
এটিএন বাংলা, ওয়াসা ভবন, ২য় তলা, ৯৮ কাজী নজরুল ইসলাম এভিনিউ, কাওরান বাজার, ঢাকা-১২১৫, বাংলাদেশ
ফোনঃ +88-02-55011931
এ সম্পর্কিত আরও খবর
যুক্তরাষ্ট্রের শেয়ারবাজারে বড় ধরনের ধসের প্রভাব ছড়িয়ে পড়েছে বিশ্ববাজারে। বৃহস্পতিবার (৫ নভেম্বর) ওয়াল স্ট্রিটে ব্যাপক দরপতনে এক দিনেই প্রায় ২ লাখ ৫০ হাজার কোটি (২.৫ ট্রিলিয়ন) ডলারের বাজারমূল্য হারিয়েছে। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) খাতে বিনিয়োগ কমে যাওয়ার আশঙ্কা এবং যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনের ফলাফল ঘিরে বিনিয়োগকারীদের উদ্বেগে এই পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। এর প্রভাব পড়েছে এশিয়ার বাজারেও। শুক্রবার (৬ নভেম্বর) লেনদেন শুরুর পর দক্ষিণ কোরিয়ার কোস্পি সূচক প্রায় ৯ শতাংশ কমে গেলে পরিস্থিতি সামাল দিতে ২০ মিনিটের জন্য লেনদেন বন্ধ রাখা হয়।
ওয়াল স্ট্রিটে বৃহস্পতিবার প্রযুক্তিনির্ভর নাসডাক সূচক ৫ দশমিক ৫২ শতাংশ কমে সংশোধন পর্যায়ে প্রবেশ করে। গত ৬ অক্টোবরের রেকর্ড সর্বোচ্চ অবস্থান থেকে সূচকটি ১০ শতাংশের বেশি নেমে গেছে। অন্যদিকে, ডাও জোনস ১ হাজার ৮৩৩ পয়েন্ট হারিয়েছে, যা আগের দিনের সব অর্জন মুছে দিয়েছে। এসঅ্যান্ডপি ৫০০ ও ডাও জোনসও বড় দরপতনের মুখে পড়ে। এআই খাতের ভবিষ্যৎ নিয়ে উদ্বেগের প্রভাবে এনভিডিয়ার শেয়ার ৯ দশমিক ৩ শতাংশ, টেসলার ১১ শতাংশ এবং স্পেসএক্সের ৯ শতাংশ কমেছে। চিপ নির্মাতাদের একটি গুরুত্বপূর্ণ সূচকও ১২ দশমিক ৩ শতাংশ কমেছে।
বাজারে অস্থিরতার অন্যতম কারণ হিসেবে দেখা হচ্ছে টেক্সাসের গভর্নর নির্বাচনে ডেমোক্র্যাট প্রার্থী জিনা হিনোজোসার জয়কে। এআই অবকাঠামো নির্মাণে গুরুত্বপূর্ণ এই অঙ্গরাজ্যে গুগল, মেটা, ওরাকল ও ওপেনএআইয়ের মতো প্রতিষ্ঠান বিপুল অর্থ বিনিয়োগ করেছে। তবে নির্বাচনি প্রচারে হিনোজোসা নতুন ডেটা সেন্টার নির্মাণ সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা এবং এ খাতের কিছু কর-সুবিধা বাতিলের প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন। এতে এআই অবকাঠামো ও চিপ নির্মাতা প্রতিষ্ঠানগুলোর ভবিষ্যৎ নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। পাশাপাশি এআই কম্পিউটিং প্রতিষ্ঠান কোরউইভ ও নেবিয়াসের শেয়ার যথাক্রমে প্রায় ১০ ও ১৫ শতাংশ এবং কোয়ালকমের শেয়ার ৯ দশমিক ৫ শতাংশ কমেছে। বাজারের অস্থিরতা পরিমাপক সূচক ভিআইএক্স এক দিনে প্রায় ৭০ শতাংশ বেড়ে যায়।
বিশ্লেষকদের মতে, এআই খাতে অতিরিক্ত বিনিয়োগ, নতুন নিয়ন্ত্রণ এবং চাহিদার তুলনায় বেশি ডেটা সেন্টার নির্মাণের আশঙ্কা বাজারে অস্থিরতা বাড়াচ্ছে। ইয়ারডেনি রিসার্চের প্রেসিডেন্ট এড ইয়ারডেনি মনে করেন, এআই খাতে অতিরিক্ত বিনিয়োগ ও জল্পনা কমানো প্রয়োজন। তাঁর মতে, এআই খাতের বুদবুদ একবারে ফেটে যাওয়ার চেয়ে ধীরে ধীরে সংকুচিত হওয়া ভালো। তবে ট্রুইস্ট অ্যাডভাইজরি সার্ভিসেসের প্রধান বিনিয়োগ কর্মকর্তা কিথ লার্নারের মতে, এই অস্থিরতা দীর্ঘমেয়াদি বিনিয়োগকারীদের জন্য নতুন সুযোগ তৈরি করতে পারে। সব মিলিয়ে এআই খাতের ভবিষ্যৎ, বিনিয়োগের গতি ও নীতিগত পরিবর্তন ঘিরে বিশ্ব শেয়ারবাজারে অনিশ্চয়তা আরও বেড়েছে।
তথ্যসূত্র: সিএনএন
টি/