
এটিএন বাংলা, ওয়াসা ভবন, ২য় তলা, ৯৮ কাজী নজরুল ইসলাম এভিনিউ, কাওরান বাজার, ঢাকা-১২১৫, বাংলাদেশ
ফোনঃ +88-02-55011931
এ সম্পর্কিত আরও খবর
বর্তমান ডিজিটাল যুগে পর্নোগ্রাফি বা অশ্লীল ভিডিওর সহজলভ্যতা চারিত্রিক ও ধর্মীয় অবক্ষয়ের অন্যতম কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। ইসলামি শরিয়ত অনুযায়ী, মহান আল্লাহ তাআলা প্রকাশ্য ও অপ্রকাশ্য সকল প্রকার অশ্লীলতাকে কঠোরভাবে হারাম করেছেন। পবিত্র কুরআনের সূরা আরাফে আল্লাহ স্পষ্ট করেছেন যে, পাপাচার ও অন্যায়-অত্যাচার আল্লাহ পছন্দ করেন না। পরপুরুষ বা পরনারীর দিকে কামনাবাসনা নিয়ে তাকানো যেমন গুনাহ, তেমনি ছবি বা ভিডিওর মাধ্যমে অশ্লীলতা দেখা চোখের গুরুতর পাপ হিসেবে বিবেচিত।
কিয়ামতের কঠিন দিনে মানুষের প্রতিটি অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ তার কৃতকর্মের সাক্ষ্য দেবে। সূরা ইয়াসিন ও সূরা ইসরা-তে বর্ণিত হয়েছে যে, মানুষের কান, চোখ এবং অন্তঃকরণ—প্রত্যেকটি বিষয়েই সেদিন জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে। আজ যা গোপনে দেখা হচ্ছে, তওবা
অশ্লীল ভিডিও দেখার কুফল কেবল পরকালেই সীমাবদ্ধ নয়, বরং এটি মানুষের ইহকালীন জীবনকেও বিষাক্ত করে তোলে। এর ফলে মানুষের অন্তর থেকে ঈমানের স্বাদ ও আল্লাহর ভীতি উঠে যায় এবং অন্তর শয়তানের নিয়ন্ত্রণে চলে যায়। আসক্ত ব্যক্তি মানসিক অস্থিরতা, দুশ্চিন্তা ও একাকীত্বে ভোগে। এটি তাকে ধীরে ধীরে জিনা-ব্যভিচার ও হস্তমৈথুনের মতো আরও বড় পাপাচারের দিকে ঠেলে দেয়, যা শারীরিক ও মানসিক স্বাস্থ্যের চরম ক্ষতিসাধন করে।
পারিবারিক জীবনেও এর প্রভাব অত্যন্ত ভয়াবহ। বিবাহিত ব্যক্তিদের ক্ষেত্রে স্বামী-স্ত্রীর স্বাভাবিক সম্পর্কে ফাটল ধরে এবং পরকীয়ার মতো সামাজিক ব্যাধি মাথাচাড়া দিয়ে ওঠে। অশ্লীলতায় অভ্যস্ত হওয়ার ফলে হালাল জীবনসঙ্গীও অপছন্দনীয় হয়ে উঠতে পারে, যা শেষ পর্যন্ত সংসার ভাঙার কারণ হয়। এর ফলে ইবাদত-বন্দেগিতে অনীহা তৈরি হয় এবং ব্যক্তি ধীরে ধীরে দ্বীন থেকে দূরে সরে গিয়ে অন্ধকারে নিমজ্জিত হয়।
তবে প্রচলিত একটি ধারণা যে, পর্নোগ্রাফি দেখলে পরকালে কোনো আমলই কাজে আসবে না বা সব আমল বরবাদ হয়ে যাবে—এটি সঠিক নয়। এটি বড় গুনাহ হলেও শিরক বা কুফরি নয় যে সব নেক আমল ধ্বংস হয়ে যাবে। এই পাপ থেকে মুক্তির একমাত্র পথ হলো একনিষ্ঠভাবে তওবা করা, অশ্লীলতার সকল মাধ্যম থেকে দূরে থাকা এবং ইবাদত ও সৎকাজে নিজেকে মগ্ন রাখা। আল্লাহ আমাদের এই ফিতনা থেকে হেফাজত করুন। আমিন।