
এটিএন বাংলা, ওয়াসা ভবন, ২য় তলা, ৯৮ কাজী নজরুল ইসলাম এভিনিউ, কাওরান বাজার, ঢাকা-১২১৫, বাংলাদেশ
ফোনঃ +88-02-55011931
এ সম্পর্কিত আরও খবর
আঞ্চলিক নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনার জন্য ইরানের রাজধানী তেহরানে বৈঠকে বসতে যাচ্ছেন ইরান, সৌদি আরব, তুরস্ক ও পাকিস্তানের শীর্ষ পর্যায়ের নিরাপত্তা ও প্রতিরক্ষা কর্মকর্তারা। সৌদি আরবে ইরান-সমর্থিত ইয়েমেনের হুতি গোষ্ঠীর হামলা বেড়ে যাওয়ার প্রেক্ষাপটে এই বৈঠক অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। বার্তা সংস্থা রয়টার্সের প্রতিবেদন অনুযায়ী, সোমবার (২৬ অক্টোবর) বৈঠকটি অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বরাত দিয়ে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
ইরানের জাতীয় নিরাপত্তা পরিষদের উপসচিব আলী বাঘেরি দেশটির রাষ্ট্রীয় সম্প্রচারমাধ্যম আইআরআইবিকে বৈঠকের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, মক্কা যৌথ প্রতিরক্ষা চুক্তির আওতায় সংশ্লিষ্ট দেশগুলোর শীর্ষ প্রতিরক্ষা কর্মকর্তারা আঞ্চলিক নিরাপত্তা নিয়ে আলোচনার জন্য তেহরান সফর করবেন। সৌদি কূটনীতিক রায়েদ ক্রিমলিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে জানান, প্রতিনিধিরা ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান এবং দেশটির সর্বোচ্চ জাতীয় নিরাপত্তা পরিষদের সচিব মোহসেন রেজায়ির সঙ্গে বৈঠক করবেন।
বাঘেরির দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, বৈঠকে সৌদি আরবের প্রতিরক্ষামন্ত্রী খালিদ বিন সালমান আল সৌদ, পাকিস্তানের সামরিক প্রধান ফিল্ড মার্শাল আসিম মুনির এবং তুরস্কের গোয়েন্দাপ্রধান ইব্রাহিম কালিন অংশ নেবেন। তাঁদের সঙ্গে আলোচনায় থাকবেন ইরানের জাতীয় নিরাপত্তা পরিষদের সচিব মোহসেন রেজায়ি। বৈঠকে অংশগ্রহণকারী কর্মকর্তারা আঞ্চলিক নিরাপত্তা পরিস্থিতি পর্যালোচনার পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট দেশগুলোর মধ্যে সহযোগিতা বাড়ানোর বিষয়ে আলোচনা করতে পারেন।
ইরানের জাতীয় নিরাপত্তা পরিষদের উপসচিব আলী বাঘেরি বলেন, অভ্যন্তরীণ ও নিজস্ব সক্ষমতার ওপর ভিত্তি করে গড়ে ওঠা ইরানের প্রতিরক্ষা মডেল জাতীয় নিরাপত্তা প্রতিষ্ঠায় সফল হয়েছে। তিনি আরও বলেন, আঞ্চলিক দেশগুলোর নিজেদের উদ্যোগেই এ অঞ্চলের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা ইরানের কৌশলগত নীতি। একই সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের নেতৃত্বে যেকোনো বিদেশি হস্তক্ষেপ ও প্রভাব মোকাবিলার ওপরও গুরুত্ব দেন তিনি। তাঁর বক্তব্যে আঞ্চলিক নিরাপত্তা ব্যবস্থায় বাইরের শক্তির ভূমিকা নিয়ে তেহরানের অবস্থান স্পষ্ট হয়েছে।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, সৌদি আরবে হুতিদের হামলা বৃদ্ধির পর চার দেশের মধ্যে এটি প্রথম উচ্চপর্যায়ের যোগাযোগ। বৈঠকে আঞ্চলিক নিরাপত্তা, পারস্পরিক সহযোগিতা এবং বিদেশি শক্তির হস্তক্ষেপ মোকাবিলার বিষয়গুলো গুরুত্ব পেতে পারে। তবে বৈঠকের বিস্তারিত আলোচ্যসূচি কিংবা সম্ভাব্য সিদ্ধান্ত সম্পর্কে এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কিছু জানানো হয়নি। এই বৈঠকের মাধ্যমে মধ্যপ্রাচ্য ও আশপাশের অঞ্চলে নিরাপত্তা সহযোগিতার ক্ষেত্রে নতুন কোনো উদ্যোগ নেওয়া হয় কি না, তা পর্যবেক্ষণ করছেন সংশ্লিষ্টরা।
টি/