
এটিএন বাংলা, ওয়াসা ভবন, ২য় তলা, ৯৮ কাজী নজরুল ইসলাম এভিনিউ, কাওরান বাজার, ঢাকা-১২১৫, বাংলাদেশ
ফোনঃ +88-02-55011931
এ সম্পর্কিত আরও খবর
ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে স্বাক্ষরিত একটি সমঝোতা স্মারককে কেন্দ্র করে দেশটির রাজনৈতিক অঙ্গনে তীব্র মতবিরোধ দেখা দিয়েছে। অন্তর্বর্তীকালীন এই শান্তি উদ্যোগকে ঘিরে মধ্যপন্থি ও কট্টরপন্থি শিবিরের মধ্যে দ্বন্দ্ব আরও গভীর হয়েছে। ইরানের সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা খামেনির শর্তসাপেক্ষ সম্মতি কট্টরপন্থিদের নতুন করে উৎসাহ জুগিয়েছে, যারা ওয়াশিংটনের সঙ্গে যেকোনো ধরনের ছাড়ভিত্তিক সমঝোতার বিরোধিতা করে আসছে।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, নতুন সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা খামেনি আলোচনার দায়িত্ব প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ানের ওপর ন্যস্ত করলেও তিনি এখন কট্টরপন্থিদের তীব্র সমালোচনার মুখে পড়েছেন। তাদের আশঙ্কা, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বর্তমান সমঝোতা দীর্ঘস্থায়ী হবে না এবং যেকোনো সময় নতুন করে সংঘাত শুরু হতে পারে। পাকিস্তান, কাতারসহ কয়েকটি দেশের মধ্যস্থতায় মার্কিন প্রেসিডেন্ট
চুক্তি নিয়ে নিজের অবস্থান স্পষ্ট করে মোজতবা খামেনি এক লিখিত বিবৃতিতে বলেছেন, নীতিগতভাবে তার ভিন্নমত থাকলেও প্রেসিডেন্ট পেজেশকিয়ানের দায়িত্ব গ্রহণ এবং জাতীয় নিরাপত্তা পরিষদের অনুমোদনের পর তিনি এতে সম্মতি দিয়েছেন। তিনি জোর দিয়ে বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সরাসরি আলোচনা শুরু হলেও তা শত্রুপক্ষের অবস্থান মেনে নেওয়ার সমার্থক নয়। একই সঙ্গে তিনি নিরাপত্তা পরিষদের অন্তত তিন-চতুর্থাংশ সদস্যের সমর্থনকে চুক্তির শর্ত হিসেবে উল্লেখ করেছেন।
এদিকে সুপ্রিম ন্যাশনাল সিকিউরিটি কাউন্সিল জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রের প্রতি পূর্ণ অবিশ্বাস বজায় রেখেই আলোচনা এগিয়ে নেওয়া হবে এবং কোনো পক্ষ শর্ত ভঙ্গ করলে প্রতিক্রিয়ার জন্য প্রস্তুত পরিকল্পনা রয়েছে। প্রেসিডেন্ট পেজেশকিয়ান চুক্তিটিকে ‘ঐতিহাসিক দলিল’ হিসেবে বর্ণনা করে বলেছেন, এটি একটি শক্তিশালী ও মর্যাদাসম্পন্ন ইরানের বার্তা বহন করে। পার্লামেন্ট স্পিকার মোহাম্মদ বাঘের গালিবাফও খামেনির নির্দেশনার প্রশংসা করে এটিকে যুদ্ধ-পরবর্তী কূটনৈতিক অগ্রগতির সূচনা বলে মন্তব্য করেছেন।
অন্যদিকে কট্টরপন্থি গোষ্ঠীগুলো চুক্তির বিরুদ্ধে সরব অবস্থান নিয়েছে। তারা হরমুজ প্রণালির নিয়ন্ত্রণসহ গুরুত্বপূর্ণ কৌশলগত বিষয়গুলো আলোচনায় অন্তর্ভুক্ত করার দাবি জানিয়েছে এবং তা না হলে আলোচনা থেকে সরে আসার আহ্বান জানিয়েছে। বিভিন্ন সমাবেশে পেজেশকিয়ান, গালিবাফ ও পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচির সমালোচনা করা হচ্ছে। রক্ষণশীল মহলের নেতারা বলছেন, ওয়াশিংটনের সঙ্গে ইরানের বিরোধ শেষ হয়নি এবং শান্তি প্রতিষ্ঠার পথ এখনও দীর্ঘ ও জটিল। তবে সংস্কারপন্থি মহল এই সমঝোতাকে দেশের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ কূটনৈতিক বিজয় হিসেবে দেখছে।
সূত্র: আল জাজিরা