
এটিএন বাংলা, ওয়াসা ভবন, ২য় তলা, ৯৮ কাজী নজরুল ইসলাম এভিনিউ, কাওরান বাজার, ঢাকা-১২১৫, বাংলাদেশ
ফোনঃ +88-02-55011931
এ সম্পর্কিত আরও খবর
বর্তমান যুগে স্মার্টফোনের অবিচ্ছেদ্য অংশ হয়ে দাঁড়িয়েছে ইয়ারফোন বা ব্লুটুথ ইয়ারবাড। তারহীন এই প্রযুক্তির জনপ্রিয়তা যখন তুঙ্গে, ঠিক তখনই তুরস্কের এক তরুণীর কানে ইয়ারবাড বিস্ফোরণের ঘটনা বিশ্বজুড়ে আতঙ্ক সৃষ্টি করেছে। ওই তরুণী গান শোনার সময় হঠাৎ যন্ত্রটি বিস্ফোরিত হয়, যার ফলে তিনি স্থায়ীভাবে তার শ্রবণক্ষমতা হারিয়েছেন। এই বিরল অথচ ভয়াবহ ঘটনাটি প্রযুক্তিপ্রেমীদের কপালে চিন্তার ভাঁজ ফেলেছে এবং সংশ্লিষ্ট নির্মাতা প্রতিষ্ঠান বিষয়টি নিয়ে তদন্ত শুরু করেছে।
ইয়ারবাড বা ইয়ারপডের মতো ক্ষুদ্র যন্ত্রগুলো সরাসরি কানের স্পর্শকাতর অংশে দীর্ঘক্ষণ থাকে। চিকিৎসকদের মতে, এ ধরনের যন্ত্রে ব্যবহৃত লিথিয়াম-আয়ন ব্যাটারি অতিরিক্ত গরম হলে বা যান্ত্রিক ত্রুটি দেখা দিলে বিস্ফোরণের ঝুঁকি তৈরি হয়। যদিও এমন দুর্ঘটনা সচরাচর
শ্রবণশক্তি সুরক্ষায় চিকিৎসকরা এখন '৬০-৬০' নিয়ম মেনে চলার পরামর্শ দিচ্ছেন। অর্থাৎ, সর্বোচ্চ ৬০ ডেসিবেল শব্দে দিনে মাত্র ৬০ মিনিট ইয়ারফোন ব্যবহার করা উচিত। দীর্ঘ সময় উচ্চ শব্দে গান শুনলে বা কথা বললে অন্তর্কর্ণের ওপর প্রচণ্ড চাপ সৃষ্টি হয়, যা ধীরে ধীরে মানুষের শোনার ক্ষমতা কমিয়ে দেয়। কানকে পর্যাপ্ত বিশ্রাম না দিলে কানের ভেতরের স্নায়ুগুলো স্থায়ীভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে, যা আধুনিক প্রজন্মের জন্য একটি বড় স্বাস্থ্যঝুঁকি হিসেবে দেখা দিচ্ছে।
ডিভাইসের রক্ষণাবেক্ষণ ও চার্জিং অভ্যাসের ওপরও বিস্ফোরণের ঝুঁকি অনেকাংশে নির্ভর করে। সারারাত ইয়ারবাড চার্জে দিয়ে রাখা কিংবা মানহীন চার্জার ব্যবহার করার ফলে ব্যাটারি ওভারহিট হয়ে ফুলে যেতে পারে। এছাড়া ইয়ারফোনে জমে থাকা ঘাম, ধুলোবালি এবং কানের ময়লা নিয়মিত পরিষ্কার না করলে ডিভাইসের অভ্যন্তরীণ সার্কিটে সমস্যা দেখা দিতে পারে। ভেজা হাতে ডিভাইস ধরা বা আর্দ্র পরিবেশে চার্জ দেওয়া থেকেও ব্যবহারকারীদের সতর্ক থাকা প্রয়োজন।
পরিশেষে, প্রযুক্তি ব্যবহারের ক্ষেত্রে শারীরিক সংকেতকে গুরুত্ব দেওয়া অপরিহার্য। ইয়ারফোন ব্যবহারের সময় যদি কান অতিরিক্ত গরম হয়ে যায়, জ্বালাপোড়া করে কিংবা অস্বস্তি বোধ হয়, তবে তৎক্ষণাৎ সেটি কান থেকে সরিয়ে ফেলতে হবে। কান শরীরের অত্যন্ত সংবেদনশীল অঙ্গ, তাই কোনো ধরনের অস্বাভাবিক লক্ষণ দেখা দিলে অবহেলা না করে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত। প্রযুক্তির সুবিধা নিতে গিয়ে যেন আমরা নিজের অমূল্য ইন্দ্রিয়কে বিপন্ন না করি, সেদিকে সজাগ থাকাই এখন সময়ের দাবি।
/টিএ