logo
youtube logotwitter logofacebook logo
/আন্তর্জাতিক
হরমুজ প্রণালি পুরোপুরি বন্ধ ঘোষণা করল ইরান - image

হরমুজ প্রণালি পুরোপুরি বন্ধ ঘোষণা করল ইরান

11 জুন 2026, বিকাল 2:42

মধ্যপ্রাচ্যে নতুন করে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়েছে। তেলবাহী ট্যাংকার, বাণিজ্যিক জাহাজসহ সব ধরনের নৌযানের জন্য কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালি পুরোপুরি বন্ধ ঘোষণা করেছে ইরান। বৃহস্পতিবার (১১ জুন) দেশটির সর্বোচ্চ যৌথ সামরিক কমান্ড এ ঘোষণা দেয়। আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমগুলোর খবরে বলা হয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রের সাম্প্রতিক সামরিক হামলার জবাব হিসেবে এই পদক্ষেপ নিয়েছে তেহরান।আল জাজিরার প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের নির্দেশে ইরানের একাধিক লক্ষ্যবস্তুতে নতুন করে হামলা চালায় যুক্তরাষ্ট্র। এর জবাবে বাহরাইন ও কুয়েতে অবস্থিত মার্কিন সামরিক ঘাঁটি এবং হরমুজ প্রণালিতে দুটি জাহাজে হামলা চালানোর দাবি করেছে ইরান। মার্কিন সামরিক বাহিনীর ভাষ্য, ইরানের ধারাবাহিক আগ্রাসনের প্রতিক্রিয়াতেই এসব হামলা চালানো হয়েছে।ইরানের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম জানিয়েছে, হরমুজ প্রণালির কেশম দ্বীপ, বন্দর আব্বাস ও সিরিক শহরে বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটেছে। দক্ষিণাঞ্চলীয় কারগান শহরেও বিস্ফোরণে অন্তত দুজন আহত হয়েছেন। একই সময়ে ইসলামি বিপ্লবী গার্ড বাহিনী (আইআরজিসি) অভিযোগ করেছে, গত এপ্রিলে স্বাক্ষরিত যুদ্ধবিরতি চুক্তি যুক্তরাষ্ট্র বারবার লঙ্ঘন করেছে। এ কারণেই পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত হরমুজ প্রণালি বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছে বাহিনীটি।আইআরজিসি জানিয়েছে, বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ এই সমুদ্রপথে তেলবাহী ট্যাংকার ও বাণিজ্যিক জাহাজসহ সব ধরনের নৌযানের চলাচল বন্ধ থাকবে। পাশাপাশি ‘অবৈধভাবে’ প্রণালি অতিক্রমের চেষ্টা করা দুটি তেলবাহী জাহাজে হামলা চালানোর দাবি করেছে তারা। এছাড়া বাহরাইনের শেখ ইসা বিমানঘাঁটি এবং কুয়েতের আলি আল-সালেম ও আহমাদ আল-জাবের বিমানঘাঁটিতে ড্রোন হামলা চালানোর কথাও জানিয়েছে আইআরজিসি।বিশ্বের মোট জ্বালানি সরবরাহের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ হরমুজ প্রণালির মাধ্যমে পরিবাহিত হয়। ফলে এই নৌপথ বন্ধ হয়ে যাওয়ায় বৈশ্বিক জ্বালানি বাজার ও সরবরাহ ব্যবস্থায় বড় ধরনের প্রভাব পড়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, ইসরায়েল-ইরান সংঘাতের পর যুক্তরাষ্ট্র-ইরান উত্তেজনা নতুন মাত্রা পাওয়ায় উপসাগরীয় অঞ্চলের নিরাপত্তা পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠতে পারে।/টিএ

জুন ১১, ২০২৬

যুক্তরাষ্ট্রকে কঠোর হুঁশিয়ারি ইরানের

হরমুজ প্রণালিতে একটি মার্কিন অ্যাপাচি হেলিকপ্টার ভূপাতিত করার ঘটনাকে কেন্দ্র করে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে নতুন করে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়েছে। এ ঘটনার পর যুক্তরাষ্ট্র ইরানের বিভিন্ন স্থানে ব্যাপক হামলা চালিয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে।ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি) জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্র দেশটির জাস্ক ও সিরিক এলাকায় হামলা চালিয়েছে। এসব হামলায় সিরিকের একটি টেলিযোগাযোগ টাওয়ারসহ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলে দাবি করা হয়েছে।জবাবে আইআরজিসি মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে বিভিন্ন মার্কিন ঘাঁটি ও স্বার্থসংশ্লিষ্ট স্থাপনায় ড্রোন হামলা চালিয়েছে বলে জানানো হয়েছে। একইসঙ্গে ইরানের নৌবাহিনীও মার্কিন স্বার্থসংশ্লিষ্ট একাধিক লক্ষ্যবস্তুতে হামলা পরিচালনা করেছে।আইআরজিসি আরও জানিয়েছে, প্রয়োজনে অতিরিক্ত হামলার প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। সম্ভাব্য লক্ষ্যবস্তুর তালিকায় রয়েছে চারটি গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা, যার মধ্যে একটি মার্কিন ঘাঁটির এফ-৩৫ যুদ্ধবিমানের হ্যাঙ্গার এবং জর্ডানে অবস্থিত একটি কমান্ড অ্যান্ড কন্ট্রোল সেন্টারও রয়েছে।এদিকে যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে, ইরানের বাহিনী তাদের হেলিকপ্টার ভূপাতিত করেছে। তবে ইরানের উপ-পররাষ্ট্রমন্ত্রী এ অভিযোগ অস্বীকার করে বলেছেন, ওই হেলিকপ্টারে কোনো ইচ্ছাকৃত হামলা হয়নি এবং এটি পরিকল্পিত কোনো পদক্ষেপও ছিল না।/টিএ

জুন ১০, ২০২৬

চূড়ান্ত পর্যায়ে ইরান-ইসরাইল শান্তি আলোচনা, দাবি ট্রাম্পের

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দাবি করেছেন, মধ্যপ্রাচ্যে চলমান উত্তেজনা প্রশমনে ইরান ও ইসরাইলের মধ্যে শান্তি আলোচনা এখন ‘চূড়ান্ত পর্যায়ে’ পৌঁছেছে। সাম্প্রতিক পাল্টাপাল্টি হামলার পর দুই দেশের মধ্যে সাময়িক বিরতি তৈরি হওয়ায় তিনি এই আশাবাদ ব্যক্ত করেন। ট্রাম্পের ভাষায়, তার মধ্যস্থতায় উভয় পক্ষই উত্তেজনা কমাতে সম্মত হয়েছে এবং একটি গুরুত্বপূর্ণ চুক্তির শেষ ধাপে পৌঁছানো গেছে।মঙ্গলবার (৯ জুন) সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে ট্রাম্প বলেন, দুই থেকে তিন দিনের মধ্যেই একটি ইতিবাচক চুক্তি হতে পারে। তবে তার এই আশাবাদের বিপরীতে মাঠপর্যায়ের বাস্তবতা এখনও জটিল। তেহরান বারবার বলছে, যে কোনো শান্তি চুক্তিতে লেবাননের বিষয়টি অন্তর্ভুক্ত করতে হবে। একই সময়ে ইরান-সমর্থিত গোষ্ঠী হিজবুল্লাহর বিরুদ্ধে লেবাননে ইসরাইলের সামরিক অভিযান অব্যাহত রয়েছে।রোববার ইরান ইসরাইলের দিকে প্রায় ৩০টি ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করলে ইসরাইল পাল্টা হামলা চালায়। পরে ইরান সামরিক অভিযান বন্ধের ঘোষণা দেয় এবং ইসরাইলও জানায় পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। তবে সতর্কতা এখনও কাটেনি। ইরান হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছে, লেবাননে হামলা অব্যাহত থাকলে তারা আবারও আক্রমণ চালাবে। জবাবে ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু ‘পূর্ণ শক্তি’ দিয়ে প্রতিক্রিয়ার হুমকি দিয়েছেন।এদিকে দক্ষিণ লেবাননে সংঘাতের প্রভাব মারাত্মক আকার নিয়েছে। দেশটির স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, সোমবার ইসরাইলি হামলায় অন্তত ১৪ জন নিহত হয়েছেন। যদিও ইরান ও ইসরাইলে সরাসরি সংঘাতে কোনো হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি। তেহরানে পরিস্থিতি তুলনামূলক স্বাভাবিক থাকলেও মানুষের মধ্যে অনিশ্চয়তা ও উদ্বেগ বিরাজ করছে। একইভাবে তেল আবিবে সাইরেন বাজলে বাসিন্দারা আশ্রয়কেন্দ্রে ছুটে যাচ্ছেন।কূটনৈতিক তৎপরতাও সমানতালে চলছে। পাকিস্তান মধ্যস্থতাকারী হিসেবে সক্রিয় ভূমিকা রাখছে এবং ইরানের শীর্ষ নেতৃত্বের কাছে বার্তা পৌঁছে দিয়েছে। ইরানের প্রেসিডেন্টও জানিয়েছেন, তারা আলোচনায় থাকতে আগ্রহী। বিশ্লেষকদের মতে, সাময়িক যুদ্ধবিরতি শান্তির সম্ভাবনা তৈরি করলেও ইরান, ইসরাইল ও লেবাননকে ঘিরে উত্তেজনা যে কোনো সময় নতুন করে সংঘাতে রূপ নিতে পারে।/টিএ

জুন ০৯, ২০২৬

এখন পর্যন্ত ৪ হাজার ৮০০ মানুষকে বাংলাদেশে পাঠানো হয়েছে: পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী

ভারতের পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী দাবি করেছেন, এখন পর্যন্ত ৪ হাজার ৮০০ মানুষকে বাংলাদেশে পাঠানো হয়েছে রাজ্যের বিভিন্ন সীমান্ত জেলার অস্থায়ী নিবাসকেন্দ্র থেকে । এছাড়া আরও ৮৩৬ জনকে ফেরত পাঠানোর প্রক্রিয়া চলছে বলেও তিনি জানিয়েছেন।রোববার (৭ জুন) ভারতীয় জনতা পার্টির একটি প্রশিক্ষণ শিবির উপলক্ষে আয়োজিত প্রস্তুতি সভায় বক্তব্য দিতে গিয়ে তিনি এ দাবি করেন। সীমান্ত নিরাপত্তা ও অবৈধ অনুপ্রবেশ রোধকে তার সরকারের অন্যতম প্রধান অগ্রাধিকার বলে উল্লেখ করেন তিনি। শুভেন্দু অধিকারী বলেন, নাগরিকত্ব সংশোধনী আইনের আওতায় না থাকা অবৈধ অভিবাসীদের কেন্দ্রীয় সরকারের নির্দেশনা অনুযায়ী সরাসরি সীমান্তরক্ষী বাহিনীর কাছে হস্তান্তর করা হচ্ছে।তার দাবি, অতীতে এ ধরনের ব্যবস্থা কার্যকরভাবে বাস্তবায়ন করা হয়নি। ফলে বহু অবৈধ অভিবাসী দীর্ঘ সময় বিভিন্ন সরকারি কেন্দ্রে অবস্থান করেছে।‌তিনি বলেন, সীমান্তবর্তী জেলাগুলোর নিবাসকেন্দ্র থেকে প্রায় ৪ হাজার ৮০০ জনকে বাংলাদেশে পাঠানো হয়েছে।বর্তমানে আরও ৮৩৬ জন পাঠানোর অপেক্ষায় রয়েছেন। উত্তর চব্বিশ পরগনার হাকিমপুর সীমান্ত এলাকার প্রসঙ্গ টেনে পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী দাবি করেন, সরকারের কঠোর অবস্থানের কারণে অনেক অনথিভুক্ত অভিবাসী স্বেচ্ছায় এলাকা ছেড়ে চলে গেছেন। সীমান্তে কাঁটাতারের বেড়া নির্মাণ নিয়েও বক্তব্য দেন শুভেন্দু অধিকারী। তিনি জানান, ভারত-বাংলাদেশ সীমান্তের যেসব অংশে এখনও বেড়া নির্মাণ হয়নি, তার মধ্যে প্রায় ১০০ কিলোমিটার এলাকার জমি সীমান্তরক্ষী বাহিনীর কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে উত্তরবঙ্গের কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ শিলিগুড়ি করিডোরে।তিনি বলেন, রাজ্যের সীমান্তবর্তী এলাকায় নিরাপত্তা জোরদার করার পাশাপাশি অবৈধ অনুপ্রবেশ রোধে প্রয়োজনীয় সব পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে। সভায় জনসংখ্যাগত পরিবর্তনের বিষয়টিও তুলে ধরেন শুভেন্দু অধিকারী। তার অভিযোগ, পশ্চিমবঙ্গে জনসংখ্যার কাঠামোগত পরিবর্তন একটি গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক ইস্যুতে পরিণত হয়েছে।তিনি দাবি করেন, সাম্প্রতিক বিধানসভা নির্বাচনে অবৈধ অনুপ্রবেশের বিষয়টি ভারতীয় জনতা পার্টির অন্যতম প্রধান নির্বাচনী ইস্যু ছিল। এদিকে রাজ্যে জনগণনা কার্যক্রম শুরু হয়েছে বলেও জানান তিনি। আগামী ১ আগস্ট থেকে ১৫ আগস্ট পর্যন্ত বাড়ি বাড়ি সমীক্ষা চালানো হবে বলে উল্লেখ করেন।তার ভাষ্য, আগামী বছরের ফেব্রুয়ারির মধ্যে জনগণনার কাজ শেষ হবে। এরপর নতুন করে নির্বাচনী সীমানা পুনর্নির্ধারণের প্রক্রিয়া শুরু হতে পারে।এমআর//

জুন ০৮, ২০২৬

ভারতের নিষেধাজ্ঞায় মুখ থুবড়ে পরলো বাংলাদেশের পণ্য রপ্তানি!

ভারতের নিষেধাজ্ঞার মুখ থুবড়ে পরলো বাংলাদেশের পণ্য রপ্তানি!টেকসই অর্থনীতির মূল চালিকাশক্তি হলো নিরবচ্ছিন্ন দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্য। কিন্তু কখনো কখনো কূটনৈতিক টেবিলের ঠান্ডা লড়াই কিংবা নীতিমালার অদৃশ্য দেয়াল চেনা বাজারকেও করে তোলে সম্পূর্ণ অচেনা। নিকটতম প্রতিবেশীর বিশাল বাজারে প্রবেশাধিকার যখন সহজ হওয়ার কথা, ঠিক তখনই সেখানে তৈরি হয়েছে এক অলিখিত মনস্তাত্ত্বিক দূরত্ব। ফলে দুই ভূখণ্ডের দীর্ঘদিনের বাণিজ্যিক সমীকরণে এক বড় ধরনের রূপান্তর লক্ষ্য করা যাচ্ছে, যা ভাবিয়ে তুলেছে দেশের নীতিনির্ধারকদের।বাংলাদেশি পণ্যের এক সময়ের সম্ভাবনাময় বাজার ভারতে বর্তমানে বইছে মন্দার হাওয়া। স্থলবন্দরের সুবিধা সংকুচিত করে দূরবর্তী সমুদ্রপথ ব্যবহারের নতুন নিয়মে পণ্যের লজিস্টিকস ও পরিবহন খরচ আকাশ ছুঁয়েছে। ফলে প্রতিযোগিতার বাজারে টিকতে না পেরে মুখ থুবড়ে পরেছে দেশের তৈরি পোশাক ও পাট খাতের মতো প্রধান প্রধান রপ্তানি পণ্য। পোশাকের বাজারে ধস নেমেছে প্রায় ১১ শতাংশ, আর সোনালী আঁশখ্যাত পাটের রপ্তানি কমেছে প্রায় এক-চতুর্থাংশ।বিশ্লেষকদের মতে, এই সংকটের সূত্রপাত মূলত আমদানি-রপ্তানি নীতির পাল্টাপাল্টি সিদ্ধান্তের কারণে। স্থলপথে কাঁচামাল আনার পথ বন্ধ করার প্রতিক্রিয়ায় প্রতিবেশীর তিন দফার কঠোর বিধিনিষেধ বর্তমানে দেশীয় মাঝারি ও ক্ষুদ্র উদ্যোক্তাদের জন্য বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। ফলে ভারতের বাজারের বিশাল সম্ভাবনা থাকা সত্ত্বেও কূটনৈতিক শিথিলতার কারণে বাংলাদেশ ইতোমধ্যে সেই সুযোগ হারিয়েছে।বিশ্ববাণিজ্যের মঞ্চে ভারতের অবস্থান যখন সুসংহত হচ্ছে, তখন ঢাকার এই রপ্তানি পতনকে দীর্ঘমেয়াদি ক্ষতি হিসেবে দেখছেন অর্থনীতিবিদরা। তাদের মতে, এটি কোনো স্থায়ী বাণিজ্যিক সমস্যা নয়, বরং নীতিনির্ধারণী ও কৌশলগত বোঝাপড়ার ঘাটতি।ব্যবসায়ী এবং অর্থনীতিবিদদের একক দাবি- ট্যারিফ কমিশনের আইনি মারপ্যাঁচ এড়াতে আমলাতান্ত্রিক চিঠ চালাচালি বন্ধ করতে হবে। বর্তমান প্রেক্ষাপটে শীর্ষ রাজনৈতিক পর্যায় থেকে কার্যকর ও দ্বিপক্ষীয় কূটনৈতিক আলোচনার উদ্যোগই পারে প্রতিবেশীর বাজারে বাংলাদেশি পণ্যের সুদিন ফিরিয়ে আনতে।এফ/এইচ

জুন ০৬, ২০২৬

মধ্যপ্রাচ্য উত্তেজনায় ফের বাড়ল তেলের দাম

মধ্যপ্রাচ্য উত্তেজনায় ফের বাড়ল তেলের দামমধ্যপ্রাচ্যের চলমান উত্তেজনার মধ্যে শুক্রবার (৫ জুন) আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম আবারও বেড়েছে। লেবাননে নতুন যুদ্ধবিরতি প্রস্তাব নাকচ এবং ওমানের একটি গুরুত্বপূর্ণ তেল টার্মিনালে বিস্ফোরণের জেরে শুক্রবার (৫ জুন) আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম আবারও বেড়েছে; ফলে আগের দিনের বড় পতনের ধাক্কা সামলে বাজার দ্রুত ঘুরে দাঁড়িয়েছে।এদিন আন্তর্জাতিক মানদণ্ড ব্রেন্ট ক্রুডের দাম ব্যারেল প্রতি ৩৩ সেন্ট বা ০.৩৫ শতাংশ বেড়ে ৯৫.৩৬ ডলারে পৌঁছেছে। আগের দিন এর দাম প্রায় ২.৮৪ শতাংশ কমেছিল।অন্যদিকে, মার্কিন ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েট ডব্লিউটিআই অপরিশোধিত তেলের দাম ব্যারেল প্রতি ২ সেন্ট বেড়ে ৯৩.০৬ ডলারে দাঁড়িয়েছে। বৃহস্পতিবার এর দাম ৩.১ শতাংশ কমেছিল।দুই ধরনের তেলই টানা তিন সপ্তাহের মধ্যে প্রথমবারের মতো সাপ্তাহিক মূল্যবৃদ্ধির পথে রয়েছে। বিশেষ করে ডব্লিউটিআই-এর দাম সপ্তাহজুড়ে ৬ শতাংশের বেশি বেড়েছে।বিশ্লেষকদের মতে, যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে শান্তি আলোচনা দীর্ঘায়িত হওয়া, মধ্যপ্রাচ্যে নতুন করে সংঘাতের আশঙ্কা এবং হরমুজ প্রনালিতে জাহাজ চলাচল সীমিত থাকায় বাজারে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।এ ছাড়া বিশ্বব্যাপী তেলের মজুত কমে আসার আশঙ্কাও রয়েছে, যা বছরের তৃতীয় প্রান্তিকে দামের আরও ঊর্ধ্বগতি ঘটাতে পারে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।।বাজার বিশ্লেষক টনি সাইকামোরের মতে, ইতিবাচক কিছু ইঙ্গিত থাকলেও পরস্পরবিরোধী খবরের কারণে বাজারে অনিশ্চয়তা এখনও কাটেনি।অন্যদিকে, ওপেকের মহাসচিব হাইথাম আল-গাইস বলেছেন, মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাত ও হরমুজ প্রণালির সীমিত কার্যক্রম সত্ত্বেও চলতি বছরে দৈনিক ১২ লাখ ব্যারেল তেল চাহিদা বৃদ্ধির পূর্বাভাস বহাল রাখা হয়েছে।জাহাজ চলাচলের তথ্য অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্রের নৌ অবরোধের কারণে ইরানের তেল রপ্তানি ছয় বছরের মধ্যে সর্বনিম্ন পর্যায়ে নেমে এসেছে। তবে চীনে দুর্বল চাহিদার কারণে তেলের দামের ওপর কিছুটা চাপও তৈরি হয়েছে।এফ/এইচ 

জুন ০৫, ২০২৬

ড্রোন হামলায় কুয়েতে ৪ বাংলাদেশি আহত

পশ্চিম এশিয়ায় চলমান আঞ্চলিক সংকটের প্রেক্ষাপটে সম্প্রতি কুয়েতের আকাশসীমায় একাধিকবার ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলার ঘটনা ঘটেছে। এরই ধারাবাহিকতায় আজ কুয়েত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে ড্রোন হামলায় চার বাংলাদেশি আহত হয়েছেন।আজ (বুধবার) বাংল‌া‌দেশ দূতাবাস, কু‌য়েত এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানায়।বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, কুয়েতের আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে ড্রোন হামলায় চার বাংলাদেশি নাগরিক আহত হয়েছেন। এ ঘটনায় আরও কয়েকজন বিদেশি নাগরিক আহত হয়েছেন এবং একজন নিহত হয়েছে।এতে বলা হয়, আহত বাংলাদেশিদের ফারওয়ানিয়া হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। তাদের শারীরিক অবস্থার বিষয়ে বাংলাদেশ দূতাবাস নিয়মিত খোঁজখবর রাখছে বলে জানানো হয়েছে।কুয়েতে অবস্থানরত বাংলাদেশি নাগরিকদের সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়েছে দূতাবাস।

জুন ০৩, ২০২৬

এবার শুল্ক নিয়ে বাংলাদেশকে বিরাট দুঃসংবাদ দিলো যুক্তরাষ্ট্র!

এবার শুল্ক নিয়ে বাংলাদেশকে বিরাট দুঃসংবাদ দিলো যুক্তরাষ্ট্র! বিশ্ব বাণিজ্যের নিয়ন্ত্রক ও ক্ষমতার কেন্দ্রবিন্দু ওয়াশিংটন থেকে আবারও এলো বড় এক ধাক্কা। মার্কিন অভ্যন্তরীণ বাজারে তৈরি হতে যাচ্ছে এক নতুন স্নায়ুযুদ্ধ, যা কাঁপিয়ে দিতে পারে বৈশ্বিক অর্থনীতির চাকা। ট্রাম্প প্রশাসনের নেয়া সাম্প্রতিক এক সিদ্ধান্ত বর্তমানে বিশ্বজুড়ে তৈরি করেছে তুমুল আলোচনা ও উৎকণ্ঠা। পণ্য উৎপাদনে জোরপূর্বক শ্রম বা ফোর্সড লেবার বন্ধে ব্যর্থতার অভিযোগ এনে বাংলাদেশসহ বিশ্বের ৬০টি দেশের ওপর অতিরিক্ত শুল্কারোপের এক বড় প্রস্তাব দিয়েছে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্য প্রতিনিধি দপ্তর ইউএসটিআর। বিখ্যাত সেকশন ৩০১-এর অধীনে অন্যায্য বাণিজ্য চর্চা সংক্রান্ত এক দীর্ঘ তদন্তের পর এই বিতর্কিত সিদ্ধান্ত সামনে আনা হলো।প্রস্তাব অনুযায়ী, বাংলাদেশ, কানাডা, যুক্তরাজ্য, মেক্সিকো ও ইউরোপীয় ইউনিয়নসহ ১৫টি দেশের পণ্যের ওপর অতিরিক্ত ১০ শতাংশ শুল্ক বসতে পারে। আর তালিকায় থাকা বাকি ৪৫টি দেশের জন্য এই শাস্তিমূলক শুল্কের হার ধরা হয়েছে সাড়ে ১২ শতাংশ। মার্কিন বাণিজ্য প্রতিনিধি জেমিসন গ্রিয়ার এক বিবৃতিতে স্পষ্ট জানিয়েছেন, অংশীদার দেশগুলোর এই ব্যর্থতার কারণে মার্কিন শ্রমিকরা বৈশ্বিক বাজারে অসম প্রতিযোগিতার মুখোমুখি হচ্ছে, যা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়।এর আগে গত ফেব্রুয়ারি মাসে মার্কিন সুপ্রিম কোর্ট ট্রাম্প প্রশাসনের জরুরি শুল্ক কাঠামো বাতিল করে দিয়েছিল। ধারণা করা হচ্ছে, সেই আইনি জটিলতা কাটিয়ে শুল্ক নীতি পুনর্গঠনের অংশ হিসেবেই ট্রাম্প প্রশাসন এবার চালালো এই নতুন আইনি চাল।তবে বাংলাদেশের জন্য কিছুটা স্বস্তির খবরও আছে। ইউএসটিআর জানিয়েছে, নির্দিষ্ট কিছু পোশাক ও বস্ত্রপণ্যের ক্ষেত্রে কম শুল্কে প্রবেশের জন্য একটি বিশেষ বস্ত্রব্যবস্থার প্রস্তাব রাখা হয়েছে। পাশাপাশি জ্বালানি, ওষুধ ও কিছু খাদ্যপণ্য এই শুল্কের আওতামুক্ত থাকবে। এই প্রস্তাব এখনই চূড়ান্ত নয়; আগামী ৬ জুলাই পর্যন্ত এর ওপর জনমত নেয়া হবে এবং ৭ জুলাই অনুষ্ঠিত হবে একটি গণশুনানি। তার পরেই জানা যাবে বিশ্ব বাণিজ্যের ভবিষ্যৎ গতিপথ।এফ/এইচ  

জুন ০৩, ২০২৬

ইরানের স্থাপনায় মার্কিন হামলা, পাল্টা আঘাত তেহরানের

মধ্যপ্রাচ্যে নতুন করে উত্তেজনা বৃদ্ধি পেয়েছে। মার্কিন সামরিক বাহিনী জানিয়েছে, সপ্তাহান্তে তারা ইরানের গোরুক শহর ও কেশম দ্বীপে অবস্থিত রাডার এবং ড্রোন স্থাপনাগুলোতে হামলা চালিয়েছে। এ ঘটনায় অঞ্চলজুড়ে নিরাপত্তা পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠেছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরার এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মার্কিন বাহিনীর এই হামলার পরপরই বিভিন্ন পক্ষ থেকে প্রতিক্রিয়া আসতে শুরু করে। হামলার লক্ষ্যবস্তু ছিল ইরানের সামরিক নজরদারি ও ড্রোন পরিচালনাসংক্রান্ত গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো, যা সাম্প্রতিক আঞ্চলিক সংঘাতের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট বলে মনে করা হচ্ছে।অন্যদিকে কুয়েত কর্তৃপক্ষ তাদের ভূখণ্ডের দিকে ‘শত্রুতামূলক’ ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলার খবর দিয়েছে। একই সময়ে ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি) দাবি করেছে, তারা সিরিক দ্বীপে হামলার জন্য ব্যবহৃত একটি সামরিক ঘাঁটিতে সফলভাবে পাল্টা আঘাত হেনেছে। তবে এ দাবির বিষয়ে তাৎক্ষণিকভাবে স্বাধীন কোনো সূত্র থেকে নিশ্চিত হওয়া যায়নি।সামরিক উত্তেজনার মধ্যেও কূটনৈতিক তৎপরতা অব্যাহত রয়েছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছেন, ইরানের সঙ্গে একটি ‘খুব ভালো চুক্তি’ করার কাছাকাছি অবস্থানে রয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। যদিও মার্কিন গণমাধ্যমের বিভিন্ন প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, ওয়াশিংটন তেহরানের ওপর আরও কঠোর শর্ত আরোপের চেষ্টা করছে।এদিকে ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি জানিয়েছেন, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বার্তা আদান-প্রদান এখনো অব্যাহত রয়েছে। তবে সম্ভাব্য সমঝোতা নিয়ে সতর্ক অবস্থান বজায় রেখে তিনি বলেছেন, “চূড়ান্ত চুক্তি স্বাক্ষর না হওয়া পর্যন্ত কোনো কিছুই নিশ্চিত নয়।” বিশ্লেষকদের মতে, কূটনৈতিক আলোচনা চললেও সাম্প্রতিক হামলা-পাল্টা হামলার ঘটনা মধ্যপ্রাচ্যে নতুন করে অস্থিরতা বাড়িয়ে তুলতে পারে।/টিএ 

জুন ০১, ২০২৬

যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিশ্রুতিতে আস্থা নেই, বাস্তব ফলাফল চায় ইরান

ইরানের পার্লামেন্ট স্পিকার ও শীর্ষ পরমাণু আলোচক মোহাম্মদ বাঘের গালিবাফ বলেছেন, দেশের জনগণের অধিকার নিশ্চিত হওয়ার বিষয়ে পূর্ণ নিশ্চয়তা না পাওয়া পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে কোনো চুক্তিতে যাবে না তেহরান। রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমের বরাত দিয়ে আল-জাজিরা জানিয়েছে, ইরান যেকোনো সমঝোতার আগে দৃশ্যমান ও বাস্তব ফলাফল দেখতে চায়।রোববার (৩১ মে) সকালে অনুষ্ঠিত পার্লামেন্টের একটি ভার্চুয়াল অধিবেশনে তিনি এ মন্তব্য করেন। সম্প্রতি পার্লামেন্টের স্পিকার হিসেবে পুনর্নির্বাচিত হওয়ার পর প্রেসিডিয়ামের অন্যান্য সদস্যদের সঙ্গে শপথ গ্রহণ করেন গালিবাফ। শপথ অনুষ্ঠান শেষে দেওয়া বক্তব্যে তিনি যুক্তরাষ্ট্রের প্রতি তেহরানের অবস্থান স্পষ্ট করেন।গালিবাফ বলেন, শত্রুপক্ষের মৌখিক আশ্বাস বা প্রতিশ্রুতির ওপর ইরানের কোনো আস্থা নেই। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, কোনো চুক্তিতে পৌঁছানোর আগে বাস্তব ও পরিমাপযোগ্য ফলাফল নিশ্চিত হওয়াই তেহরানের প্রধান শর্ত। তিনি আরও জানান, ইরান নিজের প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নের আগেই অপর পক্ষের পক্ষ থেকে কার্যকর পদক্ষেপ দেখতে আগ্রহী।তিনি জোর দিয়ে বলেন, দ্বিপাক্ষিক কিংবা বহুপাক্ষিক যেকোনো সমঝোতার ক্ষেত্রে ইরানের জনগণের অধিকার রক্ষা এবং বাস্তব অগ্রগতি অর্জনই হবে মূল বিবেচ্য বিষয়। এর বাইরে কেবল মৌখিক প্রতিশ্রুতি বা রাজনৈতিক আশ্বাসের ভিত্তিতে কোনো চুক্তি গ্রহণ করবে না ইরান বলে তিনি স্পষ্টভাবে উল্লেখ করেন।সূত্র: আল-জাজিরা।

মে ৩১, ২০২৬

ইরান-যুক্তরাষ্ট্র শান্তিচুক্তিতে ট্রাম্পের দুই শর্ত

প্রায় তিন মাস পেরিয়ে গেলেও যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের চলমান উত্তেজনার স্থায়ী সমাধান এখনও অধরাই রয়ে গেছে। দুই দেশের মধ্যে আলোচনা অব্যাহত থাকলেও গুরুত্বপূর্ণ কয়েকটি বিষয়ে মতৈক্যে পৌঁছানো যায়নি। গত এপ্রিলে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দুই মাসের যুদ্ধবিরতি ঘোষণা করেছিলেন, যার মেয়াদ আরও বাড়ানোর বিষয়ে বর্তমানে কূটনৈতিক তৎপরতা চলছে।বার্তা সংস্থা রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ট্রাম্পের উত্থাপিত দুটি প্রধান শর্ত নিয়ে এখনও একমত হতে পারেনি তেহরান। এ কারণে বহুল আলোচিত শান্তিচুক্তি চূড়ান্ত রূপ পাচ্ছে না। শুক্রবার ট্রাম্প জানান, হোয়াইট হাউসের নিরাপদ বৈঠককক্ষে ইরানের সর্বশেষ প্রস্তাব নিয়ে আলোচনা করে তিনি চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবেন। ইরান যুদ্ধবিরতির সময়সীমা আরও বাড়ানোর প্রস্তাব দিয়েছে, যাতে স্থায়ী সমঝোতার জন্য আলোচনার সুযোগ বাড়ে।হোয়াইট হাউসের এক কর্মকর্তা জানিয়েছেন, ট্রাম্প ‘সিচুয়েশন রুমে’ প্রায় দুই ঘণ্টা বৈঠক করেছেন। তবে ওই বৈঠকে কোনো সিদ্ধান্ত হয়েছে কিনা, তা প্রকাশ করা হয়নি। কর্মকর্তার ভাষ্য, যুক্তরাষ্ট্রের স্বার্থ সুরক্ষিত হয় এমন চুক্তিতেই সম্মতি দেবেন ট্রাম্প এবং কোনো অবস্থাতেই ইরানকে পারমাণবিক অস্ত্র অর্জনের সুযোগ দেওয়া হবে না। অন্যদিকে ইরানের এক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা দাবি করেছেন, দুই পক্ষ চুক্তির অনেক কাছাকাছি পৌঁছালেও এখনও চূড়ান্ত সমঝোতা হয়নি।শান্তিচুক্তির জন্য ট্রাম্প ইরানের সামনে দুটি শর্ত রেখেছেন। প্রথমত, হরমুজ প্রণালীর ওপর থেকে ইরানের নিয়ন্ত্রণ প্রত্যাহার করে যুদ্ধ-পূর্ব পরিস্থিতি পুনর্বহাল করতে হবে। দ্বিতীয়ত, ভবিষ্যতে পারমাণবিক অস্ত্র তৈরির সব ধরনের সম্ভাবনা বন্ধ করতে হবে। তবে তেহরান এখন পর্যন্ত কোনো শর্তেই সম্মতি দেয়নি। ট্রাম্প পুনরায় জোর দিয়ে বলেছেন, ইরানকে অবশ্যই পারমাণবিক অস্ত্র না তৈরির নিশ্চয়তা দিতে হবে এবং হরমুজ প্রণালী আন্তর্জাতিক নৌচলাচলের জন্য সম্পূর্ণ উন্মুক্ত রাখতে হবে।এদিকে ইরানের আধা-সরকারি বার্তা সংস্থা ফার্স ট্রাম্পের বক্তব্যকে রাজনৈতিকভাবে ‘জয়’ প্রদর্শনের চেষ্টা বলে উল্লেখ করেছে। ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, হরমুজ প্রণালী দিয়ে চলাচলকারী জাহাজের নিয়ন্ত্রণ কেবল ইরান ও ওমানের হাতে থাকা উচিত। পাশাপাশি, ইরানি জাহাজের ওপর আরোপিত মার্কিন নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার না হলে প্রণালী পুরোপুরি উন্মুক্ত করা হবে না বলেও জানানো হয়েছে। তবে মার্কিন অর্থমন্ত্রী স্কট বেসেন্ট ইঙ্গিত দিয়েছেন, হরমুজে ইরানের নিয়ন্ত্রণ শিথিল হলে যুক্তরাষ্ট্রও ধীরে ধীরে নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের পথে এগোতে পারে। ফলে আগামী কয়েক দিনের মধ্যেই আলোচনায় উভয় পক্ষ কতটা ছাড় দিতে প্রস্তুত, তা স্পষ্ট হতে পারে।/টি 

মে ৩০, ২০২৬

ইসরায়েলকে কালো তালিকাভুক্ত করল জাতিসংঘ

সংঘাতপূর্ণ অঞ্চলে যৌন সহিংসতার দায়ে ইসরায়েলকে ‘কালো তালিকাভুক্ত’ করেছে জাতিসংঘ। এ সিদ্ধান্তের প্রতিবাদে জাতিসংঘ মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেসের সঙ্গে সব ধরনের সম্পর্ক ছিন্ন করার ঘোষণা দিয়েছে ইসরায়েল। বৃহস্পতিবার জাতিসংঘে নিযুক্ত ইসরায়েলের রাষ্ট্রদূত ড্যানি ড্যানন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে প্রকাশিত এক ভিডিও বার্তায় বলেন, “এই মহাসচিবের সঙ্গে আমাদের সব সম্পর্ক শেষ।” আল-জাজিরার প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।জাতিসংঘের নিয়ম অনুযায়ী, সংঘাতকালীন যৌন সহিংসতা বিষয়ক বার্ষিক প্রতিবেদন প্রকাশের আগে সংশ্লিষ্ট দেশগুলোর কাছে তা পাঠানো হয়। এর আগেও ২০২৪ সালের আগস্টে প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে ইসরায়েলকে সম্ভাব্য কালো তালিকাভুক্তির বিষয়ে সতর্ক করা হয়েছিল। ইসরায়েলের রাষ্ট্রদূত ড্যানন এই সিদ্ধান্তকে ‘জঘন্য’ আখ্যা দিয়ে বলেন, জাতিসংঘ মহাসচিব ও তার দল ইসরায়েলের বিরুদ্ধে ধারাবাহিকভাবে মিথ্যা তথ্য ছড়াচ্ছে এবং হামাসের সঙ্গে একই তালিকায় রাখা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়।এদিকে, জাতিসংঘে ইসরায়েলি মিশন জানিয়েছে, আন্তোনিও গুতেরেস জাতিসংঘের মহাসচিব হিসেবে দায়িত্বে থাকা পর্যন্ত তার কার্যালয়ের সঙ্গে কোনো ধরনের যোগাযোগ রাখবে না ইসরায়েল। দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ওরেণ মারমরস্টেইনও জাতিসংঘের এই পদক্ষেপকে ‘রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত ও লজ্জাজনক’ বলে মন্তব্য করেছেন। তবে জাতিসংঘ মহাসচিবের মুখপাত্র স্টিফেন দুজারিক জানিয়েছেন, ইসরায়েলি রাষ্ট্রদূতের বক্তব্য সম্পর্কে তারা অবগত এবং আলোচনার জন্য মহাসচিবের দরজা সবসময় খোলা রয়েছে।অন্যদিকে, নারী ও শিশুদের ওপর সহিংসতা বিষয়ক জাতিসংঘের বিশেষ দূত রিম আলসালেম এই সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানিয়ে বলেন, “ইসরায়েলকে কালো তালিকাভুক্ত করার সিদ্ধান্ত অনেক আগেই নেওয়া উচিত ছিল।” তিনি অভিযোগ করেন, ফিলিস্তিনি নারী, পুরুষ ও শিশুদের বিরুদ্ধে ইসরায়েলি বাহিনীর পদ্ধতিগত যৌন সহিংসতার ঘটনা স্বাধীনভাবে নথিবদ্ধ ও প্রমাণিত হলেও এতদিন কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। জাতিসংঘের তথ্যানুযায়ী, ইসরায়েলি কারাগার ও আটক কেন্দ্রে ফিলিস্তিনি বন্দীদের ওপর যৌন সহিংসতার নির্ভরযোগ্য প্রমাণ পাওয়া গেছে।মানবাধিকার সংস্থাগুলোর বিভিন্ন প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২০২৩ সালের গাজা যুদ্ধ শুরুর পর আটক হওয়া বহু ফিলিস্তিনি ইসরায়েলি রক্ষীদের হাতে নির্যাতন ও যৌন নিপীড়নের শিকার হয়েছেন। সম্প্রতি মুক্ত হওয়া আন্তর্জাতিক ত্রাণকর্মীরাও ইসরায়েলি হেফাজতে থাকার সময় যৌন নির্যাতনের অভিযোগ তুলেছেন। একই সময়ে নিউইয়র্ক টাইমসের সাংবাদিক নিকোলাস ক্রিস্টফের অনুসন্ধানী প্রতিবেদনে ১৪ জন ফিলিস্তিনি ভুক্তভোগীর সাক্ষাৎকারে ধর্ষণের অভিযোগ উঠে আসে। যদিও ইসরায়েল সরকার এসব অভিযোগ অস্বীকার করে সংবাদমাধ্যমটির বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার ঘোষণা দিয়েছে। উল্লেখ্য, ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর হামাসের হামলার পর গাজায় ইসরায়েলের সামরিক অভিযানে এখন পর্যন্ত ৭২ হাজারের বেশি ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন।/টিএ 

মে ২৯, ২০২৬
footer small logo

যোগাযোগ :

এটিএন বাংলা, ওয়াসা ভবন, ২য় তলা, ৯৮ কাজী নজরুল ইসলাম এভিনিউ, কাওরান বাজার, ঢাকা-১২১৫, বাংলাদেশ

ফোনঃ +88-02-55011931

সোশ্যাল মিডিয়া

youtube logotwitter logofacebook logo

Design & Developed by:

developed-company-logo