
এটিএন বাংলা, ওয়াসা ভবন, ২য় তলা, ৯৮ কাজী নজরুল ইসলাম এভিনিউ, কাওরান বাজার, ঢাকা-১২১৫, বাংলাদেশ
ফোনঃ +88-02-55011931
এ সম্পর্কিত আরও খবর
যুক্তরাষ্ট্রের দেওয়া যুদ্ধবিরতির প্রস্তাবের বিপরীতে ইরানের পাঠানো পাল্টা জবাব প্রত্যাখ্যান করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। রোববার নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ‘ট্রুথ সোশ্যাল’-এ দেওয়া এক বার্তায় ট্রাম্প এই অসম্মতি জানান। মধ্যস্থতাকারী দেশ পাকিস্তানের মাধ্যমে তেহরান তাদের অবস্থান ওয়াশিংটনকে জানিয়েছিল। তবে প্রস্তাবটি পাওয়ার পর ট্রাম্প স্পষ্ট করে দেন যে, ইরানের শর্তগুলো তার কাছে কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়।
ট্রুথ সোশ্যালে দেওয়া পোস্টে ট্রাম্প বিস্তারিত কোনো তথ্য প্রকাশ না করেই লিখেছেন, ‘আমি মাত্রই ইরানের তথাকথিত প্রতিনিধিদের পাঠানো জবাবটি পড়লাম। এটি আমার পছন্দ হয়নি—পুরোপুরি অগ্রহণযোগ্য।’ উল্লেখ্য, পারমাণবিক কর্মসূচি ও আঞ্চলিক সংঘাতসহ বিভিন্ন বিবদমান বিষয়ে আলোচনার আগে লড়াই বন্ধ করার লক্ষ্যে ওয়াশিংটন একটি প্রাথমিক প্রস্তাব দিয়েছিল। ট্রাম্পের এই সরাসরি
ইরানের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, তেহরানের প্রস্তাবে সব ফ্রন্টে অবিলম্বে যুদ্ধ বন্ধ করার ওপর জোর দেওয়া হয়েছে। বিশেষ করে লেবানন পরিস্থিতি এবং বৈশ্বিক বাণিজ্যের জন্য গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচলের নিরাপত্তার বিষয়টিকে তারা অগ্রাধিকার দিয়েছে। তবে এই গুরুত্বপূর্ণ সমুদ্রপথটি ঠিক কবে বা কীভাবে খুলে দেওয়া হবে, সে বিষয়ে তেহরানের পক্ষ থেকে কোনো সুনির্দিষ্ট ইঙ্গিত দেওয়া হয়নি বলে জানা গেছে।
ইরানি বার্তা সংস্থা তাসনিম জানিয়েছে, তেহরানের প্রস্তাবের মধ্যে বেশ কিছু কঠোর শর্ত ছিল। এর মধ্যে রয়েছে সব ফ্রন্টে অবিলম্বে যুদ্ধবিরতি, যুক্তরাষ্ট্রের নৌ-অবরোধ প্রত্যাহার এবং ইরানের ওপর ভবিষ্যতে আর কোনো হামলা না চালানোর নিশ্চয়তা। এর পাশাপাশি ইরানি তেল বিক্রির ওপর থেকে মার্কিন নিষেধাজ্ঞাসহ দেশটির ওপর আরোপিত সব ধরনের অর্থনৈতিক ও বাণিজ্যিক বিধিনিষেধ পুরোপুরি তুলে নেওয়ার দাবি জানিয়েছে ইরান।
অন্যদিকে, ‘দ্য ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল’ সূত্রের বরাতে এক চাঞ্চল্যকর তথ্য জানিয়েছে। ইরান তাদের উচ্চমাত্রার সমৃদ্ধ ইউরেনিয়ামের একটি অংশের মাত্রা কমিয়ে আনা এবং অবশিষ্ট অংশ তৃতীয় কোনো দেশে স্থানান্তরের প্রস্তাব দিয়েছিল। পাকিস্তান এই প্রস্তাবটি যুক্তরাষ্ট্রের কাছে পৌঁছে দিলেও হোয়াইট হাউজ বা মার্কিন প্রশাসনের পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিকভাবে এ বিষয়ে আর কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি। ট্রাম্পের নেতিবাচক প্রতিক্রিয়ার পর এখন এই কূটনৈতিক তৎপরতা কোন দিকে মোড় নেয়, তাই দেখার বিষয়।
/টিএ