
এটিএন বাংলা, ওয়াসা ভবন, ২য় তলা, ৯৮ কাজী নজরুল ইসলাম এভিনিউ, কাওরান বাজার, ঢাকা-১২১৫, বাংলাদেশ
ফোনঃ +88-02-55011931
এ সম্পর্কিত আরও খবর
দীর্ঘদিনের চরম উত্তেজনার পর অবশেষে পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে দুই সপ্তাহের সাময়িক যুদ্ধবিরতি চুক্তিতে আনুষ্ঠানিকভাবে অনুমোদন দিয়েছে ইরান। এই সমঝোতাটি বিশেষ গুরুত্ব পাচ্ছে কারণ এতে ইরানের নতুন সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ মোজতবা খামেনির সরাসরি সম্মতি রয়েছে। দেশটির সর্বোচ্চ নীতিনির্ধারণী সংস্থা ‘সুপ্রিম ন্যাশনাল সিকিউরিটি কাউন্সিল’ এক বিবৃতিতে এই খবরের সত্যতা নিশ্চিত করে ঐতিহাসিক এই পদক্ষেপের ঘোষণা দিয়েছে।
ইরানের অবস্থান ও ‘বিজয়’ দাবি
ইরানের মেহর নিউজ এজেন্সিতে প্রকাশিত এক বিবৃতিতে এই সাময়িক যুদ্ধবিরতিকে তেহরানের পক্ষ থেকে ‘বিজয়’ হিসেবে অভিহিত করা হয়েছে। তবে সুপ্রিম কাউন্সিল স্পষ্ট করে জানিয়েছে যে, এটি যুদ্ধের চূড়ান্ত সমাপ্তি নয়। বরং তারা একে একটি স্থায়ী ও সম্মানজনক সমাধানের দিকে প্রাথমিক পদক্ষেপ হিসেবে
পাকিস্তানের সক্রিয় মধ্যস্থতা ও কূটনৈতিক সাফল্য
এই পুরো সমঝোতা প্রক্রিয়ার নেপথ্যে মূল কারিগর হিসেবে কাজ করেছে পাকিস্তান। প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরিফ এবং ফিল্ড মার্শাল আসিম মুনিরের নিরলস প্রচেষ্টায় ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যে এই অস্থায়ী বোঝাপড়া গড়ে উঠেছে। ইরানের পক্ষ থেকে পাকিস্তানের এই অভাবনীয় কূটনৈতিক ভূমিকার ভূয়সী প্রশংসা করা হয়েছে। মূলত ইসলামাবাদের সক্রিয় দূতিয়ালিই দুই পরমাণু শক্তি ও আঞ্চলিক পরাশক্তির মধ্যে সরাসরি সংঘাতের ঝুঁকি কমিয়ে এনেছে।
ইসলামাবাদে শান্তি বৈঠক ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা
চুক্তি অনুসারে, স্থায়ী যুদ্ধবিরতি ও দ্বিপাক্ষিক অন্যান্য সংকট নিরসনে বিস্তারিত আলোচনা শুরু হবে পাকিস্তানের রাজধানী ইসলামাবাদে। আগামী শুক্রবার (১০ এপ্রিল) থেকে এই বহুল প্রতিক্ষিত বৈঠক শুরু হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। সেখানে উভয় দেশের উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিরা মুখোমুখি বসে দীর্ঘমেয়াদি শান্তি প্রতিষ্ঠার রূপরেখা নিয়ে আলোচনা করবেন, যা পুরো মধ্যপ্রাচ্যের স্থিতিশীলতায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
বর্তমান পরিস্থিতি ও বিশ্ব বাজারে প্রভাব
সম্প্রতি যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের ওপর বড় ধরনের হামলার হুমকি দিলেও পাকিস্তানের বিশেষ অনুরোধে তিনি তা দুই সপ্তাহের জন্য স্থগিত করেছেন। বিনিময়ে ইরান কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালীতে বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচলের নিরাপত্তা দিতে সম্মত হয়েছে। যদিও ইরান যুক্তরাষ্ট্রের ওপর পূর্ণ আস্থা রাখছে না বলে সতর্ক করেছে, তবুও এই পদক্ষেপ বিশ্ববাজারে তেলের সরবরাহ স্বাভাবিক রাখতে এবং বিশ্ব অর্থনীতিতে স্বস্তি ফিরিয়ে আনতে বড় ভূমিকা রাখবে বলে আশা করা হচ্ছে।
/টিএ