logo
youtube logotwitter logofacebook logo
/আন্তর্জাতিক
ভারতে বজ্রপাতে ও ভারি বর্ষণে ২৪ ঘণ্টায় ১১১ লাশ, সতর্কবার্তা বাংলাদেশেও! - image

ভারতে বজ্রপাতে ও ভারি বর্ষণে ২৪ ঘণ্টায় ১১১ লাশ, সতর্কবার্তা বাংলাদেশেও!

15 মে 2026, বিকাল 5:34

প্রকৃতির রুদ্ররূপে ধেয়ে আসা প্রবল শিলাবৃষ্টি, ভারী বর্ষণ ও আকস্মিক বজ্রপাতে এক স্তব্ধ করা মৃত্যুর মিছিল নেমে এসেছে।গত বুধবার থেকে বৃহস্পতিবার সকালের মধ্যে, মাত্র ২৪ ঘণ্টার ব্যবধানে এই ভয়াল দুর্যোগে অন্তত ১১১ জনের করুণ মৃত্যু হয়েছে এবং আহত হয়েছেন আরও ৭২ জন। এই তাণ্ডবের মাঝে একটি অবিশ্বাস্য ও চাঞ্চল্যকর ঘটনা ঘটেছে ।ঝড়ের বাতাসে এক বাসিন্দা ঘরের টিনের চালসহ প্রায় ৫০ ফুট ওপরে উড়ে যান এবং পরে একটি ভুট্টাখেতে আছড়ে পড়ে গুরুতর আহত হন।ভারতের উত্তর প্রদেশের ২৫টি জেলায় এই ভয়াবহ হতাহতের ঘটনা ঘটে। রাজ্যের ত্রাণ কমিশনার কার্যালয় থেকে জানানো হয়, সবচেয়ে বেশি প্রলয় হেনেছে একটি নির্দিষ্ট জেলায়, যেখানে সর্বোচ্চ ২১ জন প্রাণ হারিয়েছেন ।এছাড়া অন্যান্য ক্ষতিগ্রস্ত জেলাগুলোতেও ব্যাপক মৃত্যুর খবর নিশ্চিত হওয়া গেছে। দুর্যোগের তীব্রতায় রাজ্যের ২২৭টি ঘরবাড়ি ধসে পড়েছে এবং প্রাণ হারিয়েছে ১৭০টি গবাদিপশু। বর্তমানে ইন্টিগ্রেটেড কন্ট্রোল অ্যান্ড কমান্ড সেন্টারের মাধ্যমে সেখানকার পরিস্থিতি সার্বক্ষণিক তদারকি করা হচ্ছে এবং রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী দ্রুত ত্রাণ তৎপরতার নির্দেশ দিয়েছেন।প্রতিবেশী দেশের এই ভয়াবহ দুর্যোগ বাংলাদেশের জন্যও একটি বড় সতর্কবার্তা। ভৌগোলিক অবস্থান ও জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে ভারতের এই চরম আবহাওয়ার প্রভাব বাংলাদেশেও পড়তে পারে। আমাদের দেশেও সাম্প্রতিক বছরগুলোতে বজ্রপাত ও কালবৈশাখীর প্রকোপ আশঙ্কাজনকভাবে বেড়েছে। তাই প্রতিবেশী দেশের এই বিপর্যয় থেকে শিক্ষা নিয়ে আমাদের এখনই সচেতন হতে হবে। আকাশে কালো মেঘ জমলে খোলা মাঠ বা জলাশয় থেকে দূরে থাকা এবং পাকা দালানের নিচে আশ্রয় নেওয়া জরুরি; সঠিক পূর্বপ্রস্তুতিই পারে আমাদের জীবন রক্ষা করতে।এফ/এইচ

মে ১৫, ২০২৬

যেসব বিষয়ে আলোচনা হলো ট্রাম্প-শি’র মধ্যে

সম্প্রতি চীনের বেইজিংয়ে এক ঐতিহাসিক বৈঠকে মিলিত হন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এবং চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং। দুই পরাশক্তির এই বৈঠকে দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ককে আরও ‘গঠনমূলক, কৌশলগত ও স্থিতিশীল’ ভিত্তিতে নতুনভাবে সংজ্ঞায়িত করার বিষয়ে একমত হয়েছেন দুই নেতা। বৈশ্বিক রাজনীতির প্রেক্ষাপটে এই বৈঠককে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।বৈঠকের মূল কেন্দ্রবিন্দু ছিল আন্তর্জাতিক ও আঞ্চলিক ভূ-রাজনীতি। চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের তথ্যমতে, দুই নেতা মধ্যপ্রাচ্যের বর্তমান অস্থিরতা, চলমান ইউক্রেন সংকট এবং কোরীয় উপদ্বীপের পারমাণবিক উত্তেজনা নিরসনের মতো জটিল ইস্যুগুলো নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করেছেন। উভয় দেশই বিশ্বশান্তি বজায় রাখতে নিজ নিজ অবস্থান থেকে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালনের অঙ্গীকার ব্যক্ত করেছে।দুই দেশের মধ্যকার এই নতুন কৌশলগত অবস্থান কেবল সাময়িক নয়, বরং দীর্ঘমেয়াদী প্রভাব ফেলবে বলে আশা করা হচ্ছে। বিবৃতিতে উল্লেখ করা হয়েছে, আগামী তিন বছর এবং তার পরবর্তী সময়েও দুই দেশের কূটনৈতিক ও কৌশলগত সম্পর্ক কোন পথে পরিচালিত হবে, তার একটি সুস্পষ্ট রূপরেখা এই বৈঠকের মাধ্যমে নির্ধারিত হয়েছে।অর্থনৈতিক ও বাণিজ্যিক ক্ষেত্রেও ইতিবাচক বার্তা মিলেছে এই বৈঠকে। শি জিনপিং জানান, দুই দেশের অর্থনৈতিক ও বাণিজ্য প্রতিনিধি দলগুলো ইতোমধ্যে ‘সামগ্রিকভাবে ভারসাম্যপূর্ণ ও ইতিবাচক ফলাফল’ অর্জন করেছে। তিনি এই অগ্রগতির ধারাবাহিকতা বজায় রাখার ওপর গুরুত্বারোপ করেন, যা বিশ্ববাজারের স্থিতিশীলতার জন্য অত্যন্ত জরুরি।সবশেষে, চীনের বাজার আরও উন্মুক্ত করার ঘোষণা দেন শি জিনপিং। তিনি উল্লেখ করেন যে, মার্কিন কোম্পানিগুলো চীনের সংস্কার ও উন্নয়ন প্রক্রিয়ার সঙ্গে ওতপ্রোতভাবে জড়িত। চীন ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে পারস্পরিক লাভজনক সহযোগিতা আরও বৃদ্ধি করতে এবং মার্কিন বিনিয়োগকারীদের জন্য সুযোগ সম্প্রসারণে বেইজিং ইতিবাচক সাড়া দিয়েছে।/টিএ

মে ১৪, ২০২৬

বিশ্বের সবচেয়ে শক্তিশালী ক্ষেপণাস্ত্রের সফল পরীক্ষা চালাল রাশিয়া

বিশ্বের সবচেয়ে শক্তিশালী ও বিধ্বংসী আন্তঃমহাদেশীয় ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র (আইসিবিএম) ‘সারমাত’-এর সফল পরীক্ষা সম্পন্ন করেছে রাশিয়া। গত মঙ্গলবার (১২ মে) এই অত্যাধুনিক ও পারমাণবিক অস্ত্র বহনে সক্ষম ক্ষেপণাস্ত্রটির সফল উৎক্ষেপণ করা হয়। রুশ প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের দাবি অনুযায়ী, এই ক্ষেপণাস্ত্রটি প্রায় ৩৫ হাজার কিলোমিটার দূরের লক্ষ্যবস্তুতে নিখুঁতভাবে আঘাত হানতে সক্ষম, যা বর্তমানে বিশ্বের যেকোনো ক্ষেপণাস্ত্রের চেয়ে বেশি পাল্লার।ক্ষেপণাস্ত্রটির সফল পরীক্ষার পর উচ্ছ্বাস প্রকাশ করেছেন রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন। তিনি জানান, ‘সারমাত’ বর্তমানে বিশ্বের সবচেয়ে শক্তিশালী ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবস্থা এবং এটি পশ্চিমা দেশগুলোর হাতে থাকা যেকোনো সমরাস্ত্রের তুলনায় কয়েক গুণ বেশি শক্তিশালী যুদ্ধাস্ত্র বহনে সক্ষম। পুতিন আরও নিশ্চিত করেছেন যে, চলতি বছরের শেষ নাগাদ এই ক্ষেপণাস্ত্রটি আনুষ্ঠানিকভাবে রুশ সেনাবাহিনীর যুদ্ধকালীন দায়িত্বে মোতায়েন করা হবে।প্রেসিডেন্ট পুতিন এই সফলতাকে রাশিয়ার সামরিক শক্তির এক নতুন মাইলফলক হিসেবে অভিহিত করেছেন। তিনি সতর্কবার্তা দিয়ে বলেন, ‘সারমাত’ রাশিয়ার সার্বভৌমত্বের জন্য বড় একটি সুরক্ষা কবচ। এটি মোতায়েনের ফলে যারা রাশিয়াকে হুমকি দেওয়ার চেষ্টা করবে, তারা কোনো পদক্ষেপ নেওয়ার আগে দ্বিতীয়বার ভাবতে বাধ্য হবে। রাশিয়ার সামরিক সক্ষমতা বাড়াতে দীর্ঘ কয়েক বছর ধরে এই ক্ষেপণাস্ত্র তৈরির কাজ চলছিল।আন্তর্জাতিক গণমাধ্যম রয়টার্স জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্র ও রাশিয়ার মধ্যে পারমাণবিক অস্ত্র নিয়ন্ত্রণ সংক্রান্ত ‘নিউ স্টার্ট’ চুক্তির মেয়াদ শেষ হওয়ার ঠিক পরেই এই সফল পরীক্ষা চালানো হলো। সামরিক বিশ্লেষকদের মতে, এমন সময়ে রাশিয়ার এই সক্ষমতা প্রদর্শন আন্তর্জাতিক সামরিক ভারসাম্যে নতুন করে উত্তেজনা তৈরি করতে পারে। বিশেষ করে ইউক্রেন ইস্যু এবং ন্যাটোর সাথে ক্রমবর্ধমান উত্তেজনার প্রেক্ষাপটে এই পরীক্ষা অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ।বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্র, চীন এবং উত্তর কোরিয়ার মতো দেশগুলোর কাছে প্রায় ১২ হাজার কিলোমিটার পাল্লার আইসিবিএম প্রযুক্তি রয়েছে। তবে রাশিয়ার ‘সারমাত’ সেই সক্ষমতাকে বহুগুণ ছাড়িয়ে গিয়ে ৩৫ হাজার কিলোমিটার পাল্লা দাবি করায় বিশ্বজুড়ে নতুন বিতর্কের জন্ম দিয়েছে। প্রতিরক্ষা বিশেষজ্ঞদের মতে, একাধিক সফল পরীক্ষার পর এখন এটি রাশিয়ার সামরিক কৌশলে অন্যতম প্রধান তুরুপের তাস হিসেবে যুক্ত হতে যাচ্ছে।/টিএ

মে ১৩, ২০২৬

কিউবায় মার্কিন হামলার ঘোষণা ট্রাম্পের

কিউবার ওপর যেকোনো সময় সামরিক হামলা চালাতে পারে যুক্তরাষ্ট্র—মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এবং পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিওর সাম্প্রতিক বিভিন্ন মন্তব্য থেকে এমন আভাস পাওয়া যাচ্ছে বলে জানিয়েছে সংবাদমাধ্যম এক্সিওস। মঙ্গলবার (১২ মে) প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে সংবাদমাধ্যমটি জানায়, প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প কিউবা সরকারের ওপর ক্রমাগত চাপ বৃদ্ধি করছেন এবং দেশটিতে হামলার যে হুমকি তিনি দিচ্ছেন, তা বাস্তবে রূপ নেওয়ার জোরালো সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। গত সপ্তাহ থেকেই কিউবার ওপর মার্কিন নজরদারি বিমান চলাচল বৃদ্ধি পাওয়ার খবর দিয়েছে সিএনএন, যা এই যুদ্ধশঙ্কাকে আরও উসকে দিয়েছে।যুক্তরাষ্ট্রের এই কঠোর অবস্থানের নেপথ্যে রয়েছে কিউবার ওপর আরোপিত নতুন অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা এবং জ্বালানি অবরোধ। এই অবরোধের ফলে কিউবার অভ্যন্তরীণ অবস্থা গত কয়েক মাসে অত্যন্ত নাজুক হয়ে পড়েছে। বিশেষ করে চলতি মাসের শুরুতে ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোকে মার্কিন সেনারা অপহরণ করার পর কিউবা চরম সংকটে পড়ে, কারণ দেশটি তাদের জ্বালানি তেলের সিংহভাগ সরবরাহ পেত ভেনেজুয়েলা থেকে। কিউবার পররাষ্ট্রমন্ত্রী এই পদক্ষেপকে সাধারণ মানুষের ওপর ‘গণহত্যার উদ্দেশ্যে সামগ্রিক শাস্তি’ হিসেবে অভিহিত করেছেন।কূটনৈতিক ও সামরিক কৌশলের অংশ হিসেবে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প গত শুক্রবার জানিয়েছেন, মধ্যপ্রাচ্য থেকে ফেরা একটি মার্কিন রণতরী কিউবার সন্নিকটে মোতায়েন করা হতে পারে। ট্রাম্পের ঘনিষ্ঠ মহলের দাবি, এই রণতরী মোতায়েন করার মাধ্যমে কিউবাকে আত্মসমর্পণে বাধ্য করাই তার মূল লক্ষ্য। যদিও ব্রাজিলের প্রেসিডেন্ট লুলা দা সিলভা জানিয়েছেন যে, ট্রাম্প তাকে ব্যক্তিগতভাবে হামলার পরিকল্পনা নেই বলে আশ্বস্ত করেছেন, তবুও ট্রাম্পের প্রকাশ্য ঘোষণা ও রণতরী পাঠানোর সিদ্ধান্তে জনমনে আতঙ্ক বিরাজ করছে।যদি সত্যিই যুক্তরাষ্ট্র কিউবায় কোনো সামরিক অভিযান চালায়, তবে এটি হবে ১৯৬২ সালের ঐতিহাসিক ‘মিসাইল ক্রাইসিসের’ পর দুই দেশের মধ্যে সবচেয়ে বড় সংঘাত। উল্লেখ্য, ১৯৬২ সালে কিউবায় সোভিয়েত ইউনিয়নের পারমাণবিক মিসাইল মোতায়েনকে কেন্দ্র করে বিশ্ব পরমাণু যুদ্ধের দ্বারপ্রান্তে পৌঁছেছিল। বর্তমানে ইরান যুদ্ধের দামামা কিছুটা স্তিমিত হওয়ার পর যুক্তরাষ্ট্রের মনোযোগ আবারও কিউবার দিকে ঘুরে যাওয়ায় ল্যাটিন আমেরিকা অঞ্চলে চরম অস্থিরতা ও নতুন করে বড় ধরনের যুদ্ধের আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।/টিএ

মে ১২, ২০২৬

ইরানের শান্তি প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করলেন ট্রাম্প

যুক্তরাষ্ট্রের দেওয়া যুদ্ধবিরতির প্রস্তাবের বিপরীতে ইরানের পাঠানো পাল্টা জবাব প্রত্যাখ্যান করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। রোববার নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ‘ট্রুথ সোশ্যাল’-এ দেওয়া এক বার্তায় ট্রাম্প এই অসম্মতি জানান। মধ্যস্থতাকারী দেশ পাকিস্তানের মাধ্যমে তেহরান তাদের অবস্থান ওয়াশিংটনকে জানিয়েছিল। তবে প্রস্তাবটি পাওয়ার পর ট্রাম্প স্পষ্ট করে দেন যে, ইরানের শর্তগুলো তার কাছে কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়।ট্রুথ সোশ্যালে দেওয়া পোস্টে ট্রাম্প বিস্তারিত কোনো তথ্য প্রকাশ না করেই লিখেছেন, ‘আমি মাত্রই ইরানের তথাকথিত প্রতিনিধিদের পাঠানো জবাবটি পড়লাম। এটি আমার পছন্দ হয়নি—পুরোপুরি অগ্রহণযোগ্য।’ উল্লেখ্য, পারমাণবিক কর্মসূচি ও আঞ্চলিক সংঘাতসহ বিভিন্ন বিবদমান বিষয়ে আলোচনার আগে লড়াই বন্ধ করার লক্ষ্যে ওয়াশিংটন একটি প্রাথমিক প্রস্তাব দিয়েছিল। ট্রাম্পের এই সরাসরি প্রত্যাখ্যানে মধ্যপ্রাচ্যে শান্তি ফেরানোর প্রক্রিয়ায় নতুন করে অনিশ্চয়তা দেখা দিল।ইরানের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, তেহরানের প্রস্তাবে সব ফ্রন্টে অবিলম্বে যুদ্ধ বন্ধ করার ওপর জোর দেওয়া হয়েছে। বিশেষ করে লেবানন পরিস্থিতি এবং বৈশ্বিক বাণিজ্যের জন্য গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচলের নিরাপত্তার বিষয়টিকে তারা অগ্রাধিকার দিয়েছে। তবে এই গুরুত্বপূর্ণ সমুদ্রপথটি ঠিক কবে বা কীভাবে খুলে দেওয়া হবে, সে বিষয়ে তেহরানের পক্ষ থেকে কোনো সুনির্দিষ্ট ইঙ্গিত দেওয়া হয়নি বলে জানা গেছে।ইরানি বার্তা সংস্থা তাসনিম জানিয়েছে, তেহরানের প্রস্তাবের মধ্যে বেশ কিছু কঠোর শর্ত ছিল। এর মধ্যে রয়েছে সব ফ্রন্টে অবিলম্বে যুদ্ধবিরতি, যুক্তরাষ্ট্রের নৌ-অবরোধ প্রত্যাহার এবং ইরানের ওপর ভবিষ্যতে আর কোনো হামলা না চালানোর নিশ্চয়তা। এর পাশাপাশি ইরানি তেল বিক্রির ওপর থেকে মার্কিন নিষেধাজ্ঞাসহ দেশটির ওপর আরোপিত সব ধরনের অর্থনৈতিক ও বাণিজ্যিক বিধিনিষেধ পুরোপুরি তুলে নেওয়ার দাবি জানিয়েছে ইরান।অন্যদিকে, ‘দ্য ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল’ সূত্রের বরাতে এক চাঞ্চল্যকর তথ্য জানিয়েছে। ইরান তাদের উচ্চমাত্রার সমৃদ্ধ ইউরেনিয়ামের একটি অংশের মাত্রা কমিয়ে আনা এবং অবশিষ্ট অংশ তৃতীয় কোনো দেশে স্থানান্তরের প্রস্তাব দিয়েছিল। পাকিস্তান এই প্রস্তাবটি যুক্তরাষ্ট্রের কাছে পৌঁছে দিলেও হোয়াইট হাউজ বা মার্কিন প্রশাসনের পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিকভাবে এ বিষয়ে আর কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি। ট্রাম্পের নেতিবাচক প্রতিক্রিয়ার পর এখন এই কূটনৈতিক তৎপরতা কোন দিকে মোড় নেয়, তাই দেখার বিষয়।/টিএ

মে ১১, ২০২৬

অবশেষে মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে শপথ নিলেন থালাপতি বিজয়

দক্ষিণ ভারতীয় সিনেমার জনপ্রিয় মহাতারকা থেকে রাজনীতিক হয়ে ওঠা থালাপতি বিজয় আজ তামিলনাড়ুর মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে শপথ গ্রহণ করেছেন। রোববার সকালে চেন্নাইয়ের জওহরলাল নেহরু স্টেডিয়ামে এক জমকালো অনুষ্ঠানে রাজ্যপাল রাজেন্দ্র বিশ্বনাথ আর্লেকার তাকে পদ ও গোপনীয়তার শপথ বাক্য পাঠ করান। বিজয়ের সাথে নতুন মন্ত্রিসভার আরও ৯ জন মন্ত্রীও আজ শপথ নিয়েছেন। এই শপথ গ্রহণের মধ্য দিয়ে রাজ্যটিতে বিজয়ের দল ‘তামিলনাড়ু ভেট্রি কাজাগাম’ (টিভিকে)-এর নেতৃত্বে নতুন এক অধ্যায়ের সূচনা হলো।ঐতিহাসিক এই মুহূর্তের সাক্ষী হতে স্টেডিয়ামে ভিড় করেছিলেন কয়েক লাখ ভক্ত ও সমর্থক। বিজয়ের শপথ অনুষ্ঠানে জাতীয় রাজনীতির গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিত্ব হিসেবে উপস্থিত ছিলেন কংগ্রেস নেতা রাহুল গান্ধীসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের শীর্ষস্থানীয় নেতৃবৃন্দ। বিজয়ের এই রাজনৈতিক উত্থানকে দক্ষিণ ভারতের রাজনীতিতে একটি বড় ধরনের পরিবর্তন হিসেবে দেখছেন বিশ্লেষকরা। উল্লেখ্য, গতকালই তিনি রাজ্যপালের সাথে দেখা করে সরকার গঠনের চূড়ান্ত দাবি জানিয়েছিলেন।গত ৪ মে প্রকাশিত বিধানসভা নির্বাচনের ফলাফলে বিজয়ের দল টিভিকে ২৩৪টি আসনের মধ্যে ১০৮টি আসনে জয়লাভ করে একক বৃহত্তম দল হিসেবে আত্মপ্রকাশ করে। তবে সরকার গঠনের জন্য প্রয়োজনীয় ১১৮টি আসনের ম্যাজিক ফিগার স্পর্শ করতে তাকে পাঁচটি দলের সাথে জোট গঠন করতে হয়েছে। ভারতীয় কংগ্রেস ছাড়াও ভিসিকে এবং ইন্ডিয়ান ইউনিয়ন মুসলিম লীগ (আইইউএমএল) তাকে সমর্থন প্রদান করেছে। শেষ মুহূর্তে আরও দুটি দলের সমর্থন পাওয়ায় বিজয়ের জোটের মোট আসন সংখ্যা দাঁড়ায় ১২০-এ।শপথ গ্রহণের আগে রাজ্যপাল রাজেন্দ্র বিশ্বনাথ আর্লেকার বিজয়ের জোটের সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিয়ে পুঙ্খানুপুঙ্খ যাচাই-বাছাই করেন। বিশেষ করে জোটভুক্ত দলগুলোর সমর্থনসূচক চিঠির সত্যতা নিশ্চিত হওয়ার পরেই তিনি বিজয়কে সরকার গঠনের আমন্ত্রণ জানান। রাজ্যপালের সবুজ সংকেত পাওয়ার পর বিজয় আজকের দিনটি শপথ গ্রহণের জন্য বেছে নেন। রুপালি পর্দা কাঁপানো এই নায়ক এখন থেকে প্রশাসনিকভাবে তামিলনাড়ুর ভাগ্য নির্ধারণের গুরুদায়িত্ব পালন করবেন।/টিএ

মে ১০, ২০২৬

দীর্ঘ পাল্লার ক্ষেপণাস্ত্রের পরীক্ষা চালাল ভারত

পারমাণবিক অস্ত্র বহনে সক্ষম এবং দীর্ঘ পাল্লার আন্তঃমহাদেশীয় ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্রের (আইসিবিএম) সফল পরীক্ষামূলক উৎক্ষেপণ সম্পন্ন করেছে ভারত। শুক্রবার সন্ধ্যায় ওডিশা উপকূলে দেশটির প্রতিরক্ষা গবেষণা ও উন্নয়ন সংস্থা (ডিআরডিও) এবং বিমানবাহিনীর যৌথ তত্ত্বাবধানে এই বিশেষ মহড়া পরিচালিত হয়। ভারতের প্রতিরক্ষা সক্ষমতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে এই পরীক্ষাটিকে একটি বড় মাইলফলক হিসেবে দেখছেন সামরিক বিশেষজ্ঞরা।ভারতের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, ‘ট্যাকটিক্যাল অ্যাডভান্সড রেঞ্জ অগমেন্টেশন’ বা সংক্ষেপে ‘তারা’ (TARA) নামক প্রযুক্তির প্রথম ফ্লাইট ট্রায়াল অত্যন্ত নিখুঁতভাবে সম্পন্ন হয়েছে। এটি সম্পূর্ণ দেশীয় প্রযুক্তিতে তৈরি এমন একটি সিস্টেম, যা সাধারণ বোমাকেও অবিশ্বাস্য নির্ভুলতার সাথে লক্ষ্যভেদে সক্ষম করে তোলে। এর মাধ্যমে ভারতের বিমান বাহিনীর হামলা চালানোর ক্ষমতা কয়েক গুণ বেড়ে যাবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় বা সরকার আনুষ্ঠানিকভাবে একে 'অগ্নি-৬' হিসেবে ঘোষণা না করলেও, সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো দাবি করছে যে এটি মূলত আন্তঃমহাদেশীয় ক্ষেপণাস্ত্র শ্রেণির। ধারণা করা হচ্ছে, এই ক্ষেপণাস্ত্রটির পাল্লা ১০ হাজার কিলোমিটারেরও বেশি। যদি এই পাল্লার বিষয়টি নিশ্চিত হয়, তবে ভারতের শক্তিশালী সমরাস্ত্রের তালিকায় এটিই হবে দীর্ঘতম পাল্লার ক্ষেপণাস্ত্র।বর্তমানে বিশ্বের হাতেগোনা কয়েকটি দেশ—যুক্তরাষ্ট্র, রাশিয়া, চীন এবং উত্তর কোরিয়ার কাছে ১২ হাজার কিলোমিটারের বেশি পাল্লার ক্ষেপণাস্ত্র প্রযুক্তি রয়েছে। ভারত যদি আনুষ্ঠানিকভাবে এই সক্ষমতা অর্জন করে, তবে দেশটির সামরিক শক্তি বিশ্বের যেকোনো প্রান্তে আঘাত হানতে সক্ষম হবে। এটি বৈশ্বিক ভূ-রাজনীতিতে ভারতের অবস্থানকে আরও সুসংহত করবে এবং কৌশলগত প্রতিরোধ ব্যবস্থাকে শক্তিশালী করবে।সম্প্রতি ডিআরডিও-র চেয়ারম্যান সমীর ভি কামাত এক সম্মেলনে জানিয়েছিলেন যে, অগ্নি-৬ কর্মসূচির জন্য কারিগরিভাবে তারা পুরোপুরি প্রস্তুত। এরই মধ্যে ক্ষমতাসীন দল বিজেপি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এই ক্ষেপণাস্ত্রের সক্ষমতা নিয়ে একটি ভিডিও প্রকাশ করেছে। সেখানে বলা হয়েছে, একাধিক লক্ষ্যবস্তুতে একসাথে আঘাত হানতে সক্ষম এই বহুমুখী ওয়ারহেড প্রযুক্তি ভারতকে বিশ্বের শীর্ষ সামরিক শক্তিধর রাষ্ট্রগুলোর সারিতে জায়গা করে দেবে।/টিএ

মে ০৯, ২০২৬

বিশ্ববাজারে তেলের দামে বড় লাফ, বিপাকে বাংলাদেশ

বিশ্ববাজারে তেলের দামে বড় লাফ, বিপাকে বাংলাদেশহরমুজ প্রণালিতে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে সরাসরি সামরিক সংঘর্ষের জেরে টালমাটাল হয়ে পড়েছে বিশ্ব বাজার। যেখানে ধারণা করা হচ্ছিল সংঘাত দ্রুতই প্রশমিত হবে, সেখানে ডোনাল্ড ট্রাম্পের হার্ডলাইন অবস্থান এবং নতুন করে পাল্টাপাল্টি হামলার ঘটনায় পরিস্থিতি আবারও অগ্নিগর্ভ হয়ে উঠেছে। এই সংঘাতের ফলে দুই দেশের মধ্যকার ভঙ্গুর যুদ্ধবিরতি এখন চরম অনিশ্চয়তার মুখে।বৃহস্পতিবার আন্তর্জাতিক বাজারে ব্রেন্টক্রুড তেলের দাম এক পর্যায়ে ৭.৫ শতাংশ পর্যন্ত বেড়ে ১০৩.৭০ ডলারে পৌঁছায়। যদিও শুক্রবার এশিয়ার বাজার খোলার পর দাম কিছুটা কমে ১০১.১২ ডলারে নেমে আসে, তবে সরবরাহ নিয়ে আতঙ্ক কাটছে না। বিশ্লেষকরা বলছেন, ফেব্রুয়ারি তে যুদ্ধ শুরুর আগের তুলনায় তেলের দাম ইতিমধ্যে ৪০শতাংশ বেড়েছে।মার্কিন সেন্ট্রালকমান্ড (সেন্টকম) জানিয়েছে, তাদের তিনটি গাইডেড-মিসাইল ডেস্ট্রয়ার লক্ষ্য করে ইরান ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালালে তারা পাল্টা জবাব দেয়। বিপরীতে ইরানের অভিযোগ, যুক্তরাষ্ট্র যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘন করে তাদের তেলবাহী জাহাজ ও কেশম দ্বীপের বেসামরিক এলাকায় হামলা চালিয়েছে। গত ফেব্রুয়ারি থেকে প্রণালিটি স্থবির হয়ে থাকায় প্রতিদিন প্রায় ১কোটি ৪৫লাখ ব্যারেল তেলের ঘাটতির আশঙ্কা করা হচ্ছে।এই উত্তেজনার আঁচ লেগেছে বিশ্ব শেয়ার বাজারেও। শুক্রবার জাপানের নিক্কেই, দক্ষিণ কোরিয়ার কসপি এবং হংকংয়ের হ্যাংসেং সূচক ১ শতাংশের বেশি পড়ে গেছে। মার্কিন ওয়াল স্ট্রিটেও এসঅ্যান্ডপি ৫০০সূচক ০.৪ শতাংশ হ্রাস পেয়েছে। সরবরাহ ব্যবস্থার এই সংকট দীর্ঘায়িত হলে বিশ্ব অর্থনীতি বড় ধরনের মন্দার কবলে পড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দামের এই লাগামহীন ঊর্ধ্বগতি আমদানি নির্ভর বাংলাদেশের অর্থনীতির ওপর বড় ধরনের অশনি সংকেত হিসেবে দেখা দিয়েছে। জ্বালানি বিশেষজ্ঞরা আশঙ্কা করছেন, বিশ্ববাজারে ব্যারেল প্রতি তেলের দাম ১০০ ডলার ছাড়িয়ে যাওয়ায় দেশের বাজারেও জ্বালানি তেলের দাম পুনর্নির্ধারণের তীব্রচাপ তৈরি হবে। তেলের দাম বাড়লে পরিবহন খরচ ও কৃষি সেচ সহ উৎপাদন ব্যয় বহুগুণ বেড়ে যেতে পারে, যা সরাসরি প্রভাব ফেলবে সাধারণ মানুষের নিত্য প্রয়োজনীয় পণ্যের ওপর। ডলার সংকটের এই সময়ে চড়া মূল্যে তেল কিনতে গিয়ে বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভের ওপর বাড়তি চাপ পড়ার আশঙ্কা রয়েছে। সব মিলিয়ে বিশ্ববাজারের এই তপ্ত পরিস্থিতি দেশের মুদ্রাস্ফীতিকে আরও উসকে দিতে পারে বলে মনে করছেন অর্থনীতিবিদরা।

মে ০৮, ২০২৬

মিত্রদের বাধায় ভেস্তে গেল ট্রাম্পের ‘প্রজেক্ট ফ্রিডম’

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের বহুল আলোচিত ‘প্রজেক্ট ফ্রিডম’ পরিকল্পনাটি ঘোষণার মাত্র কয়েক দিনের মাথায় মুখ থুবড়ে পড়েছে। হরমুজ প্রণালী দিয়ে বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচলে নিরাপত্তা প্রদানের লক্ষ্যে গৃহীত এই সামরিক অভিযানটি স্থগিত করতে বাধ্য হয়েছে ওয়াশিংটন। মূলত মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্রের দীর্ঘদিনের মিত্র সৌদি আরব ও কুয়েতের কঠোর এবং অনমনীয় অবস্থানের কারণেই ট্রাম্পকে তার এই উচ্চাভিলাষী পরিকল্পনা থেকে পিছু হটতে হয়েছে বলে জানা গেছে।মার্কিন সংবাদমাধ্যম এনবিসি নিউজের প্রতিবেদন অনুযায়ী, রিয়াদ এই অভিযানে তাদের আকাশসীমা এবং কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ প্রিন্স সুলতান বিমানঘাঁটি ব্যবহারের অনুমতি দিতে অস্বীকৃতি জানিয়েছে। গত রোববার ট্রাম্প সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আকস্মিকভাবে এই প্রকল্পের ঘোষণা দিলে সৌদি নেতৃত্ব ক্ষুব্ধ হয়। এর প্রতিক্রিয়ায় তারা পরিষ্কার জানিয়ে দেয় যে, ওয়াশিংটনের এই একক সামরিক মিশনে তারা কোনো প্রকার লজিস্টিক বা কৌশলগত সহায়তা প্রদান করবে না।সৌদি আরবের পদাঙ্ক অনুসরণ করে কুয়েতও যুক্তরাষ্ট্রের জন্য তাদের সামরিক ঘাঁটি ও আকাশসীমা ব্যবহারের সুবিধা বন্ধ করে দিয়েছে। ড্রপ সাইট-এর একটি প্রতিবেদনে এই তথ্য নিশ্চিত করে জানানো হয়েছে যে, মিত্র দেশগুলোর এমন নজিরবিহীন অসহযোগিতার ফলে মধ্যপ্রাচ্যের জলসীমায় এককভাবে সামরিক অভিযান চালানো পেন্টাগনের জন্য প্রায় অসম্ভব হয়ে দাঁড়িয়েছে। ফলে মাঠ পর্যায়ে প্রকল্পটি বাস্তবায়নের আগেই বড় ধরনের কূটনৈতিক সংকটের মুখে পড়ে ট্রাম্প প্রশাসন।বিশ্লেষকদের মতে, আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা রক্ষা এবং ইরানের সঙ্গে সরাসরি সংঘাত এড়ানোর লক্ষ্যেই কুয়েত ও সৌদি আরব এমন কঠোর পদক্ষেপ নিয়েছে। প্রস্তাবিত পরিকল্পনা অনুযায়ী মার্কিন নৌবাহিনীর পাহাড়ায় জাহাজ পার করে দেওয়ার কথা থাকলেও, স্থানীয় শক্তিগুলো একে উসকানিমূলক হিসেবে দেখছে। এই কূটনৈতিক টানাপোড়েন মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্রের দীর্ঘদিনের নিরাপত্তা সহযোগিতার ক্ষেত্রে একটি বড় ধরনের ধাক্কা এবং ওয়াশিংটনের একপাক্ষিক নীতি নির্ধারণের সীমাবদ্ধতা হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।মিত্রদের থেকে তীব্র প্রতিক্রিয়ার বার্তা পাওয়ার মাত্র দুই দিনের মাথায় বুধবার ট্রুথ সোশ্যালে এক পোস্টের মাধ্যমে ট্রাম্প প্রকল্পটি স্থগিত করার ঘোষণা দেন। এই ঘটনার মধ্য দিয়ে এটি স্পষ্ট হয়েছে যে, মধ্যপ্রাচ্যের ভূ-রাজনীতিতে বর্তমানে আঞ্চলিক শক্তিগুলোর প্রভাব কতটা শক্তিশালী। ওয়াশিংটনের যেকোনো সামরিক পদক্ষেপের ক্ষেত্রে এখন থেকে মিত্রদের স্বার্থ ও সম্মতি বিবেচনা করা অপরিহার্য হয়ে পড়েছে, যা যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রনীতিতে নতুন এক সমীকরণের জন্ম দিয়েছে।/টিএ

মে ০৭, ২০২৬

ভিয়েতনামের সাথে ২৫ বিলিয়ন ডলার বাণিজ্যে চুক্তি মোদির

ভারত ও ভিয়েতনাম তাদের দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ককে আরও শক্তিশালী করতে এবং একে একটি ‘উন্নত সমন্বিত কৌশলগত অংশীদারিত্ব’-এর পর্যায়ে উন্নীত করতে সম্মত হয়েছে। বুধবার ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী এবং ভিয়েতনামের রাষ্ট্রপতি তো লামের মধ্যে অনুষ্ঠিত এক উচ্চপর্যায়ের বৈঠকে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। বৈঠকে উভয় দেশ বাণিজ্য, প্রতিরক্ষা এবং প্রযুক্তি খাতে সহযোগিতার জন্য একটি উচ্চাভিলাষী কর্মপরিকল্পনার রূপরেখা তৈরি করেছে, যা এশিয়ার ভূ-রাজনীতিতে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে।বৈঠক শেষে এক যৌথ বিবৃতিতে জানানো হয়েছে, এই নতুন অংশীদারিত্ব উভয় দেশের ‘যৌথ দৃষ্টিভঙ্গি ও কৌশলগত ঐক্য’-এর প্রতিফলন। অর্থনৈতিক সম্পর্ক জোরদারের লক্ষ্যে দুই দেশ ২০৩০ সালের মধ্যে দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্যের পরিমাণ ২৫ বিলিয়ন মার্কিন ডলারে নিয়ে যাওয়ার নতুন লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছে। উচ্চ-প্রযুক্তি উৎপাদন, নবায়নযোগ্য শক্তি, লজিস্টিকস এবং বৈদ্যুতিক যানবাহনের মতো উদীয়মান খাতগুলোতে পারস্পরিক বিনিয়োগ বাড়াতেও দুই নেতা ঐকমত্যে পৌঁছেছেন। প্রধানমন্ত্রী মোদী এসময় সাংস্কৃতিক সংযোগ বৃদ্ধির ওপরও বিশেষ গুরুত্বারোপ করেন।পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের (পূর্ব) সচিব পি কুমারান সংবাদমাধ্যমকে জানান, বাণিজ্যের পাশাপাশি কৃষি পণ্যের বাজার সম্প্রসারণেও উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি হয়েছে। ভারত থেকে আঙুর রপ্তানি এবং ভিয়েতনাম থেকে ডুরিয়ান আমদানির অনুমোদনকে উভয় পক্ষ স্বাগত জানিয়েছে। এছাড়া ডালিম ও জাম্বুরার মতো ফলগুলোর দ্রুত বাজার প্রবেশাধিকার নিশ্চিত করতে কাজ করছে দুই দেশ। সরবরাহ শৃঙ্খল বা সাপ্লাই চেইনকে আরও স্থিতিশীল করতে ভারত থেকে কাঁচামাল ও পণ্য আমদানি বাড়ানোর বিষয়ে আগ্রহ প্রকাশ করেছে ভিয়েতনাম।প্রতিরক্ষা ও সামুদ্রিক নিরাপত্তা সহযোগিতা এই সফরের অন্যতম প্রধান দিক হিসেবে উঠে এসেছে। ইন্দো-প্যাসিফিক অঞ্চলে স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে উভয় দেশ প্রতিরক্ষা সরঞ্জাম ক্রয় এবং সামরিক শিল্পে সহযোগিতা বৃদ্ধির সিদ্ধান্ত নিয়েছে। বিশেষ করে সামুদ্রিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ভারতের ‘ইনফরমেশন ফিউশন সেন্টার–ইন্ডিয়ান ওশান রিজিয়ন’-এ ভিয়েতনামের লিয়াজোঁ কর্মকর্তা নিয়োগের প্রস্তাবকে স্বাগত জানানো হয়েছে। ডিজিটাল অর্থনীতি ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার (AI) মতো আধুনিক প্রযুক্তিতেও একে অপরকে সহায়তার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে দুই রাষ্ট্র।আর্থিক খাতে উদ্ভাবন আনতে রিজার্ভ ব্যাঙ্ক অফ ইন্ডিয়া এবং স্টেট ব্যাঙ্ক অফ ভিয়েতনামের মধ্যে একটি গুরুত্বপূর্ণ চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছে। এর ফলে কিউআর-ভিত্তিক (QR-code) ব্যবস্থার মাধ্যমে দুই দেশের মধ্যে আন্তঃসীমান্ত ডিজিটাল লেনদেন সহজতর হবে। এছাড়া, ভিয়েতনামের বিভিন্ন প্রদেশে ভারতের অর্থায়নে পরিচালিত ৬৬টি ‘দ্রুত প্রভাব সৃষ্টিকারী প্রকল্প’ (Quick Impact Projects) তৃণমূল পর্যায়ে ইতিবাচক পরিবর্তন আনায় সন্তোষ প্রকাশ করা হয়েছে। এই বহুমুখী সহযোগিতার মাধ্যমে ভারত ও ভিয়েতনাম দক্ষিণ এশিয়া ও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ায় তাদের প্রভাব আরও সুসংহত করতে চায়।/টিএ

মে ০৬, ২০২৬

তামিলনাড়ুতে বিজয়ের মসনদ, কংগ্রেসের সমর্থন

তামিলনাড়ুর রাজনীতিতে পালাবদলের হাওয়ায় নতুন মাত্রা যোগ করেছে অভিনেতা থালাপতি বিজয়ের দল তামিলাগা ভেত্রি কাজাগাম (টিভিকে)। সরকার গঠনের লক্ষ্যে টিভিকে-কে পূর্ণ সমর্থন দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছে কংগ্রেস। তবে এই সমর্থনের পেছনে অল ইন্ডিয়া কংগ্রেস কমিটি (এআইসিসি) একটি কঠোর শর্ত জুড়ে দিয়েছে। দলটির স্পষ্ট বার্তা—জোটের ভেতরে এমন কোনো ‘সাম্প্রদায়িক শক্তি’ রাখা যাবে না, যারা ভারতের সংবিধানের মূল আদর্শে বিশ্বাসী নয়।কংগ্রেসের এই সিদ্ধান্তের ফলে বিজয়ের দলের শক্তি এক ধাক্কায় অনেকটাই বেড়েছে। কংগ্রেসের ৫ জন বিধায়কের সমর্থন পাওয়ায় টিভিকের মোট আসন সংখ্যা এখন ১১২। যদিও সরকার গঠনের ম্যাজিক ফিগার ১১৮-তে পৌঁছাতে বিজয়ের আরও ৬ জন বিধায়কের সমর্থন প্রয়োজন। বর্তমানে একক বৃহত্তম দল হিসেবে ১০৭টি আসন নিয়ে বিজয় এখন বিদুথালাই চিরুথাইগাল কাচ্চি (ভিসিকে), সিপিআই এবং সিপিএমের মতো বামপন্থী দলগুলোর সঙ্গে আলোচনার পথ প্রশস্ত করছেন।রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের নজর এখন এআইএডিএমকে প্রধান এডাপ্পাডি কে পলানিস্বামীর সঙ্গে টিভিকের নেতাদের বৈঠকের দিকে। চেন্নাইয়ে অনুষ্ঠিত এই বৈঠক বিজেপির মিত্র হিসেবে পরিচিত এআইএডিএমকে শিবিরে অস্বস্তি বাড়াতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। এদিকে কংগ্রেস জানিয়েছে, বিজয়ের সঙ্গে তাদের এই জোট কেবল সরকার গঠনেই সীমাবদ্ধ থাকবে না; বরং আগামীতে স্থানীয় সরকার নির্বাচন এবং লোকসভা ও রাজ্যসভা নির্বাচনেও এই সমঝোতা বজায় থাকবে।রাহুল গান্ধী এবং বিজয়—উভয় নেতাই তামিলনাড়ুর জনগণের ঐতিহাসিক রায়কে সম্মান জানিয়ে একটি ধর্মনিরপেক্ষ ও প্রগতিশীল সরকার গঠনের অঙ্গীকার করেছেন। বিশেষ করে রাজ্যের তরুণ প্রজন্মের কর্মসংস্থান এবং প্রত্যাশা পূরণকে অগ্রাধিকার দিয়ে একসঙ্গে কাজ করার ঘোষণা দিয়েছে দুই দল। এই জোটের মাধ্যমে তামিলনাড়ুতে গত ৬২ বছরের ডিএমকে এবং এআইএডিএমকে-র দ্বৈত শাসনের অবসান ঘটতে যাচ্ছে বলে মনে করা হচ্ছে।উল্লেখ্য, ২৩৪ আসনের বিধানসভা নির্বাচনে বিজয় নিজেই দুটি আসন (ত্রিচি ইস্ট ও পেরাম্বুর) থেকে জয়লাভ করেছেন। তবে দলীয় সূত্র জানাচ্ছে, তিনি সম্ভবত পেরাম্বুর আসনটি নিজের কাছে রেখে ত্রিচি ইস্ট ছেড়ে দেবেন। নির্বাচনে বিজয়ের দল ১০৮টি আসনে জয় পেয়ে ইতিহাস গড়েছে, যেখানে শাসক দল ডিএমকে পেয়েছে মাত্র ৫৯টি আসন এবং এআইএডিএমকে পেয়েছে ৪৭টি আসন। বিজয়ের এই উত্থান দাক্ষিণাত্যের রাজনীতিতে এক নতুন যুগের সূচনা করল।/টিএ

মে ০৬, ২০২৬

যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আলোচনা এগিয়ে যাচ্ছে: আব্বাস আরাঘচি

পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় যুক্তরাষ্ট্রের সাথে পরোক্ষ আলোচনা ইতিবাচকভাবে এগিয়ে যাচ্ছে বলে জানিয়েছেন ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি। মঙ্গলবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে তিনি এই অগ্রগতির কথা নিশ্চিত করেন। তবে আলোচনার সমান্তরালে হরমুজ প্রণালিতে উদ্ভূত সামরিক পরিস্থিতি নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করে তিনি মন্তব্য করেন যে, এই রাজনৈতিক সংকটের কোনো সামরিক সমাধান নেই।আরাঘচি ওয়াশিংটনকে সতর্ক করে দিয়ে বলেন, তৃতীয় কোনো পক্ষ যেন যুক্তরাষ্ট্রকে সংঘাতের নতুন কোনো ‘গোলকধাঁধায়’ টেনে নিতে না পারে, সে বিষয়ে তাদের সজাগ থাকতে হবে। একইসঙ্গে তিনি সংযুক্ত আরব আমিরাতকেও উস্কানিমূলক তৎপরতা থেকে দূরে থাকার পরামর্শ দেন। যুক্তরাষ্ট্রের বিশেষ নৌ-অভিযান ‘প্রজেক্ট ফ্রিডম’-কে একটি ‘অচলাবস্থা প্রকল্প’ হিসেবে আখ্যা দিয়ে তিনি দাবি করেন, এর মাধ্যমে সংকটের সমাধান সম্ভব নয়।এদিকে ডোনাল্ড ট্রাম্পের নির্দেশে শুরু হওয়া এই সামরিক অভিযানে শতাধিক বিমান ও ডেস্ট্রয়ার মোতায়েন করেছে যুক্তরাষ্ট্র, যার উদ্দেশ্য বাণিজ্যিক জাহাজের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা। তবে ইরানের পার্লামেন্ট স্পিকার মোহাম্মদ বাঘের গালিবাফ এই পদক্ষেপের তীব্র সমালোচনা করে বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্র ও তার মিত্ররা এই অঞ্চলের নৌ-নিরাপত্তা এবং জ্বালানি সরবরাহকে ঝুঁকির মুখে ফেলেছে। তিনি হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, আমেরিকার জন্য বর্তমান পরিস্থিতি ‘অসহনীয়’ হয়ে উঠবে।প্রণালিতে সামরিক উত্তেজনার মাত্রা এতটাই বেড়েছে যে, দুই দেশ একে অপরের লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত করার পাল্টাপাল্টি দাবি করছে। ইরান দাবি করেছে তারা মার্কিন ডেস্ট্রয়ার লক্ষ্য করে গুলি চালিয়েছে, অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্র বলছে তারা ইরানের দ্রুতগামী নৌযানগুলোকে লক্ষ্যবস্তু করেছে। আইআরজিসি তাদের ক্ষয়ক্ষতির খবর অস্বীকার করলেও ডোনাল্ড ট্রাম্প কড়া ভাষায় সতর্ক করেছেন যে, মার্কিন জাহাজে কোনো ধরনের হামলা হলে ইরানকে ‘পৃথিবীর মানচিত্র থেকে মুছে ফেলা হবে’।সার্বিক পরিস্থিতিতে হরমুজ প্রণালিতে সাধারণ বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচল উল্লেখযোগ্যভাবে কমে গেছে। যদিও শিপিং জায়ান্ট ‘মায়েরস্ক’ দাবি করেছে যে মার্কিন সুরক্ষায় তাদের একটি জাহাজ প্রণালিটি অতিক্রম করেছে, তবে আইআরজিসি সেই দাবি প্রত্যাখ্যান করে জানিয়েছে গত রাতে কোনো বাণিজ্যিক বা তেলবাহী ট্যাংকার ওই পথ দিয়ে যায়নি। কূটনৈতিক আলোচনার আশার মাঝেও সামরিক এই সংঘাত পুরো অঞ্চলের স্থিতিশীলতাকে হুমকির মুখে ফেলেছে।/টিএ

মে ০৫, ২০২৬
footer small logo

যোগাযোগ :

এটিএন বাংলা, ওয়াসা ভবন, ২য় তলা, ৯৮ কাজী নজরুল ইসলাম এভিনিউ, কাওরান বাজার, ঢাকা-১২১৫, বাংলাদেশ

ফোনঃ +88-02-55011931

সোশ্যাল মিডিয়া

youtube logotwitter logofacebook logo

Design & Developed by:

developed-company-logo