
এটিএন বাংলা, ওয়াসা ভবন, ২য় তলা, ৯৮ কাজী নজরুল ইসলাম এভিনিউ, কাওরান বাজার, ঢাকা-১২১৫, বাংলাদেশ
ফোনঃ +88-02-55011931
এ সম্পর্কিত আরও খবর
হাঁটা, সিঁড়ি ভাঙা, বসা কিংবা দাঁড়ানো—প্রায় প্রতিটি দৈনন্দিন কাজেই হাঁটুর ওপর চাপ পড়ে। বয়স বা আঘাতের পাশাপাশি দীর্ঘ সময় বসে থাকা, শারীরিক নিষ্ক্রিয়তা, ভুলভাবে ব্যায়াম করা কিংবা অনুপযুক্ত জুতা ব্যবহারের মতো অভ্যাসও হাঁটুর ওপর অতিরিক্ত চাপ তৈরি করতে পারে। তাই হাঁটুর সুস্থতা ধরে রাখতে প্রতিদিনের কিছু অভ্যাসের দিকে নজর দেওয়া জরুরি।
একটানা দীর্ঘ সময় বসে থাকলে হাঁটুকে সহায়তা করা উরু ও নিতম্বের পেশি দুর্বল হয়ে যেতে পারে। এতে হাঁটার সময় হাঁটুর ওপর চাপ বাড়তে পারে এবং দীর্ঘ সময় হাঁটু ভাঁজ করে বসে থাকার পর উঠে দাঁড়ালে শক্তভাব বা আড়ষ্টতা দেখা দিতে পারে। একইভাবে শারীরিক সক্ষমতার তুলনায় অতিরিক্ত সিঁড়ি ওঠানামা করলেও হাঁটুর
ওয়ার্ম-আপ ছাড়াই দৌড়ানো, লাফানো, স্কোয়াট বা লাঞ্জের মতো ব্যায়াম শুরু করলেও পেশি ও জয়েন্টে অতিরিক্ত চাপ পড়তে পারে। ব্যায়ামের আগে কয়েক মিনিট হালকা নড়াচড়া করে শরীর প্রস্তুত করা এবং ধীরে ধীরে ব্যায়ামের তীব্রতা বাড়ানো ভালো। একই সঙ্গে ব্যায়ামের সময় হাঁটুর ব্যথাকে উপেক্ষা করা উচিত নয়। ব্যথা বারবার হলে, দীর্ঘস্থায়ী হলে বা বাড়তে থাকলে ব্যায়ামের ধরন ও তীব্রতা কমিয়ে বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নেওয়া প্রয়োজন।
হাঁটুর ওপর চাপ কমানোর ক্ষেত্রে উপযুক্ত জুতাও গুরুত্বপূর্ণ। ভুল মাপের বা পর্যাপ্ত সাপোর্ট না দেওয়া জুতা দীর্ঘ সময় হাঁটা কিংবা ব্যায়ামের সময় অস্বস্তি বাড়াতে পারে। অন্যদিকে একেবারেই শারীরিক পরিশ্রম না করাও হাঁটুর জন্য ভালো নয়। নিয়মিত হাঁটা, সাইকেল চালানো বা সাঁতারের মতো কম চাপযুক্ত ব্যায়াম শরীর সচল রাখতে এবং হাঁটুকে সহায়তা করা পেশি শক্তিশালী রাখতে সাহায্য করতে পারে।
এ ছাড়া অতিরিক্ত ওজন থাকলে দৈনন্দিন চলাফেরার সময় হাঁটুর ওপর চাপ বাড়তে পারে, যা দীর্ঘমেয়াদে হাঁটুর অস্বস্তি ও অস্টিওআর্থারাইটিসের সঙ্গে সম্পর্কিত হতে পারে। স্কোয়াট, লাঞ্জ বা ভারোত্তোলনের সময় ভুল কৌশল অনুসরণ করলেও হাঁটুর ওপর অপ্রয়োজনীয় চাপ তৈরি হতে পারে। তাই ব্যায়ামের সঠিক কৌশল শেখা, প্রয়োজন অনুযায়ী ওজন ও তীব্রতা নির্ধারণ এবং হাঁটুর ব্যথা অবহেলা না করাই গুরুত্বপূর্ণ।
/টি