
এটিএন বাংলা, ওয়াসা ভবন, ২য় তলা, ৯৮ কাজী নজরুল ইসলাম এভিনিউ, কাওরান বাজার, ঢাকা-১২১৫, বাংলাদেশ
ফোনঃ +88-02-55011931
এ সম্পর্কিত আরও খবর
আধুনিক নগরজীবনে জুতো আমাদের নিত্যসঙ্গী হলেও সুস্থতার খোঁজে মানুষ এখন ফিরে যাচ্ছে আদি অভ্যাসে। খালি পায়ে হাঁটা কেবল একটি প্রাচীন জীবনযাপনের পদ্ধতি নয়, বরং এটি বর্তমান সময়ে স্বাস্থ্য সচেতনদের কাছে একটি কার্যকর ব্যায়াম হিসেবে জনপ্রিয় হয়ে উঠছে। শত শত বছর ধরে মানুষ খালি পায়ে চলাফেরা করলেও বর্তমানের গবেষণায় এর বৈজ্ঞানিক ভিত্তি ও প্রয়োজনীয়তা নতুন করে সামনে আসছে।
চিকিৎসাবিজ্ঞানীদের মতে, মানুষের পায়ের তলার সাথে শরীরের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গের সরাসরি স্নায়বিক সংযোগ রয়েছে। ইমিউনোলজি বিশেষজ্ঞরা জানিয়েছেন, খালি পায়ে হাঁটার সময় পায়ের পাতায় যে উদ্দীপনা সৃষ্টি হয়, তা শরীরের অভ্যন্তরীণ রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধিতে সহায়ক হতে পারে। বিশেষ করে অসমতল ভূমি বা প্রাকৃতিক সংস্পর্শে
মানসিক প্রশান্তির ক্ষেত্রেও এই অভ্যাসের জুড়ি নেই। ঘাস, পাথর কিংবা ভেজা মাটির ওপর দিয়ে হাঁটা মানসিক চাপ বা স্ট্রেস দ্রুত কমিয়ে আনতে সাহায্য করে। বিশেষজ্ঞরা বিশেষ করে শিশু এবং বয়স্কদের জন্য নরম ঘাসের ওপর হাঁটার পরামর্শ দেন। শিশুদের ক্ষেত্রে এটি পায়ের পাতার সঠিক গঠন তৈরিতে সাহায্য করে এবং 'ফ্ল্যাট ফুট' হওয়ার ঝুঁকি কমায়। অন্যদিকে, বয়স্কদের শারীরিক ভারসাম্য ও মানসিক সতেজতা রক্ষায় এটি বেশ কার্যকর।
তবে সুফলের পাশাপাশি কিছু সতর্কতার কথাও মনে করিয়ে দিয়েছেন স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা। হেলথলাইনের তথ্যমতে, অস্বাস্থ্যকর বা অপরিচ্ছন্ন স্থানে খালি পায়ে হাঁটলে সংক্রমণের ঝুঁকি থেকে যায়। বিশেষ করে ক্ষতিকর ব্যাকটেরিয়া বা ছত্রাক থেকে বাঁচতে স্থান নির্বাচনের ক্ষেত্রে সতর্ক হতে হবে। এছাড়া ডায়াবেটিস রোগীদের ক্ষেত্রে পায়ের ক্ষতের ঝুঁকি থাকায়, এই অভ্যাস শুরু করার আগে অবশ্যই বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া জরুরি।
শুরুতেই দীর্ঘক্ষণ খালি পায়ে না হেঁটে বরং শরীরকে মানিয়ে নেওয়ার সুযোগ দেওয়া উচিত। চিকিৎসকদের পরামর্শ অনুযায়ী, প্রতিদিন মাত্র ১৫ থেকে ২০ মিনিট দিয়ে এই যাত্রা শুরু করা যেতে পারে। পরবর্তীতে শরীরের সহনশীলতা বাড়লে ধীরে ধীরে এই সময়সীমা বাড়ানো সম্ভব। সঠিক নিয়ম ও পরিচ্ছন্নতা মেনে চললে প্রকৃতির এই সহজ ছোঁয়া আমাদের দীর্ঘমেয়াদী সুস্থতার চাবিকাঠি হতে পারে।