
এটিএন বাংলা, ওয়াসা ভবন, ২য় তলা, ৯৮ কাজী নজরুল ইসলাম এভিনিউ, কাওরান বাজার, ঢাকা-১২১৫, বাংলাদেশ
ফোনঃ +88-02-55011931
এ সম্পর্কিত আরও খবর
ইরানের জনপ্রিয় তরুণ সংগীতশিল্পী পারাস্তু আহমাদিকে ‘অশ্লীল ও অনৈতিক কনটেন্ট’ প্রকাশের অভিযোগে ৭৪ দোররা এবং দুই বছরের নিষেধাজ্ঞার সাজা দিয়েছে দেশটির কোম প্রদেশের আদালত। একই সঙ্গে তার দেশত্যাগেও নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়েছে। আদালতের এ রায়ের ফলে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে ব্যাপক সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে এবং মানবাধিকার সংগঠনগুলো এটিকে সাংস্কৃতিক স্বাধীনতার ওপর আঘাত হিসেবে উল্লেখ করেছে।
ঘটনার সূত্রপাত ২০২৪ সালের ডিসেম্বরে। ওই সময় ইউটিউব লাইভে ‘আজ খুনে জাভানানে ওয়াতান’ শিরোনামের একটি দেশাত্মবোধক গান পরিবেশন করেন ২৯ বছর বয়সী পারাস্তু আহমাদি। পারফরম্যান্সের সময় তিনি হিজাব ছাড়াই উপস্থিত হন। গানটি দ্রুত সামাজিক মাধ্যমে ভাইরাল হয়ে পড়ে এবং বিপুলসংখ্যক দর্শকের দৃষ্টি আকর্ষণ করে। তবে ইরানি কর্তৃপক্ষ পরে
গানটি প্রকাশের কয়েক দিনের মধ্যেই পারাস্তু আহমাদি ও তার কয়েকজন সতীর্থকে আটক করে প্রশাসন। পরবর্তীতে তারা মুক্তি পেলেও তাদের বিরুদ্ধে আদালতে মামলা দায়ের করা হয়। মামলার রায়ে পারাস্তুর পাশাপাশি তার দলের আট সদস্যকেও ৭৪টি করে দোররা মারার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে বলে জানা গেছে।
ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম দ্য গার্ডিয়ানের প্রতিবেদনের পর বিষয়টি আন্তর্জাতিকভাবে আলোচনায় আসে। মানবাধিকার কর্মী ও সংস্কৃতিকর্মীরা বলছেন, এ রায় শুধু একটি আইনি সিদ্ধান্ত নয়, বরং ভিন্নমত ও সাংস্কৃতিক প্রকাশের স্বাধীনতাকে দমনের একটি উদাহরণ। ইরানি-ব্রিটিশ অভিনেত্রী নাজানিন বোনিয়াদি এবং নির্বাসিত ইরানি অভিনেত্রী সেতারেহ মালেকিসহ অনেক বিশিষ্ট ব্যক্তি এ রায়ের বিরুদ্ধে প্রকাশ্যে প্রতিবাদ জানিয়েছেন।
এদিকে ইরানি অ্যাক্টিভিস্টদের আইনি সহায়তাকারী সংস্থা দাদবানের মানবাধিকার আইনজীবী মইন খাজায়েলি দাবি করেছেন, এ রায়ের কোনো সুস্পষ্ট আইনি ভিত্তি নেই। তার মতে, ইরানের প্রচলিত আইনে নারীদের গান গাওয়া বা সংগীত পরিবেশন করাকে অপরাধ হিসেবে উল্লেখ করা হয়নি। একই ধরনের উদ্বেগ প্রকাশ করে যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক মানবাধিকার সংগঠন সেন্টার ফর হিউম্যান রাইটস ইন ইরানের অ্যাডভোকেসি পরিচালক বাহার ঘান্দেহারি বলেন, শুধুমাত্র গান গাওয়া এবং হিজাব ছাড়া উপস্থিত হওয়ার কারণে একজন শিল্পীকে ৭৪ দোররার সাজা দেওয়া অত্যন্ত কঠোর এবং এটি ইরানের মানবাধিকার পরিস্থিতির উদ্বেগজনক চিত্র তুলে ধরে।
/টি