
এটিএন বাংলা, ওয়াসা ভবন, ২য় তলা, ৯৮ কাজী নজরুল ইসলাম এভিনিউ, কাওরান বাজার, ঢাকা-১২১৫, বাংলাদেশ
ফোনঃ +88-02-55011931
এ সম্পর্কিত আরও খবর
লেবাননে ইসরায়েলের বিধ্বংসী ও আগ্রাসী হামলার পর যুক্তরাষ্ট্রকে কঠোর সতর্কবার্তা দিয়েছেন ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী সৈয়দ আব্বাস আরাগচি। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম এক্সে (X) দেওয়া এক বার্তায় তিনি সাফ জানিয়েছেন, যুক্তরাষ্ট্রকে এখন হয় ইরানের সঙ্গে যুদ্ধবিরতি বজায় রাখা, অথবা ইসরায়েলের পক্ষে যুদ্ধ করা—এই দুটির মধ্যে একটি বেছে নিতে হবে। আরাগচি স্পষ্টভাবে বলেছেন যে, "এই দু’টো বিষয় একসঙ্গে চলতে পারে না" এবং বর্তমান পরিস্থিতিতে বল এখন যুক্তরাষ্ট্রের কোর্টেই রয়েছে।
আশ্চর্যের বিষয় হলো, গত ৭ এপ্রিল যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে ১৫ দিনের একটি অস্থায়ী যুদ্ধবিরতি ঘোষিত হয়েছিল। যখন এই বিরতিকে স্থায়ী রূপ দেওয়ার কূটনৈতিক প্রচেষ্টা চলছিল, ঠিক তখনই বুধবার লেবাননজুড়ে ১০০টিরও বেশি বিমান হামলা চালায় ইসরায়েলি
ইসরায়েলি প্রতিরক্ষা বাহিনীর (আইডিএফ) এই অতর্কিত হামলায় লেবাননজুড়ে এক ভয়াবহ মানবিক বিপর্যয় তৈরি হয়েছে। সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, নিহতের সংখ্যা ২৫৪ ছাড়িয়েছে এবং আহত হয়েছেন ১,১০০ জনেরও বেশি মানুষ। বৈরুতসহ বিভিন্ন শহরের হাসপাতালগুলো আহতদের ভিড়ে হিমশিম খাচ্ছে। লেবাননের ফায়ার সার্ভিসের উদ্ধারকারী বাহিনী জানিয়েছে, ধ্বংসস্তূপের নিচে আরও অনেকে আটকা পড়ে থাকায় প্রাণহানির সংখ্যা আরও বৃদ্ধির আশঙ্কা করা হচ্ছে।
এই সংঘাতের মূলে রয়েছে গত বছরের সেপ্টেম্বর থেকে শুরু হওয়া ইসরায়েলি অভিযান, যার লক্ষ্য ছিল ইরান সমর্থিত সশস্ত্র গোষ্ঠী হিজবুল্লাহকে দমন করা। যদিও ২০২৫ সালের অক্টোবরে আন্তর্জাতিক চাপে একটি চুক্তি হয়েছিল, কিন্তু ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারিতে ইরান-যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল সরাসরি যুদ্ধে জড়িয়ে পড়লে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যায়। মার্চ মাস থেকে লেবাননে বিমান হামলার পাশাপাশি স্থল অভিযানও শুরু করে ইসরায়েল, যা বর্তমান উত্তজনাকে চরম পর্যায়ে নিয়ে গেছে।
ইরানের আধাসরকারি সংবাদমাধ্যম তাসনিম নিউজ জানিয়েছে, ইসরায়েল যদি লেবাননে তাদের এই বর্বরোচিত হামলা অব্যাহত রাখে, তবে ইরান যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে হওয়া সাম্প্রতিক যুদ্ধবিরতি চুক্তি থেকে বেরিয়ে যেতে পারে। বিশ্লেষকরা মনে করছেন, যুক্তরাষ্ট্র যদি ইসরায়েলকে নিয়ন্ত্রণে ব্যর্থ হয়, তবে এই আঞ্চলিক যুদ্ধ আরও ভয়াবহ রূপ নিতে পারে। বিশ্ব এখন অধীর আগ্রহে তাকিয়ে আছে, যুক্তরাষ্ট্র তাদের শান্তি বজায় রাখার প্রতিশ্রুতি রক্ষা করে কি না তা দেখার জন্য।
/টিএ