
এটিএন বাংলা, ওয়াসা ভবন, ২য় তলা, ৯৮ কাজী নজরুল ইসলাম এভিনিউ, কাওরান বাজার, ঢাকা-১২১৫, বাংলাদেশ
ফোনঃ +88-02-55011931
এ সম্পর্কিত আরও খবর
তিব্বতের ইয়ারলুং সাংপো নদীর নিম্ন অববাহিকায় বিশ্বের সবচেয়ে বড় জলবিদ্যুৎ বাঁধ নির্মাণের কাজ আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু করেছে চীন। অরুণাচল প্রদেশ সীমান্ত থেকে মাত্র ৫০ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত ৬০ হাজার মেগাওয়াট ক্ষমতাসম্পন্ন মেডোগ হাইড্রোপাওয়ার প্রকল্পকে ঘিরে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে ভারতে। শুক্রবার (১৯ জুন) প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে এনডিটিভি জানায়, প্রকল্পটির সম্ভাব্য প্রভাব মোকাবিলায় কৌশলগত প্রস্তুতি জোরদার করছে নয়াদিল্লি।
চীনের এই মেগা প্রকল্পের পাল্টা উদ্যোগ হিসেবে ভারত অরুণাচল প্রদেশের আপার সিয়াং ও সিয়াং জেলায় ১১ হাজার মেগাওয়াট ক্ষমতার সিয়াং আপার মাল্টিপারপাস প্রজেক্ট (এসইউএমপি) বাস্তবায়নের পরিকল্পনা এগিয়ে নিচ্ছে। রাষ্ট্রায়ত্ত প্রতিষ্ঠান এনএইচপিসি পরিচালিত প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে এটি হবে ভারতের বৃহত্তম জলবিদ্যুৎ কেন্দ্র। বছরে প্রায় ৪৭
তবে দুই দেশের প্রকল্পের অগ্রগতিতে রয়েছে বড় ধরনের পার্থক্য। চীনের মেডোগ প্রকল্পের নির্মাণকাজ ইতোমধ্যে শুরু হলেও ভারতের এসইউএমপি এখনো সম্ভাব্যতা যাচাই ও প্রাথমিক প্রস্তুতির পর্যায়ে রয়েছে। বিশেষজ্ঞরা আশঙ্কা করছেন, ইয়ারলুং সাংপো নদীর উজানে এত বড় বাঁধ নির্মিত হলে নদীর স্বাভাবিক প্রবাহে পরিবর্তন আসতে পারে। এর ফলে কৃষি, জীববৈচিত্র্য ও স্থানীয় পরিবেশ ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার পাশাপাশি আকস্মিক ও ভয়াবহ বন্যার ঝুঁকিও বৃদ্ধি পেতে পারে।
ভারতের কেন্দ্রীয় সরকার জানিয়েছে, ব্রহ্মপুত্র অববাহিকায় চীনের সব ধরনের কার্যক্রম নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে এবং নিম্ন অববাহিকার মানুষের জীবন-জীবিকা সুরক্ষায় প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হবে। বিশ্লেষকদের মতে, বিদ্যুৎ উৎপাদনের পাশাপাশি এসইউএমপি প্রকল্পের লক্ষ্য হলো বন্যা নিয়ন্ত্রণ এবং উজানে পানির প্রবাহ পরিবর্তনের সম্ভাব্য ঝুঁকি মোকাবিলা করা। এ কারণে প্রকল্পটি শুধু অর্থনৈতিক নয়, কৌশলগত ও ভূরাজনৈতিক দিক থেকেও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে।