logo
youtube logotwitter logofacebook logo
/আন্তর্জাতিক
সৌদি যুবরাজের সঙ্গে ট্রাম্পের জরুরী ফোনালাপ - image

সৌদি যুবরাজের সঙ্গে ট্রাম্পের জরুরী ফোনালাপ

02 এপ্রিল 2026, বিকাল 5:08

মধ্যপ্রাচ্যের ক্রমবর্ধমান উত্তেজনা নিরসনে কূটনৈতিক তৎপরতা শুরু করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। বুধবার সৌদি আরবের ক্রাউন প্রিন্স মোহাম্মদ বিন সালমানের সঙ্গে এক জরুরি ফোনালাপে অংশ নেন তিনি। এই আলাপচারিতায় মূলত ইরান সংকট এবং একটি সম্ভাব্য যুদ্ধবিরতি নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয় বলে আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমগুলো নিশ্চিত করেছে।আলোচনার মূল বিষয়বস্তু সংবাদমাধ্যম অ্যাক্সিওসের প্রতিবেদন অনুযায়ী, ট্রাম্প সৌদি যুবরাজকে চলমান যুদ্ধবিরতি আলোচনার অগ্রগতি সম্পর্কে অবহিত করেন। এই সংলাপে দুই নেতা বর্তমান সংঘাত থামানোর বিভিন্ন দিক নিয়ে কথা বলেন। তবে এই ফোনালাপের বিষয়ে হোয়াইট হাউস এখন পর্যন্ত আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো বিবৃতি প্রদান করেনি।ইরানের অবস্থান ও প্রতিক্রিয়া অন্যদিকে, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সরাসরি কোনো আলোচনার সম্ভাবনা নাকচ করে দিয়েছে ইরান। তেহরানের দাবি, ওয়াশিংটনের সঙ্গে তাদের কোনো সরাসরি সংলাপ হচ্ছে না; যোগাযোগ কেবল মধ্যস্থতাকারীদের মাধ্যমে বার্তা আদান-প্রদানের মধ্যেই সীমাবদ্ধ। ইরান সরকার যুক্তরাষ্ট্রের দেওয়া প্রস্তাবগুলোকে ‘অতিরিক্ত ও অবাস্তব’ বলে আখ্যায়িত করেছে।বর্তমান সংঘাতের ভয়াবহতা গত ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে ইরানে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ বিমান হামলা শুরু হওয়ার পর পরিস্থিতি চরম আকার ধারণ করেছে। ইরানি কর্তৃপক্ষের তথ্যমতে, হামলায় এ পর্যন্ত ১ হাজার ৩৪০ জনেরও বেশি মানুষ নিহত হয়েছে। এর পাল্টা জবাবে ইরানও ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছে, যার লক্ষ্যবস্তু ছিল ইসরায়েলসহ জর্ডান, ইরাক এবং উপসাগরীয় অঞ্চলে অবস্থিত মার্কিন সামরিক ঘাঁটিগুলো।প্রাণহানি ও বৈশ্বিক প্রভাব এই রক্তক্ষয়ী সংঘাতে এখন পর্যন্ত অন্তত ১৩ জন মার্কিন সেনা নিহত হওয়ার খবর নিশ্চিত করেছে যুক্তরাষ্ট্র। যুদ্ধের প্রভাবে বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারে অস্থিরতা তৈরি হয়েছে এবং গুরুত্বপূর্ণ তেল পরিবহন পথ ‘হরমুজ প্রণালি’ দিয়ে জাহাজ চলাচল ব্যাহত হচ্ছে। ফলে বিশ্বজুড়ে অর্থনৈতিক ও সামরিক উদ্বেগের কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছে এই অঞ্চল।/টি

এপ্রিল ০২, ২০২৬

শান্তি প্রস্তাবের মধ্যেই হামলার প্রস্তুতি নিচ্ছেন ট্রাম্প

ইরান ইস্যুতে কঠোর অবস্থানের কথা পুনর্ব্যক্ত করেছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তার দাবি, মার্কিন চাপের মুখে নতি স্বীকারের পথেই হাঁটছে তেহরান এবং দ্রুতই একটি সমঝোতা হতে পারে। তবে ট্রাম্পের এই সুর নরম মনে হলেও মাঠের চিত্র ভিন্ন। মার্কিন কর্মকর্তাদের গোপন ব্রিফিং বলছে, প্রয়োজনে স্থল অভিযান চালানোর জন্য পুরোপুরি প্রস্তুত রয়েছে মার্কিন বাহিনী। মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে ইতিমধ্যেই হাজার হাজার মেরিন সদস্য, বিশেষ বাহিনী এবং প্যারাট্রুপার মোতায়েন করা হয়েছে। মার্কিন প্রশাসনের ইঙ্গিত অনুযায়ী, প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প ইরানের বিরুদ্ধে বহুমুখী সামরিক অভিযানের কথা ভাবছেন। এর মধ্যে ইরানের প্রধান তেল রপ্তানি কেন্দ্র খারগ দ্বীপে হামলা থেকে শুরু করে দেশটির উচ্চমাত্রায় সমৃদ্ধ ইউরেনিয়ামের মজুত দখলের মতো জটিল অপারেশনও রয়েছে। ট্রাম্প এই ইউরেনিয়ামকে ‘নিউক্লিয়ার ডাস্ট’ বলে অভিহিত করেছেন। এমনকি এয়ার ফোর্স ওয়ানে এক কড়া বার্তায় তিনি বলেন, ইউরেনিয়াম হস্তান্তর না করলে ইরান নামক দেশটির অস্তিত্বই হুমকিতে পড়বে।যুক্তরাষ্ট্রের এই রণপ্রস্তুতির বিপরীতে কঠোর অবস্থান নিয়েছে ইরানও। দেশটির পার্লামেন্ট স্পিকার মোহাম্মদ বাঘের গালিবাফ অভিযোগ করেছেন, যুক্তরাষ্ট্র মুখে আলোচনার কথা বললেও আড়ালে স্থল হামলার নীল নকশা করছে। তার সাফ কথা, ইরান কখনোই আত্মসমর্পণ করবে না এবং যেকোনো মার্কিন হামলা মোকাবিলায় ইরানি সেনারা সম্পূর্ণ প্রস্তুত। এদিকে ট্রাম্প প্রকাশ্যেই জানিয়েছেন, ইরানের তেল সম্পদ দখল করা তার অন্যতম পছন্দের কাজ—যাকে তিনি খারগ দ্বীপ দখলের ইঙ্গিত হিসেবেই দেখছেন।উত্তেজনার এই চরম মুহূর্তে মধ্যপ্রাচ্যে নতুন করে আরও সাড়ে তিন হাজার মার্কিন সৈন্য এসে পৌঁছেছে। ট্রাম্পের হাতে অনেকগুলো বিকল্প থাকলেও তিনি পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় ইরানের সাথে পরোক্ষ আলোচনার বিষয়টিও সামনে এনেছেন। তিনি জানিয়েছেন, পাকিস্তানের প্রতিনিধিদের মাধ্যমে আলোচনা কিছুটা ইতিবাচকভাবে এগোচ্ছে। তবে এই মুহূর্তে কোনো যুদ্ধবিরতি চুক্তি হবে কি না, সে বিষয়ে তিনি কোনো স্পষ্ট মন্তব্য করতে রাজি হননি। গত ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে শুরু হওয়া যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলায় ইরানে এক ভয়াবহ মানবিক বিপর্যয় নেমে এসেছে। আল-জাজিরার তথ্যমতে, এ পর্যন্ত ২ হাজার ৭৬ জনের বেশি মানুষ নিহত হয়েছেন, যাদের মধ্যে ২১৬ জনই শিশু। আহতের সংখ্যা সাড়ে ২৬ হাজার ছাড়িয়েছে। ভয়াবহ এই হামলায় ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়েছে ইরানের ৩৩৬টি স্বাস্থ্য ও জরুরি সেবা কেন্দ্র। সব মিলিয়ে পুরো অঞ্চল এখন এক অনিশ্চিত ভবিষ্যতের দিকে এগোচ্ছে।/টিএ

মার্চ ৩০, ২০২৬

র‍্যাপার থেকে প্রধানমন্ত্রী: কে এই বালেন্দ্র শাহ?

মাত্র ৩৫ বছর বয়সে নেপালের প্রধানমন্ত্রী হিসেবে শপথ নিয়ে বিশ্বজুড়ে আলোচনার কেন্দ্রে উঠে এসেছেন বালেন্দ্র শাহ। এক সময়ের জনপ্রিয় র‌্যাপার থেকে কাঠমুন্ডুর মেয়র, আর সেখান থেকে সরাসরি দেশের শীর্ষ নেতৃত্বে তার এই যাত্রা নেপালের রাজনীতিতে এক নতুন অধ্যায়ের সূচনা করেছে। তরুণ এই নেতাকে ঘিরে এখন নতুন প্রজন্মের বিশাল প্রত্যাশা, যারা পুরনো রাজনৈতিক কাঠামোর বাইরে গিয়ে পরিবর্তনের অপেক্ষায় ছিল।১৯৯০ সালে জন্ম নেওয়া বালেন্দ্র শাহ কেবল একজন রাজনীতিবিদই নন, তিনি পেশায় একজন স্ট্রাকচারাল ইঞ্জিনিয়ারও। ভারতের কর্ণাটকে পড়াশোনা শেষ করে তিনি যখন নিজের ক্যারিয়ার গড়ছিলেন, ঠিক তখনই তার সংগীত সত্তা জেগে ওঠে। র‌্যাপ সংগীতের মাধ্যমে তিনি সমাজের দুর্নীতি ও রাজনৈতিক ব্যর্থতার বিরুদ্ধে যে জোরালো কণ্ঠস্বর তুলেছিলেন, বিশেষ করে তার ‘বলিদান’ গানটি তরুণ সমাজকে প্রচণ্ডভাবে আন্দোলিত করেছিল।২০২২ সালে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে কাঠমুন্ডুর মেয়র নির্বাচিত হওয়ার মাধ্যমেই তার রাজনীতির মাঠের পরীক্ষা শুরু হয়। মেয়র হিসেবে দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে তিনি নগর ব্যবস্থাপনায় আমূল পরিবর্তনের লক্ষ্যে বেশ কিছু কঠোর পদক্ষেপ নেন, যা তাকে আলোচনার পাশাপাশি সমালোচনার মুখোমুখিও দাঁড় করায়। মানবাধিকার সংগঠনগুলোর কঠোর সমালোচনা সত্ত্বেও তার দৃঢ়তা স্পষ্ট ছিল, যা মূলত তার কর্মপদ্ধতিরই প্রতিফলন।স্থানীয় রাজনীতি থেকে জাতীয় রাজনীতিতে প্রবেশ করা বালেন্দ্র শাহের জন্য ছিল এক চ্যালেঞ্জিং পদক্ষেপ। তবে তার নেতৃত্বে তার দল নির্বাচনে নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করে। সাবেক প্রধানমন্ত্রী কেপি শর্মা ওলির মতো অভিজ্ঞ নেতাকে পরাজিত করে তিনি যে নাটকীয় জয় তুলে নেন, তা বিশ্বরাজনীতিতে বিরল। এরই ধারাবাহিকতায় রাষ্ট্রপতি রামচন্দ্র পাউডেল তাকে নেপালের প্রধানমন্ত্রী হিসেবে নিয়োগ প্রদান করেন।বালেন্দ্র শাহের এই অভাবনীয় উত্থান মূলত তরুণদের পরিবর্তনের তীব্র আকাঙ্ক্ষারই প্রতিফলন। দীর্ঘদিনের দুর্নীতি ও স্বজনপ্রীতিতে জর্জরিত নেপালের মানুষ এখন তার নেতৃত্বে একটি স্বচ্ছ ও জবাবদিহিমূলক শাসনব্যবস্থার স্বপ্ন দেখছে। তবে তার পথ মোটেও মসৃণ নয়; পূর্বের কঠোর সিদ্ধান্তগুলো নিয়ে বিতর্ক থাকা সত্ত্বেও তার নেতৃত্ব, উদ্যম এবং নতুন রাজনৈতিক চিন্তাধারা আগামী দিনে নেপালের ভবিষ্যৎকে কোন দিকে নিয়ে যায়, সেটিই এখন দেখার বিষয়।/টিএ

মার্চ ২৯, ২০২৬

মার্কিন ভূখণ্ডে আঘাত হানতে কিমের নতুন ক্ষেপণাস্ত্র পরীক্ষা

যুক্তরাষ্ট্রের মূল ভূখণ্ডে আঘাত হানতে সক্ষম ক্ষেপণাস্ত্র প্রযুক্তিতে বড় ধরনের অগ্রগতি অর্জন করেছে উত্তর কোরিয়া। দেশটির রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম কেসিএনএ জানিয়েছে, তারা সম্প্রতি একটি নতুন ও উন্নত প্রযুক্তির রকেট ইঞ্জিনের সফল ‘গ্রাউন্ড টেস্ট’ সম্পন্ন করেছে। উত্তর কোরিয়ার সর্বোচ্চ নেতা কিম জং উন সশরীরে উপস্থিত থেকে এই গুরুত্বপূর্ণ পরীক্ষাটি তদারকি করেন।প্রতিরক্ষা বিশেষজ্ঞদের মতে, এই পরীক্ষার মূল লক্ষ্য হলো আন্তঃমহাদেশীয় ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র (আইসিবিএম) ব্যবস্থার আধুনিকায়ন। নতুন এই ইঞ্জিনে ‘কঠিন-জ্বালানি’ (Solid-fuel) ব্যবহারের পরিকল্পনা করা হয়েছে। লিকুইড ফুয়েলের তুলনায় সলিড-ফুয়েলযুক্ত ক্ষেপণাস্ত্র অত্যন্ত দ্রুততার সাথে উৎক্ষেপণ করা যায়, কারণ এতে দীর্ঘ প্রস্তুতির প্রয়োজন হয় না। ফলে যুদ্ধের ময়দানে শত্রু পক্ষকে বুঝে ওঠার সুযোগ না দিয়েই আক্রমণ চালানো সম্ভব হবে।কেসিএনএ-এর তথ্য অনুযায়ী, এই গ্রাউন্ড জেট টেস্টে অত্যাধুনিক ‘কম্পোজিট কার্বন ফাইবার’ উপাদান ব্যবহার করা হয়েছে। ইঞ্জিনটির সর্বোচ্চ থ্রাস্ট বা উৎক্ষেপণ শক্তি ২ হাজার ৫০০ কিলোটন নির্ধারণ করা হয়েছে। গ্রাউন্ড টেস্টের মাধ্যমে রকেটের ইঞ্জিন ও জ্বালানির কার্যক্ষমতা স্থির অবস্থায় রেখে অত্যন্ত সূক্ষ্মভাবে যাচাই করা হয়েছে, যা ভবিষ্যতে আরও শক্তিশালী ক্ষেপণাস্ত্র তৈরিতে সহায়ক হবে।ক্ষেপণাস্ত্র পরীক্ষার পাশাপাশি রাজনৈতিক অবস্থানও স্পষ্ট করেছেন কিম জং উন। সম্প্রতি দেশটির পার্লামেন্টে দেওয়া এক ভাষণে তিনি উত্তর কোরিয়াকে একটি অপরাজেয় পারমাণবিক শক্তিধর রাষ্ট্র হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করার দৃঢ় অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন। চলমান বৈশ্বিক অস্থিরতা ও মধ্যপ্রাচ্য যুদ্ধের উদাহরণ টেনে তিনি যুক্তরাষ্ট্রকে বিশ্বজুড়ে ‘রাষ্ট্রীয় সন্ত্রাসবাদ ও আগ্রাসনের’ মূল হোতা হিসেবে অভিযুক্ত করেন। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, উত্তর কোরিয়ার এই সামরিক তৎপরতা মূলত ওয়াশিংটনের ওপর মনস্তাত্ত্বিক চাপ সৃষ্টির একটি সুপরিকল্পিত কৌশল। যদিও পরীক্ষাটির সঠিক সময় ও স্থান সম্পর্কে পিয়ংইয়ং গোপনীয়তা বজায় রেখেছে, তবে এটি নিশ্চিত যে দেশটির জাতীয় প্রতিরক্ষা উন্নয়ন পরিকল্পনার অংশ হিসেবেই এই মহড়া চালানো হয়েছে। এর ফলে পূর্ব এশিয়া ও প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলে নতুন করে উত্তেজনার পারদ চড়ছে।/টিএ

মার্চ ২৯, ২০২৬

মার্কিন ঘাঁটিতে ইরানের তাণ্ডব, আহত ১২ মার্কিন সেনা

সৌদি আরবের আল-খারজ এলাকায় অবস্থিত প্রিন্স সুলতান বিমানঘাঁটিতে ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলায় অন্তত ১২ জন মার্কিন সেনাসদস্য আহত হয়েছেন। আহতদের মধ্যে দুজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক বলে জানিয়েছেন মার্কিন কর্মকর্তারা।শুক্রবার, ২৭ মার্চ গভীর রাতে চালানো এই হামলার বিষয়টি আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম রয়টার্স ও অ্যাসোসিয়েটেড প্রেস নিশ্চিত করেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মার্কিন কর্মকর্তা জানিয়েছেন, হামলাটি ছিল পরিকল্পিত এবং এতে উন্নত ধরনের অস্ত্র ব্যবহার করা হয়েছে।মার্কিন সামরিক সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, এই হামলায় ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র এবং আত্মঘাতী ড্রোন ব্যবহার করা হয়। লক্ষ্যবস্তু ছিল বিমানঘাঁটির সামরিক অবকাঠামো, আবাসন এলাকা এবং গুরুত্বপূর্ণ কৌশলগত স্থাপনা। হামলার ফলে ঘাঁটির কিছু অংশে ক্ষয়ক্ষতির আশঙ্কা করা হলেও, এখনো পূর্ণাঙ্গ ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ জানা যায়নি।এই হামলার পর যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে চলমান সংঘাত আরও তীব্র হয়ে উঠেছে। ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে শুরু হওয়া এই সংঘাতে এখন পর্যন্ত ৩০০-র বেশি মার্কিন সেনা আহত হয়েছেন। এর মধ্যে ২৭৩ জন ইতোমধ্যে সুস্থ হয়ে কাজে ফিরেছেন, তবে এখন পর্যন্ত ১৩ জন সেনার মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে।এদিকে সর্বশেষ হামলার পর মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে মার্কিন ঘাঁটিগুলোতে উচ্চ সতর্কতা জারি করা হয়েছে। ওয়াশিংটন পাল্টা প্রতিক্রিয়ার বিষয়েও আলোচনা করছে বলে জানা গেছে। বিশ্লেষকদের মতে, এই হামলা ইঙ্গিত দিচ্ছে যে সংঘাতটি এখন আরও বিস্তৃত আকার নিচ্ছে, যা পুরো মধ্যপ্রাচ্যের নিরাপত্তা পরিস্থিতিকে আরও ঝুঁকির মুখে ফেলতে পারে।/টি

মার্চ ২৮, ২০২৬

ইসরায়েলে ইরানের ‘অপারেশন ট্রু প্রমিজ-৪’

যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলি আগ্রাসনের ২৫তম দিনে মধ্যপ্রাচ্যের উত্তেজনা এক নতুন মোড় নিয়েছে। মঙ্গলবার (২৪ মার্চ) ‘অপারেশন ট্রু প্রমিজ-৪’-এর ৭৮তম ধাপে ইসরায়েলি ভূখণ্ড লক্ষ্য করে শক্তিশালী ‘ইমাদ’ ও ‘কদর’ ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করেছে ইরানের রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি)। একের পর এক ইরানি ক্ষেপণাস্ত্রের আঘাতে কেঁপে উঠেছে ইসরায়েলের বিভিন্ন এলাকা।তেল আবিবে ক্ষয়ক্ষতি ও হতাহত: সবচেয়ে বড় হামলার খবর পাওয়া গেছে তেল আবিব থেকে। ইসরায়েলি জরুরি সেবা সংস্থা মাগেন ডেভিড অ্যাডম (MDA) জানিয়েছে, সকালে তেল আবিব এলাকায় একটি ইরানি ক্ষেপণাস্ত্র ভূপাতিত করার পর তার ধ্বংসাবশেষের আঘাতে অন্তত ৬ জন আহত হয়েছেন। স্থানীয় প্রশাসন ও পুলিশ তাৎক্ষণিকভাবে আহতদের উদ্ধার করে চিকিৎসা কেন্দ্রে পাঠিয়েছে।ক্ষেপণাস্ত্রের ভয়াবহতা: ইসরায়েলি সংবাদমাধ্যমগুলো পুলিশের তেল আবিব জেলা কমান্ডারের বরাত দিয়ে জানিয়েছে, অন্তত ১০০ কেজি ওজনের একটি শক্তিশালী ওয়ারহেডবাহী ক্ষেপণাস্ত্র সরাসরি ওই জনবহুল এলাকায় আঘাত হেনেছে। ক্ষেপণাস্ত্রের আঘাতে সৃষ্ট গর্ত এবং ধ্বংসস্তূপ হামলার ভয়াবহতা তুলে ধরছে, যা সাম্প্রতিক সময়ে ইসরায়েলের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে।অন-গ্রাউন্ড ফুটেজ ও পরিস্থিতি: আল জাজিরার সরাসরি সম্প্রচারিত ফুটেজে তেল আবিবের একটি অংশে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির দৃশ্য দেখা গেছে। ধ্বংসাবশেষে পূর্ণ একটি জনাকীর্ণ রাস্তায় উদ্ধারকর্মী ও পুলিশ সদস্যদের তৎপরতা লক্ষ্য করা গেছে। ক্ষেপণাস্ত্রের তীব্রতায় রাস্তায় থাকা বেশ কয়েকটি গাড়ি দুমড়ে-মুচড়ে গেছে এবং একটি গাড়ি উল্টে পাশে পড়ে থাকতে দেখা যায়।আঞ্চলিক উত্তেজনা: ইরানের পক্ষ থেকে আইআরজিসি স্পষ্ট জানিয়েছে, এই হামলা তাদের চলমান অভিযানেরই অংশ। স্থানীয় সময় মঙ্গলবার সকাল থেকেই ইসরায়েলের বিভিন্ন শহরে সাইরেন বাজতে শোনা যায় এবং বাসিন্দাদের নিরাপদ আশ্রয়ে যাওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়। দুই পক্ষের এই পাল্টাপাল্টি হামলায় মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ পরিস্থিতি আরও দীর্ঘস্থায়ী ও ভয়াবহ হওয়ার শঙ্কা তৈরি হয়েছে।/টিএ

মার্চ ২৪, ২০২৬

৪০০ ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র হামলা ইরানের, সর্বোচ্চ সতর্কতা জারি করলো ইসরায়েল

ইরানকে পারমাণবিক শক্তিধর হতে না দিতে শুরুতেই তাদের ওপর পরিকল্পিতভাবে যৌথ হামলা চালায় যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইল। তাতে ইরানের ক্ষয়ক্ষতি বাড়লেও দিন দিন দেশটির অনমনীয় এবং প্রতিশোধের ধরন দেখে রীতিমত চমকে উঠছে শত্রুদেশগুলো। এমনকি ট্রাম্পকে সাহায্য করায় ব্রিটিশ ঘাটিতেও শক্তিশালী ক্ষেপণাস্ত্র হামলার পর থেকে ইরানের সক্ষমতার প্রতি নতুন করে ভয় ধরেছে পশ্চিমা বিশ্বেরও।এছাড়াও ট্রাম্প ইরানের পরমাণু কেন্দ্রে ইসরাইল হামলা করবে না বলার পরও যখন দখলদার দেশটি নাতাঞ্জ পরমাণু কেন্দ্রে হামলা করে বসে তখন আর যেন ছাড় দিতে নারাজ ইরান। এরপর সেটার প্রতিশোধ যে ইরান কতটা ভয়াবহ ভাবে নেবে তা বোধহয় আচও করতে পারেনি নেতানিয়াহুর ইসরাইলি বাহিনী। ইসরায়েলের দিমোনা পারমাণবিক রিসার্চ সেন্টারে ক্ষেপনাস্ত্র ছুড়ে সেই অঞ্চল তছনছ করে দিয়েছে ইরানের বিপ্লবী গার্ড বাহিনী। এমনকি তাতে ইসরায়েলের দক্ষিণাঞ্চলীয় শহর দিমোনা ও আরাদে দুই শতাধিক মানুষ আহত নিহত হয়েছে।আর সেই রেশ কাটতে না কাটতেই ইসরাইলে এবার রেকর্ড সংখ্যক মিসাইল ছুড়ে হামলা চালিয়েছে ইরান। আর তাতে গোটা দেশই কার্যত ধ্বংসস্তুপে পরিনত হয়েছে। আহতদের অনেকের অবস্থা আশঙ্কাজনক। ভয়াবহ এই হামলার পর আক্রান্ত এলাকায় জরুরি অবস্থা জারি করা হয়েছে। ইসরায়েলি ডিফেন্স ফোর্সেস আইডিএফ-এর এক বিবৃতিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে। তারা জানিয়েছে যে ইরান তাদের ওপর ৪০০র বেশি ব্যালিস্টিক মিসাইল ছুড়েছে। আর তাতে তছনছ হয়ে গেছে তাদের গুরুত্বপূর্ণ স্থাপণাসহ ইহুদিদের বাড়িঘরও।তাদের বিবৃতিতে আরও বলা হয়, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি সংঘাত শুরুর পর থেকে ইসরায়েলের বিভিন্ন অঞ্চলে ৪০০টির বেশি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ছুড়েছে তেহরান। হামলার পরিপ্রেক্ষিতে দেশজুড়ে সর্বোচ্চ সতর্কতা জারি করা হয়েছে এবং জনগণকে নিরাপদ আশ্রয়ে থাকার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। যদিও আইডিএফ দাবি করেছে যে সেগুলোর ৯২ শতাংশই ধ্বংস করেছে তারা। তবে ইসরাইলের ক্ষয়ক্ষতির চিত্র দেখে রীতিমত মাথায় হাত নেতানিয়াহুর প্রশাসনের। এমনকি ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র হামলার স্থান পরিদর্শন করতে এসে ইরানেরন এমন হামলাকে যুদ্ধাপরাধ বলে দাবি করেছে দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রী।

মার্চ ২৩, ২০২৬

হরমুজ প্রণালী নিয়ে ট্রাম্পের আল্টিমেটাম এর পর হু হু করে বাড়ছে তেলের দাম!

মধ্যপ্রাচ্যের তপ্ত মরুভূমিতে এখন কেবল বারুদের গন্ধ নয়, যুদ্ধের আগুনে পুড়ছে বিশ্ব জ্বালানি বাজারও। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের একটি ঘোষণা পুরো বিশ্বের অর্থনীতির ভিত নাড়িয়ে দিয়েছে। ইরানকে হরমুজ প্রণালি খুলে দিতে মাত্র ৪৮ ঘণ্টার সময়সীমা বেঁধে দিয়েছেন তিনি; অন্যথায় ইরানের জ্বালানি অবকাঠামোয় সরাসরি হামলার হুঁশিয়ারি এসেছে হোয়াইট হাউস থেকে। একদিকে ট্রাম্পের এই চরমপত্র, আর অন্যদিকে ইসরায়েলের সামরিক অভিযান আরও কয়েক সপ্তাহ চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা—এই দুই ঘটনার সংঘাতময় আবহে বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের দাম এখন আকাশচুম্বী। তবে কী এই যুদ্ধের দামামা কি শেষ পর্যন্ত আমাদের সাধারণ মানুষের পকেট খালি করার মূল কারণ হয়ে দাঁড়াবে?এই উত্তেজনার সরাসরি প্রভাব পড়েছে তেলের বাজারে। গত রোববার বাজার খোলার সাথে সাথেই মার্কিন অপরিশোধিত তেল ‘ডব্লিউটিআই’-এর দাম ১.৮ শতাংশ বেড়ে ব্যারেলপ্রতি ১০০ ডলারের মনস্তাত্ত্বিক সীমা অতিক্রম করেছে। অথচ গত ২৭ ফেব্রুয়ারি হামলার আগে এই দাম ছিল মাত্র ৬৭.০২ ডলার। একইভাবে ব্রেন্ট ক্রুড তেলের দামও লাফিয়ে ১১৪ ডলারের কাছাকাছি পৌঁছেছে। পরাশক্তিদের এই সামরিক জেদ কি তবে বিশ্ববাসীকে এক দীর্ঘমেয়াদী অর্থনৈতিক সংকটের দিকে ঠেলে দিচ্ছে?বিশ্লেষকরা বলছেন, হরমুজ প্রণালি যদি সত্যিই বন্ধ থাকে, তবে তেলের সরবরাহ ব্যবস্থা ভেঙে পড়বে। বিশ্ববাজারের এই অস্থিরতার ঢেউ এসে আছড়ে পড়েছে দেশের বাজারেও। সরবরাহ ব্যবস্থার সংকট আর যুদ্ধের কারণে অনিশ্চয়তা তেলের বাজারকে অস্থির করে তুলেছে। আন্তর্জাতিক বাজারে দামের এই উর্ধ্বগতি রুখে দেওয়া এখন প্রায় অসম্ভব হয়ে দাঁড়িয়েছে। আমদানিকারক দেশ হিসেবে আমাদের মতো দেশগুলো পড়েছে চরম বিপাকে। তেলের দাম বাড়লে কি শুধু পরিবহন খরচই বাড়ে?একদমই না,পাল্লা দিয়ে বাড়তে থাকে নিত্যপণ্যের দামও।অর্থনীতির এই দুষ্টচক্র থেকে মুক্তির পথ খোঁজা এখন সময়ের দাবি।সরকার বাজার নিয়ন্ত্রণে নানা পদক্ষেপের কথা বললেও বৈশ্বিক এই ঝড় সামলানো কতটা সম্ভব হবে, তা নিয়ে সংশয় কাটছে না। তেলের এই বাড়তি দাম শেষ পর্যন্ত সাধারণ মানুষের ক্রয়ক্ষমতার কতটা ভেতরে থাকবে, তা বলে দেবে সামনের দিনগুলো। 

মার্চ ২৩, ২০২৬

ইসরায়েল-যুক্তরাষ্ট্র-ব্রিটেনে শক্তিশালী মিসাইল আর ড্রোন হামলা করে ঈদের শুভেচ্ছা জানালো ইরান!

সারা বিশ্বের মুসলিমদের ইদুল ফিতরের শুভেচ্ছা জানিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও ইসরাইল। আর তাতে শুরু হয়েছে সমালোচনার ঝড়। কারণ ইরানে হামলা অব্যাহত রেখে গোটা বিশ্বকে শুভেচ্ছা জানানোটা তামাশা বলেই মনে করছেন নেটিজেনরা। আর এমন তামাশার জবাবে মোটেই চুপ করে বসে নেই সাহসী মুসলিমদেশ ইরান।  আয়াতুল্লা আলি খামেনিসহ গুরুত্বপূর্ণ নেতাদের হত্যা করায় ট্রাম্প ইসরাইল ও তাদের বন্ধুদের ওপর চরম ক্ষেপেছে তারা। আর তাই প্রতিশোধ নিতে লাগাতার হামলা চালিয়ে তাদের নাস্তানাবুদ করেই চলেছে দেশটি। এমনকি সারাবিশ্বের মুসলিমদের ইদের শুভেচ্ছা জানিয়ে সেই ইদের মধ্যরাত থেকে ইসরাইলের হামলার দাতভাঙা জবাব দিতে এবার মাঠে নেমেছে ইরানি বাহিনী।ইরানে শনিবার একই সঙ্গে পালিত হচ্ছে পবিত্র ঈদুল ফিতর ও নওরোজ বা ফারসি নববর্ষ। তবে এই দ্বৈত উৎসবের শুরুতেই ইসরাইল ও যুক্তরাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনাগুলোতে ব্যাপক ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালিয়ে সেগুলো গুড়িয়ে দিয়েছে বলে জানিয়েছে ইরানের ইসলামি বিপ্লবী গার্ড বাহিনী আইআরজিসি। আর হামলার পর বিশেষ করে ইসরাইলের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ শহর যেন কার্যত ধ্বংসস্তুপে পরিণত হয়েছে। এমনকি ভারত মহাসাগরের কাছে মার্কিন ও ব্রিটিশ ঘাটিতেও হামলা চালিয়েছে ইরান।আইআরজিসি জানিয়েছে, অপারেশন ট্রু প্রমিস ৪-এর ৭০তম ধাপে এ অঞ্চলজুড়ে মার্কিন ও ইসরাইলের দখলে থাকা ৫৫টিরও বেশি স্থানকে লক্ষ্যবস্তু করে হামলা হয়েছে। আর সেই অভিযানে সৌদি আরবের আল-খারজ, সংযুক্ত আরব আমিরাতের আল-ধাফরা, কুয়েতের আলী আল-সালেম, ইরাকি কুর্দিস্তানের ইরবিল এবং বাহরাইনে অবস্থিত মার্কিন পঞ্চম নৌবহরের সদর দপ্তরে হামলা চালানো হয়েছে। এছাড়াও তেল আবিব, পবিত্র অধিকৃত শহর আল-কুদস, হাইফা, প্রযুক্তিগত হাব হিসেবে পরিচিত বিয়ার শেভা ও নেগেভ মরুভূমিতেও ব্যাপক মিসাইল ও ড্রোন হামলা চালিয়েছে ইরান।আর হামলা করার পর সেই এলাকাগুলোতে প্রচণ্ড বিস্ফোরণ হয়ে দাউ দাউ করে আগুন জ্বলছে বলে জানিয়েছে তারা।এছাড়াও বিবৃতিতে আইআরজিসি আরও জানিয়েছে, 'কিয়াম' ও 'এমাদ' ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবস্থার পাশাপাশি ড্রোন ব্যবহার করে এই হামলা চালানো হয়েছে। প্রতিশোধের এই পর্যায়ে তারা খোররামশাহ-৪' এবং বহুমুখী ওয়ারহেড সমৃদ্ধ 'কদর' ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছিল যাতে করে শত্রুদের ধারণার চেয়েও বেশি ক্ষয়ক্ষতি সেখানে হয়েছে বলে দাবি করেছে তারা। এমনকি পবিত্র ঈদুল ফিতর উপলক্ষে এই হামলার সময়টি মুসলিমদের জন্য একটি নতুন আঞ্চলিক ব্যবস্থার ভিন্ন এক ভোরের প্রতিফলন ঘটিয়েছে বলে জানিয়েছে বিপ্লবী গার্ড বাহিনী। 

মার্চ ২১, ২০২৬

বাংলাদেশ ও ইরানে একই দিনে ঈদ উৎসব, যা বলছেন নতুন খামেনি

রমজান মাসের শেষ দিকে আসলেই সবার মনেই কৌতুহল জাগে যে ইদ কবে? সাধারণত মধ্যপ্রাচ্যের দেশ সৌদি আরবের চাদ দেখার ঘোষণার সঙ্গে মিল রেখেই বাংলাদেশে ইদের দিন নির্ধারিত হয়ে থাকে। আর তাতে সৌদিতে শুক্রবার পালন করা হচ্ছে পবিত্র ইদুল ফিতর। আর  বাংলাদেশে তার পরদিন অর্থাৎ ইদ হবে শনিবার। যদিও বাংলাদেশের চাদপুর জেলা বরাবরই সৌদির সঙ্গে মিল রেখে একই দিনে ইদ পালন করে থাকে।তবে মধ্যপ্রাচ্যের অন্যান্য দেশগুলোর মতো শুক্রবারে নয় বরং বাংলাদেশের সঙ্গে মিল রেখে ৩০ রোজা সম্পন্ন করে শনিবার ইদ পালন করবে বলে জানিয়েছে ইরান। ইদ নিয়ে ইরানের নতুন সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা খামেনির দপ্তর থেকে ঘোষণা করা হয়েছে যে, চাঁদ দেখার পর এটি নিশ্চিত হওয়া গেছে যে শুক্রবার হবে রহমতের মাস রমজানের ৩০তম দিন। দীর্ঘ এক মাস সিয়াম সাধনার পর শনিবার শাওয়াল মাসের চাঁদ অনুযায়ী দেশবাসী খুশির ঈদে মেতে উঠবেন।ইরানের এই ঘোষণার সঙ্গে একাত্মতা প্রকাশ করেছে প্রতিবেশী দেশ ইরাকও। দেশটির শীর্ষ শিয়া ধর্মীয় নেতা আয়াতুল্লাহ আলী আল-সিস্তানিও শনিবার ঈদ উদযাপনের কথা নিশ্চিত করেছেন। ইরান এই বর্তমান সংঘাতকে ‘রমজান যুদ্ধ হিসেবে অভিহিত করেছে, যার মধ্যেই ধর্মীয় এই উৎসবটি পালন করতে যাচ্ছে দেশটির নাগরিকরা।যদিও এবারের ঈদুল ফিতর ইরানের জন্য এক অনন্য তাৎপর্য বহন করছে। কারণ রমজানের শেষ দিনটি কাকতালীয়ভাবে নওরোজ বা ইরানি নববর্ষের সঙ্গে মিলে গেছে। বসন্ত বিষুব বা স্প্রিং ইকুইনক্সের এই সময়ে ইরানিরা ঐতিহ্যগতভাবে নতুন বছর উদযাপন করে থাকেন।একই সঙ্গে ঈদ এবং নববর্ষের এই মিলন মেলা ইরানি জনজীবনে এক মিশ্র অনুভূতির সৃষ্টি করেছে। যদিও প্রতিবার এই উৎসবকে সামনে রেখে সাধারণত দেশটিতে জমজমাট উৎসবের প্রস্তুতি থাকে, তবে এবারের যুদ্ধের কারণে সেই আনন্দে ভাটা পড়বে বলে মনে করছে ইরান। 

মার্চ ২০, ২০২৬

উত্তর কোরিয়ার নতুন রকেট লঞ্চার পরীক্ষা

ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্রের রেশ কাটতে না কাটতেই এবার পারমাণবিক ক্ষমতাসম্পন্ন নতুন মাল্টিপল রকেট লঞ্চার সিস্টেমের সফল পরীক্ষা চালিয়েছে উত্তর কোরিয়া। দক্ষিণ কোরিয়া ও যুক্তরাষ্ট্রের চলমান যৌথ সামরিক মহড়ার মধ্যেই রোববার এই শক্তি প্রদর্শন করল পিয়ংইয়ং। দেশটির রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা কেসিএনএ জানিয়েছে, ১২টি ৬০০ মিলিমিটার ক্যালিবারের এই অতি-নির্ভুল রকেটগুলো সরাসরি নির্ধারিত লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানতে সক্ষম।উত্তর কোরিয়ার সর্বোচ্চ নেতা কিম জং উন সশরীরে এই পরীক্ষা পর্যবেক্ষণ করেন। তিনি দাবি করেছেন, এই রকেটগুলো ৪২০ কিলোমিটার দূরত্বের শত্রুদের মাঝে চরম অস্বস্তি ও ভীতি তৈরি করবে। কিমের মতে, এই পরীক্ষার মূল উদ্দেশ্য হলো শত্রুদের কাছে উত্তর কোরিয়ার কৌশলগত পারমাণবিক অস্ত্রের বিধ্বংসী ক্ষমতা সম্পর্কে একটি কড়া বার্তা পৌঁছে দেওয়া।কেসিএনএ-র প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ছোড়া প্রতিটি রকেট পূর্ব সাগরে ৩৬০ কিলোমিটার দূরের একটি দ্বীপের লক্ষ্যবস্তুতে অত্যন্ত নিখুঁতভাবে আঘাত হেনেছে। রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমে প্রকাশিত ছবিতে কিম জং উনকে তার মেয়ে জু আয়ে এবং সামরিক কর্মকর্তাদের সাথে উৎক্ষেপণ পর্যবেক্ষণ করতে দেখা গেছে। এসব রকেট লঞ্চারকে বর্তমান সময়ের অন্যতম ‘প্রাণঘাতী অস্ত্র’ হিসেবে অভিহিত করেছেন কিম।উত্তর কোরিয়ার এই পদক্ষেপকে জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদের প্রস্তাবের চরম লঙ্ঘন এবং উসকানিমূলক কাজ বলে নিন্দা জানিয়েছে সিউল। দক্ষিণ কোরিয়ার জয়েন্ট চিফস অব স্টাফ পিয়ংইয়ংকে অবিলম্বে এ ধরনের সামরিক তৎপরতা বন্ধের আহ্বান জানিয়েছে। উল্লেখ্য, এই রকেট পরীক্ষার মাত্র একদিন আগেই পিয়ং ইয়ং একযোগে ১০টি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করে এলাকায় তীব্র উত্তেজনা ছড়িয়েছিল।আঞ্চলিক উত্তেজনার মধ্যেই মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প উত্তর কোরিয়ার সাথে উচ্চপর্যায়ের আলোচনা পুনরায় শুরু করার চেষ্টা করছেন। দক্ষিণ কোরিয়ার প্রধানমন্ত্রীর মতে, ট্রাম্প এখনও কিম জং উনের সাথে একটি সফল বৈঠকের ব্যাপারে আশাবাদী। ধারণা করা হচ্ছে, চলতি বছরের শেষের দিকে ট্রাম্পের বেইজিং সফরের সময় কিমের সাথে একটি বিশেষ শীর্ষ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হতে পারে।/টিএ

মার্চ ১৫, ২০২৬
footer small logo

যোগাযোগ :

এটিএন বাংলা, ওয়াসা ভবন, ২য় তলা, ৯৮ কাজী নজরুল ইসলাম এভিনিউ, কাওরান বাজার, ঢাকা-১২১৫, বাংলাদেশ

ফোনঃ +88-02-55011931

সোশ্যাল মিডিয়া

youtube logotwitter logofacebook logo

Design & Developed by:

developed-company-logo