
এটিএন বাংলা, ওয়াসা ভবন, ২য় তলা, ৯৮ কাজী নজরুল ইসলাম এভিনিউ, কাওরান বাজার, ঢাকা-১২১৫, বাংলাদেশ
ফোনঃ +88-02-55011931
এ সম্পর্কিত আরও খবর
একসময় শহর ও জনপদের তৃষ্ণা মেটাত যে মানুষগুলো, তারা ছিল ‘ভিস্তিওয়ালা’। কাঁধে বা পিঠে ঝোলানো চামড়ার তৈরি পানির থলে—‘মশক’—নিয়ে ঘরে ঘরে পানি পৌঁছে দিতেন তারা। আধুনিক পানির লাইন বা বোতলজাত পানির যুগের অনেক আগে, এই ভিস্তিওয়ালারাই ছিলেন জীবনের অপরিহার্য অংশ। আজ সেই পেশা প্রায় বিলুপ্ত, কিন্তু ইতিহাসে তাদের অবদান অনস্বীকার্য।
উৎপত্তি ও শব্দের ইতিহাস:
‘ভিস্তি’ শব্দটির মূল এসেছে ফারসি শব্দ ‘বেহেশ্ত’ থেকে, যার অর্থ স্বর্গ। পানি জীবনদায়ী—এই ধারণা থেকেই পানি বহনকারীদের সঙ্গে স্বর্গীয় উপমা জুড়ে যায়। মুঘল আমলে উপমহাদেশে এই পেশা সুসংগঠিত রূপ পায়। বিশেষ করে Mughal Empire-এর সময় রাজপ্রাসাদ, সেনাবাহিনী ও নগরজীবনে ভিস্তিওয়ালাদের গুরুত্ব ছিল অত্যন্ত বেশি।
কাজের ধরন ও জীবনযাপন:
ভিস্তিওয়ালারা সাধারণত
ঔপনিবেশিক আমলে ভূমিকা:
ব্রিটিশ শাসনামলেও ভিস্তিওয়ালাদের চাহিদা কমেনি। British Raj-এর সময় সেনানিবাস, রেলস্টেশন ও সরকারি দপ্তরে পানি সরবরাহে তারা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতেন। অনেক ব্রিটিশ সেনা সদস্য তাদের স্মৃতিকথায় ভিস্তিওয়ালাদের পরিশ্রম ও নিষ্ঠার কথা উল্লেখ করেছেন। যুদ্ধক্ষেত্রেও আহত সৈন্যদের পানি পৌঁছে দেওয়ার দায়িত্ব পালন করতেন তারা।
অবক্ষয় ও বিলুপ্তি:
উনবিংশ শতাব্দীর শেষ ভাগ থেকে শহরে পাইপলাইনের পানি সরবরাহ ব্যবস্থা চালু হতে শুরু করে। ধীরে ধীরে কলের পানি সহজলভ্য হওয়ায় ভিস্তিওয়ালাদের প্রয়োজন কমে যায়। আধুনিক নগরায়ন, প্রযুক্তির অগ্রগতি ও স্বাস্থ্যবিধির পরিবর্তনের সঙ্গে সঙ্গে এই পেশা হারিয়ে যেতে থাকে। নতুন প্রজন্ম আর এই পেশায় আসতে চায়নি।
ভিস্তিওয়ালা শুধু একটি পেশা নয়, বরং এক ঐতিহাসিক অধ্যায়ের অংশ। তারা আমাদের মনে করিয়ে দেয়—একসময় মানুষের মৌলিক চাহিদা পূরণে কতটা কষ্ট ও শ্রম জড়িত ছিল। আজ হয়তো তাদের দেখা মেলে না, কিন্তু ইতিহাসের পাতায় ও পুরোনো ছবিতে তারা বেঁচে আছেন। হারানো এই পেশার গল্প আমাদের ঐতিহ্য ও সামাজিক পরিবর্তনের এক গুরুত্বপূর্ণ দলিল হয়ে থাকবে।
/টিএ