
এটিএন বাংলা, ওয়াসা ভবন, ২য় তলা, ৯৮ কাজী নজরুল ইসলাম এভিনিউ, কাওরান বাজার, ঢাকা-১২১৫, বাংলাদেশ
ফোনঃ +88-02-55011931
এ সম্পর্কিত আরও খবর
যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ঘোষিত ‘বোর্ড অব পিস’ বা শান্তি পর্ষদে যোগ দেওয়ার আমন্ত্রণ পেয়েছেন রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন। এই পর্ষদের মূল লক্ষ্য হিসেবে বিশ্বব্যাপী চলমান সংঘাত নিরসন, পাশাপাশি ফিলিস্তিনের গাজায় শাসনব্যবস্থা তদারকি ও পুনর্গঠন কার্যক্রমে ভূমিকা রাখার কথা বলা হচ্ছে। গতকাল সোমবার পুতিনকে আমন্ত্রণ জানানোর বিষয়টি প্রকাশ্যে আসে, যা আন্তর্জাতিক অঙ্গনে নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছে।
প্রায় চার বছর ধরে চলমান রাশিয়া–ইউক্রেন যুদ্ধ এখনো অনিশ্চিত অবস্থায় রয়েছে। এই প্রেক্ষাপটে পুতিনকে শান্তি পর্ষদে আমন্ত্রণ জানানোকে তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে। এর আগে ট্রাম্প দাবি করেছিলেন, দ্বিতীয় দফায় ক্ষমতায় বসার ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই তিনি ইউক্রেন যুদ্ধ বন্ধ করবেন। তবে যুদ্ধ এখনো চলছে
ক্রেমলিনের মুখপাত্র দিমিত্রি পেসকভ সোমবার সাংবাদিকদের জানান, প্রেসিডেন্ট পুতিনও এই ‘বোর্ড অব পিস’-এ যোগ দেওয়ার আমন্ত্রণ পেয়েছেন। তিনি বলেন, ওয়াশিংটনের প্রস্তাবের সব দিক ও সূক্ষ্ম বিষয়গুলো রাশিয়া গভীরভাবে পর্যালোচনা করছে। তবে পুতিন আদৌ এই পর্ষদে যোগ দিতে আগ্রহী কি না, সে বিষয়ে কোনো মন্তব্য করেননি পেসকভ।
মধ্যপ্রাচ্যের রাজনীতিতেও রাশিয়ার অবস্থান সাম্প্রতিক সময়ে বদলাতে দেখা গেছে। ফিলিস্তিন, ইসরায়েলসহ অঞ্চলটির গুরুত্বপূর্ণ পক্ষগুলোর সঙ্গে ভারসাম্যপূর্ণ সম্পর্ক বজায় রাখার চেষ্টা করলেও ২০২৩ সালের অক্টোবরে গাজায় ইসরায়েলের যুদ্ধ শুরুর পর পুতিন ধীরে ধীরে ইসরায়েল থেকে কিছুটা দূরে সরে যান। একই সঙ্গে ইরানের মতো দেশগুলোর সঙ্গে সম্পর্ক জোরদার করেছে মস্কো। পশ্চিমা দেশগুলোর সঙ্গে বাড়তে থাকা বিচ্ছিন্নতার প্রেক্ষাপটে উপসাগরীয় আরব দেশগুলোর সঙ্গেও ঘনিষ্ঠতা বাড়ানোর চেষ্টা করছে রাশিয়া।
এই শান্তি পর্ষদে যোগ দেওয়ার আমন্ত্রণ পেয়েছেন আরও বেশ কয়েকজন বিশ্বনেতা। পুতিনের ঘনিষ্ঠ মিত্র বেলারুশের প্রেসিডেন্ট আলেকজান্ডার লুকাশেঙ্কো, তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়েপ এরদোয়ান, মিসরের প্রেসিডেন্ট আবদেল ফাত্তাহ আল-সিসি ও পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফের নামও তালিকায় রয়েছে। ভারত, অস্ট্রেলিয়া, কানাডা, গ্রিসসহ একাধিক দেশ আমন্ত্রণ পাওয়ার কথা জানিয়েছে। হাঙ্গেরির প্রধানমন্ত্রী ভিক্টর অরবান ও ভিয়েতনামের কমিউনিস্ট পার্টির জেনারেল সেক্রেটারি তো লাম আমন্ত্রণ গ্রহণ করেছেন বলে জানা গেছে। এক মার্কিন কর্মকর্তার দাবি অনুযায়ী, এই পর্ষদে স্থায়ী সদস্যপদ পেতে ১০০ কোটি ডলার অনুদানের বিধান রয়েছে। আগামী কয়েক দিনের মধ্যে, সম্ভবত দাভোসে ওয়ার্ল্ড ইকোনমিক ফোরামের সময়, শান্তি পর্ষদের চূড়ান্ত সদস্য তালিকা ঘোষণা করা হতে পারে।
/টিএ