
এটিএন বাংলা, ওয়াসা ভবন, ২য় তলা, ৯৮ কাজী নজরুল ইসলাম এভিনিউ, কাওরান বাজার, ঢাকা-১২১৫, বাংলাদেশ
ফোনঃ +88-02-55011931
এ সম্পর্কিত আরও খবর
জ্বর হলে ক্ষুধা কমে যাওয়া নিয়ে অনেকের মধ্যেই উদ্বেগ দেখা দেয়। তবে বিশেষজ্ঞদের মতে, অসুস্থ অবস্থায় খাবারের প্রতি আগ্রহ কমে যাওয়া শরীরের স্বাভাবিক প্রতিক্রিয়া। সংক্রমণের বিরুদ্ধে রোগ প্রতিরোধব্যবস্থা সক্রিয় হওয়ার সময় শরীরে বিভিন্ন পরিবর্তন ঘটে, যার প্রভাব মস্তিষ্কের ক্ষুধা নিয়ন্ত্রণকারী অংশেও পড়ে। ফলে জ্বরের সঙ্গে ক্লান্তি ও ক্ষুধামন্দা দেখা দিতে পারে।
শরীরে ভাইরাস, ব্যাকটেরিয়া বা অন্য কোনো জীবাণুর সংক্রমণ হলে রোগ প্রতিরোধব্যবস্থা সাইটোকাইনের মতো রাসায়নিক বার্তাবাহক নিঃসরণ করে। এসব উপাদান সংক্রমণের বিরুদ্ধে লড়াই করার পাশাপাশি শরীরের তাপমাত্রা, ক্ষুধা ও শক্তি নিয়ন্ত্রণেও প্রভাব ফেলে। অনেক গবেষকের মতে, এই সময়ে ক্ষুধা কমে যাওয়া শরীরের একটি অভিযোজনমূলক প্রতিক্রিয়া। তবে এর অর্থ এই নয় যে
জ্বরের সময় ভারী খাবার খেতে ইচ্ছা না করলে জোর করে বেশি খাওয়ার প্রয়োজন নেই। তবে দীর্ঘ সময় না খেয়ে থাকাও ঠিক নয়। অল্প অল্প করে সহজপাচ্য খাবার খাওয়া যেতে পারে। পাতলা খিচুড়ি, স্যুপ, ভাত-ডাল, দই, কলা, নরম ফল, টোস্ট বা বিস্কুটের মতো খাবার কয়েকবারে অল্প পরিমাণে খাওয়া অনেকের জন্য সহজ হতে পারে। এতে শরীর প্রয়োজনীয় কিছু পুষ্টি ও শক্তি পায়।
জ্বরের সময় খাবারের পাশাপাশি পর্যাপ্ত তরল গ্রহণও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। শরীরের তাপমাত্রা বেড়ে যাওয়া ও অতিরিক্ত ঘামের কারণে পানিশূন্যতা দেখা দিতে পারে। তাই পানি, ওরাল স্যালাইন, ডাবের পানি, স্যুপসহ বিভিন্ন তরল গ্রহণ করা প্রয়োজন। বিশেষ করে শিশু ও বয়স্কদের ক্ষেত্রে পানিশূন্যতার ঝুঁকি বেশি হওয়ায় তাদের পর্যাপ্ত তরল দেওয়া হচ্ছে কি না, সেদিকে বাড়তি নজর রাখা জরুরি।
সাধারণত জ্বর কমে গেলে ধীরে ধীরে ক্ষুধাও ফিরে আসে। তবে কয়েক দিন ধরে কিছুই খেতে না পারা, বারবার বমি হওয়া, পর্যাপ্ত পানি পান করতে না পারা বা দ্রুত দুর্বল হয়ে পড়ার মতো উপসর্গ দেখা দিলে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত। শিশু, গর্ভবতী নারী, বয়স্ক ব্যক্তি এবং দীর্ঘমেয়াদি রোগে আক্রান্তদের ক্ষেত্রে এমন পরিস্থিতি অবহেলা না করাই ভালো। তাই জ্বরের সময় ক্ষুধা কমে গেলে আতঙ্কিত না হয়ে শরীরের প্রয়োজন অনুযায়ী পর্যাপ্ত তরল ও সহজপাচ্য খাবার গ্রহণের চেষ্টা করা জরুরি।
সূত্র: টিভি ৯