logo
youtube logotwitter logofacebook logo

মানবজাতি

পবিত্র শবেকদর আজ - image

পবিত্র শবেকদর আজ

17 এপ্রিল 2023, বিকাল 6:00

পবিত্র লাইলাতুল কদর বা শবে কদর আজ মঙ্গলবার (১৮ এপ্রিল)। এদিন সন্ধ্যার পর থেকে শুরু হবে শবে কদরের রজনী। যথাযোগ্য ধর্মীয় মর্যাদা ও ভাবগাম্ভীর্য পরিবেশে সারাদেশে পবিত্র শবে কদর পালিত হবে। হাদিস অনুযায়ী, ২০ রমজানের পর যেকোনো বিজোড় রাতে কদর হতে পারে। তবে ২৬ রমজান দিবাগত রাতেই লাইলাতুল কদর আসে বলে আলেমদের অভিমত। ইসলাম ধর্ম অনুসারে, এ রাতে মহানবি হজরত মোহাম্মদ (সা.)-এর উম্মাতদের সম্মান বৃদ্ধি করা হয় এবং মানবজাতির ভাগ্য পুনর্নির্ধারণ করা হয়। তাই এই রাত অত্যন্ত পুণ্যময় ও মহাসম্মানিত হিসেবে পরিগণিত। মহাপবিত্র কুরআনের বর্ণনা অনুসারে আল্লাহ এই রাতকে অনন্য মর্যাদা দিয়েছেন এবং এই একটি মাত্র রাতের ইবাদত হাজার মাসের ইবাদতের চেয়েও অধিক সওয়াব অর্জিত হওয়ার প্রতিশ্রুতি দেয়া হয়েছে।মুসলমানদের কাছে শবেকদর এমন মহিমান্বিত বরকতময় এবং বৈশিষ্ট্যমণ্ডিত এ জন্য যে, এ রজনীতে মুসলমানদের পবিত্র গ্রন্থ ‘আল-কুরআন’ অবতীর্ণ হয়েছে। আল্লাহ কুরআনে ঘোষণা করেছেন- নিশ্চয়ই আমি তা (কুরআন) অবতীর্ণ করেছি কদরের রাতে। আর কদরের রাত সম্বন্ধে তুমি কী জানো? কদরের রাত হাজার মাস অপেক্ষা শ্রেষ্ঠ (সুরা আল-কদর)।এ রাতে জিকির-আসকার, ইবাদত-বন্দেগি ও কুরআন তিলাওয়াতের মধ্যদিয়ে ধর্মপ্রাণ মুসলমানরা মহান রাব্বুল আলামিনের রহমত কামনা করে থাকেন। লাইলাতুল কদর উপলক্ষে জাতীয় মসজিদ বায়তুল মোকাররম জাতীয় মসজিদে আলোচনা, মিলাদ ও বিশেষ মোনাজাতের আয়োজন করা হয়েছে। এ ছাড়াও দেশের সব মসজিদে দিন ও রাতব্যাপী বিশেষ ইবাদত-বন্দেগি, ধর্মীয় বয়ান ও দোয়া-মোনাজাতের আয়োজন করা হয়েছে। পবিত্র শবেকদর উপলক্ষে দেশবাসীসহ বিশ্বের সব মুসলমানকে আন্তরিক শুভেচ্ছা জানিয়েছেন রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ তার বাণীতে বলেন, মহান আল্লাহর নৈকট্য লাভের অপার সুযোগ নিয়ে বরকতময় পবিত্র শবেকদর আমাদের মধ্যে সমাগত। মহিমান্বিত এই রজনীতে আমি মহান আল্লাহর দরবারে দেশবাসীসহ সমগ্র মুসলিম উম্মাহর জন্য মাগফিরাত ও কল্যাণ কামনা করছি। লাইলাতুল কদরের মাহাত্ম্যে উদ্বুদ্ধ হয়ে দেশ গড়ায় আত্মনিয়োগের আহ্বান জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা তার বাণীতে বলেন, সব প্রকার অন্যায়, অনাচার, হানাহানি ও কুসংস্কার পরিহার করে আমরা শান্তির ধর্ম ইসলামের চেতনাকে ব্যক্তি, সমাজ ও জাতীয় জীবনের সব স্তরে প্রতিষ্ঠা করি।

এপ্রিল ১৭, ২০২৩
যান্ত্রিক ত্রুটি, সর্বকালের সবথেকে শক্তিশালী রকেটের প্রথম মনুষ্যবিহীন যাত্রা স্থগিত - image

যান্ত্রিক ত্রুটি, সর্বকালের সবথেকে শক্তিশালী রকেটের প্রথম মনুষ্যবিহীন যাত্রা স্থগিত

17 এপ্রিল 2023, বিকাল 6:00

পৃথিবীতে তৈরি হওয়া এ যাবৎকালের সবথেকে শক্তিশালী রকেট ‘স্টারশিপ’। সোমবার তার প্রথম মনুষ্যবিহীন যাত্রা শুরুর কথা ছিল। যদিও শেষ মুহূর্তে গিয়ে এর যাত্রা স্থগিত করা হয়। উৎক্ষেপণের কয়েক মিনিট আগে জানানো হয়, রকেটটিতে থাকা একটি ভালভ জমে গিয়েছিল এবং ঠিকমত কাজ করছিল না। তাই কোন রকম ঝুঁকি না নিয়ে উৎক্ষেপণ পিছিয়ে দেবারই সিদ্ধান্ত হয়েছে। এ খবর দিয়েছে বিবিসি। খবরে জানানো হয়, সোমবার সকালে মেক্সিকো উপসাগরের তীরবর্তী যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাস অঙ্গরাজ্যের বোকা চিকা থেকে উৎক্ষেপণ করার কথা ছিল রকেটটির। তার পর এটির ওপরের অংশটি পূর্ব দিকে যাবে এবং পৃথিবীর প্রায় পুরো চারপাশ জুড়ে একবার প্রদক্ষিণ করে সাগরে নেমে আসবে। প্রায় ১২০ মিটার উঁচু এই বিশালকায় রকেটটি তৈরি করেছে মার্কিন উদ্যোক্তা ইলন মাস্কের স্পেসএক্স কোম্পানি। এই রকেটটি মানুষের তৈরি সবচেয়ে বড় ও শক্তিশালী রকেট। এটি উৎক্ষেপণের সময় যে থ্রাস্ট তৈরি হওয়ার কথা তা এখন পর্যন্ত তৈরি হওয়া যে কোনো রকেটের দ্বিগুণ। ইলন মাস্ক জানিয়েছেন, আগামী কয়েক দিনের মধ্যেই এটি আবার উৎক্ষেপণের চেষ্টা করা হবে।মূলত এই রকেটের ওপরে মানবজাতির অন্যগ্রহে বসতি স্থাপনের ভবিষ্যৎ নির্ভর করছে বলেই প্রথম বারে কোনো ঝুঁকি নেননি মাস্ক। বিশ্বের এযাবৎকালের বৃহত্তম রকেট উৎক্ষেপণ দেখতে বোকা চিকায় কয়েক হাজার লোক জড়ো হয়েছিল। আরো বহু লক্ষ মানুষে বসেছিলেন পৃথিবীর নানা প্রান্তে টিভির সামনে। কিন্তু এটি ব্যর্থ হলে মানুষের অন্য গ্রহে যাওয়া এবং বসতি স্থাপন বড় ধাক্কা খেতো। তাই স্পেসএক্স এ নিয়ে তাড়াহুড়ো করে কোন অকারণ ঝুঁকি নিতে রাজি হয়নি। উৎক্ষেপণের আগেই ইলন মাস্ক সবার উদ্দেশ্যে বলেছিলেন, মানুষ যেন এই প্রথম উৎক্ষেপণ থেকে খুব বেশি কিছু আশা না করেন। কারণ এসব রকেটের প্রথম যাত্রায় কিছু না কিছু একটা সমস্যা দেখা দেয়া মোটেও অস্বাভাবিক নয়। তাছাড়া এই রকেট ইলন মাস্কের জন্যেও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তার বিশ্বাস, স্টারশিপের মাধ্যমে রকেট ব্যবসাকে তিনি সম্পূর্ণ পাল্টে দেবেন। এই রকেট তৈরি হয়েছে এমনভাবে যে তা বারবার ব্যবহার করা যাবে। ইলন মাস্কের স্বপ্ন হলো, অন্য গ্রহে মানুষের বসতি স্থাপন করতে যাবার উপযোগী রকেট তৈরি করা। এই রকেট বার বার ব্যবহার করা যাবে এবং একেকবারে ১০০-র বেশি মানুষকে মঙ্গলগ্রহে নিয়ে যেতে পারবে। এর উপযোগী করেই বানানো হয়েছে এই স্টারশিপ রকেটযানকে।

এপ্রিল ১৭, ২০২৩
শুভ বুদ্ধ পূর্ণিমা আজ - image

শুভ বুদ্ধ পূর্ণিমা আজ

03 মে 2023, বিকাল 6:00

শুভ বুদ্ধ পূর্ণিমা আজ। দেশের বৌদ্ধ সম্প্রদায় তাদের প্রধান এ ধর্মীয় উৎসব আজ সাড়ম্বরে উদযাপন করবে। এ উপলক্ষে রাজধানীসহ দেশজুড়ে বৌদ্ধবিহারগুলোতে বুদ্ধ পূজা, প্রদীপ প্রজ্বালন, শান্তি শোভাযাত্রা, ধর্মীয় আলোচনা সভা, প্রভাতফেরি, সমবেত প্রার্থনা, আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হবে। এ ছাড়াও মানবজাতির সর্বাঙ্গীণ শান্তি ও মঙ্গল কামনায় বিশেষ প্রার্থনার আয়োজন করা হয়েছে। দিবসটি উপলক্ষে রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন এবং প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা পৃথক বাণী দিয়েছেন। এ ছাড়াও বিরোধী দলের নেতা রওশন এরশাদ, জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান জি এম কাদেরসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতারা বাণী দিয়েছেন। রাষ্ট্রপতি তার বাণীতে বলেন, ‘অহিংস পরম ধর্ম’—বুদ্ধের এই অমিয় বাণী আজও সমাজে শান্তির জন্য সমভাবে প্রযোজ্য। আজকের এই অশান্ত ও অসহিষ্ণু বিশ্বে মূল্যবোধের অবক্ষয় রোধ, যুদ্ধ-বিগ্রহ, ধর্ম-বর্ণ-জাতিগত হানাহানি রোধসহ সমাজে শান্তি প্রতিষ্ঠায় মহামতি বুদ্ধের দর্শন ও জীবনাদর্শ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে পারে বলে আমি মনে করি।’ প্রধানমন্ত্রী বাণীতে বলেন, ‘হাজার বছরের সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য এবং মহান মুক্তিযুদ্ধের চেতনাকে ধারণ করে আমরা বৈষম্যহীন সমাজ বিনির্মাণে নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছি। বৌদ্ধ ধর্মাবলম্বীরাও যুগ যুগ ধরে বাংলাদেশের আর্থসামাজিক উন্নয়ন কর্মকাণ্ডে সমানভাবে অংশগ্রহণ করে আসছেন।’ গৌতম বুদ্ধের শুভজন্ম, বোধিজ্ঞান ও নির্বাণ লাভ এই ত্রিস্মৃতিবিজড়িত বৈশাখী পূর্ণিমা বৌদ্ধ সম্প্রদায়ের প্রধান ধর্মীয় উৎসব। বিশ্বের সব বৌদ্ধ ধর্মাবলম্বীর কাছে এটি বুদ্ধ পূর্ণিমা নামে পরিচিত। বৌদ্ধ ধর্মমতে, আড়াই হাজার বছর আগে এই দিনে মহামতি গৌতম বুদ্ধ আবির্ভূত হয়েছিলেন। তার জন্ম, বোধিলাভ ও মহাপ্রয়াণ বৈশাখী পূর্ণিমার দিনে হয়েছিল বলে এর (বৈশাখী পূর্ণিমা) অন্য নাম দেওয়া হয় ‘বুদ্ধ পূর্ণিমা’। ‘জগতের সকল প্রাণী সুখী হোক’ এই অহিংস বাণীর প্রচারক গৌতম বুদ্ধের আবির্ভাব, বোধিপ্রাপ্তি আর মহাপরিনির্বাণ—স্মৃতিবিজড়িত এই দিনটিকে বুদ্ধ পূর্ণিমা হিসেবে পালন করেন বুদ্ধ ভক্তরা। উৎসব উপলক্ষে বাসাবো ধর্মরাজিক বৌদ্ধবিহার সাজানো হয়েছে। বুধবার উৎসবের সার্বিক প্রস্তুতি দেখা গেছে। এ ছাড়া রাজধানীর মেরুল বাড্ডা বৌদ্ধবিহারেও অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছে। রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন ‘বুদ্ধ পূর্ণিমা’ উপলক্ষে আজ বৃহস্পতিবার বঙ্গভবনের ক্রিডেনশিয়াল হলে বৌদ্ধ সম্প্রদায়ের সঙ্গে শুভেচ্ছা বিনিময় করবেন।

মে ০৩, ২০২৩
রহস্যে উদঘাটনে আপনিও যোগ দিন: মিম - image

রহস্যে উদঘাটনে আপনিও যোগ দিন: মিম

12 মে 2023, বিকাল 6:00

বিদ্যা সিনহা মিম। ‘পরাণ’ ও ‘দামাল’র পর এবার এ নায়িকা নিয়ে আসছেন তার নতুন সিনেমা ‘অন্তর্জাল’। প্রযুক্তির উৎকর্ষে আগামীর যুদ্ধটা হবে সাইবারে। সেক্ষেত্রে দেশের যোদ্ধারা কতোটা প্রস্তুত? এই ভাবনা থেকে নির্মিত হয়েছে দেশের প্রথম সাইবার থ্রিলার চলচ্চিত্র ‘অন্তর্জাল’। পরিচালনা করেছেন দীপঙ্কর দীপন। ঈদে মুক্তিপ্রতিক্ষীত ছবিটির পোস্টার প্রকাশ পেয়েছে সামাজিক মাধ্যমে। বিদ্যা সিনহা মিম ছাড়াও এ ছবিতে আরও অভিনয় করেছেন সিয়াম আহমেদ, সুরেরাহ বিনতে কামাল, এবিএম সুমন প্রমুখ। দীপন জানান, আগামী কোরবানির ঈদে ‘অন্তর্জাল’ আসবে এটা চূড়ান্ত। এ মাসের মধ্যে সেন্সর হবে। আগের দুই সিনেমার চেয়ে ‘অন্তর্জাল’ তার কাছে সবচেয়ে কঠিন চলচ্চিত্র। চরিত্রগুলো মানানসই করতে সিয়াম, মিম, সুমন, সুনেরাহ অনেক সময় দিয়েছেন।দীপন জানান, তাদের পারফরমে তিনি রীতিমতো মুগ্ধ। সুনেরাহ রোবট বানানো শিখতে দীর্ঘদিন একটি ল্যাবে গিয়ে কাজ করেছে এবং সত্যিকারের একটি ল্যাবে গিয়ে শুটিং করি। মিম বলেন, ইন্টারনেটের দুনিয়া রহস্যময়, যেখানে অসাবধানতা মানেই বিপদ। সেই বিপদের কারণ কি? মানুষ নাকি অন্যকিছু? আমাদের মানবজাতির ভবিষ্যৎ কী? সেই সব রহস্যের জাল আর চাল নিয়ে ঈদুল আজহায় আসছে বাংলাদেশের প্রথম সাইবার ক্রাইম থ্রিলার 'অন্তর্জাল'। রহস্যের উদঘাটনে আপনিও যোগ দিন। ‘অন্তর্জাল’ সিনেমার গল্প লিখেছেন দীপঙ্কর দীপন, সাইফুল্লাহ রিয়াদ ও আশা জাহিদ। চিত্রনাট্য লিখেছেন পরিচালক নিজেই। সরকারের আইসিটি ডিভিশনের উদ্যোগে নির্মিত এই সিনেমার প্রযোজনা প্রতিষ্ঠান মোশন পিপল স্টুডিও। সার্বিক সহযোগিতায় স্পেলবাউন্ড লিও বার্নেট।

মে ১২, ২০২৩
আজ বিশ্ব রক্তদান দিবস - image

আজ বিশ্ব রক্তদান দিবস

13 জুন 2023, বিকাল 6:00

১৪ জুন বিশ্ব রক্তদান দিবস। ১৯৯৫ সাল থেকে আন্তর্জাতিক রক্তদান দিবস পালিত হয়। ২০০৫ সাল থেকে  প্রতি বছর বিশ্বস্বাস্থ্য সংস্থা এ দিবস পালনের উদ্যোগ নেয়। অগণিত মুমূর্ষু রোগীকে স্বেচ্ছায় রক্তদান করে যারা জীবন বাঁচাতে সাহায্য করেন, তাদের  মূল্যায়ন, স্বীকৃতি ও উদ্বুদ্ধকরণের জন্য বিশ্ব জুড়ে দিবসটি পালন করা হয়। এ দিবস পালনের মূল উদ্দেশ্য জনগণকে রক্তদানে এবং নিরাপদ রক্ত ব্যবহারে উত্সাহিত করা, স্বেচ্ছায় রক্তদানে সচেতন করা এবং নতুন নতুন রক্তদাতা তৈরি করা। এ দিবস পালনের আরো উদ্দেশ্য জনগণকে প্রাণঘাতী রক্তবাহিত রোগ এইডস, হেপাটাইটিস ‘বি’ ও হেপাটাইটিস ‘সি’সহ অন্যান্য রোগ থেকে নিরাপদ থাকার জন্য স্বেচ্ছা রক্তদান ও রক্তের সঠিক ব্যবহার নিশ্চিত করা। ভোগে নয়, ত্যাগেই প্রকৃত সুখ। আমাদের ভালো কাজ, ভালো চিন্তা, মহত্ উদ্যোগ মানবজাতির কল্যাণ বয়ে আনতে পারে। এরূপ একটি কল্যাণকর কাজ হলো ‘রক্তদান’। স্বেচ্ছায় রক্তদানে অন্য মানুষের মূল্যবান প্রাণ রক্ষা পায় এবং নিজের জীবনও ঝুঁকিমুক্ত থাকে। রক্তদানের ব্যাপারে ইসলাম ধর্মেও কোনো বিধিনিষেধ নেই। কোরআনে কারিমে ইরশাদ হয়েছে,  ‘যে ব্যক্তি কোনো ব্যক্তিকে রক্ষা করে, তবে যেন সে সমস্ত মানুষকে রক্ষা করল।’ (সুরা আল মায়িদা :আয়াত ৩২)। স্বেচ্ছায় রক্তদান করলে তা মানুষের অনেক উপকারে আসে। অন্যদিকে সামর্থ্যবান রক্তদাতাও পরোপকারের মাধ্যমে দৈহিক ও মানসিক দিক দিয়ে উজ্জীবিত হয়ে সুস্থ, সবল ও নিরাপদ থাকেন। এজন্য বিশ্বমানবতার উপকার ও জীবন রক্ষার্থে হজরত রসুলুল্লাহ (স.) বাণী প্রদান করেছেন, ‘তোমাদের কেউ তার অন্য ভাইয়ের উপকার করতে সক্ষম হলে, সে যেন তা করে।’ (সহিহ মুসলিম) রক্তের বিভিন্ন গ্রুপের আবিষ্কারক ও ট্রান্সফিউশন মেডিসিনের জনক অস্ট্রিয়ান বংশোদ্ভূত নোবেল বিজয়ী জীববিজ্ঞানী ও চিকিত্সক কার্ল ল্যান্ডস্টেইনার ১৮৬৮ সালের ১৪ জুন জন্মগ্রহণ করেন। তিনি ১৯০০ সালে ব্লাড গ্রুপ আবিষ্কার করেন। তার এই আবিষ্কার উন্মোচন করে দিয়েছে চিকিৎসাবিজ্ঞানের এক বিশাল অধ্যায়।  জন্মদিনে তাকে স্মরণ ও শ্রদ্ধা জানাতে ১৪ জুন উদযাপন করা হয় ‘বিশ্ব রক্তদান দিবস’। প্রতি বছরই এই দিবসের একটি প্রতিপাদ্য থাকে। এবারের প্রতিপাদ্য ‘রক্ত দিন, প্লাজমা দিন, জীবন ভোগ করুন, অধিকাংশ শেয়ার দিন।’ রক্ত অবশ্যই মানবদেহের একটি গুরুত্বপূর্ণ উপাদান। শরীরে পূর্ণমাত্রায় রক্ত থাকলে মানবদেহ থাকবে সজীব ও সক্রিয়। আর রক্তশূন্যতা বা অ্যানিমিয়া দেখা দিলেই শরীর অকেজো ও দুর্বল হয়ে পড়ে, প্রাণশক্তিতে ভাটা পড়ে। রক্তের বিকল্প শুধু রক্তই। অতি প্রয়োজনীয় এই জিনিসটি কলকারখানায় তৈরি হয় না। মানুষের রক্তের প্রয়োজনে মানুষকেই রক্ত দিতে হয়। চিকিৎসাবিজ্ঞানে আজ পর্যন্ত রক্তের কোনো বিকল্প আবিষ্কার হয়নি। রক্তের অভাবে যখন কোনো মানুষ মৃত্যুর মুখোমুখি হয়, তখন অন্য একজন মানুষের দান করা রক্তই তার জীবন বাঁচাতে পারে। তাই এর চেয়ে মহত্ কাজ আর কী হতে পারে? জীবন বাঁচাতে রক্তদান এতই গুরুত্বপূর্ণ যে বলা হয়—‘করিলে রক্তদান, বাঁচিবে একটি প্রাণ’, ‘আপনার রক্ত দিন, একটি জীবন বাঁচান,’ ‘সময় তুমি হার মেনেছ রক্তদানের কাছে, ১০টি মিনিট করলে খরচ একটি জীবন বাঁচে।’ ধর্ম-বর্ণ-জাতিনির্বিশেষে সবার রক্তই একই রকম, লাল রঙের। সবকিছুতেই বিভেদ থাকলেও এর মধ্যে কোনো বিভেদ নেই। মানুষের শরীরে রক্তের প্রয়োজনীয়তা এত বেশি যে, রক্ত ছাড়া কেউ বেঁচে থাকতে পারে না। মুমূর্ষু রোগীকে বাঁচাতে প্রায়ই জরুরি ভিত্তিতে রক্ত দেওয়ার প্রয়োজন হয়। যেমন—অতিরিক্ত রক্তক্ষরণ হলে, রক্তবমি বা পায়খানার সঙ্গে রক্ত গেলে, দুর্ঘটনায় আহত রোগী, অস্ত্রোপচারের রোগী, সন্তান প্রসবকালে, ক্যানসার বা অন্যান্য জটিল রোগে, অ্যানিমিয়া, থ্যালাসেমিয়া, হিমোফিলিয়া, ডেঙ্গু হিমোরেজিক ফিভার ইত্যাদি রোগের কারণে রক্ত সঞ্চালনের প্রয়োজন পড়ে। বাংলাদেশের মতো দেশে বছরে ৫-৭ লাখ ব্যাগ রক্তের প্রয়োজন হয়, যার মাত্র ৩১ ভাগ পাওয়া যায় স্বেচ্ছায় রক্তদাতার মাধ্যমে। বাকি রক্ত অধিকাংশ ক্ষেত্রে পেশাদার রক্তদাতা এবং আত্মীয়স্বজন ও বন্ধুবান্ধবের মাধ্যমে সংগ্রহ করা হয়। ১৮ থেকে ৬০ বছরের যে কোনো শারীরিক ও মানসিকভাবে সুস্থ ও সক্ষম ব্যক্তি, যার শরীরের ওজন ৪৫ কেজির ওপরে, তারা চার মাস পরপর  নিয়মিত রক্তদান করতে পারেন। তবে রক্ত দিতে হলে কিছু রোগ থেকে মুক্ত থাকতে হবে। বিশ্বস্বাস্থ্য সংস্থার নির্দেশ অনুযায়ী নিরাপদ রক্ত সঞ্চালনের জন্য রক্তদাতার শরীরে কমপক্ষে পাঁচটি রক্তবাহিত রোগের অনুপস্থিতি পরীক্ষা করে নিশ্চিত হতে হবে। এ রোগগুলো হলো হেপাটাইটিস ‘বি’, হেপাটাইটিস ‘সি’, এইচআইভি বা এইডসের ভাইরাস, ম্যালেরিয়া ও সিফিলিস। রোগের স্ক্রিনিং করার পর এসব রোগ থেকে মুক্ত থাকলেই সেই রক্ত রোগীর শরীরে দেওয়া যাবে। অবশ্য একই সঙ্গে রোগীর এবং রক্তদাতার রক্তের গ্রুপিং ও  ক্রসম্যাচিং করাটাও জরুরি। এছাড়া রক্তদাতা শারীরিকভাবে রক্তদানে উপযুক্ত কি না, তা জানার জন্য তার শরীরের ওজন, তাপমাত্রা, নাড়ির গতি, রক্তচাপ, রক্তস্বল্পতার উপস্থিতি ইত্যাদি পরীক্ষা করে দেখা হয়। তবে রক্ত যারা দিতে পারেন না—(১) রক্তের হিমোগ্লোবিনের মাত্রা কম থাকলে (পুরুষদের ন্যূনতম ১২ গ্রাম/ডেসিলিটার এবং নারীদের ন্যূনতম ১১ গ্রাম/ডেসিলিটার)। (২) রক্তচাপ ও শরীরের তাপমাত্রা স্বাভাবিক থাকলে। (৩) কিছু রোগ শনাক্ত হলে, যেমন—হেপাটাইটিস ‘বি’ বা ‘সি’, জন্ডিস, এইডস, সিফিলিস, গনোরিয়া, ম্যালেরিয়া ইত্যাদি। (৪) শ্বাসপ্রশ্বাসজনিত রোগ; যেমন, হাঁপানি, সিওপিডি, হৃদরোগ, অন্য কোনো জটিল রোগ। (৫) অন্তঃসত্ত্বা নারী, ঋতুস্রাব চলাকালীন, সন্তান জন্মদানের এক বছরের মধ্যে। (৬) যারা কিছু ওষুধ সেবন করছেন, যেমন—কেমোথেরাপি, হরমোন, অ্যান্টিবায়োটিক ইত্যাদি। (৭) ছয় মাসের মধ্যে বড় কোনো দুর্ঘটনা বা অপারেশন হলে। অনেকে রক্তদানে ভয় পান। কেউ কেউ ভাবেন, এতে স্বাস্থ্যের ক্ষতি হবে, দুর্বল হয়ে পড়বেন বা রোগাক্রান্ত হয়ে পড়বেন। কেউ আবার মনে করেন এতে হৃদপিণ্ড দুর্বল বা রক্তচাপ কম হয়, এমনকি কার্যক্ষমতা কমে যাওয়ার আশঙ্কা করেন। তদুপরি কিছু সামাজিক বা ধর্মীয় কুসংস্কার আর অজ্ঞতা অনেক সময় মানুষকে রক্তদানে নিরুত্সাহিত করে। বলা বাহুল্য, এগুলো সম্পূর্ণ অমূলক। কেউ ধর্মের দোহাই দিয়ে বলেন, রক্তদান করা নিষিদ্ধ, তাই অন্যকে রক্তদান থেকে বিরত রাখেন। কিন্তু এগুলোর কোনো ভিত্তিই নেই। যে কোনো সুস্থ-সবল মানুষ রক্তদান করলে রক্তদাতার স্বাস্থ্যের কোনো ক্ষতি হয় না। এমনিতেই রক্তের লোহিত কণিকাগুলো স্বাভাবিক প্রক্রিয়ায় চার মাস পরপর নষ্ট বা ক্ষয়প্রাপ্ত হয়। সুতরাং এমনি এমনি নষ্ট করার চেয়ে তা স্বেচ্ছায় অন্যের জীবন বাঁচাতে দান করাই উত্তম। বরং রক্তদানে যেসব উপকার হয়; তা হলো, (১) রক্তদানে উচ্চ রক্তচাপের ঝুঁকি কমে এবং রক্তের কোলেস্টেরলের মাত্রাও কমে যায়। ফলে হৃদরোগ, স্ট্রোক ইত্যাদি মারাত্মক রোগের আশঙ্কা হ্রাস পায়। (২) নিয়মিত রক্তদান করলে অস্থিমজ্জা থেকে নতুন কণিকা তৈরি হয়, ফলে অস্থিমজ্জা সক্রিয় থাকে। এতে যে কোনো দুর্ঘটনা বা অন্য কোনো কারণে হঠাৎ রক্তক্ষরণ হলেও শরীর খুব সহজেই তা পূরণ করতে পারে। (৩) রক্তদানের সময় রক্তে নানা জীবাণুর উপস্থিতি আছে কি না তার জন্য পরীক্ষানিরীক্ষা করা হয়। ফলে রক্তদাতা জানতে পারেন, তিনি কোনো সংক্রামক রোগে ভুগছেন কি না। (৪) অনেক সময় রক্তদাতার শরীরের রোগপ্রতিরোধক্ষমতাও বৃদ্ধি পায়। (৫) যাদের রক্তে আয়রন জমার প্রবণতা আছে, রক্তদান তাদের জন্য ভালো। আয়রন কমাতে সহায়তা করে। (৬) রক্ত দেওয়ার সময় রক্তের গ্রুপিং করা হয়। ফলে রক্তদাতা তার রক্তের গ্রুপ জানতে পারেন। (৭) সাধারণত যে সংস্থার কাছে রক্ত দেওয়া হয়, তারা একটি ‘ডোনার কার্ড’ তৈরি করে দেয়। এই কার্ডের মাধ্যমে একবার রক্ত দিয়েই রক্তদাতা আজীবন নিজের প্রয়োজনে ঐ সংস্থা থেকে রক্ত পেতে পারেন। তাই নিজের ক্ষতি যেখানে হবে না, বরং লাভই হবে এবং একজন মানুষের জীবনও বাঁচবে, তাহলে আমরা স্বেচ্ছায় রক্তদানে এগিয়ে আসব না কেন? সরকারি-বেসরকারিভাবে যারা এই রক্ত সংগ্রহের কাজে জড়িত তারা কিছু বিষয়ে রক্তদাতাদের উত্সাহিত করতে পারেন। যেমন—তাদের সঠিক মূল্যায়ন করা, পুরস্কারের ব্যবস্থা করা বা অন্য কোনোভাবে সম্মানিত করা ইত্যাদি। এতে স্বতঃস্ফূর্তভাবে রক্তদাতার সংখ্যা বেড়ে যাবে, মানুষের মধ্যে সচেতনতা ও উত্সাহ বৃদ্ধি পাবে। মিডিয়া, রাজনীতিবিদ ও সমাজের গণ্যমান্য ব্যক্তিরা ও ধর্মীয় নেতারা এ ব্যাপারে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারেন। মনে রাখতে হবে, আমার শরীরের রক্তে আরেকটি জীবন রক্ষা করছে। পৃথিবীর আলো-বাতাস উপভোগের অপার সুযোগ তৈরি হচ্ছে। তাই পরোপকারই হোক আমাদের জীবনের ব্রত।  যখন পৃথিবীতে ছড়িয়ে পড়ছে অশান্তি, সংঘাত আর বিদ্বেষের বাষ্প, ঠিক তখনই আমরা একবাক্যে বলতে চাই, ‘রক্ত দিয়ে যুদ্ধ নয়, রক্ত দিয়ে জীবন জয়।’

জুন ১৩, ২০২৩
ন্যায্য শর্তে ইউক্রেনে শান্তি ফেরানোর ডাক শলৎসের - image

ন্যায্য শর্তে ইউক্রেনে শান্তি ফেরানোর ডাক শলৎসের

19 সেপ্টেম্বর 2023, বিকাল 6:00

জাতিসংঘে দেওয়া ভাষণে ইউক্রেনের ওপর রাশিয়ার হামলার কড়া নিন্দা করেছেন জার্মান চ্যান্সেলর ওলাফ শলৎস। ন্যায্য শর্তে ইউক্রেনের শান্তি ফেরানোর পক্ষে যুক্তি তুলে ধরেছেন তিনি৷ ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট জেলেনস্কিও সমর্থনের আবেদন জানিয়েছেন৷ প্রায় ১৯ মাস ধরে ইউক্রেনের ওপর রাশিয়ার হামলার বিরুদ্ধে পশ্চিমা বিশ্ব যেভাবে একজোট হয়ে নিন্দা করে চলেছে, বিশ্বের বাকি অংশে সেরকম মনোভাব দেখা যাচ্ছে না৷ জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদে তাই যুক্তরাষ্ট্র ও পশ্চিমা বিশ্বের নেতারা রাশিয়ার বিরুদ্ধে কড়া অবস্থানের আহ্বান জানাচ্ছেন৷ তাদের মতে, এই ‘অন্যায়’ হামলা মেনে নিলে তার পরিণতি গোটা বিশ্বের জন্য মারাত্মক হতে পারে৷ আজ যারা রাশিয়ার বিরুদ্ধে মুখ খুলছে না, আগামীকাল তারাই একই অন্যায়ের শিকার হতে পারে৷ ব্রাজিল, ভারত ও সৌদি আরবের মতো দেশ ইউক্রেন সংকট অবসানের লক্ষ্যে যে শান্তির উদ্যোগের কথা বলেছে, তেমন সম্ভাব্য সমাধানসূত্রের গ্রহণযোগ্যতা সম্পর্কেও সংশয় প্রকাশ করছেন অনেক নেতা৷ জার্মান চ্যান্সেলর ওলাফ শলৎস জাতিসংঘে তাঁর ভাষণে আন্তর্জাতিক উদ্যোগে ইউক্রেনে শান্তি আনার পক্ষে সমর্থন জানিয়েছেন৷ গত আগস্টে সৌদি আরবে ৪০টিরও বেশি দেশ মিলে ইউক্রেনে শান্তি আনতে যে সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়েছিল, তা নিয়ে শলৎস বলেন, ‘যুদ্ধের ফলে বিশ্বজুড়ে যে অসহনীয় পরিণতি দেখা যাচ্ছে, ঠিক সে কারণেই এমন আন্তর্জাতিক প্রচেষ্টার প্রয়োজন রয়েছে৷ তবে শুধু নামেই নয়, প্রকৃত অর্থে শান্তি না ফিরলে দুর্বল কোনো সমাধানসূত্র কাজ করবে না।’ জার্মান চ্যান্সেলর বলেন, ‘স্বাধীনতা ছাড়া শান্তির অর্থ নিপীড়ন৷ ন্যয়বিচার ছাড়া শান্তির অর্থ স্বৈরাচার৷ মস্কোকে অবশেষে তা বুঝতে হবে৷’ ওলাফ শলৎস আবারও সরাসরি রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের উদ্দেশে যুদ্ধ বন্ধ করার ডাক দেন৷ শলৎস মনে করিয়ে দেন, রাশিয়াই এই যুদ্ধের জন্য দায়ী৷ রাশিয়ার প্রেসিডেন্টের একটি নির্দেশেই যুদ্ধ বন্ধ হতে পারে৷ জাতিসংঘের সদস্য দেশগুলো সাধারণ নীতিকে প্রকৃত অর্থে গুরুত্ব দিলেই কেবল পুতিন এই পদক্ষেপ নিতে পারেন৷ ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভোলোদিমির জেলেনস্কিও জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের উদ্দেশে রাশিয়ার ‘গণহত্যার’ বিরুদ্ধে একজোটে রুখে দাঁড়ানোর আহ্বান জানিয়েছেন৷ তিনি দ্বিধাগ্রস্ত উন্নয়নশীল দেশগুলোকেও ইউক্রেনের জয়ের গুরুত্ব বোঝানোর চেষ্টা করেন৷ রাশিয়ার হামলা বন্ধ করতে এক শান্তি সম্মেলনে জেলেনস্কি বিশ্বনেতাদের আমন্ত্রণ জানিয়েছেন৷ জেলেনস্কি বলেন, মানবজাতির ইতিহাসে এই প্রথম আক্রান্ত দেশের শর্ত অনুযায়ী হামলা বন্ধ করার সুযোগ দেখা দিচ্ছে৷ এমন দৃষ্টান্ত অন্যান্য দেশের বিরুদ্ধে হামলা বন্ধ করতে সাহায্য করবে এবং সার্বভৌমত্ব রক্ষা করবে৷ বিশেষ করে, রাশিয়ার অন্যান্য প্রতিবেশী দেশগুলোর ঝুঁকির কথা উল্লেখ করেন ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট৷ জেলেনস্কি বলেন, ‘রাশিয়া বেলারুশ প্রায় গিলে ফেলেছে৷ কাজাখস্তান ও বাল্টিক দেশগুলোও রাশিয়ার হুমকির মুখে রয়েছে৷’ কাজাখস্তান ও মধ্য এশিয়ার অন্যান্য সাবেক সোভিয়েত প্রজাতন্ত্রের শীর্ষ নেতারা জাতিসংঘে মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনের সঙ্গে এক বৈঠকে মিলিত হয়েছেন৷ এ ধরনের শীর্ষ সম্মেলনে বাইডেন এই প্রথম এসব দেশের ঐক্য, অখণ্ডতা, স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্বের প্রতি যুক্তরাষ্ট্রের সমর্থন জানিয়েছেন৷

সেপ্টেম্বর ১৯, ২০২৩
যুদ্ধ, স্যাংশন ও সংঘাতের পথ এড়াতে বিশ্বনেতাদের প্রতি প্রধানমন্ত্রীর আহ্বান - image

যুদ্ধ, স্যাংশন ও সংঘাতের পথ এড়াতে বিশ্বনেতাদের প্রতি প্রধানমন্ত্রীর আহ্বান

22 সেপ্টেম্বর 2023, বিকাল 6:00

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা শুক্রবার (২২ সেপ্টেম্বর) জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের (ইউএনজিএ) ৭৮তম অধিবেশনে তাঁর দেওয়া ভাষণে যুদ্ধ, স্যাংশন ও সংঘাতের পথ পরিহারে বিশ্বনেতাদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তার ভাষণে বলেন, ‘বিশ্ব নেতাদের কাছে আমার আবেদন, আসুন যুদ্ধ, স্যাংশন ও সংঘাতের পথ পরিহার করি এবং আমাদের জনগণ ও ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য স্থায়ী শান্তি, মানবজাতির কল্যাণ এবং অর্থনৈতিক সমৃদ্ধির জন্য সম্মিলিতভাবে কাজ করি।’প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট আমার পিতা, জাতির পিতা ও বাংলাদেশের তৎকালীন রাষ্ট্রপতি বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে নির্মমভাবে হত্যা করা হয়। সেদিন আমার মা, আমার তিন ছোট ভাই, দুই ভ্রাতৃবধূ, চাচাসহ পরিবারের মোট আঠার সদস্যকে হত্যা করা হয়েছিল। আমার ছোট বোন এবং আমি বিদেশে থাকায় সেই বর্বরতা থেকে বেঁচে গিয়েছিলাম। এর আগে ১৯৭১ সালে মহান মুক্তিযুদ্ধে আমাদের ত্রিশ লাখ দেশবাসীকে হত্যা করা হয়, দুই লাখ নারী নির্মম নির্যাতনের শিকার হন। আমি নিজে নিপীড়িত এবং যুদ্ধ ও হত্যার নৃশংসতার প্রত্যক্ষদর্শী হিসেবে যুদ্ধ, হত্যা, অভ্যুত্থান ও সংঘাতের ভয়াবহতার কারণে মানুষ যে বেদনা ও যন্ত্রণা সহ্য করে তা অনুভব করতে পারি।’ প্রধানমন্ত্রী তাঁর ভাষণে রোহিঙ্গা সংকটের ওপর আলোকপাত করে বলেন, ‘বাস্তুচূত রোহিঙ্গারা তাদের নিজ দেশ মিয়ানমারে ফিরে যেতে চায় এবং সেখানে তারা শান্তিপূর্ণ জীবনযাপন করতে আগ্রহী। আসুন আমরা এই নিঃস্ব মানুষের জন্য তাদের নিজের দেশে ফিরে যাওয়া নিশ্চিত করি।’ প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৭৮তম অধিবেশন ও অন্যান্য উচ্চ পর্যায়ের অনুষ্ঠানে যোগ দিতে ১৭ সেপ্টেম্বর নিউইয়র্কে পৌঁছান। তিনি ২৩ সেপ্টেম্বর ওয়াশিংটনের উদ্দেশে নিউইয়র্ক ত্যাগ করবেন এবং সেখানে ২৯ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত অবস্থান করবেন। যুক্তরাষ্ট্রের ওয়াশিংটন সফর শেষ করে তিনি ২৯ সেপ্টেম্বর লন্ডনের উদ্দেশে রওনা হবেন। সেখানে ৩ অক্টোবর পর্যন্ত অবস্থান করবেন এবং অবশেষে ৪ অক্টোবর তার দেশে ফেরার কথা রয়েছে।

সেপ্টেম্বর ২২, ২০২৩
চিকিৎসাশাস্ত্রের পুরস্কার দিয়ে শুরু হচ্ছে নোবেল প্রদান - image

চিকিৎসাশাস্ত্রের পুরস্কার দিয়ে শুরু হচ্ছে নোবেল প্রদান

01 অক্টোবর 2023, বিকাল 6:00

নারকোলেপসি, ক্যানসার অথবা মনো-আরএনএ টিকা নিয়ে গবেষণা এ বছরের চিকিৎসাশাস্ত্রে নোবেল পেতে পারে। আজ সোমবার (২ অক্টোবর) শুর হতে যাওয়া সপ্তাহব্যাপী ঘোষণায় অবশ্য বিশেষজ্ঞরা কাউকে নোবেল পুরস্কার অর্জনের বিষয়ে পরিষ্কারভাবে এগিয়ে রাখছেন না ১৯০১ সালে চালু হয় নোবেল পুরস্কার প্রদান। আর এর উদ্যোক্তা হচ্ছেন সুইডিশ মানবহিতৈষী ও উদ্ভাবক আলফ্রেড নোবেল যিনি ১৮৯৫ সালে এক উইলে ‘মানবজাতির সর্বোচ্চ সেবায় অবদান রাখা’ ব্যক্তিদের জন্য এই পুরস্কার নিবেদিত করেছেন। নোবেল পুরস্কারের মধ্যে চিকিৎসাশাস্ত্রের পুরস্কারটি আজ সোমবার স্টকহোমে স্থানীয় সময় সকাল সাড়ে ১১টায় (গ্রিনিচ মান সময় সকাল সাড়ে ৯টা) ঘোষণা করা হবে। এরপর মঙ্গলবার ঘোষণা করা হবে পদার্থবিজ্ঞানের পুরস্কার, বুধবারে রসায়ন এবং বৃহস্পতিবার ঘোষিত হবে সাহিত্যের পুরস্কার। আগামী শুক্রবার অসলো থেকে ঘোষণা করা হবে বহুকাঙ্খিত নোবেল শান্তি পুরস্কার। আর অর্থনীতির পুরস্কারটি ঘোষণা করা হবে ৯ অক্টোবর।খবর এএফপির। নোবেল পুরস্কার পর্যবেক্ষকরা মনে করছেন এবারের চিকিৎসাশাস্ত্রে পুরস্কার পেতে যাচ্ছেন নারকোলেপসি এবং ওরেক্সিন নিয়ে কাজ করা গবেষকরা। মূলত মানুষের ঘুমকে নিয়ন্ত্রণ করার বিষয় নিয়ে এই গবেষণাগুলো করা হচ্ছে। এছাড়া চিকিৎসায় পুরস্কারটি পেতে পারেন হাঙ্গেরিয়ান বংশোদ্ভূত কাতালিয়ান কারিকো এবং যুক্তষ্ট্রের ড্রিউ ওয়েসম্যান। কোভিড-১৯ এর বিরুদ্ধে যুদ্ধে ফাইজার ও মডার্নার তৈরি টিকার মনো-আরএনএ নিয়ে গবেষণায় তাদের অবদান অবিস্মরণীয়। তবে, এ বিষয়ে পুরস্কার প্রদানে নোবেল কমিটি আরও সময় নিতে পারে বলেও মনে করছেন কেউ কেউ।

অক্টোবর ০১, ২০২৩
মানবজাতিকে রক্ষায় সব ধরনের যুদ্ধকে না বলুন : প্রধানমন্ত্রী - image

মানবজাতিকে রক্ষায় সব ধরনের যুদ্ধকে না বলুন : প্রধানমন্ত্রী

22 নভেম্বর 2023, বিকাল 6:00

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, মানবজাতি ও মানবতা রক্ষায় সব ধরনের যুদ্ধ ও সংঘাতকে বিশ্বের দৃঢ়ভাবে না বলতে হবে। আজ বুধবার (২২ নভেম্বর) সন্ধ্যায় প্রধানমন্ত্রীর সরকারি বাসভবন গণভবন থেকে ভার্চ্যুয়াল প্লাটফর্মে ভারতের নয়াদিল্লিতে অনুষ্ঠিত ‘জি২০ লিডারস সামিট ২০২৩’-এ বক্তব্য দেওয়ার সময় শেখ হাসিনা এ কথা বলেন। শেখ হাসিনা বলেন, ‘আজকের বিশ্বায়নের পরিস্থিতিতে মানুষের জীবন ও মানবতাকে বাঁচাতে সব যুদ্ধ ও সংঘাতকে দৃঢ়ভাবে না বলা অবশ্যই সহজ হবে। এবারের শীর্ষ সম্মেলনের প্রতিপাদ্য ‘এক পৃথিবী, এক পরিবার, এক ভবিষ্যৎ’- আমাদের ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য একটি সুরক্ষিত ও সুন্দর পৃথিবী গড়ে তুলতে সবাইকে অনুপ্রাণিত করবে। ইউরোপের বর্তমান যুদ্ধজনিত নিষেধাজ্ঞা ও পাল্টা নিষেধাজ্ঞার ফলে বিশ্বব্যাপী মানবিক ও অর্থনৈতিক ক্ষতি হয়েছে এবং হচ্ছে। দেড় মাসেরও বেশি সময় ধরে আমরা ফিলিস্তিনে পাঁচ হাজারের বেশি নিরপরাধ-নিষ্পাপ শিশুসহ হাজার হাজার নারী-পুরুষকে নির্মম হত্যা ও মর্মান্তিকভাবে গণহত্যা করতে দেখছি। এসব জঘন্য হত্যাযজ্ঞ গোটা বিশ্বকে হতবাক করেছে এবং বিশ্বব্যাপী দুর্দশাকে আরও তীব্র ও অর্থনৈতিক অগ্রগতিকে মন্থর করেছে।’ শেখ হাসিনা বলেন, ‘আমি আজকের শীর্ষ সম্মেলনে উপস্থিত সব সম্মানিত বিশ্ব নেতার প্রতি গাজায় অবিলম্বে যুদ্ধবিরতির এক সুরে আওয়াজ তুলতে এবং এ যুদ্ধে ক্ষতিগ্রস্তদের জন্য অবিলম্বে নির্বিঘ্নে মানবিক ত্রাণ পাঠাতে উদাত্ত আহ্বান জানাচ্ছি।’ ‘সৎ প্রতিবেশী-সুলভ সুসম্পর্ক গড়ে তোলা ও বিশ্বব্যাপী এর প্রসার একটি ভালো সূচনা হতে পারে’ উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘বাংলাদেশ ও প্রতিবেশী ভারতের চমৎকার সম্পর্কের প্রতি সবার দৃষ্টি আকর্ষণ করছি যা প্রতিবেশী কূটনীতির রোল মডেল হিসেবে স্বীকৃত হয়েছে। প্রতিবেশীরা অবশ্যই বন্ধুত্বপূর্ণ সংলাপের মাধ্যমে সব সমস্যার সমাধান করতে পারে। আমরা আমাদের সমুদ্রসীমা ও স্থলসীমানা মীমাংসার মাধ্যমে তা প্রমাণ করেছি।’ ‘বাংলাদেশ একটি শান্তিপূর্ণ ও সমৃদ্ধ বিশ্বের জন্য প্রতিশ্রুতিবদ্ধ’ উল্লেখ করে শেখ হাসিনা বলেন, ‘আমি আনন্দিত যে গত এক বছরের জি২০ প্লাটফর্মে আমাদের আন্তরিক আলোচনা, বিশেষ করে নেতৃবৃন্দের এ শীর্ষ সম্মেলন আমাদের মধ্যে উদ্দেশ্য ও দায়িত্ববোধের সঞ্চার করেছে।’

নভেম্বর ২২, ২০২৩
প্রযুক্তির প্রসার ও অগ্রযাত্রার সঙ্গে বাড়ছে নতুন নতুন হুমকি: প্রধানমন্ত্রী - image

প্রযুক্তির প্রসার ও অগ্রযাত্রার সঙ্গে বাড়ছে নতুন নতুন হুমকি: প্রধানমন্ত্রী

28 মে 2024, বিকাল 6:00

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, প্রযুক্তির সাম্প্রতিক প্রসার ও অগ্রযাত্রার সঙ্গে বাড়ছে নতুন নতুন হুমকি। ফলে জাতিসংঘের শান্তিরক্ষা মিশনগুলোর শান্তিরক্ষীদের বহুমাত্রিক জটিল পরিস্থিতি মোকাবিলা করতে হচ্ছে। বুধবার (২৯ মে) সকালে বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে ‘আন্তর্জাতিক জাতিসংঘ দিবস-২০২৪’ উদযাপন উপলক্ষ্যে আয়োজিত অনুষ্ঠানে এসব কথা বলেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, শান্তিরক্ষা মিশনগুলো উন্নত প্রযুক্তির মাধ্যমে সমৃদ্ধ করার প্রয়োজনীয়তা এখন বহুগুণ বৃদ্ধি পেয়েছে। বাংলাদেশের শান্তিরক্ষীরা বিশ্বের সবচেয়ে চ্যালেঞ্জিং ও বিপজ্জনক অঞ্চলে সৃষ্ট পরিস্থিতি মোকাবিলা করতে পারে, সেজন্য তাদের সময়োপযোগী প্রশিক্ষণ দিয়ে প্রস্তুত রাখা হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশ অন্যতম বৃহৎ নারী শান্তিরক্ষী দেশ হিসেবেও পরিচিতি লাভ করছে। এ পর্যন্ত বাংলাদেশের তিন হাজার ৩৮ জন নারী শান্তিরক্ষী অত্যন্ত সফলতার সঙ্গে জাতিসংঘের শান্তি মিশন সম্পন্ন করেছেন। অস্ত্র তৈরি ও প্রতিযোগিতা না করে সেই অর্থ জলবায়ু পরিবর্তনের অভিঘাতে ক্ষতিগ্রস্ত দেশগুলোর মানুষদের রক্ষার জন্য ব্যয় করার আহ্বান জানিয়ে সরকার প্রধান বলেন, বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তে দ্বন্দ্ব সংঘাত যুদ্ধ আজ বিশ্বশান্তি বিঘ্নিত করছে। রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ, গাজায় ইসরাইলের হামলায় হাজার হাজার নিরীহ মানুষের মৃত্যু হচ্ছে, মিয়ানমারের রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীকে জোরপূর্বক বাস্তুচ্যুত করা ইত্যাদি মানবজাতির জন্য এক ভয়াবহ পরিস্থিতি সৃষ্টি করেছে। শেখ হাসিনা বলেন, আমি ঠিক জানি না এই সংঘাত বা এই যুদ্ধ মানবজাতির জন্য কি কল্যাণ বয়ে আনছে। অস্ত্র প্রতিযোগিতা প্রতিনিয়ত যত বৃদ্ধি পাচ্ছে, মানুষের জীবনও তত বেশি দুর্বিষহ হয়ে উঠছে। বিশেষ করে নারী-শিশু, তারা সবচেয়ে বেশি কষ্ট পাচ্ছে। যুবকেরা অকাতরে জীবন দিচ্ছে। তিনি বলেন, আমরা যুদ্ধ চাই না শান্তি চাই, আলাপ-আলোচনার মাধ্যমে সব কিছু সমাধান করতে চাই। বিশ্বের এক বিশাল সংখ্যক মানুষ এখনো দারিদ্রসীমার নিচে রয়েছে। কোটি কোটি মানুষ দু’বেলা খাবার পায় না, শিশুরা শিক্ষা পায় না, শিক্ষার আলো থেকে বঞ্চিত। যারা অস্ত্র তৈরি ও অস্ত্র প্রতিযোগিতায় এত অর্থ ব্যয় করছে, তাদের কাছে আমার আহ্বান, আমরা শান্তির কথা বলি কিন্তু সংঘাতে লিপ্ত হই কেন?

মে ২৮, ২০২৪
footer small logo

যোগাযোগ :

এটিএন বাংলা, ওয়াসা ভবন, ২য় তলা, ৯৮ কাজী নজরুল ইসলাম এভিনিউ, কাওরান বাজার, ঢাকা-১২১৫, বাংলাদেশ

ফোনঃ +88-02-55011931

সোশ্যাল মিডিয়া

youtube logotwitter logofacebook logo

Design & Developed by:

developed-company-logo