গত বছরের মে মাসের রক্তক্ষয়ী সংঘাতের রেশ কাটতে না কাটতেই দক্ষিণ এশিয়ায় আবারও বাজছে যুদ্ধের দামামা। সীমান্তে ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যে নতুন করে ছড়িয়ে পড়েছে তীব্র উত্তেজনা, যা দুই পরমাণু শক্তিধর দেশের সম্পর্ককে আবারও ঠেলে দিচ্ছে অজানা সংঘাতের দিকে। কূটনৈতিক নীরবতার আড়ালে যখন উত্তাপ বাড়ছে, ঠিক তখনই ইসলামাবাদ থেকে এলো ভয়াবহ এক খবর।
পাকিস্তানের সামরিক বাহিনীর গণমাধ্যম শাখা ইন্টার-সার্ভিসেস পাবলিক রিলেশনস—আইএসপিআর জানিয়েছে, বেলুচিস্তানে পৃথক দুটি অভিযানে ভারত-সমর্থিত মোট ৪১ জন নিহত হয়েছে। শুক্রবার জিও নিউজের এক প্রতিবেদনে এই তথ্য প্রকাশ করা হয়। আইএসপিআরের দাবি, নিহতরা ভারতীয় প্রক্সি সংগঠনের সঙ্গে যুক্ত ছিল।
বিবৃতিতে বলা হয়, ২৯ জানুয়ারি গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে প্রথম অভিযানটি পরিচালিত

হয় হরনাই জেলার উপকণ্ঠে। সেখানে প্রক্সি বাহিনীর উপস্থিতির খবর পেয়ে নিরাপত্তা বাহিনী সন্ত্রাসীদের আস্তানায় অভিযান চালায়। তীব্র গোলাগুলির পর ৩০ জন ভারত-সমর্থিত সেনা নিহত হয়। অভিযানে সন্ত্রাসীদের ঘাঁটিতে কার্যকর ও নিখুঁত আঘাত হানা হয় বলে দাবি করেছে আইএসপিআর।
নিরাপত্তা বাহিনী জানায়, নিহতদের কাছ থেকে বিপুল পরিমাণ অস্ত্র, গোলাবারুদ ও বিস্ফোরক উদ্ধার করা হয়েছে, যা ঘটনাস্থলেই ধ্বংস করা হয়। এর কিছুক্ষণ পরই পাঞ্জগুর জেলায় আরেকটি পৃথক অভিযানে ফিতনা আল-হিন্দুস্তানের একটি সন্ত্রাসী আস্তানা গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়। সেখানে আরও ১১ জন ভারত-সমর্থিত সন্ত্রাসীকে নিষ্ক্রিয় করা হয়।
আইএসপিআরের বিবৃতিতে আরও জানানো হয়, নিহত সন্ত্রাসীদের কাছ থেকে ২০২৫ সালের ১৫ ডিসেম্বর পাঞ্জগুরে সংঘটিত ব্যাংক ডাকাতির লুট করা অর্থ উদ্ধার করা হয়েছে। এসব সন্ত্রাসী অতীতে একাধিক সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডে জড়িত ছিল বলে দাবি করা হয়। বর্তমানে সংশ্লিষ্ট এলাকায় তল্লাশি অভিযান চলমান রয়েছে এবং আজম-ই-ইস্তেহকাম ভিশনের আওতায় বিদেশি মদদপুষ্ট সন্ত্রাসবিরোধী অভিযান পূর্ণ গতিতে অব্যাহত থাকবে বলে জানিয়েছে পাকিস্তানের নিরাপত্তা বাহিনী।
/টিএ