ইরানের হামলায় কুয়েতে ভূপাতিত মার্কিন যুদ্ধবিমান
02 মার্চ 2026, বিকাল 3:29
মধ্যপ্রাচ্যে সামরিক উত্তেজনার প্রেক্ষাপটে কুয়েতে একটি মার্কিন যুদ্ধবিমান বিধ্বস্ত হওয়ার খবর ঘিরে শুরু হয়েছে তীব্র জল্পনা। দুর্ঘটনাটি শুধু একটি সামরিক ঘটনা নয়, বরং বিমানটির ধরন নিয়েই তৈরি হয়েছে ধোঁয়াশা। প্রাথমিকভাবে এটিকে যুক্তরাষ্ট্রের তৈরি এফ-১৫ বলে ধারণা করা হলেও, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া কিছু ভিডিও দেখে অনেকে বলছেন—এটি হয়তো এফ-১৬।লন্ডনভিত্তিক সংবাদমাধ্যম মিডল ইস্ট আই ও ইউকে ডিফেন্স জার্নাল সূত্রের বরাত দিয়ে জানিয়েছে, কুয়েতে একটি সামরিক বিমান বিধ্বস্ত হয়েছে। তবে এখনো পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্র বা কুয়েত কর্তৃপক্ষ আনুষ্ঠানিকভাবে দুর্ঘটনার বিষয়টি নিশ্চিত করেনি। ফলে ঘটনাটি নিয়ে অনিশ্চয়তা ও কৌতূহল দুটোই বাড়ছে।স্থানীয় সূত্রের বরাতে আল জাজিরা জানিয়েছে, বিমানের দুই পাইলটই নিরাপদে ইজেক্ট করতে সক্ষম হয়েছেন। যদিও তাদের জাতীয়তা—আমেরিকান না ইসরায়েলি—তা স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি। এর মধ্যেই আলোচনায় উঠে এসেছে মার্কিন বিমানবাহিনীর বহুল ব্যবহৃত দুটি যুদ্ধবিমান—এফ-১৬ ফাইটিং ফ্যালকন ও এফ-১৫ ঈগল।একক ইঞ্জিনবিশিষ্ট এফ-১৬ ফাইটিং ফ্যালকন আকাশযুদ্ধ ও স্থল হামলা—উভয় ক্ষেত্রেই সমান কার্যকর। এর ফ্লাই-বাই-ওয়্যার কন্ট্রোল সিস্টেম ও বাবল ক্যানোপি পাইলটকে উন্নত নিয়ন্ত্রণ ও বিস্তৃত দৃশ্যমানতা দেয়। ঘণ্টায় প্রায় ২,৪১৪ কিলোমিটার গতিবেগসম্পন্ন এই বহুমুখী জেট বর্তমানে বিশ্বের অন্যতম জনপ্রিয় ফাইটার বিমান।অন্যদিকে, দুই ইঞ্জিনবিশিষ্ট এফ-১৫ ঈগল মূলত আকাশে আধিপত্য প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে তৈরি। এটি অধিক উচ্চতায় উঠতে পারে এবং এফ-১৬-এর তুলনায় প্রায় দ্বিগুণ অস্ত্র বহনে সক্ষম। ঘণ্টায় প্রায় ২,৬৫৫ কিলোমিটার গতিবেগসম্পন্ন এ জেট আকাশযুদ্ধে সাফল্যের জন্য বিশেষভাবে পরিচিত। দামের ক্ষেত্রেও পার্থক্য স্পষ্ট—এফ-১৬-এর আধুনিক ‘ব্লক ৭০/৭২’ সংস্করণের ইউনিটপ্রতি মূল্য প্রায় ৬৩-৭০ মিলিয়ন ডলার, যেখানে এফ-১৫-এর ‘এফ-১৫ইএক্স ঈগল ২’ সংস্করণের দাম ৯৪-৯৭ মিলিয়ন ডলার পর্যন্ত হতে পারে। বিশেষজ্ঞদের মতে, রাডার প্রযুক্তি, ইঞ্জিন শক্তি, অস্ত্র বহনের সক্ষমতা ও কৌশলগত উদ্দেশ্যের ভিন্নতার কারণেই এই দুই মডেলের বৈশিষ্ট্য ও মূল্যে বড় ব্যবধান দেখা যায়।