
এটিএন বাংলা, ওয়াসা ভবন, ২য় তলা, ৯৮ কাজী নজরুল ইসলাম এভিনিউ, কাওরান বাজার, ঢাকা-১২১৫, বাংলাদেশ
ফোনঃ +88-02-55011931
এ সম্পর্কিত আরও খবর
প্রকৃতির রুদ্ররূপে ধেয়ে আসা প্রবল শিলাবৃষ্টি, ভারী বর্ষণ ও আকস্মিক বজ্রপাতে এক স্তব্ধ করা মৃত্যুর মিছিল নেমে এসেছে।গত বুধবার থেকে বৃহস্পতিবার সকালের মধ্যে, মাত্র ২৪ ঘণ্টার ব্যবধানে এই ভয়াল দুর্যোগে অন্তত ১১১ জনের করুণ মৃত্যু হয়েছে এবং আহত হয়েছেন আরও ৭২ জন। এই তাণ্ডবের মাঝে একটি অবিশ্বাস্য ও চাঞ্চল্যকর ঘটনা ঘটেছে ।ঝড়ের বাতাসে এক বাসিন্দা ঘরের টিনের চালসহ প্রায় ৫০ ফুট ওপরে উড়ে যান এবং পরে একটি ভুট্টাখেতে আছড়ে পড়ে গুরুতর আহত হন।
ভারতের উত্তর প্রদেশের ২৫টি জেলায় এই ভয়াবহ হতাহতের ঘটনা ঘটে। রাজ্যের ত্রাণ কমিশনার কার্যালয় থেকে জানানো হয়, সবচেয়ে বেশি প্রলয় হেনেছে একটি নির্দিষ্ট জেলায়, যেখানে সর্বোচ্চ ২১ জন প্রাণ হারিয়েছেন ।এছাড়া অন্যান্য ক্ষতিগ্রস্ত জেলাগুলোতেও ব্যাপক মৃত্যুর খবর নিশ্চিত হওয়া গেছে। দুর্যোগের তীব্রতায় রাজ্যের ২২৭টি ঘরবাড়ি ধসে পড়েছে এবং প্রাণ হারিয়েছে ১৭০টি গবাদিপশু। বর্তমানে ইন্টিগ্রেটেড কন্ট্রোল অ্যান্ড কমান্ড সেন্টারের মাধ্যমে সেখানকার পরিস্থিতি সার্বক্ষণিক তদারকি করা হচ্ছে এবং রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী দ্রুত ত্রাণ তৎপরতার নির্দেশ দিয়েছেন।
প্রতিবেশী দেশের এই ভয়াবহ দুর্যোগ বাংলাদেশের জন্যও একটি বড় সতর্কবার্তা। ভৌগোলিক অবস্থান ও জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে ভারতের এই চরম আবহাওয়ার প্রভাব বাংলাদেশেও পড়তে পারে। আমাদের দেশেও সাম্প্রতিক বছরগুলোতে বজ্রপাত ও কালবৈশাখীর প্রকোপ আশঙ্কাজনকভাবে বেড়েছে। তাই প্রতিবেশী দেশের এই বিপর্যয় থেকে শিক্ষা নিয়ে আমাদের এখনই সচেতন হতে হবে। আকাশে কালো মেঘ জমলে খোলা মাঠ বা জলাশয় থেকে দূরে থাকা এবং পাকা দালানের নিচে আশ্রয় নেওয়া জরুরি; সঠিক পূর্বপ্রস্তুতিই পারে আমাদের জীবন রক্ষা করতে।
এফ/এইচ