
এটিএন বাংলা, ওয়াসা ভবন, ২য় তলা, ৯৮ কাজী নজরুল ইসলাম এভিনিউ, কাওরান বাজার, ঢাকা-১২১৫, বাংলাদেশ
ফোনঃ +88-02-55011931
এ সম্পর্কিত আরও খবর
দীর্ঘ দুই মাসের রক্তক্ষয়ী যুদ্ধ ও দীর্ঘদিনের সামরিক উত্তেজনার অবসান ঘটাতে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান আলোচনার টেবিলে বসলেও শান্তি প্রক্রিয়া এখন খাদের কিনারায়। তেহরান ও ওয়াশিংটনের মধ্যে পাঁচটি মৌলিক বিষয়ে তীব্র মতপার্থক্য দেখা দেওয়ায় একটি স্থায়ী চুক্তিতে পৌঁছানোর সম্ভাবনা ক্ষীণ হয়ে পড়েছে। আল-জাজিরার প্রতিবেদন অনুযায়ী, এই পাঁচটি প্রধান শর্তই এখন দুই দেশের মধ্যে বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে।
প্রথমত, পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে দুই পক্ষ সম্পূর্ণ বিপরীত মেরুতে অবস্থান করছে। যুক্তরাষ্ট্র চায় ইরান তাদের পারমাণবিক কার্যক্রম পুরোপুরি এবং স্থায়ীভাবে বন্ধ করুক। তবে তেহরান এই প্রস্তাব সরাসরি প্রত্যাখ্যান করে জানিয়েছে, কোনো বিধিনিষেধই স্থায়ী হবে না এবং এটি কেবল নির্দিষ্ট কিছু বছরের জন্য কার্যকর হতে পারে।
দ্বিতীয়ত, ইরানের হাতে থাকা ৪০০ কেজি উচ্চ মাত্রার সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম নিয়ে নতুন করে সংকট তৈরি হয়েছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দাবি তুলেছেন যে, এই বিশাল মজুত নিরাপত্তার স্বার্থে সরাসরি যুক্তরাষ্ট্রের হেফাজতে রাখতে হবে। ইরান এই দাবিকে তাদের সার্বভৌমত্বের ওপর আঘাত হিসেবে দেখছে এবং আলোচনার শুরুতেই এই প্রস্তাব নাকচ করে দিয়েছে।
তৃতীয়ত, অবরোধ প্রত্যাহার ও হরমুজ প্রণালির নিরাপত্তা নিয়ে উভয় দেশ অনড় অবস্থানে রয়েছে। ইরান স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে, তাদের বন্দরগুলোর ওপর থেকে মার্কিন অবরোধ না তোলা পর্যন্ত তারা হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচলের ওপর বিধিনিষেধ জারি রাখবে। বিপরীতে, প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প হুঁশিয়ারি দিয়েছেন যে চূড়ান্ত চুক্তি স্বাক্ষরের আগে কোনোভাবেই কোনো অর্থনৈতিক অবরোধ তুলে নেওয়া হবে না।
চতুর্থত, অর্থনৈতিক সংকট কাটাতে ইরান বিদেশে আটকে থাকা তাদের প্রায় ২ হাজার কোটি ডলার ফেরত পাওয়ার শর্ত জুড়ে দিয়েছে। দীর্ঘস্থায়ী চুক্তির অংশ হিসেবে তেহরান কেবল এই অর্থই নয়, বরং দেশের ওপর থাকা সব ধরনের আন্তর্জাতিক ও দ্বিপাক্ষিক অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা একযোগে প্রত্যাহারের জোরালো দাবি জানিয়েছে, যা ওয়াশিংটনের জন্য মেনে নেওয়া কঠিন হয়ে পড়েছে।
সর্বশেষ এবং সবচেয়ে আলোচিত বিষয়টি হলো ইরানের বিশাল অংকের ক্ষতিপূরণের দাবি। তেহরান দাবি করেছে যে, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলায় তাদের দেশের যে অপূরণীয় ক্ষতি হয়েছে, তার বিনিময়ে দেশ দুটিকে সম্মিলিতভাবে ২৭ হাজার কোটি ডলার ক্ষতিপূরণ দিতে হবে। কূটনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এই কঠিন শর্তগুলোর মারপ্যাঁচে শান্তি আলোচনা এখন কার্যত স্থবির হয়ে পড়েছে, যা মধ্যপ্রাচ্যের সংকটকে আরও ঘনীভূত করতে পারে।
/টিএ