
এটিএন বাংলা, ওয়াসা ভবন, ২য় তলা, ৯৮ কাজী নজরুল ইসলাম এভিনিউ, কাওরান বাজার, ঢাকা-১২১৫, বাংলাদেশ
ফোনঃ +88-02-55011931
এ সম্পর্কিত আরও খবর
বিশ্বের সবচেয়ে শক্তিশালী ও বিধ্বংসী আন্তঃমহাদেশীয় ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র (আইসিবিএম) ‘সারমাত’-এর সফল পরীক্ষা সম্পন্ন করেছে রাশিয়া। গত মঙ্গলবার (১২ মে) এই অত্যাধুনিক ও পারমাণবিক অস্ত্র বহনে সক্ষম ক্ষেপণাস্ত্রটির সফল উৎক্ষেপণ করা হয়। রুশ প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের দাবি অনুযায়ী, এই ক্ষেপণাস্ত্রটি প্রায় ৩৫ হাজার কিলোমিটার দূরের লক্ষ্যবস্তুতে নিখুঁতভাবে আঘাত হানতে সক্ষম, যা বর্তমানে বিশ্বের যেকোনো ক্ষেপণাস্ত্রের চেয়ে বেশি পাল্লার।
ক্ষেপণাস্ত্রটির সফল পরীক্ষার পর উচ্ছ্বাস প্রকাশ করেছেন রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন। তিনি জানান, ‘সারমাত’ বর্তমানে বিশ্বের সবচেয়ে শক্তিশালী ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবস্থা এবং এটি পশ্চিমা দেশগুলোর হাতে থাকা যেকোনো সমরাস্ত্রের তুলনায় কয়েক গুণ বেশি শক্তিশালী যুদ্ধাস্ত্র বহনে সক্ষম। পুতিন আরও নিশ্চিত করেছেন যে, চলতি বছরের শেষ নাগাদ
প্রেসিডেন্ট পুতিন এই সফলতাকে রাশিয়ার সামরিক শক্তির এক নতুন মাইলফলক হিসেবে অভিহিত করেছেন। তিনি সতর্কবার্তা দিয়ে বলেন, ‘সারমাত’ রাশিয়ার সার্বভৌমত্বের জন্য বড় একটি সুরক্ষা কবচ। এটি মোতায়েনের ফলে যারা রাশিয়াকে হুমকি দেওয়ার চেষ্টা করবে, তারা কোনো পদক্ষেপ নেওয়ার আগে দ্বিতীয়বার ভাবতে বাধ্য হবে। রাশিয়ার সামরিক সক্ষমতা বাড়াতে দীর্ঘ কয়েক বছর ধরে এই ক্ষেপণাস্ত্র তৈরির কাজ চলছিল।
আন্তর্জাতিক গণমাধ্যম রয়টার্স জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্র ও রাশিয়ার মধ্যে পারমাণবিক অস্ত্র নিয়ন্ত্রণ সংক্রান্ত ‘নিউ স্টার্ট’ চুক্তির মেয়াদ শেষ হওয়ার ঠিক পরেই এই সফল পরীক্ষা চালানো হলো। সামরিক বিশ্লেষকদের মতে, এমন সময়ে রাশিয়ার এই সক্ষমতা প্রদর্শন আন্তর্জাতিক সামরিক ভারসাম্যে নতুন করে উত্তেজনা তৈরি করতে পারে। বিশেষ করে ইউক্রেন ইস্যু এবং ন্যাটোর সাথে ক্রমবর্ধমান উত্তেজনার প্রেক্ষাপটে এই পরীক্ষা অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ।
বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্র, চীন এবং উত্তর কোরিয়ার মতো দেশগুলোর কাছে প্রায় ১২ হাজার কিলোমিটার পাল্লার আইসিবিএম প্রযুক্তি রয়েছে। তবে রাশিয়ার ‘সারমাত’ সেই সক্ষমতাকে বহুগুণ ছাড়িয়ে গিয়ে ৩৫ হাজার কিলোমিটার পাল্লা দাবি করায় বিশ্বজুড়ে নতুন বিতর্কের জন্ম দিয়েছে। প্রতিরক্ষা বিশেষজ্ঞদের মতে, একাধিক সফল পরীক্ষার পর এখন এটি রাশিয়ার সামরিক কৌশলে অন্যতম প্রধান তুরুপের তাস হিসেবে যুক্ত হতে যাচ্ছে।
/টিএ