
এটিএন বাংলা, ওয়াসা ভবন, ২য় তলা, ৯৮ কাজী নজরুল ইসলাম এভিনিউ, কাওরান বাজার, ঢাকা-১২১৫, বাংলাদেশ
ফোনঃ +88-02-55011931
এ সম্পর্কিত আরও খবর
বর্ষা মৌসুমে প্রকৃতির সজীবতার পাশাপাশি বর্তমানে বজ্রপাত এক ভয়াবহ আতঙ্ক হিসেবে আবির্ভূত হয়েছে। ভৌগোলিক অবস্থানের কারণে বাংলাদেশ এখন বিশ্বের অন্যতম বজ্রপাতপ্রবণ দেশ, যেখানে প্রতিবছর অসংখ্য মানুষ প্রাণ হারান। সাম্প্রতিক সময়ে দেশের বিভিন্ন জেলায় মাত্র কয়েক দিনে অন্তত ২০ জনের মৃত্যু এই দুর্যোগের ভয়াবহতাকে আবারও স্মরণ করিয়ে দিচ্ছে। বজ্রপাত কেবল প্রাণঘাতীই নয়, এটি শরীরে দীর্ঘস্থায়ী পঙ্গুত্ব, শ্রবণশক্তি হ্রাস এবং হৃদরোগের মতো জটিল স্বাস্থ্যঝুঁকি তৈরি করে।
বজ্রপাতের সময় ঘরের ভেতরে থাকাটাই সবচেয়ে নিরাপদ, তবে সেখানেও কিছু নিয়ম মানা জরুরি। বজ্রঝড় শুরু হলে দ্রুত ঘরের জানালা ও দরজা বন্ধ করে দিতে হবে। এই সময়ে ল্যান্ডফোন বা বৈদ্যুতিক সরঞ্জাম ব্যবহার করা থেকে বিরত থাকা উচিত,
যদি আপনি বজ্রপাতের সময় খোলা আকাশের নিচে থাকেন, তবে কখনোই বড় গাছের নিচে আশ্রয় নেবেন না। উঁচু গাছ বা বিদ্যুতের খুঁটি বজ্রপাতকে আকর্ষণ করে, যা কাছে থাকা ব্যক্তির জন্য মৃত্যুর কারণ হতে পারে। খোলা মাঠে থাকলে নিচু হয়ে বসে পড়ুন, তবে মাটিতে শুয়ে পড়বেন না। রাস্তায় চলাচলের ক্ষেত্রে রাবারের সোলযুক্ত জুতা পরা কিছুটা সুরক্ষা দেয়। গাড়ির ভেতরে থাকলে জানালার কাঁচ বন্ধ করে ভেতরে অবস্থান করাটাই সবচেয়ে বুদ্ধিমানের কাজ।
বজ্রপাতের ঝুঁকি এড়াতে ইলেকট্রনিক গ্যাজেট যেমন—মোবাইল বা কম্পিউটার ব্যবহার থেকে দূরে থাকা শ্রেয়। অনেক সময় ঝড় থেমে যাওয়ার পরও বজ্রপাতের আশঙ্কা থেকে যায়, তাই শেষ বজ্রধ্বনির অন্তত ৩০ মিনিট পর ঘর থেকে বের হওয়া নিরাপদ। এছাড়া শিশুদের এই দুর্যোগ সম্পর্কে সচেতন করা এবং মানসিকভাবে প্রস্তুত রাখা প্রয়োজন যাতে তারা আতঙ্কিত না হয়ে দ্রুত নিরাপদ স্থানে আশ্রয় নিতে পারে।
প্রাকৃতিক এই দুর্যোগকে রুখে দেওয়ার ক্ষমতা মানুষের নেই, তবে সচেতনতা ও সঠিক প্রস্তুতিই পারে প্রাণহানি কমিয়ে আনতে। নিয়মিত আবহাওয়ার পূর্বাভাস অনুসরণ করা এবং বজ্রপাতের সময় ঘরের বাইরে না যাওয়ার অভ্যাস গড়ে তোলাই হবে আত্মরক্ষার মূল কৌশল। মনে রাখবেন, সামান্য অবহেলা কেড়ে নিতে পারে একটি মূল্যবান জীবন, তাই মেঘের গর্জন শুনলেই নিরাপদ আশ্রয়ে থাকাকে অগ্রাধিকার দিন।
/টিএ