
এটিএন বাংলা, ওয়াসা ভবন, ২য় তলা, ৯৮ কাজী নজরুল ইসলাম এভিনিউ, কাওরান বাজার, ঢাকা-১২১৫, বাংলাদেশ
ফোনঃ +88-02-55011931
এ সম্পর্কিত আরও খবর
মধ্যপ্রাচ্যে চলমান সংঘাতের মধ্যে কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালি দিয়ে চলাচলের নিষেধাজ্ঞা থেকে চার দেশের বাণিজ্যিক জাহাজকে ছাড় দিয়েছে ইরান। দেশগুলো হলো ভারত, চীন, ইরাক ও কাতার। অন্য দেশের জাহাজ চলাচলে নানা বাধা থাকলেও পারস্পরিক স্বার্থের ভিত্তিতে এই চার দেশের জাহাজকে অবাধে চলাচলের সুযোগ দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে তেহরান।
ইরানের পার্লামেন্টের জাতীয় নিরাপত্তা ও পররাষ্ট্রনীতি কমিটির উপপ্রধান আমির হায়াত মোগাদ্দাম এ তথ্য জানিয়েছেন। ইরানের আধা-সরকারি সংবাদ সংস্থাকে তিনি বলেন, বর্তমানে চারটি দেশকে হরমুজ প্রণালি দিয়ে চলাচলের নিষেধাজ্ঞা থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে। দেশগুলোর জাহাজ অবাধে চলাচল করছে এবং যুক্তরাষ্ট্রও সেগুলোতে বাধা দিচ্ছে না। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, ভারতীয় জাহাজ চলাচলের সুযোগ দেওয়ায় দেশটি থেকে ওষুধ আমদানি করা সম্ভব হবে। অন্যদিকে, চীনের ক্ষেত্রে বেইজিংয়ের রাজনৈতিক সমর্থন নিশ্চিত করাও ইরানের অন্যতম উদ্দেশ্য।
ইরানের এই সিদ্ধান্ত ভারতের জন্য বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ। কারণ, জ্বালানি সরবরাহের পাশাপাশি মধ্যপ্রাচ্যের সঙ্গে ভারতের বিস্তৃত বাণিজ্যিক সম্পর্ক রয়েছে। তবে চলাচলের অনুমতি পেলেও ভারতীয় জাহাজগুলোকে বিনা খরচে হরমুজ প্রণালি পার হওয়ার সুযোগ দেওয়া হয়নি। বিভিন্ন গণমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, এসব জাহাজকে পারাপারের জন্য শুল্ক দিতে হতে পারে। অর্থাৎ, ইরানের দেওয়া ছাড়টি মূলত চলাচলের অনুমতির ক্ষেত্রে, পারাপারের আর্থিক খরচ মওকুফের ক্ষেত্রে নয়।
তালিকায় চীনের অন্তর্ভুক্তি তেহরান ও বেইজিংয়ের কৌশলগত সম্পর্কের গুরুত্বও তুলে ধরেছে। চীন ইরানের তেলের অন্যতম বড় ক্রেতা এবং দেশটির গুরুত্বপূর্ণ অর্থনৈতিক ও কূটনৈতিক সহযোগী। অন্যদিকে, কাতার বিশ্বের অন্যতম প্রধান তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাসের (এলএনজি) রপ্তানিকারক দেশ। উপসাগরীয় অঞ্চলের নৌপথ সচল রাখতেও দেশটির গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে। আর ইরানের কাছে ইরাকের নিরাপত্তা ও স্থিতিশীলতা নিজেদের স্বার্থের সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে জড়িত।
এদিকে, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের মধ্যবর্তী নির্বাচনে বড় ধরনের পরাজয়ের পরপরই ইরানের এই সিদ্ধান্তের খবর সামনে এসেছে। বিশ্লেষকদের মতে, চার দেশের জাহাজকে চলাচলের সুযোগ দেওয়ার মধ্য দিয়ে নিজস্ব অর্থনৈতিক ও কূটনৈতিক স্বার্থ রক্ষার পাশাপাশি আঞ্চলিক সম্পর্কেও ভারসাম্য বজায় রাখতে চাইছে তেহরান। হরমুজ প্রণালির মতো গুরুত্বপূর্ণ নৌপথে এই সিদ্ধান্ত আন্তর্জাতিক বাণিজ্য ও জ্বালানি সরবরাহের ক্ষেত্রেও তাৎপর্যপূর্ণ। সূত্র: এনডিটিভি।
টি/