logo
youtube logotwitter logofacebook logo
/আন্তর্জাতিক
সৌদি-পাকিস্তান-তুরস্কের নতুন প্রতিরক্ষা কাঠামো - image

সৌদি-পাকিস্তান-তুরস্কের নতুন প্রতিরক্ষা কাঠামো

13 আগস্ট 2026, বিকাল 6:07

সৌদি আরব, পাকিস্তান ও তুরস্ক মক্কা যৌথ প্রতিরক্ষা চুক্তির আওতায় একটি যৌথ রাজনৈতিক ও সামরিক কাঠামো গড়ে তুলতে যাচ্ছে। গত ৭ আগস্ট স্বাক্ষরিত চুক্তির অধীনে তিন দেশ প্রতিরক্ষা ও সামরিক সহযোগিতা আরও জোরদার করার উদ্যোগ নিয়েছে বলে জানিয়েছে তুরস্কের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়।আঙ্কারায় সাপ্তাহিক সংবাদ সম্মেলনে তুরস্কের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানায়, প্রস্তাবিত কাঠামোর মাধ্যমে তিন দেশের প্রতিরক্ষামন্ত্রী, পররাষ্ট্রমন্ত্রী ও সামরিক বাহিনীর প্রধানদের মধ্যে নিয়মিত ও সমন্বিত সহযোগিতার সুযোগ তৈরি হবে। পাশাপাশি প্রতিরক্ষা শিল্পে পারস্পরিক সহযোগিতা আরও গভীর করার পরিকল্পনাও রয়েছে।চুক্তির আওতায় তিন দেশ যৌথ সামরিক মহড়া আয়োজনের পরিকল্পনা করছে। একই সঙ্গে প্রতিরক্ষা খাতে যৌথ উৎপাদন, প্রযুক্তি বিনিময় ও সামরিক সক্ষমতা বৃদ্ধির মতো বিভিন্ন ক্ষেত্রে সহযোগিতার সুযোগ রয়েছে। এর মাধ্যমে তিন দেশের সশস্ত্র বাহিনীর পারস্পরিক সমন্বয় ও প্রশিক্ষণ আরও বাড়ানোর লক্ষ্য রয়েছে।এদিকে, এই নতুন আঞ্চলিক প্রতিরক্ষা উদ্যোগের পাশাপাশি ইরান ভবিষ্যতে আরও কঠোর প্রতিক্রিয়া দেখানোর হুঁশিয়ারি দিয়েছে। ইরানের সর্বোচ্চ নেতার কার্যালয়ের রাজনৈতিক উপদেষ্টা ব্রিগেডিয়ার জেনারেল রাসুল সানায়ি-রাদ ফার্স বার্তা সংস্থাকে দেওয়া এক বক্তব্যে বলেন, সাম্প্রতিক যুদ্ধে ইরান দৃঢ়ভাবে প্রতিরোধ করেছে এবং ভবিষ্যতে সম্ভাব্য কোনো যুদ্ধে আরও দৃঢ় ও আগ্রাসীভাবে প্রতিরোধ করবে।সানায়ি-রাদ সরাসরি যুক্তরাষ্ট্রের নাম উল্লেখ না করে দাবি করেন, ইরানের ‘শত্রু’ অর্থনৈতিক চাপের মাধ্যমে দেশের ভেতরে বিভাজন তৈরির চেষ্টা করছে, তবে সেই পরিকল্পনা সফল হয়নি। সৌদি আরব, পাকিস্তান ও তুরস্কের নতুন প্রতিরক্ষা কাঠামো এবং ইরানের এই কঠোর বার্তা এমন এক সময়ে সামনে এলো, যখন মধ্যপ্রাচ্যের নিরাপত্তা পরিস্থিতিকে কেন্দ্র করে আঞ্চলিক দেশগুলোর মধ্যে সামরিক ও কৌশলগত সহযোগিতা ক্রমেই বাড়ছে।/টি

আগস্ট ১৩, ২০২৬

ফিলিস্তিনকে সমর্থন করা মুসলিম বিশ্বের গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব: এরদোয়ান

ফিলিস্তিনকে সমর্থন করা সমগ্র মানবজাতির, বিশেষ করে মুসলিম বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব বলে মন্তব্য করেছেন তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়েপ এরদোয়ান। বুধবার (১২ আগস্ট) আঙ্কারার প্রেসিডেন্ট ভবনে ফিলিস্তিনি কর্তৃপক্ষের প্রেসিডেন্ট মাহমুদ আব্বাসের সঙ্গে এক যৌথ সংবাদ সম্মেলনে এ কথা বলেন তিনি। এরদোয়ান জানান, তুরস্ক প্রতিটি আন্তর্জাতিক প্ল্যাটফর্মে ফিলিস্তিনিদের অধিকার প্রতিষ্ঠার পক্ষে কথা বলে যাবে।এরদোয়ান বলেন, ফিলিস্তিনিদের অধিকারের প্রতি সমর্থন জানানো শুধু কোনো একটি দেশের দায়িত্ব নয়, বরং সমগ্র মানবজাতির দায়িত্ব। তিনি অভিযোগ করেন, ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর সরকার অধিকৃত পশ্চিম তীর ও পূর্ব জেরুজালেমে বিশ্বের চোখের সামনেই অবৈধ কর্মকাণ্ড চালিয়ে যাচ্ছে। এর মাধ্যমে তারা একটি সার্বভৌম ফিলিস্তিনি রাষ্ট্রের অস্তিত্বকে ক্ষুণ্ন করছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।তুরস্কের প্রেসিডেন্ট বলেন, ফিলিস্তিনিদের সঙ্গে পরামর্শ করে দ্বিরাষ্ট্রভিত্তিক সমাধানের মাধ্যমে ফিলিস্তিনের দাবিকে এগিয়ে নিতে আঙ্কারা কাজ করে যাচ্ছে। তার অভিযোগ, অঞ্চলজুড়ে দখল, জোরপূর্বক উচ্ছেদ ও ভূমি দখলের নীতি ক্রমেই তীব্র হচ্ছে। জাতিসংঘের তথ্যের উদ্ধৃতি দিয়ে তিনি বলেন, ২০২৬ সালে এখন পর্যন্ত দখলদারদের সহিংসতা, ধ্বংসযজ্ঞ ও উচ্ছেদের কারণে প্রায় ৩ হাজার ৮০০ ফিলিস্তিনি বাস্তুচ্যুত এবং প্রায় ১০০ জন নিহত হয়েছেন।এরদোয়ান আরও বলেন, নেতানিয়াহু সরকার বিশৃঙ্খলা ও নতুন সংঘাতকে কাজে লাগিয়ে ফিলিস্তিন ইস্যুকে বৈশ্বিক আলোচনার বাইরে ঠেলে দিতে চায়। তবে তাদের এই প্রচেষ্টা সফল হবে না বলে মন্তব্য করেন তিনি। একই সঙ্গে মুসলমানদের প্রথম কিবলা আল-আকসা মসজিদসহ অন্যান্য পবিত্র স্থানের স্থিতাবস্থা পরিবর্তনের লক্ষ্যে যেকোনো উসকানির তীব্র বিরোধিতা করেন তুরস্কের প্রেসিডেন্ট।ফিলিস্তিনি রাষ্ট্রের প্রতি আঙ্কারার সমর্থন পুনর্ব্যক্ত করে এরদোয়ান বলেন, ১৯৬৭ সালের সীমানার ভিত্তিতে এবং অধিকৃত পূর্ব জেরুজালেমকে রাজধানী করে একটি স্বাধীন ও ভৌগোলিকভাবে অবিচ্ছিন্ন ফিলিস্তিনি রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার জন্য তুরস্ক দৃঢ়ভাবে কাজ করবে। তিনি বলেন, ফিলিস্তিনিদের অধিকার প্রতিষ্ঠা ও ন্যায়সংগত সমাধানের জন্য আন্তর্জাতিক পর্যায়ে তুরস্কের অবস্থান অব্যাহত থাকবে।সূত্র: আনাদোলু এজেন্সি/টি

আগস্ট ১৩, ২০২৬

এল নিনোর প্রভাবে ইন্দোনেশিয়ায় ভয়াবহ দাবানল, বন্ধ বহু স্কুল

এল নিনোর প্রভাব ও তীব্র গরমে ইন্দোনেশিয়ায় ভয়াবহ দাবানল ছড়িয়ে পড়েছে। দাবানলের ধোঁয়া ও বিরূপ আবহাওয়ার কারণে দেশটির বিভিন্ন এলাকায় জনজীবন বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে। পরিস্থিতি বিবেচনায় বহু স্কুল বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে। বাতাসের মান স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত শিক্ষার্থীদের বাড়িতে থেকে পড়াশোনা করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।বোর্নিও দ্বীপের পন্টিয়াক শহরের মেয়র জানিয়েছেন, চারপাশের দাবানলের ধোঁয়ায় পুরো শহর ঢেকে গেছে। এতে শিশুদের স্বাস্থ্যঝুঁকি তৈরি হওয়ায় আপাতত তাদের বাড়ি থেকেই পড়াশোনা করতে হবে। বিশেষ করে সকাল ও রাতে ঘন ধোঁয়ার কারণে মানুষের চলাচলও কঠিন হয়ে পড়েছে। বাতাসের পরিস্থিতি উন্নত না হওয়া পর্যন্ত স্কুল বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।অন্যদিকে জাভা দ্বীপের বিখ্যাত ব্রোমো টেঙ্গার সেমেরু ন্যাশনাল পার্কে টানা নয় দিন ধরে আগুন জ্বলছে। এরই মধ্যে পার্কটির প্রায় ৯০০ হেক্টর এলাকা পুড়ে গেছে, যা প্রায় ১ হাজার ২০০টি ফুটবল মাঠের সমান। গত শনিবার থেকে পর্যটকদের জন্য পার্কটি বন্ধ রাখা হয়েছে। আগুন নিয়ন্ত্রণে শত শত দমকলকর্মী, পুলিশ ও সেনা সদস্য কাজ করছেন। পাশাপাশি হেলিকপ্টার ও ফায়ার ট্রাকও মোতায়েন করা হয়েছে।আবহাওয়াবিদরা বলছেন, এ বছর এল নিনোর প্রভাবে ইন্দোনেশিয়ায় তীব্র খরা ও দাবানলের ঝুঁকি বেড়েছে। চলতি বছর এখন পর্যন্ত দেশটির ১ লাখ ৭ হাজার হেক্টরের বেশি ভূমি আগুনে পুড়ে গেছে, যা গত বছরের তুলনায় প্রায় দ্বিগুণ। দীর্ঘস্থায়ী খরা ও উচ্চ তাপমাত্রার কারণে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হয়ে ওঠার আশঙ্কা রয়েছে।পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে দেশজুড়ে প্রায় ৪৮ হাজার কর্মী মোতায়েন করেছে কর্তৃপক্ষ। আগুন নেভাতে বিমান ও হেলিকপ্টারের মাধ্যমে কৃত্রিম বৃষ্টি ঝরানোর উদ্যোগও নেওয়া হয়েছে। এদিকে দাবানলের কারণে খাদ্য সরবরাহে কোনো সংকট হবে না বলে আশ্বস্ত করেছে ইন্দোনেশিয়া সরকার। সরকারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, দেশে পর্যাপ্ত খাদ্য মজুদ রয়েছে।সূত্র: ব্যাংকক পোস্ট/টি

আগস্ট ১১, ২০২৬

ইরানি হামলার ভয়ে তুরস্ক থেকে গোপন ফ্লাইটে যুক্তরাজ্যে ট্রাম্প

ইরানের এক নাগরিকের কাছ থেকে গুপ্তহত্যার হুমকি পাওয়ার পর তুরস্ক থেকে গোপন সামরিক ফ্লাইটে যুক্তরাজ্যে গিয়েছিলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তবে ওই সময় হোয়াইট হাউস জানিয়েছিল, ট্রাম্প পুরোনো এয়ার ফোর্স ওয়ানে করে যুক্তরাজ্যে যাচ্ছেন। মার্কিন সংবাদমাধ্যম ওয়াশিংটন পোস্টের এক প্রতিবেদনে এসব তথ্য উঠে এসেছে। সোমবার প্রকাশিত ওই প্রতিবেদনের বরাতে রয়টার্স জানিয়েছে, ট্রাম্পের নিরাপত্তার স্বার্থেই এই গোপনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছিল।গত মাসে ন্যাটো সম্মেলনে যোগ দিতে কাতারের দেওয়া সংস্কার করা নতুন উড়োজাহাজে করে তুরস্কের রাজধানী আঙ্কারায় যান ট্রাম্প। এটি ছিল কাতারের দেওয়া উড়োজাহাজটির প্রথম আন্তর্জাতিক যাত্রা। তবে আঙ্কারা ছাড়ার সময় হঠাৎ পুরোনো এয়ার ফোর্স ওয়ান ব্যবহারের ঘোষণা দেন তিনি। ট্রাম্প সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে জানিয়েছিলেন, ‘পুরোনো দিনের কথা মনে করার জন্য’ তিনি পুরোনো উড়োজাহাজে করে ব্রিটেনের রয়্যাল এয়ার ফোর্স মিলডেনহলে যাবেন। একই সময়ে নতুন উড়োজাহাজটিও সেখানে যাওয়ার কথা ছিল।তবে ওয়াশিংটন পোস্টের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, আঙ্কারায় ক্যামেরার সামনে পুরোনো এয়ার ফোর্স ওয়ানে ওঠার পর গোপনে ট্রাম্পকে একটি বিমানবন্দরের খাবার সরবরাহকারী ট্রাকে করে অন্য একটি ছোট সামরিক উড়োজাহাজে নেওয়া হয়। মার্কিন এক কর্মকর্তার তথ্য ও বিভিন্ন নথি-প্রমাণ পর্যালোচনা করে বিষয়টি নিশ্চিত হওয়ার কথা জানিয়েছে সংবাদমাধ্যমটি। ট্রাম্পকে বহনকারী সি-৩২এ উড়োজাহাজটি রাত প্রায় ১০টা ২০ মিনিটে যুক্তরাজ্যে পৌঁছায়। এর কয়েক মিনিট পর পুরোনো এয়ার ফোর্স ওয়ান ও সাংবাদিকদের বহনকারী বিমানও সেখানে পৌঁছায়।এই অভিযানের বিষয়ে ট্রাম্পের সঙ্গে সফররত সাংবাদিকদেরও পুরোপুরি অবহিত করা হয়নি বলে প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে। তারা ধারণা করেছিলেন, প্রেসিডেন্ট তাদের সঙ্গে পুরোনো এয়ার ফোর্স ওয়ানেই ভ্রমণ করছেন। এমনকি বিমানের প্রেস কেবিনের জানালার পর্দা পুরো ফ্লাইটজুড়ে বন্ধ রাখতে বলা হয়েছিল। পরে এর কারণ জানতে চাইলে ট্রাম্প সাংবাদিকদের বলেন, তারা ‘সম্ভবত একটি বিপজ্জনক ফ্লাইটে’ ছিলেন। ২০০০ সালে তৎকালীন প্রেসিডেন্ট বিল ক্লিনটনের পাকিস্তান সফরেও বিভ্রান্তি তৈরির জন্য একই ধরনের নিরাপত্তা কৌশল ব্যবহারের নজির রয়েছে।গোপনে তৃতীয় একটি উড়োজাহাজে ট্রাম্পের ভ্রমণের বিষয়ে জানতে চাইলে হোয়াইট হাউসের যোগাযোগ পরিচালক স্টিভ চিয়াং বলেন, কাতারের দেওয়া উড়োজাহাজটিতে প্রেসিডেন্ট ও তার কর্মীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে উচ্চমাত্রার নিরাপত্তাব্যবস্থা স্থাপন করা হয়েছে। তিনি বলেন, ট্রাম্পের ওপর নজর রাখছে এমন অনেক শত্রু রয়েছে এবং এসব হুমকি মোকাবিলায় প্রশাসন তাদের হাতে থাকা সব ধরনের ব্যবস্থা ব্যবহার করছে। ট্রাম্পের গোপন ফ্লাইটের বিষয়ে পেন্টাগনের তাৎক্ষণিক কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি বলে জানিয়েছে ওয়াশিংটন পোস্ট।/টি

আগস্ট ১১, ২০২৬

রিয়াদে সোফা কারখানায় আগুন, নিহত ১৬ বাংলাদেশি শ্রমিক

সৌদি আরবের রাজধানী রিয়াদে একটি সোফা কারখানায় অগ্নিকাণ্ডে ১৬ বাংলাদেশি অভিবাসী শ্রমিক নিহত হয়েছেন। রিয়াদের শিফা থানাধীন মুসা সানাইয়া শিল্প এলাকায় এ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। নিহতদের পরিচয় প্রাথমিকভাবে শনাক্ত করেছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।প্রাথমিক তথ্য অনুযায়ী, নিহত ১৬ বাংলাদেশির মধ্যে ১৩ জন নওগাঁর আত্রাই উপজেলার, দুজন নাটোরের নলডাঙ্গা উপজেলার এবং একজন রাজশাহীর বাগমারা উপজেলার বাসিন্দা। আত্রাই উপজেলার নিহতদের মধ্যে গণ্ডগোহালী গ্রামের রুবেল প্রামাণিক, কালিমউদ্দিন, মোহন ও সুমন, খোরস্রোতা গ্রামের মজিদুল ও আব্দুল জলিল রয়েছেন।এ ছাড়া আত্রাই উপজেলার উজানপই গ্রামের ফরিদ, দুবাই গ্রামের শুভ ও সুমন, বোয়ালা গ্রামের হৃদয়, নওগাঁ গ্রামের শাহিন এবং সদনগর গ্রামের সাগর নিহত হয়েছেন। একই উপজেলার আরেক নিহত মিনহাজের গ্রামের সম্পূর্ণ তথ্য তাৎক্ষণিকভাবে পাওয়া যায়নি।নিহতদের মধ্যে নাটোরের নলডাঙ্গা উপজেলার দিঘিরপার গ্রামের শামীম ও খাজুরা গ্রামের সাব্বির রয়েছেন। অন্যদিকে রাজশাহীর বাগমারা উপজেলার মোরুগ্রাম-ডাঙ্গাপাড়া এলাকার বাসিন্দা শ্যামলও এ অগ্নিকাণ্ডে নিহত হয়েছেন। প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, প্রাথমিক তথ্যের ভিত্তিতে এসব পরিচয় নিশ্চিত করা হয়েছে। তবে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে পরিচয়গুলো যাচাই করা হচ্ছে।এদিকে এ ঘটনায় গভীর শোক ও দুঃখ প্রকাশ করেছেন প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থানমন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী। এক বিবৃতিতে তিনি বলেন, জীবিকার সন্ধানে সুদূর সৌদি আরবে কর্মরত প্রবাসীদের এমন অকাল ও মর্মান্তিক মৃত্যু অত্যন্ত হৃদয়বিদারক। দেশের অর্থনীতিতে তাদের অবদান অপরিসীম। যাচাই প্রক্রিয়া সম্পন্ন হলে অগ্নিকাণ্ড ও নিহতদের বিষয়ে আরও বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ করা হবে।/টি

আগস্ট ১০, ২০২৬

ট্রাম্পের গাজা পরিকল্পনা প্রকাশ্যে প্রত্যাখ্যান নেতানিয়াহুর

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের গাজা যুদ্ধবিরতি বাস্তবায়নের ১৫ দফা পরিকল্পনা প্রকাশ্যে প্রত্যাখ্যান করেছেন ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু। রোববার সাপ্তাহিক মন্ত্রিসভা বৈঠকের শুরুতে তিনি স্পষ্ট করে বলেন, ইসরায়েল ওই নথি গ্রহণ করে না। বিষয়টি জোর দিয়ে বোঝাতে একই বক্তব্য দুবার বলেন নেতানিয়াহু। তার এই অবস্থান ট্রাম্পকে ক্ষুব্ধ করতে পারে বলে ধারণা করা হলেও আসন্ন নির্বাচনের আগে এটিকেই নিজের জন্য তুলনামূলক কম ঝুঁকির সিদ্ধান্ত হিসেবে দেখছেন তিনি।ট্রাম্পের পরিকল্পনায় ধাপে ধাপে ইসরায়েলি সেনা প্রত্যাহারের বিনিময়ে হামাসের অস্ত্র সমর্পণের প্রক্রিয়ার কথা বলা হয়েছে। তবে নেতানিয়াহু জানিয়েছেন, হামাস সম্পূর্ণ নিরস্ত্র না হওয়া পর্যন্ত গাজা থেকে কোনো ইসরায়েলি সেনা প্রত্যাহার করা হবে না। তার ভাষায়, হামাসকে ভারী ও হালকা—সব ধরনের অস্ত্র জমা দিতে হবে এবং শুধু কাগজে-কলমে নয়, বাস্তব অর্থেই তাদের নিরস্ত্র হতে হবে। তবে ট্রাম্পের পক্ষ থেকে এখনো নেতানিয়াহুর বক্তব্যের সরাসরি কোনো প্রতিক্রিয়া জানানো হয়নি।এদিকে হামাস নেতানিয়াহুর বক্তব্যের পরও ট্রাম্পের পরিকল্পনার প্রতি নিজেদের সমর্থন পুনর্ব্যক্ত করেছে। গোষ্ঠীটি আশা করছে, পরিকল্পনা বাস্তবায়নে ট্রাম্পের ‘বোর্ড অব পিস’ নেতানিয়াহুর ওপর চাপ প্রয়োগ করবে। অন্যদিকে হামাস সত্যিই সব অস্ত্র ছেড়ে দেবে কি না, তা নিয়েও রয়েছে বড় ধরনের সংশয়। প্রায় দুই দশক ধরে গাজায় প্রভাবশালী অবস্থানে থাকা হামাসের কাছে অস্ত্র শুধু সামরিক শক্তি নয়, তাদের নেতৃত্ব ও টিকে থাকার অন্যতম ভিত্তি হিসেবেও বিবেচিত হয়।বিশ্লেষকদের মতে, নেতানিয়াহুর কঠোর অবস্থানের পেছনে আসন্ন ইসরায়েলি নির্বাচন গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। নির্বাচন হতে আর ১২ সপ্তাহেরও কম সময় বাকি এবং বিভিন্ন জনমত জরিপে তিনি কঠিন পরিস্থিতির মুখোমুখি। ইসরায়েলে সরকার গঠনে জোটের সমর্থন প্রয়োজন হওয়ায় নেতানিয়াহুর ক্ষমতায় টিকে থাকার জন্য কট্টর ডানপন্থী মিত্রদের ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ। এসব দলের নেতারা ট্রাম্পের পরিকল্পনার বিরোধিতা করেছেন। ফলে পরিকল্পনার প্রতি নমনীয় অবস্থান নিলে নির্বাচনের আগে ডানপন্থী সমর্থন হারানোর ঝুঁকি রয়েছে তার।তবে শুধু রাজনৈতিক মিত্রদের চাপ নয়, ইসরায়েলের সাধারণ ভোটারদের মধ্যেও হামাসকে পুরোপুরি নিরস্ত্র না করে গাজা থেকে সেনা প্রত্যাহারের বিষয়ে অনীহা রয়েছে বলে বিশ্লেষণে উঠে এসেছে। অন্যদিকে প্রায় ২০ লাখ ফিলিস্তিনি বাসিন্দার গাজার ভবিষ্যৎ নিয়ে ইসরায়েল, হামাস ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে আলোচনা চললেও নিজেদের ভাগ্য নির্ধারণে তাদের ভূমিকা খুবই সীমিত। ফলে ট্রাম্পের পরিকল্পনা, নেতানিয়াহুর কঠোর অবস্থান এবং হামাসের প্রতিক্রিয়ার মধ্যেই গাজা যুদ্ধবিরতির ভবিষ্যৎ নিয়ে নতুন করে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে।/টি

আগস্ট ১০, ২০২৬

মুসলিম দেশগুলোকে এক ফ্রন্টে আসার আহ্বান পাকিস্তানের

ইসরায়েলের বিরুদ্ধে মুসলিম দেশগুলোকে ঐক্যবদ্ধ হয়ে একটি সামরিক ফ্রন্ট গঠনের আহ্বান জানিয়েছেন পাকিস্তানের প্রতিরক্ষামন্ত্রী খাজা আসিফ। তিনি ইসরায়েলকে পুরো মুসলিম বিশ্বের জন্য হুমকি হিসেবে উল্লেখ করে বলেন, এই হুমকি মোকাবিলায় ইসলামি দেশগুলোকে একসঙ্গে কাজ করতে হবে।তুরস্ক ও সৌদি আরবের সঙ্গে পাকিস্তানের গুরুত্বপূর্ণ প্রতিরক্ষা চুক্তি সইয়ের পর পাকিস্তানি সংবাদমাধ্যম জিও নিউজকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে এসব মন্তব্য করেন খাজা আসিফ। তিনি বলেন, ইসরায়েলের বর্তমান কর্মকাণ্ড ও অতীতের ঘটনাপ্রবাহ বিবেচনায় পুরো মুসলিম বিশ্বকে সম্মিলিতভাবে পরিস্থিতির মোকাবিলা করতে হবে।পাকিস্তানের প্রতিরক্ষামন্ত্রী বলেন, ১৯৪৭ বা ১৯৪৮ সালের দিকে একটি রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার পর থেকেই এ অঞ্চলে সংঘাত চলে আসছে। তার মতে, বেলফোর ঘোষণার ধারাবাহিকতায় এই সংকটের সৃষ্টি হয় এবং ফিলিস্তিনিরা দীর্ঘদিন ধরে নিজেদের অধিকারের জন্য প্রতিরোধ চালিয়ে যাচ্ছেন।খাজা আসিফ আরও বলেন, ফিলিস্তিনি জনগণের আকাঙ্ক্ষা অনুযায়ী সমস্যার সমাধান না হওয়া পর্যন্ত এই সংকট চলতে থাকবে। এ বিষয়ে মুসলিম বিশ্বের দেশগুলোর মধ্যে কোনো ধরনের মতপার্থক্য থাকা উচিত নয় বলেও মন্তব্য করেন তিনি।তিনি দাবি করেন, ইসরায়েলের ফিলিস্তিনবিরোধী ও ইসলামবিরোধী নীতি দেশটির ক্ষমতায় থাকা ব্যক্তিদের পরিবর্তনের সঙ্গে বদলাবে না। ভবিষ্যতেও ইসরায়েল এক মুসলিম দেশকে অন্য মুসলিম দেশের বিরুদ্ধে ব্যবহার করার চেষ্টা চালিয়ে যাবে বলে মন্তব্য করেন পাকিস্তানের প্রতিরক্ষামন্ত্রী।সূত্র: মিডল ইস্ট আই ও টাইমস অব ইসরায়েল/টি

আগস্ট ০৯, ২০২৬

সৌদি-পাকিস্তান-তুরস্কের মক্কা প্রতিরক্ষা চুক্তি

সৌদি আরব, পাকিস্তান ও তুরস্কের মধ্যে ‘মক্কা প্রতিরক্ষা চুক্তি’ নামে একটি ত্রিপক্ষীয় প্রতিরক্ষা জোট গড়ে উঠেছে। তবে এই চুক্তি কোনো নির্দিষ্ট দেশ, বিশেষ করে ইরানকে লক্ষ্য করে করা হয়নি বলে জানিয়েছে তুরস্ক। দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী হাকান ফিদান বলেছেন, চুক্তিতে ইরান বা অন্য কোনো দেশকে যৌথ হুমকি হিসেবে চিহ্নিত করা হয়নি।কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরার প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, শুক্রবার তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়েপ এরদোয়ান, সৌদি যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমান এবং পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ ‘মক্কা চুক্তি’তে স্বাক্ষর করেন। চুক্তি অনুযায়ী, তিন দেশের যেকোনো একটির ওপর সশস্ত্র হামলা হলে সেটিকে সব দেশের ওপর হামলা হিসেবে বিবেচনা করা হবে।তুরস্কের পররাষ্ট্রমন্ত্রী হাকান ফিদান বলেন, চুক্তিতে কোনো যৌথ হুমকি নির্ধারণ করা হয়নি। তিনি জানান, যেসব দেশ স্বাক্ষরকারী রাষ্ট্রগুলোর ওপর হামলা করবে না, তাদের লক্ষ্যবস্তু হিসেবে বিবেচনা করা হবে না। তিনি এই চুক্তিকে ন্যাটোর সম্মিলিত প্রতিরক্ষা নীতির সঙ্গে কৌশলগতভাবে তুলনা করেছেন।ফিদান জানান, কোনো দেশ আক্রান্ত হলে সহযোগিতা পরিস্থিতির ওপর নির্ভর করবে। আক্রান্ত দেশকে সহায়তার জন্য অনুরোধ করতে হবে এবং প্রয়োজন অনুযায়ী গোয়েন্দা তথ্য, রসদ, গোলাবারুদ কিংবা সামরিক ইউনিট পাঠানোর মতো সহায়তা দেওয়া হতে পারে। চুক্তির আওতায় পররাষ্ট্র ও প্রতিরক্ষামন্ত্রী এবং সামরিক প্রধানদের নিয়ে একটি রাজনৈতিক ও সামরিক কমিটি গঠন করা হবে। পাশাপাশি সৌদি আরবে একটি সচিবালয় স্থাপন করা হবে।এদিকে চুক্তিটি নিয়ে ইরানের কয়েকজন কর্মকর্তা উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। তারা সৌদি আরবকে নতুন নিরাপত্তা অংশীদারদের ওপর নির্ভর না করার পরামর্শ দিয়েছেন। ইরানের সংসদীয় জাতীয় নিরাপত্তা ও পররাষ্ট্রনীতি কমিশনের সদস্যরা এটিকে ‘কাগজে-কলমের চুক্তি’ বলেও মন্তব্য করেছেন। তবে তুরস্ক জানিয়েছে, চুক্তিটির প্রস্তুতি প্রায় দুই বছর আট মাস ধরে চলেছে এবং এটি কোনো সাম্প্রতিক আঞ্চলিক উত্তেজনার প্রতিক্রিয়ায় তৈরি হয়নি। একই সঙ্গে তিন দেশ যৌথ প্রশিক্ষণ, গোয়েন্দা তথ্য বিনিময়, সামরিক সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং প্রতিরক্ষা শিল্পে সহযোগিতা বাড়ানোর বিষয়ে কাজ করবে।/টি

আগস্ট ০৯, ২০২৬

হরমুজ প্রণালিতে বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচল আরও কমেছে

গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালিতে এ সপ্তাহে বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচল আরও কমেছে। একই সঙ্গে ওমানের সঙ্গে এই গুরুত্বপূর্ণ জলপথ পরিচালনা নিয়ে একটি সমঝোতার কাছাকাছি পৌঁছানোর কথা জানিয়েছে ইরান। বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ এই রুটে জাহাজ চলাচল কমে যাওয়ায় আন্তর্জাতিক বাণিজ্য ও জ্বালানি পরিবহন নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে।তথ্য বিশ্লেষণকারী প্রতিষ্ঠান কেপলারের তথ্য অনুযায়ী, বৃহস্পতিবার হরমুজ প্রণালি দিয়ে মাত্র আটটি বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচল করেছে। এর আগে মঙ্গলবার এই সংখ্যা ছিল ১৫টি এবং গত বৃহস্পতিবার ছিল ১২টি। যুদ্ধ শুরুর আগে প্রতিদিন গড়ে প্রায় ১৪০টি বাণিজ্যিক জাহাজ এই জলপথ ব্যবহার করত। ফলে বর্তমান পরিস্থিতিতে জাহাজ চলাচল উল্লেখযোগ্যভাবে কমে গেছে।হরমুজ প্রণালি বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি পরিবহন পথ। বিশ্বের মোট তেল ও গ্যাস পরিবহনের প্রায় ২০ শতাংশ এই জলপথ দিয়ে হয়ে থাকে। ফলে এখানে জাহাজ চলাচল কমে গেলে বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহ ব্যবস্থা ও আন্তর্জাতিক বাজারে এর প্রভাব পড়ার আশঙ্কা রয়েছে। ওমানের সঙ্গে সমঝোতার উদ্যোগকে তাই গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে দেখা হচ্ছে।এদিকে দক্ষিণ লোহিত সাগরের বাব আল-মান্দাব প্রণালিতেও বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচল আগের তুলনায় কমেছে। কেপলারের তথ্য বলছে, বৃহস্পতিবার এই প্রণালি দিয়ে ২৬টি জাহাজ চলাচল করেছে। মঙ্গলবার এই সংখ্যা ছিল ৩২টি এবং বুধবার ছিল ২২টি। গুরুত্বপূর্ণ এই জলপথেও নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগের কারণে জাহাজ চলাচলে প্রভাব পড়ছে।ইরান-সমর্থিত হুথি বিদ্রোহীরা সৌদি পতাকাবাহী জাহাজকে লক্ষ্যবস্তু করার ঘোষণা দেওয়ার আগে প্রতিদিন প্রায় ৭০টি জাহাজ বাব আল-মান্দাব প্রণালি দিয়ে চলাচল করত। সেই তুলনায় বর্তমান জাহাজ চলাচল অনেক কম। হরমুজ ও বাব আল-মান্দাব—দুই গুরুত্বপূর্ণ জলপথে জাহাজ চলাচল কমে যাওয়ায় আন্তর্জাতিক বাণিজ্য ও জ্বালানি পরিবহন ব্যবস্থায় এর সম্ভাব্য প্রভাব নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে।/টি

আগস্ট ০৮, ২০২৬

মার্কিন হামলা হলে উপসাগরীয় জ্বালানি স্থাপনায় পাল্টা আঘাতের হুঁশিয়ারি ইরানের

মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র নতুন করে ইরানের ওপর সামরিক হামলা চালালে উপসাগরীয় অঞ্চলের গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি অবকাঠামো এবং মার্কিন সামরিক স্থাপনায় পাল্টা হামলা চালানো হবে বলে কঠোর হুঁশিয়ারি দিয়েছে তেহরান। একাধিক কূটনৈতিক সূত্রের বরাতে রয়টার্স জানিয়েছে, সম্ভাব্য মার্কিন সামরিক পদক্ষেপের মূল্য বাড়িয়ে তুলতে এবং ওয়াশিংটনের আঞ্চলিক মিত্রদের ওপর চাপ সৃষ্টি করতেই এ বার্তা দিয়েছে ইরান।সূত্রগুলোর তথ্য অনুযায়ী, গত ২৮ জুলাই মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের জ্বালানি অবকাঠামো লক্ষ্য করে হামলার হুমকি দেওয়ার পরপরই তেহরান কূটনৈতিক তৎপরতা জোরদার করে। এর অংশ হিসেবে ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি সৌদি আরব, কাতার ও তুরস্কের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এবং পাকিস্তানের সেনাপ্রধানের সঙ্গে পৃথকভাবে আলোচনা করেন। তিনি উপসাগরীয় দেশগুলোকে তাদের প্রভাব কাজে লাগিয়ে যুক্তরাষ্ট্রকে নতুন হামলা থেকে বিরত রাখতে অনুরোধ জানান।এক জ্যেষ্ঠ আঞ্চলিক কূটনীতিকের ভাষ্য, আরাগচি আলোচনায় স্পষ্ট করে বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্র ইরানে হামলা চালালে ইরানও পাল্টা জবাব দিতে প্রস্তুত। তবে একই সঙ্গে তিনি আঞ্চলিক সংঘাত এড়িয়ে কূটনৈতিক সমাধানের ওপর গুরুত্বারোপ করেন। ইরানের পক্ষ থেকে জানানো হয়, নতুন হামলা হলে শুধু তেল স্থাপনা নয়, শোধনাগার, বিদ্যুৎকেন্দ্র, পানির অবকাঠামো, পরিবহন নেটওয়ার্ক এবং তেলক্ষেত্রও সম্ভাব্য লক্ষ্যবস্তু হতে পারে।এদিকে সৌদি যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমান ট্রাম্পের সঙ্গে আলোচনায় সামরিক পদক্ষেপ স্থগিত রেখে সংলাপে ফেরার আহ্বান জানিয়েছেন বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো জানিয়েছে। একই সঙ্গে কাতার, ওমান ও সৌদি আরবও ওয়াশিংটনকে তেহরানের সঙ্গে আলোচনায় ফিরে যাওয়ার পরামর্শ দিয়েছে। তাদের আশঙ্কা, নতুন করে সংঘাত শুরু হলে পুরো উপসাগরীয় অঞ্চল অস্থিতিশীল হয়ে পড়বে এবং বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহ মারাত্মকভাবে ব্যাহত হতে পারে।রাজকীয় দরবারের ঘনিষ্ঠ সৌদি বিশ্লেষক আলি শিহাবি বলেন, উত্তেজনা আরও বাড়িয়ে কাঙ্ক্ষিত ফল অর্জনের সম্ভাবনা খুবই কম। কূটনৈতিক সূত্রগুলোর মতে, বর্তমানে ট্রাম্প প্রশাসনের সামনে দুটি পথ খোলা রয়েছে—একদিকে পুরো উপসাগরীয় অঞ্চলকে সংঘাতে জড়িয়ে ফেলার ঝুঁকি, অন্যদিকে আলোচনার মাধ্যমে সমাধানের চেষ্টা। তবে আঞ্চলিক দেশগুলো এখনো কূটনৈতিক সমাধানকেই সবচেয়ে কার্যকর পথ হিসেবে বিবেচনা করছে।/টি 

আগস্ট ০৬, ২০২৬

হরমুজ প্রণালিতে নৌপথ নিয়ে ওমানের সঙ্গে সমঝোতা ইরানের

হরমুজ প্রণালি দিয়ে জাহাজ চলাচলের জন্য নতুন নৌপথ নির্ধারণে ওমানের সঙ্গে সমঝোতায় পৌঁছানোর দাবি করেছে ইরান। দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, প্রস্তাবিত রুটের ভৌগোলিক স্থানাঙ্ক নিয়ে দুই পক্ষ একমত হয়েছে এবং সমঝোতাটি এখন চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে। তবে নতুন নৌপথের বিস্তারিত বা সুনির্দিষ্ট অবস্থান এখনো প্রকাশ করা হয়নি।ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাঘাই বলেছেন, শুধু নতুন নৌপথ নির্ধারণ করলেই হরমুজ প্রণালিতে নিরাপদ নৌচলাচল নিশ্চিত হবে না। তার দাবি, ইরানের বন্দরগুলোতে যুক্তরাষ্ট্রের নৌ অবরোধ এবং দেশটির বিরুদ্ধে চলমান হুমকিমূলক কর্মকাণ্ডের কারণে এই গুরুত্বপূর্ণ জলপথে নিরাপত্তা ঝুঁকি এখনো বহাল রয়েছে।ইরানের উপপররাষ্ট্রমন্ত্রী কাজেম গারিবাবাদি রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা ইরনাকে জানান, নতুন নৌপথটি সাময়িকভাবে চালু করা হতে পারে এবং এটি দুই থেকে চার মাস কার্যকর থাকতে পারে। তবে রুটটি কবে থেকে চালু হবে বা কোন ধরনের জাহাজ এ পথ ব্যবহার করতে পারবে, সে বিষয়ে তিনি কোনো বিস্তারিত তথ্য দেননি। এদিকে ইরানের এই দাবির বিষয়ে এখন পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্র ও ওমান আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো মন্তব্য করেনি।ফেব্রুয়ারির শেষ দিকে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলার পর থেকে হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচল উল্লেখযোগ্যভাবে কমে যায়। বিশ্বের মোট তেল ও তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) পরিবহনের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ এই জলপথ দিয়ে সম্পন্ন হয়। ফলে প্রণালিতে অচলাবস্থা তৈরি হওয়ার পর আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজারে তেলের দামে বড় ধরনের ওঠানামা দেখা দেয়। এর আগে ইরান ঘোষণা দিয়েছিল, তাদের পূর্বানুমতি ছাড়া কোনো জাহাজ প্রণালি অতিক্রম করতে পারবে না। এ নির্দেশ অমান্য করা কয়েকটি জাহাজে হামলার ঘটনাও ঘটেছে।এদিকে হরমুজ দিয়ে চলাচলকারী জাহাজের কাছ থেকে ফি আদায়ের ইরানি প্রস্তাব নিয়ে তেহরান ও ওয়াশিংটনের মধ্যে মতবিরোধ রয়েছে। ওমানের সঙ্গে আলোচনায় এ বিষয়টি অন্তর্ভুক্ত ছিল কি না, তা স্পষ্ট করেনি ইরান। এর আগে মঙ্গলবার মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সতর্ক করে বলেন, দ্রুত হরমুজ প্রণালি খুলে না দিলে ইরানকে কঠোর পরিণতির মুখোমুখি হতে হবে। যদিও ইরান বরাবরের মতোই যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে এ বিষয়ে কোনো আলোচনা চলছে না বলে দাবি করে আসছে। সূত্র: বিবিসি।/টি

আগস্ট ০৬, ২০২৬

২০ মিনিটে সাত বিস্ফোরণে কাঁপল দুবাই

২০ মিনিটে সাত বিস্ফোরণে কাঁপল দুবাইসংযুক্ত আরব আমিরাতের দুবাইয়ের জেবেল আলি শিল্পাঞ্চল ও বন্দর একের পর এক বিস্ফোরণে কেঁপে উঠেছে।  বুধবার (৫ আগস্ট) ভোরে মাত্র ২০ মিনিটের মধ্যে অন্তত সাতটি বিস্ফোরণের শব্দ শোনা গেছে বলে জানিয়েছে দেশটির কর্মকর্তারা। বিস্ফোরণের পর পুরো এলাকায় ঘন কালো ধোঁয়া ছড়িয়ে পড়ে।  খবর বার্তা সংস্থা মেহের’রআমিরাতের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, মাত্র ২০ মিনিটের মধ্যে অন্তত সাতটি বিস্ফোরণের শব্দ শোনা গেছে। তবে এসব বিস্ফোরণের কারণ সম্পর্কে এখনো কোনো আনুষ্ঠানিক ব্যাখ্যা দেওয়া হয়নি।ঘটনার প্রকৃতি নিয়ে বিভিন্ন ধরনের তথ্য সামনে এসেছে।  ইরাকের কয়েকটি সংবাদমাধ্যম দাবি করেছে, ইয়েমেন থেকে ছোড়া ক্ষেপণাস্ত্রের আঘাতে এই বিস্ফোরণ ঘটেছে। তবে আমিরাতের গণমাধ্যম শুধু একাধিক বিস্ফোরণের বিষয়টি নিশ্চিত করলেও হামলার বিষয়ে কিছু জানায়নি।এদিকে থার্মাল ইমেজ বিশ্লেষণে দেখা গেছে, বন্দরের পাশে জ্বালানি সংরক্ষণ ও স্থানান্তরের কাজে ব্যবহৃত একটি গুদামে আগুন লাগে।আরব গণমাধ্যমের খবরে বলা হয়েছে, আগুনের ভিডিও ধারণ করার অভিযোগে দুই ব্যক্তিকে আটক করেছে আমিরাতের কর্তৃপক্ষ।একই সময়ে ইয়েমেনের রাজধানী সানাতেও বিস্ফোরণের শব্দ শোনা গেছে।  কিছু সূত্রের দাবি, সেখানে বিমান হামলা হয়েছে।অন্য আরেকটি সূত্র বলছে, ইয়েমেনের ভেতর থেকেই ক্ষেপণাস্ত্র উৎক্ষেপণের কারণে এসব বিস্ফোরণের শব্দ শোনা গেছে।তাৎক্ষণিকভাবে হতাহত বা ক্ষয়ক্ষতির কোনো তথ্য প্রকাশ করা হয়নি।

আগস্ট ০৫, ২০২৬
footer small logo

যোগাযোগ :

এটিএন বাংলা, ওয়াসা ভবন, ২য় তলা, ৯৮ কাজী নজরুল ইসলাম এভিনিউ, কাওরান বাজার, ঢাকা-১২১৫, বাংলাদেশ

ফোনঃ +88-02-55011931

সোশ্যাল মিডিয়া

youtube logotwitter logofacebook logo

Design & Developed by:

developed-company-logo