
এটিএন বাংলা, ওয়াসা ভবন, ২য় তলা, ৯৮ কাজী নজরুল ইসলাম এভিনিউ, কাওরান বাজার, ঢাকা-১২১৫, বাংলাদেশ
ফোনঃ +88-02-55011931
এ সম্পর্কিত আরও খবর
সংঘাতপূর্ণ অঞ্চলে যৌন সহিংসতার দায়ে ইসরায়েলকে ‘কালো তালিকাভুক্ত’ করেছে জাতিসংঘ। এ সিদ্ধান্তের প্রতিবাদে জাতিসংঘ মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেসের সঙ্গে সব ধরনের সম্পর্ক ছিন্ন করার ঘোষণা দিয়েছে ইসরায়েল। বৃহস্পতিবার জাতিসংঘে নিযুক্ত ইসরায়েলের রাষ্ট্রদূত ড্যানি ড্যানন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে প্রকাশিত এক ভিডিও বার্তায় বলেন, “এই মহাসচিবের সঙ্গে আমাদের সব সম্পর্ক শেষ।” আল-জাজিরার প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
জাতিসংঘের নিয়ম অনুযায়ী, সংঘাতকালীন যৌন সহিংসতা বিষয়ক বার্ষিক প্রতিবেদন প্রকাশের আগে সংশ্লিষ্ট দেশগুলোর কাছে তা পাঠানো হয়। এর আগেও ২০২৪ সালের আগস্টে প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে ইসরায়েলকে সম্ভাব্য কালো তালিকাভুক্তির বিষয়ে সতর্ক করা হয়েছিল। ইসরায়েলের রাষ্ট্রদূত ড্যানন এই সিদ্ধান্তকে ‘জঘন্য’ আখ্যা দিয়ে বলেন, জাতিসংঘ মহাসচিব ও তার দল
এদিকে, জাতিসংঘে ইসরায়েলি মিশন জানিয়েছে, আন্তোনিও গুতেরেস জাতিসংঘের মহাসচিব হিসেবে দায়িত্বে থাকা পর্যন্ত তার কার্যালয়ের সঙ্গে কোনো ধরনের যোগাযোগ রাখবে না ইসরায়েল। দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ওরেণ মারমরস্টেইনও জাতিসংঘের এই পদক্ষেপকে ‘রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত ও লজ্জাজনক’ বলে মন্তব্য করেছেন। তবে জাতিসংঘ মহাসচিবের মুখপাত্র স্টিফেন দুজারিক জানিয়েছেন, ইসরায়েলি রাষ্ট্রদূতের বক্তব্য সম্পর্কে তারা অবগত এবং আলোচনার জন্য মহাসচিবের দরজা সবসময় খোলা রয়েছে।
অন্যদিকে, নারী ও শিশুদের ওপর সহিংসতা বিষয়ক জাতিসংঘের বিশেষ দূত রিম আলসালেম এই সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানিয়ে বলেন, “ইসরায়েলকে কালো তালিকাভুক্ত করার সিদ্ধান্ত অনেক আগেই নেওয়া উচিত ছিল।” তিনি অভিযোগ করেন, ফিলিস্তিনি নারী, পুরুষ ও শিশুদের বিরুদ্ধে ইসরায়েলি বাহিনীর পদ্ধতিগত যৌন সহিংসতার ঘটনা স্বাধীনভাবে নথিবদ্ধ ও প্রমাণিত হলেও এতদিন কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। জাতিসংঘের তথ্যানুযায়ী, ইসরায়েলি কারাগার ও আটক কেন্দ্রে ফিলিস্তিনি বন্দীদের ওপর যৌন সহিংসতার নির্ভরযোগ্য প্রমাণ পাওয়া গেছে।
মানবাধিকার সংস্থাগুলোর বিভিন্ন প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২০২৩ সালের গাজা যুদ্ধ শুরুর পর আটক হওয়া বহু ফিলিস্তিনি ইসরায়েলি রক্ষীদের হাতে নির্যাতন ও যৌন নিপীড়নের শিকার হয়েছেন। সম্প্রতি মুক্ত হওয়া আন্তর্জাতিক ত্রাণকর্মীরাও ইসরায়েলি হেফাজতে থাকার সময় যৌন নির্যাতনের অভিযোগ তুলেছেন। একই সময়ে নিউইয়র্ক টাইমসের সাংবাদিক নিকোলাস ক্রিস্টফের অনুসন্ধানী প্রতিবেদনে ১৪ জন ফিলিস্তিনি ভুক্তভোগীর সাক্ষাৎকারে ধর্ষণের অভিযোগ উঠে আসে। যদিও ইসরায়েল সরকার এসব অভিযোগ অস্বীকার করে সংবাদমাধ্যমটির বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার ঘোষণা দিয়েছে। উল্লেখ্য, ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর হামাসের হামলার পর গাজায় ইসরায়েলের সামরিক অভিযানে এখন পর্যন্ত ৭২ হাজারের বেশি ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন।
/টিএ