
এটিএন বাংলা, ওয়াসা ভবন, ২য় তলা, ৯৮ কাজী নজরুল ইসলাম এভিনিউ, কাওরান বাজার, ঢাকা-১২১৫, বাংলাদেশ
ফোনঃ +88-02-55011931
এ সম্পর্কিত আরও খবর
ভূমিকম্প এমন একটি প্রাকৃতিক দুর্যোগ, যা মুহূর্তের মধ্যেই ব্যাপক প্রাণহানি ও ক্ষয়ক্ষতির কারণ হতে পারে। যদিও ভূমিকম্পের সঠিক সময় ও স্থান আগে থেকে নির্ভুলভাবে জানা সম্ভব নয়, তবে আধুনিক প্রযুক্তির সহায়তায় অনেক ক্ষেত্রে কয়েক সেকেন্ড আগেই সতর্কবার্তা পাওয়া যায়। এই অল্প সময়ের মধ্যেই নিরাপদ স্থানে সরে গিয়ে বড় দুর্ঘটনা এড়ানোর সুযোগ তৈরি হয়। এ লক্ষ্যেই অ্যান্ড্রয়েড ব্যবহারকারীদের জন্য ‘অ্যান্ড্রয়েড আর্থকোয়াক অ্যালার্টস সিস্টেম’ চালু করেছে গুগল।
বিশ্বজুড়ে কোটি কোটি অ্যান্ড্রয়েড স্মার্টফোনে থাকা অ্যাক্সিলেরোমিটার সেন্সরের মাধ্যমে গুগল এই প্রযুক্তি পরিচালনা করে। কোনো এলাকায় একাধিক ফোন একই ধরনের কম্পন শনাক্ত করলে সেই তথ্য বিশ্লেষণ করে ভূমিকম্পের সম্ভাবনা নির্ধারণ করা হয়। ভূমিকম্প নিশ্চিত হলে আশপাশের
এই সুবিধা চালু করতে ফোনের Settings থেকে Safety & Emergency অপশনে গিয়ে Earthquake Alerts চালু করতে হবে। কিছু ডিভাইসে এটি Location বা Advanced Settings-এর মধ্যেও থাকতে পারে। তবে এই সেবা ব্যবহারের জন্য ফোনে ইন্টারনেট সংযোগ, লোকেশন সার্ভিস (জিপিএস) চালু থাকা, সর্বশেষ গুগল প্লে সার্ভিসেস ইনস্টল থাকা এবং অ্যান্ড্রয়েড অপারেটিং সিস্টেম সমর্থিত ডিভাইস ব্যবহার করা প্রয়োজন। গুগল সাধারণত দুই ধরনের সতর্কবার্তা পাঠায়—কম মাত্রার কম্পনের ক্ষেত্রে Be Aware Alert এবং শক্তিশালী ভূমিকম্পের ক্ষেত্রে পুরো স্ক্রিনজুড়ে প্রদর্শিত Take Action Alert।
অন্যদিকে, গুগলের এই সুবিধা মূলত অ্যান্ড্রয়েড ব্যবহারকারীদের জন্য হলেও আইফোন ব্যবহারকারীরা স্থানীয় দুর্যোগ সতর্কতা, সরকারি জরুরি বার্তা বা তৃতীয় পক্ষের ভূমিকম্প সতর্কতা অ্যাপ ব্যবহার করতে পারেন। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, সতর্কবার্তা পাওয়ার পর আতঙ্কিত না হয়ে দ্রুত মজবুত টেবিল বা ডেস্কের নিচে আশ্রয় নেওয়া, জানালা ও ভারী আসবাবপত্র থেকে দূরে থাকা, লিফট ব্যবহার না করা এবং বাইরে থাকলে খোলা স্থানে চলে যাওয়াই সবচেয়ে নিরাপদ। ভূমিকম্প প্রতিরোধ করা সম্ভব না হলেও আগাম সতর্কতা অনেক ক্ষেত্রে জীবন ও সম্পদের ক্ষয়ক্ষতি কমাতে কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে।