
এটিএন বাংলা, ওয়াসা ভবন, ২য় তলা, ৯৮ কাজী নজরুল ইসলাম এভিনিউ, কাওরান বাজার, ঢাকা-১২১৫, বাংলাদেশ
ফোনঃ +88-02-55011931
এ সম্পর্কিত আরও খবর
চলমান যুদ্ধবিরতি চুক্তি তোয়াক্কা না করে গাজা উপত্যকার বিভিন্ন স্থানে আবারও ইসরায়েলি বিমান ও ড্রোন হামলায় অন্তত চার ফিলিস্তিনি নিহত এবং একাধিক ব্যক্তি আহত হয়েছেন। বুধবার গাজার মধ্যাঞ্চল এবং খান ইউনিসসহ একাধিক ব্যস্ত এলাকায় বেসামরিক নাগরিকদের লক্ষ্য করে এসব হামলা চালানো হয়। গাজার চিকিৎসাসূত্র নিশ্চিত করেছে যে, হামলার মাত্রা অত্যন্ত তীব্র থাকায় আহতদের অনেকের অবস্থাই আশঙ্কাজনক।
তুর্কি বার্তা সংস্থা আনাদোলুর এক প্রতিবেদনে জানানো হয়, মধ্য গাজার দেইর আল-বালাহর আল-বাসা এলাকায় বেসামরিক ফিলিস্তিনিদের একটি সমাবেশে আচমকা হামলা চালায় ইসরায়েলি ড্রোন। এতে ঘটনাস্থলেই এক ফিলিস্তিনি প্রাণ হারান এবং বেশ কয়েকজন আহত হন। প্রায় একই সময়ে গাজা শহরের আল-ওয়াফা হাসপাতালের কাছে বাস্তুচ্যুত ফিলিস্তিনিদের একটি
এর পাশাপাশি খান ইউনিস শহরের পশ্চিমে আল-মাওয়াসি এলাকার একটি ব্যস্ত চৌরাস্তায় বেসামরিক গাড়ি লক্ষ্য করে ইসরায়েল অন্তত একটি ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করে। ওই হামলায় এক ফিলিস্তিনি ঘটনাস্থলেই মারা যান এবং পরে গুরুতর আহত আরও এক ব্যক্তি হাসপাতালে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। এদিকে নাসের হাসপাতালের সূত্র জানায়, এর আগের দিন মঙ্গলবার খান ইউনিসের আল-সাতার আল-গারবি এলাকায় ইসরায়েলি বাহিনীর গুলিতে গুরুতর আহত ২৪ বছর বয়সী তরুণ ইয়াহিয়া আবু সামুরও বুধবার সকালে মারা গেছেন।
গাজার অন্যান্য স্থানগুলোতেও ইসরায়েলি সামরিক বাহিনী তাদের তাণ্ডব অব্যাহত রেখেছে। খান ইউনিসের পূর্বাঞ্চলীয় সীমান্ত এলাকায় সামরিক যান থেকে তীব্র গোলাগুলি ছুড়ে ফিলিস্তিনিদের বসতবাড়ি ও একের পর এক ভবন গুঁড়িয়ে দেওয়া হচ্ছে। এছাড়া উত্তর গাজা উপত্যকা ও গাজা শহরের পূর্বদিকের এলাকাগুলোতে ইসরায়েলি বাহিনীর ভারি কামানের গোলা বর্ষণের খবর পাওয়া গেছে, যা ওই অঞ্চলের সার্বিক পরিস্থিতিকে আরও ভয়াবহ করে তুলেছে।
উল্লেখ্য, গত বছর থেকে কার্যকর হওয়া যুদ্ধবিরতি চুক্তি ইসরায়েল নিয়মিতভাবে লঙ্ঘন করে আসছে। গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের হিসাব অনুযায়ী, সাম্প্রতিক সময়ে যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘনের ঘটনাগুলোতে অন্তত ১,৪০২ জন ফিলিস্তিনি নিহত এবং ৪,৮৮১ জন আহত হয়েছেন। ২০২৩ সালের অক্টোবর থেকে শুরু হওয়া এই ভয়াবহ হামলায় গাজায় এ পর্যন্ত প্রায় ৭৪ হাজার ফিলিস্তিনি প্রাণ হারিয়েছেন এবং উপত্যকাটির প্রায় ৯০ শতাংশ অবকাঠামো ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়েছে।
/টি