
এটিএন বাংলা, ওয়াসা ভবন, ২য় তলা, ৯৮ কাজী নজরুল ইসলাম এভিনিউ, কাওরান বাজার, ঢাকা-১২১৫, বাংলাদেশ
ফোনঃ +88-02-55011931
এ সম্পর্কিত আরও খবর
পরকালে সফলতা অর্জনের জন্য মহান আল্লাহ তায়ালার নির্দেশ মেনে চলার পাশাপাশি রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর আদর্শ ও দেখানো পথ অনুসরণ করা জরুরি। পবিত্র কোরআনে আল্লাহ বলেন, ‘হে নবী! আপনি বলে দিন, যদি তোমরা আল্লাহকে ভালোবাসো, তাহলে আমার অনুসরণ করো, আল্লাহ তোমাদের ভালোবাসবেন এবং তোমাদের পাপসমূহ ক্ষমা করে দেবেন।’ (সুরা আল-ইমরান, আয়াত: ৩১)।
উম্মতের কল্যাণে রাসুলুল্লাহ (সা.) বিভিন্ন সময়ে নানা বিষয়ে দিকনির্দেশনা দিয়েছেন এবং আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জনের পথও দেখিয়েছেন। এমনই একটি হাদিসে গুনাহ, ঋণ, দারিদ্র্য, কবরের আজাব ও বিভিন্ন ফিতনা থেকে আল্লাহর আশ্রয় চাওয়ার দোয়া বর্ণিত হয়েছে। আয়েশা (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসুল (সা.) দোয়া করতেন—‘হে আল্লাহ! আমি আপনার আশ্রয় চাই অলসতা, অতিরিক্ত বার্ধক্য, গুনাহ
ওই দোয়ায় আরও রয়েছে, দারিদ্র্যের অভিশাপ ও মসীহ দাজ্জালের ফিতনা থেকে আল্লাহর আশ্রয় চাওয়ার আবেদন। একই সঙ্গে নিজের গুনাহের দাগ থেকে অন্তরকে বরফ ও শীতল পানি দিয়ে ধুয়ে পরিষ্কার করে দেওয়ার প্রার্থনা করা হয়েছে। সাদা কাপড় যেমন ময়লা থেকে পরিষ্কার করা হয়, তেমনি অন্তরকে সব গুনাহ থেকে পবিত্র করার এবং দুনিয়ার পূর্ব ও পশ্চিম প্রান্তের মতো গুনাহ থেকে দূরত্ব সৃষ্টি করার আবেদনও রয়েছে। (সহিহ বুখারি, হাদিস: ৫৯২৮)।
ঋণ পরিশোধের বিষয়েও রাসুলুল্লাহ (সা.) একটি বিশেষ দোয়া শিখিয়েছেন। আলী (রা.) থেকে বর্ণিত, এক ব্যক্তি তার ঋণ পরিশোধে অসামর্থ্যের কথা জানালে তিনি তাকে রাসুল (সা.) শেখানো একটি দোয়া পড়তে বলেন। হাদিসে এসেছে, কারও ওপর পাহাড়সম ঋণ থাকলেও আল্লাহর কাছে এ দোয়া করলে তা পরিশোধের ব্যবস্থা করে দিতে পারেন। দোয়াটি হলো— ‘আল্লাহুম্মাক-ফিনি বি-হালালিকা, আন-হারামিকা, ওয়াগনিনি বিফাদলিকা আম্মান-সিওয়াকা।’
এই দোয়ার অর্থ হলো—‘হে আল্লাহ! হারাম থেকে মুক্ত রেখে তোমার দেওয়া হালাল বস্তুই আমার জন্য যথেষ্ট করে দাও। তোমার অনুগ্রহে তুমি ছাড়া অন্য সবকিছু থেকে আমাকে অমুখাপেক্ষী করে দাও।’ (সুনান আত-তিরমিজি, হাদিস: ৩৫৬৩)। তাই গুনাহ ও ঋণের বোঝা থেকে মুক্তি এবং আল্লাহর সন্তুষ্টি লাভের আশায় এসব দোয়া পড়ার পাশাপাশি হালাল উপার্জন, সৎ জীবনযাপন ও রাসুল (সা.)-এর সুন্নাহ অনুসরণের প্রতি যত্নশীল হওয়া উচিত।
/টি