
এটিএন বাংলা, ওয়াসা ভবন, ২য় তলা, ৯৮ কাজী নজরুল ইসলাম এভিনিউ, কাওরান বাজার, ঢাকা-১২১৫, বাংলাদেশ
ফোনঃ +88-02-55011931
এ সম্পর্কিত আরও খবর
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের গাজা যুদ্ধবিরতি বাস্তবায়নের ১৫ দফা পরিকল্পনা প্রকাশ্যে প্রত্যাখ্যান করেছেন ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু। রোববার সাপ্তাহিক মন্ত্রিসভা বৈঠকের শুরুতে তিনি স্পষ্ট করে বলেন, ইসরায়েল ওই নথি গ্রহণ করে না। বিষয়টি জোর দিয়ে বোঝাতে একই বক্তব্য দুবার বলেন নেতানিয়াহু। তার এই অবস্থান ট্রাম্পকে ক্ষুব্ধ করতে পারে বলে ধারণা করা হলেও আসন্ন নির্বাচনের আগে এটিকেই নিজের জন্য তুলনামূলক কম ঝুঁকির সিদ্ধান্ত হিসেবে দেখছেন তিনি।
ট্রাম্পের পরিকল্পনায় ধাপে ধাপে ইসরায়েলি সেনা প্রত্যাহারের বিনিময়ে হামাসের অস্ত্র সমর্পণের প্রক্রিয়ার কথা বলা হয়েছে। তবে নেতানিয়াহু জানিয়েছেন, হামাস সম্পূর্ণ নিরস্ত্র না হওয়া পর্যন্ত গাজা থেকে কোনো ইসরায়েলি সেনা প্রত্যাহার করা হবে না। তার ভাষায়, হামাসকে
এদিকে হামাস নেতানিয়াহুর বক্তব্যের পরও ট্রাম্পের পরিকল্পনার প্রতি নিজেদের সমর্থন পুনর্ব্যক্ত করেছে। গোষ্ঠীটি আশা করছে, পরিকল্পনা বাস্তবায়নে ট্রাম্পের ‘বোর্ড অব পিস’ নেতানিয়াহুর ওপর চাপ প্রয়োগ করবে। অন্যদিকে হামাস সত্যিই সব অস্ত্র ছেড়ে দেবে কি না, তা নিয়েও রয়েছে বড় ধরনের সংশয়। প্রায় দুই দশক ধরে গাজায় প্রভাবশালী অবস্থানে থাকা হামাসের কাছে অস্ত্র শুধু সামরিক শক্তি নয়, তাদের নেতৃত্ব ও টিকে থাকার অন্যতম ভিত্তি হিসেবেও বিবেচিত হয়।
বিশ্লেষকদের মতে, নেতানিয়াহুর কঠোর অবস্থানের পেছনে আসন্ন ইসরায়েলি নির্বাচন গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। নির্বাচন হতে আর ১২ সপ্তাহেরও কম সময় বাকি এবং বিভিন্ন জনমত জরিপে তিনি কঠিন পরিস্থিতির মুখোমুখি। ইসরায়েলে সরকার গঠনে জোটের সমর্থন প্রয়োজন হওয়ায় নেতানিয়াহুর ক্ষমতায় টিকে থাকার জন্য কট্টর ডানপন্থী মিত্রদের ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ। এসব দলের নেতারা ট্রাম্পের পরিকল্পনার বিরোধিতা করেছেন। ফলে পরিকল্পনার প্রতি নমনীয় অবস্থান নিলে নির্বাচনের আগে ডানপন্থী সমর্থন হারানোর ঝুঁকি রয়েছে তার।
তবে শুধু রাজনৈতিক মিত্রদের চাপ নয়, ইসরায়েলের সাধারণ ভোটারদের মধ্যেও হামাসকে পুরোপুরি নিরস্ত্র না করে গাজা থেকে সেনা প্রত্যাহারের বিষয়ে অনীহা রয়েছে বলে বিশ্লেষণে উঠে এসেছে। অন্যদিকে প্রায় ২০ লাখ ফিলিস্তিনি বাসিন্দার গাজার ভবিষ্যৎ নিয়ে ইসরায়েল, হামাস ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে আলোচনা চললেও নিজেদের ভাগ্য নির্ধারণে তাদের ভূমিকা খুবই সীমিত। ফলে ট্রাম্পের পরিকল্পনা, নেতানিয়াহুর কঠোর অবস্থান এবং হামাসের প্রতিক্রিয়ার মধ্যেই গাজা যুদ্ধবিরতির ভবিষ্যৎ নিয়ে নতুন করে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে।
/টি