
এটিএন বাংলা, ওয়াসা ভবন, ২য় তলা, ৯৮ কাজী নজরুল ইসলাম এভিনিউ, কাওরান বাজার, ঢাকা-১২১৫, বাংলাদেশ
ফোনঃ +88-02-55011931
এ সম্পর্কিত আরও খবর
বাঙালির প্রতিদিনের খাবারে ভাতের উপস্থিতি প্রায় অবিচ্ছেদ্য। তাই ওজন কমানো কিংবা রক্তে শর্করা নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করলে ভাত পুরোপুরি বাদ দিতে হবে কি না, তা নিয়ে অনেকেরই প্রশ্ন থাকে। বিশেষজ্ঞদের মতে, শুধু ভাত খাওয়াই ওজন বৃদ্ধি বা রক্তে শর্করা বাড়ার একমাত্র কারণ নয়। বরং ভাতের পরিমাণ, সঙ্গে থাকা খাবার, মোট ক্যালোরি গ্রহণ এবং দিনের কোন সময়ে খাওয়া হচ্ছে—সবকিছুর ওপর বিষয়টি নির্ভর করে।
সাম্প্রতিক গবেষণায় দেখা গেছে, দিনের বিভিন্ন সময়ে শরীর খাবার ও গ্লুকোজ একইভাবে প্রক্রিয়া করে না। দিনের শুরু থেকে দুপুরের দিকে সাধারণত ইনসুলিন সংবেদনশীলতা তুলনামূলক ভালো থাকে। ফলে ভাতের মতো কার্বোহাইড্রেটসমৃদ্ধ খাবার দিনের বেলায়, বিশেষ করে দুপুরে, পরিমিত পরিমাণে খেলে রক্তে
রাতে ভাত খাওয়াকে সরাসরি ক্ষতিকর বলা যায় না। ওজন বাড়া বা কমার ক্ষেত্রে মোট ক্যালোরি গ্রহণ, খাবারের পরিমাণ এবং খাদ্যতালিকার ভারসাম্য সাধারণত বেশি গুরুত্বপূর্ণ। তবে রাতে খুব দেরিতে বা ঘুমানোর ঠিক আগে বেশি পরিমাণে ভাত খাওয়ার অভ্যাস এড়িয়ে চলা ভালো। বিশেষ করে ডায়াবেটিস বা ইনসুলিন প্রতিরোধের সমস্যা থাকলে খাবারের সময় ও পরিমাণ সম্পর্কে বাড়তি সতর্কতা প্রয়োজন।
ভাত খেলে রক্তে শর্করা দ্রুত বাড়তে পারে, কারণ সাদা ভাতে সহজে হজমযোগ্য কার্বোহাইড্রেট থাকে। তবে এই প্রভাব ভাতের ধরন, পরিমাণ এবং সঙ্গে খাওয়া অন্যান্য খাবারের ওপরও নির্ভর করে। ভাতের সঙ্গে মাছ, ডিম বা মুরগির মতো প্রোটিন, পর্যাপ্ত শাকসবজি ও ডাল রাখলে খাবারটি আরও সুষম হয়। পাশাপাশি সাদা চালের বদলে লাল বা বাদামি চালের মতো কম প্রক্রিয়াজাত শস্য বেছে নেওয়া যেতে পারে, কারণ এতে সাধারণত বেশি খাদ্যআঁশ থাকে। তবে চালের ধরন পরিবর্তনের পাশাপাশি পরিমাণ নিয়ন্ত্রণও জরুরি।
সবশেষে, ওজন কমানো বা রক্তে শর্করা নিয়ন্ত্রণের জন্য ভাত একেবারে বাদ দেওয়ার প্রয়োজন নেই। দিনের তুলনামূলক আগের সময়ে পরিমিত ভাত খাওয়া, সঙ্গে পর্যাপ্ত সবজি ও প্রোটিন রাখা এবং নিয়মিত শারীরিক কর্মকাণ্ড চালিয়ে যাওয়া বেশি গুরুত্বপূর্ণ। রাতে ভাত খেলে পরিমাণ কম রাখা ও ঘুমানোর ঠিক আগে না খাওয়াই ভালো। ডায়াবেটিস থাকলে নিজের শারীরিক অবস্থা, ওষুধ ও রক্তে শর্করার মাত্রা অনুযায়ী খাদ্যতালিকা চিকিৎসক বা পুষ্টিবিদের পরামর্শে নির্ধারণ করা নিরাপদ।
সূত্র: টাইমস অব ইন্ডিয়া
/টি