
এটিএন বাংলা, ওয়াসা ভবন, ২য় তলা, ৯৮ কাজী নজরুল ইসলাম এভিনিউ, কাওরান বাজার, ঢাকা-১২১৫, বাংলাদেশ
ফোনঃ +88-02-55011931
এ সম্পর্কিত আরও খবর
ইরানের বিরুদ্ধে নতুন করে যৌথ সামরিক হামলা চালাতে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে চাপ দিচ্ছেন ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু। তবে যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগে এ ধরনের হামলার অনুমোদন দেননি ট্রাম্প। মার্কিন সংবাদমাধ্যম সিএনএনের এক প্রতিবেদনে ইসরাইলি ও সংশ্লিষ্ট সূত্রের বরাতে এ তথ্য জানানো হয়েছে। এতে বলা হয়েছে, ইরানে নতুন করে সামরিক অভিযান চালানোর বিষয়ে দুই দেশের মধ্যে আলোচনা চললেও এখনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি।
ইসরাইলের একটি নিরাপত্তা সূত্র সিএনএনকে জানায়, যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগেই ইরানে যৌথ হামলা চালানোর জন্য ট্রাম্পকে রাজি করানোর চেষ্টা করেছিলেন নেতানিয়াহু। তবে ট্রাম্প তাতে সম্মতি দেননি। এর পেছনে ইসরাইলের অভ্যন্তরীণ পরিস্থিতিও একটি কারণ হিসেবে উঠে এসেছে। সূত্রটির দাবি, ইসরাইলি প্রতিরক্ষা বাহিনীর প্রধান এয়াল জামির যুক্তরাষ্ট্রের জয়েন্ট চিফস অব স্টাফের চেয়ারম্যান জেনারেল ড্যান কেইনকে সতর্ক করেছিলেন, এ সময় ইরানে হামলা চালালে ইসরাইলের নির্বাচন ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে এবং তা পিছিয়ে দেওয়ার পরিস্থিতি তৈরি হতে পারে।
সিএনএনের আরেকটি সূত্রের দাবি, গত সপ্তাহেও ইরানে নতুন করে হামলার প্রস্তুতি নিচ্ছিল ইসরাইল। এ জন্য মার্কিন কর্মকর্তাদের সমর্থন আদায়ের চেষ্টাও চলছিল। তবে ট্রাম্পসহ যুক্তরাষ্ট্রের জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তারা ইসরাইলকে আপাতত হামলার পরিকল্পনা স্থগিত রাখতে বলেন। একই সঙ্গে ভবিষ্যতে দুই দেশ যৌথভাবে সামরিক অভিযান চালাতে পারে বলেও ইঙ্গিত দেওয়া হয়। সূত্রগুলোর মতে, ইসরাইল আপাতত হামলা পিছিয়ে দিলেও সম্ভাব্য যৌথ অভিযানের প্রস্তুতি অব্যাহত রেখেছে। এ অভিযান যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনের পর হতে পারে।
এদিকে ইরান ও ইয়েমেনের হুথি বিদ্রোহীদের সম্ভাব্য পাল্টা হামলার আশঙ্কায় ইসরাইলের ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষাব্যবস্থার ওপর চাপ তৈরি হয়েছে। সংশ্লিষ্ট সূত্রের মতে, এমন পরিস্থিতিতে ইসরাইলের জন্য যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক সহায়তা গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। ইরানের বিরুদ্ধে নতুন করে হামলা চালানো হলে তেহরান ও তাদের মিত্রদের পক্ষ থেকে পাল্টা আঘাত আসতে পারে—এমন আশঙ্কাও রয়েছে। ফলে সামরিক প্রস্তুতির পাশাপাশি সম্ভাব্য প্রতিক্রিয়া ও তার আঞ্চলিক প্রভাব নিয়েও হিসাব-নিকাশ করছে সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলো।
নেতানিয়াহু সম্প্রতি এক সামরিক অনুষ্ঠানে বলেছেন, ইরানের শাসনব্যবস্থার পতন ঘটানোই ইসরাইলি প্রতিরক্ষা বাহিনী ও গোয়েন্দা সংস্থাগুলোর প্রতি তাঁর নির্দেশনা। তাঁর এ বক্তব্যে ইরানবিরোধী কঠোর অবস্থানের বিষয়টি আবারও সামনে এসেছে। তবে নতুন করে হামলা চালানোর বিষয়ে ট্রাম্পের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত এখনো জানা যায়নি। যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচন, ইসরাইলের নিরাপত্তা পরিস্থিতি এবং সম্ভাব্য পাল্টা হামলার ঝুঁকি—সব মিলিয়ে ইরানকে ঘিরে পরবর্তী সামরিক পদক্ষেপ নিয়ে অনিশ্চয়তা রয়ে গেছে।
টি/