
এটিএন বাংলা, ওয়াসা ভবন, ২য় তলা, ৯৮ কাজী নজরুল ইসলাম এভিনিউ, কাওরান বাজার, ঢাকা-১২১৫, বাংলাদেশ
ফোনঃ +88-02-55011931
এ সম্পর্কিত আরও খবর
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে সঙ্গে নিয়ে ইরানের ধর্মীয় শাসনব্যবস্থার পতন ঘটানো এবং মধ্যপ্রাচ্যের রাজনৈতিক মানচিত্র পুনর্গঠনের যে কৌশলগত পরিকল্পনা করেছিলেন ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু, তা এখন বড় ধরনের অনিশ্চয়তার মুখে পড়েছে। যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে অন্তর্বর্তীকালীন যুদ্ধবিরতি ও সম্ভাব্য চুক্তির উদ্যোগে নেতানিয়াহুর অবস্থান দুর্বল হয়ে পড়েছে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা। একই সঙ্গে লেবাননে হিজবুল্লাহবিরোধী ইসরায়েলি সামরিক অভিযানও কাঙ্ক্ষিত অগ্রগতি অর্জন করতে পারেনি।
ইসরায়েলি কর্মকর্তাদের মধ্যে যুক্তরাষ্ট্র-ইরান সমঝোতা নিয়ে গভীর উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা এই চুক্তিকে “ইসরায়েলের জন্য ভয়াবহ” বলে মন্তব্য করেছেন। তাদের আশঙ্কা, ৬০ দিনের যুদ্ধবিরতির আড়ালে আলোচনার মেয়াদ আরও বাড়তে পারে, যা ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি
লেবাননে সামরিক অভিযান নিয়ে ট্রাম্প ও নেতানিয়াহুর মধ্যে মতবিরোধ ক্রমেই স্পষ্ট হয়ে উঠেছে। চলতি মাসের শুরুতে এক ফোনালাপে ট্রাম্প নেতানিয়াহুর প্রতি ক্ষোভ প্রকাশ করেন এবং বৈরুতে হামলা না চালানোর নির্দেশ দেন বলে জানা গেছে। যদিও ইসরায়েল পরে আবারও বৈরুতে হামলা চালায়, যার প্রতিক্রিয়ায় ইরান ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালায়। এ ঘটনায় ট্রাম্প প্রকাশ্যে উভয় পক্ষকেই সমালোচনা করেন। সর্বশেষ যুক্তরাষ্ট্র-ইরান অন্তর্বর্তীকালীন চুক্তির ঘোষণার আগমুহূর্তেও ইসরায়েল লেবাননে নতুন হামলা চালিয়েছে।
এদিকে নেতানিয়াহু প্রকাশ্যে স্বীকার করেছেন যে ট্রাম্পের সঙ্গে তার মতপার্থক্য রয়েছে। জেরুজালেমে এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেন, অনেক বিষয়ে দুই নেতার অবস্থান এক হলেও কিছু ক্ষেত্রে দৃষ্টিভঙ্গির পার্থক্য দেখা দেয় এবং ইসরায়েলের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দায়িত্ব তারই। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, আসন্ন নির্বাচনের আগে নেতানিয়াহু হয়তো ট্রাম্পের অবস্থানের সঙ্গে পুরোপুরি একমত না হয়ে নিজস্ব কৌশল অনুসরণ করতে পারেন, বিশেষ করে যখন ইসরায়েলি জনগণের একাংশ মনে করছে যে ট্রাম্প এখন আর আগের মতো ইসরায়েলের নিরাপত্তাকে অগ্রাধিকার দিচ্ছেন না।
আগামী শুক্রবার সুইজারল্যান্ডে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে চুক্তি সই হওয়ার কথা রয়েছে। তবে চুক্তির বিস্তারিত শর্ত এখনো প্রকাশ করা হয়নি। মধ্যস্থতাকারী পাকিস্তান জানিয়েছে, এতে লেবাননসহ বিভিন্ন রণাঙ্গনে স্থায়ীভাবে সামরিক অভিযান বন্ধের আহ্বান জানানো হয়েছে। অন্যদিকে নেতানিয়াহু স্পষ্ট করে বলেছেন, দক্ষিণ লেবানন থেকে সেনা প্রত্যাহারের কোনো পরিকল্পনা নেই এবং হিজবুল্লাহর যেকোনো হুমকির জবাব দিতে ইসরায়েল প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার স্বাধীনতা বজায় রাখবে। ফলে মধ্যপ্রাচ্যে শান্তি প্রতিষ্ঠার প্রচেষ্টা শুরু হলেও ভবিষ্যৎ পরিস্থিতি নিয়ে অনিশ্চয়তা থেকেই যাচ্ছে।
/টিএ