
এটিএন বাংলা, ওয়াসা ভবন, ২য় তলা, ৯৮ কাজী নজরুল ইসলাম এভিনিউ, কাওরান বাজার, ঢাকা-১২১৫, বাংলাদেশ
ফোনঃ +88-02-55011931
এ সম্পর্কিত আরও খবর
মধ্যপ্রাচ্যে চলমান উত্তেজনা ও যুদ্ধবিরতির পরিস্থিতির মাঝে যুক্তরাষ্ট্রকে কঠোর হুঁশিয়ারি দিয়েছে ইরান। তেহরান জানিয়েছে, মার্কিন বাহিনী যদি যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘন করে ইরানের কোনো স্থাপনায় হামলা চালায়, তবে ওয়াশিংটনের মিত্র হিসেবে পরিচিত উপসাগরীয় দেশগুলোতে এর চারগুণ শক্তিশালী প্রতিশোধমূলক হামলা চালানো হবে। রোববার (২৬ এপ্রিল) ইরানের ভাইস-প্রেসিডেন্ট ইসমাঈল সাঘাব এস্ফাহানি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে এই কড়া বার্তা প্রদান করেন।
ভাইস-প্রেসিডেন্ট এস্ফাহানি তাঁর বার্তায় স্পষ্ট করেছেন যে, ইরানের তেলকূপ বা কোনো গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো আক্রান্ত হলে তেহরান হাত গুটিয়ে বসে থাকবে না। তিনি বলেন, “যুদ্ধসংক্রান্ত যে কোনো ঘটনার প্রতিক্রিয়ায় আমরা যতদ্রুত সম্ভব সাড়া দেবো।” বিশেষ করে যেসব দেশ আগ্রাসনকারীদের (যুক্তরাষ্ট্র) ঘাঁটি বা সহযোগিতা প্রদান করবে, তাদের লক্ষ্য
ইরানের পক্ষ থেকে এই হুঁশিয়ারিতে এক অভিনব গাণিতিক সমীকরণের কথা উল্লেখ করা হয়েছে। ভাইস-প্রেসিডেন্টের ভাষায়, “আমরা ভিন্ন ধারার অঙ্ক চর্চা করি। এই অঙ্কে ইরানের একটি তেলকূপ মার্কিন মিত্রদের চারটি কূপের সমান।” এই বক্তব্যের মাধ্যমে তিনি মূলত বুঝিয়ে দিয়েছেন যে, ইরানের সম্পদের ওপর সামান্যতম আঘাত আসলে তার বিনিময়ে মিত্র দেশগুলোর বিপুল ক্ষয়ক্ষতির দায়ভার নিতে হবে ওয়াশিংটনকে।
এর আগে শনিবার মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দাবি করেছিলেন যে, ইরানের ওপর আরোপিত মার্কিন অবরোধ তেহরানকে অর্থনৈতিকভাবে কোণঠাসা করে ফেলেছে। ফক্স নিউজকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প বলেন, হরমুজ প্রণালি ও আরব সাগরে মার্কিন প্রতিরক্ষা বাহিনীর কঠোর অবস্থানের কারণে ইরানের তেলবাণিজ্য মুখ থুবড়ে পড়েছে। ট্রাম্প আরও দাবি করেন, অর্থাভাবে ইরানের সামরিক ও পুলিশ বাহিনী বেতন পাচ্ছে না এবং দেশটি প্রতিদিন ৫০ কোটি ডলার লোকসান গুনছে।
প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের এমন দাবি ও তাঁর সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্ম ‘ট্রুথ সোশ্যাল’-এ দেওয়া পোস্টের ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই ইরান এই পাল্টাহুঁশিয়ারি দিল। মূলত উপসাগরীয় দেশগুলোকে সতর্ক করার মাধ্যমে ইরান এই বার্তাই দিতে চেয়েছে যে, যুক্তরাষ্ট্রের কোনো পদক্ষেপের সহযোগী হলে এই অঞ্চলের স্থিতিশীলতা চরম ঝুঁকির মুখে পড়বে। তেহরানের এই অনড় অবস্থান মধ্যপ্রাচ্যের ভূ-রাজনীতিতে নতুন করে অস্থিরতার আশঙ্কা বাড়িয়ে দিয়েছে।
/টিএ