
এটিএন বাংলা, ওয়াসা ভবন, ২য় তলা, ৯৮ কাজী নজরুল ইসলাম এভিনিউ, কাওরান বাজার, ঢাকা-১২১৫, বাংলাদেশ
ফোনঃ +88-02-55011931
এ সম্পর্কিত আরও খবর
সারাদেশে বইছে তীব্র তাপপ্রবাহ, যা শহর থেকে গ্রাম—সর্বত্রই সাধারণ মানুষের স্বাভাবিক জীবনযাত্রাকে বিপাকে ফেলেছে। বিশেষ করে শিশু, বৃদ্ধ এবং ক্রনিক রোগীদের জন্য এই আবহাওয়া চরম স্বাস্থ্যঝুঁকি তৈরি করছে। একটানা দাবদাহের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে বাড়ছে লোডশেডিং, যা পরিস্থিতিকে আরও অসহনীয় করে তুলেছে। চিকিৎসকদের মতে, অতিরিক্ত তাপে শরীর নিজের তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণে ব্যর্থ হলে হিট স্ট্রোকের মতো প্রাণঘাতী সমস্যা দেখা দিতে পারে, তাই এই সময়ে দৈনন্দিন অভ্যাসে পরিবর্তন আনা জরুরি।
ঘরের তাপমাত্রা সহনীয় রাখতে দিনের বেলা রোদ আটকাতে জানালা বন্ধ রাখা এবং ভারী পর্দা বা ব্লাইন্ড ব্যবহার করার পরামর্শ দিচ্ছেন বিশেষজ্ঞরা। সন্ধ্যার পর বাইরের তাপমাত্রা কমলে জানালা খুলে দিয়ে ঘরে বাতাস চলাচলের ব্যবস্থা করা
গরমে স্বস্তি পেতে পোশাক ও ব্যক্তিগত পরিচ্ছন্নতার দিকে নজর দেওয়া অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কৃত্রিম তন্তুর বদলে হালকা রঙের ঢিলেঢালা সুতির কাপড় পরিধান করা উচিত, যা ঘাম শুষে নিতে সাহায্য করে। দিনে অন্তত দুবার স্বাভাবিক তাপমাত্রার পানিতে গোসল করা এবং প্রয়োজনে বারবার ভেজা কাপড় দিয়ে শরীর মোছা উপকারী। তৃষ্ণা না পেলেও দিনে অন্তত ২ থেকে ৩ লিটার পানি পান নিশ্চিত করতে হবে; প্রস্রাবের রং গাঢ় হওয়া শরীরে পানিশূন্যতার প্রাথমিক লক্ষণ হিসেবে গণ্য করা হয়।
তীব্র গরমে খাদ্যাভ্যাসে বড় ধরনের পরিবর্তন আনা প্রয়োজন। এই সময়ে ভাজাপোড়া, অতিরিক্ত মসলাদার এবং প্রক্রিয়াজাত খাবার এড়িয়ে চলা উচিত, কারণ এগুলো হজমে সমস্যা করে শরীরের অভ্যন্তরীণ তাপমাত্রা বাড়িয়ে দেয়। অতিরিক্ত চিনিযুক্ত পানীয় বা ক্যাফেইন শরীরকে দ্রুত পানিশূন্য করে ফেলে, তাই ডাবের পানি বা বাড়িতে তৈরি ফলের শরবত বেশি কার্যকরী। ভারী খাবার বা ফ্যাটযুক্ত দুগ্ধজাত পণ্যের বদলে তরল ও সহজে হজমযোগ্য খাবার গ্রহণ করা এই সময়ে সবচেয়ে নিরাপদ।
সবশেষে, গরমে হঠাৎ মাথা ঘোরা, প্রচণ্ড ক্লান্তি বা বমিভাব দেখা দিলে দেরি না করে চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে হবে। বিশেষ করে উচ্চ রক্তচাপ বা ডায়াবেটিসে আক্রান্তদের এই গরমে বাড়তি সতর্কতা অবলম্বন করা প্রয়োজন। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (WHO) নির্দেশনা অনুযায়ী, দুপুরের তীব্র রোদে বাইরে বের হওয়া থেকে বিরত থাকা এবং যথাযথ সচেতনতাই পারে এই প্রতিকূল আবহাওয়ায় পরিবারকে সুরক্ষিত রাখতে।
তথ্যসূত্র: দ্য টাইমস ম্যাগাজিন ও বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (WHO)