাস্থান হেফাজত করে।’ আর যার সামর্থ্য নেই, তাকে রোজা রাখার নির্দেশ দিয়েছেন। (সহিহ বুখারি: ৫০৬৬; সহিহ মুসলিম: ১৪০০)এ ছাড়া রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, “النِّكَاحُ مِنْ سُنَّتِي” অর্থাৎ, ‘বিয়ে আমার সুন্নত।’ (ইবনে মাজাহ: ১৮৪৬) তাই বিশেষ কোনো বাধ্যবাধকতা বা শারীরিক কারণে বিয়ে সম্ভব না হলে বিষয়টি আলাদা। কিন্তু সক্ষমতা থাকা সত্ত্বেও শুধু বিয়ে থেকে দূরে থাকার জন্য সারাজীবন চিরকুমার থাকার সিদ্ধান্ত ইসলামী জীবনব্যবস্থার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়। প্রত্যেক সামর্থ্যবান মুসলিমের উচিত সুন্নাহ অনুসরণ করে নিজের চরিত্র ও ঈমান হেফাজতের চেষ্টা করা।/টি

সেপ্টেম্বর ১২, ২০২৬
footer small logo

যোগাযোগ :

এটিএন বাংলা, ওয়াসা ভবন, ২য় তলা, ৯৮ কাজী নজরুল ইসলাম এভিনিউ, কাওরান বাজার, ঢাকা-১২১৫, বাংলাদেশ

ফোনঃ +88-02-55011931

সোশ্যাল মিডিয়া

youtube logotwitter logofacebook logo

Design & Developed by:

developed-company-logo